Friday, August 23, 2019

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ফিরে আসবে দখল হয়ে যাওয়া দেশিয় উৎপাদন ব্যবস্থা

সে সময়টায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত ক্রমশঃ মিলছে।
{আমরা ধুয়া ধরার মত করে, বার বার কেন বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা জরুরি, সেটা বলে যাব। Somnath তাঁর লেখায় আমাদের ট্যাগ করেছিলেন। একটা সুযোগ পেয়েছিলাম, বলার বলেছি। এবারে সেটা আবারও আপনাদের সামনে তুলছি।}
এই (বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থার) মডেলই হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের বিশ্বকে বাঁচিয়ে এসেছিল - আগামী দিনেও এটাই ভরসা - ইওরোপ আমেরিকায় এখন অফ দ্য গ্রিড বাঁচার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে - আদতে আমাদের বিকেন্দ্রিত ব্যবস্থাকে তারা আপন করে নিচ্ছে - আমরা সেটাকে বাঁচিয়ে রেখেছি আজও - তারা যে জীবনযাত্রা হারিয়েছিল শিল্পায়নের সময় সেটাকে নতুন করে আনার চেষ্টা করছে একটু একটু করে।
আজও বহু কর্পোরেট ধাক্কা সত্ত্বেও সেই মডেল আজও আমাদের দেশে ক্রিয়াশীল, কিন্তু ইওরোপ আমেরিকায় যেমন বিকেন্দ্রিত অর্থনীতি/ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে কর্পোরেটরা জাঁকিয়ে বসেছে, এশিয়ায়, য়াফ্রিকায় অতটা পারে নি নানান কারণে। ফলে ২০০৮এর অভিজ্ঞতাতেই দেখি এশিয়া জুড়ে কর্পোরেট অর্থনীতিতে ধ্বস নামলেও ভারতে তেমন ধাক্কা লাগে না - যদিও চিদাম্বরম বা প্রণববাবু এতে ভারতীয় অর্থনীতির ফান্ডামেন্টালস হিসেবে দাদ দেন, কিন্তু আমরা যারা কারিগর - হকার ব্যবস্থা কাছ থেকে দেখি তাদের মনে হয়েছে তার বড় কারণ, গ্রামীণ, শহরের অপুঁজি বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা এই কর্পোরেট সাপ্লাই চেন, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত পুঁজির/উতপাদনের বাজার ইত্যাদির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। একটা কোনও বাজারে গোলোযোগ হলে অন্য বহু যায়গায় তার ধাক্কা লাগে না কারণ এগুলি পরম্পরের সঙ্গেও যুক্ত নয়। ফলে একটা বাজার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারলেও অন্য বাজারগুলো দাঁড়িয়ে থাকে তার মত করে, ফলে সেই পড়ে যাওয়া বাজারও ক্রমশ একটু একটু চেষ্টা করে করে দাঁড়তে পারে তার মত করে।
যেহেতু বিকেন্দ্রিত বাজারের বাজারের মূল চালিকা শক্তি পুঁজি বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র/প্রযুক্তি নয়, জ্ঞান, দক্ষতা আর তার নিজস্ব বাজার, যাকে কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, ফলে বড় পুঁজি প্রযুক্তি বদলে ফেলে যেভাবে বাজার শেষ করে দেয় - ভারতে/বাংলায় যেটা এমএসএমইতে হয়েছে - বাংলায় ৬০-৭০এর বড় পুঁজির শিল্পগুলি প্রযুক্তি বদলে ফেলায় বিপুল অনুসারী শিল্প বসে গিয়েছে বেলঘরিয়া ইত্যাদিতে - এই কারিগর অর্থনীতিতে সেটা সে করে উঠতে পারে না - কেন না কারিগরদের প্রযুক্তি আর কাঁচামাল নিজেদের - তাকে তুলো, শাঁখ বা ধাতু ছাড়া খুব বেশি জিনিস তার এলাকার বাইরের বাজার থেকে কিনতে হয় না, বিক্রিও করতে হয় না।
শহর বাঁচবে না, মধ্যবিত্ত বাঁচবে না। কিন্তু এখনও গ্রামীণ অর্থনীতি বেঁচে থাকবে তার মত করে যদিও কৃষিতে হাত চালিয়ে দিয়েছে কর্পোরেট। সেখানেও বিপুল নড়াচড়া চলছে। মহারাষ্ট্র আস্তে আস্তে বিটি থেকে তারা দেশি তুলোয় ফিরছে - ফলে বিটির যে ইকোসিস্টেম গত দেড় দু দশকে তৈরি হয়েছিল তা ধ্বংস হবে আগামী এক দশকেই। চাষীরা নিজেরা বিষ চাষের উৎপাদন খান না। অনেকেই দেশি চাষে ফিরিছেন।
এইভাবে আস্তে আস্তে ফিরে আসবে দখল হয়ে যাওয়া দেশিয় উৎপাদন ব্যবস্থা - বেঁচে থাকার ন্যুনতম চাহিদাগুলি পূরণ হবে দেশিয় অর্থনীতি থেকেই। অন্যকিছু ভেবে দেখা যাবে।



No comments: