Showing posts with label আয়ুর্বেদ. Show all posts
Showing posts with label আয়ুর্বেদ. Show all posts

Friday, March 20, 2020

কেন্দ্রিয় চিকিৎসা জ্ঞানচর্চা বনাম সামাজিক চিকিৎসা জ্ঞানচর্চা

পার্থক্য মৌলিক - দর্শনটায় পার্থক্য আছে
দ্বিতীয়টা স্থানীয় ব্যবস্থা নির্ভর, স্থানীয় রোগভোগ, গাছগাছড়া ইত্যাদি নির্ভর, কোনও রকম কেন্দ্রিয় নিদান নির্ভর নয়। প্রথমটা মূলত বই নির্ভর, মূলত ব্যক্তি, গুরু নির্ভর, ভদ্রবিত্ত নির্ভর।
কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালাতে গেলে কেন্দ্রিয় নিদান প্রয়োজন হয় - কারণ রাজা/পাদশাহকে প্রশাসন চালাতে হয়। তাই সে কেন্দ্রিয়ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে নানান ধরণের আমলা তৈরি করে, চিকিতসকও তৈরি করে রাজত্বে ছড়িয়ে দেয় যাতে তারা রাজার নির্দেশ মান্য করে। সেই জন্যে আয়ুর্বেদের আবির্ভাব। চরক, শুশ্রুত এবং বাঙালি ভগভট্ট বিভিন্ন পরম্পরার সমাজে যে সব চিকিৎসা জ্ঞান ছিল সেগুলো টুকলেন এবং তাদের জ্ঞান স্বীকার নাকরেই আয়ুর্বেদ লিখে ফেললেন।এটার চরিত্র আদতে সংহিতা - এডিটেড ভার্সান। সমাজে তৈরি হল কেন্দ্রিয় নিদানের বই - ইহা হইলে ইহা হইবে মার্কা - এখন যেমন বিপ্লবের নিদান বই হয় - কী করিতে হইবে। এই বই নকল করে রাজ্যজুড়ে নিদানাচার্যদের হাতে ধরিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকল, এলাকা এলাকা ভাগ করে রোগ রোগীর সমস্যা নিদান দিতে হল না, শুধু উপসর্গ বুঝে বই খুলে ওষুধ দেওয়া। আর সংস্কৃত ভাষায় লিখলে সাতখুন মাপ। সারা ভারতে ছড়াল। দেবভাষা বলে কথা।চিকিতসায় কেন্দ্রিয় আমলাতন্ত্র। ব্রাহ্মণ্যবাদের সঙ্গী অশোক হাসপাতাল তৈরি করলেন, আমরা আহাউহু করলাম। কেন্দ্রিভবন শুরু হল। মেধাভিত্তিক, শ্রেষ্ঠী এবং রাষ্ট্র ভিত্তিক বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চা যাকে আপনারা এতদিন গণ ভেবেছেন, তা আদতে গণ ছিল না ছিল ভদ্র নির্ভর কাঠামো।
কিন্তু দেশিয় চিকিৎসা অঞ্চল নির্ভর। একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে আবহাওয়া কৃষি শিল্প উৎপাদন মানুষের কাজকর্ম জীবনযাত্রা ইত্যাদি নির্ভর করে নিদান দেওয়া হত। কোনও কেন্দ্রিয় নিদান ছিল না, কোনও নির্দিষ্ট গুরুঠাকুর ছিল না। সমাজ ছিল, সামাজিক নিদান ছিল, চিকিৎসকের কোনও নাম ছিল না। কেননা তার নাম কিনতে হত না, সমাজে থাকত, তার উচ্চাশা ছিল না জীবক বা ভগভট্ট বা সুশ্রুত হব রাজার পিঠ চাপড়ানি, হয় রাজসভায়, সেখানে যদি না কুলোয় তাহলে বিদেশে পোস্টিং পাব।

