Showing posts with label কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা. Show all posts
Showing posts with label কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা. Show all posts

Monday, July 23, 2018

বড়পুঁজির উৎপাদন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই - মৌলবাদী, প্রিমিটিভ, অনাধুনিক ছাপ পড়বে

আমরা বড়পুঁজির লুঠেরা, খুনি, অত্যাচারী, কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থার, দখলদারি জ্ঞানচর্চার অপচয়ী জীবনযাত্রার যতটা পারা যায় অংশ হতে চাই না।
কোন দর্শনের মূলানুগ থাকা যে খারাপ কাজ, কে দাগিয়ে দিল? মনে আছে স্যাটানিক ভার্সেসের বিতর্কের সময় মরহুম মুস্তাফা সিরাজ মশাই এই কথাটি দ্বর্থহীনভাবে জানিয়েছিলেন।আমার সমাজের জীবনধারণের উৎপাদন ব্যবস্থার মৌল দর্শনে যদি আমি দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করি, বড়পুঁজির লুঠেরা প্রযুক্তির উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গী না হই, তাকে মৌলবাদ, অনাধুনিক বলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে ভবিষ্যতে আরও হবে।
গত ২৫০ বছর ধরে যেভাবে আমাদের আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উপড়ে ফেলে, টেনে হিঁচড়ে, ভদ্রবিত্তের মত বড় পুঁজির দাস করার করার চেষ্টা হয়েছে, সেটাকে আমরা যতটা পারাযায় আটকানোর চেষ্টা করছি। আমাদের কয়েক হাজার বছরের অকেন্দ্রিভূর প্রযুক্তি, উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃষ্টি, দর্শনের অর্জনকে আধুনিকতা নানানভাবে প্রাচীনত্ব ইত্যাদি লব্জে দাগিয়ে দিয়ে লুঠেরা অত্যাচারী খুনি বৈচিত্র্যহত্যাকারী কেন্দ্রিভবনপুজ্য বড় পুঁজির অনুগামী করার চেষ্টা করে চলছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকাকে কেউ যদি 'আবদ্ধ' 'মৌলবাদ' 'পিছোনো' দাগিয়ে দেন, আমরা নাচার।
মুসলমান সমাজ সচেতনভাবে এই প্রচেষ্টাটা করছেন সেই ক্রুসেডের পর থেকে, এবং সেই লড়াই দিনের পর দিন আরও ঘনবদ্ধ হচ্ছে - ফলে তাদের শেকড়ে থাকার লড়াই অনেক বেশি পশ্চিমের রাজ অর্জন করেছে - তাই পশ্চিম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। তাঁদের প্রণাম। আমরা বাংলার শূদ্র-বৈশ্য-মুসলমান এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের কারিগর, চাষী, হকার আমাদের মত করে কর্পোরেট বিরোধী লড়াই দিচ্ছি।
ভদ্রবিত্তরা যে ধরণের জ্ঞান আর দক্ষতা চর্চায় আছেন গত ২৫০ বছর ধরে, সেটা মূলতঃ বড় পুঁজি প্রযোজিত, তাতেও কিছু মানুষ, সংগঠন তাদের মত করে ব্যতিক্রমীভাবে চেষ্টা করতেন বিকেন্দ্রিভূতভাবে কাজ করতে - আজ সেই জ্ঞানচর্চাকে সরাসরি গিলে খেয়েছে বড়পুঁজির বিনিয়োগ, ব্যতিক্রম আজ উপে গ্যাছে যাদের প্রধান উদ্দেশ্য শ্রম/মনুষ্য স্থাপনকারী যন্ত্র বানানো তাদের দাপটে। এই গোটা দাসত্ব প্রক্রিয়ার বাহন হল খুনি অত্যাচারী, লুঠেরা প্রযুক্তি আর লোভের কৃষ্টি বাহিত আধুনিকতা।
এই ব্যবস্থা আম-গ্রামীনদের জন্যে ছিল না, আজও নয়, ভবিষ্যতেও থাকবে না। একে ভদ্রবিত্ত প্রাচীনত্ব, মৌলবাদ দাগিয়ে দিলেও মেনে নেব। এডিবির ৪৫০তার প্রকল্পের মধ্যে ৪২০টার কাছাকাছি প্রকল্প হয় বন্ধ না হয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
কিন্তু বড় পুঁজি, তার দাসত্ব প্রকল্প আমার পরিচয় কেড়ে নেবার সব রকমের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীরা যে লড়াই শুরু করেছিলেন, আজ ভারতের নানান অঞ্চলে যে লড়াই চলছে সেটা চলবে। তাকে প্রগতিবিরোধী বলে আটকানো যাবে না।

Thursday, February 15, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থার ভবিষ্যত - বড় পুঁজি রাষ্ট্রীয় মদত ছাড়া কোন মৌলিক প্রযুক্তি/পণ্য বানিয়ে দেখাক

উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দুই নেতাArupsankarদা Rafiqদা ভাবছেন ১৭৫৭ হয়ত যাওয়া যাবে না। আমাদেরই মানিয়ে নিতে হবে। আমরা কোনোটাতেই কোন নিশ্চিন্ত জবাব দিচ্ছি না, শুধু কয়েকটা প্রতিক্রিয়া-
১) কখোনো কখোনো কোন কোন সময়কে মনে হয় অপরিবর্তনীয়। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বসে কেউ যদি বলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন, আর সিপিএম ৫০টার বেশি আসন পাবে না, বিলয় হয়ে যাবে বাংলা থেকে, পার্টি দপ্তরও খোলার মানুষ থাকবে না দলে, তাহলে তার মাথার সুস্থতা সম্পর্কে অবাম মানুষও সন্দিহান হত।
২) মানুষের ইতিহাস, বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা কম করে ১০ হাজার বছরের ইতিহাস। লুঠেরা কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা, মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি এসেছে আড়াইশ বছর, যা বিশ্বের ইতিহাসে মানব সমাজের বিকাশের তুলনায় কোন সময়ই নয়। বিকেন্দ্রিত ব্যবস্থা টিকে ছিল আজও আছে। আজও বলা যাচ্ছে না কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা আগামী দশ হাজার বছর টিকবে কি না। ব্যবস্থার জন্মদাতা ইওরোপ এই ব্যবস্থা থেকে সরতে শুরু করেছে; দূষণ নিয়ে তারা যে কড়াকড়ি করছে সে উদ্যম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া সময়ের অপেক্ষা। মানুষ অফ দ্য গ্রিড বাঁচতে চাইছে। বিষ চাষের মৃত্যু ঘণ্টা মোটামুটি বেজে গিয়েছে।
আমরা হয়ত এই ব্যবস্থায় এতই কন্ডিশনড হয়ে আছি যে এর বাইরে বেরোনো যায়, এটাই ভাবতে পারছি না।
এটাই মানসিকতা তৈরি হবে কম্পিউটার শিল্পে, যা আদতে সামরিক ব্যবস্থা চালাবার আর মানুষ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি, লক্ষ লক্ষ যুবক/যুবতী ছাঁটাই হবার পরে।
আর কয়েক দশক মাত্র।
৩) যে রাষ্ট্র পোষিত উতপাদন ব্যবস্থা রয়েছে তা সামাজিক বিকেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রতিযোগী মনে করে। তাকে টিকতে দিতে চায় না। কেননা বিকেন্দ্রিত উৎপাদন ব্যবস্থা তার গুণাগুণ সবার সামনে পেশ করেছে, কেন্দ্রিভূত উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে মুষ্টমেয়র হাতে, সুখের জন্য আর লুঠেরা খুনি সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্যে।
৪) আমরা ১৭৫৭র আগে যাব, না এই সময়টাকে ১৭৫৭ করে নেব, সেটা দ্যাখা যাবে। এটা প্রমাণিত বাংলার জোর বাংলার পরম্পরার প্রযুক্ত্‌ বাংলার পরম্পরার উৎপাদন ব্যবস্থা - তার আর্থিক পরিমানেই প্রমানিত। তাকে চাইলেও কর্পোরেট মারতে পারছে না।
৫) আমাদের শুধু ঘাটতি রয়েছে বিশ্ব বাজারে পৌঁছনোর - সেখানে পৌঁছতে পারলে ঠিকই আমরা কর্পোরেটদের মোকাবিলা করতে পারব - গ্রামগুলোকে মিলতে হবে - এটা কর্পোরেট চায় না - কেননা এই প্রক্রিয়ার সাফল্যে তাদের মৃত্যু ঘন্টা বাঁধা আছে।
আমরা রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া হাজার হাজার বছর বেঁচে ছিলাম, আছি থাকব। কর্পোরেটরা পারবে না। এটাই বাস্তব।
আজকে বাজারে উচ্চ প্রযুক্তি হিসেবে যা চলে তা মূলত সামরিক কারণে (উপনিবেশ তৈরি আর মানুষ মারার জন্যে) আর রাষ্ট্রীয়(মানুষকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্যে) তৈরি হয়। তারপরে সেগুলি পণ্য হিসেবে বাজারে আসে এবং উচ্চমুনাফায় বিক্রি হয়, কারণ তার গবেষণার খরচ রাষ্ট্রই জুগিয়েছিল মানুষের গাঁট কেটে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চালু একটা প্রযুক্তি আর তার পণ্য তারা রাষ্ট্রের(আদতে সামরিক) দয়া ছাড়া বানিয়ে দেখাক।
মেনে নেব।
আমরাই অতীত ছিলাম, আমরাই ভবিষ্যৎ হব।
এটাই বাস্তব।
সোভিয়েত, আমেরিকাকেও এক সময় অজেয় মনে হত।