Showing posts with label ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ. Show all posts
Showing posts with label ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ. Show all posts

Saturday, July 14, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা৩ - পশ্চিমিজ্ঞান ও ঔপনিবেশিক ভদ্রলোক

হ্যারিংটন বর্ণিত রামমোহন আর অন্যান্য অভিজাতর লড়াই ঔপনিবেশিক বাংগালির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব, এটা নিয়ে বিশদ চর্চাও হয়েছে। আমি(কপিল রাজ) এখানে একটা বিষয় ধরিয়ে দিতে চাই, এই দুই পক্ষের শিক্ষা বিতর্কের মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ, লুঠেরা খুনি অত্যাচারী ঔপনিবেশিক পরিবেশের মধ্যে জন্মানো নবতম অভিজাত ভদ্রলোকেরা ইমেজ অব নজেল বলতে কি বোঝেন সেই দ্বন্দ্বটি। আমি পুরোনো মিথিক্যাল ইতিহাস চর্চার মধ্যে না ঢুকে, কলকাতা হিন্দু কলেজের কিছু আগের কিছু সময়ে পরিভ্রমণ করে, ইমেজ অব নলেজ বিষয়টি থিসিসিটি এখানে উপস্থাপন করতে চাইব।
ওই পথে যাওয়ার আগে একটু বিষয়ান্তরে গিয়ে সে সময়ে ব্রিটেনের তুলনায় উপনিবেশের বিজ্ঞানের অবস্থা এবং সে বিষয়ে পড়াবার কি ব্যবস্থা ছিল দেখব, যে সূত্র ধরে কলকাতার (ঔপনিবেশিক) শিক্ষা কেন্দ্রগুলি গড়ে উঠছে। আমরা কোম্পানি আমলের প্রথম দিকের বাংলার ব্রিটিশদের বৌদ্ধিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করব, যারা সে সময়ের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যিক অবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল।
উনবিংশ শতাব্দের প্রথম দিকে ব্রিটিশদের থেকে শিক্ষা
মনে রাখা দরকার কোম্পানির চাকরিতে যে সব কেরানী বা ক্যাডেট কলকাতায় আসত তাদের যোগভাগ করার অঙ্ক এবং সওদাগরি খাতা রাখার শিক্ষা ছাড়া অন্য কিছু শিক্ষা ছিল না, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষা দূরস্থান। পনিবেশের চাকরিতে আসা উচ্চশিক্ষিত যে সব শিক্ষিত ব্রিটিশ কোম্পানির উচ্চলাভের ব্যবসায়িক কাজকর্মর পরে হাতে যতটুকু সময় থাকত সে সময়ে তারা ধ্রুপদী গ্রিক আর ল্যাটিন কৃষ্টি চর্চায় সময় কাটাতেন। ভারতে পা দিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন সংস্কৃত, পার্সি এবং আরবি শাস্ত্রে আইনি নানান বিষয়, চুক্তি, এবং শাস্ত্রীয় সময় সারণি নিয়ে সময় কাটাতেন। তবে জ্ঞানচর্চায় বিপুল সুযোগ এল পলাশীর ৪৩ বছর পরে, কলকাতায় কোম্পানির হাতে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ স্থাপিত হওয়ায়। দ্বর্থহীনভাবে এই প্রথম সংস্থা যেটি দেশিয় বাঙালি এবং শাসক ব্রিটিশদের মধ্যে জ্ঞানচর্চার আদান প্রদানের নিয়মিত সুযোগ করে দিল। এই সঙ্গঠনটি দুই শ্রেণীর মধ্যে বিপুল প্রভাব ফেলল শুধু natural and experimental scienceএর শিক্ষা ছাড়া। শাসকদের নজরে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায় নি, বিশেষ করে কলেজের পাঠ্যসূচীতে তার খুব বেশি প্রভাবও ছিল না। natural and experimental philosophy বিষয়ে একমাত্র অধ্যাপক ছিলেন স্কচ নাগরিক জেমস ডিনউইডি(James Dinwiddie)। তাঁর নাম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাৎসরিক সমীক্ষায় একবারের জন্যেও উল্লিখিত হয় নি এবং এই বাস্তব সত্য আমাদের আলোচনার বিন্দুকে সংহত করে।
আমরা যদি ব্রিটিশ আবহাওয়ার কোম্পানির অবস্থা দেখি, তাহলে বুঝব তাদের কাজকর্মে বাড়তে থাকা ধর্মযাজকদের, বিশেষ করে ক্লাফাম গোষ্ঠীর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। চার্লস গ্রান্টের নেতৃত্বে এই দলটি কোর্ট অব ডিরেক্টরদের মধ্যে বিপুল প্রভাব সৃষ্টি করে। তারা কলকাতার প্রাচ্যবাদীদের তৈরি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিপরীতে কোম্পানিকে দিয়ে ১৮০৭ সালে লন্ডনের হ্যালিবেরিতে কলেজ তৈরি করাতে সমর্থ হয়। ধর্মযাজকের দৃষ্টিতে ভারত ছিল খ্রিষ্টধার্মিক নানান উপাদান ছড়াবার ক্ষেত্র এবং তারা চাইলেন, the simple elements of our arts, our philosophy and religion ব্যবহার করে হিন্দুদের অনৈতিক অধঃপতিত জীবনযাত্রা থেকে মুক্তি দিতে।
আশ্চর্যের নয় যে the Hindu subjects of Great Britainএর এই ধারণাটি খুব ভাল ভাবে নেয় নি। তারা মনে করলেন হিন্দু উচ্চশ্রেণির স্বচ্ছলদের যত বদগুণই থাকুক, তারা নৈতিক ভাবে অধঃপতিত এটা ভাবা এবং ভাবানোও ঠিক নয়। ফলে ভারতে তারা ধর্মকে বাদ দিয়ে উদার ও নৈতিক শিক্ষাদানের পরিকল্পনা করলেন। অক্সফর্ডের সংস্কৃতের বডিন অধ্যাপক এবং কোম্পানির গ্রন্থাগারিক, আদ্দিসকোম্ব এবং হ্যালিবেরির ওরিয়েন্টাল শিক্ষক এবং ভারতে ইওরোপিয় শিক্ষাদানের অন্যতম পথিকৃত, প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ হোরেস হেম্যান উইলসন লিখলেন, The Hindus will not listen to one who comes amongst them strong only in his own faith and ignorant of theirs. ‘Read these translations’, said a very worthy clergyman to a sect of religionists at Benares, who were already seceders from idolatrous worship, and were not indisposed for argument upon the comparative truth of different creeds. ‘We have no objection to read your books’, was the reply, ‘but we will enter into no discussion of their contents with you until you have read ours.’ This was inconvenient or impracticable, and no further intercourse ensued. This is one instance out of many where precious opportunities have been lost, because the only means of communicating fully with the natives—conversancy not merely with their language but with their literature—has been wanting or incomplete; and with an acute and argumentative people like theHindus you must satisfy them that they are in error before you can persuade them to accept the truth। এবং এই উদ্যমটিও খুব বেশিদূর যায় নি।
কিন্তু একটা ব্রিটিশ কর্মক্ষেত্রে ইওরোপিয় বিজ্ঞানচর্চা খুব সফলভাবে এগিয়ে চলল – সেটা হল নতুন বিজিত ভূমিতে ক্ষমতার ওজন বজায় রাখতে সাধারণ কিন্তু বিশদ মানচিত্র তৈরির সঙ্গে উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, ভূচিত্রবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যা, মানুষের এবং পশুদোর ওষুধ, এবং সামরিক আর বেসামরিক প্রযুক্তিবিদ্যা। ব্রিটেনের বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমের শংসা বিতরণের প্রথা অনুসরণ করে, এবং উপনিবেশে এই বিজ্ঞানচর্চার নাম দাঁড়াল ডক্টর্স অব মেডিসিন, এবং স্কটিশ এবং উত্তর ইওরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রথা অনুসরণ করে ডিভিনিটি, এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠ্যক্রমে সফলভাবে পড়ে আসা ছাত্ররা ব্রিটেনের ক্রমশঃ বাড়তে থাকা বিশ্বজোড়া ঔপনিবেশিক সেবায় ক্রমশ ঢুকে পড়তে থাকে প্রযুক্তিবিদ, মিলিটারি কমান্ডার, পশুচিকিতসক, ডক্তার এবং উদ্ভিদিবিদ হিসেবে। মধ্য অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কোম্পানির একচতুর্থাংশ সেনা আমলা ছিলেন স্কটসম্যান, এবং শতাব্দ শেষে এই সংখ্যাটা অর্ধেক হয়। আমাদের হাতে যতটুকু তথ্য আছের তার সুবাদে বলতে পারি, এই পেশাদারেরা দেশিয় মানুষদের বিজ্ঞান পড়াবার কাজে নিযুক্ত হতেন না; বরং তারা যে সব দেশিয় বিশেষজ্ঞ পেশাদারদের সঙ্গে মিশতেন, তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় তারা নতুন জ্ঞান আহরণ করার চেষ্টা করতেন।
কপিল রাজএর রিলোকেটিং মডার্ন সায়েন্স – সার্কুলেশন অব কন্সট্রাকশন অব নলেজ ইন সাউথ এশিয়া ১৬৫০-১৯০০এর অনুবাদ ১৭২ পৃ থেকে

