Showing posts with label গরীব কাহারে কয়. Show all posts
Showing posts with label গরীব কাহারে কয়. Show all posts

Wednesday, December 6, 2017

গরীব কাহারে কয়৩১ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

তৃতীয় অধ্যায়

অর্থনীতির ইতিহাসে কিভাবে ক্ষমতার প্রবেশ ঘটল? ছোটকরে বলতে গেলে অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতকে বাজার ব্যবস্থার সংঘী করণের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন ছিল মানুষের পরিবর্তনও ঘটা – যাকে ফুকো বলছেন docile bodies - এবং ঠিক যে ভাবে পুঁজির গতায়াতের নিয়ম তৈরি হল তেমনি মানুষের জন্যও নিয়ম তৈরি হল।  চাষী এবং সার্ফদের উচ্ছেদ করে তৈরি করা হল সর্বহারা। জনগণ কারখানা গুলিতে আনন্দ করে নিজে থেকে যায় নি, গোটা যুগ ধরে এক দিকে নানান ধরণের শাসন(discipline) অন্যদিকে সামাজিক নানান রীতিনীতি তৈরি করে মানুষকে বাধ্য করা(normalization) জরুরি ছিল। এই পদ্ধতিতে তৈরি হল Homo oeconomicus নামক বাধ্য মানুষ যাদের কিছু বাস্তব এবং কৃষ্টিগত অবস্থার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। পুঁজি দখল করতে শিক্ষা আর স্বাস্থ্য এবং মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার হল, যা একটা শৃঙ্খলিত সমাজ ছাড়া আর কিই বা(Foucault 1979)৩! 
At the level of signification, the first important historical aspect to consider is the invention of the economy as an autonomous domainএটা আমরা প্রায় সকলেই জানি যে আধুনিকতার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল কর্মিক(functional) জীবনের(অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, কৃষ্টি ইত্যাদি) সঙ্গে সামাজিক জীবনকে আলাদা করা, এবং প্রত্যেকেই প্রথা লাদা করে এটা সত্যিকারের এক্কেবারে আধুনিক অগ্রগতি। অর্থনীতিকে আলাদা ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল তাকে একটা নতুন বৈজ্ঞানিক অবয়ব দেওয়ার, যে বিজ্ঞানটার ভিত্তিতে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে অর্থনীতি জ্ঞানচর্চাটা তৈরি করা হল, তার নাম রাজনৈতিক অর্থনীতি। স্মিথ, রিকার্ডো আর মার্ক্স উৎপাদন এবং শ্রমের কাঠামোর ওপর ভিত্তিকরেই গড়ে উঠল এর ধ্রুপদী আঙ্গিক। পুঁজিবাদী উতপাদনকে যুক্তিগ্রাহ্য করানোর প্রয়োজনে রাজনৈতিক অর্থনীতি বলে দিল সামাজিক জীবনে উৎপাদন এবং শ্রমের অত্যধিক গুরুত্ব রয়েছে। আধুনিক মানুষ সাধারণভাবে জীবনকে উতপাদনের প্রেক্ষিতে দেখতে শিখল। জীবনের বিপুল অংশ অর্থনৈতিক হয়ে উঠল, মানুষের জৈবতা, অমানুষী প্রাকৃতিক বিশ্ব, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ভাষা শুধুই বাজার ভিত্তিক আর উতপাদনময় হয়ে উঠল। 
মার্ক্স পলিটিক্যাল ইকনমি শব্দটা ধারই করেছিলেন যদিও, কিন্তু কেউ কেউ বলেন(Reddy 1987; Baudrillard 1975) তাতে তার কাজ সিদ্ধ হয় নি। তবুও আমরা ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সাধনকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না; বিনিময় মূল্যের বিমূর্ততার(abstraction of exchange value) যায়গায় ব্যবহারিক মূল্যের (use value) ব্যবহার; উদ্বৃত্তের ধারনার জায়গায় উদ্ধৃত্ত মূল্যের ব্যবহার এবং তার ফলে উদ্বৃত্তের বৃদ্ধির ধারনাকে ভিত্তিকরে অগ্রগতির ধারণা এবং তাকে ভিত্তি করে পুঁজিবাদীদেরুদ্বৃত্ত মূল্য গ্রাস(শোষণ); ক্ষমতাধারী জ্ঞানচর্চার জায়গায় জ্ঞানের সামাজিক ধারনার ওপর জোর দেওয়া, যার দ্বারা সত্য মানুষের মনের পাশে এল; ইতিহাসের অরৈখিক ধারণা, যেখানে ব্যক্তি বিপুল ক্ষমতাধরে, তার বিপরীতে জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গী, যেখানে সামাজিক শ্রেণী ইতিহাসের চালক হিসেবে উঠে আসে; বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিকতার চরিত্র এল পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে বাজার উঠে আসে ইতিহাসের পণ্য হয়ে; এবং শেষতমভাবে বোঝানো গেল পুঁজি নির্ভর সমাজে পণ্যকামের ধারনাটিই তার চালক।
Marx’s philosophy, however, faced limits at the level of the code.4 The hegemony of the code of signification of political economy is the underside of the hegemony of the market as a social model and a model of thought. Market culture elicits commitments not only from economists but also from all those living with prices and commodities. “Economic” men and women are positioned in civil soeietes in ways that are inevitably mediated, at the symbolic level, by the constructs of markets, production, and commodities.

People and nature are separated into parts (individuals and resources), to be recombined into market commodities and objects of exchange and knowledge. Hence the call by critical analysts of market culture to remove political economy from the centrality that it has been accorded in the history of modernity and to supersede the market as a generalized frame of reference by developing a wider frame of reference to which the market itself might be referred (Polanyi 1957b, 270; Procacci 1991, 151; Reddy 1987).5 I suggest that this wider frame of reference should be the anthropology of modernity.

Tuesday, December 5, 2017

গরীব কাহারে কয়৩০ উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

তৃতীয় অধ্যায়
এই অধায়ের প্রথম অংশে আমি অর্থনীতি আর বিজ্ঞানকে কৃষ্টিগত প্রসঙ্গে বোঝার চেষ্টা করব, সে ধরণের কিছু কাজও হয়েছে২। দ্বিতীয় অংশে আমি উন্নয়নের অর্থনীতি বাজার মাত করার আগে ধ্রুপদী এবং নব্য ধ্রুপদী অর্থনীতি, বিশেষ করে যে ধারনাগুলি সম্বল করে উন্নয়নের অর্থনীতির উদ্ভবের প্রতিটি ইঁট গাঁথা হয়েছে সেগুলি। তৃতীয় অংশে আমি আলোচনা করব চল্লিশ, পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের উন্নয়নের অর্থনীতির মূলসূত্রগুলি; এখানে আলোচনা করব উন্নয়নের অর্থনীতির প্রয়োগিক দিক হিসেবে পরিকল্পনার উদ্ভবকে। চতুর্থ অংশে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন popular group এর মারজিনাল মডেলগুলি বিষয়ে অর্থনৈতিক নৃতত্ত্বের সাম্প্রতিক কাজকর্মগুলি বিচার করব; এখানে আমরা আলোচনা করব কৃষ্টিগত রাজনীতির গুরুত্ব বিষয়ে তৃতীয় বিশ্বের গোষ্ঠীগুলির মূলস্রোতের অর্থনীতি এবং বহুবিধ স্থানীয় মডেল(manifold local models) বিষয়ে প্রতর্ক। এই অধ্যায় শেষ করব এই ইঙ্গিত দিয়ে যে অর্থনীতি আর উন্নয়নের বিকল্প ভাবনায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রাজনীতির প্রেক্ষিতের প্রতর্কে অর্থনীতির আলোচনার মাত্রা বদলের কি ভূমিকা। 

