Showing posts with label হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর. Show all posts
Showing posts with label হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর. Show all posts

Friday, September 7, 2018

আহকমইআলমগিরি১১ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবি - আওরঙ্গজেবএর খুব সাধারণ কবর)
তাঁর শেষ বয়সের বাড়তে থাকা রোগএর প্রকোপ ফেব্রুয়ারিতে তাকে আহমদনগরে আরও পেড়ে ফেলে, তিনি ৫-৬ দিন আরও যাত্রা করেন, পুত্রদের তাদের দায়িত্ব সামলাতে সুবায় পাঠিয়ে দেন। এর সঙ্গে প্রতিদিনের নামাজ এবং সাম্রাজ্যের নির্দেশ দেওয়ার কাজ চলছিল। কিন্তু ৯১ বছরের ভারাক্রান্ত জীবন অনেক ভার বয়েছে। এক দিন তাকে বিপুল জ্বর কাবু করে ফেলল। ২০ ফেব্রুয়ারি ১৭০৭ সালে কোরান পাঠ করতে করতে হাতে মালা ঘোরাতে ঘোরাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তার মৃতদেহ দৌলতাবাদ থেকে ছয় মাইল দূরে খুলদাবাদে পীর শেখ জইনুদ্দিনের সমাধির পাশে কবর দেওয়া হয়। খুব সাধারণ সমাধির ইচ্ছে তার ছিল। তাই হয়। ঔরঙ্গজেবের স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে ৮ অক্টোবর ১৬৫৭ সাল জেবুন্নেসা, আজম এবং আকবরের সন্তান ধারণ করার পর। তার দ্বিতীয় স্ত্রী, মহল, নবাব বাঈ, সুলতান আর মুয়াজ্জমের মা, কোনদিন আওরঙ্গজেবের স্নেহ পান নি, সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি কোন দিন তাঁকে নিয়ে পাশে বসান নি। তাঁর তিন স্ত্রীর(পরস্তার) মধ্যে হীরাবাঈ, যিনি তার যৌবনেই মারা যান, তাঁকে পাগলের মত ভালবেসেছিলেন। মেহেরুন্নিসার মা আওরঙ্গাবাদী ১৬৮৮এ প্লেগে মারা যান। কাম বক্সের মা এবং সম্রাটের শেষ বয়সের সাথী উদয়পুরী তার সিংহাসনে আরোহন করার পরে তার হারেমে ঢোকেন। শোনা যায় তিনি ককেসাসিয় দাস কন্যা – দারার উপপত্নী ছিলেন। দারার বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধর অবশেষ হিসেবে আওরঙ্গজেব তাঁকে পান। অন্য সূত্রে জানা যায় তিনি কাশ্মীরি ছিলেন। সেটাই হয়ত সত্য। কারণ মাশিরইআলমগিরিতে তাকে বাঈ রূপে সম্বোধন করা হয়েছে, যা হিন্দু মহিলার ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। তাঁকে আধুনিক লেখকেরা মেওয়ারের কন্যা হিসেবে কষ্ট কল্পনা করেছেন, যা সত্যি নয়।
সিংহাসনের লড়াই চলতে চলতে আওরঙ্গজেবের জৈষ্ঠপুত্র সুলতান, তার পিতার প্রিয় আমলাদের অধীনে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে সুজার কাছে পালিয়ে গিয়ে তার কন্যাকে বিয়ে করেন। কিন্তু কয়েক মাস পরে বাবার কাছে ফিরে আসেন। সে ভাগ্যহীন সেই সময় ২০ বছর বয়সী। বাবা তাকে সারাজীবন কায়েদ করেই রাখেন(মৃ ৩ ডিসে ১৬৭৫)।
দ্বিতীয় পুত্র মুয়াজ্জম/শাহ আলম, তার মৃত্যুর পর প্রথম বাহাদুর শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে আরোহন করেন ১৭০৭ সালে, বিজাপুর গোলকুণ্ডা অবরোধের সময় পিতাকে কুপিত করে নজরবন্দী হয়ে থাকে, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৬৮৭তে। তার উৎসাহ লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গেলে, তাকে বন্দীত্ব থেকে আস্তে আস্তে মুক্ত করা হতে থাকে মজাদারভাবে, এবং তাকে ১৬৯৫ সালের ৯ মে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রথমে পাঞ্জাবেরে সুবাদার পরে আফগানিস্তানেরও সুবাদার হন।
তৃতীয় শাহজাদা আজম মুয়াজ্জমের আসম্মানের সময় নিজেকে উত্তরাধিকারী(শাহইআলিজা) হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করান, কিছুট পিতার সম্মতিও পান। কিন্তু তিনি ছিলেন রগচটা, বেদম রাগী, নিজেকে সামলাতে পারতেন না।
চতুর্থ আকবর ১৬৮১তে বাবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। পারস্যে পালিয়ে গিয়ে ১৭০৪ সালে মারা যান। ভারতের খোরাসান সীমান্তে তার অবস্থান বহুকাল প্রসাসনের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শেষতমটি কাম বক্স, বাবার শেষ বয়সের উন্মার্গগামী, কাপুরুষ, বুদ্ধিহীন, সন্তান। জিঞ্জিতে খারাপ ব্যবহারের জন্যে তাকে আন্তরীণ করে রাখা হয়। তার সতভায়ের সঙ্গে দহরম মহরম করতে গিয়ে এবং এক নিবেদিত সেনানায়ককে হত্যা করতে গিয়ে আবার বন্দী হন। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তৃতীয় এবং চতুর্থ সন্তান পরস্পরের মারপিট করতে করতে মৃত্যুমুখে পতিত হন।

Thursday, September 6, 2018

আহকমইআলমগিরি১১ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবি - আওরঙ্গজেব শেষ বয়সে, ডুলিতে চড়ে)