Thursday, March 15, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৮ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

এই ধরণের সফল শিক্ষাকেন্দ্রের বহুল চর্চিত উদাহরণ হল রয়্যাল ইন্সটিটিউট। ১৭৯৯তে লুঠেরা অত্যাচারী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অংশিদার এবং কর্মকর্তাদের আর্থিক বিনিয়োগে এটির জন্ম। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পিছনে যে উদ্বেগ কাজ করছিল, এই সংগঠনটি তৈরির উদেশ্যও প্রায় তাই – ফরাসি বিপ্লবের তত্ত্ব বিরোধী সামাজিক এবং রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষায় গরীবদের অঙ্গীভূত করা। খুব গুরুত্বপূর্ণ হল, এই সঙ্গঠনটির প্রাথমিক দুজন প্রস্তাবক কোম্পানি কর্তা, রিচার্ড জোসেফ সুলিভান এবং জন কক্স হিপ্পিসিলি ১৭৯৯তে আগামী দিনের কোম্পানি আমলা তৈরির জন্যে রয়্যাল ইন্সটিটিউট তৈরির প্রস্তাবনা পেশ করেন যা এক্কেবারে ওয়েলেসলি প্রস্তাবিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজেরে প্রস্তাবনার তাত্ত্বিক অনুরূপ।
বোর্ড অব ট্রেড এবং কোম্পানিকে বারুদের রসায়ন, কৃষি দ্রব্য, চামড়া সংরক্ষণ ইত্যাদির বৈজ্ঞানিক, প্রাযুক্তিক পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও রয়্যাল সোসাইটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জননের উদ্দেশ্যে (তথাকথিত) বৈজ্ঞানিক বক্তৃতা আয়োজন করা, বৈজ্ঞানিক(প্রযুক্তিগত) পত্রিকা ছাপানো এবং জনগনেশের দেখাশোনার জন্যে বৈজ্ঞানিক হাতিয়ার এবং গবেষণাগার প্রতিস্থাপন করা।
হাম্ফ্রে ডেভির তুকতাকমূলক(wizard experimentalist) বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখতে মানুষ ভেঙ্গে পড়ল সোসাইটিতে। ১৮০২ সালে তার প্রথম বক্তৃতায় ডেভি বললেন বিজ্ঞান প্রমান করে দিয়েছে সমাজ দুটি মৌলিক নীতিতে তৈরিসম্পত্তির অধিকার আর অসাম্য - The unequal division of property and of labour, the difference of rank and condition amongst mankind, are the sources of power in civilized life, its moving causes, and even its very soul; and in considering and hoping that the human species is capable of becoming more enlightened and more happy, we can only expect that the great whole of society should be ultimately connected together by means of knowledge and the useful arts; that they should act as the children of one great parent, with one determinate end, so that no power may be rendered useless, no exertions thrown away

