Lokfolk লোকফোক forum of folk লোক tribal আদিবাসী culture সংস্কৃতি of West Bengal পশ্চিমবঙ্গ, বাংলা. LOKFOLK is Bengal বাংলা India's ভারতের traditional পারম্পরিক knowledge system জ্ঞানভাণ্ডার, history ইতিহাস, Indigenous technology প্রযুক্তি. We have two mass bodies গনসংগঠন Bongiyo Paromporik Kaaru O ও Bastro Shilpi Sangho; Bongiyo Paromporik Aavikaar Shilpi Sangho. Journal পত্রিকা, PARAM, পরম. Picture - KaaliKaach কালিকাচ, Dinajpur দিনাজপুর, Madhumangal মধুমঙ্গল Malakar মালাকার
Showing posts with label Uttarpara. Show all posts
Showing posts with label Uttarpara. Show all posts
Wednesday, September 18, 2013
Unit Theater of Uttarpara & Joya Mitra on Uttarkashi Disastar and photo3, উত্তরপাড়ার ইউনিট থিয়েটার এবং সাম্প্রতিক উত্তরকাশীর ঘটনা নিয়ে জয়া মিত্রের বক্তৃতা আর ছবি৩
লেবেলসমূহ:
Joya Mitra Photo,
Uttarkashi Disastar,
Uttarpara,
ইউনিট থিয়েটার,
উত্তরপাড়া,
জয়া মিত্র,
জয়াদির ছবি
Unit Theater of Uttarpara & Joya Mitra on Uttarkashi Disastar2, উত্তরপাড়ার ইউনিট থিয়েটার এবং সাম্প্রতিক উত্তরকাশীর ঘটনা নিয়ে জয়া মিত্রের বক্তৃতা২
যে প্রাকৃতিক কারনে এই বিপর্যয় হচ্ছে, সেই
প্রাকৃতিক কারনগুলো তৈরি হওয়ার পেছনে মানুষের হাত রয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা কেউ জোর গলায় কথা
বলছি না। আপত্তি করছি না। যারা হিমালয়ে নিয়মিত যান, অভিযাত্রীরা, এ বিষয়ে সব থেকে
বেশি তাদের বলার আছে। অভিযাত্রীরা কথা বললে সরকার হয়ত নড়েচড়ে বসবে। কখনো হিমালয়
জুড়ে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযাত্রীরা কথা বলেন নি। ভারতের প্রাচীন ধর্ম,
সনাতন সব তীর্থস্থান অসাধারণ সব যায়গায় (কয়েকটির বর্ণনা দেন তিনি)। মানুষ হাজার
হাজার বছর ধরে হিমালয় গিয়েছে, নানান সব দুর্গম কিন্তু অসম্ভব সুন্দর স্থান
আবিষ্কার করেছেন। আমরা হিমালয়কে দেবভূমি বলি। কখনো সেই হিমালয়কে তাঁরা ময়লা,
দূষিত, নষ্ট করেন নি। আমাদের প্রাচীন, সভ্যতা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আঘাত হানত না।
পুরনো ভারতের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন পশ্চিমি ভারত। দুই ভারত একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে।
হিমালয়ের সম্পদকে রক্ষা করতেন স্থানীয়রা।
তাঁরা এই সম্পদকে নিয়ে বাঁচতেন। হিমালয় কি, কত মহৎ, সে বিষয়ে আমাদের গ্রামের
মানুষ, পারম্পরিক মানুষ সচেতন ছিলেন। ছোটবেলায় জয়াদি পাহাড়ে থাকতেন। একটি ঢিল
ছোঁড়ার উদাহরণ দিলেন, বললেন, কিভাবে সেই অঞ্চলের মানুষ তাকে বকেছেন এই ঢিল ছোঁড়ার জন্য কেননা প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে। তাঁরা
