বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১০
নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫
জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)
নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫
জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)
{বুঝতে পারছি, অনেকেই অনুবাদটা, বিষয়টা পছন্দ করছেন অথচ দম রেখে পুরোটা পড়ছেন না। তাদের জন্য প্রত্যেকটি কিস্তির সঙ্গে একটি মন্তব্য জুড়ে দিলাম। না পড়লেও একটা আন্দাজ করে নিতে পারবেন যে এই লেখাটাতে মোদ্দা কথা কি বলা হয়েছে।
যারা মনে করেন নির্বাচনে টাকার খেলা, গণতন্ত্রে ক্ষমতার দাদাগিরি শুধু পূর্বের দেশগুলিতে হয়, তাদের জন্য এই কিস্তিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, দেখবেন কি করে টাকার থলি নিয়ে আজ থেকে প্রায় ২২৫ বছর আগে মহান সঙ্গদীয় গণতন্ত্রের ব্রিটিশ পূর্বপুরুষেরা নির্বাচনে জিততেন।}
যারা মনে করেন নির্বাচনে টাকার খেলা, গণতন্ত্রে ক্ষমতার দাদাগিরি শুধু পূর্বের দেশগুলিতে হয়, তাদের জন্য এই কিস্তিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, দেখবেন কি করে টাকার থলি নিয়ে আজ থেকে প্রায় ২২৫ বছর আগে মহান সঙ্গদীয় গণতন্ত্রের ব্রিটিশ পূর্বপুরুষেরা নির্বাচনে জিততেন।}
তৃতীয় অধ্যায়
রাজনীতিতে নবোবেরা
মেট্রোপলিটনে এসেই হাউস অব কমনসের সদস্য হওয়া প্রাথমিকভাবের নবোবদের লক্ষ্য
ছিল। এক জন ব্যঙ্গ লেখক ১৭৬৮ সালে লিখছেন, ‘আপনাদের সমাজে প্রবেশ করার প্রাথমিক
শর্ত খুব কড়া এবং জটিল, ফলে আমি ব্রিটিশ নবোব হিসেবে পার্লামেন্টের সদস্য পদের
জন্যই ঝাঁপালাম।’ উচ্চ সমাজের সঙ্গে মেলামেশা করাই নবোবদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ক্ষমতার
প্রতি তার স্বাভাবিক আকর্ষণের টান স্বদেশে এসে পার্লামেন্টের আসনের প্রতি তার
আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবসরের পরেও কিন্তু কোম্পানির সঙ্গে তার সম্পর্ক চ্ছেদ হয়ে
যায় নি। ভারত এবং লিন্ডেলহল স্ট্রিটে বন্ধুদের সাহায্য
করা আর শত্রুদের বিরোধিতা করা তার মৌল কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। তার অর্জিত ভাগ্য তাকেই
বাঁচাতে হবে। ওয়েস্টমিনিস্টারের ভোট বা ডিনারের আকর্ষণ তার ক্ষমতার পিঠ চাপড়ানি
এবং তার ক্ষমতাবান শত্রুদের জন্য পরিকল্পনা রচনার যুদ্ধ ক্ষেত্র। পার্লামেন্ট শুধু
যে একটি প্রথম শ্রেণীর ক্লাব তাইই নয় সে টামানি হল(আমেরিকায় ডেমোক্রাটদের গোপন
সঙ্গঠন)এর মত গোপন ক্ষমতার উৎসও বটে।
শাসক শ্রেণীর তৈরি করা এই সুযোগ নেওয়া তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তারা সংবিধানের
প্রথা মান্য করার মত করে পার্লামেন্টে ক্ষমতার দুর্নীতির প্রথাগুলিকেও
যথাসাধ্যভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করে গিয়েছে। নবোবেরা যেমন করে বাজার
থেকে অবহেলে ইতিউতি পণ্য কেনেন ঠিক তেমন করে তারা পার্লামেন্টের আসনও কিনলেন। তাদের কাছে পার্লামেন্টের পবিত্রতার মূল্য নেই। এদের সম্বন্ধে ক্যাভেন্ডিস