কৃষ্টি হিসেবে অর্থনীতি
অর্থনীতিকেরা যে তাদের জ্ঞানচর্চাকে সংস্কৃতি প্রতর্ক হিসেবে দেখেন না, এ তথ্য স্পষ্ট। দীর্ঘ এবং বাস্তব জনোচিত ঐতিহ্যে এই জ্ঞানচর্চাকে বিশ্ব নিরপেক্ষ হিসেবে দেখেন এবং এর মধ্যে যে সত্য লুকিয়ে রয়েছে সেটাও মনে করেন। না, তারা নয়, প্যাট্রিসিয়া উইলিয়ম আইন নিয়ে বিষয়ে  বলেছিলেন, এবং এটা অর্থনীতির জন্য সমানভাবে সত্য ‘an imposition of an order—the ironclad imposition of aworld view”’। উইলিয়ম লিখছেন, At issue is a structure in which a cultural code has been inscribed। অর্থনীতি বিষয়ে এই ধারনাটি উদ্ভুত হতে অনেক সময় লেগেছে, দার্শনিক চার্লস টেলর বলছেন, There are certain regularities which attend our economic behaviour, and which change only very slowly. . . . But it took a vast development of civilization before the culture developed in which people do so behave, in which it became a cultural possibility to act like this; and in which the discipline involved in so acting became widespread enough for this behaviour to be generalized. . . . Economics can aspire to the status of a science, and sometimes appear to approach it, because there has developed a culture in which a certain form of rationality is a (if not the) dominant value. (Taylor 1985, 103).
তাহলে অর্থনীতির কাঠামোয় সংস্কৃতির সঙ্কেতগুলি কি কি? অর্থনীতর প্রয়োগবিদ্যা বিষয়ে আজকে আমাদের যে ধারণা, তাতে সভ্যতার বিপুলতম বিবর্তনের প্রভাব কোথায়? এর উত্তর অবশ্যই খুবই জটিল, এবং এখানে সেই ইঙ্গিতগুলি ছেড়ে যেতে পারি মাত্র। ইওরোপিয় ইতিহাসে অর্থনীতির বিকাশ, স্থিতিকরণের যে প্রভাবশালী দৃষ্টিভঙ্গী উঠে আসে তা আধুনিকতার ইতিহাসের খুব মৌলিক একটি তত্ত্ব। অর্থনীতি কেন্দ্রিক আধুনিকতার নৃতত্ব, আমাদের বাজার, উৎপাদন এবং শ্রমের গল্পের দিকে নিয়ে যায়, যেগুলি আদতে পশ্চিমি অর্থনীতির মৌলকাঠামো। এই গল্পগুলিকে প্রশ্ন করা হয় নি; সেগুলি যেন জীবনকে দেখার স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক উপায়, ‘যেমন ঘটে থাকে’। তবুও অর্থনীতি, বাজার, উৎপাদনের মত শব্দগুলির ধারণা ঐতিহাসিক উদ্ভব। তাদের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়, তাদের ঠিকুজি কুলুজি(genealogies)র সীমা খুঁজে পাওয়া যায়, সত্য আর ক্ষমতা বিষয়ে তাদের কলকব্জাগুলি আজ হাট করে খোলা। ছোটকরে বললে পশ্চিমী অর্থনীত বিদ্যাকে নৃতাত্ত্বিকতার ধাঁচে ঢেলে ফেলে বলা যায় যে তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রতর্ক আর প্রয়োগবিদ্যা নির্ভর করে বেড়ে উঠেছে যা কৃষ্টির ইতিহাসে অদ্ভুত(peculiar) হিসেবে গণ্য হয়।

পশ্চিমি অর্থনীতিকে একটা উৎপাদন ব্যবস্থা হিসেবে চিন্তা করা যায়। নৃতত্ত্ব আর আধুনিকতার দৃষ্টিতে পশ্চিমী অর্থনীতি হল উৎপাদন, ক্ষমতা আর অর্থের মেলবন্ধনগত সঙ্গঠন। উন্নয়ন আর আধুনিকতার বিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত এই তিনিটি ব্যবস্থাপনা, অষ্টাদশ শতকের শেষপাদে বিকশিত হয়। মানুষ কিভাবে উৎপাদক হয়ে উঠল, সেটিকে বোঝার এটি একটি কৃষ্টিগত আঙ্গিক। অর্থনীতি কোনভাবেই একটা material entity নয়।  It is above all a cultural production, a way of producing human subjects and social orders of a certain kind। যদিও পশ্চিমি অর্থনীতির উৎপাদনের স্তর বেশ জানা – বাজারের বৃদ্ধি, উৎপাদক শক্তিগুলির পরিবর্তন, উৎপাদনের সামাজিক সম্পর্কের বিবর্তন, দৈনন্দিনের বাস্তবিক জীবনের পরিবর্তন, জমি, শ্রম এবং মুদ্রার পণ্যায়ন – কিন্তু পশ্চিমী অর্থনীতর কৃষ্টির ইতিহাসের প্রতর্কে ক্ষমতা আর তার অর্থের(signification) আলোচনা প্রায় হয়ই বলা চলে। 

