Showing posts with label conservative upper-middle-classes. Show all posts
Showing posts with label conservative upper-middle-classes. Show all posts

Sunday, January 3, 2016

কার্ল মার্ক্স বামপন্থা এবং বাঙালী মধ্যবিত্ত

আনন্দবাজারের সম্পাদকীয় পাতার মিত্তিরজা'র আশ্লীল সাক্ষাতকারটা(তবু লাল ঝাণ্ডা দেখলে আমি এখনও স্বপ্নময়) আজকের আনন্দবাজারে(১৮ পৌষ, ৩০ ডিসেম্বর) কি কেউ পড়েছেন?
মিত্তিরজাকে অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে কিন্তু বাম্পন্থীরা কোনও দিনই তেমন এগোতে পারে নি, এর উত্তরে সারা জীবন বড় পুঁজির দাসত্ব করেও বিপ্লবী থেকে যাওয়া মিত্তিরজা অম্লান বদনে বলছেন -
তার কারণ ব্যাপক নিরক্ষরতা হেতু সমাজসচেতনতার প্রগাঢ অভাব ... এবং কেরলে কেন বামপন্থীরা সফল তার কারণ ...গরীব মানুষদের একটু-আধটু লেখা পড়ার শেখবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
সাধারণ মানুষ নিয়ে ঔপনিবেশিক মধ্যবিত্তের এই অশ্লীল বচন আর কত কাল? গোড়ায় গলদই থেকে গিয়েছে।
কার্ল মার্ক্স কোনোদিনই ভারতীয় গ্রামীণদের বিষয়ে খুব উচ্চধারণা পোষণ করতেন না - ফলে তার অনুগামীরাও তাঁর পথে হেঁটেছেন, আজও হাঁটছেন - এবং ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্তিয় চালচলনে অতিরিক্ত উতসাহী - তাই তাত্ত্বিক আলোচনার আধিবেশনের নাম হয় প্লেনাম, যে কোনো গণসঙ্গঠনের নাম দেওয়া হয় ইংরেজিতে।
মার্ক্স The British Rule in India প্রবন্ধে, (https://www.marxists.org/archive/marx/works/1853/06/25.htm) লিখছেন We must not forget the barbarian egotism which, concentrating on some miserable patch of land, had quietly witnessed the ruin of empires, the perpetration of unspeakable cruelties, the massacre of the population of large towns, with no other consideration bestowed upon them than on natural events, itself the helpless prey of any aggressor who deigned to notice it at all. We must not forget that this undignified, stagnatory, and vegetative life, that this passive sort of existence evoked on the other part, in contradistinction, wild, aimless, unbounded forces of destruction and rendered murder itself a religious rite in Hindostan. ...We must not forget that these little communities were contaminated by distinctions of caste and by slavery, that they subjugated man to external circumstances instead of elevating man the sovereign of circumstances, that they transformed a selfdeveloping social state into never changing natural destiny, and thus brought about a brutalizing worship of nature, exhibiting its degradation in the fact that man, the sovereign of nature, fell down on his knees in adoration of Hanuman, the monkey, and Sabbala, the cow( New-York Daily Tribune, June 25, 1853 প্রকাশিত)।
মার্ক্সএর মতে গ্রাম ভারত মিথ্যা ধর্ম এবং কুসংস্কারের দাস, এবং প্রকৃতি পুজক- brutalizing worship of nature। এখানেই না থেমে আরও বড় করে বললেন, ভারতীয়রা grandeur and historical energies অনুভব করেনি, আর ভারতীয় জনগণ undignified, stagnatory, and vegetative lives যাপন করছেন।
ফলে খুব কম ভারতীয় মার্ক্সবাদীই মিত্তিরজা'র মধ্যবিত্তিয় ধারণার বাইরে বেরোতে পেরেছেন।
দুর্ভাগ্য আমাদের। বা এটাই আমাদের সৌভাগ্যের কারণ - গ্রামীণেরা আজও ইওরোপন্থী মধ্যবিত্ত হয়ে যাননি।

Monday, September 2, 2013

১৮২৩ সালে কলকাতায় রক্ষণশীল উচ্চমধ্যবিত্তদের একটি সভার বর্ণনা, A description of a society of the then conservative upper-middle-classes of 1823 Calcutta

