Showing posts with label Nabob. Show all posts
Showing posts with label Nabob. Show all posts

Tuesday, July 4, 2017

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা২৪ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

ওর্মের থেকে অখ্যাত এবং তার মত বুদ্ধিমানও নন এমন আরেক ইঙ্গ-বঙ্গ ঐতিহাসিক হলেন কর্নেল আলেকজান্ডার ডাও। তার ব্যক্তি জীবন সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায় না। জনশ্রুতি বলে কোন কিছু দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাকে স্কটল্যান্ড ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। বেঙ্কুলিনে সাধারণ নাবিক হিসেবে যান এবং সেখানে গভর্নরের সচিব হিসেবে কাজ করেন। তারপরে তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়। আমরা জানছি যে ১৭৬০ সালে তিনি দ্বিতীয় লেফটান্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন ন’বছর পরে লেফট্যান্যান্ট-কলোনি হন এবং বগোলপুরে ১৯৯৮এ মারা যান।

১৭৬৮ সালে তিনি দীর্ঘ ছুটি নিয়ে ইংলন্ডে আসেন। সে সময় লন্ডনে প্রকাশিত হয় তার হিস্টোরি অব হিন্দোস্তান। তারপর সেটিকে আরো বড় করে লেখা হয়। ভারতে ব্রিটিশদের কাজ বিষয়য়ে তিনি সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করেছেন তার বইতে। জোসেফ প্রাইস তার চটি দ্য স্যাডল পুট অন দ্য রাইট হর্সএ অভিযোগ করেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের নানান কুসংস্কারের জন্য ডাওএর বইটা দায়ি।

তার সাফল্যতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ডাও নাটক লেখতে মনস্থ করেন। তার দুটি নাটক ডুরি লেন থিয়েটার প্রযোজনা করে – একটি তাতার ট্রাজেডি জিগনিস – সীমিত সাফল্য পায় ১৭৬৯ সালে। তার নায়ক জিঙ্গিজ খানকে আজকে আমরা চিনি চেঙ্গিজ খান হিসেবে। প্রস্তাবনার শেষ কবিতাটি ছিল
সাচ ইজ দ্য সাব্জেক্ট – সাচ দ্য পোয়েটস থিম/
ইফ আ রাফ সোলজার মে আজিউম দ্যাট নেম;/
হু ডাজ নট অফার য়ু ফ্রম ফ্যান্সি স্টোর/
ম্যানার্স এন্ড মেন – অন ইন্ডিয়াজ বার্নিং শোর,/
ইন ওয়ার লাইক টয়েলস, হি পাসড হিজ য়ুথফুল ইয়ার্স/
এন্ড মেড দ্য তাতার, ইন দ্য শেরিফ অব দ্য স্পিয়ার্স,/
বাট দাউ হি লিভড আমিসট দ্য ক্যানন রোর,/
থান্ডার লাইক য়োর্স হি নেভার ফেসড বিফোর,/
লিসন ইন্ডালজ্যান্ট টু হিজ আর্টলেস স্ট্রেন,/
নর লেট আ সোলজার, কোয়ার্টার আসক ইন ভেইন।

“আর্টলেস স্ট্রেন” একটা গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। ট্রেজেডি হিসেবে কিছুটা হলেও তার বর্ননার সঙ্গে মিলে যায়। এর গল্পটি হল একটি গ্রাম্য নায়িকা দুঃখের মধ্যে প্রাণত্যাগ করে এবং তার পিতা আর ভাই লহড়াই করে জীবন শেষ করে।

অন্যটি হল সেথোনা, অতীতের মিশর বিষয়য়ে একটি গল্প। ১৭৭৪ সালে গ্যারিক এটি মঞ্চস্থ করেন। তিনি প্রচুর খরচ করেন এটি মঞ্চে আনতে কিন্তু এটি মাত্র ন দিন চলেছিল।

আইলিস আরউইন ১৭৫১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। বাবা জেমস, আইসিএস, এসেছিলেন আয়ার্ল্যান্ডের রসকমন থেকতাকাইলিসকে শিশুকালে লন্ডনে পড়াতে পাঠানো হয়। প্রথমে চিজউইকে রোজের কাছে তারপরে লন্ডনে কোম্পানিতে চাকরির জন্য পড়াশোনা করতে থাকেন। ১৭৬৭তে তিনি মাদ্রাজে রাইটার হিসেবে আসেন। লর্ড পিগোকে ইংলন্ডিয়রা উচ্ছেদ করার সময় তিনি পিগোর পাশে থাকায় দশ বছর পর তাকে ইংলন্ডে পাঠানো হয়। তার ভ্রমন কাহিনী আ সিরিজ অব আডভেঞ্চার্স ইন দ্য কোর্স অব আ ভয়েজ আপ দ্য রেড সি, অন দ্য কোস্টস অব এরাবিয়া আন্ড ইজিপট, এন্ড অব আ রুট থ্রু ডেহার্টস অব থেবাইস ইন দ্য ইয়ার... এর তিনটি সংস্করণ হয় এবং ফরাসী ভাষায় অনুদিতও হয়।

মাদ্রাজে তিনি কবিতাও লিখতেন। ১৭৭২ সালে আ পোয়েম রিটন বাই আ জেন্টলম্যান ইন ইন্ডিয়া লেখা শেষ হয়, প্রকাশিত হয় লন্ডনে ১৭৭৪এ। তিনিটি পর্বে চল্লিশ পাতায় তিনি ভারতকে বর্ননা করতে চেয়েছেন - মোর্ন, ব্রিটন্স!,মোর্ন এন আক্ট য়োর ল’জ অর্ডেইন/
ওয়ানস ফিল ইনফিরিয়র টু ইন্দিয়ান সোয়াইন.../
দ্য হেয়ার, দ্য প্যাট্রিজ, অর দ্য স্টেটিলি ডিয়ার,/
ইজ হিজ ইন কমন উইথ দ্য চিচেস্ট পিয়ার।

Monday, July 3, 2017

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা২১ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)
{সেসময় পৃথিবীর চারটে শহর ছিল বিশ্ব হিরে ব্যবসার কেন্দ্র – গোয়া, আমস্টার্ডাম, লিসবন আর লন্ডন। হিরে ব্যবসা কোম্পানির একচেটিয়া সনদের বাইরে ছিল। আমলা আর ইন্টারলোপার্সদের লন্ডনে তাঁদের ব্যবসা উদ্বৃত্ত লাভ পাঠাবার একটা সাধারণ পদ্ধতি ছিল গোয়ার হিরের বাজার থেকে হিরে কিনে লন্ডনে পাঠানো – সেটি কোম্পানির ভারতে ব্যবসার প্রথম যুগ থেকেই ঘটত – মোগল যুগে হিরের বিপুল ব্যবসায়ী ছিলেন ঔরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা – তার নিজেরই ২২টা খনি ছিল। কিন্তু পলাশীর পরে গোয়া থেকে এই ব্যবসা অচিরেই মাদ্রাজে সরে আসে।
কোম্পানির বড় আমলারা যেমন টমাস পিট(প্রধানমন্ত্রী উইলয়ম পিটের ঠাকুর্দা) ১৭০২ সালে মাদ্রাজ থেকে তাঁর ব্যবসা উদ্বৃত্ত অর্থ ২৪ হাজার পাউন্ড  - তখনকার দিনের ২০ লক্ষা টাকা তিনি রোজগার করেন গভর্নরগিরি করে। সেই পরিমান কত ছিল একটা অনুমান করা যাক - তার ১০০ বছরেরও বেশি পর ১৮২০ সালে মূল্যবৃদ্ধির কলকাতায় মাসে ২ টাকা রোজগার করে নিজেকে স্বচ্ছল ভাববেন ঠাকুরদাস, বিদ্যাসাগরের বাবা -  হিরে কিনে লন্ডনে পাঠান। তার পর থেকেই লন্ডনে তাঁর ডাক নাম হয়ে যায় ডায়মন্ড পিট। কিন্তু হিরে বা কোম্পানির ব্যবসার বাইরে থাকা অন্যান্য লাক্সারি দ্রব্য কিনে পাঠানো খুব ঝুঁকির কাজ হয়ে যেত কেননা এই বাজারটা নিয়ত্রণ করত রত্ন ব্যবসায়ী ইহুদিরা। এই লাক্সারি পণ্যগুলির দামও সবসময় ঠিক পাওয়া যেত না। তাই সরাসরি লন্ডনে নগদী অর্থ পাঠানোই কাম্য ছিল। সেই পথ খুঁজছিলেন ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীরা)}
নবোবেরা এত বেশি হিরে কিনে লন্ডনে পাঠাতে থাকে যে লন্ডনে এর মূল্য পড়তে শুরু করে। টুনব্রিজে আমোদ-প্রমোদ করার সময় মিসেস হেস্টিংস ২০০০০ পাউন্ডের গয়নায় নানান ধরণের মণি মুক্তো দামি ধাতু পরেছেন, এই তথ্য অস্বীকার করলেন। আরেক ক্ষতিকর সম্পত্তি হল আমদানি হল নবোবদের সঙ্গে ভারত থেকে আনা গয়নাগাঁটি। রাজার একমাত্র অতিরিক্ততম ‘দুর্বলতা’ ছিল হীরের প্রতি এবং ক্লাইভ এবং হেস্টিংস উভয়েই রাজার এই দুর্বলতাটুকু সুন্দরভাবে তাদের স্বার্থের পক্ষে কাজে লাগিয়েছেন।
নবোবদের মধ্যে লর্ড পিগোর সিন্দুকে থাকা সব থেকে আকর্ষণীয় হিরেটি ছিল। এটি তার নামে বিখ্যাত হয়। সেটি ইওরোপে সুন্দরতম হিরেগুলির মধ্যে অন্যতম না বলে বলা দরকার সুন্দরতম ছিল। পিগো হিরেটির ওজন ছিল ৪৭ থেকে ৮২ ক্যারাটের মধ্যে। ১৮০০ সালে লটারির মধ্যে দিয়ে ২৪০০০ পাউন্ডে এটি হাত বদল হয়। চার বছর পর এটি রানী জোসেফাইনের গলবন্ধনীর জন্য ক্রীত হয়। শেষতম মালিক ছিলেন মিশরের আলি পাশা। তিনি এর জন্য ৩০০০০ পাউন্ড দাম দেন। এবং ১৮৮২ সালে মৃত্যুর সময় এটিকে ধ্বংস করে ধুলোয় করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে যান।
নবোবেরা ভারতীয় পরিবেশকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে নিয়ে আপন মাধুরী মিশিয়ে একটি ইঙ্গ-ভারতীয় জীবনযাত্রা তৈরি করেছিলেন। সেই জীবনযাত্রা সেই সময়কার ইংলন্ডে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছিল। ব্রিটিশ খাদ্য তালিকায় কারি নামক একটা পদ জুড়ল তখন থেকেই। ১৭৭৩ সালেই নরিস স্ট্রিটের কফি হাউস, হেমার্কেট এলাকার রেস্তোঁরায় প্রতিষ্ঠিত এবং বিশেষ পদ হয়ে উঠেছে।  এগারো বছর পরেও তার সুগন্ধ বিন্দুমাত্র হ্রাস হয় নি। ১৭৮৪ সালের এয়ার স্ট্রিটের ২৩ পিকাডেলির বিজ্ঞাপনের বয়ান বলছে, কারি ...আপনার পাকস্থলীকে খাদ্য জীর্ণ করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত মুক্ত হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, মন খুশিতে ভরপুর হয়, মানবজাতির যে কোন খাদ্যকে সে উচ্চাঙ্গে তুলে নিয়ে যায়।
১৭৮৫ সালের হেনরি ম্যাকেঞ্জির ইনফ্লুয়েন্স অব দ্য নেবারহুড অব দ্য রিচ এশিয়াটিক-এ জন হোমসপান দুঃখ করে বলছেন, আমাদের বার্ণ ডোর মুরগিগুলি এত চর্বিওয়ালা, এত স্বাদু অথচ এখন আমরা রসুন আর গোলমরিচ ঠেসে তাকে কারি আর পিলাও(পোলাও)এ পরিণত করে ফেলছি; যতদিন না ব্রিটিশেরা মিস্টার মাশরুমের ইন্ডিয়া মদিরা খায় নি তত দিন অক্টোবর মাসে প্রতিবেশীদের দেখিয়ে দেখিয়ে আমার পরিবার জাঁক করে মুর্গীর স্বর্গস্বাদ অনুভব করেছি।
মদিরা ছিল এক্কেবারে নবোবদের জন্য মদ্য, কেননা ভারতের মত গ্রীষ্ম দেশে মদিরাই তাদের দেহ ঠাণ্ডা রাখতে পারত। ফলে ভারতে এটি তাদের অবশ্য পানীয় ছিল। মাদ্রাজের প্রাক্তন প্রয়াত গভর্নর চার্লস স্মিথ এস্কোয়ারের শবদেহ কবর দেওয়া মানুষটি বলছে বহু বছর ধরে রেখে দেওয়া তিন হাজার ডজন উচ্চশ্রেণীর মদিরা ফেলে দিতে হয়েছে।

