Showing posts with label লকডডাউন. Show all posts
Showing posts with label লকডডাউন. Show all posts

Saturday, April 11, 2020

পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরা মানুষেদের সিদ্ধান্তের ওপরে নির্ভর করছে পুঁজির প্রাণ ভোমরা

পুঁজিবাদের হাতিয়ার করোনা প্রয়োগ করে এই বিপুল মন্দা থেকে পুঁজিকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করছিল। এই পরিকল্পনায় গোচনা ফেলে বিপুল সংখ্যায় কর্মজীবিরা শহর ছেড়ে পরিবার নিয়ে বাসস্থলে ফিরে গিয়েছেন। শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার বিপুল জনস্রোত তৈরি হবে সেটা যতদূরসম্ভব পুঁজি এবং পুঁজির পাহারাদারদের সুদূরতম ভাবনাতেও ছিল না বলেই মনে হয়। এই মানুষদের নিয়ে কী করা যায়, সে ভাবনায় তারা দিশাহারা ছিল।পুঁজির সঙ্গে জুড়ে থাকারা তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করেছে। এই দুর্ব্যবহারের নিন্দা করছি। পুঁজি মূলতঃ শ্রম বিরোধী। তারা চেষ্টা করছে শ্রম প্রতিস্থাপন করতে। পুঁজির এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি। শ্রমিক ছাঁটাই পর্বও তৈরি। কিন্তু এই পরিকল্পনা হয়ত মার খাবে শ্রমিকদের মাস এক্সোডাসে। কারণ এআই রূপায়ন করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। শ্রমিকের যথেষ্ট সরবরাহ না থাকলে কারখানা চলবে কী করে?
এই মানুষেরা কী করবেন?
এই যে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে চলে গেলেন, সেই শহর ছাড়াটা পুঁজির বর্তমান কাঠামোর ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার। আমরা যারা পুঁজি নিরপেক্ষ সঙ্গঠন করি, তাদের কাছে এই বিপুল মানুষ কী করবেন, সেটা জানতে বুঝতে খুবই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছি।
পরিবার নিয়ে শয়ে শয়ে কিলোমিটার হেঁটে আসা মানুষদের একাংশও যদি গ্রামে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পুঁজি অশনিসংকেত দেখবে।
গ্রামের অর্থনীতিতে বদল আসবে।

Friday, April 10, 2020

লকডডাউন - একটা পর্যালোচনা

আমি বা আপনি কেউ বিশেষজ্ঞ নই - সেটা আমাদের জোর। কিন্তু আমাদের সব থেকে বড় সম্পদ হল আমরা তাত্ত্বিক জ্ঞান নয় সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করি। আমরা নিজের এলাকা ছাড়াও সংগঠন করি বলে বৃহত্তর বাংলার মানুষের সঙ্গে কথা বলি আর ইতিহাস চর্চা করি।
১) এই মুহূর্তে কোনও সরকারের সঙ্গেই কথা বলে কোনও লাভ নেই। পুঁজি এখন নতুন একটা ফেজে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। মানুষ ছাড়া, খুব বড় কাঠামো ছাড়া কারখানা, দপ্তর চালাবার জন্যে পুঁজি তৈরি। সে শ্রমিক ভয় পায়, ঘেন্না করে। তাকে তাড়াবার জন্যেই শ্রম প্রতিস্থাপনকারী যন্ত্রের উদ্ভব গোটা ১৭০০জুড়ে, কাজে লাগল ১৭৮০তে। তার জন্য বাংলাকে লুঠ বাঙ্গালিকে প্রাণ আর আফ্রিকাকে শ্রম দিতে হয়েছে।
২) সেই শ্রম প্রতিস্থাপনকারী ভাবনা আজ নতুন উচ্চতায় পৌছেছে। যে কাপড়ের কল চালাতে ৫০ বছর আগে ৩০০ একর জায়গা লাগত, আজকে ১০ বাই ১০ ঘরে সেটিকে চালানো যায়।
৩) মিতসুবিশি, বোয়িং ইত্যাদির তৈরি আগামীর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ন্যানো টেকনোলজি দিয়ে উৎপাদন এবং সেবা দানের কাজটা চালাবে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে বহু বহু মানুষকে তার ছাঁটাই করতে হবে। বহু অর্থে কয়েক কোটি - যত লোক ছিয়াত্তর আর বিয়াল্লিশে মারা গিয়েছিল তার ২০/৩০ গুণ।
৪) তার সঙ্গে ছোট ছোট ব্যবসা, যাকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। রাজনৈতিকভাবে তার ছাঁটাই করা সমস্যার। তার লভ্যাংশ মার খাচ্ছে। ভোট আছে - আমরা চিন নই। পথ করোনা।
৫) যেমন আমাদের প্রতিবাদী বন্ধু Debajyotiর মুড়ির কারখানা। এটা সাধারণ মানুষের পরম্পরার খাদ্য ব্যবস্থার অংশ। তার সঙ্গে আরও কয়েক হাজার ব্যবসা থাকলে সাধারণ মানুষের তার উৎপাদন কাজে লাগে সকালের বা অবসরের খাওয়ার জন্যে। যন্ত্রতে আর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা দীর্ঘকাল ধরে প্যাকেটে রাখা খাবারের বাজার বাড়ানোর কাজ কিছুটা হলেও আটকাচ্ছে। সরকারের পক্ষে তাদের রাজনৈতিকভাবে উচ্ছেদ করা অসম্ভব। তাই সরকারের একটাই উদ্দেশ্য যতটা পারা যায় লকডডাউন কার্যকর করে তার মত ছোট ছোট কর্পোরেট বিরোধী ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা।
৬)ছাঁটাই ছাড়া লকডডাউনের অনেক লাভ কর্পোরেটদের ভর্তুকি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে গেল। একটাই কথা হবে মাল কী করে বেচব জানি না - সাহায্য দাও। যন্ত্র বসাব - টাকা দাও। বাজার বাড়াব টাকা দাও।
৭)ইতিমধ্যে স্টেট ব্যাঙ্ক সুদের হার কমিয়েছে - ব্যাঙ্ক মার্জার করেছে।জনপ্রতিনিধিদের ৩০% ভাতা কেটেছে, বিজেপির সদস্যদের থেকে মহিলাদের গয়না চেয়েছে। এই আবহাওয়ায় পাবলিকের মাইনে কাটার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে আইন করেও টাকা কাটা হতে পারে।
এটা কর্পোরেটের উইন উইন সিচুয়েশন।
বিপুল মন্দা থেকে কোনও রক্ত না ফেলে উত্তরণের যায়গা তৈরি হল।
--
৮) কিন্তু সব থেকে বড় সমস্যা দাঁড়াল কয়েক লক্ষ ছোটলোক শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া। এটা তারা আন্দাজই করতে পারে নি। এ আই লাগু করতে গেলেও সময় লাগবে, অন্তত এক দেড় দশক। কয়েক লক্ষ পরিবার শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া এবং তাদের সক্কলকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা পুঁজির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এটাই তাদের এখন মাথা ব্যথা।