বলেছেন, এই হঠকারী ব্যক্তিরা কোঁচড় ভর্তি টাকা নিয়ে স্ব-স্বার্থের জন্য এক বরো
থেকে অন্য বরোতে প্রচার করতে থাকে। এদের সম্বন্ধে চ্যাথাম বলেছিলেন, পার্লামেন্টে
এরা ব্যক্তিগত দুর্নীতিকে এমনভাবে বলপূর্বক প্রবেশ করিয়ে দেয়, যা অতীতে কোন দিন
দেখা যায় নি, এবং ওয়ালপোল লিখবেন এতদিনে দুর্নীতির দু’পা গজাল। এই অতি সরল অতি
ধনীরা খুব সহজেই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে। এরা তাদের বোঝায় কোন কোন বরো তাদের পকেটে
রয়েছে। এই ধরণের পকেট বরোর প্রতারকদের হাতে পরা এক ইস্ট ইন্ডিয়ান ভদ্রলোকের উদাহরণ
দিয়ে পাবলিক এডভারটাইজার ১৭৬৪র ১৫ জানুয়ারিতে লিখছেন, ...জনগণকে সাবধান বাণী
শুনিয়ে রাখা, এই ধরণের হাউইএর মত জ্বলে উঠে মিলিয়ে যাওয়া এজেন্ট নামধারী
প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচুন। তাকে এবং তার বন্ধুদের অক্সফোর্ড, সাসেক্স এবং
পশ্চিমের বেশ কিছু বরোতে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তরা ধোঁকা দিয়েছে।
সত্যিই কি উল্লিখিত ইস্ট ইন্ডিয়ানের মত অন্যান্য নবোব এত সরল সাদাসিধা
কাছাখোলা ছিল? অবশ্য তারা তখনও রাজনীতিতে খুব বেশি শত্রু তৈরি করে নি। ৫৫৮টা আসনের
মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে তারা পার্লামেন্টে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও অভিজাত
পার্লামেন্টেরিয়ানরা কিন্তু এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছিল। এই নবোবেরা যেহেতু চিহ্নিত
দুর্নীতিগ্রস্ত রটন বরোগুলো থেকেই জিতে আসেন, তাই পার্লামেন্টারিয়ানরা মনে করতেন
এরা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং পার্লামেন্টে এসে তাঁরা বিভিন্ন দুর্নীতির প্রভাব আর
অসভ্য চক্রান্তগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে না।
রটন বা দুর্নীতিগ্রস্ত বরোগুলী কোন কোনটা ছিল? আমরা দুর্নীতির সূক্ষ্ম
ভাগগুলিকে পার্থক্য করার কাজে খুব একটা দক্ষ নই। গ্রেট রিফর্ম বিলে প্রথম এই
ভাবনাটি জারিত হয়েছিল। সংরক্ষণবাদীদের বক্তব্য কোন বরোর দুর্নীতিগ্রস্ততা তার
স্বাধীনতা বা মানুষদের নিয়ে যতনা তার থেকে বেশি ঘুষের হাত বদলের নির্লজ্জতার জন্য।
একটি পকেট বরো রটন বরো নাও হতে পারে। বিচক্ষণ এবং খুব বেশি আঘাতশীল নন এমন পকেট
বরোর অভিভাবক সম্মানীয় ছিলেন। আবার অনেক স্বাধীন বরোর সদস্য আবার পকেট বরোর থেকে
অনেক বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবে নির্বাচিত হতে পারেন। একটি “স্বাধীন/মুক্ত”
নির্বাচন অনেক সময় জনগনীয় নিলামের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে, এর তুলনায় ঠিকঠাহাক কড়া
নিয়ম মেনে ঘরবন্দী বিক্রয় অনেক বেশি প্রার্থনীয়।
ফলে যারা অভিজাততন্ত্রের ঘোমটার আড়ালে চুপ করে নির্বাচিত হলেন, তারা এতে
গর্বিত হতেই পারেন। ১৭৮৪ সালে ওয়েস্ট লো, কর্নহিল থেকে মেজর স্কট জিতলেন। তার
