Showing posts with label মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছর. Show all posts
Showing posts with label মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছর. Show all posts

Monday, November 7, 2016

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - মমতা সরকারের ছমাস

বাংলার গ্রাম উদ্যমীদের জন্য বিশ্ববঙ্গ মন্ত্রকের দাবি
গত বিধানসভা ভোটের আগে, ভোটের পরেও বলেছিলাম এবং মমতা সরকার তৈরি হওয়ার পাঁচ বছর ছমাস পরে বিন্দুমাত্র রাখঢাক না করেই বলছি- ১৭৫৭র ঔপনিবেশিক বাংলা তথা ভারতে, ব্রিটিশ আর ইংরেজি শিক্ষিত চাকুরিজীবী বাঙ্গালির হাতে বাংলার বিশিল্পায়ন, ধ্বংস, লুঠের পরে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একমাত্র সরকার, যারা বাংলার গ্রাম বিকাশকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা রূপায়িত করছে।
বিশ্ববাংলা উদ্যম বিশ্বকে পথ নির্দেশ করছে। সরকারি নীতি সমূহ পরম্পরার গ্রামীণ উদ্যোগীদের বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বাধীনতার পরে বড় পুঁজি নিয়ন্ত্রিত, পশ্চিমি প্রযুক্তি প্রযুক্ত গ্রাম ধ্বংসী বিকাশের পরিকল্পনা নিয়ে আজও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রিয় সরকার চলছে। সেই নীতিও থেকে বাঙলার মমতা সরকারের নীতি সম্পূর্ণ আলাদা এবং নতুন পথের।
আমরা অবাক হয়ে দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার স্বাধীনোত্তর সরকারি জাতি রাষ্ট্রীয় ভ্রান্তি কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সুযোগে পাঁচ বছর ছ’মাসের বাংলা-সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাংলার পরম্পরার গ্রামীন উদ্যোগের জন্য আলাদা মন্ত্রক আশু তৈরি করা - যার নাম হোক বিশ্ববংগ দপ্তর। বর্তমানে গ্রাম শহরের বাজারের প্রজ্ঞা, বংশপরম্পরার জ্ঞান আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত দক্ষতা, নিজস্ব বিদ্যুৎ বিহীন প্রযুক্তি আর স্থানীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভর ছোট গ্রামীন উদ্যমীরা আজও সরাসরি নিজেদের কাজকর্মের চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের পরিকল্পনায় এবং উদ্যমে। সেই উদ্যমকে সরকারি সিলমোহর দেওয়া প্রয়োজন, গ্রাম উদ্যমীদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
মুশকিল হল, আজও এই গ্রামীন পরম্পরার উদ্যমীদের নিজেদের কোন মন্ত্রক নেই – তাঁরা আজও এমএসএমই দপ্তরের অধীনে। আমরা মনে করি, এই গ্রামবাংলা পুনর্গঠনের কাজটা এমএসএমই মন্ত্রক দিয়ে হবে না –স্বাধীনতার পর এত দিনেও সম্পন্ন হয় নি – শিল্প উতপাদনে বাংলা যেখানে ছিল তাঁর থেকে ক্রমাগত পিছিয়েছে। তাই পারম্পরিক বিশ্ববাংলা মন্ত্রক তৈরি করার পথেই এগোতে হবে। কেননা এমএসএমই উদ্যমী আর পরম্পরার গ্রামীন উদ্যমীদের স্বার্থ, চরিত্র দুটোই আলাদা।