প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা কাকে বলে জানতেন, তার গুরুত্ব বুঝতেন, তাই সেগুলো ভাঙার চেষ্টা
করেননি। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে প্রকৃতিকে নিয়ে চলতেন। মানুষ যখন বসতি তৈরি করে তখন
প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যায়। প্রকৃতিকে পাল্টানোর চেষ্টা করে। আমাদের গ্রামের
মানুষেরা প্রাকৃতিক নিয়ম মেনেই প্রকৃতিকে পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন। ঝুম চাষের কথা
বললেন। কি ভাবে প্রকৃতিকে রক্ষা করে স্থানীয়রা ঝুম চাষ করছেন তাও জানান। বললেন
আমাদের ধারণা আছে ঝুমের জন্য মাটি আলগা হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না কেন না
তাঁরা জানেন কি ভাবে তা আটকাতে হয়। ধাপগুলো পাহাড়ের দিকে একটু ঢাল করে কাটা হয়
যাতে পাহাড়ের গা বেয়ে নামা জল সোজা না গড়িয়ে পড়ে। আর ধাপের শেষের দিকে এক চিলতে ঘাসএর
আস্তরন তৈরি করে রেখে দেওয়া হয়।
আমাদের গ্রামীণেরা যে মাটির প্রকৃতি বুঝে
চাষ করতেন, জলের প্রবাহ বুঝে সেচ দিতেন, তার একটি উদাহরণ দলেন বীরভূমের। মাটি লাল।
কাঁকুরে। জমি উঁচুনিচু। প্রকৃতির দেওয়া এই ভুপ্রকৃতিকে তারা মনে করতেন প্রকৃতির
দান। তাকে সঙ্গে নিয়েই জীবন চালাতে হবে। এই মাটি ২৪ পরগনার আঠাল, ছোট দানার মাটি
নয়। কিন্তু গত ৪০-৫০ বছরে বীরভূমের মাটিকে সরকারি উদ্যমে বহু অর্থ বিনিয়োগ করে
চৌরস, অর্থ, সমান করা হয়েছে। কাঁদরের কথা বললেন। বীরভূমের ছোট বড় অসংখ্য নদীর
শুরুই এই কাঁদর দিয়ে। সারা বাঙলায় বর্ষাকে খুব ভাল ভাবে নেওয়া হত। কেননা বর্ষা পলি
ফেলত, সেই পলি দিয়ে চাষ হত। যখন থেকে উচ্চফলনশীল ধান চাষ শুরু হল, সব কিছু চাষ
ফেলে বলা হল শুধুই ধান চাষ করতে, তখনই প্রকৃতিকে ধংস করার কাজ শুরু হল। বর্ধমানের
মাটি যেমন, তেমন বীরভূমের মাটি নয় – কেন ভেবে দেখেছেন কেউ? ৭৭এর বীরভূমের বন্যার
ভয়াবহতার কথা বললেন। যেখানে মানুষ বন্যা জীবনে দেখেনি সেখানে বন্যা হল। জমি ৮/১০
ফুট বালির তলায় তলিয়ে গেল। বন্যা সেচ দিত আর উর্বরতা তৈরি করত। কিন্তু বন্যাকে আমরা
দুঃখ হিসেবে দেখলাম। আমার কি আছে তা দিয়েইতো আমরা সংসার চালাই। অথচ আজ আমাদের কি
আছে তা বিচার না করে আমরা তাকাই পশ্চিমের দিকে। এটি শুধু বাংলা নয়, সারা ভারতের
ছবি। আমাদের যে উৎপাদন পদ্ধতি ছিল, বিতরন পদ্ধটি ছিল তার প্রায় সব হারিয়ে ফেলেছি।
এই যে কৃষির বিশৃঙ্খলার কথা বললাম, তার
সঙ্গে গাড়োয়ালের বিপর্যয়কে এক করেই দেখতে হবে। আমরা প্রকৃতিকে জয় করতে চাইছি।
এভারেস্টে ওঠা বাচেন্দ্রি পাল বলেছিলেন এভারেস্টকে জয় করা যায় না। সে কাউকে কাউকে
পাশে আসতে দেয়। এই নদী জোড়া প্রকল্পই ধরি। আসানসোলের এক চাষিকে বলেছিলাম। সে দারুন