শেষ এই অবরোধে, দেবপুরে তাকে বিষম রোগে কাবু করে ফেলল। রোগ এতই বেড়ে গেল যে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারছিলেন না। গোটা শিবির মুহ্যমান এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল – কিন্তু তার নির্দেশের অভাব ঘটল না। সকলেই ভাবছে কে তার নির্দেশগুলি পালন করবে। আর যদি সম্রাট মারা যান তাহলে কি হবে? সম্রাট হয়ত তার মৃত্যুর সময়টা ঘনিয়ে আসছে বুঝতে পেরেছিলেন তিনি সব্বাইকে বাহাদুরপুরে তাঁবু ফেলার নির্দেশ দিলেন(৬ ডিসে ১৭০৫)। সেখান থেকে তিনি আহমদনগরে যাবেন ২০ জানু ১৭০৬ এবং তার এক বছর পর মৃত্যু বরণ করবেন।
আওরঙ্গজেবের শেষ বছরটি অবর্ণনীয়ভাবে অসহ্য রকমের দুঃখজনক। জনগণ বুঝছেন তার পঞ্চাশ বছরের গণবজীবন ব্যর্থতার কাহিনী। পঞ্চদশ লুইএর সেই অমর বাণী আমার পরে সব ধ্বংস আওরঙ্গজেবের কথাতেও প্রতিফলিত হয় আজ - ম-স্ত হামা ফাসাদইবাকি। তার ব্যক্তিগত জীবনও প্রেমহীন এবং বিষণ্ণতায় ভরপুর শেষ বয়সে শান্তির খোঁজ এবং আশাহীনতা তার চারপাশে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। অব্যক্ত নিঃসঙ্গতা শেষ জীবনে তার হৃদয়কে কুরে কুরে খেয়েছে। এক কন্যা জিনাতউন্নিসা শেষ বয়সে তার পিতার পাশে পাশে থেকেছেন। তার ছোটরানী উদয়পুরীও তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। তিনি একজন পুত্র ছাড়া প্রত্যেককে কারাগারে অন্তরীন করেছেন কোন না কোন সময়ে। তার নিজের যৌবনের কাজের ফলে তার জীবিতকালেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল, তিনি যেমন সিংহাসন দখল করতে শাহজাহানের প্রতি আচরণ করেছিলেন, তাঁর পুত্ররাও কি তাঁর প্রতি সেই আচরণ করবে? শেষ বয়সে সর্বশক্তিমানের মারের ভয়ে তিনি সারা জীবন পুত্রদের তাঁর কাছ থেকে দূরে রেখেছেন, পুত্রদের কাছে রেখে তিনি মনে শান্তি পেতেন না। যখন তিনি আঁখি মুদবেন তখন রক্তের বন্যা বইবে, এবং তার পুত্ররা বিভিন্ন সুবার সম্পদ আর সেনা বাহিনী অবলম্বন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে তিক্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। মৃত্যুর পদধ্বনি শুনতে পেয়েই তাঁর পুত্রদের পর পর দুটি চিঠিতে তিনি তার মানসিক কাঠিন্য ভেঙ্গে পড়ার ইঙ্গিত, উদয়পুরীর ভালবাসা, তার জীবনের ব্যর্থতা, এবং মুসলমানেদের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে তাদের জীবন নষ্ট না করার কথা বলে গিয়েছেন। শোনা যায় তাঁর মৃতুর পর তার বালিশের তলা থেকে একটি কাগজ পাওয়া যায় যেখানে তার তিন সন্তানের মধ্যে সাম্রাজ্য শান্তিপুর্ণভাবে ভাগ করে দেওয়ার ইচ্ছে লেখা ছিল। ইতোমধ্যে মৃত্যু তার পরিবারে আঘাত করছিল। আওরঙ্গজেবের শেষ জীবিত ভাই বোনের মধ্যে গৌহররা(মার্চ ১৭০৬) মারা যান। তার মৃত্যুও এগিয়ে আসছে বুঝতে পারছিলেন। তার কয়েকজন নাতি, ভাইপো এবং কন্যাকেও তার কাছ থেকে মৃত্যু ছিনিয়ে নেয় শেষ বছরটিতে। মৃত্যুর পদধ্বনি শুনতে শুনতে তিনি এই হৃদরস্পর্শী কবিতাটা লেখেন
তুমি যখন ৮০ কি ৯০ বছরে পৌঁছবে
তখন সময়ের আঘাত তোমার জীবনে দেখতে পাবে
যখন তুমি একশ বছরে পৌঁছবে, তখন মৃত্যুর সঙ্গে জীবন মিলে যাবে
তিনি আরও লিখলেন –
এক মুহূর্তে, এক মিনিটে বা এক নিশ্বাসে
বিশ্বের অবস্থা বদলে যায়।

আহকমইআলমগিরি৯ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
এতক্ষণ মনে হচ্ছিল যে যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের জিত হচ্ছে, আদতে তার হারই লেখা শুরু চলেছে। এটা তার শেষের শুরু। এরপরেই আশাহীন এবং হতাশাজনক সময় শুরু হবে। মুঘল সাম্রাজ্য এতই বড় হয়ে গিয়েছে যে এটি কোন একজনের পক্ষে এক জায়গায় বসে থেকে শাসন করা অসম্ভব। আওরঙ্গজেব তার ক্ষমতার থেকে অনেক বেশি খাদ্য গলার্ধকরণ করে ফেলেছেন। তার পূর্বপুরুষদের অর্জিত সব কটি সুবা, নতুন বিজিত রাজ্যগুলি এবং একই সঙ্গে মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধ চালানো অবাস্তব কাজ হয়ে উঠল। তার চারপাশে শত্রুদের ব্যুহ তৈরি হয়ে গেল, তিনি শত্রুদের হারাতে পারেন ঠিকই, তাদের ধ্বংস করতে পারেন না। তার বাহিনী এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় সরে গেলে সেই শূন্যস্থান স্থানীয় রাজার বাহিনী দখল করে নেয় এবং আওরঙ্গজেবের আরব্ধ কাজ আবার শূন্যে পর্যবসিত হয়।