মনে রাখতে হবে, এমএসএমই মন্ত্রকের সৃষ্টি হয়েছিল বড় পুঁজির উদ্যোগীদের অনুসারী হিসেবে, গ্রাম উদ্যমীদের স্বনির্ভর, স্বনিয়ন্ত্রিত বাজার থেকে তাড়িয়ে নিয়ে বড় পুঁজি নির্ভর, বিদ্যুৎ পশ্চিমী শিল্পের অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলা। অনুসারী শিল্প বাংলায় বলা ভাল কলকাতার আশেপাশের শিল্পাঞ্চলে ছিল কিন্তু আজ সেগুলি অস্তমিত কেননা তাদের উতপাদন, প্রযুক্তি, উদ্যমের নিজস্বতা নেই, তাদের আছে বড় পুঁজির ওপর নির্ভরতা। হারিয়ে গিয়েছে শিল্প মানচিত্র থেকে। আমরা যারা বাঙলার গ্রামীন ছোট উদ্যমীদের সংগঠন যাঁদের সদস্যদের মূল পুঁজি হল জ্ঞান আর দক্ষতা, পুঁজি বা ব্যাঙ্কেবিলিটি নয়, তাঁরা সরাসরি মনে করি শিল্পবিপ্লবীয় বড় পুঁজি আদতে গ্রামীন ছোট উদ্যমের স্বার্থের সরাসরি বিরোধী – আদতে বাঙলার সরকার যে নীতি নিয়ে চলেছে, গ্রামনির্ভরতা বাড়ানো, সেই নীতির বিরোধী।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা২- মমতা সরকারের ছমাস

বাংলার গ্রাম উদ্যমীদের জন্য বিশ্ববঙ্গ মন্ত্রকের দাবি
মূল বিতর্কে ঢোকার আগে দেখে নেওয়া যাক গ্রাম উতপাদকেদের বাংলা বাজার কতটুকু। বাংলায় অন্তত ৫০ লক্ষ ছোট উদ্যমী, ৭ লক্ষর বেশি তাঁতি এবং অন্তত ৩ লক্ষ পরম্পরার অভিকর শিল্পী রয়েছেন – মোট ৬০ লক্ষ। এবারে বোঝা যাক – যদি প্রত্যেককে মাসে দুহাজার টাকা রোজগার করতে হয়, তাহলে নিশ্চই বছরে ন্যুনতম ১ লাখ টাকার উতপাদন এবং ব্যবসা করতে হবে। তাহলে ৬০ লক্ষ গুণ ১ লক্ষ – অর্থাৎ ন্যুনতম ৬০ হাজার কোটির ব্যবসা দেয়।
বাংলার ক্ষেত্রফল এবং জনসংখ্যা ভারতের গড় জনসংখ্যার কাছাকাছি – এই অঙ্কের সঙ্গে যদি আমরা রাজ্যগুলির গুণিতক করে ফেলি তাহলে যে অঙ্কটা দাঁড়াবে তা চোখ কপালে তোলার মতই। তাও তো কৃষি এই উদ্যমের বাইরে রাখা গিয়েছে। ফলে কর্পোরেট ব্যবসার উচ্চতার ফানুষ চুপসে যায়। তাই এই বিশাল বিপুল অর্থনীতির জোরে ২০০৮এর ইওরোপ আমেরিকার বিষকে নীলকণ্ঠের মত ধারণ করে গ্রাম ভারত, কপ্ররপোরেট ভারতকে উদ্ধার করে আর সেই বেল আউটের জেরে কর্পোরেট অর্থিনীতির ফাণ্ডামেন্টাল কত জোরদার সেই ফানুসে বাতাস ভরে বড় পুঁজি পোষিত ফেউয়েরা।
ফিরি আমাদের বিতর্কে – জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, নিজের বাজার, নিজস্ব প্রযুক্তি, নিজের কাঁচামাল, আর নিজের এলাকায় শ্রম বাজারের ব্যবস্থাপনা নিজের হাতে রাখার গ্রাম উদ্যমের জন্য কেন এমএসএমই মন্ত্রকের বাইরে আমরা একটা আস্ত মন্ত্রকএর দাবি জানাচ্ছি সেই যুক্তি-প্রতিযুক্তিতে। আমাদের প্রতীতি প্রমান করতে আমরা একটা পথ নিয়েছি – দুটি বিষয়ের তুলনা।
