Showing posts with label লুঠ শাসনের সম্পদ. Show all posts
Showing posts with label লুঠ শাসনের সম্পদ. Show all posts

Wednesday, June 6, 2018

লুঠ শাসনের সম্পদ

১৮২৯পর্যন্ত লন্ডনে বছরে হোম চার্জ, অর্থাৎ ভারত সামলানোর প্রশাসন চালাতে প্রত্যেক বছর ৬০ লক্ষ ডলার যেত। 
ভারতে ব্রিটিশ রেসিডেন্টস এবং অন্যান্যদের খরচ তুলতে লন্ডনের বাজারে ক্ষতিতে নীল বিক্রি করে অর্থটা পাঠিয়ে দেওয়া হত উপমহাদেশে - অর্থাত শুধু রেসিডেন্ট ইত্যাদি মারফত এই গোটা টাকা ব্রিটেনেই চলে যেত তাই না, বাজারে নীল ক্ষতিতে বিক্রি করায় লাভ করত মিল মালিকেরা, ফড়েরা।
ভারত ঔপনিবেশিক সরকারের মোট রোজগারের ১৫% আর ১৮৫৬ পর্যন্ত মোট ব্যবসার ৩০% ছিল আফিম। 
উপমহাদেশে তোলা মোট রাজস্ব, লন্ডনকে ভারত উপমহাদেশের রাজস্ব(ট্রিবিউট) হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হত। আর্থার ওয়েলেসলি বলেছিলেন এটা ভারতকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যে নেওয়া হচ্ছে।
Britain's economic dominion in the east as much as her political power was built upon the foundations of the Indian land revenues. As early as 1765, Clive had hit upon the expedient of using Bengal's revenue yield of £3 million to subsidise the faltering trading activities of the Company and to keep up its dividend in London. By 1818 the Indian revenues in British hands amounted to some £22 million.7 They were used to cover the large deficit on Britain's balance of trade with both India and China. First, there were large unreciprocated transfers of bullion and bills from India to Britain which were known as the Home Charges. This was the prime component of what the nationalist historians were to term the 'drain of wealth'. With the salaries and fortunes also transferred the total amounted by 1820 to £6 million annually. This 'political profit' must have dwarfed the profits made from the £15 million of import-export trade between Britain and India. The importance of the political element is even greater when we consider that the most valuable components of India's exports were themselves 'administrative' rather than 'free' trades. This was because indigo was often sold at a loss on the London market in order to transfer home the salaries and perquisites of British residents. Opium, the other great commodity, remained a government monopoly in India even after 1834 when the Company lost its monopoly of the China trade to the free-traders. Opium continued to provide up to 15 per cent of the Indian government's income and to account for up to 30 per cent of the value of India's trade up to 1856. Indian, revenues were in fact remitted to Britain as a form of tribute — as contemporaries were readier to recognise than more recent historians. Arthur Wellesley argued that this was payment for the new security conferred by Britain on India. But the scale
ক্রিস্টোফার বেইলির ইন্ডিয়ান সোসাইটি এন্ড দ্য মেকিং অব ব্রিটিশ এম্পায়ার, ১১৬ পাতা থেকে

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - লুঠ শাসনের সম্পদ - পলাশীর পরের কিছু ঘুষের উদাহরণ