রাজধানী থেকে বহুদূরে সম্রাট যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় হিন্দুস্থানের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। স্থানীয় রাজা, জমিদারেরা আস্তে আস্তে নিজেদের নামিয়ে রাখা মাথা তুলতে থাকে। আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হতে থাকে, প্রশাসন স্লথগতি হয়। আগ্রা সুবায় নিয়মিত বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষণা কমে যাওয়ায় শিল্পকলা আর জ্ঞানচর্চা ব্যহত হতে লাগল। আওরঙ্গজেবের আমলে তার সময়কে বিবৃত করে কোন একটি মহৎ প্রাসাদ, সুন্দর লিখিত পাণ্ডুলিপি বা ছবি পাওয়া যায় না। দক্ষিণে শেষহীন যুদ্ধ মুঘল সিন্দুকে টান ধরায়। সরকার দেউলিয়া হতে চল্ল। সেনাবাহিনীর বেতন বহু কাল বাকি থেকেই যায়। বিদ্রোহ অবস্থা তৈরি হয়। তার রাজত্বের শেষ বছরগুলিতে তার বিশ্বস্ত দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খানের পাঠানো রাজস্বে সম্রাটের পরিবার এবং সেনাবাহিনীর বেতন হত। সম্রাট তার পাঠানোর রাজস্বের দিকে পথ চেয়ে বসে থাকতেন। প্রথম নেপোলিয়ান বলতেন স্পেনের ক্ষত আমায় ধ্বংস করল, তেমনি দাক্ষিনাত্য ক্ষত আওরঙ্গজেবকে শেষ করল।
আবার ফিরে আসি নির্ঘন্টে। প্রথমে কানাড়ার আদিবাসী, যাদের কথা কর্নেল মিডো টেলর লিখেছেন মনকাড়া স্টোরি অব মাই লাইফ গ্রন্থে, সেই বেরাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্থানীয় সেনানায়কদের পাঠানো হল। বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার মধ্যে এদের রাজধানী সাগর দখল করল মুঘল বাহিনী(২৮ নভেম্বর ১৬৮৭)। আদিবাসী প্রধান ঘন কালো পশুর মত দেখতে পিদ নায়েককে দরবারে আনা হল। ততক্ষণে সেই সমাজের অন্য আদিবাসী বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছে। মুঘলদের তাদের বিরুদ্ধে আরও দুটো বাহিনী পাঠাতে হল।

আহকমইআলমগিরি১০ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবি - শিবিরে ঝরোখায় আওরঙ্গজেব)
১৬৮৮র নভেম্বরে বিউবনিক প্লেগ দেখা দিল বীজাপুরে। রাজ পরিবার থেকে সাধারণ চাষী কেউই ছাড়া পেল না। সম্রাটের স্ত্রী আওরঙ্গাবাদী মহল, সদর ফয়জল খাঁ এবং যশোবন্ত সিংহের মিথ্যা ছেলেটিও মারল। কম করে হলেও এক লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
শম্ভুর গ্রেফতারের পর তার ভাই রাজারাম শ্বাসরোধকারী ঘটনায় জিঞ্জি (মাদ্রাজের দক্ষিণে আর্কটএ) দুর্গ থেকে পালায়। জিঞ্জি দুর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন সেনাপতি জুলফিকার খান নসরত জং এবং শাহজাদা কম বক্স (সেপ্ট ১৬৯০)। এটির পতন হয় ৭ জানু ১৬৯৮। দুবছর পরে মারাঠা শেষ রাজা রাজারাম মারা যায়। কিন্তু মারাঠা সেনাপতিরা মুঘলদের সঙ্গে চোরাগোপ্তা লড়াই চালিয়ে তাদের ব্যতিব্যস্ত এবং সম্ভাব্য প্রচুর ক্ষতি করতে লাগল। এই সময়ের দুজন প্রখ্যাত সেনা নায়ক দানা সিং জাধব এরবং শান্ত ঘোড়পাড়ে (পরে নানা সিন্ধিয়া) মুঘলদের প্রচুর ক্ষতি করতে থাকেন।
শেষ সময়
দক্ষিণে বিজাপুর এবং উত্তরে মঞ্জিরা নদী পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক বছর সেনাবাহিনী নিয়ে অভিযান করতে করতে ভীমা নদীর পূর্বে পান্ধারপূরের পাশে ব্রহ্মপুরীতে নিজের থাকা গাড়েন, এটির নাম দেন ইসলামপুরী ২১ মে ১৬৯৫। তাঁবু খাটানোর পর আস্তে আস্তে একটি দেওয়াল ঘেরা শহর গড়ে উঠল। যখন তিনি অভিযানে যেতেন, তখন তার পরিবার এখানে থাকত।
১৬৯৯ সালে তখন তিনি ৮১ বছরের, ইসলামপুরীতে চার বছর থেকেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে চললেন মারাঠা দুর্গ অবরোধে। এরপরে তার জীবনে পৌনপুণিকভাবে একই ঘটনা ঘটতে থাকে, তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সৈন্যক্ষয় করে, সময় নষ্ট করে একটির পর একটি দুর্গ জয় করতে থাকেন আর তিনি চলে যাওয়ার কয়েক মাস পরে অরক্ষিত দুর্বল মুঘল সেনা থেকে সেই দুর্গটা কেড়ে নেয় মারাঠারা। আবার এক বছর দুবছর পর একই দুর্গ সম্রাট দখল করতে যান! তার শিবিরের সেনা আর সেনাকর্তারা অস্বাভবিক এই কাজে কাদা পথ বেয়ে, ভর্তি নদী পেরিয়ে, ভাঙ্গা পাহাড়ি পথে উঠে যে মানসিক এবং শারীরিক কষ্ট করেছেন তা অবর্ণনীয়, পথে মালবাহক পালিয়ে গ্যাছে, পশু খিদেয় যন্ত্রনায় এবং অতিরিক্ত বোঝায় মরে গ্যাছে, এবং তার শিবিরে খাদ্যের বার বার অভাব দেখা দিয়েছে। কিন্তু আওরঙ্গজেব সিসিফাসের মত অটল এবং তাকে যদি কোন পরামর্শদাতা হিন্দুস্থানে ফিরে আসার কথা সাহস করে বলত তিনি তাকে ব্যঙ্গে ব্যঙ্গে ভরিয়ে দিয়ে বলতেন ডরপোক। আর সেনানায়ক নুসরত জং আর ফিরুজ জং, সুজাত খান আর মুহম্মদ মুরাদ খান, তারবিয়ত খান এবং ফাতুল্লা খানের পরস্পরের মধ্যে ঈর্ষা নেপলিয়নের সেনানায়কদের পেনিনসুলার যুদ্ধে ঈর্ষার কতাহ স্মরণ করিয়ে দ্যায়। ফলে সম্রাট যদি নিজে কোন অভিযান করে তাহলে কিছু হলেও হতে পারে, নাহলে সব শূন্য।
