Showing posts with label চরকা কাটনি. Show all posts
Showing posts with label চরকা কাটনি. Show all posts

Thursday, February 13, 2020

বাংলার নিজস্ব আড়ং ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে - তাঁত উৎপাদন ব্যবস্থায় মহিলা প্রাধান্য ধ্বংস হয়েছে - কারিগরেরা নিজেদের প্রযুক্তির ওপর আস্থা হারাচ্ছেন

১) মনে রাখতে হবে তাঁত ব্যবস্থা একটা বাস্তুতন্ত্র অর্থাৎ তাঁতি নির্ভর করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারিগরদের কাজের গুণমানের ওপর। তাঁতির কাজ সর্বশেষ পর্যায়, বোনা। তাঁর আগে তাঁত ব্যবস্থা অনেকগুলো ধাপ পেরোয়। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না। তাঁত ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে শুধুই তাঁতি নির্ভর। সমস্যা সেখানেই।
২) গত আড়াইশ বছর ধরে একে একে আড়ং ব্যবস্থায় সেই ধাপগুলি ধ্বংস হয়েছে অর্থাৎ তাঁতের সঙ্গে জুড়ে থাকা অন্যান্য কারিগর সরে গিয়ে শুধু তাঁতি নির্ভর হয়েছে এই উৎপাদন ব্যবস্থা
২ক) এখন বাংলায় তুলো উৎপাদন হয় না। সেটা বড় সমস্যা। সে প্রবণতা ব্রিটিশেরা বন্ধ করে দিয়েছে, আমরা ফেরাতে পারি নি।
৩) চরকা কাটনি এবং প্রাকৃতিক রঙএর রঞ্জক(ডাই মাস্টার) আজ প্রায় অদৃশ্য - সেগুলি এখন মিল থেকে কেনা কাঁচামালে সাধিত হয়। ফলে চরকা কাটনি আর রঞ্জক তাঁতিদের থেকে যে লাভ করত এবং তাঁতি তাঁদের থেকে পণ্য কিনে যে লাভ সঞ্চয় করত সেইটা সমাজে থেকে যেত। সেই উদ্বৃত্তের কিছুটা তাঁত ব্যবস্থা পাস করে দিত ভোক্তাদের কাছে - ভোক্তারা কম মূল্যে পণ্য পেত - গোটা বাস্তুতন্ত্র একযোগে কাজ করত - প্রচুর কর্মসংস্থান হত। আজ আড়ং ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় সেই লাভটা চলে যাচ্ছে মিল মালিকদের হেফাজতে। কাপড় তৈরি খরুচে ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ তাঁতের সঙ্গে জুড়ে থাকা কারিগরদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
৩ক) মহিলারা যে কোনও কারিগরির অক্ষদণ্ড। তারা তাঁত ব্যবস্থায় প্রায় নেই - কিছু সামান্য নাটাই ইত্যাদি পারিবারিক কাজে হাত লাগানো ছাড়া। গ্রামে এক সময়য় সর্বস্তরের মহিলা সুতো কাটতেন। সেটা ধ্বংস হয়েছে। গ্রামে বিপুল কর্ম সংস্থান হয় না।ফলে গ্রামের মানুষের তাঁত নির্ভরতা চলে যাচ্ছে।
৪) মূল আড়ংএর মত ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো যদি না তৈরি করা যায় তাহলে আম আদমির জন্যে হাতে তৈরি তাঁতের বিলয় সময়ের অপেক্ষা।শুধু থেকে যাবে বসাকপাড়ার ধনী তাঁতিরা, যারা লক্ষ লক্ষ টাকার তাঁতের কাপড় বেচবে শুধুই ধনীদের।
৫) রাজনৈতিক ভর্তুকি ইত্যাদি কাজকর্ম শুধুই মৃত্যুমুখে যাওয়া রোগীকে কোরামিন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা।
৬) তাঁতের সঙ্গে থাকা তাঁতিরা এবং সেই ব্যবস্থায় থাকা বিশেষজ্ঞরা মূল জায়গায় হাত দেয় না। যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাঁদের সিঠিক বিষয় অবহিত না করে শুধু ভর্তুকি রাজত্ব চালাবার পক্ষে সওয়াল করেন। কারিগরি ব্যবস্থা শুধুই ভর্তুকিতে চলতে পারে না - যদি না তাঁর স্বতঃচল অর্থনীতি সবল হয়।
৭) এক নতুন এমপির সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তার এলাকার তাঁতিদের সংগঠন এবং কোঅপারেটিভগুলি তাঁর কাছে তাঁতের রিভাইভ্যাল প্যাকেজ হিসেবে যান্ত্রিক তাঁত চেয়েছে।
8) ঔপনিবেশিক রাজনীতি করা সব দলের রাজনীতিক মনে করেন বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র দেওয়াই কারিগরদের বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
সেটা এখন কারিগরেরা ভাবতে শুরু করেছেন।
সেটাই আতঙ্কের।