১৭৫৭তে সিরাজকে হত্যা করে মীর জাফর ক্ষমতায় এল। যারা জাফরকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তাদের তিনি বিপুল উপঢোঔকন দিয়ে খুশি করেছিলেন। 
১৭৬০ পর্যন্ত “তোমাকে নবাব/সুলতান” বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহু ব্রিটিশ কর্মচারীর সামনে মুর্শিদাবাদের প্রত্যেক ধনীর সিন্দুকের পথ খুলে দিয়েছিল।
১৭৬৪-৬৫তে মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাসেমকে আনা হলে দেখা গেল সে বড্ড কড়া, ফলে তাকে সরিয়ে এল নিজামদ্দৌল্লা।
বিভিন্ন বছরে বিভিন্ন কর্মচারীর প্রাপ্তি(পাউণ্ডে)। এগুলো ঘোষিত ঘুষ। অঘোষিত ঘুষ/লুঠ? যেন হিমবাহ। দেখা যাচ্ছে ১১ শতাংশ নিচে রইল বাকি ৮৯ শতাংশ। সূত্র - ১৭৭৩র কমিটি অব দ্য হাউস অব কমন্সএর তৃতীয় খণ্ডের ৩৬৭-৩৭০ পাতা থেকে মিলের লেখায় উল্লিখিত।
এখন প্রশ্ন সে সময় ডলারের/টাকার ক্রয় ক্ষমতা কত? ১৮২০তে জনৈক বিদ্যাসাগরের সদ্য যুবক বাবা লুঠের কলকাতায় ২ টাকা মাসিক রোজগার করে বাড়িতে টাকা পাঠাবার পরিকল্পনা করছিলেন। পলাশীর ৭০/৮০ বছর পর ৮০০ ডলারে মাগ্যিগণ্ডার লন্ডনে এক বছর রাজার হালে থাকা যেত। ২০ হাজার ডলার খরচ করলে এমপিও হওয়া যেত।
১৭৫৭ সালে
ড্রেক – ৩১৫০০, ক্লাইভ – ২১১৫০০, ওয়াটস – ১১৭০০০, কিলপ্যাট্রিক – ৬০৭৫০, ম্যানিংহ্যাম – ২৭০০০, বিচার – ২৭০০০, ফ্রাঙ্কল্যান্ড – ১১৩৬৭, মাকেট – ঐ, কোলেট – ঐ, আমিয়াট – ১১৩৬৬, পিয়ার্কিস – ঐ, ওয়ালস – ৫৬২৫০, লাসিঙ্গটন – ৫৬২৫, গ্রান্ট – ১১২৫০।
১৭৬০ সালে
ভ্যান্সিস্টার্ট – ৫৮৩৩৩, হলওয়েল – ৩০৯৩৭, সামার – ২৮০০০, ম্যাকগুরে – ২৯৩৭৫, সেনাপতি কাইলাউড – ২৯৯১৬, স্মিথ – ১৫৩৫৪, ইয়র্ক – ঐ।
১৭৬৪ সালে
মেজর মুনরো(কিংস আর্মি) – ১৩০০০, তার কর্মচারীরা মিলেজুলে – ঐ
১৭৬৫ সালে
প্রশাসক স্পেনসার – ২৩৩৩৩, জন্সটন – ২৭৬৫০, মিডলটন – ১৪২৯১, লেসেস্টার – ১৩১২৫, প্লেডেল – ১১৬৬৭, বার্ডেট – ঐ, গ্রে – ১১৬৬৬, সেনাপতি(জেনারেল) কার্নাক – ৩২৬৬৬, ক্লাইভ – ৫৮৬৬৬, জি জন্সটোন – ৫৮৩৩।

Friday, September 1, 2017

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - পলাশীর ঠিক অব্যবহিত পরে ব্রিটিশ লুঠ - শুধু আইনিভাবে ক্লাইভ পেয়েছিলেন ১১২৮ কোটি টাকা

এই ছোট্ট কাজে আমরা দেখার চেষ্টা করব ঠিক পলাশীর পরে পরে বাংলায় কি ধরণের লুঠছত্র বসেছিল এবং আজকের হিসেবে তার পরিমান কত। এখন করব শুধু ক্লাইভের হিসেব, যিনি ঘোষিতভাবে পেয়েছিলেন ১১২৮ কোটি টাকা।

তুলনা
সেদিন আর এদিনের তুলনা টানব চালের দামের মধ্যে। কারণ পণ্যের মধ্যে চালের দাম সব থেকে কম হারে বাড়ে। সেই হিসেবে, পলাশীর আগে মীরজাফর খাঁ কলকাতায় এলে তাকে ব্রিটিশদের সিধা দেওয়া তালিকা থেকে জানি প্রতিমন চাল ১ টাকা চৌদ্দ আনা হিসেবে কেনা হয়েছিল। হিসেবের সুবিধের জন্য চৌদ্দ আনা বাদ দিলাম। ১ টাকা। অর্থাৎ বালাম চাল ১ টাকায় ৪০ কিলো পাওয়া যেত। আজ সেই পরিমান চাল খুব কম করে ১৫০ টাকা কিলো হবে। অর্থাৎ আজ ৪০ কিলো চাল পাওয়া যাবে ৬০০০ টাকায়। অর্থাৎ সেদিনের টাকার হসেবে ৬০০০ গুণ করলে আমরা পেয়ে যাব মোটামুটি আজকের বাজার দরে সেদিনের টাকার মূল্য।