Monday, August 20, 2018

নবজাগরণের অপ্রমিতিয় জ্ঞান আত্মীকরণ - সেই পরিবেশে বিদ্যাসাগর মশাইকে বোঝা দরকার

নবজাগরনীয় ভদ্রলোকেরা উপমহাদেশজুড়ে যে জ্ঞানচৌর্যবৃত্তি করেছেন, সেই প্রেক্ষিতে বিদ্যাসাগর মশাইএর কাজকর্মকে বোঝা দরকার। আমার মনে হয় তাঁর নানা কাজকে আমাদের আজ নিরামিশই মনে হবে - যদিও বিদ্যাসাগর মশাই বলেই বিষটি চোখে লাগে, অস্বস্তি বোধ হয়। সময়ের প্রেক্ষিতে তাঁর কিছু কাজে যে বৌদ্ধিক নৈতিকতার অভাব দেখি সেগুলোর বিশাল প্রভাব পড়েছিল এটাও মনে রাখা দরকার।
তিনি যা করেছেন সব প্রমিত সমাজের কাণ্ডারী ভদ্রলোকেদের উপকারের জন্যে - নিজের বা নিজের পরিবারের জন্যে একফোঁটা কিছুই করেন নি। তাঁর সময়ের প্রখ্যাতরা ব্রিটিশ সম্পদ লুঠের সঙ্গী হয়ে প্রচুর সম্পদ উত্তররজন্মের জন্যে রেখে গিয়েছেন, তিনি তা করেন নি - তাঁর শেষ কপর্দকটুকুও বেঁটে দিয়ে গিয়েছেন। সমাজের রাষ্ট্রের জন্য তিনি প্রাণ নিবেদন করে দিলেও, কলকাতার বিশ্বাসঘাতক প্রমিত সমাজ একটাও আন্দোলনে তাঁর পাশে দাঁড়াল না, বরং তাঁকে নানাভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা করে গিয়েছে - রসময় দত্ত ঘটনা মনে করুণ।
কি ধরণের চুরির পরিবেশ? সে সময়ের একটা-দুটো উদাহরণ দেব। ভারতজোড়া উদাহরণ দিতে গেলে গোটা ফেবু পাতায় লিখেও লেখা ফুরোবে না।
ধরা যাক অয়ুর্বেদের কথা। এটি সংহিতা অর্থাৎ সঙ্কলন। অর্থাত চরক সুশ্রুত এবং যতদূর সম্ভব বাঙালি ভগভট্ট আলাদাভাবে তাত্ত্বিকভাবে স্বাস্থ্য নিদানগুলি আকাশ থেকে দৈববানী হিসেবে পান নি, বা নিজেরাও আবিষ্কার করেন নি - বরং নানান সমাজে প্রচলিত নিদানগুলি নিয়ে বহু সময় ধরে একটা কার্যকরী নিদান সংকলন বানাচ্ছেন। কিন্তু কোন নিদান কোন সমাজ থেকে তাঁরা ধার নিচ্ছেন, সে সূত্র রাখছেন না - মনে হচ্ছে এটি স্বয়ম্ভূ - আদতে তা প্রমিত চুরিই। আপনারা কি বলতে পারেন মেচ/রাভা/কুড়মি/সাঁওতাল/লোধা ইত্যাদি সমাজ তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আয়ুর্বেদ থেকে স্রেফ টুকেছে? তা অসম্ভব। গোটা ধারাটা প্রমিত ব্যবস্থা অপ্রমিত সমাজ থেকে চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছে।