এই অবরোধগুলির ধারাবাহিক কাহিনী
বসন্তগড় ২২-২৫ নভ ১৬৯৯
সাতারা ৮ ডিসে ১৬৯৯ – ২১ এপ্রিল ১৭০০
পারলিগড়(সাতারার কাছে) ৩০ এপ্রিল – ৯ জুন
১৭০০ সালে খাওয়াসপুরে বর্ষার জন্যে শিবির পাতা ৩০ আগস্ট – ১৬ ডিসে
পানহালা ৯ মার্চ – ২৮ মে, ১৭০১, পানহালা দখল
১৭০১এ বর্ষার জন্য খাতানএ শিবির ফেলা ২৯ মে – ৭ নভে
ওয়ার্ধনগড় দখল (১৬ জুন ১৭০১), নন্দগির, চন্দন, এবং ওয়ান্ধন(৬ অক্টো) দখল করেন ফাতুল্লা খান
খেলনা ২৬ ডেসে ১৭০১ – ৪ জুন ১৭০২
১৭০২এর বর্ষার সময় কুচ করেন(১০ জুন – ১৩ নভ) খেলনা থেকে বাহাদুরগড়, মাঝে আগস্টে ভাদাগাঁওতে এক মাসের বিশ্রাম
কোণদানা ২৭ ডিসে ১৭০২-৮ এপ্রিল ১৭০৩
১৭০৩এ পুনায় বর্ষার জন্যে বিশ্রাম ১ মে – ১০ নভ
রাজগড় ২ ডিসে ১৭০৩ – ১৬ ফেব ১৭০৪
তোর্না ২৩ ফেব – ১০ মার্চ ১৭০৪
১৭০৪এর বর্ষার জন্যে খেডএ বিশ্রাম ১৭ এপ্রিল – ২১ অক্টো
ওয়াগিনগেরা ৮ ফেব্রু – ২৭ এপ্রিল ১৭০৫
বর্ষার জন্যে ওয়াগিনগেরার থেকে আট মাইল দূরে দেবপুরে ১৭০৫এ বিশ্রাম ১ মে ২৩ অক্টোবর

আহকমইআলমগিরি৮ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবিতে গোলকুণ্ডা দুর্গ অবরোধে আওরঙ্গজেব)
আওরঙ্গজেব হিন্দুদের যতটা ঘৃনা করতেন(যদিও তাঁর অধিকাংশ প্রজা হিন্দুই ছিল) ততটাই তিনি শিয়াদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন – যদিও তার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপুর্ণ উচ্চপদস্থ সেনানায়ক এবং আমলা শিয়া ছিলেন; তার দৃষ্টিতে শিয়ারা মুলত পাষণ্ড(রাফিজি)। তার এক চিঠিতে ইসপাহানে এক শিয়াকে খুন করে এক সুন্নির পালিয়ে যাওয়াকে উল্লেখ করে লিখছেন, যে সত্যের কাছাকাছি, যে সত্যবাদী, সে সর্বশক্তিমানের আশ্রয় পায়। আরেকটি চিঠিতে তিনি লিখছেন শিয়া-ঘাতক(রাফিজি-কুশ) নামে একটি খুকরি কত পছন্দ করতেন এবং একই নামে আরও কিছু খুকরি তার জন্যে বানিয়ে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তার চিঠিতে তিনি কখোনো অবমাননাকর বিশেষণ না বসিয়ে শিয়াদের নাম লিখতেন না, নরমাংসখেকো রাক্ষস (ঘুলইবায়াবানি), কাফের(বাতিল মাযাবান) ইত্যাদি তার খুব প্রিয় লব্জ ছিল। তার দরবারে উচ্চপদস্থ শিয়া আমলারা এমনই খারাপ সময় কাটাত যে তাদের সব সময় মুখমিষ্টি করে রাখতে হত। বিজাপুর আর গোলকুণ্ডার দখল করতে গিয়ে শিয়া শাসকদের ওপরে তিনি তার গোঁড়া সুন্নি মত চাপিয়ে দিয়েছিলেন। প্রধান কাজি সে সময়ের অন্যতম সত্যের সঙ্গে চলা মানুষ, শেখউলইসলাম পাদসাহের মুসলমানেদের মধ্যে যুদ্ধ লাগাবার কৌশলকে ইসলাম বিরোধী বলে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সৎ কাজির এই প্রস্তাবে আওরঙ্গজেব নাখুশ হন এবং কাজি পদত্যাগ করেন। ভবিষ্যতে সম্রাটের বার বার আহ্বান সত্ত্বেও তিনি আর কাজে ফিরে যান নি।
১৬৮৫ সালে ১ এপ্রিল বিজাপুরের অবরোধ শুরু করলেন শাহজাদা আজম এবং খানইজাহান বাহাদুর। সম্রাট যুদ্ধের কাছে শোলাপুরে(২৪ মে) থানাগাড়লেন। হঠাতই তীব্র দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেল, নতুন বাহিনী এবং খাবারদাবার এব সময়েই এসে পৌঁছল, যদিও মুঘল বাহিনীকে অভাব কখোনো পিছন ছাড়ে নি। নতুনভাবে উজ্জীবিত সেনা নিয়ে বেরাদ আর মারাঠাদের হারিয়ে দেওয়া গেল এবং অবরোধ আরও জোরদার হল। সেনাবাহিনী অসমবীরত্বে লড়াই করল। আওরঙ্গজেব শহরের বাইরে উপস্থিত হয়ে অবরোধের পরিবেশ নিরীক্ষণ করলেন(৩ জুলাই ১৬৮৬)। ১২ সেপ্টেম্বর শেষ আদিলশাহী রাজা সিকন্দর মুঘল বশ্যতা স্বীকার করলেন। রাজ্য দখল হল।
ইতিমধ্যে আরেকটা বাহিনী শাহজাদা মুয়াজ্জম বা সাহ আলম(২৮ জুন ১৬৮৫) গোলকুণ্ডায় পাঠানো হল, সম্ভাব্য বিজাপুরী হামলা রুখতে। এটি অক্টোবরে ধনীতম শহরগুলির অন্যতম হাদ্রাবাদ দখল এবং লুঠ করে। অযোধ্যার রাজা ওয়াজিদ আলি শাহের মত চরমতম ইন্দ্রিয়পরায়ণ সুলতান আবুল হাসান নিজেকে গোলকুণ্ডা দুর্গে বন্দী করে রাখেন। কিন্তু তার ব্রাহ্মণ মন্ত্রী মদন্না পন্থের ক্ষমতাবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ সেনানায়কেরা মুঘলদের দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছিল একটু একটু করে। ২৮ জানুয়ারি ১৬৮৭তে আওরঙ্গজেব স্বয়ং গোলকুণ্ডায় পদার্পণ করলেন এবং দুর্গ অবরোধ করলেন। প্রায় অপরাজেয় এই দুর্গেও মুঘল বাহিনী বিপুল অসুবিধেয় পড়ে। হায়দ্রাবাদে মন্বন্তর আঘাত হানে। ব্যপক বর্ষা আর ফুলেফেঁপে ওঠা নদী বয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আসতে পারছিল না। এবং এই আকস্মিক প্রাকৃতিক আঘাতে মুঘলদের ব্যাপক ক্ষতিও হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও মুঘল বাহিনী দুর্গের বাইরে থানাগেড়ে বসে রইল একটা বিশাল পাঁচিল তুলে, যাতে কেউ ঢুকতে বা বেরোতে না পারে। এতদ সত্ত্বেও গোলকুণ্ডা বাহিনীকে টলানো যায় নি। দুর্ভাগ্যবশতঃ কিছু সেনানায়কের বিশ্বাসঘাতকতায় ২১ সেপ্টেম্বর ১৬৮৭ সালে দুর্গের পতন ঘটে। রাজাকে টেনে হিঁচড়ে বার করে বিজাপুরে তার কারাগারে থাকা ভায়ের সঙ্গে থাকতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই রাজত্বকেও মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে জুড়ে নেওয়া হয়। দুবছর পরে সাহসী কিন্তু অসচ্চরিত্র শম্ভুজীর ওপর এক দক্ষিণী সেনানায়ক মুকররব খান আক্রমন করে গ্রেফতার করে তাকে সাম্রাজ্যের তাঁবুতে পশুর মত হাঁটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাচার করিয়ে মারে(১১মার্চ ১৬৮৯)। রাজধানী রায়গড় দখল করে(১৯ অক্টো) মা বোন, স্ত্রী, ভাই সক্কলকে বন্দী বানানো হয়। জৈষ্ঠপুত্র সাহুজীকে সোনার শিকলি দিয়ে বেঁধে রাজসভায় আনা হয়।

আহকমইআলমগিরি৭ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবিতে অজিত সিংহ)
কিন্তু আওরঙ্গজেব ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তিনি অজিত সিংহকে জাল রাজা ঘোষণা করলেন, এবং পথের অনাথ শিশু, যার নামটা খুব গুরুত্বপুর্ণ মহম্মদি রাজকে যশোবন্তের পুত্র বলে ঘোষণা করলেন। চির অনুগত জয়পুর ছাড়া সারা রাজপুতানা রাঠোর সিংহাসনে এই অজ্ঞান্তকুলশীলকে বসাবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ল। মহারাজা রাজ সিংহ অনাথের পক্ষে লড়লেন। যুদ্ধে উভরপক্ষের ক্ষয় ক্ষতি হতে লাগল। মহারানা অগম্য পাহাড়ে আশ্রয় নিলেন। শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেবের চতুর্থ পুত্র আকবর বিদ্রোহ করে(১৬৮১ জানুয়ারি) রাজপুতদের সঙ্গে যোগ দ্যায়। কিছু দিন আওরঙ্গজেব হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন; কিন্তু তার সুচতুর তীক্ষ্ণবুদ্ধি তাকে বাঁচিয়ে দ্যায় – তিনি আকবরের একটি মিথ্যা চিঠি রাজপুতদের দেখান, যার ফলে আকবরের বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, আকবর তার পরিবার, সম্পত্তি ইত্যাদি রেখে পালিয়ে যান, মারাঠা দরবারে, ভরসাপ্রদ দুর্গাদাসের সাহায্যে(মে ১৬৮১)। এর পরে রাজপুতেরা মুঘল বাহিনী ত্যাগ করে। এরপরে আর কোন প্রধান রাজপুত সেনাকে মুঘল সেনাবাহিনীতে দেখি না। তাকে বুন্দেলাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। আওরঙ্গজেবের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত রাঠোরেরা লড়াই চালিয়ে যায়। এই পর্যন্ত আওরঙ্গজেবের স্থিতিশীল উত্তরভারতের জীবন শেষ হল।
দাক্ষিণাত্যে আওরঙ্গজেবের শাসন
এরপরে ফলহীন ২৬ বছরের দাক্ষিনাত্য অভিযান ঘটল, মারাঠাদের সঙ্গে তিক্তযুদ্ধ করে স্বাস্থ্য নষ্ট করলেন, সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট হল, রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস হল। এই অভিযানে অংশনেওয়া প্রত্যেকেই আওরঙ্গজেবের ব্যর্থতা দেখলেন, মানসিকভাবে শ্রান্ত হয়ে পড়েও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রত্যেকেই তাঁকে শেষ পর্যন্ত সুরক্ষা দিয়েছেন, এবং এই সুরক্ষা পেয়ে তিনি আরও একবগগা হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত ৯০ বছরের বৃদ্ধ মানসিক বিপর্যন্ত হয়ে, অন্ধকারে তলিয়ে গিয়ে নিজের পরিবার আর সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে কবরের চির নিদ্রায় আশ্রয় নিলেন।
শিবাজীর পুত্র শম্ভু তার পিতার থেকেও অকুতোভয় ঘোড়সওয়ার এবং ফলাফলের দিকে লক্ষ্য না রেখেই কাজ করতেন। দাক্ষিণাত্যে যত সেনা বাহিনী পাঠানো হয়েছে বা শাহজাদা এসেছেন তারা তো বিজয় পানই নি, বরং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন এবং দক্ষিণের রাজাদের থেকে ঘুষ নিয়েছেন যুদ্ধ না করা জন্যে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ ঘোষনা করা ছাড়া আওরঙ্গজেবের আর কোন উপায় ছিল না। ৮ সেপ্টেম্বর ১৬৮১তে তিনি আজমেড় থেকে দাক্ষিনাত্যের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন – এর পরে তিনি জীবিত বা মৃত কোন অবস্থাতেই উত্তরভারতে ফিরে আসেন নি। আওরঙ্গাবাদে পৌঁছলেন ১৬৮২ সালের ২২ মার্চ। ১৬৮৩র ১৩ নভেম্বর তিনি আহমদনগরে পৌঁছলেন, যে শহরে তিনি তেইশ বছর পরে ফিরে আসবেন মরার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে। তার দুই পুত্র এবং কিছু অভিজাতকে বিজাপুর আর মারাঠাদের বিরুদ্ধে পাঠানো হল। বড় সংখ্যায় শম্ভুর দুর্গ আধিকৃত হলেও লাভের লাভ কিছু হল না। রামঘাট গিরিখাতে সাহজাদা মুয়াজ্জমের বাহিনী(সেপ্ট ১৬৮৩-মে ১৬৮৪) বিসাল ক্ষয়ক্ষতি করে ফিরে আসে।