স্বাভাবিকভাবে ব্রিটিশ বিশ্বায়নের প্রকল্পে নানান ধরণের স্বার্থনিবেদিত অস্বাভাবিক বন্ধুত্বের ফসলে ফরাসি বিপ্লবের ধারণাগুলি তখন প্রায় অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। ব্রিটিশেরা সেই মুহূর্তে বৈজ্ঞানিক লব্জ দিয়ে ফরাসি বৈশ্বিক বিপ্লববাদকে আটকে রাখার কাজে সফল হলেও, এবং এই কাজে তারা তাদের সাথে ভারতীয় অভিজাত ভদ্রবিত্তকে সঙ্গে পেল।  

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৭ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

প্রবন্ধের শেষপ্রান্তে এসে আমি(কপিল রাজের উক্তি, আমাদের নয়) অন্য ধরণের একটা দৃষ্টিভঙ্গী উপস্থাপনা করব। আপাত দৃষ্টিতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ যতই বৈপ্লবিক লাগুক(যদিও আমাদের, মানে কারিগরদের কাছে এইটা একটা ঔপনিবেশিক কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয় - লেখক), এটা কিন্তু উনবিংশ শতকের প্রথমপাদের ব্রিটিশ ব্যবস্থায় নতুন কিছুই ছিল না। আদতে এটির উদ্ভব কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানুষের ক্রিয়ায় নয়, এটাকে সেই সময়ের লন্ডনের মোটামুটি সংখ্যাধিক্যের মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবেই দ্যাখা দরকার।
আদতে বেশ কিছু ব্রিটিশ সংস্কারক ফরাসী বিপ্লব তত্ত্ব উদ্ভুত ব্রিটিশ ভদ্রবিত্তের ভয় আর অস্বস্তিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণকে নিজেদের স্বার্থানুকূলে নিয়ে আসার উদ্যম নেয়। এছাড়াও ঘরের মধ্যে আরও একটি বিপ্লব সংগঠিত হচ্ছিল যার নাম শিল্পবিপ্লব, এই সবগুলি একসঙ্গে জুড়ে নিয়ে নতুন ধরণের নীতি নির্ধারণ করার দিকে এগোতে শুরু করল রাজনীতিকেরা। তাদের তত্ত্বে শিল্পবিপ্লবের ফলে উদ্ভুত অবস্থা গ্রাম্য দারিদ্রনাশক, লে এই অবস্থা সাময়িকভাবে সামাজিক বিপর্যয় তৈরি করবে। বিজ্ঞান আর ধর্ম পরস্পর শয্যাসঙ্গী – উদাহরণস্বরূপ উইলিয়াম পালেকে জন মেয়ার্ড কেনস ম্যালথাসের আর্থ-রাজনৈতিকতার তাত্ত্বিক গুরু হিসেবে অতীব সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি মনে করতেন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নিউটন ছাড়া যার প্রভাব সব থেকে বেশি তিনি হলেন পালে। পালে মূলত বৈজ্ঞানিক চিন্তায় স্তরীভূত প্রকৃতি তত্ত্বএর উদ্গাতা, যে তত্ত্বের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্তরীভূত সমাজ তত্ত্বে।
উযোগিতাবাদীদের বৈজ্ঞানিকভাবে ভালকরার তত্ত্ব(scientific philanthropy – ডেভিড আওয়েনের ইংলিশ ফিনাথ্রপিতে পাচ্ছি হাম্ফ্রে ডেভির বক্তব্য – যা উনি ১৮০২-১৮১২র মধ্যে বিভিন্ন বক্তৃতায় বলেছিলেন এবং উল্লিখিত হয়েছে Elements of Agricultural Chemistry, in a Course of Lectures for the Board of Agriculture বিষয়ক বক্তৃতামালায় – প্রথম বক্তৃতাটাতেই ডেভি বলছেন - It is from the higher classes of the community, from the proprietors of land,— those who are fitted by their education to form enlightened plans, and, by their fortunes, to carry such plans into execution: it is from these that the principles of improvement must flow to the labouring classes of the community; and in all classes the benefit is mutual; for the interest of the tenantry must be always likewise the interest of the proprietors of the soil. The attention of the labourer will be more minute, and he will exert himself more for improvement, when he is certain he cannot deceive his employer, and has a conviction of the extent of his knowledge. Ignorance in the possessor of an estate, of the manner in which it ought to be treated, generally leads either to inattention or injudicious practices in the tenant or the bailiff) সম্বল করে Society for Bettering the Condition of the Poor এবং Board of Agriculture জন নীতি গ্রহণের উদ্যম নেয়।
উনবিংশ শতাব্দে মেট্রোপলিটন এবং উপনিবেশের নানান শিক্ষা কেন্দ্রর সহযোগিতায় এই তত্ত্ব ফুলে ফলে বিকশিত হয়ে বাড়তে থাকা গোটা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বিশ্বকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। এই দুই বিপ্লব(ফরাসী আর শিল্প) শুধু যে নতুন শিক্ষাকেন্দ্রর পৃষ্ঠভূমিই তৈরি করে নি, নব্য জ্ঞানচর্চার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। একইসঙ্গে যে নতুন ধরণের পরিবেশ তৈরি হল, সেই পরিবেশের নানান স্পর্ধা সামলাতে এটি নতুন ধরণের জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র তৈরি আর তার ব্যবস্থাপনার বাস্তব দাবি পেশ করেছে।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৬ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