আসামের পালা বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল বা দেওধনী - ওজাদের নাচের চলন দেখে বুঝবেন কি জটিল হস্তসঞ্চালন এবং পদসঞ্চালন - দেখতে ধ্রুপদী নাচের মত - আমিও লিখলাম ধ্রুপদী নাচের মত। ললিতা যখন অসমজুড়ে গবেষণা করছিল অধ্যাপকেরা তাকে বলে দিলেন এগুলি অপ্রমির সমাজ ধ্রুপদী ধারা থেকে নকল করে দেশিয়করণ করেছে। নানান বইতে তাইই লেখা আছে।
মনসাপুজা প্রেক্ষিতে আসামের মনসামঙ্গল ওজাপালিতে দেখিয়েছি কিভাবে প্রমিত সমাজ গোটা অপ্রমিত সমাজের নানা ধারা আত্মস্থ করছে এবং অপ্রমিত সমাজে যে সে রেণুগুলির চল ছিল সে স্মৃতি মুছে দিচ্ছে প্রমিত সমাজ-স্মৃতি থেকে। এবং আমরা গবেষণা করতে না গেলে জানতেই পারতাম না এই চুরি - হস্তমুদ্রা থেকে পদসঞ্চালন সব - সংস্কৃতওয়ালারা টুকন করেছে অবলীলায়। শুভঙ্কর পণ্ডিত(লাহিড়ী/চক্রবর্তী) এগুলি সঙ্কলন করলেন শ্রীহস্তমুক্তাবলীতে। এটি হয়ে উঠল ভারতীয় নৃত্যশাস্ত্রের একমাত্র আকরগ্রন্থ - অথচ সূত্র নেই কোথা থেকে তারা পেলেন। পরে গ্রাম সমাজের গভীরে গিয়ে এসব জানতে পারলাম।ভরতনাট্যমের যা আঢাউ, সত্রীয়ায় তা মাটি আখরা - যা নাচের মৌলিক একক। সত্রীয়ায় তা স্থানীয় অসংস্কৃত নামে পরিচিত জানলাম - এই হস্তমুদ্রাগুলি স্থানীয় পাখি ইত্যাদি নামে সংজ্ঞায়িত। কিন্তু শুভঙ্কর পণ্ডিতমশাই যখন টুকছেন তখন সেই দেশিয় নাম সংস্কৃতগন্ধী হয়ে যাচ্ছে, দেশিয় রেশ চলে যাচ্ছে - এবং স্থানীয় সূত্রগুলিও উবে যাচ্ছে।
বিদ্যাসাগর মশাই যখন প্রমিতদের উদ্ধারে রত তখন এই সব দুষ্কর্ম চলছে সারা উপমহাদেশে ইংরেজদের তাত্ত্বিকতায় ইওরোপিয় ক্ল্যাসিক্যালতা নকল করে ধ্রুপদীত্ব তৈরির বাসনায়। ভদ্রলোকেদের সমাজে উঠতে জ্ঞানচুরি, ঐতিহ্যচুরিই একমাত্র পথ। উপমহাদেশে যা কিছু লোকের ব্যবহার্য সব কিছু সৃষ্টি করেছে তো ছোটলোকে। পলাশীর আগে ভদ্রলোকেদের সংখ্যা কত আর বাংলার কৃষ্টিতে তাদেরই বা অবদান কত?
বিদ্যাসাগর মশাইকে এই চুরির প্রেক্ষিতে মনে হয় দেখতে হবে। এই প্রমিত ভদ্রলোকিয় চৌর্যবৃত্তির আবহাওয়ায় বিদ্যাসাগর মশাই ভাষাকে উদ্ধার করছেন যবনী মিশেল থেকে। তিনি এই চৌর্যাবহাওয়ায় এবং মেকলের তাত্ত্বিককতায় দেশিয় কৃষ্টিতে সার্বিক ঘৃণা তৈরির পরিবেশ তৈরি হল তিনি সেই আবহাওয়াতেই উষ্ট হচ্ছেন তাঁর মত করে। তিনি সেই পরিবেশের ধাক্কা প্রতিহত করতে পারছেন না। দ্বারকানাথের মত সঙ্গী হচ্ছেন।
যখন বুঝছেন তখন আর ফেরা উপায় নেই। পাশার দান তিনি চেলেই দিয়েছেন।