নবোবেরা যে সব দেশি চাকরদের আনতেন তারা প্রভুদের মতই স্থানীয় এলাকাতে অজনপ্রিয় ছিল। যাকে কেউ ফরাসী ভেবে ভুল করা হচ্ছে আদতে হয়ত সে একজন কোঁকড়ানো চুলের বাঙালি ভৃত্য। এই কিন্তু ভৃত্যদের চাহিদা কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে পোঁছে যায়, বিভিন্ন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনে এদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বহুসময় পূর্ব ভারতের চাকর আর গাড়ির পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ভৃত্যের জন্য মাঝে মধ্যেই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হত।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা২১ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)
{পলাশীর পর ৬০ বছরে লন্ডনে কিস্তিতে গিয়েছে মোট ৪ লক্ষ কোটি টাকা। আমরা সরাসরি ঢুকে পড়ছি ব্রিটিশ সম্পদ লুঠের রাজত্বে - হোলজম্যান এই অধ্যায়ের শুরুই করছেন দুটি গুরুত্বপূর্ন লুঠ সংক্রান্ত বইএর বিস্তৃত উদাহরণ তুলে।
কিন্তু মার্শালের মত প্রভাবশালী কেম্ব্রিজ শৈলীর অর্থনীতিবিদ এই লুঠের তথ্য অস্বীকারের বর্তমান তাত্ত্বিক - তার সঙ্গে রয়েছেন তথাগত রায় - যিনি বাংলায় বই লিখে প্রমান করে ছেড়েছেন লুঠের অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যে - বরং বলছেন ব্রিটশ ভারতকে যা দিয়েছে তার মূল্য কষতে থাকুন তাহলে দেখবেন লন্ডনের পাল্লা ভারী - প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ডায়ারের গণহত্যায় ক্ষমা চাইবার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন এক পাঞ্জাবী, যিনি মার্শালের তত্ত্বের প্রতিধ্বনি করেছিলেন।
এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে সংঘ পরিবারকেও। এরা মনে করে ১৭৫৭ মুসলমান রাজত্বের হাত থেকে হিন্দুদের মুক্তি দিয়েছিল ব্রিটিশরা। এরা কোনদিন সোচ্চার হয়ে লুঠ তত্ত্ব স্বীকার করে নি।}
পঞ্চম অধ্যায়
সেই সময়ের ইংলন্ডে ইঙ্গ-ভারতীয়দের প্রভাব
নবোবেরা যে অর্থ ভারত থেকে এনেছিল, তার কতটা শিল্পবিপ্লবে কাজে লেগেছে এটি জামাই ঠকানো প্রশ্নের বেশি কিছু নয়। ব্রুক এডামস দ্য ল অব সিভিলাইজেশন এন্ড ডিকে-তে এই প্রশ্নটা জোরদারভাবে ছুঁড়ে দিচ্ছেন আর ডিগবির ‘প্রসপারাস’ ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় সেই তথ্যটিকে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছেন ভারতীয় রূপো ব্যবহার করে ব্রিটিশ ঋণ ব্যবস্থা শিল্পকে নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আধুনিক মাপদণ্ডে সজ্জিত করে তোলে। ডিগবি বলছেন (১৭৫৭/১১৬৪র)পলাশীর থেকে (১৮১৫/১২২২র) ওয়াটারলু যুদ্ধ পর্যন্ত ১০০,০০,০০,০০০ পাউন্ড(১০০ কোটি পাউন্ড মানে ২০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে স্বচ্ছন্দে ৪০০০ গুণ করলে আজকের দামে কত টাকা গিয়েছিল তার একটা মোটামুটি হিসেব পাওয়া যাবে – ৪ লক্ষ কোটি টাকা) ভারত থেকে ব্রিটিশ ব্যাঙ্কে গিয়েছে। এডাম লিখছেন পলাশীর পর থেকে বাংলার লুঠের সম্পদ লন্ডনে পৌঁছতে থাকে... এবং তার প্রভাব তাৎক্ষণিক ভাবে ব্রিটিশ সমাজে পড়েছিল এবং প্রত্যেকে বিশ্বাস করেন যে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৬২ সালে। বাংলার রূপো শুধু অর্থের পরিমান বাড়াল তাই নয়, অর্থের প্রবাহটাও বৃদ্ধি ঘটল; ১৭৪৯ সালে ব্রিটিশ ব্যাঙ্ক ১০ পাউন্ড এবং ১৫ পাউন্ডের নোট জারি করায় ব্যক্তিগত ব্যবসায়ী সঙ্গঠনগুলিতে কাগজের টাকার সংখ্যা ধরে রাখার পরিমান বিপুলভাবে বেড়ে যায়। ১৭৬০এর পরে জটিল দামি ধাতুর সম্পদের ওপর নির্ভর করে জটিল ঋণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতর মিন্টো অধ্যাপক সি জে হ্যামিলটন দ্য ট্রেড রিলেশনস বিটুইন ইংলন্ড এন্ড ইন্ডিয়া ১৬০০-১৮৯৬ গ্রন্থে এডামসের প্রত্যেকটি দাবিকে অস্বীকার করছেন। শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৭৬০ সালে এই তথ্য তিনি শুধু অস্বীকার করেন নি, উল্টে ভারতীয় রূপো বিপুল পরিমানে ইংলন্ডে গিয়েছিল, এই দাবিটিকেও তিনি আজগুবি বলে দাবি করছেন। ১৭৮৩ সালের সমীক্ষায় বলা হচ্ছে রূপোয় বিনিয়োগ সে দেশে পাঠানোর দুটি অসুবিধে ছিল যে এই দেশে(ভারতে) রূপোর চল কমে যাবে, দ্বিতীয়ত রূপো ইওরোপে পাঠানোর মানে হল ভাল বাজার থেকে সেটিকে খারাপ বাজারে পাঠানো।
রূপো ইওরোপে পাঠানো বিপুলভাবে অলাভজনক। প্রত্যেক টাকায় কোন পণ্যের বিনিময়ে ২ ডলার ২ সেন্ট থেকে ৬ ডলার ২ সেন্ট পর্যন্ত পাওয়া যেত। লন্ডনে রূপো পাঠানোর বিনিময় ছিল ৯ ডলার ১ সেন্ট। ফলে সাধারণত যে মানুষটা তার রোজগার দেশে নিয়ে চাইছে সে এত সম্পদ রূপোর পিছনে খরচ করবে কেন? ফলে হিরের মাধ্যমে তাদের রোজগার পাঠানো অনেক সোজা ছিল এবং সুপ্রিম কাউন্সিল ১৭৭৪এর আইনে এই কাজটি সহজ করে দেয়।
লন্ডনে প্রদত্ত বিলের অর্থ দেওয়া কোম্পানির অর্থনীতির পক্ষে বিপুল আঘাত নেমে আসতে থাকে। ফলে তারা লন্ডনে কাটা বিলের ওপর সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা লাগু করে। এর প্রতিষেধক হিসেবে কোম্পানির কর্মচারীরা ফরাসী আর ডাচ কোম্পানির ওপরে বিল কেটে তা ইওরোপের অন্য দেশ থেকে সংগ্রহ করতে থাকে।
হিকি সরাসরি বলছেন যে ব্যক্তির পক্ষে ভারত থেকে টাকা বয়ে নিয়ে যাওয়া খুব বেশি অস্বাভাবিক ছিল না। তিনি মাথামোটা সন্দেহবাতিক জনৈক ক্যাপ্টেন বেন্টলির কথা বলছেন যিনি মনে করতেন কোন বিলই সুরক্ষিত নয়। ফলে তিনি তার সঙ্গে নগদ যা ছিল, সেগুলি আটটি মজবুত বাক্সতে ভরে, সেগুলির জাহাজ ভাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন।
ধোঁয়ার কুণ্ডলী সরিয়ে এবার আসুন আমরা আগুণ কোথায় আছে সেই দিকে এগোতে শুরু করি। পলাশীর পরে কোম্পানির চরিত্রে লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন এসেছিল। তারপরের ২৫ বছর ধরে পূর্বের রূপো লন্ডনে পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে মোটামুটি ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড ইংলন্ডে পাঠানো হয়, যা পূর্বের দেশে পাঠানো হয়ে ছিল। এই অর্থের সঙ্গে কিঞ্চিত পরিমাণে ভারতীয় সোনা ব্রিটিশ ঋণের বাজার তৈরি করেছিল।
১৭৮২ সালে ইংলন্ডে পৌঁছে স্কট হেস্টিংসকে লিখলেন ...রাষ্ট্র এখন খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আপনি কি বিশ্বাস করবেন লর্ড নর্থ মোট ৭০ মিলিয়ান স্টার্লিংএর প্রস্তাব পেয়েছেন। আমাদের ব্যবসা কমছে, কিন্তু বর্তমানের রাজধানীতে এত নগদ অর্থ আগে কোন দিন দেখা যায় নি। আমি লন্ডনে ২০০ সোনার মোহর নিয়ে গিয়ে প্লাম্বারকে(?) দিয়ে সেগুলিকে গলিয়ে নিলাম, আমায় বলল শেষ বছরে সে খুব বেশি সোনার বাট গলায় নি কিন্তু দেড় টনের মত মোহর আর প্যাগোডা গলিয়েছে। এই অঙ্ক প্রায় ১৫০ হাজার পাউন্ড বছরে। এর সঙ্গে প্রত্যেক বছর ডিরেক্টরদের উদ্যোগে লন্ডনে পাঠানো ন্যুনতম ৫ লক্ষ পাউন্ড জুড়ি তাহলে এটা বিপুল অঙ্ক হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা২০ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