ব্রিটিশ সংগঠনের দৃষ্টিতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

কিছু ঐতিহাসিক বিশ্বাস করতেন, উত্তমাশা অন্তরীপ পেরিয়ে আসার পরই বহু ব্রিটন ওরিয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত মনোভাব চারিয়ে যেত যে তারা একটা অদ্ভুত এলাকায় প্রবেশ করছেন। এই মনোভাব ছড়িয়ে যেত ইওরোপিয়দের হাতে চালিত ভারতীয় প্রশাসন চালনায়, এবং প্রভাব পড়ত মেট্রোপলিটনে(at home) ব্রিটিশ সমাজেও।
তিনটি বিষয়ের আলোচনা এই অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে। বোর্ড অব কন্ট্রোল কিন্তু ওয়েলেসলির ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ সংক্রান্ত প্রকল্পটিতে খুব উৎসাহী হয়ে পড়ে। কিছু হাতে গোণা ধর্মযাজক বলেছিল উপনিবেশের পরিবেশে বেশি দিন থাকলে খ্রিষ্টিয় নৈতিকতা হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সে বক্তব্য খুব বেশি পাত্তা পায় নি। শুধু তাত্ত্বিক এবং প্রায়োগিক দর্শন পাড়ানোর যোগ্য মানুষ নেই বলে কোর্ট অব ডিরেক্টর তাদের খরচে মেট্রোপলিটন থেকে একজন স্কটিশ জ্ঞানী জেমস ডুইন্ডল(১৭৪৬-১৮১৫)কে পাঠান। পুর্বের সঙ্গে ব্যবসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, ডুইন্ডল কিন্তু বিষ্ফোরক বিশেষজ্ঞও ছিলেন এবং ফরসাসীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিষ্ফোরক বিষয়ে শেষতম গবেষণা সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।
কলেজের শুরুর পর্বে ওয়েলেসলির বিপুল বিনিয়োগ কিন্তু কোম্পানির অংশিদারেরা ভালোভাবে নেয় নি কেননা, কোম্পানির লভ্যাংশ কমায় ততদিনে কোম্পানির অংশিদারদের দেয় লাভের পরিমান, ডিভিডেন্ড কমেছে। কিন্তু ওয়েলেসলি দেশিয় আইরিশ অভিজাতদের সঙ্গে রক্ষণশীল লর্ড ক্যাসেলরে(Castlereagh)র সক্রিয় সমর্থন পেয়েছেন। ক্যাসলরে ১৮০২ সালে বোর্ড অব কন্ট্রোলের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তিনি ওয়েলেসলির বিপ্লব বিরোধী মনোভাবকে মান্যতা দিতেন বলেই এই প্রস্তাবের গুরুত্বটা বুঝেছিলেন। ফলে কোম্পানির উচ্চতম কর্তৃপক্ষ ওয়েলেসলির পাশে দাঁড়ানোয় এই প্রকল্পকে বানচাল করা অংশিদারদের পক্ষে সম্ভব না হলেও, তাদের চাপে কোম্পানি একটা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে ইওরোপিয় কৃষ্টি বিষয়ে শিক্ষা ইংলন্ডেই দিতে হবে বাকিটা ভারতে হোক। কোম্পানির অন্যতম কর্তা ডেভিড স্কটের ভাষায়, ‘the College was sacrificed to the private trade agitation।
এতদ সত্ত্বেও ওয়েলেসলি, যৌথভাবে ভারতীয় এবং ইওরোপিয় শিক্ষকদের দিয়ে পড়ানোর পরিকল্পনায় ডেঁটে থাকলেন। ১৮১৬য় যখন হেলিবেরিতে নতুন শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপিত হল, তখন ব্রিটিশ অর্থনীতিক টমাস ম্যালথাস পড়াতেন; এছাড়াও ভারত থেকে শিক্ষক নিয়ে গিয়ে সেখানে পড়ানো হত। ওয়েলেসলির পরিকল্পনার সুফল ভোগ করে গিয়েছে কোম্পানি। ১৮৩১ সালে কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রত্যেক বছর বের হওয়া ৪১ জন পড়ুয়া কোম্পানিতে যোগ দিতেন। এরা ভারতে অন্তত দশ থেকে কুড়ি বছর কাটিয়ে মানুষেরা লন্ডনে ফিরিতেন ব্যাঙ্গার্থে ‘নবোব’ উপাধি নিয়ে এবং হয় কোম্পানির উচ্চতম পদে অথবা রাজনীতিতে যোগ দিতেন। কিছু সফল নবোব পার্লামেন্টেও পৌঁছে যেতেন, কিছু মানুষ বিজ্ঞানের সেবক হতেন। এটাও মনে রাখা দরকার, ১৮৩০এর ভারত এবং ব্রিটেনে চলতে থাকা ফোর্ট উইলিয়ামকেন্দ্রিক শিক্ষা কেন্দ্রিক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে উঠে এলেন জেমস মিল আর ব্যাবিঙ্কটন মেকলে। ওয়েলেসলির প্রকল্পে তৈরি হল নতুন ধরণের ভদ্রবিত্ত যারা পেশাদার, মেট্রোপলিটন স্বার্থিক যে কোন কাজ সম্পাদনে দক্ষ।
১৮৫৮সালে কোম্পানি আর তার সঙ্গে হেলিবেরির বিলয়ে আমলা তৈরির কারখানার দায়িত্ব দেওয়া হল অক্সফোর্ডকে। ১৮৮৩ দসালে অক্সফোর্ডের আধুনিক ইতিহাস পাঠনের দপ্তর, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউটে যে সংস্কৃত শ্লোকটি খোদিত করে বসানো হয়, সেটিতে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয় যে ঔপনিবেশিক কাঠামোয় প্রশাসকেরা তৈরি হয়েছেন - This Building, dedicated to eastern sciences, was founded for the use of Aryas (Indians and Englishmen) by excellent and benevolent men desirous of encouraging knowledge. . . . By the favour of God may the learning and literature of India be ever held in honour, and may the mutual friendship of India and England constantly increase।(আর্যত্ব বিষয়ে এটা কপিলের মন্তব্য, অনুবাদকের নয়)
যদি মেনেও নিই, ভারতে কাজ করা ব্রিটিশেরা দুর্বিনীত ছিল। এই তত্ত্ব মেনে নিয়েই বলছি, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ বিষয়ে ওঠা বিতর্ক, উপনিবেশ এবং মেট্রোপলিটনে উভয় ক্ষেত্রের শিক্ষানীতি প্রণয়নে বিপুল প্রভাব ফেলেছিল। আমি এখানে পাঠকদের এতদিনের তৈরি করা উল্টো মনোভাবটাও মাথায় রাখতে বলব উপনিবেশে আধুনিকতার তত্ত্ব প্রয়োগের গবেষণাগার ছিল মেট্রোপলিটন – এটা সম্ভব হয়েছিল সেই তত্ত্ব সফলভাবে চর্চিত হওয়া এবং সেটি উপনিবেশে প্রয়োগের সফল প্রক্রিয়া প্রণয়নে।