এবারে লুঠ
তো ১১ জুন হল মীর জাফর খাঁয়ের অভিষেক। সিরাজের কোষাগার দখল করলেন তিনি। সেটায় ছিল ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মোহর, ২ সিন্দুক সোনার বাট, ৪ সিন্দুক মণিখচিত সোনার অলঙ্কার আর ২ সিন্দুক মণিমুক্তো। উপস্থিত ছিলেন ওয়াটসন, দেওয়ান রামচাঁদ আর মুন্সি নবকৃষ্ণ অবশ্যই ক্লাইভ আর মীরজাফর। এই সম্পদ ভাগ হল! আজকের বাজার দরে মূল্য কত ছিল আমরা কেউ জানি না। ধরে নিচ্ছি সমান সমান মূল্যে ভাগ হল। কিন্তু যেহেতু মোট সম্পদের মূল্য নিরূপণ করা গেল না, তাই প্রত্যেকে যদি সমানও সম্পদ লাভ করে থাকেন, তাহলেও কে কত পেলেন তা আন্দাজ করা গেল না।

এবারে সিরাজের গোপন কোষাগার। আট কোটি টাকা। আর্থাৎ আজকের হিসেবে ৪৮০০০ কোটি টাকা। এই টাকা ভাগ হল মীরজাফর, আমীর বেগ খাঁ, রামচাঁদ আর নবকৃষ্ণের মধ্যে। এটা ক্লাইভ জানতেন না।

এবারে পলাশীর চক্তান্ত জেতার পুরস্কার।
ক্লাইভ পেল ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
ড্রেক পেল ২ লক্ষ ৮০ জাহার টাকা।
সিলেক্ট কমিটির প্রত্যেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে।

এছাড়া মির জাফর ক্লাইভকে দিল ১৬ লক্ষ টাকা।
ওয়াটসনকে ৮ লক্ষ টাকা
কিলপ্যাট্রিককে ৩ লক্ষ
ওয়াটসকে ৫ লক্ষ
স্ক্র্যাফটনকে ২ লক্ষ

শুধু ক্লাইভ পেয়েছিলেন ১৮লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ১১২,৮০,০০,০০,০০০ - ১১২৮ কোটি টাকা সিরাজের সিন্দুকের বিপুল সম্পদ বাদ দিয়ে।

Sunday, July 21, 2013

গ্রাম বাংলার ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প লুঠ আর ধ্বংসের ভিতের ওপর গড়ে উঠছে কলকাতা, A New Opulent Calcutta is Growing on the Loot and the Destruction of Bengal's Education, Industry & Intercontinental Trade

বাংলার শিল্প, আন্তর্জাতিক ব্যবসা আর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে, তার ওপরে গড়ে উঠছে কলকাতার কোম্পানি এবং নবজাগরিত বাঙ্গালীদের বিশাল বিশাল হর্ম্য। শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চালকশক্তি ছিল বাংলা লুঠের অর্থ আর সম্পদ। 
বাংলা লুঠের অর্থে ভারতের নানান শহরের ব্রিটিশ সরকার চলেছে, জগত জোড়া যুদ্ধ চলেছে, ব্রিটেন জোড়া শিল্প তৈরি হয়েছে এবং চলেছে, ভারত চালানোর বিশাল আমলাতন্ত্র চলেছে। 
লন্ডনের বাইরে যে শহর থেকে প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত এবং তার পরে বিশ্ব লুঠের পরিকল্পনা ছক হবে, ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত  তৈরি হবে (আজও) ব্রিটিশদের(এখন আমেরিকা আর ইয়োরোপে) স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশি শিক্ষা, শিল্প ব্যবসা ব্যবস্থা সবলে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে সে শহরটি হল কলকাতা এবং এই বিশাল বিশাল হর্ম্যগুলি। 
যে গ্রামীণদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করে এই কলকাতা গড়ে উঠেছে, সেই সব অদম্য গ্রামীণদের আভূমি প্রনাম জানালাম এইখনে।
জয় গুরু! জয় বাংলা!