Monday, December 4, 2017

গরীব কাহারে কয়২৯ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

তৃতীয় অধ্যায়
কুরির স্মৃতিচারন আমাদের আধুনিকতা্র একটি বিশুদ্ধ বিষয় স্মরণ করয়ে দেয়, আমরা বিশ্বকে আমাদের চেনা ছবির মত করে দেখার চেষ্টা করি। তিনি কলম্বিয়ায় এসে তার সমস্ত ব্যবস্থাকে সমস্যা, অন্ধকার, বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন। তিনি যে ছবিটা বোঝেন সেটা কলম্বিয়া তার বরাত মত তৈরি করে নি, সে তার মত করে বেড়ে উঠেছে। উন্নয়ন সমগ্র বিশ্বকে ছবির মত করে সাজিয়ের তুলতে চায়, যেন একবার চোখ বুলিয়েই সমস্ত কিছুই এঁচে নিয়ে একটা ব্যবস্থা বা কাঠামোর মধ্যে ফেলে দেওয়া যায়। অর্থনীতিবিদের কাছে ছবিটা তৈরি করে দেয় অর্থনীতির তত্ত্ব। কুরি যে সব বিশেষজ্ঞ নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা কলম্বিয়াকে তাদের স্মৃতির ছবির মত করে দেখতে চেয়েছেন; প্যারাডক্স হল তারা সক্কলে কলম্বিয়াকে দেখতে চেয়েছেন একটাই মাত্র ছবিতে তার নাম অনুন্নত অর্থনীতি; আসল কলম্বিয়া পিছনে অদৃশ্য অবস্থায় থেকে গিয়েছে। আসলে ছবির মত করে বিশ্বকে সাজানোটাই সমস্ত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল তত্ত্ব।১
কুরি যে সময়ে উন্নয়নের অর্থনীতির তত্ত্বের অভাবের কথা বলছেন, সেটা অনুভব করেই ১৯৫০এর দশকে ঝাঁকে ঝাঁকে তত্ত্বের সারি চলে এল। ১৯৭৯ সালে জন কেনেথ গলব্রেথ এই চরিত্র পরিবর্তনের বিষয়ে লিখছেন। ১৯৪৯ সালে হার্ভাড ইউনিভার্সিটিতে বলছেন, in the economics of poverty and economic development  as a different field of study, the special economics of the poor countries was held not to exist. In the next fifteen years in the United States these altitudes were decisively reversed. . . . Over a somewhat longer period, the Ford Foundation contributed well over a billion dollars between 1950 and 1975, and the Rockefeller, Carnegie, and some CIA-supported foundations added smaller amounts. . . . Intellectual interest in the problem of mass poverty had also greatly expanded. Seminars and courses on economic development had proliferated in universities and colleges across the land. . . . No economic subject more quickly captured the attention o f so many as the rescue o f the poor countries from their poverty. . . . To be involved with the poor countries provided the scholar with a foothold in the field of study that would assuredly expand and endure.(১৭৭৯, নজরটান এসকোবারের।)।
আমরা ১৯৮০তে উন্নয়নের অর্থনীতির বিষয়ে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিশ্লেষণ দেখব, যারা চল্লিশ বছর পরে সমালোচকের দৃষ্টিতে এই বিষয়টা দেখছেন। তাদের সুরক্ষিত অবস্থানে বসে কিছু প্রবীন অর্থনীতিবিদ এই অর্থনীতিকে বিদায় দেওয়ার কথা বললেন - Development economics is dead. May it rest in peace. It was quite exciting while it lasted, and—in spite of the many serious problems that remain to be solved—it fared reasonably well in the real world. Let us now be more realistic about our expectations, recognize the limits of our discipline, and leave behind the naive dreams of solving the world’s problems once and for all. Let us turn to the theory that we already know well। এই জ্ঞানচর্চার প্রথমসারির এক তাত্ত্বিকের বই থেকে ওপরের স্তবকটি তুলে দেওয়া গেল।
উন্নয়নের অর্থনীতির মৃত্যু এবং পুনর্গঠনের সঙ্গে নব্য-কেন্সিয় অর্থনীতির বিদায় আর নব্যউদারবাদ আবির্ভাবের অঙ্গাঙ্গী যোগ রয়েছে। ১৯৮০র দশকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের চাপে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার মেনে নিতে বাধ্য হল যেমন আর্থিক এবং মুদ্রা বিনিময় নিয়ন্ত্রণ, সরকারি উদ্যম ও সেবাগুলির বেসরকারিকরণ, আমদানি কমিয়ে দেওয়া আর বিশ্ববাজারে অন্তর্ভূক্তি। এই একই ভাবনায় বিশ্বব্যাঙ্ক ১৯৯১ সালে ওয়ার্ল্ড ডেভেলাপমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করে, এবং নয়ের দশকে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা হয়ে দাঁড়ায়। উন্নয়নের অর্থনীতিতে নব্যউদারবাদের মত গোঁড়া বিষয়ের প্রবেশ আদতে পূর্ব ইওরোপের অর্থনীতিতে মুক্ত বাজারের প্রবেশের মুখড়া হিসেবে কাজ করে। তখন বলা হয়নি সংস্কারের জন্য মানুষের সাময়িক কিছু সমস্যা হবে এবং জীবনধারণের মান পড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মন্ত্রের মত করে বলে যাওয়া হল, কাঠামোগত ব্যবস্থার সংস্কার চালিয়ে যাওয়া জরুরি। হাজার হাজার মানুষ মারা গেলেও জনগণের কল্যানকর্ম কিছুদিনের জন্য থামিয়ে দেওয়া হল। বাজারই স্বর্গ।

পাঁচের আর ছয়ের দশকে অর্থনীতির কল্যানের জন্য উন্নয়নের অর্থনীতি চর্চকেরা নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে, প্রথমে পরিকল্পনার উন্নয়নের অর্থনীতির মাধ্যমে, আটের দশকের স্থিতিশীলতা আর সমন্বয়ের নীতিতে এবং নয়ের দশকে হস্তক্ষেপ বিরোধী বাজার-বান্ধব উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে। এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষেত্রের মধ্যে দিয়ে এই প্রতর্কটা কিভাবে এগোতে পারত;  কিভাবে এটি শিক্ষা ক্ষেত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক পদ্ধতি, সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে গ্রন্থিবদ্ধ হল; কিভাবে দারিদ্রকে ঐতিহাসিক সমস্যা হিসেবে দেখিয়ে একটি বিশেষ প্রতর্ক উঠে এল যা একটি নিজেই ঐতিহাসিকতায় রূপান্তরিত হল; এবং কিভাবে উন্নয়নের অর্থনীতি উন্নয়নকে পরিকল্পনার কলকব্জা দিয়ে প্রভাবিত করল, যেখান থেকে তার উদ্ভব। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য নয় যে প্রথম দিকের উন্নয়নের অর্থনীতির তত্ত্বটা ভুল না ঠিক সেটা বিচার, কিন্তু সে কিভাবে ঐতিহাসিক, জ্ঞানচর্চাগত এবং কৃষ্টিগত সচেতনতা তাকে বিভিন্ন পছন্দ নির্বাচনে সুযোগ করে দিয়েছে সেটা তুলে ধরা। এটা মনে রাখতে হবে, এমন কি যদি অর্থনীতিবিদেরা এমন একটি প্রতর্কে অংশ নেন যেটি তার ব্যক্তিগত প্রতীতিতে না উদ্ভুত হয়ে বহু ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে বিকশিত হয়েছে, তবুও তারা যে পছন্দের এম্বডিড প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলির সামাজিক এবং কৃষ্টিগত পরিণতি ছিল। 

গরীব কাহারে কয়২৮ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে
তৃতীয় অধ্যায়

অর্থনীতি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রঃ উন্নয়ন আর পুঁজির গল্প
All types of societies are limited by economic factors. Nineteenth century civilization alone was economic in a different and distinctive sense, for it chose to base itself in a motive rarely acknowledged as valid in the history of human societies, and certainly never before raised to the level of a justification of action and behavior in everyday life, namely, gain. The self-regulating market system was uniquely derived from this principle. The mechanism which the motive of gain set in motion was comparable in effectiveness only to the most violent outburst of religious fervor in history. Within a generation the whole human world was subjected to its undiluted influence. — Karl Polanyi, The Great Transformation, 1944
হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ এবং রুজভেল্ট প্রসাসনের আমলা লচলান কুরি ১৯৭৯ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রথম প্রকল্পের হয়ে বোগোটায় একটি নৈশভোজে বলেন(তিনি তিরিশ বছর আগে এই দেশে এসেছিলেন), আমি জানিনা আমার রক্ষণশীল কানাডিয় চরিত্র কিভাবে আমাকে সংস্কারকের কাজে জুড়ল। আমি সেই সব ক্লান্তিকর মানুষ যারা কোন সমস্যার সমাধান না করে শান্তি পাই না। আপনারা আন্দাজ করবেন, কিভাবে কলম্বিয়া আমাকে প্রভাবিত করেছে। বিপুল পরিমান অবর্ণনীয় সমস্যায় সমস্যায় মুড়ে থাকা একটি দেশ! একজন অর্থনৈতিক মিশনারির স্বর্গ। আমি যখন প্রথম এদেশে এসেছিলাম সমস্যাগুলো নিয়ে আমার কোন বিশদ ধারনা ছিল না। কিন্তু তখনই আমি এঁচে নিয়েছিলাম, যদি (বিশ্ব)ব্যাঙ্ক আর এই দেশ যদি আমার কথা শোনে, আমি প্রত্যকটি সমস্যার সমাধান নিয়ে হাজির হব। গ্রেট ডিপ্রেসনের সময় আমি আমায় সেঁকে নিয়েছি। আমেরিকা যখন তার ইতিহাসে সব থেকে বড় ডিপ্রেসনের মুখে পড়েছে, সে সময় আমি নিউ ডিলের মত আর্থিক পুনর্জীবন প্রকল্পে মন দিয়ে কাজ করছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমি সরকারি কাজেও খুব সক্রিয় ছিলাম( I don’t know where in my conservative Canadian background I acquired a reformer’s zeal, but I must admit that I had it. I just happen to be one of those tiresome people who can’t encounter a problem without wanting to do something about it. So you can imagine how Colombia affected me. Such a marvelous number of practically insoluble problems! Truly an economic missionary s paradise. I had no idea before I came what the problems were but that did not dull for a moment my enthusiasm nor shake my conviction that if only the Bank ano the country would listen to me I could come up with a solution of sorts to most. I had my baptism of fire in the Great Depression. I had played some role in working out the economic recovery program in the New Deal for the worst depression the United States had ever experienced. I had been very active in government during the Second World War.) (উদ্ধৃতি দিয়েছেন Meier 1984)।
অকপট এই স্মৃতিচারণা থেকে উত্তর আমেরিকিয়রা উপনিবেশ এবং উপনিবেশ-উত্তর সময়ে কতগুলো চরিত্র টের পাই; সংস্কারের উদ্যম এবং শিক্ষা বিজ্ঞান বিষয়ে চিন্তাভাবনা; যে সব দ্বীপ বিভিন্ন অদ্ভুত সমস্যায় ডুবে আছে, সেগুলিকে ইওটোপিয় ইওরোপিয় ভাবনায় মিশনারি প্যারাডাইস হিসেবে চিন্তা করা; এই ভাবনাটি, যে কোন সমস্যার সমাধান আছে এবং যে কোন মানবিক বিবাদ ধুয়ে মুছে দেওয়া যায়। কুরির ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি জায়মান হয়েছে গ্রেট ডিপ্রেসান থেকে বেরিয়ে আসা আর ইওরোপের পুনর্গঠনের সময়; ঠিক যে চিন্তা করে বিভিন্ন ‘pioneers of development’ কুরির মত অর্থনীতিবিদ, যাঁরা পরবর্তী সময়ে এই ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হবেন, তাদের পেশার সঙ্গে জুড়ে থাকা সমস্ত কলকব্জা, হাতিয়ার আর প্রযুক্তি সম্বল করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মাসিহা হিসেবে উদ্ধার করতে কেনসিয় মডেলকে তাদের মত করে ফাইন টিউনিং করে তাত্ত্বিক আর ফলিত বিজ্ঞান প্রয়োগ করতে সমস্তরকম সদিচ্ছা প্রগতিশীল এজেন্ডা নিয়ে উপস্থিত হন তৃতীয় বিশ্বের ভূমিতে।

কুরির কলম্বিয়ায় এই বক্তৃতার আগে আমরা বেশ কিছুটা সময় পিছিয়ে যাই, দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা যে কলম্বিয়া মিশন নিয়ে আলোচনা করেছি তখন উন্নয়নের অর্থনীতির কোন ধারনাই ছিল না। এবার তাঁর মুখ থেকেই ভাষ্যটি শোনা যাক – ১৯৪৯ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে আমাকে প্রথম সমীক্ষা করতে দেওয়া হয়, আগে এ ধরণের কোন কাজ হয় নি, এবং উন্নয়নের অর্থনীতি বলে বিশ্বে কোন ধারনাই ছিল না। আমি তখন ভেবে নিয়েছিলাম অর্থনীতির বিভিন্ন ধারার, আঙ্গিক প্রয়োগ করে বিশেষ বিশেষ দেশের বিশেষ বিশেষ সমস্যার সমাধান করা যাবে; সেই জন্য জাতীয় আর্থব্যবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা, যানবাহন, কৃষি, ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের জড়ো করি। আনি কিছু প্রযুক্তিবিদ এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরও। তারা বিভিন্ন বিষয়ে নানান নিদান দেন। আমি একে সোসিও ইকনমিক পরিকল্পনা না বলে বলছি, “the basis of a program”(When, in 1949, I was asked to organize and direct the first study mission of the World Bank there were no precedents for a mission of this sort and indeed nothing called development economics. I just assumed that it was a case of applying various branches of economics to the problems of a specific country, and accordingly I recruited a group of specialists in public finance, foreign exchange, transport, agriculture, and so on. I did, however, include some engineers and public health technicians. What emerged was a series of recommendations in a variety of fields. I was at pains to entitle it “the basis of a program” rather than a socioeconomic plan. (Currie 1967, 31; quoted in Meier 1984, 131))

