Showing posts with label বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ী. Show all posts
Showing posts with label বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ী. Show all posts

Friday, August 17, 2018

অন্তঃসলীলা অন্তঃপুর - অর্ধশতাব্দের কৃতি - বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ীর স্মৃতি

আমার মা।
এই নিচের বড় টিনের বাক্সটা তাঁর নবমশ্রেণীতে বিদ্যালয় থেকে পাওয়া ১৫ টাকা জলপানির টাকায় কেনা। ওপরের ছোট বাক্সটা বাবা ইন্দু নন্দের সঙ্গে বিয়ের সময় ১৯৬৪ সালে কেনা।
সঙ্গের এই আসনগুলো আমি তাঁর অধম সন্তান ছোটবেলা থেকেই দেখছি। যখন মায়ের পেটে মা তখন ১৫ দিনের জেলও খেটেছেন বামপন্থী রাজনীতি করতে গিয়ে। মা বিয়ের পরে মামাবাড়ি গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় এসেছেন - বিশাল যৌথ পরিবার(এক সময় আমরা ২০ জন ছিলাম কাকা কাকিমা জেঠিমা ইত্যাদি নিয়ে। চাল র‍্যাশনিংএর সময় আমতলা/পৈলান থেকে লুকিয়ে পেটে বেঁধে চাল আনতেন জ্ঞাতিগুষ্টিকে খাওয়ানোর জন্যে - চাল না পেলে সাবু ফুটোনো - পরে তাঁরা আলাদা হয়ে গিয়েছেন কাজকম্ম পেয়ে) সামলে মাস্টারি করেছেন দূরে আমতলায় পরে ফলতা আর নুরপুরের মাঝে সুন্দরিকা গ্রামে। আমিও সুন্দরিকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছি। সুন্দরিকা নামে অপূর্ব সুন্দর মায়াময় বাংলার গ্রাম এখন বাংলার প্রথম উন্নয়নের এইইজেডএ চাপা পড়ে গিয়েছে। মা শনিবার আমায় নিয়ে কলকাতা আসতেন আর আমরা সোমবার সক্কালে উঠে ৭৬ নম্বর বাস ধরে সরষে আশ্রম, সেখান থেকে নুরপুরের দিকে যাওয়া ৭৪ নম্বর বাস ধরে আশাপুরে নেমে ৫ কিমি হেঁটে মায়ের বিদ্যালয়ে পৌঁছতাম। বছরের শেষে পরীক্ষা শেষে দিদিমণিরা ছাত্রী খুঁজতে বেরোতেন। গ্রামে গ্রামে সে কী আপ্যায়ণ - বিশেষ করে স্বচ্ছল মুসলমান বাড়িতে। কি যে পেটপুরে খাওয়া হত বলার নয়।
তার পরেও মায়ের হাতে সময় ছিল এই সব অপার্থিব সৃষ্টির, পরিবারের জন্য। এরাই বাংলার মা! অসাধারণ আমার মায়ের এই সব কিছু সিন্দুক থেকে ঝেড়েঝুড়ে বেরল।
মাকে কী প্রণাম জানাতে হয়?

Tuesday, January 9, 2018

আমার অলেখিকা মা

তাঁর লেখা সম্বন্ধে জয়াদিদির মূল্যায়ন-
এই মহিলার লেখা আমাকে এত মুগ্ধ, আপ্লুত করেছে যে সহজ ভাবে বলে ওঠা মুশকিল। আর সবকিছু বাদ দিয়ে এটুকু বলতে পারি- ভূমধ্যসাগরে একটা নতুন লিখনধারা তৈরি করে দিয়েছেন শ্রীমতী বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ী। তাঁর লেখা চলতে চলতে ছয় বছর পর একটি তরুণী সম্পাদককে বলে ,'জানেন, আমারও মনে পড়ে নিজের ছোটবেলার কথা। আমাদের ভারি সুন্দর গ্রাম ছিল। ইসকুল, রাস্তা, মহুয়া গাছের জঙ্গল পুকুর। সব ওই কোলিয়ারির খাদের মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। আমাদের সেই হাঁসডিহা গ্রামটা না পৃথিবীতে আর কোথাও নেই'। বিশ্বেশ্বরীর উত্তরকন্যা লিখলেন 'গ্রামের নাম হাঁসডিহা'।
আজ একবছর ধরে এই সামান্য পত্রিকার পাতায় যেন আত্মকথনের, স্মৃতিচারণের এক উৎসব চলেছে। কত ধরণের মানুষ কত রকমের স্মৃতি খুঁজে আনছেন। মেলে ধরছেন। আর তৈরি হয়ে উঠছে একটি অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের এক অন্তরঙ্গ বুনন।
এই বুননের গোড়ার বাঁধন ধরে দিয়েছেন বিশ্বেশ্বরী তাঁর অকল্পনীয় লেখনী দিয়ে। আত্মকরুণার লেশ বর্জিত একটি কঠিন জীবন যে কী স্বচ্ছ সরল ভাষায় বিবৃত করা যায়, তাঁর ঘরের কথা তার একটা উদাহরন। আমার ধারণা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আত্মজিবনীগুলোর মধ্যে গণ্য হবার গুণ আছে এই লেখাটির মধ্যে।