আহকমইআলমগিরি৬ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
< আজ যে দলে দলে সিপিএম বিজেপি হয়ে যাচ্ছে সেটার ঐতিহাসিক কারণ ভদ্রবিত্তের চোরা মুসলমান বিদ্বেষ - শুধু বর্তমানের রাজনৈতিক হিংসা নয়। আওরঙ্গজেবের প্রতি এই ভদ্রবিত্তসুলভ একদেশদর্শিতার জন্যে এত দিন যদুনাথ সরকার লিখিত আওরঙ্গজেবের জীবনালেখ্য অনুবাদ করি নি। ৫এর দশক থেকে ভারতজুড়ে যে পাঠ্যপুস্তক রচনা করা হয়, তাতে ইওরোপের হাতে তৈরি এই চোরা ইসলামি বিদ্বেষের দৃষ্টিভঙ্গীর মারাত্মক ভাবে উপস্থিত ছিল। সাত-আটের দশকেও বাম আমলে যে পাঠ্য পুস্তক পড়েছি তাতেও এই বিদ্বেষের ধারনাটাও প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে - বর্তমানে এই অনুবাদটা করতে মানসিক নির্যাতন হচ্ছে খুব, তবু ঐতিহাসিক নথি করার জন্যে দাঁতে দাঁত চেপে কাজটা করছি। এর পরেই অড্রি ট্রুস্কের আওরঙ্গজেব - দ্য লাইফ এন্ড লেগাসি অনুবাদ করব।>
ইতোমধ্যে শুরু হল আওরঙ্গজেবের ধর্মান্ধতার দিকে যাত্রা। ১৬৬৯ সালের ১ এপ্রিল তিনি তার সেনানায়কদের নির্দেশ দিলেন বিধর্মীদের বিদ্যালয় এবং ধর্মস্থানগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যে। সন্ন্যাসী উদ্ধব বৈরাগীকে গ্রেফতার করা হল। ১৬৬৯ সালে কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মথুরায় বুন্দেলার রাজা বীরসিংহদেবের নিজের হাতে ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে তৈরি সর্বজনমান্য কেশব রাইএর মন্দির ১৫৭০ সালে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি হয়। “মন্দিরের মূর্তিটি আগরায় নিয়ে এসে, জাহানারার মসজিদের সিঁড়ির তলায় পুঁতে দেওয়া হয়” যাতে ধার্মিক মুসলমানের সেটিকে প্রতিনিয়ত মাড়িয়ে যেতে পারেন। এই সময়েই কাথিয়াবাড়ের সোমনাথ মন্দিরটিও ধ্বংস করা হয়। যারা সেইখানে তার পরেও পুজা করতেন তাদের পুজো করতে নিষেধ করা হয়। অগুন্তি ছোটছোট ধর্মীয় মন্দিরের ওপর আঘাত নামিয়ে আনা হয় তার সময়েই।
১৬৭৯-৮০ সালের রাজপুর যুদ্ধতে সোমেশ্বর মন্দিরের সঙ্গে উদয়পুরের তিনটি বৃহৎ মন্দিরের সঙ্গে সঙ্গে শুধু মাড়োয়ারেই ২৪০টা মন্দির ধ্বংস হয়। অধীনস্থ রাজ্য জয়পুরেই ৬৭টা মন্দির ভাঙ্গা হয়। ১৬৭৯সালের ২ এপ্রিল অমুসলমানেদের ওপর জাজিয়া কর বসে। গরীব মানুষেরা করের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করলে তাদের ওপরে হাতি ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য আরেকটি ১৬৯৫ সালের মার্চের ফরমানে বলা হয় “রাজপুত ছাড়া কোন হিন্দুই অস্ত্র বহন, হাতি, আরিবি পার্সি ঘোরা আর পালকি চড়তে পারবেন না”। “কলমের এক খোঁচায় তার প্রশাসনের সব হিন্দু আমলাকে বরখাস্ত করে দেওয়া হল।” মুসলমান ব্যবসায়ীদের চুঙ্গীকর তুলে দিয়ে হিন্দুদের এই কর দ্বিগুণ করে দেওয়া হোল।
এই ধর্মান্ধ কাজের ফলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে সেই আগুনটা রাজশক্তিকেই পোহাতে হয় এবং আওরঙ্গজেব এই বিদ্রোহের ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে যান একজন প্রকৃষ্ট ধর্মান্ধ শাসকের মতই। মথুরা এবং আগরা জেলায় বিশেষ করে গোকলা জাট(১৬৬৯) এবং নারোলএর কাছে সতনামি বা মুণ্ডিয়াদের(মে, ১৬৭২) বিদ্রোহ ধুমায়িত হয়ে ওঠে। এই ৫০০০ ঘাড় কেঁদো বিদ্রোহী চাষীকে এক্সটার্মিনেট করে দেওয়া হয়। শিখ গুরু তেগ বাহাদুরকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত না হতে চাইলে তার মুণ্ডচ্ছেদ করা হয়(১৬৭৫) প্রকাশ্যে, তার অনুগামীরা বিদ্রোহ চালিয়ে যায়।
এরপরে আওরঙ্গজেব তার সমস্ত নিরপেক্ষতার ঘোমটা খুলে রাজপুতেদের আক্রমন করেন। যোধপুরের মহারাজা যশোবন্ত সিংহ ১০ ডিসেম্বর ১৬৭৫ সালে সম্রাটের সেবায় আত্মাহুতি দেন। তৎক্ষণাৎ আওরঙ্গজেব মুঘল আধিকারিকদের পাঠিয়ে তার রাজ্য দখলের হুকুম দেন এবং কাজ তদারক করতে আর বিরোধীদের ভয় দেখাতে নিজেও অগ্রসর হন। পরের ফেব্রুয়ারি মহাজারার দুই স্ত্রী দুই পুত্র জন্মদেন লাহোরে। আওরঙ্গজেব যোধপুরের রাজসিংহাসন রাজার অপদার্থ নাতিকেকে ৩৬ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন এবং মহারাজার বিধবা আর তাদের সদ্য জন্মানো বাচ্চাকে ধরে নিয়ে হারেমে রাখার ব্যবস্থা করেন যতদিন না তারা পুর্নবয়স্ক হয়ে উঠছে। কিন্তু রাজপুত ইতিহাসে মহত্তম চরিত্রের অন্যতম দুর্গাদাসের প্রতি আনগত্যে বীরত্বব্যঞ্জক রাঠোড় সেনানায়কেরা যুদ্ধ করতে করতে প্রাণ বিসর্জন দেন। রাঠোর কুলপ্রদীপ শিশু অজিত সিংহকে মারোয়াড়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়(২৩ জুলাই ১৬৭৯)।