Thursday, July 4, 2013

লুঠ শাসনের সম্পদ১৩ - ঘুষের লুঠের নভেলা, Loot of British Raj13 - Novella of Bribe & Loot

হেস্টিংসের দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল ক্লেভারিং আর ফিলিপ ফ্রান্সিস বিলেত থেকে এলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের নিদান দিতে। প্রথম সুযোগেই হেস্টিংসের দুই লুঠেরা হাত, কান্তবাবু আর গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের বড়লোকিতে কাতর মহারাজা নবকৃষ্ণ, সাহেবদের সামনে ঠুকে দিলেন এক পত্র বোমা। এই চিঠির ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে, ব্রিটিশ প্রভু হেস্টিংস এবং বাংলা সুবার জমিদার, তালুকদার, বড়ও চাষী সাঙ্গপাঙ্গদের ডান হাতে, বাঁ হাতে, চোখের চামড়া না ফেলে ঘুষ নেওয়ার অসামান্য দক্ষতার বর্ণনা। লেখা হয়েছে নজর(উপহার), দামী মনিমুক্তো, অলঙ্কার, পরিধেয়র সঙ্গে নানান আনুষঙ্গিক দ্রব্য ছাড়াও দেওয়া হয়েছে অজস্র অর্থ। চিঠিতে লেখা অর্থের পরিমানে চোখ কপাল ছাড়িয়ে চাঁদিতে ওঠার উপক্রম। এরও প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে, ১৮২০র মাগ্যি-গণ্ডার কলকাতায় ২ টাকা রোজগার করে ঠাকুরদাস মেদিনীপুরে মাকে টাকা পাঠাবার মত সচ্ছল হয়ে উঠেছিলেন। চিঠিতে লেখা হচ্ছে An account of the money received by Governor Hastings and other gentlemen from the Zaminders, Talookdars and Farmers of the subah of Bengal from his accession to the government till the arrival of the General(Clavering) and other gentlemen; exclusive of Nuzzers(presents), pearls, Jewels, Cloths and complementary presents…
Dacca                                                                                  Rs.
Ready money                                                                5,00,000
Mr.Barwell                                                                   4,00,000
Rungpore etc                                                                        
Ready money                                                               1,00,000
Promisery                                                                    1,00,000
Moorshidabad-Exclusive of Mr।Middleton                   3,00,000
Dinagepore                                                                  2,00,000
Boglepore                                                                    2,00,000
Beerbhum, Bishnupur etc.,                                            1,50,000
Midnapore
Mr.Vansitart and other Gentlemen                                3,50,000
Raja Kissenchand                                                        1,50,000
Burdwan-Exclusive of Mr. Chas Stewart
Through Diwan Brojkishore                                         2,00,000
Phoolbundy                                                                 1,50,000
Mundalghat salt contract                                              1,50,000
Hooghly, Hijli etc.
Ready Money                                                               1,00,000
Settlement for salt                                                         6,00,000
Jessore etc.,
On account of sault of Raymangal etc.,                         2,00,000
Farmers of 24 praganas                                               0,50,000
From Raja Huzuri Mul and Madan Duttfor relinquishing the farm of
Poornea                                                                               1,00,000
Profit of Butta, premium of bills from Raja Huzuri Mal & Doyalchand     1,50,000
From servants wages                                                               1,00,000
Total                                                                                   42,00,000
Governor Hastings received from Nawab Shuja-ud-Daula & others without participation as follows –
From Nawab Mubarak-ud-Daula through Munny Begam          
Munny Begam                                                              2,00,000
From the sets                                                               50,000
Raja Rajbullav                                                              1,00,000
From the Zamindari of Rani Bhowani                            1,25,000
From Nawab Shuja-ud-Daula in cash                           5,00,000
Promisory                                                                    5,00,000
From the raja of Benaras in cash                                  2,00,000
Promisory                                                                   1,00,000
                                                                                  17,75,000
Mr। George Vansittart without participation –
From Shuja-ud-Daula                                                 2,00,000
From the raja of Benaras                                            1,00,000
                                                                                  62,75,000
(সূত্রঃ রজতকান্ত রায়, পালাশির ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ)

মীর কাসীম পুস্তকে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় বিচারের হিসেব তুলে বলছেন পলাশির পর কোন কোন আমলা কীভাবে পুরস্কৃত হলেন
Mr. Drake                                    280,000                                280,000
Col. Clive
                   As a member            280,000
                   As a commander        200,000
                   As a donation            1600,000                              2080,000
Mr. Watts
                   As a member            240,000
                   As a donation            800,000                                1040,000

Major Kil Patrik
                   As a member            240,000
                   As a donation            300,000                                540,000
Mr. Manningham                          240,000                                240,000
                             Mr. Beecher    240,000                                240,000
Six members of council 1 Lakh each    600,000
Mr. Walsh                                    500,000
Mr. Scraftom                                200,000
Mr. Lushington                              500,000                               
Cap. Grant                                   100,000
Army & Navy                       600,000                                      
ঐ পুস্তকেই বলা হচ্ছে, ১৭৬০ খৃষ্টাব্দের ১৫ই সেপ্টেম্বর কলিকাতায় এই ইতিহাস-বিখ্যাত গুপ্ত-দরবারে অধিবেশন হয়. তাহাতে ভ্যান্সিস্টার্ট সভাপতি এবং কর্ণেল কেলড, সমনার, হলওয়েল এবং ম্যাগুয়ার সদস্য স্বরূপ উপস্থিত ছিলেন. ...এই গুপ্তসন্দর্শন শেষ হইলে ... মীর কাসিমের পক্ষাবলম্বন করাই স্থির হইল। কৃতজ্ঞ মীর কাসিম সকলকেই যথাযোগ্য পুরস্কার বিতরণে সম্মত হইয়া ছিলেন,
Resolution in favour of Cassim 1760(in pound)
Mr. Summer                                 28000
Mr. Hallwell                                  30000
Mr. M’c Guire                               20635
Mr. Smirh                                      15354
Major York                                   do
Gen. Caillaud                               22916
Mr. Vansistart                              58333
ওপরের তালিকাটি পলাশি উত্তর কয়েক দশকের মধ্যে বাঙলার একটিমাত্র প্রান্তে দেওয়া ঘুষের অংকটি বাঙলা সুবা থেকে ইংরেজদের ওপর মহলের ঘুষ আদায়ের গা ছমছমে উপন্যাস না হলেও নভেলাতো বটেই। এই লুঠ(কু)কর্মটি পরবর্তী দেড় শতাব্দকালে ক্রমশঃ ক্রমশঃ আকাশ ছোঁবে। কত সম্পদ ইংলন্ডে ঘুষ বাবদ গিয়েছে যদিও তা হিসাব করা অসম্ভব, তবুও এই পরিমান আঁকতে পারলে সভ্যতার রঙিন মুখোশপরা ইংরেজদের সরাসরি নগ্ন করে দাঁড় করয়ে দিতেপারে খোলা বাজারে। ঐতিহাসিকদের সাফাই, উচ্চপদস্থ আমলারা মাঝের অথবা নিচের তলার কর্মচারীদেরমত সরাসরি ঘুষের টাকাটা নিতেন না। তাঁরা ক্লাইভ, হেস্টিংস, পিটদের ঘুষের রোজগার দেখতে পাননি। রাণী ভবানী শুধু হেস্টিংসকে সরাসরি দিয়েছেন সে যুগের ১,২৫,০০০ টাকা ঘুষ, মির জাফরের বিধবা মুন্নি বেগম ক্লাইভকে দিয়েছে সে যুগে ৫ লক্ষ টাকা। এ চোখে দেখা হাতে লেখা হতিহাস। এর বাইরে! যদি চোখ বুজেই ধরেই নেওয়া যায় যে, প্রাগুক্ত প্রবক্তাদের কথাই বেদবাক্য, তাহলে বামহস্তক্রিয়ার শেকড় চারিয়ে যায় অনেক নিচ পর্যন্ত। এঁদের দাবি অনুযায়ী যারা মহামহিম কোম্পানির বড় আমলাদের জন্য হাতে হাতে অর্থ নেওয়ার বামহস্তক্রিয়ায় জড়িয়ে থাকতেন, সেই মাঝারিতলার না দেখতে পাওয়া মুখেদের, বাম হাতের রোজগার বড় কম ছিল না বোধহয়। বড়, মাঝারি আর ছোট রুইকাতলাদের সঙ্গে পুঁটিমাছেদের সরকারি-বেসরকারি ঘুষ প্রাপ্তিযোগ জুড়লে লুঠের বখরার টাকা আজকের অর্থেরমানে আকাশ ছাড়িয়ে যাবার আশংকা থাকে।