বিতর্কে ঢোকার আগে বলে নেওয়া দরকার এমএসএমই উদ্যোগীরা আমাদের ভাই। সেই উদ্যোগীদের সঙ্গে পরম্পরার গ্রামীন উদ্যোগের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু দুটি উদ্যম আলাদা। তাদের মধ্যে শুধু উৎপাদন করা ছাড়া কোন কিছুতেই যে মিল নেই তা আমরা পরে দেখিয়েছি।
এসএমএসই ক্ষেত্রের সমস্যা
ক। ন্যুনতম বিনিয়োগের শর্ত - সেবা ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা, উতপাদনে ২৫ লক্ষ টাকা
খ। বিনিয়োগ খোঁজার সমস্যা - সাধারণত উদ্যোগীর নিজের বিনিয়োগে সাধারণত ব্যবসা শুরু করতে পারে না। ফলে প্রধানতম বিচার্য সেই ব্যবসা ব্যঙ্ক ঋণের উপয়োগী (ব্যাঙ্কেবল) কি না – সে বিনিয়োগ কোথায় পাবে এবং তা প্রক্রিয়া করে উৎপাদন তৈরি করবে। আদতে বড় পুঁজির ওপর নির্ভরশীল ছোট উদ্যমের বাঁচা মরা কিন্তু বড় পুঁজির আবহেই নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত ব্যাঙ্ক যেহেতু বড় পুঁজিরই উদ্যম, সেহেতু বড় পুঁজির অনুসারী আদতে বড় পুঁজির ইচ্ছে অনিচ্ছের(কেউ কেউ বলেন অর্থনৈতিক আর ব্যবস্থাপনার তত্ত্ব – আদতে তা ইচ্ছেই – যাকে ব্যবস্থাপক আর অর্থনীতিবিদেরা তত্ত্বে রূপান্তরিত করেছেন) ওপরে নির্ভরশীল। আদতে তার অস্তিত্বের ওপর বড় পুঁজির অদৃশ্য হাত সবসময় ক্রিয়া করে। সে বিন্দুমাত্র নির্ভরশীল নয়।
গ। মূলত কাঁচামালের জন্য উদ্যমীকে নির্ভর করতে হয় বড় পুঁজির উতপাদনের বা ক্রিয়ার ওপর। কাঁচামালও সাধারণত তাকে জোগাড় করতে হত কিছু দিন পূর্বে রাষ্ট্রের দয়ায়(যারা আদতে পুঁজি নিয়ন্ত্রিত) আজ বড় পুঁজির দয়ায়।
ঘ। প্রযুক্তি - প্রযুক্তি তার নিজস্ব নয়। তাকে সেটা কিনতে হয়। তার পিছনে প্রচুর সময় অর্থ পরিশ্রম ব্যয় হয়। আর নতুন প্রযুক্তি এলে তাকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তার বিনিয়োগ, শ্রমশক্তি তার জন্য ব্যয় করার পরিকল্পনা করতে হয়।
ঙ। দক্ষতা – সাধারণত সেটাও উদ্যমীর থাকে না। তাকে হয় সেটা গাঁটের কড়ি ফেলে অর্জন করতে হয়, না হয় ভাড়া নিতে হয় কর্মীরূপে
চ। গত দুদশকে কলকাতার আশেপাশের বড় পুঁজির শিল্পের আবনতির সঙ্গে অনুসারী শিল্পের হ্রাসের মধ্যে একটা তাত্ত্বিক সাজুজ্য রয়েছে – হাতে গোণা ব্যতিক্রম ছাড়া, এমএসএমই উদ্যম বড় পুঁজি শিল্পের অনুসারী। ফলে এলাকায় বড় পুঁজির বাড়া হ্রাসের সঙ্গে তাঁর ভাগ্য জড়িয়ে রয়েছে।
ছ। আর যদি যে স্বাধীন উতপাদক হয় – তাহলে তার উৎপন্নের বাজার খুঁজতে হয় নিজেকেই, লড়াই করতে হয় বাজারে থাকা বড় প্রতিযোগীর সঙ্গে, বাজারের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে থাকে না।