এই সভার উপস্থিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করলে বোঝা যাবে জমিদার কাশীকান্ত বা শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদের চাকুরে রসময় শুরুতেই সভার আগামীদিনের কি আলোচনা হবে তাঁর কথা কেন বলেছিলেন। সেদিন উপস্থিত ছিলেন শ্রীযুত রামজয় তর্কালঙ্কার ও শ্রীযুত উমানন্দ ঠাকুর ও শ্রীযুত চন্দ্রকুমার ঠাকুর ও শ্রীযুত দ্বারিকানাথ ঠাকুর  ও শ্রীযুত রাধামাধব বন্দ্যোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত প্রসন্নকুমার ঠাকুর  ও শ্রীযুত কাশীকান্ত ঘোষাল  ও শ্রীযুত কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন  ও শ্রীযুত গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার  ও শ্রীযুত লক্ষ্মীনারায়ণ মুখোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত শিঞ্চরন ঠাকুর  ও শ্রীযুত বিশ্বনাথ মতিলাল  ও শ্রীযুত তারাচাঁদ চক্রবর্তী  ও শ্রীযুত ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  ও শ্রীযুত রামদুলাল দে,  ও শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব  ও শ্রীযুত কালাচাঁদ বসু  ও শ্রীযুত রামচন্দ্র ঘোষ  ও শ্রীযুত রামকমল সেন  ও শ্রীযুত কাশীনাথ মল্লিক  ও শ্রীযুত বীরেশ্বর মল্লিক  ও শ্রীযুত রসময় দত্ত।
সেই সময়কার কলকাতার বিশেষ গণ্য মানুষজনের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সমিতির তৈরি হওয়ার প্রস্তাবে, আলোচনার বিষয়বস্তুর এই পরিচয়। তবে ধর্ম বিষয়ে আলোচনা আর কয়েক দশকে পালটিয়ে হেঁটমুণ্ড ঊর্ধপদ হবে ডাউন উইথ হিন্দুইজম এই স্লোগানে; কিন্তু শহুরে চাকুরীজীবী, ধনী এবং ব্যবসায়ী সভ্যদের রসময়ী মানসিকতা অন্ততঃ রাজসংক্রান্ত বিষয়ে যে পাল্টায় নি তাঁর প্রমাণ গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামে সভ্য বাবুদের নিশ্চুপ থাকা। সতীদাহ নিয়ে রামমোহন রায় উচ্চবাচ্য করলে ভবানীচরণ রামমোহনের সংগ ত্যাগ করেন, কিন্তু তিনিও রামমোহনের মত গ্রাম্য স্বাধীনতা আন্দোলনের নিশ্চুপ থেকে যান। এই ধরণের গুড়ুম সভাতে না হলেও ইয়ং বেঙ্গলী আলালদের সভাগুলিতে সাম্রাজ্যের উচ্চপদস্থ সামরিক এবং সিভিলিয়ান কর্ণধারেরা উপস্থিত থাকতেন। রসময় তাঁর কেরিয়ার বাঁচাতে এবং তাঁর দলের রক্ষণশীল সভ্যদের চকিত করে দিতে, সরব হয়ে এ সব কথা বলে ফেলেছেন বটে, কিন্তু ইয়ং বেঙ্গলীসভ্যেরা নিজেদের সম্ভাব্য চাকরি, চালু চাকরি, দালালি, বেনিয়ানি বাঁচাতে নীরব থাকলেও, হয়ত কখনো কখনো রসময়ের বক্তব্যগুলি মনে মনে আবৃত্তি করতেন।

১৮২৩ সালে কলকাতায় রক্ষণশীল উচ্চমধ্যবিত্তদের একটি সভার বর্ণনা, A description of a society of the then conservative upper-middle-classes of 1823 Calcutta

সংবাদ পত্রে সেকালের কথা, প্রথম খণ্ড, ১৮১৮-১৮৩০, শিক্ষা শীর্ষক বিষয়ের ৩০ পাতায় সঙ্কলক ও সম্পাদক, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ৮ মার্চ, ১৮২৩, ২৬ ফাল্গুন, ১২২৯, সভা শীর্ষক এক প্রতিবেদনের ৯ পাতায় এক প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন, যেখানে তৎকালীন কলকাতার একটি সভা তৈরি করার প্রথম সভার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। এই লেখাটি আমরা তিনটি ভাগে তুলব, প্রথম দুটিতে তখনকার সংবাদ প্রতিবেদন - এই পোস্টটি। তৃতীয়টিতে আমাদের বিশ্লেষণ। 
এই কাজটি অন্য একটি কাজের একটি ছোট্ট শৃঙ্খল, যেখানে আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, গ্রাম বাংলা যখন ব্রিটিশ অত্যাচার এবং লুঠের বিরুদ্ধে ফেটে পড়ছে, তখন কলকাতার বিভিন্ন ধরণের মানুষেরা - প্রগতিশীল এবন রক্ষণশীল উভয়পক্ষই কি ধরণের সাম্রাজ্য চাটুকারিতা করছেন।