নবোবেরা সাধারণত তাঁর এলাকার বাধ্যতামূলক সামাজিক নানান উৎসবে যোগদান করতেন। এলাকার ঘোড় দৌড়ের মীটিঙের প্রধান হতেন এবং উপহারের স্মারকের জন্য তারা তাদের বরাদ্দ বাধ্যতামূলক ১০ গিনি দানও করতেন। বিভিন্ন খয়রাতির দান গ্রহণের সংগঠনে তাদের নাম জ্বলজ্বল করত। পল্ক, সেন্ট জর্জ হাসপাতালের চিরস্থায়ী গভর্নর ছিলেন। ১৭৬৮তে তিনি ফিস্ট অব দ্য সনস অব দ্য ক্লার্জিতে অন্যতম স্টুয়ার্ট ছিলেন। রামবোল্ড, ফারার, হেনরি ভ্যান্সিস্টার্ট এবং টমাস প্যাটল ম্যাগডালেন হাসপাতাল, লরেন্স, ভেরলেস্ট যুক্ত ছিলেন মিডলসেক্স লাইং-ইন হাসপাতালে, স্ট্রেচি ওয়েস্টমিনিস্টার হাসপাতালের সঙ্গে। অন্যান্য নানান সেবা কাজের সঙ্গে হয়ত বহু ভারত ফেরতের নাম যোগ করা যায়, কিন্তু মেরিন সোসাইটি – যে কাজে গরীব ছেলেদের সমুদ্রে যেতে শেখানো হত, সেই সংগঠনের সঙ্গে বহু নবোব স্বেচ্ছায় যুক্ত ছিলেন। ১৭৭৩ সালে সোসাইটির নতুন বাড়ির জন্য ধরা ছিল, ৮ সেন্ট প্রতি প্যাগোডা ধরে সাড়ে ১৫৮০ প্যাগোডা, অর্থাৎ ৬৩২ ডলার ৪ সেন্ট। বাড়িটির বিশপগেট স্ট্রিটে প্রথম পাথরটি পাতার দিনে গভর্নর নিজের খরচে লন্ডন ট্যাভার্নে খেলেন, সেখানে তার অনুগামী বন্ধুবান্ধবেরা নিজেদের খরচে স্বস্বাস্থ্য পান করলেন এবং একজন মাদ্রাজ থেকে আসা ভারতীয় এই অর্থটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এই সোসাইটির কাজে যে সব বিখ্যাত ইস্ট ইন্ডিয়ান চাকুরে আর ডিরেক্টর জুড়ে ছিলেন তারা হলেন হেনরি ভ্যান্সিস্টার্ট, এডোয়ার্ড কটসফোর্ড, টমাস ফেরের, লরেন্স সুলিভান, জন ডোরিয়েন এবং জন পুর্লিং।
নবোবদের শহরের শহরের বাস গৃহগুলি ওয়েস্ট এন্ডের দিকে ছড়ানো ছিল। গ্রসভেনর স্কয়ারের পাশের এলাকা মেফেয়ারে প্রচুর ভারত ফেরত থাকতেন। স্কয়ারে থাকতেন লুক স্ক্র্যাফটন, পরে স্যর লায়নেল ডারেল, পল বেনফিল্ড। স্যর ফ্রান্সিস সাইকস থাকতেন আপার ব্রুক স্ট্রিটে, পার্ক স্ট্রিটে হেনরি স্ট্রেচি, লোয়ার গ্রসভেনর স্ট্রিটে স্যর সি ডবলিউ বি রাউজ। মেফেয়ারের উল্টোদিকে বন্ড স্ট্রিট-পারে ওল্ড বার্লিঙ্গটন স্ট্রিটে থাকতেন স্যর জন কল, হ্যানোভার স্কয়ারের জর্জ স্টিটে থাকতেন জেনারেল কাইলুয়াদ। সোহোর ড্যানিজেনসে থাকতেন লর্ড পিগো আর স্যর উইলিয়াম জেমস। পিগো আগে থাকতেন সোহো স্কোয়ারে পরে আসেন জেরাড স্ট্রিট। সেন্ট জেমস স্কয়ারে থাকতেন নাথানিয়েল মিডলটন, হেনরি ভেরলেস্ট, আর রিচার্ড বারওয়েল। ১৭৭০ থেকে ১৭৮১ পর্যন্ত ভেরলেস্ট থাকতেন আজকের যেটা পোর্য়ল্যান্ড ক্লাব, তখন ৯ নম্বর ছিল। ১৭৮২-১৭৯৬ পর্যন্ত বারওয়েল। রিচার্ড বিচার থাকতেন পোর্টম্যান স্কোয়ার আর জেনারেল রিচার্ড স্মিথ থাকতেন গ্রেট অর্মন্ড স্ট্রিট।
লন্ডনে যে সব ভারত ফেরত থাকতেন তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য জুটতেন জেরুজালেম কফি হাউস, ক্রাউন আর এঙ্কর ট্যাভার্নে। কোম্পানির পরের কোর্ট অব প্রোপ্রাইটর মিটিঙের ভারত ফেরতদের কি পথ হতে পারে তা পরিকল্পনা করতে এঙ্কর ট্যাভার্নে বসতেন তারা। কিভাবে স্টকগুলো ভাঙতে হবে(১৭৭৩এর রেগুলেটিং আইনের আগে কোম্পানির ডিরেক্টর নির্বাচনের জন্য ৫০০ পাউন্ডের অংশিদার একটি ভোট দিতে পারতেন – তার ৫০০ পাউন্ডের ওপরে যত কোটি পাউন্ডের  অংশ থাকুক না কেন। ৫০০ পাউণ্ডের বেশি থাকা অংশিদার তার ৫০০ পাউন্ড হিসেবে ভেঙ্গে ফেলত ৫০০ পাউন্ডের গুণিতকে কয়েকটি ভোটে এবং সেগুলিকে ডামি হিসেবে উপস্থাপিত করত। ফলে তার হাতে ৫০০ পাউন্ড রয়েছে সে ডায়রেক্টর নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের বেশি সুযোগ পেত। ১৭৭৩এর পরে এই আইনটা গিয়ে দাঁড়াল ১০০০ পাউন্ডের জন্য একটি ভোট, ৩০০০এর জন্য দুটো, ৬০০০জন্য তিনটে ভোট আর ১০০০০ বা তার ওপরে চারটে ভোট। তাছাড়া ভোট দেওয়ার জন্য কোন অংশিদারকে তার অংশ ছ মাসের বদলে অন্তত এক বছর ধরে রাখার নিয়ম হল। অংশ ভাগ করার যে পরিকল্পনা হত সেটা কিছুটা হলেও রোখা গেল। কিন্তু বাস্তবে হল ১০০০০ পাউন্ডের অংশিদারি যার আছে সে চারটি ভোট নয়, সেটিকে ১০ ভাগে ভাগ করে দশটি ভোটের মালিক হয়ে বসত।) এবং য়র্ক্সায়ার থেকে কর্নওয়ালের শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের প্রার্থীদের পিছনে লেলিয়ে দিতে হয় তাও সিদ্ধন্ত হত। বছরে ছমাস ধরে এক পক্ষ কাল পর পর বেঙ্গল ক্লাবের সদস্যরা ক্রাউন আর এঙ্করে বসতেন, এবং তখন বহু বছরের যোগাযোগের দিরুন একটা বন্ধুত্বের অচ্ছেদ্য বন্ধন জুড়ত।

(চতুর্থ অধ্যায় শেষ)

Sunday, July 2, 2017

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৯ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{লুঠের কি মহিমা।
এই অংশটা পড়ুন আর দেখুন কিভাবে বাংলাকে দুয়েছে সাধারণ একজন ব্রিটিশ। এক সময় বাংলায় গভর্নর কাউন্সিলের সদস্য রিচার্ড বিচার ১৮৮০ সালে যখন লন্ডনে ১ লক্ষ ২০ হাজার পাউন্ড ধারে ডুবে যান, তখন তাকে সেই ধার শোধ করতে আবার বাংলায় পাড়ি দিতে হয়।
সাম্রাজ্য এইভাবে সাম্রাজ্য বাংলাকে দেখেছে, লুঠের সামগ্রী হিসেবে, যেখানে গেলে যথেচ্ছভাবে লুঠ করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়ে আনা যায়।
আজ নতুন করে ঔপনিবেশিক সব পাঠ পড়তে হবে, নতুন করে পাঠগুলিকে লুঠের তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
আমার সোনার বাংলাকে ছারখার করে দেওয়া বাংলার অভিজাতদের দ্বিতীয় বাড়ি এবং তাত্ত্বিক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে লুঠের সমস্ত ঘোমটা দিয়ে ঢেকে রাখা তথ্য বার করতে হবে।
এটা ছোটলোকেদেরই কাজ - তাদেরই করতে হবে - মাত্র আড়াইশ বছর দেরি হয়েছে। আর নয়।
জয় বাংলা!}

উদাহরণ দেওয়া যায় এমন নবোবরা হলেন ১৭৭০-১৭৭২ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর থাকা কেন্টের বেজব্যারির জন কর্টিয়ের, বাথের জেনারেল জোসেফ স্মিথ, এস্টন রাউনট অক্সফোর্ডশায়ারের জেনারেল জন কাইলাউড। প্রাইসএর বই দ্য স্যাডল পুট অন দ্য রাইট হর্সঃ অর আন এনকোয়ারিইন্টু দ্য রিজন হয়াই সার্টেন পার্সনস হ্যাভ বিন ডিনোমিনেটেড নবোবস থেকে জানছি, বিখ্যাত নবোবদের মধ্যে কার্টিয়ের আর জেনারেল জো স্মিথ, মোটামুটি ভারতীয়দের মতই দিন কাটাচ্ছেন, তাদের প্রখ্যাত নবোবদের সারিতে রাখা যায় না। হেস্টিংসকে স্কট বলছেন কার্টিয়ের এ বাবদে একটা উদাহরন হতেই পারে কারণ তিনি আদতে কেন্টের চাষীর বেশি কিস্যুই নন। কার্টিয়েরকে চাষী বলা একটু বাড়াবাড়িই বটে, হয়ত সেই এলাকাটায় কিছুটা গাঁইয়া পরিবেশ ছিল তাই। কিন্তু সেই সময়ের কেন্টের এক ভূগোলবিদের মতে বেজবারি ছিল পার্লামেন্টের একটি অভিজাত আসন। ক্যাপ্টেন এডোয়ার্ড স্টিফেনসন ভারতে মারা যান। তিনি তার সম্পত্তি জনৈক মিস পিচের হাতে দিয়ে যান, হয়ত মিস পিচ কোনভাবে ডিরেক্টর স্যামুয়েল পিচের আত্মীয় হবেন। তার থেকে কার্টিয়ের জায়গাটি কেনেন। তিনি বাড়িটা এবং এলাকাটার প্রচুর উন্নতি ঘটান এবং কাছেরই টুসডেন বা বার্স ফার্ম কেনেন। ১৭৯০ সালে তাঁকে বলা হচ্ছে যে তিনি সম্মানিত সাধারণ ব্রিটিশ অভিজাত যার বছরে রোজগার ২০০০ পাউন্ড... এবং তাঁর প্রতিবেশীরা তাঁকে ম্যান অব কেন্ট বলে ডাকতেন।