ভূমধ্যসাগর সম্মান পেলেন বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ী

গত বছর আমার মা বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ীকে সম্বর্ধনা দিল জয়া মিত্র সম্পাদিত পত্রিকা ভূমধ্যসাগর। জয়াদি থাকেন আসানসোলে। তাই আমার ভূমধ্যসাগর আসানসোলেই।
সেই পত্রিকায় ২০০৮ সাল থেকে আমার মা লিখছেন আত্মজীবনী 'ঘরের কথা'। না আমার মা বিন্দুমাত্র বিখ্যাত মহিয়সী নারী নন। লেখক তো এক্কেবারেই নন। সারা জীবন ছাত্র-ছাত্রী ঠেঙিয়েছেন আর মেদিনীপুরের ঘাড়কেঁদোদের মত করে একবগগাভাবে সংসার সামলেছেন, রাজনীতি করেছেন, জেল খেটেছেন। কিন্তু তার ছোট্ট শরীর দিয়ে আগলে রেখেছেন আমাদের, আজও।
জয়াদির আগ্রহে শুরু করলেন তাঁর জীবন লেখা কিন্তু কিন্তু করে, কিন্তু ব্যতিক্রমীভাবে তাঁর মায়ের জীবন দিয়ে। দেখতে দেখতে প্রায় ১০ বছর ধরে ভূমধ্যসাগরে একটু একটু করে লিখে চলেছেন আমার অ-লেখিকা মা।
জয়াদির ভাষায় বিশ্বের আত্মজীবনী সাহিত্য যত লেখা হয়েছে, সেরাগুলির মধ্যে থাকবে এটি। হয়ত একজন সম্পাদকই একজন অলেখকের মনের মধ্যে থেকে টেনে বের করে আনতে পারেন তাঁর সাহিত্যিক সত্ত্বা।
জয়াদির প্রকাশনী লোকনদী থেকে এই বইটা প্রকাশ করার ঘোষণাও তিনি করে দিয়েছেন, তাঁর বিজ্ঞাপন আর সঙ্গে মায়ের লেখার পাতা আর ভূমধ্যসাগরের প্রথম পাতা।
এই ফেবু লেখায় সাধারণত ব্যক্তিগত কোন তথ্য দেওয়ার থেকে বিরত থাকি। ক্ষমা করবেন।

জয়াদিদির উত্তর
বিশ্বেন্দুর এই লেখাটার কাছে আমি কী যে কৃতজ্ঞ ! আমি নিজে নিজের পত্রিকার লেখা নিয়ে হয়ত এত গুছিয়ে লিখতে পারতাম না। তাছাড়া এই মহিলার লেখা আমাকে এত মুগ্ধ, আপ্লুত করেছে যে সহজ ভাবে বলে ওঠা মুশকিল। আর সবকিছু বাদ দিয়ে এটুকু বলতে পারি- ভূমধ্যসাগরে একটা নতুন লিখনধারা তৈরি করে দিয়েছেন শ্রীমতী বিশ্বেশ্বরী পঞ্চাধ্যায়ী। তাঁর লেখা চলতে চলতে ছয় বছর পর একটি তরুণী সম্পাদককে বলে ,'জানেন, আমারও মনে পড়ে নিজের ছোটবেলার কথা। আমাদের ভারি সুন্দর গ্রাম ছিল। ইসকুল, রাস্তা, মহুয়া গাছের জঙ্গল পুকুর। সব ওই কোলিয়ারির খাদের মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। আমাদের সেই হাঁসডিহা গ্রামটা না পৃথিবীতে আর কোথাও নেই'। বিশ্বেশ্বরীর উত্তরকন্যা লিখলেন 'গ্রামের নাম হাঁসডিহা'। আজ একবছর ধরে এই সামান্য পত্রিকার পাতায় যেন আত্মকথনের, স্মৃতিচারণের এক উৎসব চলেছে। কত ধরণের মানুষ কত রকমের স্মৃতি খুঁজে আনছেন। মেলে ধরছেন। আর তৈরি হয়ে উঠছে একটি অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের এক অন্তরঙ্গ বুনন। এই বুননের গোড়ার বাঁধন ধরে দিয়েছেন বিশ্বেশ্বরী তাঁর অকল্পনীয় লেখনী দিয়ে। আত্মকরুণার লেশ বর্জিত একটি কঠিন জীবন যে কী স্বচ্ছ সরল ভাষায় বিবৃত করা যায়, তাঁর ঘরের কথা তার একটা উদাহরন। আমার ধারণা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আত্মজিবনীগুলোর মধ্যে গণ্য হবার গুণ আছে এই লেখাটির মধ্যে।