Wednesday, April 8, 2020

লকডাউনে ক্রাফটটাউনে পরিরা

ভবিষ্যদ্রষ্টা শিবরাম পরিষেবার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন পরিদের দেওয়া সেবা, যে সেবা কোনও দিন কোনও মানুষ পায় নি।
---
পরি গ্রামীণ নেটওয়ার্ক তৈরি করা এই মানুষটার ওপর সমস্ত শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এরা সক্কলে ওপরে ওপরে এবং বড় পুঁজির তৈরি করে দেওয়া মধ্যবিত্ত দৃষ্টিতে কারিগরদের দেখেন। এই ব্যবস্থার মূল অর্থনীতি বোঝেন না, এই সম্ভাবনা বোঝেন না, সমস্যাটাও বোঝেন না। সবাই কারিগরি বলতে এমএসএমই বোঝেন; সেটা আরও বড় সমস্যা।
মোদি বা লকডাউনের ওপর এই ব্যবস্থার অর্থনীতিটাই নির্ভর করে না। সে অতীতে ছিয়াত্তরের গণহত্যার সময় তিন বছর একটানা কাজ করতে পারে নি, তাতে কিন্তু তার ব্যবস্থাটা মুখথুবড়ে পড়ে নি।
আদতে যে ইকো সিস্টেমটা তৈরি হয়েছিল কয়েক হাজার বছর ধরে, সেটার মূলেই আঘাত এসেছে আজ থেকে শতখানেক বছর আগে। আগে কারিগরি ছিল আড়ং ভিত্তিক। আজ কর্পোরেটেদের একাংশ এই উৎপাদন ব্যবস্থায় নাক গলিয়েছে। তাই অতীতে যে ভাবে কারিগরেরা টিকে থাকতেন, নানান দুর্যোগের সময়েও পরস্পরের হাত ধরাধরি করে একে ওপরে ওপর নির্ভরশীল হয়ে, আজ জেদ ধরে যারা পড়ে আছেন, তারা আর পারছেন না, কারণ এই উৎপাদন ব্যবস্থাটা পুরোপুরি ধসে না পড়লেও শৃংখলটার কয়েকটা আংটা অকেজো হয়ে গিয়েছে।
---
পরীর কাজটা একাডেমিক ও ফিল্ড এক্সসাএসাইজ হিসেবে ভাল, পিঠচাপড়ানি পাওয়ার মত। গবেষকের আরও বৃহত্তরভাবে কাজের ফান্ডিংও আসতে পারে।
কয়েকজন হাতে গোণা মানুষ বাদ দিলে ভদ্রবিত্ত জগত থেকে আসা কেউই কারিগরি অর্থনীতি খুব একটা কেউ বোজেন না, তিনি খরা দাও ঈশ্বরের লেখক হলেও নয়।

https://ruralindiaonline.org/articles/locking-down-craft-handmade-hung-out-to-dry/?fbclid=IwAR31t-XFyMFtAi5NVba6I-BQiticFO9cp5CXya9bGWhLBhvy44PNXWTyNqs