জ। তাকে যন্ত্র চালাতে সরাসরি নির্ভর করতে হয় বিদ্যুতের ওপর। তাঁর দাম, তা পাওয়া, তাঁর গুণমান সব নির্ভর করে বড় পুঁজির ইচ্ছের ওপর।
কিন্তু এর তুলনায় বাংলার পরম্পরার গ্রামীণ ছোট উদ্যোগীদের নিজস্ব জোরের জায়গাটি দেখি -
১। বিনিয়োগ বিন্দুমাত্রই বড় সমস্যা নয় – সে তার জীবনে ১০ লক্ষ টাকা হয়ত রোজগারই করে না - অথচ সে তার নিজের কারখানার মালিক – সেটা তৈরি করতে সে ব্যাঙ্ক বা সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না। ফলে তাঁর উদ্যম পুঁজি নির্ভর নয় – ব্যাঙ্কের দরজা সে হয়ত তাঁর জীবনে একবারও মাড়ায় না, ফলে চাইলেও ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা মার্ফত বড় পুঁজি তাকে দখল করতে পারে না। সে স্বাধীন। সে নিজের সমাজের সঙ্গে যুক্ত। তাকে রাষ্ট্র পুঁজি কেউই সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না।
২। কাঁচামাল সমস্যা নয়। শাঁখ, ধাতু আর তাঁতের সুতো(আমরা সাঙ্গঠনিকভাবে চেষ্টা করছি বাংলায় তাঁতপ্রধান গ্রামে সুতো চাষের – তাহলে এই জিনিসটিরও ওপরে তাঁতিদের নিয়ন্ত্রণ এসে যাবে। তাকে আর মিলের খারাপ সুতোর ওপরে নির্ভর করতে হবে না)। ছাড়া কাঁচামাল সাধারণত উদ্যোগী তার গ্রামের আশেপাশ থেকেই সংগ্রহ করে।
৩। তাকে দক্ষতা সংগ্রহের জন্য আলাদা করে পাঠ নিতে হয় না। পরম্পরার ছোট উদ্যোগীদের মূল কাঠামো হল তার বংশপরম্পরায় বয়ে যাওয়া সামাজিক দক্ষতা, যে দক্ষতা সে চারিয়ে দিয়ে যায় তার উত্তরপ্রজন্মের কাছে বা তার সমাজে।
৪। তার জোর বংশপরম্পরার সামাজিক বাপ-দাদার জ্ঞান। তার জ্ঞান সে হয় তার পরিবারের লোককে বা তার কর্মচারীকে দিয়ে যায় – ফলে সমাজে নিত্যনুতন দক্ষতা আর জ্ঞানে নতুন নতুন উদ্যোগী তৈরি হয়।
৫। প্রযুক্তির জন্যও তাকে কাউকে পয়সা দিতে হয় না, যন্ত্র সারাই করতে তাকে এমন কিছুই খরচ করতে হয় না বা যন্ত্র খারাপ হলে দক্ষ যন্ত্রবিদের জন্য তাকে হাপিত্যেস করে বসে থাকতে হয় না – সে সারাইয়ের দক্ষতা তার নিজের না হয় গ্রামেই না হয় আশেপাশেই থাকে – নতুন প্রযুক্তি এলে পুরোনোকে ফেলে দিয়ে, তা সংগ্রহ করতে দৌড়োদৌড়ি করতে হয় না। নতুন প্রযুক্তি জোগাড় এবং কেনার জন্য বিনিয়োগ আর তা চালাবার জন্য শ্রমিক খুঁজতে হয় না। তার জোর বংশ পরম্পরার নিজস্ব সামাজিক প্রযুক্তি – এখনও জং না পড়া লোহা তৈরি করেন ডোকরা কামার – বড় রোলিংমিল নয়; আজও ভাল সুতো, শাড়ি, জামাকাপড় তৈরি হয় তাঁতে – কাপড় মিলে নয়; আজও সূক্ষ্ম শাঁখে কাজ হয় হাতে, যন্ত্রে নয়।
৬। আর বাজার সাধারণত তার নিজের, হাতের কাছের হাট, বাজার বা গঞ্জ, না হলে কাছের শহর।