গরীব কাহারে কয়২৭ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

দ্বিতীয় অধ্যায়

এই শর্তগুলির বাস্তবিকতা কোন জ্ঞানের সংগঠনে মিলিত হয় না বরং অর্থনীতিক, রাজনীতিক এবং সব ধরণের উন্নয়নের বিশেষজ্ঞদের যুক্তিসঙ্গত প্রতর্কে যে পরিবাহিত হয়, এটা এতক্ষণে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা। প্রতর্ক হিসেবে উন্নয়ন একটি অতিবাস্তব ঐতিহাসিক সৃজন, যা বিবৃত হয় অনুন্নয়ন নামক একটি শর্তাধীন অবাস্তব নির্মানের ওপর ভিত্তি করে। এটা আমাদের মন দিয়ে বুঝতে হবে যদি আমরা উন্নয়নের প্রতর্ককে বুঝতে এবং তাকে উচ্ছেদ করতে চাই।
এখানে যে অর্থনৈতিক শোষণ চলছে তাকে বুঝতে এবং মোকাবিলা করতে হবে। উন্নাসিক ক্ষমতাকে দিয়ে এই কাজ হবে না, যদিও তাকেও মোকাবিলা করতে হবে। জীবনের নানান কঠোর বাস্তবতা আমাদের আচ্ছন্ন করে এবং সেগুলোয় আমাদের নজরও দিতে হবে। কিন্তু যারা তৃতীয় বিশ্বকে উন্নয়নের চশমায় দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছেন তারা বাস্তবতার আকাশে বিপুল বিশাল প্রাসাদ বানিয়েছেন এবং দেখার ভঙ্গীটাই হারিয়ে ফেলেছেন। পশ্চিমি  জ্ঞানের আঙ্গিকগুলি এবং ক্ষমতা তৃতীয়বিশ্বে যে বিপুল বিনিয়োগ করেছে তাদের ধারনাগুলি প্রথিত করতে, তাকে আমাদের বাস্তবিকভাবে অন্য দৃষ্টিতে এবঙ অন্য চরিত্র হিসেবে দেখতে হবে।
উন্নয়নকে নিয়ে বিপুল কর্তৃত্বশালীভাবে আক্রমণ চালিয়ে বলেছে যে গরীবি আর উনুন্নয়ন বিশ্বজনীন ও পূর্বনির্ধারিত বিষয় যা প্রতিনিধিত্বের বিশেষাধিকারের ওপর নির্ভরশীল; এই চাপিয়ে দেওয়া কর্তৃত্ববাদের জন্যই তৃতীয়বিশ্বের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা গিয়েছে(যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয়বিশ্বের প্রত্যেকটি সমাজের মানুষকে – মেক্সিকোর বস্তির আধিবাসী, নেপালি চাষী আর তুয়ারেং যাযাবর একইভাবে গরীব এবং অনুন্নত, একই দাগে দাগিয়ে দেওয়ার স্পর্ধাও); এবং তৃতীয় বিশ্বকে উপনিবেশ বানিয়ে তার পরিবেশ ও মানুষের ওপর কর্তৃত্ব চাপানোর ক্ষমতা সে অর্জন করেছে।
উন্নয়ন একটা উদ্দেশ্যবাদী(teleology) চিন্তা যা শেষ পর্যন্ত মনে করে দেশিয়(natives) অইওরোপিয়রা কখোনো না কখোনো রূপান্তরিত হবেই; এর সঙ্গে সঙ্গে সে অগণিত স্বরে এবং নানান পদ্ধতি অনুসরণ করে কারা সংস্কারক আর কারা সংস্কৃত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সে কথা বলে চলে, এবং বলে চলে যে তৃতীয় বিশ্ব আলাদা এবং হীন, প্রমিত ইরোপিয়দের তুলনায় তৃতীয় বিশ্ব মানবিকতা শূন্য। উন্নয়ন নির্ভর করে নানান অস্বীকৃতি আর হীনমন্যতার রাজনীতির স্বীকৃতির ওপরে, ভাবা বলেছিলেন এই নানান বৈষম্য গায়ে নিয়েই তৃতীয় বিশ্ব বেড়ে ওঠে। ‘দারিদ্র’, ‘অশিক্ষা’, ‘ক্ষুধা’ এবং আরও নানান কিছু শব্দ অনুন্নয়নের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে, যা আজ পৃথক করা অসম্ভবপ্রায়। জ্ঞানচর্চার মধ্যে একমাত্র অর্থনীতিই অনুন্নয়নের সঙ্গে চিরতরে দারিদ্রকে জুড়ে দিয়েছে, যেটা অন্য কোন চর্চা করতে পারে নি। তাদের জন্য আমি আমার পরের অধ্যায়গুলি উতসর্গ করছি।

(দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ)

গরীব কাহারে কয়২৬ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

দ্বিতীয় অধ্যায়

কলম্বিয়ার প্যাসিফিক উপকূলে যে সব গ্রামে গ্রামোন্নয়নের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেখানে প্রযুক্তির জ্ঞান বহু সময় আধুনিকতা আর উন্নয়নের সমার্থক পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘণবর্ষণের বনাঞ্চলে আফ্রো-কলম্বিয়ান চাষীদের মাঠ কর্মী হিসেবে হিসেব রাখা, চাষের ক্ষেত্র পরিকল্পনার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, সমবায়ের ব্যবসায়িকরণ, কৃষিতে আধুনিক উপকরণ যেমন কীটনাশক ইত্যাদি সব কটিই কনসিমেন্টো টেকনিকো (প্রাযুক্তিক জ্ঞান) নামে চিহ্নিত হয়েছে এবং এই জ্ঞানগুলি তাদের কাছে জীবনের গুণমান রূপান্তরের সামিল। প্রাযুক্তিক জ্ঞান প্রত্যেক চাষীকে দেওয়া হয়েছে সেই অঞ্চলেই। তবুও তাদের কয়েকজনকে শহরে নিয়ে গিয়ে নতুন চাষ এবং পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে ক্যাপাসিটাডো(প্রশিক্ষণ) দেওয়া হচ্ছে। এই হাতে গোনা চাষীরা উন্নয়নের অন্যতম বড় বাহক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তাদের জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই চাষীরা বলছেন যে আগে অজ্ঞ এবং উদাসীন ছিলেন। এই প্রকল্পে শিক্ষা পোয়ার আগে তারা জানতেন না কেন তাদের শস্য মরে যায়, আজ তারা জানেন যে নারকেল গাছ যে পোকা খেয়ে মেরে ফেলে সেগুলিকে একটি বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে খতম করে দেওয়া যায়। তারা শিখেছেন পারিবারিক শ্রমকে মাত্র একটা কৃষিজমিতে নিয়োগ করে, বহুদূরে থাকা জমি একের পর এক করে চাষ করাই মঙ্গলের, কারন সেগুলিতে যেতে বেশ কয়েকঘন্টা সময় লাগে। এই দীর্ঘসময় ধরে হাঁটাটা মোটেই সদর্থক কাজ ছিল না। তাদের শব্দভাণ্ডারে efficiency নামক একটা শব্দ যোগ হয়েছে। তবুও তারা তাদের পুরনো প্রথা ছাড়তে পারে নি এখনও। একজন বললেন আজও জমিকে আদর করতে হয়, কথা বলতে হয়, এবং আজও তারা দূরের জমিতে পুরনোভাবে চাষ করে থাকেন। তারা আদতে মিলিয়েমিশিয়ে চাষের প্রথা তৈরি করে নিয়েছেন। শুধু যুক্তি দিয়ে আধুনিক কৃষিই করেন না, পুরনো পদ্ধতিতেও চাষ করেন। এই মিলিত মডেলের আলোচনায় ফিরব শেষের অধ্যায়ে।
উন্নয়নের ফল স্থানীয় স্তরে অনুভব করা যায়। এই স্তরেই উন্নয়ন আর আধুনিকতার ধারনাকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়, স্থানীয় প্রথা যা তোমার আছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে পরিবর্তিত করে। স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের ভাষার ওপর আরও কাজ করা দরকার তাহলে এই প্রতর্ককে আরও গভীর ভাবে বুঝতে পারব। This project requires in-depth ethnographies of development situations such as those exemplified earlier. For the anthropologists, Pigg concludes, the task is to trace the contours and cultural effects of development without endorsing or replicating its terms. I will come back to this principle in my discussion of Third World cultures as hybrid products of modem and traditional cultural practices and the many forms in between.