Wednesday, March 14, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৫ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

উল্লেখ্য তখনও ইওরোপের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই এতসব কিছুই পড়ানো হত না। এর আগে হেস্টিংস একবার আর্থিক লাভের টোপ দিয়ে কিছু বিষয় পড়াবার চেষ্টা করেছিলেন তা চরমতম ব্যর্থ হয়েছিল। এই প্রকল্পে কিছু উৎসাহী মানুষ তাদের মুন্সীর থেকে স্থানীয় গপ্পগাছা বা ভাষা জানার চেষ্টা করেছল মাত্র, যা তখন স্বভাবিক ছিল গবেষণা পদ্ধতি ছিল
১৭৮৪তে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হবার জন্যেই জন্ম হয়েছিল এশিয়াটিক সোসাইটির। উদ্দেশ্য ভারতের অতীত গৌরব কীর্তন এবং মহার্ঘ উপনিবেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ নির্নয়। সেই শতকে এই সংগঠনে কোন দেশিয়কে অংশ নেওয়ানো হয় নি, কিন্তু কিছু কিছু দেশিয় মানুষ যোগ দিয়েছিলেন কাজে। এশিয়াটিক রিসার্চেসে বহু প্রখ্যাত সমাজ, অর্থনীতি, ধ্রুপদী ভাষা, শিল্পকলা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সমাজকাঠামো নিয়ে লিখেছেন। তারা ভারতের দুটি চরিত্র বর্ণনা করেছে – হিন্দুতে একটা পুরনো একদেহী ধর্মকথা, অসাম্যের ভিত্তিতে তৈরি সমাজ ভারতকে ভাগ্যবান করে তৈরি করেছে।
এশিয়াটিকে সদস্যপদ পাওয়া ছিল ব্যক্তিগত জ্ঞানচর্চার আকাঙ্ক্ষার উচ্চাশা। একটি সামাজিক সংগঠনের মত এক সংঘ যেখানে বৌদ্ধিক আলোচনা হত। নিজেরা নিজেদের নির্বাচিত করে পরস্পর পিঠচাপড়ানি ক্লাব তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শতাব্দ শেষে সেই ভৌগোলিক এলাকার আইন এবং ভাষা জানা জরুরি হয়ে পড়ছিল এবং সেই দক্ষতা অর্জন কোম্পানি নিজের চাকুরের দয়ার ওপরে ছেড়ে দিলনা কোম্পানি। ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ওয়েলেসলি বলছেন no Civil Servant should be nominated to certain offices of trust and responsibility until it shall have been ascertained that he is sufficiently acquainted with the laws and regulations enacted by the Governor General in Council, and the several languages, the knowledge of which is requisite for the due discharge of the respective functions of such offices. [N]o servant will be deemed eligible to any . . . offices [of responsibility], until he shall have passed an examination (the nature of which will be hereafter determined) in the laws and regulations, and in the languages, a knowledge of which is hereby declared to be an indispensable qualification for such respective office.
ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওরয়েন্ট স্থাপনের প্রস্তাবে ওয়েলেসলি বাংলায় ইওরোপিয়দের তৈরি ওরিয়েন্ট তত্ত্বে যে সব খামতিগুলো ছিল, সেগুলি মিটিয়ে ওরিয়েন্ট বিষয়ে পড়াকে বাধ্যতামূলক করলেন এবং একইসঙ্গে ব্রিটিশ আর তাদের দেশিয় বন্ধুদের(কপিল intermediaries শব্দটা ব্যবহার করেছেন) এতদিনের বন্ধনহীন এই সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিকতায় বেঁধে ফেলতে চাইলেন। এখানে পড়াবার জন্যে তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির ব্রিটিশ ওরিয়েন্টালবাদী সদস্য এবং সেখানকার দেশিয় জ্ঞানী সহযোগীদের বেছে নিলেন। পড়ানো ছাড়াও ছাত্রদের কোম্পানি শাসিত এলাকাগুলিতে মহাবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্যে নতুন ধরণের পুথি জোগাড়েও উতসাহ দিলেন ওয়েলেসলি। ১৮০৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার ভাষার প্রমিতিকরণ এবং ব্যকরণের কেন্দ্রিকরণের কাজ সম্পন্ন হল। বিপুল এলাকায় পড়াবার জন্যে ভাষার প্রমিতিকরণ জরুরি ছিল।