Wednesday, July 11, 2018

কেন এলোপ্যাথি এই বিনিয়োগ, রাষ্ট্রীয় মদত সত্ত্বেও পরম্পরার চিকিৎসার সাথে পেরে উঠছে না?

বহুকাল এবং আজও কেন ঔপনিবেশিক চিকিৎসা এবং ওষুধ উপমহাদেশিয়দের মনে দাগ কাটতে পারে নি তার একটা যুক্তিঙ্গত বর্ণনা দিচ্ছেন ডেভিড আর্নলড, কলোনাইজিং দ্য বডিতে।
কেন এলোপ্যাথি এই বিনিয়োগ, রাষ্ট্রীয় মদত সত্ত্বেও পেরে উঠছে না? গোটা ধারণাটা উপনিবেশিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই সাধারণ মানুষের আস্থা সে অর্জন করতে পারে নি। তাই ঔপনিবেশিক সময়ে বৈদ্য, হাকিম, কবিরাজ এমন কি ইওরোপ থেকে আসা হোমিওপ্যাথির সঙ্গে লড়ায়ে পেরে উঠছিল না, তাই তারা চিকিতসায়, চিকিতসকেদের, চিকিৎসা শিক্ষায় বৈধতা অবৈধতা, চিকিতসকেদের পঞ্জীকরণ ইত্যাদির ধারণা তৈরি করতে থাকলেও লড়ায়ে হারতে থাকে। বঙ্গভাগের পরও মূলতঃ এটি টিকেছিল সেনা ব্যারাকে, ইওরোপিয়দের বসতিতে। রাষ্ট্রীয় পুঁজির মদতে (বর্তমানে কবিরাজীও অনেকটা বড় পুঁজির অনুসারীভাবে বেড়ে উঠতে চাইছে) সে ঠিক করে কে চিকিতসক আর কে চিকিতসক নয়। সম্প্রতি ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়া সেই উদ্যমের একটি নমুনা।
আমরা কারিগরের সঙ্গঠনের পক্ষ থেকে যে দেশিয় চিকিৎসা এবং ওষুধের প্রচার প্রসারের কাজ করছি গত আধ দশক ধরে তাতেও এটা পরিষ্কার আজও কিছু হাতে গোনা ভদ্রবিত্ত বাদ দিলে অভদ্রবিত্ত সমাজ এখনও নির্ভর বিশ্বাস করে এই ব্যবস্থার ওপর।
The vexing question of medical registration brought to the fore many of the underlying contradictions and dilemmas in the checkered career of Western medicine in nineteenth-century India. After one hundred and fifty years of British rule, Western medicine was still struggling to establish itself among the people of India. Medicine had been far less successful in this regard than the legal profession which, with a minimum of state sponsorship and regulation, had flourished like a hothouse plant in the steamily litigious atmosphere of colonial India. Why had Western medicine, comparatively speaking, been left out in the cold? One explanation was that it had remained too closely identified with the requirements of the colonial state and so was remote from the needs of the people. It had failed to make the transition from state medicine to public health. Another explanation was that the mass of the population remained content with the innumerable and readily accessible practitioners of indigenous medicinethe kavirajas, the vaidyas, and the hakimsand either saw no reason to seek out the few Western-trained practitioners who were available or could not afford their fees. In 1900 even Calcutta, second city of the British Empire and a colonial metropolis of a million people, could support barely a hundred practitioners of Western medicine Despite the influential patronage of the colonial state, despite its own scientific claims and monopolistic aspirations, Western medicine had singularly failed to displace its indigenous rivals. Indeed, by 1914 the cohorts of a reformed and revitalized Ayurvedic and Yunani medicine were mounting a fresh assault on the privileged status of Western medicine in India, and even homeopathy, despite its European origins, seemed to be winning more adherents, especially in Bengal, than orthodox allopathic medicine. It is not surprising, then, that Western medicine is often seen as having had only a superficial impact on India, confined to the small "enclaves" of the army and the European community in India and, even as late as the 1940s and 1950s, as having made little impression upon the beliefs and practices of the great majority of the Indian population.
David Arnoldএর .Colonizing the Body : State Medicine and Epidemic Disease in Nineteenth-century India