Friday, June 1, 2018

উপনিবেশ পূর্ব বাংলার রোজগেরে মেয়েরা - রিওলো, পার্থসারথী দ্য স্পিনিং ওয়ার্ল্ড - গ্লোবাল হিস্ট্রি অব কটন টেক্সটাইল ১২০০--১৮৫০

যারা বলছেন বাংলার তামাম মহিলা রোজগেরে ছিলেন না তারা আদতে ইওরোপিয়দের দালালি করছেন, কর্পোরেটদের দালালি করছেন।
ওম প্রকাশ, সুশীল চৌধুরী বা পার্থসারথী বলছেন ভারতের তাঁতিরা অন্যান্য কারগরের মতই উতপাদন ব্যবস্থায় স্বরাট ছিলেন। তাঁরা অগ্রিম নিতেন, কাপড়ের উপাদান কিনতেন, এবং উতপাদনের মালিকানা তাঁর ছিল। বকেয়া মিটিয়ে দিলেই দালাল কাপড়ের নিয়ন্ত্রণ পেত। তাঁতি বাজারের দোহাই দিয়েও চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আইনত দালালের কিছুই করার থাকত না। রাষ্ট্র কারিগরদের পাশেই থাকত।
পার্থসারথী, দ্য স্পিনিং ওয়ার্ল্ডএর প্রথম প্রবন্ধে ৬০০ বছরের উপমহাদেশিয় তাঁত ব্যবস্থায় বিচরণের ইতিহাসে বলছেন, তাঁতিরা যেমন কারিগরি উতপাদন ব্যবস্থায় স্বরাট ছিলেন, তাঁতের সঙ্গে জুড়ে থাকা কারিগরেরাও তেমনি স্বরাট ছিলেং।যদিও কিছু মহিলাকে দালালেরা পুটিং আউট পদ্ধতিতে সুতো তৈরি করার কাজ করাতেন, অধিকাংশ মহিলাই কিন্তু বাজার থেকে সুতো কিনতেন, সুতো কেটে বাজারে সেটা বিক্রি করতেন।

The spinning of the cleaned cotton into yarn was primarily a female occupation. In Bengal, an East India Company official noted in the late eighteenth century that there was 'no class of people who depend upon it as a profession, it is generally performed as a subsidiary employment by the female'. As just noted, some of the spinning was done in the cotton-growing centres themselves, but the bulk was done in closer proximity to the manufacturing areas. In some cases, the raw cotton was distributed to women by weavers and merchants on putting-out basis. In others, women purchased cotton, spun the fibre, and marketed the yarn on their own account. In the major manufacturing regions there were major marts for both the raw cotton as well as the yarn

Friday, August 23, 2013

সংবাদপত্রে, সমাচার চন্দ্রিকায় এক চরকা কাটনির দরখাস্ত, Letter of a Charka Lady to a News Paper, Samacar Chandrika

শ্রীযুত সমাচার পত্রকার মহাশয়। আমি স্ত্রীলোক অনেক দুঃখ পাইয়া এক পত্র প্রস্তুত করিয়া পাঠাইতেছি আপনারা দয়া করিয়া আপনারদিগের আপন ২ সমাচারপত্রে প্রকাশ করিবেন শুনিয়াছি ইহা প্রকাশ হইলে দুঃখ নিবারণকর্ত্তারদিগের কর্ণগোচর হইতে পারিবেক তাহা হইলে আমার মনস্কামনা সিদ্ধ হইবেক অতয়েব আপনারা আমার এই দরখাস্তপত্র দুঃখিনী স্ত্রীর লেখা জানিয়া হেয়জ্ঞান করিবেন না।