নির্বাচনে হেস্টিংস ৪০০০ পাউন্ড খরচ করলেন। দিতে হল জন বুলারকে, লর্ড বার্থরাস্টের
ভাইপোকে(লর্ড বার্থরাস্টের আত্মীয় রবার্ট বার্থরাস্ট এবং জন স্কাওয়েন। এরা কোম্পানির
ভারতীয় প্রশাসনে ছিলেন)।
ওয়েস্ট লো একটি জরাজীর্ণ প্রাচীন কর্নিশ বরো। বরোর এই বিশেষণের ফলে আসনটির
ক্রেতা বা বিক্রেতার কিস্যু যায় আসে নি। যখন শাসক দল স্কটকে আরেকটি আসন বেছে নিতে
জোর দিল, তখন বার্থরাস্ট উত্তর দিলেন, স্কটকে কোন ভাবেই কোন রটন বরো থেকে জিতিয়ে
আনা যাবে না, তিনি বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চান স্কট তার দেখাশোনায় এবং পৃষ্ঠপোষকতায়
পার্লামেন্টে জিতে আসুন। মেজর নিশ্চিত হলেন যে কোন ভাবেই এই আর্থিক লেনদেনের ঘোমটা
না উঠে যাবে না। সে সময় বেশ কিছু বরোতে অন্যতম ক্ষমতা জমিয়ে রাখা এবং পার্লামেন্টে
শক্তিধর লর্ড বার্থরাস্টএর নিরাপত্তায় এই দুর্নীতির গোয়াল থেকে স্কট নির্বাচিত হয়ে
বেশ গর্বিত হলেন। লর্ড ম্যানসফিল্ডও এই নির্বাচনে সম্মতি জানিয়ে নিশ্চিত হলেন যে
স্কট সাম্মানিক এবং খানদানিভাবে হাউস অব কমনসে এলেন।
এইভাবেই জিতে বেশ কিছু নবোব পার্লামেন্টে গিয়েছেন। এই পদ্ধতিটি তৎকালীন পার্লামেন্টে প্রচলিত ঘুষ,
প্রতিপত্তির প্রথাকে পাশ কাটিয়ে নতুনভাবে দুর্নীতির শেকড় তৈরি করে জিতে আসার প্রথা
তৈরি করে। ফলে নবোবেরা সে সময়ের পুরোনো পার্লামেরন্টেরিয়ানদের কাছে ঘৃণার পাত্র
হলেন। সে সময়ে যে সব দুর্র্ণীতিগ্রস্ত বরোগুলোর চিহ্নিত
হল তাদের মধ্যে হিন্ডন এবং ক্রিকডেল(উইলটস), নিউ শোরহ্যাম(সাসেক্স),
স্যাফটসব্যারি(ডরসেট) এই চারটি প্রধান। এই চারটি থেকে নবোবেরা
পার্লামেন্টে যাবার ভাগ্য পরীক্ষা করতেন।
১৭৭৪ সালে জেনারেল রিচার্ড স্মিথ হিন্ডন থেকে পার্লামেন্টে যাবার প্রথম সুযোগ
নেন। পাঁচ দিন পরে, দ্য পাবলিক আডভার্টাইজার বলল যে, যেভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তিনি ঘুষ
বেঁটেছেন, অতীতে দেখা গিয়েছে যে এই পদ্ধতি নিলেই হেরে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। এবং
জেনারেলের হেরে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। জেনারেল আগে থেকে থেকে কোন গোপনীয় পদ্ধতি
অনুসরণ করেন নি। নবোব জেনারেল শহরের পাঁচমাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজের প্রার্থীপদ
ঘোষণা করে সোচ্চারে বলেছেন যারা তাঁকে ভোট দেবেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য ৫ গিনি
বরাদ্দ থাকবে। তার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং সেই আইনি
লড়াই দীর্ঘকাল ধরে চলার মধ্যেই আরও একবার ১৭৭৬ সালে হয়ত ওপরে বর্ণিত সফল পদ্ধতি
অনুসরণ করেই দ্বিতীয়বারের জন্য জিতে এসেছেন। এই দুর্নীতির জন্য জাস্টিস এস্টন তাকে
ছ মাসের কয়েদ, ৬৬৬ পাউন্ড জরিমানা এবং আগামী তিন বছর ভাল ব্যবহারের জন্য ১৫০০
পাউন্ড জমা রাখার নির্দেশ দেন। কয়েদখানায় তিনি হাত খুলে তার সম্পদের নিদর্শন
প্রকাশ করতে থাকেন, অসাধারণ জীবনযাত্রা চালিয়ে যান।
No comments:
Post a Comment