পরিশিষ্ট
এই অধ্যায়ে আমরা দেখলাম দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে তা জ্ঞানচর্চাগত এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটিয়েছে কিন্তু এর সঙ্গে আরও একটা কথা বলা দরকার  যে সব চলক তৃতীয় বিশ্বের দৃশ্যত পরিবর্তন এনেছে, তা নতুন এক ভাষার ও বাস্তবিকতার জন্ম দিয়েছে। বিপুল ঘণ তৃতীয় বিশ্বের ক্ষেত্র থেকে তুলে ক্ষমতার নতুন এক সমীকরণ গড়ে উঠছে। অনুন্নয়নকে বিশ্ব থেকে মুছে ফেলতে গিয়ে এটিই আজ রাজনৈতিক প্রযুক্তির অংশ হয়ে হাজার হাজার গুণিতকে বেড়ে উঠেছে।
উন্নয়ন বলতে চায় সামাজিক জীবন একটি প্রাযুক্তিক সমস্যা, উন্নয়নের পেশাদার - যাদের কাজই হল এই জ্ঞানচর্চা প্রয়োগের দক্ষতা, তাদের যুক্তিবুদ্ধির ওপরে এবং ব্যবস্থপনায় উন্নয়ন আনার সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিতে হবে। পরিবর্তন প্রত্যেক সমাজের শেকড়ে লুকিয়ে নেই - যদিও এটা বুঝেছিলেন ১৯২০, ১৯৩০এর দশকে তৃতীয় বিশ্বের বিশ্বের বহু বৌদ্ধিক মস্তিষ্ক (তাদের মধ্যে গান্ধীই শ্রেষ্ঠতম) – এই পেশাদারেরা ব্যবস্থাপনাগত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে উন্নয়ন আর আধুনিকতার তৈরি করে দেওয়া মডেলে সমাজগুলোকে খাপে খাপে বসিয়ে দিতে চায়। যাদুগরের শিক্ষানবিশির মত মাঝে মাঝে যুক্তির স্বপ্নে জেগে উঠে উন্নয়নের পেশাদারেরা মনে করে সব সমাধানই তাদের হাতে রয়েছে, কিন্তু ভুলভাল বাস্তবতা তৈরি করেন।
এক সময় তৃতীয়বিশ্বের শাসকদের কাছে সর্বব্যপ্ত ক্ষমতা আর ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের মনোভাবে উন্নয়ন এমন এক সর্বরোগহর বড়ির কাজ করেছিল, যা নিয়ে তারা তাদের জনসংখ্যার ওপর যা ইচ্ছে তাই হস্তক্ষেপ করতে দিতে রাজি ছিলেন; ফলে প্রথম এবং তৃতীয় বিশ্বের অভিজাতরা জানতেন যে জনগন বিপুল অপুষ্টির শিকার হবে, যাকে ক্ষমতার পছন্দ হবে তাকেই তৃতীয় বিশ্ব তার প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে দেবে, মানুষ আর পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ ঘটবে, হত্যা আর অত্যাচার তার দেশের পরম্পরার সমাজকে বিনাশের পর্যায়ে নিয়ে আসবে; এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে তৃতীয় বিশ্ব নিজেকে হীন অনুন্নত এবং অশিক্ষিত বলে মনে করত; নিজেদের কৃষ্টির ওপর নিজেরাই কুদৃষ্টি ছুঁড়ে দেবে, যুক্তি বুদ্ধিকে যারা পণ্য করছে কোন প্রশ্ন না করে তাদের পায়ে নিজেদের সঁপে দেবে; এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই কারণে যে, সকলেই জানতেন উন্নয়ন যেটা হতে চলেছে, সেটি আদতে অসম্ভবকে অসম্ভব করার প্রতিশ্রুতি অর্জনের কালো মেঘ।

এই প্রতর্কের চার দশক পরেও তৃতীয় বিশ্বকে একই দৃষ্টিতে দেখার কাজে আজও প্রশ্ন ওঠে নি। ক্ষমতার যে আঙ্গিক তৈরি হয়েছে তা আজ আর অত্যাচার করে না বরং জুড়ে নেয়; অজ্ঞানতা নয় নিয়ন্ত্রিত জ্ঞানের দ্বারা; মানবিক উদ্বেগ নয় সমাজ কর্মের আমলাতান্ত্রিকতার মাধ্যমে। যে বাস্তবতারগুলির ওপর নির্ভর করে উন্নয়নের বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল, সেগুলি আজও জটিল আকার ধারন করছে, আরও নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে, তার পদ্ধতিগুলোকে আরও শাণিত করছে, আরও গভীরে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। 