জনগণ তাদের যতই অবিজ্ঞ, বুদ্ধিহীন হিসেবে দেখুক না কেন কোম্পানি বা তার কর্মীরা জনগনএর এই মানিসিকতাকে বুঝেও উপেক্ষা করত। কাইলাউড এক সময় খুব গরীব অবস্থায় পড়েন। তার ৬৫০০ পাউন্ডের ইন্ডিয়া স্টক ছিল। কোম্পানি এক সময় অংশিদারদের লাভ দেওয়া কমিয়ে দেওয়ায় তার বাড়িটা ভাড়া দিয়ে, তিনি এস্টনে এসে থাকতে শুরু করলেন। ১৭৭৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টর ইন সিভিল ল উপাধি দেয়। এই উৎসবে হেনরি এবং জর্জ ভ্যান্সিস্টার্টের ভাই, অল সোলস কলেজের ড ভ্যান্সিস্টার্ট অভিনন্দন বক্তৃতা দেন।

ঔপন্যাসিক থ্যাকারের ঠাকুদ্দা উইলিয়াম ম্যাগপি থ্যাকারে মিডলসেক্সের হ্যাডলি গার্ডেনে বাস করা শুরু করেন। তার পূর্বে কাজ করা গভর্নর জন কার্টিয়ের মত তিনিও অন্যান্য নবোবদের মত উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন না করে হ্যাডলি গার্ডেনে নিশ্চিন্তে বসবাস করতেন। তিনি সপ্তাহান্তে নিজের বাগান পরিচর্যা করতেন, রবিবারগুলিতে চার্চে যেতেন এবং সাধারণ কাপড়চোপড় পরে বাচ্চাদের সঙ্গে হাসিঠাট্টায় জীবন কাটিয়ে দেন। তিনি সিলেটের কালেক্টর ছিলেন এবং কোম্পানিকে হাতি সরবরাহ করে প্রচুর অর্থ রোজগার করেন।

ঔপনাসিক মা এন বিচার ছিলেন বেচারা রিচার্ড বিচারের আত্মীয়। বিচারের প্রথম চাকরির সময়কাল ১৭৪৩ থেকে ১৭৬১ পর্যন্ত ভারতে। ১৭৬৭ সালে গভর্নর কাউন্সিলের পঞ্চম সদস্য তিনি আবার বাংলায় যান। কাজে কাজে দ্বিতীয়তে উন্নীত হন এবং আবার লন্ডনে ফিরে যান ১৭৭১ সালে। স্যর উইলিয়াম হান্টারের দ্য থ্যাকারেজ ইন ইন্ডিয়া এন্ড সাম ক্যালকাটা গ্রেভস বইতে তিনি রিচার্ড বিচারের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেছেন - তিনি হয়ত একমাত্র ইংলিশম্যান যাকে ১৭৭০এর মন্বন্তরে ভুল এবং কলঙ্কিতভাবে দেখা হয়েছে। এক শতক পরে তার চিঠিপত্র এবং নানা লেখাপত্রের পাণ্ডুলিপিতে আমি একজন যুবা ব্রিটিশ এসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেটের ছবি দেখতে পাচ্ছি। সেগুলি অবলম্বন করে আমি এনালস অব রুরাল বেঙ্গলএ ভারতীয়(নয় অবশ্যই বাংলার) মন্বন্তরের আসল ছবি তুলে ধরে মন্তব্য করার সুযোগ পাই।

১৭৭৫সালে বিচার সারের ট্যান্ড্রিজের রুকসনেট কেনেন সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া জন কুকের থেকে। এই জমিদারি ছিল ৩৪০ একরের। অসাধারণ বারান্দা তৈরি করে বিপুল খরচে ধ্রুপদীভাবে প্রাসাদটি নতুন করে সাজিয়ে তোলেন বিচার। ১৬ ডিসেম্বর ১৭৮০ সালের দ্য পাবলিক এডভার্টাইজার থেকে জানতে পারছি বিচার আর তার ভাই প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার পাউন্ডের ধারের সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন। এর একমাত্র সমাধান ছিল আবার ভারতে ফিরে যাওয়া। এবার আমরা বিচারকে দেখি ঢাকা টাঁকসালের চুফ সুপারিনটেন্ডেন্ট হিসেবে ১৭৮১ সালের অক্টোবরে। ১৭৮২র নভেম্বরে তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি রুকসনেটকে একটি অছির দেখাশোনায় দিয়ে যান, তারা এটিকে কর্নেল ক্লার্ককে বিক্রি করে দেয়। ১৭৮৮তে ক্লার্কের মৃত্যু হলে এটি ক্লাইভের প্রাক্তন সচিব হেনরি স্ট্রেচির হাতে পড়ে।

স্যর হান্টারের ধারনা ছিল থ্যাকারে তার উপন্যাসে কর্নেল নিউকম্ব চরিত্রটি ভেবেছেন বিচার বা পিটার মুরের ছায়ায়। পিটার মুর ছিলেন সিলেটি থ্যাকারের হ্যাডলির প্রতিবেশি। মুর ভারত ছাড়েন প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে কিন্তু প্রায় প্রত্যেক নবোবের মতই তার ধনভাগ্য তাকে প্রতারিত করে। গোলমেলে চরিত্রের মুর বহুকাল পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। ১৮২৫ সালে তিনি প্রায় তার সব কিছু হারান, তিন বছর পরে ফ্রান্সে ৭৫ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন।

অষ্টাদশ শতকের নবাব বিরোধী মনোভাবের লেখকদের বিরুদ্ধে প্রাণমন দিয়ে স্যর উইলিয়ম কলম ধরেছেন। তাঁর ছোট্ট বইটার চরিত্রগুলি লেখকের চাপিয়ে দেওয়া দুর্গতির বিরুদ্ধে প্রাণপন লড়াই করে উঠে দাঁড়ায়। আমাদের মন খারাপ হয়ে যায় না যখন শুনি বিচার তার বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে ভাগ্য হত হন, কিন্তু তবুও তার সম্পত্তি এতটাই ছিল যে তিনি তাঁর ছোট্ট রুকসনেস্টে নবোবের চরিত্রে অভনয় করে যেতে অসুবিধে হয় নি, আর যদি পিটার মুর যদি কর্নেল নিউকোম্বের নৈতিকতাটুকু পেত তাহলে সে উল্লেখযোগ্য চরিত্র হয়ে উঠতে পারত।



হ্যালডনে রবার্ট পল্ক ডেভনের বিখ্যাতদের মধ্যে বিখ্যাততম ছিলেন। তিনি তার ভারতীয় সরকারের মতই প্রজা বৎসল ছিলেন। তিনি গাঁইয়াদের মত অভ্যর্থনামুখী, এবং শহুরেদের মত সুশীল। তিনি অভিজাতদের মত তার বরো রক্ষা করতেন। তার পুত্র সেখানেই বিবাহ করেন। একজন নবোব কিভাবে ঔজ্জ্বল্যতার সঙ্গে বন্ধুত্বকে মেশাতে পারছে সেটা পল্ককে দেখে শেখা যায়। তিনি এসবার্টন চার্চকে সুন্দরতম তিন থাকের টিক কাঠের তৈরি হেলানো গান গাইবার ডেস্ক উপহার দেন, এবং শেষে তিনি এসবার্টন চার্চকে সম্মান দিতে গোল্ডেন লায়ন ইনে একটি অভিজাত বলের আয়োজন করেন যা সেই এলাকায় মানুষের মনে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে... রাত আটতার মধ্যে বল-রুমে ৪০০ মানুষের সমাবেশ ঘটল(এর আগে এই এলাকায় এত মানুষের সমাগম ঘটে নি)। বাদ্য বাদন শুরু হলে অভিজাত মহিলাদের সঙ্গে ডিন হান্টের সদস্যরা নৃত্য শুরু করলেন... ঘরটি অসম্ভবভাবে আলোকোজ্জ্বল ছিল... চা লেমোনেড, নাগেট এবং অন্যান্য টুকরোটাকরা খাবার দাবার প্রচুর ভাবে পরিবেশিত হল... সব কিছুই অনন্যসাধারণ, প্রাচুর্য আর বৈচিত্র্যে এটি অসাধারণ ছিল...।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৮ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{আমরা যে জ্ঞানচুরির কথা বলে আসছি, সেই জ্ঞানচুরির একটি ইঙ্গিত এখানে কিছুটা হলেও দেওয়া আছে। এটা প্রমানিত যে যখন স্পিনিং জেনি স্বতঃচল মানু কাজ করছে না বড় কারখানায়, তখন ভারতের সাধারণতম তাঁত নিয়ে যাওয়া হয়, বাংলার বিভিন্ন জেলার হাল নিয়ে যাওয়া হয় চাষের উৎপাদন ক্ষমতা এবং যন্ত্রের উৎপাদিকা শক্তি বাড়ানোর কাজে গবেষনার জন্য। এখানে উইলিয়াম ফ্রাঙ্কল্যান্ডএর বাড়ির গবেষণাগারে প্রচুর কারিগর কাজ করতেন যেখানে 'কারিগরেরা অধিকাংশ দেশিয় কিন্তু কিছু বিদেশি ছিল' - সেখান থেকে পরিষ্কার হয় যে লন্ডনে তক্লহন ভারত থেকে লুঠের অর্থে কি ধরণের গবেষণা চলছিল। একজন নবোবের বাড়িতেই যদি এই গবেষনাগার থাকতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রপোষিত গবেষণাগারে কি কি হয়েছে। এবং এই সম্পদ আর জ্ঞান লুঠের জন্য আজও ব্রিটেন আজও ক্ষমা চায় নি - এবং আমাদের দেশের চিরকৃতজ্ঞ দালাল, চাকুরিজীবি অথবা লন্ডনে গবেষনা, অধ্যাপনা, চাকুরি করা বা পুরষ্কার পাওয়া প্রখ্যাতরা কোন দিন ক্ষমা চাওয়ার দাবি করবেন না। অভিজাতরা কোহিনুর নিয়ে দাবি জানায়, কিন্তু আমরা ছোটলোকেরা কোনদিন এই দাবি জানাই নি। এই সময় শেষ হতে যাচ্ছে।}

জন পাইবাস মাদ্রাজে কোম্পানির কাজে ১৭৪২ সালে যোগ দেন রাইটার হিসেবে। আর্কটে ক্লাইভের সঙ্গে যে আট জন ভলান্টিয়ার যান, পাইবাস তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান। এছাড়াও তিনি শ্রীলঙ্কার রাজার কাছে দূত হয়ে যান। তিনি লন্ডনে ফেরেন ১৯৬৮ সালে। পাইবাস সারের চেয়ামে বাসা করেন। তিনি হার্টসের চিপিং বার্নেটের কাছে গ্রেনহিল গ্রোভ ভিলাটি কেনেন পার্লামেন্টেরিয়ান টমাস ব্রাডের থেকে। পরে সেটি জেনারেল প্রোভোস্টকে জলের দরে, ৯০০০ পাউন্ডে বেচে দিতে হয়।