...এঁহারদিগের আগমনান্তর প্রথম শ্রীযুত বাবু রাধাকান্ত দেব কহিলেন যে অদ্য এই সভার চারম্যান অর্থাৎ সভাপতি শ্রীযুত রামকমল সেন হউন। পরে শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর তাঁহার পুষ্টি করিলেন পরে শ্রীযুত রামকমল সেন চারম্যান অর্থাৎ প্রধানরূপে মনোনীত হইয়া ঐ সভাস্থ সকলকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন অদ্য এই সভাতে মহাশয়দিগের যদর্থে আহ্বান করা গিয়াছে তাঁহার কারণ এই যে সাধারণ আমারদিগের কোন সোসৌয়িটী অর্থাৎ সমাজ সম্বন্ধ নাই ইহাতে কি ২ ক্ষতি আর থাকিলে বা কি উপকার এতদ্বিষয়ে কিঞ্চিৎ লিখা গিয়াছে অনুমতি হইলে পাঠ করা যায়। পরে সকলেই অনুমতি করিলে শ্রীযুত গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার ভট্টাচার্য্য ঐ সভার অনুষ্ঠানপত্র পাঠ করিলেন তৎ শ্রবণ করিয়া ক্রমে সকলেই কহিলেন যে আমারদিগের দেশে এক সভা হইলে ভাল হয় এবং এ অতি উত্তম বিষয় বটে ইহাতে আমারদিগের সম্মতি আছে শ্রীযুত রাধামাধব মুখোপাধ্যায় কহিলেন আমারদিগের দেশে যে পুর্ব্বাপর সভা নাই ইহার মূল কি তাঁহার উত্তর অনেকে অনেকপ্রকার করিল শ্রীযুত রসময় দত্ত কহিলেন এই সভায় যদি কেবল বিদ্যাবিষয়ের উপায়ান্তর চেষ্টা করা যায় তবে আমি ইহার মধ্যে আছি আর যদি ইহাতে রাজসংক্রান্ত বিষয় থাকে ও আমারদিগের ধর্ম্মশাস্ত্রের নিন্দা কেহ করে তাঁহার উত্তর লেখ তবে আমি তাঁহার মধ্যে নাহি শ্রীযুত কাশীকান্ত ঘোষালেরও ঐ কথা শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর কহিলেন যে আমারদিগের ধর্ম্মশাস্ত্র নিন্দা করিয়া যদ্যপি কেহ কোন গ্রন্থ প্রকাশ করে তাঁহার উত্তর অবশ্যই লিখিতে হইবেক শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব তাঁহার পোষকতা করিলেন শ্রীযুত রামদুলাল দে কহিলেন অনুষ্ঠান পত্র ছাপা করিয়া সর্ব্বত্র প্রেরণ কর পরে বিবেচনাপুর্ব্বক উত্তর করা যাইবেক শ্রীযুত ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ সভা স্থাপন হইলে কি সুখ হইবেক বিবেচনা কর অদ্য সকলে একত্র হইয়া পরস্পর সাক্ষাৎ ও আলাপ করিয়া কি পর্য্যন্ত সুখী হইয়াছ শ্রীযুত রামজয় তর্কালঙ্কার কহিলেন যে যথার্থ এই সকল ব্যক্তির সহিত পরস্পর কাহারো এক বৎসর কাহারো ছয় মাস সাক্ষাৎ নাই শ্রীযুত কাশীনাথ মল্লিক তাঁহার পোষকতা করিলেন এই প্রকার নানা কথোপকথনান্তর শ্রীযুত রামকমল সেন প্রশ্ন করিলেন যে এ সভাস্থদিগের মধ্যে কোনহ ব্যক্তিকে সেকৃটারি অর্থাৎ কার্য্যসম্পাদক নিযুক্ত করা আবশক হয় শ্রীযুত রাধাকান্ত দেব কহিলেন যে শ্রীযুত রামকমল সেনকে করা যাউক শ্রীযুত উমানন্দন ঠাকুর ও শ্রীযুত দ্বারিকানাথ ঠাকুর তাঁহার পোষকতা করিলেন পরে সেনজী কহিলেন আমার বাঞ্ছা শ্রীযুত প্রসন্নকুমার ঠাকুর হইলে ভাল হয় পরে স্থির হইল উভয়ে সেকৃটারি হউন।