আহকমইআলমগিরি৫ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবিতে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শিবাজী পুত্র সম্ভাজীর বিচার)
আওরঙ্গজেবের উত্তরভারত শাসন
নতুন শাসক হয়ে ঔরঙ্গজেব দীর্ঘসময় ধরে তুলনামূলকভাবে শান্তি উপভোগ করেছেন। তার সিংহাসনে আরোহন করাকে ধন্যবাদ জানিয়ে যেতে মুঘল দরবারে ২২মে ১৬৬১তে পারস্য থেকে দূত বাহিনী আসে, বুখারা থেকে দৌত্য সম্মান আসে ১৯ নভেম্বর ১৬৬১, মক্কা, আবিসেনিয়া এবং আরব থেকেও দূত আসে। প্রত্যেক দৌত্য বাহিনীকে মুঘল রাজদরবারের পক্ষে বিপুল ঔজ্জ্বল্যে চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় আসা বার্নিয়ে, তাভার্নিয়ে এবং অন্যান্য ইয়োরোপীয় দূতেদের চোখ সেই ঔজ্জ্বল্য ধাঁধিয়ে যায়। ইতোমধ্যে ১২ মে থেকে ২৪ জুন ১৬৬২ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যর বিপুল অবনতি ঘটতে থাকলে তার নবতম আধিকৃত সিংহাসনে বসার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতের থাকে। কিন্তু সেরে উঠে সমস্ত অভিযোগকারীর মুখ বন্ধ করে স্বাস্থ উদ্ধারে কাশ্মীরে ঘুরতে গেলেন ১ মে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৬৬৩।
সাম্রাজ্যের অক্ষহৃদয়ে শান্তি বিরাজ করলেও সীমান্তে কিন্তু যুদ্ধ লেগেই রইল। উচ্চাভিলাষী, উদ্যমী সেনাআমলারা পাদশার সাম্রাজ্য ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করছিলেন সীমান্তে যুদ্ধ লাগিয়ে। বিহারের সুবাদার দাউদ খাঁ ১৬৬১র এপ্রিলে পালামৌ দখল করেন। বাংলার সুবাদার মীর জুমলা ১৯ ডিসেম্বর ১৬৬১ থেকে ১৭মার্চ ১৬৬২ পর্যন্ত প্রথমে কোচবিহার দখল পরে আসামের রাজধানী দখল করলেও বর্ষা, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদির প্রকোপে তার সেনাকে ধ্বংস করল এবং তিনি ৩১ মার্চ ১৬৬৩তে সুবার রাজধানী ঢাকায় ফেরার আগেই পথে মৃত্যু বরণ করেন। ২৬ জানুয়ারি ১৬৬৬ সালে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খাঁ পর্তুগিজ এবং বর্মি জলদস্যুদের কব্জা থেকে চট্টগ্রাম ছিনিয়ে নেন এবং বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চল সন্দ্বীপ দখল করেন। কাশ্মীর থেকে অভিযান চালিয়ে বৃহত্তর তিব্বতের রাজাকে ‘ইসলামে অন্তর্ভূক্ত’ করা হল নভেম্বর ১৬৬৫তে। সব থেকে বড় সাফল্য পেলেন জয় সিংহ শিবাজীর দুইতৃতীয়াংশ এলাকা এবং দুর্গ দখল করে নিয়ে(পুরন্ধরের চুক্তি ১১ জুন ১৬৬৫)। তাকে জয় সিংহ পাদশাহকে সম্মান জানানোর জন্য আগরা আসতে প্ররোচিত করলেন (১২মে ১৬৬৬)। সেই সুযোগে আওরঙ্গজেব অরাষ্ট্রনায়কচিতভাবে শিবাজীকে কারাগারে নিক্ষেপ করলেও শিবাজী ১৯ আগস্ট যেভাবে কারাগার থেকে পালিয়ে যান সেই গল্পটা এখন প্রায় লোককথা হয়ে উঠেছে। এটা সত্য যে ১৬৬৬র প্রথমার্ধে বিজাপুরে জয় সিংহের অভিযান সাম্রাজ্যের পক্ষে খুব বেশি কিছু লাভের হয় নি, বরং একে রাজ্য দখল না বলে হামলা, লুঠের জন্য অভিযান বলাই শ্রেয়।
তবে আফগান সীমান্তে ইয়ুসুফজাই আদিবাসী এবং তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে শুরু হওয়া লড়াই (১৬৬৭তে শুরু) জবরদস্তভাবে হয়েছিল। এই পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যুদ্ধকে বহুকাল ধরে টেনে নিয়ে যায়। একের পরে এক প্রখ্যাত মুঘল সেনানায়ক এই অঞ্চলে গিয়ে হাতপুড়িয়ে তাদের সুনাম নষ্ট করেছেন। শেষে “খাইবার দরজার পাহারাদার” হিসেবে স্বীকার করে ইয়ুসুফজাইদের বিপুল সাম্মানিক দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যকে শান্তি কিনতে হয়।
বিজাপুর এবং শিবাজীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতেই থাকে বহুবছর ধরে। প্রতিপক্ষ মুঘল সেনানায়কদের নিয়মিত উপঢৌকন দেওয়ায় তারা মন দিয়ে যুদ্ধ করত না, ফলে দাক্ষিনাত্যের রাজারা তাদের জমিন ধরে রেখেছিল। মুঘল পক্ষের এই অভিযানে কোন কিছুই সাধিত হয় নি। দাক্ষিণাত্যের মুসলমান রাজারা, মুঘলদের ভয়ে শিবাজীর সঙ্গে আঁতাত ক’রে শিবাজীর সম্পদ শক্তি, রাজ্য ক্ষমতা এবং সম্মান বাড়াতে সাহায্য করে। শিবাজী ৫৩ বছর বয়সে মৃত্যুর(৫ এপ্রিল ১৬৮০) আগে পর্যন্ত দাক্ষিনাত্যের সব থেকে বড় সামরিক শক্তি হয়ে উঠেছিলেন।

Wednesday, September 5, 2018

আহকমইআলমগিরি৩ - হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর

যদুনাথ সরকারের অনুবাদ
(ছবিতে যুবা আওরঙ্গজেব ও হীরাবাঈ)