প্রথম তিন বছরে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার বিদ্যালয়ের জন্যে ব্যয় করলেন যা দুটি প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে বরাদ্দ মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনীয়। প্রথম বছর খরচ হল ৭৮৭৫০ টাকা। ব্রিটিশ শিক্ষকেরা মাইনে পেতেন ৩২০ পাউন্ড/মাসে এবং দেশিয় সহযোগীরা পেতেন ইওরোপিয় শিক্ষকদের তুলনায় একদশমাংস থেকে এক পঞ্চাশাংস।

Tuesday, March 13, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৪ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

এই সব কিছু নিয়েই ওয়েলেসলির আদত অকাট্য লক্ষ্য ছিল, during the convulsions with which the doctrines of the French Revolution have agitated the Continent of Europe, erroneous principles of the same dangerous tendency had reached the minds of some individuals in the civil and military service of the Company in India; and the state, as well of political, as of religious opinions, had been in some degree unsettled. The progress of this mischief would at all times be aided by the defective and irregular education of the writers and cadets; an Institution tending to fix and establish sound and correct principles of religion and government in their minds at an early period of life, is the best security which can be provided for the stability of the British power in India।
তিনি বললেন, তার এই প্রকল্পে কোম্পানির আমলাদের প্রশিক্ষিত করবে দেশিয় শিক্ষিতরা। ভারত যে স্তরীভূত সমাজ, হেস্টিংসের বিচার সভায় বার্কের মুখবন্ধিক তত্ত্বের অনুগামী হয়ে তিনিও জানালেন, তিনি বার্কের এই তত্ত্বে আস্থা পেশ করছেন। তিনি এমন এক ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা চাইছেন যা আগামী দিনের কোম্পানির আমলাদের স্থিতিশীল সামাজিক অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য করবে। বলা দরকার তিনি এবং বার্ক দুজনের ভারতকে গ্যালিক সাম্যতত্ত্বের দৃষ্টিতে দেখেছিলেন।
এই সব কারণে এবং ভারত এবং ইওরোপেও এই ধরণের কোন শিক্ষাকেন্দ্র ছিল না, তাই ওয়েলেসলি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এ ধরণের শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব পাঠালেন ওয়েলেসলি। টিপু হত্যার প্রথম বছর পূর্তিতে ৪ মে ১৮০০ সালে এ বিষয়ে একটা ডিক্রি জারি করা হল। বিস্তৃতির পরিকল্পনা করা হল ক্রেম্ব্রিজ আর অক্সফোর্ডের ব্যপ্তিতে। উদ্বোধন হল ১৮০০ সালের ২৪ নভেম্বর তারিখে।
ঠিক হল ল্যাটিন, গ্রিক ছাড়াও শেখানো হবে ইংরেজি, ন্যাচারাল হিস্ট্রি, ন্যাচারাল এবং এক্সপেরিমেন্টাল ফিলোজফি, রসায়ন, জ্যোতির্বিদ্যা, অর্থনীতি, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং ভূগোল। নতুন চাকরিজীবিরা বাংলায় পা দিয়েই আরবি, পার্সি, সংস্কৃত, ছটা আঞ্চলিক ভাষা হিন্দুস্তানি, বাংলা, তেলুগু, মারাঠি, তামিল আর কন্নড়, হিন্দু ইসলামি আর ব্রিটিশ আইন, ইওরোপিয় ইতিহাস এবং ভারতীয় ইতিহাস এবং পুরাতত্ত্ব(antiquities) শিখবে। এই বিদ্যাগুলির অধিকাংশই ফোর্ট উইলিয়ামে জ্ঞানী দেশিয়রা পড়াবেন ঠিক হল।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট৩ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

বিপ্লবতত্ত্বের প্রভাব রুখতে শিক্ষাকেন্দ্র
১৮০০ সালের ১০ জুলাই একটি প্রতিবেদনে ওয়েলেসলি লন্ডনের কর্তাব্যক্তিদের তাঁর বিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা বিস্তৃতভাবে পাঠালেন। বার্ক ১২ সাল পূর্বে ওয়ারেন হেস্টিংসকে বিচারে দাঁড় করানোর জন্যে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন, কোম্পানির চরিত্র বিশ্লেষণ, ওয়েলেসলি তার প্রস্তাবে বার্কের তাত্ত্বিক অবস্থানটাই নকলই করলেন।
তিনি লিখলেন কোম্পানি আর শুধু বাংলার বিপুল অঞ্চল আর তিনটে প্রেসিডেন্সিতে আটকে নেই দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও তার কবলে। কোম্পানি এমন এক সাম্রাজ্যের মালিক, যার আয়তন অধিকাংশ ইওরোপিয় রাষ্ট্রের আয়তনের থেকেও বড়। ফলে এই অবস্থায় কোম্পানির দায় এবং দায়িত্বকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বিশেষ করে এই প্রতিবেদনে তিনি বললেন কোম্পানির কর্মচারীদের এই বহুভাষিক দেশে আরও বেশি দায়িত্বপূর্ণ হতে হবে To dispense justice to millions of people of various languages, manners, usages and religions; to administer a vast and complicated system of revenue throughout districts equal in extent to some of the most considerable kingdoms in Europe; to maintain civil order in one of the most populous and litigious regions of the world; these are now the duties of the larger proportion of the civil servants of the Company. The senior or junior merchants, employed in the several magistracies and Zillah Courts, the writers or factors filling the stations of registers and assistants to the several courts and magistrates, exercise in different degrees, functions of a nature, either purely judicial, or intimately connected with the administration of thepolice, and with the maintenance of the peace and good order of their respective districts.
ওয়েলেসলি জানালেন কোম্পানির রাজত্বের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় আদালতের কাজকর্ম চলছে। এছাড়াও যে আইন অনুসারে কোম্পানির কর্মচারীরা শাসন করে সেগুলিও ব্রিটিশ জাত নয় বরং to which the natives had long been accustomed under their former sovereigns, tempered and mitigated by the voluminous regulations of the Governor-General in council, as well as by the general spirit of the British constitution। একই তত্ত্বে জুড়ে দিলেন রাজস্ব আদায় এবং ব্যবসায়িক চুক্তিগুলোকেও। ইওরোপে যে ধরণের ব্যাঙ্কিং, প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক নিয়মনীতি চলে, তা এদেশের থেকে আলাদা। ফলে আমলাদের এ উপমহাদেশের ভাষা, আইন, ব্যবহার এবং প্রথা ইত্যাদি শেখানো খুব জরুরি কাজ।

