Showing posts with label চন্দ্রিল ও আম-মধ্যবিত্ত. Show all posts
Showing posts with label চন্দ্রিল ও আম-মধ্যবিত্ত. Show all posts

Tuesday, September 11, 2018

চন্দ্রিল ও আম-মধ্যবিত্ত

শাহানভাই, আমার ধারণা সে গণ বলতে শহুরে আম-ভদ্রবিত্ত বুঝিয়েছে বলে মনে হয়েছে। কিন্তু চন্দ্রিলকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কোন মানে হয় না বলেই আমার ধারণা। কেন?
আসি তার দর্শনে। চন্দ্রিল আনন্দবাজারের বহুকাল পৃষ্ঠপোষণা পেয়েছে। বুঝে নিতে হবে প্রাথমিকভাবে সে ইওরোপবিদ্য - না হলে সে ওখানে ঢুকতেই পেত না। দেখবেন আনন্দবাজারের যে কোন প্রকাশনার সেলেবদের ঘুরতে যাওয়ার অধিকাংশই ইওরোপ আমেরিকার মুগ্ধ বর্ণনা। ইওরোপবিদ্য হলে কি হয় আমাদের বামেদের আর অবাম-নবজাগরনীয় সুশীলদের দেখছি গত দুশ বছর ধরে চোখের সামনে। ঠিক যে রকম করে ইওরোপ ফোক আর ক্ল্যাসিক বিভেদ করে গাঁইয়াদের গণহত্যা (শারীরিক ও বৌদ্ধিক) করেছে, নিজেকে একবেদ্বিতীয়ম প্রকাশ করার জন্যে আর গাঁইয়ারা যতটুকুও আছে, বাঁচিয়ে রাখা আছে মিউজিয়াম পিস হিসেবে সরকারি ডোল মার্ফত। পাবলিক তাদের দেখতে যায়। এখানে বাংলায় আম লাখ টাকা মাইনে ওয়ালা মধ্যবিত্ত যেমন করে বছরে একবার চিড়িয়াখানা যায়, জাদুঘরে যায় ইত্যাদি, ঠিক তেমনি গ্রামেও ঘুরতে যায় কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে - ধান ঢেঁকি পুকুর গাঁয়ের মানুষ চাষা জেলে দেখায় তার পুত্র কন্যাদের। সে চাষ, গতরে খাটা গেঁয়ো গান করাকে দেখতে বুঝতে ভাল বাসে, কিন্তু এগুলিকে তার নিজের কৃষ্টি, তার নিজের মানুষ বলেই মনে করে না - নিজে করতে ঘেন্না করে, চাষা বলে গালি দ্যায়। এদের শিশু বলে মনে ক'রে। এদের ভালর জন্য সে তার মত করে সরকারে গিয়ে নীতি নির্ধারণ করে, উচ্ছেদ করে আবার পুনর্বাসনও করে নিজের পিঠ চাপড়ায়।
চন্দ্রিল এই তত্ত্ব প্রায়োগ করার গুটিকয় জগতের মানুষ। একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম, সে অসাধারণ গুরুত্ব সহকারে বলছে ইওরোপ সারা বিশ্ব থেকে কোন কোনভাবে এগিয়েছিল কত শত বছর ধরে। এক এক জনের নাম বলছে, এককটা সাহিত্য কর্ম বলছে আর ঐ বড় চোখ আরও বড় বড় করে ভাঙ্গা গলায় একটাই বিশেষণ দিচ্ছে 'ভাবা যায়!'।
ইওরোপ যা ভেবেফেলেছে সারা বিশ্ব ভাবতে পারে নি। এটা তার আর আনন্দবাজার আর আপনাদের প্রথম আলোর সারা জীবনের প্রতিপাদ্য, ওটা তার/তাদের সারা জীবনের কর্মও - ইওরোপ যে পদ্ধতিতে বাতকর্ম করেছে সে সে বা তার দল বা সেই অভিজাত গোষ্ঠী সেই পদ্ধতিতে সেই গন্ধে সেই আওয়াজে সেই কাজটা সারাজীবন গ্ল্যামার যোগ করে করে যাবে। যদিও সে এই ভিডিওতে মধ্যবিত্তকে গালাগালি করেছে কিন্তু এই স্বরে কথা বলেছেন মেকলের আগে থেকেই রামমোহন রায় দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রমুখ বিত্তওয়ালা মধ্যবিত্ত। ও তাদের আধুনিক চটকদার লব্জওয়ালা নবজাগরনীয় প্রতিনিধি।
তাকে নিয়ে সময় ব্যয় করলাম ঠিকই। কিন্তু চন্দ্রিল আমাদের পূর্বজদের সুমিষ্ট বায়ুকর্ম। এর বেশি কম কিছুই নয়। তাকে অত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ নাই।