এই সময়ে তার জীবনের একমাত্র প্রেমে পড়ার ঘটনা ঘটল। তিনি নর্তকী হীরা বাঈ জৈনাবাদীকে মামার হারেম থেকে উদ্ধার করেন। দেখামাত্র প্রেমে পড়ার এটাই সর্বোতকৃষ্ট উদাহরণ এবং প্রথম যৌবনে তিনি প্রেমে পড়ে প্রায় বাতুলের মত আচরণ করতে থাকেন। তাঁকে সন্তুষ্ট করতে ইসলামে দীক্ষিত তিনি মদ্যও পান করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই হীরা বাঈ মারা গেলে আওরঙ্গজেব বিষাদ সাগরে ডুবে যান। সেই তার প্রথম ও শেষ প্রেম।
তিনি দাক্ষিণাত্যের গোলকুণ্ডার উজির মীর জুমলাকে বহুকাল ধরে প্ররোচিত করে তার পক্ষে নিয়ে আসেন। ভারতে কাজ খুঁজতে আসা পার্সিদের মধ্যে যোগ্যতম আমলা ছিলেন মীর জুমলা। আওরঙ্গজেবের সুপারিশে শাহজাহান মীর জুমলাকে মুঘল আমলা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করিয়ে তাকে রাজকীয় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেন, ফলে মীরজুমলা বীজাপুরী সুলতানের রোষমুক্ত হন। মীর জুমলার পরিবার আর সম্পত্তি রক্ষা করতে আওরঙ্গজেব হায়দ্রাবাদ অভিযান করেন(২৪ জানুয়ারি ১৬৫৬); সুলতান গোলকুণ্ডায় আশ্রয় নিয়ে মুঘলদের সঙ্গে বিপুল ক্ষতি আর অসম্মানের চুক্তি সম্পাদন করতে বাধ্য হন। ২০ মার্চ মীর জুমলা আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যোগ দিয়ে দিল্লি পৌঁছলে তাঁকে ৭ জুলাই উজির পদে বৃত করা হয়, ১৭৫৭য় ১৮ জানুয়ারি দাক্ষিনাত্যে ফিরে তিনি আওরঙ্গজেবের বাহিনীতে যোগ দ্যান(মীর জুমলা নিয়ে বিশদে অসাধারণ কাজ করেছেন জগদীশ নারায়ণ সরকার – এই বইটিও আমি অনুবাদ করি – এটির একাংশ থেকে সে সময়ে বাংলা আর আসামের ছবি পাওয়া যায়)।
আওরঙ্গজেব গোলকুণ্ডায় অপ্ররোচিত হামলা করার পরে পালিয়ে থাকা সুলতান আদিল শাহ মৃত্যু বরণ করলে তিনি শাহজাহানের অনুমতিক্রমে বিজাপুর জানুয়ারি ১৬৫৭তে আক্রমন করে ২৯ মার্চ বিদর এবং ১ আগস্ট কালিয়ানি দুর্গ অধিকার করে আরও বড় এলাকা দখল করার প্রস্তুতি নিতে নিতেই উপমহাদেশের রাজনৈতিক রং পরিবর্তন ঘটে গেল।
পাদশাহ শাহজাহান ৬৬তম বর্ষে পদার্পণ করলে ক্রমশঃ দ্রুত স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়তে থাকে। তাঁর বড় ছেলে এবং তাঁর সঙ্গে সময় কাটানো দারাশুকো মূলত মুঘল প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন। আওরঙ্গজেবের নেতৃত্বে বিজাপুর দখলের জন্যে অতিরিক্ত যে বাহিনী পাঠানো হল, তাকে তুলে নেওয়া হল এই যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দেখিয়ে যে বিজাপুরের সুলতান, পাদশাহের আশ্রয় ভিক্ষা করেছেন, এবং তার শান্তির জন্য তিনি তার রাজ্য এবং বিপুল সম্পদ পাদশাহর পায়ে দেবেন প্রতিশ্রুত হয়েছেন। ফলে বিজাপুরের জন্যে বাহিনীর প্রয়োজন নেই। প্রথমত বিজাপুরের সুলতানকে চুক্তির শর্তে রাজি এবং সেটি দীর্ঘ সময়ের জন্য মানতে বাধ্য করাতে বড় বাহিনী তার চোখের সামনে রাখা জরুরি ছিল, আওরঙ্গজেবের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসল – তাঁর জয়ের ফল উপভোগ্য হল না। দ্বিতীয়ত তার আরও রাজ্য জয়ের পরিকল্পনাও এর ফলে বিপর্যন্ত হল।
সিংহাসন দখলের যুদ্ধ
৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শাহজাহানের স্বাস্থ্য খুব ভেঙ্গে পড়ে। কেউ কেউ তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রায়। দারা পাদশাহের সঙ্গে দিন রাত এক করে সেবা করা ফাঁকে ফাঁকে সিংহাসন দখলের দিকে এগোনোর কাজে নিজের অবস্থান দৃঢ করতে লাগলেন। তিনি ডাকবাহকদের রাস্তায় নামা বন্ধ করে দিলেন এবং ভায়েরা যাতে দিল্লির দরবারের কাজ কর্মের কোন খবর না পায় সে ব্যবস্থাও করলেন। তার এই হঠকারী পদক্ষেপে সে সময়ের ঘটনা দ্রুত দারার হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে শুরু করে। সারা দেশজুড়ে গুজবের পর গুজব দাবানলের মত ছড়াতে থাকে; জনগণ ধরেই নেয় দিল্লিতে সম্রাট মৃত। সুবাগুলির আমলারা প্রশাসনিক কাজ ছেড়ে সিংহাসনে কে যাবেন তাই নিয়ে ঘুটি সাজাচ্ছেন। দেশজুড়ে স্বাধীন হতে চাওয়া রাজারা দুষ্কৃতিরা শাস্তির ভয় না থাকায় আইনভাঙ্গা শুরু করলেন। মুরাদ গুজরাট আর সুজা বাংলা সুবা থেকে নিজেদের পাদশাহ ঘোষণা করলেন।
বেশ কিছুকাল মানসিক চাপ এবং অবসন্ন থাকার পর সিংহাসন দখলের খেলায় পা দেওয়ার স্থির সিদ্ধান্ত নিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি দারাকে ইসলাম ত্যাগী ঘোষনা করলেন তার কবল থেকে সম্রাটকে উদ্ধার করতে। আর মুরাদ বক্সের সঙ্গে সিংহাসন দখলে জোট সঙ্গী হলেন কুরান শপথ করে পাঞ্জাব থেকে পশ্চিমের এলাকার দখল দেওয়ার শর্তে।