এদেশে আসা রাইটার, ফ্যাক্টর বা মার্চেন্ট যে ধরণের শপথ নেয়, তার কাজ সেই পরিধির অনেক বাইরে ছড়িয়ে গিয়েছে। তার দাবি এখন কোম্পানির আমলাদের একমাত্র শপথ নিতে হবে যে তারা যে কোন ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে থাকবে। ভারতে এসেছে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যের অধিকাংশ কোম্পানির যুবা আমলা শুধুই প্রাথমিকস্তরের অঙ্ক আর হিসাব করার জ্ঞান সম্বল করে। কিন্তু তারা এখন নতুন দায়িত্ব সামলাতে প্রস্তুত। এছাড়াও অধিকাংশের শিক্ষার অভাব এবং পরম্পরার সংস্কৃতি বিষয়ে জ্ঞান না থাকার জন্যে প্রায়শই indolence, dissipation, and licentious indulgence ঢলে পড়তে বাধ্য হয়। এই প্রেক্ষিতে এবং তাদের নবতম বিপুলতম দায়িত্ব সামলানোর জন্যে একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন যাতে involving the combined principles of Asiatic and European policy and government শিক্ষার পাঠ্যক্রম থাকবে।

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট২ - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

উনবিংশ শতে ভারত ব্রিটেন আর ফ্রান্স
এই প্রেক্ষিতে লর্ড মর্নিংটন ওরফে রিচার্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের কোম্পানি সাম্রাজ্যের সর্বেসর্বা, গভর্নর জেনারেল রূপে মনোনীত হলেন। ওয়েলেসলি তাত্ত্বিকভাবে সরাসরি মুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক, আইরিশ অভিজাত, ভাই আর্থার ওয়েলেসলি ভবিষ্যতের ডিউক অব ওয়েলিংটন হবেন এবং ফরাসী বিপ্লবের প্রতি বিরুপ বার্কের তাত্ত্বিকতার অনুগামী যেহেতু তিনি কোম্পানির বোর্ড অব কন্ট্রোলের সদস্য ছিলেন, ভারতের সে সময়ের অবস্থা আর ফরাসীদের মনোভাব সম্বন্ধেও তিনি সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন।
১৭৯৮ সালে উপনিবেশের রাজনীতি পৌঁছতে না পৌঁছতেই নতুন গভর্নর জেনারেলের টেবলে স্থানীয় খবর কাগজগুলো থেকে একটা খবর পৌঁছল নেপোলিয়ানের নেতৃত্বে ফরাসীরা মিশর হয়ে ভারত আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। তিনি আরও জানলেন মালাবার উপকূলে ফরাসী আর তাদের বন্ধু টিপু সুলতান যৌথভাবে উপমহাদেশের ব্রিটিশ স্বার্থে ঘা দেওয়ার পরিকল্পনা ছকছে। কলকাতার একটা খবরের কাগজ সূত্রে জানা গেল আজকের মরিসাস(Isle de France)এর গভর্নর Anne Joseph Hyppolite Malartic টিপু আর ফরাসীদের মধ্যে সন্ধি করে ফরাসি নাগরিকদের টিপুর সেনা বাহিনীতে স্বেচ্ছাব্রতের ডাক দিয়েছেন। একইভাবে জানলেন নিজাম শাসিত হায়দ্রাবাদে ১৪০০০ ফরাসী সেনা উপস্থিতির খবর।
১৭৯৮ সালের ২৬ন নভেম্বর কোম্পানির গোপন কমিটি তাকে নেপোলিয়নের মিশর দখলের সংবাদ পাঠাল লন্ডন থেকে। নীল নদের যুদ্ধে নেলসনের বাহিনীর জয় সত্ত্বেও ১৯ এপ্রিল ১৭৯৯ সালের এক ডেসপ্যাচে কোম্পানি ওয়েলেসলিকে জানাল তিনি প্রয়োজনে ভারতীয় ব্রিগেড নিয়ে লোহিত সমুদ্র মার্ফত নেপোলিয়নকে আক্রমণ করে চমকে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
ওয়েলেসলি দেরি করেন নি। সম্ভাব্য ভারত আক্রমণ রুখতে তিনি ৩ হাজার সেনা মিশরে পাঠালেন। পারস্য উপসাগরের বুশহরের কোম্পানির রেসিডেন্ট মেহদি আলি খান এবং জন ম্যালকমকে পারস্যের শাহের কাছে পাঠিয়ে ফরাসীদের ভারত আক্রমণের কোন সম্ভাবনায় তাঁর সাহায্যের প্রার্থনা জানিয়ে রাখলেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে হায়দ্রাবাদে সেনাবাহিণী পাঠিয়ে অবাক ফরাসীদের হারিয়ে দিয়ে গোটা সেনাবাহিনীকে বন্দী করলেন। রাণীর ৩৩তম পদাতিক বাহিনীর সেনানায়ক, ভাই কর্নেল আর্থার ওয়েলেসলিকে সেনাপতি জর্জ হ্যারিসের নেতৃত্বে ফরাসীদের যে কোন রকম সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রুখতে দায়িত্ব দিলেন। হায়দ্রাবাদের নিজামের বাহিনীর সহায়তায় বিপুল ইংরেজ সেনাবাহিনী মহীশূর আক্রমণ করে ১৭৯৯ সালের মার্চ মাসে। শ্রীরঙ্গপত্তনমের যুদ্ধে টিপুর মৃত্যু হলে ভারতে ফরাসীদের সাম্রাজ্য বিস্তারের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মহীশূরের পূর্ববর্তী রাজার নাবালক সন্তানকে সিংহাসনে বসিয়ে টিপুর অর্ধেক রাজ্য গ্রাস করে ইংরেজ।