এক উত্তর দিয়েছিল, নদী যদি জুড়তেই হত তাহলে আগে থেকেই জোড়া থাকত। এত বড় বড় গর্ত
কাটতে হত না।
নদী মানেই শুধু জল নয়, আরও অনেক কিছু। ঢাল,
উপকূল নানান সবের সমাহার নিয়েই নদী। সেই নদীর নানান বিষয় নিয়েই মানুষ বাঁচতেন। আজ
যত সাধারণ জীবনের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি তত প্রকৃতিকে ধংস করছি। কৃষি মানেই শুধু
চাষ নয়, বিশাল এক সংস্কৃতির অংশ। চাষ মানেই এখন ধান চাষ হয়ে গিয়েছে। জানুর বই থেকে
জঙ্গলের উদাহরণ দিলেন। বললেন মা অনেক সময় ছেড়ে চলে যান, কিন্তু জঙ্গল কোনোদিন ছেড়ে
যায় না। আমলাশোলের কথা বললেন। রেল পথ তৈরির জন্য নয়ানজুলি গঠনের কথা বললেন। ১৪
শাক, নবপত্রিকার কথা বললেন। যত বেশি ধান তত বেশি টাকা বলে দেওয়া হল। নদী নালা বুজে
নদীকে বেঁধে, নদীর ওপর বাঁধ বেঁধে নদী বিজ্ঞান বিরোধী কাজ হচ্ছে।
এর পর জয়াদি এমন কিছু কথা বলেন, যা ভীষণ হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করছিল। কলম বন্ধ করে শুধুই শুনছিলাম যে কত সহজে, কত সাধারণ অথচ কাব্যিক ঢঙে এটি জটিল অথচ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানান ঘটনা, তথ্যের কথা অনর্গল বলে যেতে পারেন। ফলে অনেক গুরুত্বপুর্ন কথা, তথ্য আমারই অক্ষমতায় আর তুলেদিতে পারা গেল না।
এর পর জয়াদি এমন কিছু কথা বলেন, যা ভীষণ হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করছিল। কলম বন্ধ করে শুধুই শুনছিলাম যে কত সহজে, কত সাধারণ অথচ কাব্যিক ঢঙে এটি জটিল অথচ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানান ঘটনা, তথ্যের কথা অনর্গল বলে যেতে পারেন। ফলে অনেক গুরুত্বপুর্ন কথা, তথ্য আমারই অক্ষমতায় আর তুলেদিতে পারা গেল না।
লেবেলসমূহ:
Joya Mitra,
Unit Theater,
Uttarkashi Disastar,
Uttarpara,
ইউনিট থিয়েটার,
উত্তরপাড়া,
জয়া মিত্র
Unit Theater of Uttarpara & Joya Mitra on Uttarkashi Disastar1, উত্তরপাড়ার ইউনিট থিয়েটার এবং সাম্প্রতিক উত্তরকাশীর ঘটনা নিয়ে জয়া মিত্রের বক্তৃতা১
গত ২ আগস্ট, ২০১৩, জয়া মিত্র এবং আমি
উত্তরপাড়ার টাউন স্কুলে, ৪৪ বছরের নাটকের দল, ইউনিট থিয়েটারের এক অনুষ্ঠানে যোগ
দিতে গিয়েছিলাম। বাংলার অন্য অঞ্চলেরমত উত্তরপাড়ায় পাহাড়ের
বহু ওপরের অংশে, দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়ার কয়েকজন মানুষ রয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের যে ঘটনাটি ঘটল কয়েক মাস আগে, সেই সময় তাঁরা গিয়েছিলেন সেই অঞ্চলে। সেই বিপর্যয়ের মধ্যে সেই মানুষগুলো পড়েন। কিন্তু কোনও
প্রাণহানি ঘটেনি। উত্তরকাশিতে সেই দুর্ঘটনা কেন ঘটল, সেই কারন জানার জন্য ইউনিট