আমি নিতান্ত অভাগিনী আমার দুঃখের কথা তাবৎ লিখিতে হইলে অনেক কথা লিখিতে হয়। কিন্তু কিছু লিখি যখন আমার সাড়ে পাঁচ গণ্ডা বয়স তখন বিধবা হইয়াছি কেবল তিন কন্যা সন্তান হইয়াছিল। বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ি আর ঐ তিনটি কন্যা প্রতিপালনের কোন উপায় রাখিয়া স্বামি মরেন নাই তিনি নানা ব্যবসায়ে কাল যাপন করিতেন আমার গায়ে যে অলঙ্কার ছিল তা বিক্রয় করিয়া তাঁহার শ্রাদ্ধ করিয়াছিলাম শেষে অনাভাবে কএক প্রাণী মারা পড়িবার প্রকরণ উপস্থিত হইল তখন বিধাতা আমাকে এমত বুদ্ধি দিলেন যে জাহাতে আমারদিগের প্রাণ রক্ষা হইতে পারে অর্থাৎ আসনা ও চরকায় সুতা কাটিতে আরম্ভ করিলাম প্রাতঃকালে গৃহকর্ম্ম অর্থাৎ পাটি ঝাট্টি করিয়া চরকা লইয়া বসিতাম বেলা দুই প্রহর পর্য্যন্ত কাটনা কাটিতাম প্রায় এক তোলা সুতা কাটিয়া স্নানে যাইতাম স্নান করিয়া রন্ধন করিয়া শ্বশুর শাশুড়ি আর তিন কন্যাকে ভোজন করাইয়া পরে আমি কিছু খাইয়া সরু টেকো লইয়া আসনা সূতা কাটিতাম তাহাও প্রায় এক তোলা আন্দাজ কাটিয়া উঠিতাম এইপ্রকার সূতা কাটিয়া তাঁতিরা বাটীতে আসিয়া টাকায় তিন তোলার দরে চরকার সূতা আর দেড় তোলার  দরে সরু আসনা সূতা লইয়া যাইত এবং যত টাকা আগামি চাহিতাম তৎক্ষণাৎ দিত ইহাতে আমাদের অন্ন বস্ত্রের কোন উদবেগ ছিল না পরে ক্রমে ২ ঐ কর্ম্মে বড়ই নিপুন হইলাম কএক বৎসরের মধ্যে আমার হাতে সাত গণ্ডা টাকা হইল এক কন্যার বিবাহ দিলাম ঐ প্রকারে তিন কন্যার বিবাহ দিলাম তাহাতে কুটুম্বতার যে ধারা আছে তাহার কিছু অন্যথা হইল না রাঁড়ের মেয়্যে বলিয়া কেহ ঘৃনা করিতে পারে নাই কেননা ঘটক কুলীনকে যাহা দিতে হয় সকলি করিয়াছি ততপরে শ্বশুরের কাল হইল তাঁহার শ্রাদ্ধে এগার গণ্ডা টাকা খরচ করি তাহা তাঁতিরা আমাকে কর্জ্জ দিয়াছিল দেড় বৎসরের মধ্যে তাহা শোধ দিলাম কেবল চরকার প্রাসাদাৎ  এত পর্য্যন্ত হইয়া ছিল এক্ষনে তিন বৎসরাব্ধি দুই শাশুড়ি বধূর অন্নাভাব হইয়াছে সূতা কিনিতে তাঁতি বাটীতে আসা দূরে থাকুক হাটে পাঠাইলে পুর্ব্বাপেক্ষা সিকি দরেও লয় না ইহার কারন কি কিছুই বুঝিতে পারি না অনেক লোককে জিজ্ঞাসা করিয়াছি অনেকে কহে যে বিলাতি সূতা বিস্তর আমদানি হইতেছে সেই সকল সূতা তাঁতিরা কিনিয়া কাপড় বুনে। আমার মনে অহঙ্কার ছিল যে আমার যেমন সূতা এমন কখন বিলাতি সূতা হইবেক না পরে বিলাতি সূতা আনাইয়া দেখিলাম আমার সূতা হইতে ভাল বটে তাঁহার দর শুনিলাম ৩।৪ টাকা করয়া সের আমি কপালে ঘা মারিয়া কহিলাম হা বিধাতা আমা হইতে দুখিনি আর আছে পুর্ব্বে বিলাতে তাবৎ লোক বড় মানুষ বাঙ্গালি সব কাঙ্গালী এক্ষণে বুঝিলাম আমা হইতেও সেখানে কাঙ্গালিনী আছে কেননা তাঁহারা যে দুঃখ করিয়া এই সূতা প্রস্তুত করিয়াছে সে দুঃখ আমি বিলক্ষণ জানিতে পারিয়াছি এমত দুঃখের সামগ্রী সেখানকার হাটে বাজারে বিক্রয় হইল না একারণ এ দেশে পাঠাইয়াছেন এখানেও যদি উত্তম দরে বিক্রয় হইত তবে ক্ষতি ছিল না তাহা না হইয়া কেবল আমারদিগের সর্ব্বনাশ হইয়াছে সে সূতায় যত বস্ত্রাদি হয় তাহা লোকে দুই মাসও ভালরূপে ব্যবহার করিতে পারে না গলিয়া যায় অতয়েব সেখনাকার কাটনিদিগকে মিনতি করিয়া বলিতেছি যে আমার এই দরখাস্ত বিবেচনা করিলে এদেশে সূতা পাঠান উচিত কি অনুচিত জানিতে পারিবেন। শান্তিপুর কোন দুঃখিনী সূতা কাটনির দরখাস্ত। সং চং

(সমাচার চন্দ্রিকা, ৫ জানুয়ারি ১৮২৮, ২২ পৌষ ১২৩৪)