বলপ্রয়োগে ফরাসীদের হারাবার পর ওয়েলেসলি কলকাতার রাজধানীতে বসে বৌদ্ধিক বিজয়ের তোড়জোড় শুরু করলেন। প্রথমেই এল খবর কাগজের ওপর নজরদারি। তারপর ভারতে সরকারিভাবে থাকা প্রত্যেক ইওরোপিয়র জন্যে বাধ্যতামূলক ভিসা বলবত হল। কিন্তু ব্রিটিশ কোম্পানির যুবা আমলারা স্বাভাবিকভাবেই ফরাসী বিপ্লবের সাম্যের ডাকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত হতে পারেন এমন আশংকা করে, এই প্রথম কোম্পানির চরিত্রে বদল আনার চেষ্টা করলেন ওয়েলেসলি। কোম্পানিকে শুধু একটি কর্পোরেট সওদাগর থেকে ভারতের প্রশাসনিক শাসকে রূপান্তরিত করার উদ্যম নিলেন। 

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ তৈরির পশ্চাদপট - ফরাসী বিপ্লবের তাত্ত্বিক বিরোধিতা

কপিল রাজ Relocating Modern Science Circulation and the Construction of Knowledge in South Asia and Europe, 1650–1900 বইতে বলছেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ তৈরির উদ্দেশ্য শুধু আমলাদের এদেশের উপযোগী করে তৈরি করা নয়, বা এশিয়ায় প্রাচ্যবাদের শেকড় গজানোই নয়, একই সঙ্গে ফরাসী দেশের বিপ্লব থেকে উদ্ভুত বার্তাকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া থেকে রুখে দেওয়া।
ফরাসী বিপ্লবের সমর্থনে ১৭৯০এর দিকে লন্ডনে কিছু সমর্থনের সুর শোনা গেলেও ক্ষমতাশালীদের পক্ষ থেকে বিরোধিতা আসতে থাকে। হেস্টিংসকে শূলে চড়ানো এডমন্ড বার্ক ১৭৯০সালে লেখা Reflections on the Revolution in France বইতে সাম্য প্রাকৃতিকভাবে অধরা থাকে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বললেন, The occupation of an hair-dresser, or of a working tallow-chandler, cannot be a matter of honour to any person—to say nothing of a number of other more servile employments. Such descriptions of men ought not to suffer oppression from the state; but the state suffers oppression, if such as they, either individually or collectively, are permitted to rule. In this you think you are combating prejudice, but you are at war with nature.।লিবার্টিকে আক্রমণ করে বললেন, ‘stands stripped of every relation, in all the nakedness and solitude of metaphysical abstraction।
মার্টিনিক আর সেন্ট ডমিনিকে বিদ্রোহের বিরুদ্ধে সেনা পাঠিয়ে দমন করা হয়। বার্ক বললেন এই বিদ্রোহ মানুষের বিশ্ব স্বাধীনতার অধিকারের অপপ্রয়োগ - As the colonists rise on you, the negroes rise on them. Troops again— Massacre, torture, hanging! These are your rights of men! These are the fruits of metaphysical declarations wantonly made, and shamefully retracted! . . . You lay down metaphysic propositions which infer universal consequences, and then you attempt to limit logic by despotism।
১৭৯৩ সালে ফ্রান্স ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে; বাইশ বছর ধরে চলতে থাকা ব্রিটিশ-ফরাসী যুদ্ধ ব্রিটেনের ভিত্তিমূল নড়িয়ে দিয়েছে। ব্রিটেন তখন প্রায় দ্বিধাবিভক্ত। একেরপর এক অধিকার হরণের পালা শুরু হয়েছে মেট্রোপলিটনে ১৭৯০এর পর থেকে। ১৭৯৪তে হেবিয়াস কর্পাস তুলে নেওয়া হল, একের পর এক জন অধিকার খর্ব করার আইন এল Treason and Sedition Act (1795), the Unlawful Oaths Act (1797), the Corresponding Societies Act (1799) এবং সর্বশেষে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হল। এত সবের মধ্যেও, মোটামুটি ফ্রান্সের লাভে চলা উপনিবেশগুলি দখল নেওয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীনেরা একমত হলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফরাসী উপনিবেশগুলি দখলের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বেশ কয়েকটি ফরাসী উপনিবেশগুলি দখল নিল ব্রিটেন।
কিন্তু চলতে থাকা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে ১৭৯৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ নিল ফ্রান্স। ১৭৯৭তে ইওরোপে ব্রিটেন প্রায় একা হয়ে পড়ে। একমাত্র বন্ধু অস্ট্রিয়া আত্মসমর্পন করেছে; পিছু হঠতে হঠতে আইরিশদের সহায়তায় ফরাসীদের হাতে বিধ্বস্ত হতে হতে বেঁচে যায় ব্রিটিশ বাহিনী। রয়্যাল নেভিতে বিদ্রোহ দ্যাখা দেয় এবং ডাচ আর স্পেনের উপকূল আর উত্তমাশা অন্তরীপে সে বিদ্রোহ ছিড়য়ে পড়ে। যদিও ১৭৯৭ সালে বার্ক মারা যান, কিন্তুই তাঁর তত্ত্বে প্রভাবিত হয়ে প্রায় যৌথভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক নীতি প্রণয়ন করতে থাকে টোরি আর হুইগেরা।