৭। ছোট উতপাদকেদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার নিজস্ব উতপাদনের ইতিহাস, নিজস্ব প্রযুক্তির গর্ব, আর ঐতিহ্য যা বাংলার জ্ঞানচর্চা ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে – একদা বাঙ্গালার বিশ্বপরিচিতির সঙ্গে জড়িয়ে।
৮। আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা এই উদ্যমে গ্রামের বা স্থানীয় শ্রমশক্তির নিয়োজন হয়। গ্রামের শ্রমিক আরও বেশি কাজ পায়। তাদের কাজ খুঁজতে গ্রামের বাইরে আর যেতে হয় না। আর বিনিয়োগের হারের তুলনায় গ্রামীন ছোট উদ্যোগে অনেক বেশি মানুষ নিয়োজিত হন, তাতে বেকার সমস্যার সমাধান হয়।
৯। আর যেহেতু তার উদ্যম বিদ্যুৎ নির্ভর নয়, রাসায়নিক নির্ভর নয় মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে তাকে উৎপাদন করতে হয় তাই তাকে বড় পুঁজির উতপাদনের সঙ্গে লড়াই করতে হয় না, তার উৎপাদন অনেক বেশি দামে শহুরে বাজারে বিকোয় – তার রোজগার, রাজ্যের রোজগার আর গ্রামের স্বনির্ভরতা বাড়ে। গান্ধীজীর গ্রামস্বরাজের স্বপ্ন সাকার হয়।
১০। এরা কেউ রাজ্যসরকার বা কেন্দ্র সরকারের ভর্তুকি বা বিনিয়োগ পেতে উতসাহী নয়। ফলে এই উদ্যোগী তৈরি করতে সরকারের বিন্দুমাত্র অর্থ ব্যয় হয় না; বরং সরকারের সঙ্গে গ্রামে বসে উৎপাদন করা উদ্যোগী গ্রামন্নয়নের কাযে অংশিদার হয়। তাকে আর উতপাদনের জন্য শহরে আসতে হয় না।
১১। আর জ্ঞান প্রযুক্তির প্রজ্ঞা নিজের পরিবারে বা সমাজে থাকে তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যায়। তাই দেশকে জ্ঞান আর প্রযুক্তি কেনার জন্য গাঁটের কড়ি বিনিয়োগ করে বড় পুঁজিকে উৎসাহিত করতে হয় না।
ফলে তাকে আলাদা করে যদি গ্রামীণ ছোট উতপাদকেদের উতসাহিত করা যায়, তাহলে যেমন গ্রামের টাকা গ্রামে থাকে, রাজ্যের টাকা রাজ্যে থাকে, তেমনি দক্ষ শ্রমিক রাজ্য ছেড়ে বিদেশে রোজগারের জন্য পাড়ি দেয় না।
ফলে এই মানুষদের উদ্যম কোনভাবেই এমএসএমই দপ্তরের অধীন হতে পারে না। যে দপ্তর ন্যুনতম দশ লাখ টাকা বিনিয়োগ করাকে তাঁর আধীনে থাকার উদ্যমীর চরিত্রভাবে, সেই এমএসএমই দপ্তরের অধীন গ্রাম পরম্পরার জ্ঞান, দক্ষতা, নিজের বাজার আর প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যমীরা হতে পারে না। গ্রাম উদ্যমীরা স্বাধীন, তাঁরা পুঁজি নির্ভর নয়। তারাই ভারত – তাঁর ইন্ডিয়া নয়। তারাই গ্রাম ভারতের প্রতিনিধি। বাংলা, ভারতের গর্বের প্রতিনিধি। তাঁরা হস্ত শিল্পী নয়, তাঁরা গ্রাম উদ্যমী।

উপনিবেশিকতাবাদ বিরোধী চর্চা - মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছরের পাঠ


মমতা সরকারের ছমাস পাঁচ বছরের মূল অবদান - সবার উপরে কর্পোরেট সত্য তাহা ছাড়া গতি নাই গোছের মধ্যবিত্ত বাম ভদ্রলোক প্রণোদিত সর্বব্যপী ভয়ের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ...