আমি জানি না তিনি ১৭৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ব্যাঙ্কিং সংগঠন পাইবাস, ডোরসেট এবং কোংএর অংশীদার ছিলেন কি না – এই পাইবাস আমাদের আলোচ্য পাইবাস কি না। ১৭৮৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি হেস্টিংসকে লেখেন যে তিনি তার ছেলে, জন কল এবং জেমস গ্রান্ট বন্ড স্ট্রিটে একটি ব্যাঙ্কিং হাউস খুলতে চলেছেন পাইবাসের নাম জুড়ে কল গ্রান্ট এন্ড কোং নাম দিয়ে। তাদের ইচ্ছে যে সব ইস্ট ইন্ডিয়ান ইংলন্ডে তাদের সম্পদ দেখাশোনার জন্য এটর্নি এখনও পছন্দ করেন নি, তাদের হয়ে এই সংস্থাটি কাজ করবে।

পাইবাসের অংশীদার কর্নেল জন কল দারুণ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ভারতে যান ১৭৪৯ সালে। পিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে ফিরে আসেন ১৭৬৬তে। তিনি যে সময় মাদ্রাজে কাজ করেছেন সে সময় বেনফিল্ডের নেতৃত্বে যে সুদের কারবার চলছিল নবাবের সঙ্গে সেই গোষ্ঠীতে তিনি জুড়ে যান।

ওল্ড বার্লিংটন স্ট্রিটে তিনি বাড়ি কেনেন। এছাড়াও কর্নেলের হোয়াইটফোর্ড, স্টক ক্লিমসল্যান্ডেও প্রাসাদ কেনেন যাকে তিনি দারুণ ভাবে সাজিয়ে গুজিয়ে তোলেন। কান্ট্রির হাই শেরিফের পদ অলঙ্কৃত করেন ১৭৭১ সালে। হোয়াটফোর্ডের কার্লিংটনের লর্ড অর্ফোর্ডের বরো থেকে তিনি পার্লামেন্টে প্রথমবার ১৭৮৪ এবং পরে ১৭৯০ সালে নির্বাচিত হন। ১৭৯১ সালে তিনি ব্যারোনেট উপাধি পান।

ভারতে কল দায়িত্বপূর্ণ সেনা প্রয়ুক্তিবিদ ছিলেন, কিন্তু ইংলন্ডে ফিরে তিনি ব্যাঙ্ক স্থাপন করেন, কাঁচ কারখানা আর তামা গলানোর কারখানা করেন। এছাড়া তিনি রয়্যাল সোসাইটি আর রয়্যাল এন্টিকুইরিয়ান সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। তার জ্ঞান আর দক্ষতা সরকারের খুব প্রয়োজনীয় হয়েছিল। ১৭৮২ সালে লর্ড শেলবার্ন তাঁকে আর এবং এ হোল্ডসওয়ার্থকে নিয়োগ করেন দেশের গাছ এবং জঙ্গল সমীক্ষায়। ১৭৮৪ সালে তিনি সরকারকে প্রস্তাব দেন যে কিছু দুষ্কৃতিকে নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস আর নিউজিল্যান্ডে ঘাঁটি গাড়বেন। কুকের অভিযানের মত করে তিনি হেস্টিংসকে অনুরোধ করেন একটি জাহাজ বরাদ্দ করতে যা দিয়ে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরে আমেরিকার পেসেফিক উপকূল সমীক্ষা করবেন। কলের দণ্ডজ্ঞান বিষয়য়ে উদ্যম শুধু অস্ট্রেলিয়ায় জেল তৈরি করায় সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রখ্যাত জেল সংস্কারক এবং দানবীর জন হাওয়ার্ডের প্রস্তাবনায় তিনি কর্নওয়ালে একটি জেল পরিকল্পনা এবং তৈরি করেন ১৭৮০ সালে।

তবে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সব থেকে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিলেন জন ওয়ালস। এর কথা আগেই বলেছি যে তিনি ক্লাইভের পৃষ্ঠপোষণায় উরসেস্টার থেকে পার্লামেন্টে এমপি হন। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি খুব বেশি এগোতে পারেন নি, তিনি অনেক বেশি কাজ করেছেন জ্ঞান বিজ্ঞান প্রচারে। টর্পেডো মাছ নিয়ে তার গবেষনা তাকে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের সঙ্গে যুক্ত করে এবং তাঁকে রয়্যাল সোসাইটির কোপ্লে মেডেলে সজ্জিত করা হয়, প্রথমে ১৭৭৪ সালে পরে ১৭৮৩তে। ১৭৭৩এ তিনি রয়্যাল সসাইটি এবং রয়্যাল সোসাইটি অব এন্টিকুয়েরিরিজের কাউন্সিলের সদস্য হন। তার মায়ের দিকে তিনি জ্যোতির্বিদ নেভিল ম্যাস্কেলাইনের আত্মীয় ছিলেন।

আরেকজন বৈজ্ঞানিক নবোব হলেন উইলিয়াম ফ্রাঙ্কল্যান্ড। সিরাজ ১৭৫৬তে কলকাতা আক্রমণ করলে তার নিজের জাহাজ নিয়ে পালিয়ে যান, কিন্তু কলকাতা আক্রমণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ১১৩৬৭ পাউন্ড পান। সাসেক্সে মান্থাম তার জমিদারি ছিল। মন্তেগুর ভিস্কাউন্ট এন্থনি সেখানে যে শিকার বাড়ি তৈরি করেন তিনি সেটি কেনেন। সেখানে তার জীবনের শেষ চল্লিশ বছর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে কাটিয়ে দেন।শোনা যায় অন্তত ২০ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন তার পছন্দের বৈজ্ঞানিক গবেষনায়। ঘরগুলি ভর্তি ছিল মনোমুগ্ধকর নানান যন্ত্রপাতিতে – লেদ, স্পিনিং, এবং ওয়ান্ডিং মেশিন, ইলেক্ট্রিফায়িং মেশিন, অপটিক্যাল এপারেটাস, ঘড়ি, ছাপা খানা, বাদ্যযন্ত্র, কৃষি যন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে। ‘এই যন্ত্রগুলির ইতিহাস বেশ কৌতূহলোদ্দীপক – এই যন্ত্রগুলি বানানো হয়েছে প্রবীণ কারিগরদের দিয়ে। এই কারিগরেরা অধিকাংশ দেশিয় কিন্তু কিছু বিদেশি ছিল – তারা সেখানে চাকরি করতেন। ১৮০৫ সালে ডিসেম্বরে পঁচাশি বছর বয়সে ফ্রাঙ্কলিনের মৃত্যুর পর সেই যন্ত্রগুলি উচ্চ দামে নিলাম হয়ে যায়। বহু জিনিসপত্র অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হয়ে যায়, শুধু লেদ মেশিনটা বিক্রি হয় তিন হাজার গিনিতে।

কিন্তু অধিকাংশ ভারত থেকে ফেরা কোম্পানি চাকুরে খুব সাধারণ প্রচার বিহীন জীবন যাপন করেছেন। সাধারণ ব্রিটিশের মত তারা তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন – খুব বেশি হলে তারা, প্রতিবেশীদের অন্য ধরণের রান্না খাইয়েছেন আর খুব দামি মদিরা পান করিয়েছেন, যা সে সময়ে গ্রাম ব্রিটেনে খুব শিভালরির ব্যাপার ছিল। এমনকি ফুটির লেখায় আছে, ভারত থেকে আসা মানুষেরা, যারা এখানে এসে আভিজাত্য আর নবোবি দেখান, তারাও দেশের পক্ষে সম্পদ আর নৈতিকতার দৃষ্টিও স্থাপন করেছেন।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৭ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{আমরা আলোচনা করছি ততকালীন বাংলা থেকে আর কিছু মাদ্রাজ আর বম্বে থেকে বিপুল অর্থ শুষে নিয়ে গিয়ে ইংলন্ডে বিভাবে বিনিয়োগ করেছিল তার বর্ণনা। লেখক বলছেন তাদের কেউ সেই অমিত সম্পদ উড়িয়েছিল, কেউ সদর্থে বিনিয়োগ করেছিল, আদতে বাংলা, মাদ্রাজ আর বম্বে লুঠের সম্পদে গড়ে উঠেছিল নব্য ইংলন্ড - এতা মনে রাখা দরকার।}

শেষ পর্যন্ত চঞ্চলা ভাগ্য জেনারেলের বিপক্ষে গেল। ১৭৮তে তাঁর ভাগ্য তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছে শেষ বারের মত। শুধু চার্লস ফক্সের কাছে রেসে হেরেছেন ১৮০০০০ পাউন্ড। ১৭৮৩তে রাজনীতিতেও তার ভবিষ্যৎ শেষ। ফক্স আর নর্থের মত ভুল ঘোড়ায় বাজি ধরেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাহস ধরে রেখেছিলেন। আরেক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাকুরে জর্জ ভ্যান্সিস্টার্টকে বার্কশায়ারের জমিদারেরা তাদের জোট-সরকারের বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার বৈঠকে তিনি যে বক্তৃতা করেন, সেটি মোটেই খুব ঝাঁঝালো হয় নি, কারণ তিনি ততদিনে স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিলেন, যে তিনি ভুল রাজনীতির রাস্তায় হেঁটেছেন।

জেনারেলের এর পরের জীবনটা বেশ উল্টেপাল্টে গিয়েছিল। তিনি প্রায় বহুদিন অস্বস্তিকর চরিত্রবিরোধীভাবে জনসমক্ষ থেকে হারিয়ে গেলেন। হয়ত তিনি তাঁর দুর্দিনে অভাব ঘটবে বুঝতে পেরে রোজগারের কিছু অংশ নিজের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, সেটা ব্যয় হয়ে গেল ধারের জন্য ক্রোকের নির্দেশের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের সুরক্ষা পেতে গিয়ে। তিনি উপমহাদেশে পালিয়ে গেলেন। ১৭৮৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের দ্য পাবক্লিক এডভার্তাইজার লিখল যত দিন না তিনি পার্লামেন্টের আসন জোগাড় করতে পারছেন, তত দিন তিনি ইংলন্ডে ফিরবেন না। জেনারেলের লন্ডনের ঠিকানা, হার্লে স্ট্রিটের জনৈক জেনারেল রিচার্ড স্মিথ ডোরসেট, ১৭৯০ সালে ওয়ারহ্যাম থেকে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে কখোনো কখোন ভারত সম্বন্ধীয় ব্যাপারে বক্তৃতা করতেন। অন্য দিকে ১৭৯২ সালে একটি চটিতে জেনারেল স্মিথের নাম নিয়ে বলা হচ্ছে তিনি বিস্মৃতির শেষ তলে পৌঁছে গিয়েছেন। ব্রেন্টফোর্ডের ঐতিহাসিক ফকনার ১৮০১ সালে ইঙ্গ-ভারতীয় ঐতিহাসিক রবার্ট ওর্মের সমাধিতে স্মিথ একটি লেখা জুড়ে দেন।

