Tuesday, June 21, 2016

দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - যদুনাথ সরকার

দশম অধ্যায়

৫। কারখানার শ্রেণীবিন্যাস
যাওয়াবিতে ছ’ধরণের মুঘল কারখানার উল্লেখ আছে
ক। পশু
১। ঘোড়ার আস্তাবল(পাগা বা আস্তাবলখানা)
২। হাতির আস্তাবল(ফিলখানা)
৩। গরুর গোয়াল(গো-খানা)
৪। উটের আস্তাবল(শুতারখানা)
৫। গাধার আস্তাবল(আস্তরখানা) তারিখইফিরুজসাহী এবং জাওয়াবিতে ভুল বানানে রয়েছে শের-খানা, মারাঠিতে শেরি।
৬। হরিণউদ্যান(আহুখানা)
৭। শিকারী পশুদের আস্তাবল(শিকারখানা)
৮। শিকারী চিতা আস্তাবল(চিতাখানা)
৯। বাজের জন্য হাতির দাঁতের কাজ(কুশখানা)
খ। ভাণ্ডার, বিভিন্ন স্থানের কাজ/পণ্য এনে যেখানে জড়ো করা হয়-
১০। সরকারি পরিচয়চিহ্ন(কুর-খানা)
১১। অস্ত্রখানা(শিলাখানা)
১২। পাল্কিখানা
১৩। চৌদলখানা
১৪। রাথখানা – এক ধরণের বাহনযন্ত্র
১৫। বহনযোগ্য সিংহাসন(তাখিইরাঁওয়া)
১৬। মোমদানি এবং বাতি(শামা আর চিরাগ)
১৭। মশাল
১৮। গ্রন্থাগার কিতাবখানা
১৯। চিনা তৈজস চিনিখানা
২০। খিলাতখানা – সম্মান জানানোর পরিধেয়র ভাণ্ডার
গ। কারখানা আর ভাণ্ডার
২১। ফরাস(ফরাসখানা)
২২। পোষাক বা গদি(তোষকখানা) ফিরুজের ইতিহাসে জমাদারখানা
২৩। বর্ম, জিন আর লাগাম(জিনখানা)
২৪। কিরকিরাকিখানা – ব্লখম্যান প্রথমে মানে করেছিলেন পোষাক, far of the supplex(মানে কি?)। তুজুকে বিভারেজ এই মানে মেনে নিয়েছেন। শেইখ, সুলেইমান এফেন্দির চাগাতাইওসমানি ওরটারবাখে বলছেন কিরকু মানে বাজপাখি। ফোর্বস হিন্দুস্তানি ডিক্সনারিতে লিখছেন, কিরকিরা মানে demoiselle crane, Ardea virgo. কিন্তু মিরাটইআহমদির লেখক তার সারাজীবন মুঘল সাম্রাজ্যের সুবার দেওয়ান হিসেবে কাটানোর অভিজ্ঞতায় লিখছেন, কিরিকিরাক মানে হল ‘সম্রাটের আজ্ঞাকৃত যে কোন রকম পোষাক, যেমন চিকনদজি, নাকাশি ইত্যাদি। যাওয়াবিতে কিরিকিরাকি মানে বলা হয়েছে পিরিচ আর পেয়ালার দপ্তর। জয়পুর প্রাসাদে এর মানে গয়নাতৈজস(জুয়েল্ডওয়ার) বিভাগ।
২৫। সম্রাটের যাত্রার সময়ের বিছানা এবং অগ্রিম তাঁবু(বিস্তরখানা আর পেশখানা)
২৬। শিশুদের পরিধেয়(রাখাওয়াত, রাখাতের ভুল বহুবচন)
২৭। খাওয়াএসের মত। যাওয়াবাত বলছে রাখাওয়াত বা ক। চিতা ধরার, খ। হাতি ধরার ফাঁদ, গ। হাভেলি ঘ। বারিষখানা বা মৌসুমি প্রাসাদ।
২৮। স্বর্ণকারদের দপ্তর(যারগারখানা)
২৯। কামারশাল(আহানগরখানা)
৩০। গয়নাভাণ্ডার(জোয়াহিরখানা)
৩১। সোনার তৈজস(তেলা-আলাত)
৩২। রূপোর তৈজস(নুক্রা-আলাত)
৩৩। খোদিত তৈজস(মুরাসা-আলাত)
৩৪। তামার তৈজস আর কড়াই।
৩৫। সোনার সূচিশিল্প(জারদোজখানা)
৩৬। হাতিরদাঁতের কাজ(জানদানইফিল)
৩৭। কড়ির কাজ(setting shells)(খতমবন্দীখানা)
৩৮। খুশবুখানা
৩৯। গোলাপ জলের দপ্তর
(যদি গোলাপ জলকে সাধারণ গন্ধদ্রব্যের দপ্তরে ফেলা হয়, তাহলে একে আমি পড়ব খালাওয়ান্ত-খানা বা রাষ্ট্রের বাজনাদারদের দপ্তর। যাওয়াবাত লেখার কিছু আগে এই দপ্তরকে ভেঙে দেন আওরঙ্গজেব)
৪০। তেল বা ঘি(রাউঘাঁ)
৪১। মিন্ট(দারউলজারব)
৪২। আঁকা(নক্সখানা বা তদবিরখানা)
৪৩। দাওয়াখানা বা শাফাখানা
৪৪। শাল
৪৫। গলবন্ধবুনন(চিরাবাফিখানা)
৪৬। ইলাকাবন্দিখানা(রেশমের দড়ি আর ফিতে তৈরি)
৪৭। কাপড়ের দোকান(কোঠা বা কুঠিইপরচা)
মিরাটইআহমদি সূত্রে কাথরাইপরচারূপে যা বলা হয়েছে তা আগের বর্ণনা থেকে লিছুটা আলাদা, এটি গুজরাটের অন্যতম রোজগার ছিল। কাপড়ের ওপর যে শুল্ক ধার্য হত, তা তার নাম মহলইসাদপুঞ্জ বা পাঁচ শতাংশ মানে তার রাজত্বে হিন্দুদের বিক্রয় কর ছিল ৫ শতাংশ, খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুরুতে আড়াই এবং পরে সাড়েতিন শতাংশ, এবং মুসলমানদের জন্য শূন্য।
(চলবে)
Post a Comment