Sunday, December 3, 2017

গরীব কাহারে কয়২৫ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে

দ্বিতীয় অধ্যায়

এই সমীক্ষা একটি সাধারণ প্রশ্ন তুলে ধরে, তৃতীয় বিশ্বের নানান দেশে উন্নয়নের এবং আধুনিকতার ভাষার প্রচার আর প্রভাব কি হতে পারে। এর উত্তর, প্রভাব নির্ভর করে অঞ্চল অনুযায়ী – সে বিশ্বঅর্থনীতিতে কতটা অঙ্গীভূত হচ্ছে, ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য, উন্নয়নের কাজে অংশগ্রহণের নমুনা ইত্যাদির সম্বন্ধ বিচার করে। তিনটে অতিরিক্ত উদাহরণ এই বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করব যাতে এই ধারনাটা খোলাসা হয়। নেপালি গ্রামে যাকে বিকাশ বলা হয় পাপুয়া নিউগিনির একটি ছোট্ট গ্রাম গাপুনে সেটি কামাপ(coming up) নামে পরিচিত এবং উন্নয়নের খোঁজ তাদের জীবনের একটা অংশ। গাপুনে উন্নয়নের ছবি উঠে আসে গ্রামের ক্যাথলিক মিশনারি, অস্ট্রেলিয় ঔপনিবেশিক প্রশাসক এবং জাপানি আর আমেরিকিয় সেনা প্রভাবিত ইতিহাস থেকে। এরসঙ্গে জুড়ে থাকে স্থানীয়দের cargo cultএর বিশ্বাস। তারা মনে করে তাদের মৃত পূর্বপুরুষ আবার জীবিত হয়ে ফিরে আসবেন, তাদের সঙ্গে আসবে তাদের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া cargo । এলাকায় বাণিজ্যিক চাষ বেড়েছে, উন্নয়নের ধারণায় জমিতে চাষের সংখ্যা বেড়েছে এবং তাতে বৈচিত্র এসেছে। আজকে প্যাকেট করা সাদা চাল আর নেসকাফে তাদের অত্যন্ত চাহিদাবন্ত বস্তু এবং সেটাই তাদের কাছে উন্নয়নের সীমারেখা, ঠিক যেমন নেপালে অনুন্নয়ন হিসেবে দ্যাখা হয় প্রাচীনকালের মত করে জীবনধারন করা আর মাথায় মোট বওয়া। গাপুনের শিশুরা আজ বিদ্যালয়ে যায় এবং সাদারা কিভাবে জীবনযাপন করে সেটা তারা জানে।
তবুও গাপুন শুধুই আধুনিক হয় নি, তাদের পুরনো কৃষ্টি আজও বেঁচে আছে, যে বিশাল অর্থ তারা বাণিজ্য কৃষিতে আয় করছে, তার একটা অংশ আর নেসকাফে বা সাদা চালে যেমন খরচ হচ্ছে, তেমনি পুরনো সামাজিক খাওয়াদাওয়া উতসবে ব্যয় আর উতসর্গীকৃতও সমানে হচ্ছে। যদিও কামাপ গাপুনের বাসিন্দাদের জীবনে বিপুল পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু এটাকে পদ্ধতি হিসেবে ওঁরা দেখছেন না বরং এই পরিবর্তনকে দেখছেন হঠাৎ রূপান্তর হিসেবে, একটি দৈবী পরিবর্তন রূপে - যেখানে তাদের বাড়ির ছাদ টিনের হয়েছে, তাদের খাওয়াদাওয়ায় সাদা চাল নেসকাফে আর টিনিপি(টিনে জারিত ম্যাকারেল) এসেছে, এবং তাদের চামড়া কিন্তু সাদা( Kulick 1992)। তারা মনে করে এই রূপান্তর, তাদের দৃষ্টিতে অর্থনৈতিক উদ্যমের জন্য নয় বরং ধার্মিকতার জন্য এসেছে। গাপুনে উন্নয়ন আদতে আরেকটি প্রমিত cargo cult; শিক্ষা, বিদ্যালয়ে যাওয়া, রাজনীতি সবই কার্গোর শর্তে মূল্যায়িত হয়, এমন কি ১৯৬০এর দশকে বিদ্যালয়ে স্থানীয় ভাষাতেই পড়ানো হয়। গাপুনএর অধিবাসীরা জানেন উন্নয়ন মানে কি এবং সেটা তাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, যদিও সেটা ভিন্ন ভাষায় ভিন্ন কৃষ্টি আর প্রথায় মোড়া।
আরেকটি উদাহরণ দেব কেনিয়ার লামু শহরে, মহিলাদের দৃষ্টিতে উন্নয়ন এবং আধুনিকতা। এই শহরের সমাজে উন্নয়নের মডেলটি আরও বিস্তৃত; পশ্চিমী উন্নয়ন এবং নারীস্বাধীনতার তত্ত্বের পাশাপাশি তারা জুড়েছেন ইসলামি আন্দোলন(পুনর্জাগরণবাদী বা সংশোধনবাদী), ধনী আরব দেশ থেকে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে আনা কৃষ্টি, ভারতীয় গান, চলচ্চিত্র, ভিডিও ক্যাসেট এবং টিভিতে দেখানো সিরিয়াল ইত্যাদি। মুসলমান পরিচয় বজায় রেখে মহিলারা উন্নয়ন এবং আধুনিকতাকে দেখতে চাইছে কি না। এই সমীক্ষায় মেয়ে হিসেবে পরিচয় ছিল অক্ষদণ্ড, প্রশ্ন ছিল বোরখা পরা নিয়ে, মেয়েদের পড়তে পাঠানো নিয়ে, আধুনিক বাড়িঘর নিয়ে, গতায়াতের আরও সুবিধা নিয়ে ইত্যাদি। যৌবনে মেয়েরা যখন মাইশা মাজুরি(উচ্চতর জীবনধারণ)তে পৌঁছয়, তখন তারা পরিবর্তনের জন্য বিদেশি নানান পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, পরম্পরা যেমন বোরখা রাখতে চায় না – যদিও একে তারা খারাপ বলে মনে করে না, তাদের কাছে এটা অনাধুনিক এবং অকার্যকর(Fuglesang 1992)।

কেতাদুরস্তি, ভারতীয় চলচ্চিত্র দ্যাখা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার মত কিছু জিনিসকে তারা আধুনিকতা বলে মনে করেন, যেটা তাদের নতুন পরিচয় দেয় এবং নারীত্বকে বুঝতে শেখায়। তবুও এই পদ্ধতিটা কিন্তু সরাসরি আধুনিকতা নয়, যদিও এই ঘটনাগুলো ঘটছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের নায়কের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসন এবং খোমেইনির ছবিও মেয়েদের ঘরে লাগানো দ্যাখা যায়। মুয়াজ্জিনের ৫ থেকে ১০ মিনিটের আজানের অর্থ তাদের কাছে সৌদি আরব বা দুবাই থেকে কিনে আনা শেষতম ভিডিওটি দেখা থামিয়ে দেওয়া। জীবন আর লিঙ্গ সম্পর্ক পরিবর্তিত হচ্ছে নিয়মিত – তার আর অদেখা ভুতের মত থাকতে চায় না, তবুও তারা আধুনিক নারীত্ব বলতে যা বোঝায় তার সঙ্গে পশ্চিমা নারীবাদের মুক্তির ভাষ্যের কাছাকাছি কোন সম্পর্ক নেই। 

গরীব কাহারে কয়২৪ - উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব

এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লডঃ আর্তুরো এসকোবারএর বই থেকে
দ্বিতীয় অধ্যায়

এই ব্যাঙ্গার্থক প্রতর্ক প্রত্যেক স্তরে প্রতিধ্বনিত হয়, এমনকি তৃণমূলস্তরের উন্নয়ন বিদ্যা চর্চা এবং মাঠে ঘাটের প্রয়োগশালাতেও। আমরা জানি কিভাবে উন্নয়ন সংক্রান্ত নানান ছবি এবং ভাষ্য স্থানীয় স্তরে প্রচারিত হয়, উদাহরণস্বরূপ, মালেশিয়ার গ্রামের শিক্ষিত গ্রামীন এবং সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির তৈরি করে দেওয়া ভাষা শিখতে এবং ব্যবহার করতে হয়(Ong 1987)। সবুজ বিপ্লবের মত উন্নয়নের চিত্র এবং প্রযুক্তির সরাসরি বিরোধিতা হয়েছে তৃণমূলস্তরে আমরা দেখেছি(Taussig 1980; Fals Borda 1984; Scott 1985)। তবুও উন্নয়নের প্রতর্ককে এবং প্রয়োগবাদীতাকে নজরে রেখে স্থানীয় স্তরের জাতবাদী সমীক্ষা সমাজের ব্যবস্থাপনা, তার কাজকর্ম, কিভাবে তারা বদলায় বা ব্যহৃত হয়, কিভাবে গোষ্ঠী চরিত্র আর কাঠামো তৈরি করতে প্রভাব ফেলে, সব কিছুই জানার কাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্বে এই ধরণের সমীক্ষার কাজ প্রথম শুরু করেছেন স্টেসি লে পিগ নেপালে। স্টেসি সেখানে উন্নয়নের প্রতর্কে ব্যবহৃত হওয়া আরেকটি ব্যাঙ্গার্থক শব্দ ‘গ্রাম’ নিয়ে কাজ করছেন। তার উদ্দেশ্য হল, কিভাবে আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়নের তত্ত্ব স্থানীয়স্তরে কাজ করে, এবং তিনি আমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এটা ভাবলে ভুল হবে শুধু এই পদ্ধতিতে পশ্চিমী কৃষ্টি স্বীকৃতি পাচ্ছে বা অধিকার জমিয়ে বসছে। তিনি বলছেন নেপালের কৃষ্টি আর ইতিহাসের প্রেক্ষিতে উন্নয়নের(বিকাশ) জটিলতম পদ্ধতিতে নেপালীকরণের ধারনাটি ঘটছে। উন্নয়নের নেপালিকরণের ধারণাটি একটি জটিল সামাজিক ব্যবস্থাপক শক্তি যা বিভিন্ন পদ্ধতিতে যেমন বাসস্থানের শ্রেণীবিন্যাসের সামাজিক প্রগতি(গ্রাম বনাম শহর), জীবিকার চরিত্রে(পরিযায়ীতা বনাম দপ্তরে বসে কাজ), ধর্ম(বৌদ্ধ বনাম গোঁড়া হিন্দু) এবং জাতি(মধ্য এশিয় থেকে আর্য)র ধারনায় শক্তি অর্জন করছে। এই মাপদণ্ডে বিকাশ এক ক্ষমতা থেকে আরেক ক্ষমতায় অঙ্গীভূত হয় এবং আধুনিকতার তাত্ত্বিক ধারণায় গ্রামীনেরা শুষে নিয়ে নিজেদের সামাজিক চরিত্রকে বিকাশী বলে দাবি করে।
বিকাশ এইভাবে একজন গ্রামীনের চরিত্রকে পাল্টে দেয়। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি উন্নয়নের প্রতর্কে কিভাবে একটি গ্রামের নবনর্মান করা হচ্ছে। ‘কম উন্নত দেশ’ ব্যাঙ্গার্থ সম্বল করে উন্নয়নের প্রতর্কে একটি বর্গীভূত(generic) গ্রাম তৈরি হয়ঃ It follows that the generic village should be inhabited by generic villagers. . . . People in development planning “know” that villagers have certain habits, goals, motivations and beliefs. . . . The "ignorance” of villagers is not an absence of knowledge. Quite the contrary. It is the presence of too much locally-instilled belief. . . . The problem, people working in development will tell each other and a foreign visitor, is that villagers “don’t understand things.” To speak of "people who don’t understand” is a way of identifying people as “villagers.” As long as development aims to transform people’s thinking, the villager must be someone who doesn’t understand. (Pigg 1992
নেপালের উন্নয়নের কর্মীরা মোটামুটি বুঝতে পারেন যে মনোভাব আর স্বভাব তারা গ্রামে প্রবেশ করাতে চাইছেন, তার সঙ্গে গ্রামের পরম্পরার বিভেদ আকাশসমান; তারা জানেন, গ্রামে যে বৈচিত্র আছে তা উন্নয়নের চাহিদার বর্গীকৃত গ্রামের থেকে অনেক বেশি এবং চরিত্রে তার বিপরীতও। তারা জানেন একটা সত্যিকারের গ্রামকে উন্নয়নের শর্তে তৈরি করা যায় না, শেষ পর্যন্ত তারা একটা কথাই বলেন গাঁইয়ারা আমাদের বিষয়টা বুঝলেন না। পিগ বলছেন উন্নয়নের শ্রেণীবিভাগ সাধারণভাবে গ্রামের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না; অথচ বিকাশকর্মীরা জটিল স্তরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান, তাদের মত করে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সমাজের মত করে সেগুলো বদলাবার চেষ্টা করেন। গ্রামগুলো চিহ্নিত হয় কোন গ্রামে কতটা বিকাশ ঘটেছে (জলের নল, বিদ্যুৎ, নতুন প্রজাতির ছাগল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রাস্তা, ভিডিও, বাস থামার যায়গা); যদিও গ্রামীনেরা জানেন যে বিকাশ গ্রামের বাইরে থেকেই আসে, তারা মনে করেন বিকাশী চান গ্রামীনেরা যেন বিকাশের মত করে নিজেদের সাজিয়ে নেন। গ্রামীনেরা দুধরণের গ্রামীন চরিত্রের দোলাচালের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেনঃ একটা পারম্পরিক চলতি গ্রামীন চরিত্র, বয়স, জাতি, লিঙ্গ, পৃষ্ঠপোষক ইত্যাদি; অন্যটা জাতীয় চরত্রের কেন্দ্র, প্রান্ত, উন্নয়নের স্তর ইত্যাদি।

ক্রমশ বিকাশ যখন চাকরি পাওয়ার বা সামাজিক সম্পদ পাওয়ার সুযোগ দিতে থাকে, তখন গ্রামীনেরা বিকাশের অংশ হতে চায়। অধিকাংশ গ্রামীনেরা জানেন বিকাশের থেকে খুব বেশি কিছু দান হিসেবে পাওয়া যাবে না, কিন্তু বিকাশের কাজে চাকরি পাওয়া যেতে পারে। পিগ মোটামুটি দেখান কিভাবে উন্নয়নের কৃষ্টি স্থানীয় স্তরের কৃষ্টিতে চারিয়ে যায়। তিনি বলেন উন্নয়নের মোকাবিলাকে দুটি কৃষ্টির সংঘাত হিসেবে না দেখে দুটি কৃষ্টিগত ব্যবস্থার দুটি গোষ্ঠী পরস্পরের সঙ্গে একটা পদ্ধতিতে উপনীত হয়ে আলাপ আলোচনা ক’রে, এমনভাবে দ্যাখা দরকার। এই পদ্ধতিতে সামাজিক বিভেদ একটা নতুনভাবে উপনীত হয়, যদিও চলতি কাঠামো(উদাহরণস্বরূপ জাতি, শ্রেণী, লিঙ্গ) অদৃশ্য হয়ে যায় না, তাদের নতুন নাম হয়, নতুন স্তরীভবন হয়।