আরেক ধরণের নবোব তাদের সমস্ত শক্তি লাভদায়ক ব্যবসা বা কাজের কাজে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন। কেউ কেউ তাদের রোজগারের অংশ বিনিয়োগ করতেন আর্থিক সঙ্গঠনে আর কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। ১৭৭২ সালে একটি বিজ্ঞাপনের বয়ানে দেখা যাচ্ছে, জনৈক ভারত থেকে ফিরে আসা জনৈক ভদ্রলোক একটি বড় জমিদারির দায়িত্বপূর্ণ অভিজাত ভদ্রলোকের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রায়াত বেডফোর্ডের স্মৃতিতে ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য কিস্তিতে শোধ দেওয়া যোগ্য ধারের ব্যবস্থা করেছেন।

পল বেনফিলড নবোবদের মধ্যে প্রখ্যাত ব্যাঙ্কার হয়ে উঠেছিলেন। যদিও তিনি এই কর্ম বেশ কিছু কাল আগেই শুরু করেদিয়েছেন, কিন্তু তার কর্ম গরিমায় উদ্ভাসিত হল ১৭৮৮তে ভারত ছাড়ার পরেই। ওয়াটন উডহুল জমিদারি ছাড়াও তিনি গ্রসভেনর স্কয়ারের নিজের বাসার জন্য আর্ল অব থাটনেটের প্রাসাদটি কিনে নেন। ডুরহ্যাম, হ্যামস্টার্লের মিস সুইনবার্নের সঙ্গে তার বিবাহে কন্যাটি পেয়েছিলেন ৩০০০ পাউন্ডের একটি আংটি, বছরে ৩০০০ পাউন্ডের জয়েনচার(মানে কি), পত্নীকে দেওয়া হাত খরচের অর্থ ছাড়াও বছরে ৫০০ পাউন্ড খরচের অধিকার, আর বাচ্চারা প্রত্যেকে পেয়েছিল ১০,০০০ পাউণ্ড।

তবে এতে বেনফিল্ডের মত ছটফটে মানুষের খুশি হওয়ার কথা নয়। তিনি তার শক্তি-উদ্যম ১৭৯৩ সালে ১৫ মার্চে নিজের ২৫% শেয়ারে বয়েড, বেনফিল্ড এন্ড কোং তৈরি করেন লন্ডনে। প্যারিসে বিপ্লবের আগে ওয়ালতার বয়েড ছিলেন ব্যাঙ্কার, বিপ্লবের ধাক্কায় পালিয়ে আসেন এবভং তার ভাগ্য ধ্বসে যায়। বয়েড পিটের কাছের মানুষ ছিলেন। সরকারি ঋণে বয়েড বেনফিল্ড বিসাল লাভ করতে থাকে। এছাড়াও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আর সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিসের সঙ্গেও কাজ কারবার করতে থাকে। বেনফিল্ডের ভাষায়, বয়েড বেনফিল্ড এন্ড কোম্পানির কাছে সমগ্র বাণিজ্যিক বিশ্বই লাভের জায়গা।

তাদের সমৃদ্ধিবেশি দিন টেকেনি। ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আশায় বয়েড বিশাল পরিমান সরকারি ফান্ডে বিনিয়োগ করে, এবং ফ্রান্সের বয়েডের ফরাসি সম্পত্তি নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ করতে থাকে। ১৭৯৭ সালে লর্ড মালমেসব্যারির লিলির শান্তি দৌত্য বিফল হওয়ায় তাদের এই উদ্যম বিফলে যায় এবং তাদের আর্থিক অবস্থা গুরুতর ভাবে প্রশ্ন চিহ্নের সামনে পড়ে। বয়েড বেনফিল্ড সরকারি সাহায্য ও বেসরকারি বিনিয়োগ দুইটিই পায় কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয় নি, ১৭৯৯ সালে কোম্পানিকে গোটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বেনফিল্ড তার তার শেষ বছরগুলি ফ্রান্সে চরম দারিদ্রের মধ্যে কাতান। একটি চটি লিখে তিনি তার দুর্ভাগ্যের জন্য বয়েডকে দায়ি করেন। ১৮১০ সালে তার শেষ যাত্রার খরচ পারিবাসীরা চাঁদা দিয়ে বহন করেন।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৬ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{আমরা এই পর্বে আলোচনা করছি কোম্পানি ছাড়া বাংলা তথা ভারত লুঠের কারিগর ব্যক্তিরা বাংলা থেকে অর্থ নিয়ে গিয়ে ব্রিটেনে কিভাবে বিনিয়োগ করতেন তার বর্ণনা}

অক্সফোর্ডশায়ারের ক্যাভারশ্যামএ দারুণ একটি প্রাসাদ কিনেছিলেন মারস্যাক প্রাক্তন মালিক লর্ড ক্যাডোগ্যানএর থেকে। লর্ড স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ করে বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা করেন - একদিন রাতে ঝলসানো গরুর মাংস দিয়ে খাবার খেতে খেতে মারস্যাকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এক মুঠো অর্থের বিনিময়ে জমি, বাড়ি, আসবাব, মদ্যের সেলার সব বিক্রি করে দিলেন। ক্যাভারশ্যামএর প্রাসাদটি তৈরি হয়েছিল তৃতীয় উইলিয়মের সময় ১ লক্ষ ৩০ হাজার পাউণ্ডে। এই বিপুল এবং সুসজ্জিত প্রাসাদটি তার দৃষ্টিতে নতুন করে সাজিয়ে তোলার দরকার ছিল সেই সময়ের শৈলীতে। অনেকেই ভেবেছিলেন ভবিষ্যতে হেস্টিংস হয়ত এখানেই থাকবেন। জমিদারিটি ছড়ানো ছিল ৪২০০ একরে, আরাএ ৫০০ একর ছিল সুন্দর সাজানো বাগান এবং আনন্দের নানা সরঞ্জাম সমন্বয়ে। গুঞ্জন যে জর্জ দ্বিতীয়র অবৈধ পুত্র ছিলেন মারস্যাক। ১৭৩৭ সালে মারা যাওয়ার সময় তার সম্পত্তির দর ছিল ১,৮২,০০০ পাউন্ড।
বার্কশায়ারের বাসিলডমটি মালিক লর্ড ফেন তার সম্পত্তি বিক্রি করে দেন স্যর ফ্রান্সিস সাইকসকে ১৭৭০ নাগাদ। বাগানটাই ছিল ৩ মাইল ঘেরা তার ভেতরে একটা আরও সাজানো বাগান। সাইকস য়র্কের কারকে নিযুক্ত করেন তার বাড়িটি পরের দিকে প্রবাদ হয়ে যাওয়া চারটে স্তম্ভ দিয়ে সাজিয়ে তুলতে। ভেতরে ছিল একটি গ্রান্ড সালঁ, ডাচ ছবিয়ালদের তৈরি করা দারুণ ছবিঘর।
ভারত থেকে ফিরে আসা নবোবদের মধ্যে আরও যারা বড় দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ বানান তাদের নামও করা দরকার। হ্যাম্পশায়ারে জেনারেল করন্যাকের ১৮০০০ পাউণ্ডের নোবেল প্যালেস, পরে নাম হয় ভাইল প্যালেস। সাউদাম্পটনে আরও একটি ছ’বাহু বিশিষ্ট প্রাসাদ বানান। লর্ড পিগো স্ট্যাফোর্ডশায়ারের প্যাটসহলের গাঁয়ে দেশের সব থেকে সুন্দর দেখতে একটি বিশাল প্রাসাদ কেনেন ১ লক্ষ পাউন্ড ব্যয়ে। রিডিংএর কাছে হোয়াইট নাইটে ব্রিটিশ অভিজাতদের আতিথেয়তা নিয়ে বাস করতেন উইলিয়ান ব্যায়াম মার্টিন। স্যর টমাস রামবোল্ট হার্টসএর উডহলে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাসাদ বানান। এটি রামবোল্টের মৃত্যুর পর পল বেনফিলড নতুনভাবে তৈরি করেন।
নবোবেরা ব্রিটেনে যে তোলপাড় করেছেন তার কারণ হাতে গোনা কয়েক জন ধনী, অভদ্র নবোবের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। অবশ্যই বহু ভারতবর্ষ থেকে খুব বেশি অর্থ না নিয়ে আসা অধিকাংশ নবোব সম্মান নিয়ে বোধবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে শান্তভাবে জীবন কাটিয়েছেন। তবে হাতে গোণা নবোবদের বদনাম বেশি। তাদের মধ্যে কেউ বেশ্যাদের সঙ্গে লন্ডন ট্যাভার্নে বেলেল্লাপনা করছেন, কেউ আবার রেসুড়েদের জুয়াড়িদের ফাঁসি গলায় স্বচ্ছায় পরছেন। স্কট হেস্টিংসেকে লিখছেন মনে হচ্ছে যেন সেক্সপিয়ার যেন স্বয়ং সেখানে, মাথ্যামোটার মত জুইয়া খেলে দুহাতে টাকা ওড়াচ্ছেন।
পিটের ইন্ডিয়া বিলে একটি অংশ ছিল যেখানে বলা ছিল হতভাগ্য বাব্বারা যেন বেলেল্লাপনার জন্য লম্পট নবোবদের হাতে নিজের মেয়েকে তাদের ভাল ভবিষ্যতের খোঁজে তুলে না দেয়। পিটের সামনে এ ধরণের কিছ উদাহরণ নিশ্চই পেশ করা হয়েছিল, যা আতঙ্কের, যা আমাদের ধর্মের, আমাদের আইনের বিরোধী।
এই অবস্থায় আমরা বলতে পারি ট্যাভার্নে যে ব্যক্তিটা ব্রিটিশ অভিজাতর সজ্জায় লম্পট নবোবের আত্মা ধারণ করে, এবং সেটি যে আত্মহত্যার একমাত্র চিত্রনাট্য সেটা তার খেয়ালে থাকে না।
এই ধরণের খেলুড়ে ক্ষণজীবি নবাব ছিলেন জেনারেল রিচার্ড স্মিথ। ক্লাইভ ছাড়া এ ধরণের অন্য স্তরের খেলুড়ে নবোব লন্ডনে ছিল না বলাই যায়। প্রশ্নহীনভাবে তিনি নবোবদের নবোব। জনগণের মনে নবোব বললেই যে সব ‘গুণের’ কথা মনে পড়ে সেই সব গুণের অধিকারী ছিলেন স্মিথ। তিনি যেন ফুটির স্যর ম্যাথু মিটি। তিনি বহু ক্ষেত্রেই বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিজে পার্লামেন্টেরিয়ান, ফক্সের অন্ধ অনুগামী, বার্কশায়ারের হাই শেরিফ, এবং গাঁয়ে চিলট্রেন লজের মালিকও। লন্ডনের এক সময়ের গুঞ্জন, বেলেল্লাপনার কেন্দ্রবিন্দু। শোনা যায় তিনি অক্সফোর্ডে জেন্টেলম্যান কমোনার হিসেবে হিসেবে ঢুকে তার জনগণের উদ্দেশ্যে জোবন উতসর্গ করতে চেয়েছিলেন। তিনি ড্রামন্ড ব্যাঙ্কিংকে দেড় লক্ষ টাকা উপহার দিলেন কারণ তারা তার ছোটবেলায় কবে একবার অর্ধেক ক্রাউন দিয়ে সাহায্য করেছিল।
তার সমসাময়িকদের মধ্যে জেনারেল ছিলেন মূলত জুয়াড়ি এবং রেসুড়ে। সেন্ট জেমস ক্লাবে তিনি শোয়ার আগে ওয়েটারকে জানিয়ে ছিলেন কেউ যদি তার বিরুদ্ধে ৩০০০ পাউণ্ড নিয়ে খেলতে আসে তাহলে যেন তাকে জাগানো হয়। তিনি একটি আরবি ঘোড়া পুষতেন। জকি ক্লাবের সদস্যও ছিলেন। তার স্কার্লেট কালার নামে ঘোড়া ১৭৮০ সালে ওকস এবং ১৭৮১র ডার্বি জেতে।
তার মানি ঘোড়ার নাম ছিল রোজালিতা। তার বাদামী ঘোটকী ১৭৭৮ সালে রসাতা নামে একটি ঘোড়ার জন্ম দেয়। ১৭৮১তে তার প্রথম রেস হল নিউমার্কেট স্প্রিং মিটিং সেই রেসে চার অন্য ঘোড়ার থেকে আগে দৌড়ে ৫০ গিনি রোজগার করে। পরের অক্টোবরে তিনি ফক্সের রডনি নামক ঘোড়াকে হারিয়ে দেন। তিনি দুবার রয়্যাল পার্স জেতার মত বহু দৌড় তিনি জিতেছেন।  

Saturday, July 1, 2017

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৫ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, অন্তত আমাদের লুঠ আলোচনায়। নবোবেরা যে বিশালতম অর্থ মেট্রোপলিটনে নিয়ে যান, সেই বিপুল অর্থ শুধু শহরের শিল্প পরিকাঠামো তৈরি বা লুঠেরা প্রযুক্তি বিকাশে ব্যয়িত হয় নি, তা গ্রামে বিপুলভাবে বিনিয়োগিত হয়েছিল। বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় যে সব বিশালকায়
দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ তারা বানাচ্ছেন, সে প্রাসাদ শুধু প্রাসাদ হয়ে থাকছে না, এদেশের সাধারণ মানুষকে লুঠের অর্থ যাচ্ছে সে দেশের গ্রামীন অর্থনীতিতে থাকা মানুষজনদের সিন্দুকে। যে সময়ে ৫০০-৬০০ ডলারে লন্ডনে সারা বছর রাজার হালে থাকা যেত, সে সময় এক লক্ষ বা তারও বেশি অর্থ দিয়ে জমিদারি কিনছেন নবোবেরা।
ফলে দেশের পরিকাঠামো বিকাশে এগুলি কাজে লেগেছে। তাতে কর্পোরেটি করণ বেড়েছে। এই অধ্যায়ে আমরা দেখছি গ্রামে বিনিয়োগ}

চতুর্থ অধ্যায়
ইংলন্ডে আসা নবোবেরা কেউ উচ্চশ্রেণীর জীবনযাত্রা অনুসরণ করেছেন কেউ আবার পুরোনো গাঁইয়া ধরণের জীবনেই থেকে গিয়েছেন। বহু নবোব ব্যবসায় জুড়ে গিয়েছেন বা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে এবং প্রযুক্তি ব্যবসায় সময় কাটিয়েছেন। অধিকাংশই শহরের নিশির ডাক এড়াতে পারেন নি।
জমির ক্ষুধা অধিকাংশ নবোবকে পেড়ে ফেলেছিল। পার্লামেন্টে একটা আসন আর গ্রামে একটা বৃহৎ জমিওয়ালা বাড়ি যে কোন নবোবের আদর্শ। তবে গ্রামের জমিদারি সব থেকে বেশি আকর্ষনীয় প্রকল্প ছিল। জমির মালিক হওয়া ভাল বিনিয়োগ ছিল, এলাকায় সম্মান আর তার সঙ্গে রোজগারো। বাংলা থেকে যে সব ইঙ্গ-বঙ্গ নবোব হয়েছেন, তাঁরা জমিদারিটাই বেশি পছন্দ করতেন। কলকাতায় লটারির প্রথম নামটি ওঠা আর মিডলসেক্সে জমিদারি কেনা সমার্থক ছিল। ১৭৭৪ সালে একজন জমির দালাল বিজ্ঞাপন করছে এই বয়ানে যে, বিদেশ থেকে বিপুল সম্পদ নিয়ে দেশে আসা ভদ্রমানুষদের জমিতে বিনিয়োগ করাই পরম বাঞ্ছনীয় কর্ম। আমরা তিন নম্বর জোড়াপাতায় দেখিয়েছি বেশ কিছু নবোব জমিদারের নাম। বহু সময় ভারতথেকে ফিরে প্রাসাদ কেনা নবোবেরা প্রাসদটা এবং তার সংলগ্ন জমিটাও বদলাতেন। যারা আরেকটু ধনী হয়ে আসতেন, তারা সাধারণত ভারত(মূলত বাংলা, কিছুটা মাদ্রাজ আর বম্বে)এর স্মৃতিটা বাড়ি আর বাড়ির হাতার সাজগোজে ঢেলে দিতেন।
উইলিয়াম হর্নবি চাকরির ৪৩ বছর পালন করলেন, যার মধ্যে ১৩ বছর গভর্নর ছলেন। দেশে ফিরে হ্যাম্পশায়ারে হুক হাউস তৈরি করেন বম্বের গভর্নর হাউসের অনুসরণে। ছবি আঁকিয়ে বা স্থপতিকে তার পুরোনো পেশাকে উজ্জ্বল করে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন বলাইবাহুল্য। স্যর রবার্ট বার্কার সারের গোল্ডমাইনিঙের বুসব্রিজের প্রাসাদ টিনি কেটলে তার সেনা বাহিনীর কাজের দুটি স্মৃতি-তৈলচিত্র আঁকিয়ে নেন, একটি রোহিলাদের বিরুদ্ধে ফৈজাবাদ চুক্তি এবং আরেকটি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে অযোধ্যার নবাব ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দেখছেন। ১৭৬০ সালে উইলিয়াম ফ্রাঙ্কল্যান্ড বাংলা থেকে যাত্রা করেছিলেন, তাতারি দূতের ছদ্মবেশে পারস্য উপসাগর হয়ে বাগদাদ এবং জেরুজালেম পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তিনি সাসেক্সের মুন্থামে যে প্রাসাদটি বানান তাতে তিনি একটি নিজের বিশাল তৈল চিত্র আঁকান যেখানে তিনি তাদমুরের মরুভুমিতে পবিত্র ভাষ্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
১৭৬৭ সালে রবার্ট পল্ক মাদ্রাজের গভর্নরের পদে ইস্তফা দিয়ে ১৭৬৯ সালে কোম্পানির প্রস্তাবিত ডায়রেক্টর উইলিয়ম ওয়েবারের থেকে ডেভনশেয়ারের প্রাসাদটি কেনেন তার নাম রাখেন হালডন হাউস। বাকিংহাম হাউসের অনুকরণে অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিককার তৈরি এই প্রাসাদ পল্কএর পছন্দ হয় নি। প্রচুর পরিবর্তন করেন এবং নতুন স্থাপত্য জোড়েন। বাড়িটি আরও একতলা উঁচু করেন। ইঁটের ওপরে স্ট্যাকেটো করে তার বহিরাঙ্গটি পাথরে রূপান্তরিত করেন। ভারতে ফরাসীদের থেকে যে কাঠ তিনি দখল করেছিলেন, সেগুলি দিয়ে তিনি লাল-হলুদ রঙের মেঝে তৈরি করেন। তিনি শুধু তার বাড়ির সামনের দালানটা রূপ পরিবর্তন করলেন না, পার্লামেন্টে আইন করে বাড়ির হাতায় কয়েশ একরেরও পরিবর্তন করলেন। তার সঙ্গে ভারতে কাটানো জেনারেল স্ট্রিঙ্গার লরেন্স হ্যাডনের কাছে বাস করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে তাঁর স্মৃতিতে পাশের পাহাড়ের উঁচু শৃঙ্গে একটি প্রাসাদ লরেন্স ক্যাসল তৈরি করান যেখানে আর্কোটের নবাব, ওয়ালাজার কোন একটা বক্তব্য উৎকীর্ণ ছিল।
লরেন্স ক্যাসলের মতই আরও একটা ইঙ্গ-বঙ্গ প্রাসাদ হল উলউইচ কমনের কাছে শুটার্স হিলের সেভেনদ্রুগ   ক্যাসল। এর মালিক স্যর উইলিয়াম জেমস ইস্ট ইন্ডিয়া নেভির কমোডোর ছিলেন, মাঝারি গোছের নাম করেছিলেন, কিন্তু সম্পদ ভাগ্য অতীব সুপ্রসন্ন ছিল। তিনি ১৭৫৫ সালে বম্বের সেভেনদ্রুগ দুর্গে থাকা এক জলদস্যুকে খতম করেন। স্যর উইলিয়াম ১৭৮৩তে মারা যান। তাঁর বিধবা, প্রাসাদের ছাদে একটি ত্রিভূজাকৃতি টাওয়ার বানান।
খুব বড় প্রাসাদ যে সব নবোব বানিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতমরা ছিলেন রিচার্ড স্ট্যান্সটেডএ, সাসেক্সে বারওয়েল, অক্সফোর্ডশায়ারের ক্যাভারশ্যামে মে৪জর চার্লস মারসাক, বার্কসায়ারের বাসিলডনে স্যর ফ্রান্সিস সাইকস।

বারওয়েল এবং মারসাক তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়ে চলেছিল। বারওয়েল ৯০ জাহার পাউণ্ডে স্ট্যান্সটেড জমিদারিটি কেনেন যা তখনকার সময়েও জলের দর। এর আগে মালিকেরা ১,৪০,০০০ পাউণ্ডের দর ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এই জমিদারিটি কিনতে খুব কম সময়ের মধ্যে বারওয়েল নগদ টাকা হাত বদল করেন। স্ট্যান্সটেডের এলাকা ছিল পাঁচ মাইলের বৃত্তে ঘেরা। তিনি তার প্রাসাদটির বাগান ক্যাপাবিলিটি ব্রাউনকে দিয়ে এবং স্থাপত্য বোনোমি এবং জেমস ওয়াটকে দিয়ে পরিকল্পনা করান। কাজটা শেষ হলে তিনি জানান প্রাসাদটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ সৌন্দর্যবোধ দিয়ে উন্নত করা গেল।

বাংলার সম্পদ লুঠ চর্চা১৪ - নবোবস ইন ইংলন্ড – আ স্টাডি অব দ্য রিটার্নড এংলো-ইন্ডিয়ান ১৭৬০-১৭৮৫

জেমস হোলজম্যান(১৯২৫)