ভয় পাইয়ে দেওয়া কর্পোরেট লুঠেরা ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির রণনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ;
এই সর্বব্যাপী ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে কর্পোরেট খাতক মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক - যাদের পড়াশোনা, জীবনধারণ, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, ভাবনাচিন্তা এবং রোজগার সবই কর্পোরেট উদ্যম থেকে আহৃত।
মধ্যবিত্ত সমস্ত সংস্কৃতিই - এমন কি বামেদের কর্পোরেটিয় বিশ্বায়ন বিরোধিতা আদতে মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকেদেরকে আরও বেশি করে কর্পোরেট আওতায় নিয়ে ফেলার চক্র - এই ভয়ের পরিবেশে থেকে থেকে তার মনে হয় এই সার্বিক কর্পোরেটিয় পরিবেশে আর কিছু করার নেই, কর্পোরেটের অঙ্কশয়ানি হওয়া ছাড়া।
লোকসংস্কৃতি আর হস্তশিল্পের মত, বা গ্রামকে প্রান্তিক দেগেদেওয়া বা ক্ষেত্রসমীক্ষা
বা লুপ্তপ্রায় জাতীয় শব্দবন্ধ বড় পুঁজির পড়াশোনার রচনা - বিশেষ করে জাদুঘরিয় বিদ্যা চর্চা আরও বড় ভূমিকা পালিন করেছে - যেটা আমরা পরমে বারবার দেখাতে চেষ্টা করেছি -
এই সংস্কৃতি উতপাদন ব্যবস্থা এগুলি যে তাঁদের তুলনায় কত ন্যুন, প্রান্তিক জাদুঘরিয় তুচ্ছ তা প্রমান করার চেষ্টা করে, তাই এই শব্দগুলি পশ্চিমি ইওরোপিয় বিদ্যায় মাহির ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের খুব প্রিয় - এবং সে অবচেতনে আদলে বড় পুঁজির উপনিবেশের দালাল হিসেবে কাজ করে।
আমাদের দলের বহু কর্মী আগে সক্রিয় বাম কর্মী ছিলাম - এবং এখানেই আমাদের বামেদের প্রতি অভিমান - তাঁরা এই শুদ্র সভ্যতাটাকেই তাঁরা দেখার চেষ্টা করলেন না - ব্রিটিশেরা শুদ্র সভ্যতার বিশিল্পায়ন করল - মার্ক্সের সেই সভ্যতা
ধ্বংসের প্রণোদনাটাকেই সত্যি ভেবে শুদ্র সভ্যতার ধ্বংসের জয়গান গাইলেন।
সেই প্রবণতা আজও চলছে
সৌভিক বলেছেন চিনে মাও করেছেন, কিন্তু এই বাংলায় অষ্টরম্ভা
এই সুযোগে আবার গ্রাম অর্থনীতির জীবনযাত্রার বাস্তবতাটা দেখে নেওয়া যাক গ্রাম উতপাদকেদের বাংলা বাজার কতটুকু -
বাংলায় অন্তত ৫০ লক্ষ ছোট উদ্যমী, ৭ লক্ষর বেশি তাঁতি এবং অন্তত ৩ লক্ষ পরম্পরার অভিকর শিল্পী রয়েছেন – মোট ৬০ লক্ষ। এবারে বোঝা যাক – যদি প্রত্যেককে মাসে দুহাজার টাকা রোজগার করতে হয়, তাহলে নিশ্চই বছরে ন্যুনতম ১ লাখ টাকার উতপাদন এবং ব্যবসা করতে হবে। তাহলে ৬০ লক্ষ গুণ ১ লক্ষ – অর্থাৎ ন্যুনতম ৬০ হাজার কোটির ব্যবসা দেয়।
বাংলার ক্ষেত্রফল এবং জনসংখ্যা ভারতের গড় জনসংখ্যার কাছাকাছি – এই অঙ্কের সঙ্গে যদি আমরা রাজ্যগুলির গুণিতক করে ফেলি তাহলে যে অঙ্কটা দাঁড়াবে তা চোখ কপালে তোলার মতই। তাও তো কৃষি এই উদ্যমের বাইরে রাখা গিয়েছে।
ফলে কর্পোরেট ব্যবসার উচ্চতার ফানুষ চুপসে যায়।
তাই এই বিশাল বিপুল অর্থনীতির জোরে ২০০৮এর ইওরোপ আমেরিকার বিষকে নীলকণ্ঠের মত ধারণ করে গ্রাম ভারত, কর্পোরেট ভারতকে উদ্ধার করে আর সেই বেল আউটের জেরে কর্পোরেট অর্থনীতির ফাণ্ডামেন্টাল কত জোরদার সেই ফানুসে বাতাস ভরে বড় পুঁজি পোষিত ফেউয়েরা।
অন্তত বাঙ্গালিকে সেই ভয়ের পরিবেশ থেকে উত্তোরণের বার্তা দিচ্ছে মমতা সরকার - ছ মাস পাঁচ বছরের এটাই অন্তত আমাদের মত গ্রামীন সংগঠনের প্রাপ্তি