থিয়েটার এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। পাঠশালার বড় একটি ঘরে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। বিদ্যালয়টি বেশ বড়। মেয়েদের শিক্ষার জন্য
নিবেদিতপ্রাণ। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো যথেষ্ট ভাল।
অনুষ্ঠানে প্রথমে অনীক চট্টোপাধ্যায়, পেছনের
দেওয়ালে ঝোলানো লেখার কালো কাঠে যাত্রাপথ এঁকে, তাদের উত্তরকাশীর দুরবস্থার বর্ণনা
দেন। পরে কৃষি
বিজ্ঞানী বিজয় চৌধুরী বলতে উঠে প্রশ্ন তোলেন, বিপর্যয় কাকে বলব। বললেন হিমালয় খুব নতুন এক পর্বত
শ্রেণী। তার ভাঙাগড়া চলছে। এবং চাষে নানান দূষণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সবাইকে
খাওয়াতে পারার ক্ষমতা নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন। শেষে প্রায় সাতটার দিকে বলতে ওঠেন জয়াদি।
বলেন, তিনি আজ যা বলবেন সবই মাঠেঘাটে শেখা। মাঠেঘাটের মানুষেরাই আমার মাস্টারমশাই।
এক জায়গায় যা দেখেছি, সেই কথাই আমি অন্য জায়গায় বলি। অনেকটা কাকের মত। তিনি
বক্তব্যের মূল বিষয় শুরু করলেন একটি প্রশ্ন দিয়ে, কাকে বিপর্যয় বলব। একে প্রকৃতির খামখেয়াল, দুর্যোগ, ইত্যাদি নানান নামে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? সম্ভবতঃ
উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়, হয়ত বিশ্বের সবথেকে বড় অ্যাকসিডেন্ট। এক যায়গায় এত মানুষ,
এত প্রাণী হয়ত এর আগে একসঙ্গে মারা যান নি। যেভাবে ধস নেমেছে, তা এর আগেও দেখা যায়
নি। তাই বহু মানুষ জানতে চাইছেন কেন এমন ঘটল? একে শুধুই দুর্যোগ বললে সত্যের অপলাপ
হবে। এটি প্রকৃতির খামখেয়াল নয়। এর আগেও এধরনের ছোট ছোট ঘটনা এখানে ঘটেছে।
উত্তরকাশীতেই পর পর কয়েক বছর নানান ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ভারতের অন্যত্র হিমালয় সংলগ্ন
অঞ্চলেও নানান ঘটনা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। আমরা সেগুলো কিছুদিনের মধ্যে ভুলে গিয়েছি।
আর এখন কোনও ঘটনায় খুব বেশি প্রাণহানি না ঘটলে বোধহয় সেদিকে খুব একটা নজর পড়ে না।
আর প্রচুর প্রাণহানি হলেও সাবধান হইনা। ২০০০এর বাংলার বন্যা তার বড় উদাহরণ। তার
ব্যাপকতা আমরা সকলে ভুলেছি। বাড়ির ছাদ সমাজ জল উঠেছিল। কত মানুষ পশু মরেছিল তার
লেখাজোখা নেই। অথচ সে বন্যা কেন হল, কিভাবে হল, কি ক্ষতি হল তা নিয়ে খুব একটা কাজ
হয় নি। অথচ কোশীর বন্যার পরে বিহারের একদল মানুষ, কোন কোন নদিতে কেন বন্যা হল,
কিভাবে হল, কি কি ক্ষতি হল তা নিয়ে নয় খণ্ডের বিশদে বই লিখেছেন। বাংলা নিয়ে সে কাজ
কিন্তু আমরা করতে পারিনি। এই উদাসীনতা কেন?
লেবেলসমূহ:
Joya Mitra,
Unit Theater,
Uttarkashi Disastar,
Uttarpara,
ইউনিট থিয়েটার,
উত্তরপাড়া,
জয়া মিত্র
Subscribe to:
Posts (Atom)