{হোলজম্যান ভারত থেকে হেস্টিংসএর খুব বেশি অর্থ না নিয়ে আসার তত্ত্ব সমর্থন করেছেন। ভারতে হেস্টিংস আর তার বন্ধুরা ১১৭৭৬এর গণহত্যাতেও বিপুল লুঠ চালিয়েছিলেন, ফলে অন্যসময়ে যে কিভাবে লুঠেছেন তা আন্দাজ করা শক্ত নয়। "দ্বিতীয় ইতিহাসঃ লুঠেরা ইংরেজ, সাথী মধ্যবিত্ত, সাংস্কৃতিক গণহত্যা আর গ্রামীন স্বাধীণতা সংগ্রাম" নামক খোঁজে পার্থ পঞ্চাধ্যায়ী, বিশ্বেন্দু নন্দ, এবং কলাবতী মুদ্রার নথিকরণ দল দেখিয়েছে কি ধরণের লুঠের কাজ চলত বাংলায় হেস্টিংসের নেতৃত্বে। সেখান থেকে কয়েকটি স্তবক তুলে দেওয়া গেল -
ব্যবসার নামে লুঠ ছাড়াও সরকারের সঙ্গে লাভের চুক্তিতে চাকুরে ইংরেজরা রোজগার করত। বাঙালা সুবায় ব্যবসার আধিপত্য চালাবার জন্য বোর্ড অব ট্রেড তৈরি করেছিলেন হেস্টিংস। সদস্যরা নিজেদের মধ্যে গোপন চুক্তি করত, উত্পাদকদের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিকে পর্যন্ত ঠকিয়ে টাকা বানাত – ঠকচাচা হেস্টিংস সব জানত শুধু নয়, নিজে এই পরিকল্পনাটির জন্মদাতাও বটে। ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবসহ ওয়ারেন হেস্টিংসএর উপবৃত্তে ঘোরাফেরা করা বন্ধুরাই এই ধরনের পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা লাভের সুযোগ পেত। ১৭৬৩ থেকে দাউদাউ জ্বলতে থাকা গ্রামীণ বাঙলার দ্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করার সাথীরূপে, সক্রিয়ভাবে দেশিয় শূদ্র-বৈশ্য-মুসলমান ব্যবসায়ীদের মাজা ভেঙে সম্রাজ্যের ভিত শক্ত করার প্রতিক্রিয়ায়, গ্রাম বাঙলা ছেড়ে কলকাতা শহরে চলে আসা বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারেরা, এই লাভের লুঠের বখরা পেয়েছেন। এঁরা আর এঁদের উত্তরসূরীরা আগামীদিনে বাঙলার নবজাগরণের উদিতসূর্য অভিধা অর্জন করবেন, সর্বজনমান্য হয়ে রইবেন আজও।
বোর্ড অব ট্রেডএ বন্ধু-ব্যবসায়ীদের(বন্ধুরা সবসময়ে ব্যবসায়ীই যে হতেন এমন নয়) সঙ্গে বাঁধ দেওয়া, রাস্তা চওড়া করা, রাস্তা তৈরি করা, কোম্পানিকে ঘোড়া, ষাঁড়, আফিম, নানান উচ্চলাভের অসামরিক-সামরিক দ্রব্য যোগান দেওয়ারমত লোভনীয় সরকারি চুক্তি হত। স্টিফেন সুলিভান, চার্লস ক্রফটস, চার্লস ব্লান্ট, জন বেলি প্রভৃতিরা এই সমস্ত উচ্চ মুনাফাদার সরকারি ব্যবসার সুযোগ পেতেন। মাটিতে দাঁড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন কিন্তু ইংরেজ অনুগামী বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার, পাইকার আর ব্যবসায়ীরা। বোর্ড অব ট্রেডএর ব্যবসার আকাশ ছোঁয়া লাভের অধিকাংশ যেত ইংরেজদের সিন্দুকে, ছিটেফোঁটাতেই খুশি থাকতে শিখেছিলেন এদেশিয় দালালেরা।
বোর্ড অব ট্রেডএর চুক্তিতে ক্ষুব্ধ কোম্পানির ডিরেক্টর সভা কর্মচারীদের দেশে ফেরার পর কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করে – যাদের মধ্যে প্রভাবশালী হেস্টিংসও ছিলেন। ভারতে কোম্পানির আমলাদের ব্যবসায় বাস্তবিক যে ইতরবিশেষ ঘটেনি তার প্রমাণ ব্যবসায়ীদের থেকে হেস্টিংসের বেনিয়ান কান্তবাবু, আরও পরে রামমোহন, দ্বারকানাথদেরমত মানুষদের অবাধে বেড়ে চলা দস্তুরি নেওয়ার প্রবণতা থেকে। দেশিয়দের খুঁটি ইংরেজ বড় আমলারা, যাঁরা বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারদের মাধ্যমে বাঙলায় অবৈধ ব্যক্তিগত ব্যবসা করত। পণ্য কেনার সময় বাঙালি কর্মচারীরা দস্তুরি নিত, প্রতি টাকায় পাঁচ গণ্ডা থেকে ৩০ গণ্ডা দরে। কোম্পানি কর্মচারীদের লুঠের কাজে সরাসরি সাহায্য করত বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান আর দেওয়ানরা দুহাত ভরে। এরাই বেনিয়ান রামমোহন রায় অথবা ব্যবসায়ী দ্বারকানাথ ঠাকুরের পূর্বসূরী।
ইংরেজেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়রত দেশিয় ব্যবসায়ী আর রায়তদের অসীম দুর্দশায় ইংরেজ কর্মচারীরা আর ইংরেজমুখী বাঙালি কর্মচারী, দালালেরা রোজগার করতেন। বাঙলায় মুক্তিসূর্য রামমোহন-দ্বারকানাথসহ কলকাতার অমিততেজেরা, অথবা রেনেসাঁজাত খ্যাত অখ্যাত নানান ব্যক্তিত্ব কোথা থেকে তাদের ব্যবসা শুরুর অর্থ অথবা নিজেদের ঠাটবাট বজায় রাখার সম্পদ পেতেন, তার রহস্য বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারদের অবৈধ দস্তুরির রোজগার আর ব্রিটিশদের সঙ্গে লুঠের অবৈধ ব্যবসার সাথী হওয়া থেকে পরিস্কার।
মুর্শিদাবাদের দরবারে রেসিডেন্ট কমিশনার সাইক্স সোরা, রেশম আর কাঠের ব্যবসার সেলামি থেকে একা রোজগার করেছেন বার থেকে তের লক্ষ টাকা, তার দেওয়ান অথবা বেনিয়ান কত রোজগার করেছে তা অনুমানযোগ্য এবং তার কর্তা হেস্টিংস কত রোজগার করেছেন এই প্রশ্ন সকলের জন্য পেশ করা গেল।}

কোম্পানির কেন্দ্রিয় দপ্তর লিনডেলহন স্ট্রিট স্কটের যেন ঘরবাড়ি ছিল। কিন্তু সেখানেও তিনি কান পেতে রইতেন তার বাবু সম্বন্ধে কোন বিপরীত মন্তব্যের। কোর্ট অব ডিরেক্টর্সের চেয়ারম্যান রবার্ট গ্রেগরি সম্বন্ধে তিনি ১৭৮২ সালের ৩ মার্চের চিঠিতে লিখছেন, প্রায় সব কিছুতেই গ্রেগরি আপনার বিপক্ষতা করেন। ২৫ মের চিঠিতে দেখা যায় গ্রেগরির মনের পরিবর্তন আসছে আবার ২০ জুনের চিঠিতে তিনি আবার আপনার বদ্ধপরিকরভাবে শত্রু হয়ে উঠেছেন। ১২ তারিখের চিঠির পুনশ্চতে লিখছেন, আমরা নিশ্চিত গ্রেগরি নিজেই তার পদত্যাগপত্র পেশ করবেন। আমরা যেভাবে তাকে ব্যঙ্গ করতাম তা তিনি হয়ত সহ্য করতে পারেন নি। সে আধা হতচ্ছাড়া লোক ছিল।
তার চিঠি প্রচুর জোরালো মানবিক উপাদানে ভরপুর থাকত। ঠিক যে জন্য হেস্টিংস তাকে পছন্দ করেছিলেন এবং এই জন্যই তার রাজনৈতিকভাবে পরাজয় ঘটেছিল। ফ্রান্সিস নামক জাহাজে তার চিঠি পাঠাবার প্রসঙ্গে মন্তব্য করছেন এই নামটা আমি সবচেয়ে ঘৃণা করি। হাউসের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিস্টার ফ্রান্সিস আজ আপনাকে ভদ্র তো লাগছেই তার সঙ্গে মনে হচ্ছে আপনি ভেড়াবেচা ছোটলোক। একটা চিঠিতে মিসেস সিডনসের একটা ছবি দিয়ে তিনি লিখলেন, তিনি লন্ডনের যে কোন দুর্ঘটনাকে ম্লান করে দিতে পারেন, সুদূর লন্ডনে তিনি মিসেস হেস্টিংসের পরিপূরক হয়েই থাকবেন। কখোনো তিনি মিসেস হেস্টিংসকেও লিখতেন। মেরি বারওয়েল(বারওয়েলের উৎকেন্দ্রিক অবিবাহিত বোন) এক হপ্তার জন্য তার সঙ্গে প্রায় রাতে দেখা করতে আসতেন এক থলে মন্তব্য নিয়ে; তিনি আপনার উদ্দেশ্যে বলতে বলতেন যে বাংলার মিস উইলিয়ামস এখনও স্বামী জোটাতে পারে নি(যদিও পরে তিনি হেস্টিংস ঘনিষ্ঠ চার্লস চ্যাপম্যানকে বিয়ে করেন)।
অনুগামী মেজর স্কট হেস্টিংসকে বার বার বলতেন ইংলন্ডে ফেরার আগে নিজের ভাগ্য ফেরাতে। লর্ড নর্থ, লর্ড ম্যানসফিল্ড, এমন কি তার শত্রু গ্রেগরি বলতেন বাংলার মত গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্যে গিয়ে এত দিন থেকে ২ লক্ষ পাউন্ড এবং বছরে পাঁচ হাজার মাসোহারার বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করে তার এদেশে আসা উচিৎ। হয়ত হেস্টিংসের এর অর্ধেক সম্পদ ছিল না। ১৭৮২ সালে তার অন্যতম উকিল স্যর ফ্রান্সিস সাইকস স্কটকে লিখছেন, হেস্টিংস যদি আমার ১ লক্ষ পাউন্ড দেয় তাহলে তাকে আমি একটি গোটা বরোর দুটি আসন দিতে পারি। এ ছাড়া তার পক্ষে এ দেশে প্রাধান্য পাওয়া খুব কঠিন।
স্কট নিজের জন্য খুব বেশি খরচ করতেন না। এবং তিনি টাকা অযথাও খরচ করতেন না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আমি একজন সম্পাদককে আপনার পক্ষে লেখার জন্য ১ হাজার পাউন্ড দিয়েছি, এবং এর চল্লিশগুণ একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পার্লামেন্টেরিয়ানকে দেওয়া অযুক্তিযুক্ত কেননা, সেই ঘুষ দিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করা কাগজটা ট্যাভার্নে রাকাহ আথাকে এবং আমি আনন্দের সঙ্গে সেই সংবাদটি নিয়ে ট্যাভার্নে আপনার বন্ধুদের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারব। ১৭৮৪ সালের জুলাইতে ১৭০০ পাউন্ড খরচ হয়েছে প্রবন্ধ ছাপার জন্য আর ৪০০০ পাউন্ড পার্লামেন্টে বসার জন্য।  

(তৃতীয় অধ্যায় শেষ)