বাঙলা সুবা জুড়ে তখন ঘুষের আর লুঠের রাজত্ব। সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি বাঁচাতে রাণী ভবানী হেস্টিংসকে ১,২৫,০০০টাকা ঘুষ দিয়েও পার পেলেন না। সদাশয় পালক ইংরেজ বাহাদুরকে বাংলা জানালেন ১১৭৯ আর ১১৮০তে নিজের জমিদারি ইজারা নিতে সেলামি দিতে হয়েছে ৪,৪০,০০১ টাকা মাত্র। মুরলী পোদ্দার, সদানন্দ পোদ্দার আর হটু বিশ্বাসের হাত দিয়ে হেস্টিংসের দেওয়ান কান্তবাবু সরাসরি নিয়েছেন ১,২৫,০০০টাকা। যুগল উকিল, রূপ পোদ্দার আর মুরলী পোদ্দারের হাত দিয়ে আর প্রায় মরতে বসা জগতশেঠের কুঠির মাধ্যমে শান্তিরাম সিংহ(ইনিই কী কালিপ্রসন্ন সিংহর পিতা এবং জোড়াসাঁকো সিংহ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা?) ২ লক্ষ টাকা রোজগার করেছেন। এর মধ্যে এক লক্ষ টাকা রাজবাড়ি আর শেঠভবনে গয়নাগাটি বেচে জোগাড় করতে হয়েছে। এ ছাড়াও যে তৃতীয় ব্যক্তিটি প্রণামী পেয়েছেন তার নাম ভবানী মিত্র। নয়ান পোদ্দার, মুরলী পোদ্দার, রামকৃষ্ণ পোদ্দার, অখিল পোদ্দার, সদানন্দ, আনন্দরাম উকিল, পরীক্ষিত মোরারের হাতে হাতে এবং আনন্দরাম উকিলের মধ্যস্থতায় মোতিচাঁদ শেঠের পাট ও দর্পনারায়ণ(ঠাকুর!) উকিলের মাধ্যমে পরগণা নুরুল্লাপুরের উপর ঢাকায় প্রদেয় পাট মার্ফত মোট ৩,৭৫,৪৫২ টাকা পেয়েছেন। এতসব ঘুষঘাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত রাণীর হারবন্দ পরগণা হেস্টিংসের বেনিয়ান কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথ নন্দীর গ্রাসে পতিত হয়। কান্তবাবুর স্বজাতি দেওয়ান দয়ারাম রায়ও রাণীকে বন্ধকীমহলের ওপর ধার দিয়ে জমিদারির একঅংশ দখল করে নাটোরের পাশে দীঘাপাতিয়া জমিদার রাজ সৃষ্টি করলেন(রানী ভবানী, যিনি সরাসরি না হলেও সিরাজ হত্যা এবং পলাশীর ষড়যন্ত্রের অন্যতম অংশী, প্রায়শ্চিত্ত করলেন নিজেকে নিঃস্ব করে আর ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে নিজের জমিদারির সব উজাড় করে দিয়ে, ব্রিটিশ গণহত্যার মুখে পড়া বাংলার  মানুষকে খাইয়ে) )। ১৭৮১তে উত্তর স্বরূপপুর নামক বিরাট পরগণা কলকাতার বেনিয়ান দর্পনারায়ণ ঠাকুরকে বেচে দেওয়া হয়। সমগ্র বাঙলার শ্রদ্ধা অর্জণকরা নাটোরের রাণী ভবানীরমত বাঙলা সুবাতে একডাকে চেনা এক জমিদারিতেই ইংরেজরা যদি এই ঘুষের রাজত্বের লুঠতরাজ চালাতে পারে, তাহলে বাঙলা থেকে শুধুমাত্র কত ঘুষের টাকা ব্রিটেনে গিয়েছে তা আদপেই অংক কষার বাইরে।
ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া, আরও গভীরভাবে বললে, বাঙলা সুবা থেকে বছরে বছরে লুঠ হয়ে যাওয়া অর্থে আর প্রযুক্তিতেই ব্রিটেনের মানুষমারা, পৃথিবী ধংসকারী শিল্পবিপ্লবের ভিত গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে ঢাকের বাঁয়া হিসেবে যোগদেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাস ব্যবসা ভিত্তিক চিনি(আখ)র ব্যবসা আর আফ্রিকা থেকে লুঠ করে আনা দাস ব্যবসার উদ্বৃত্ত। ইংলন্ডের মূলধন নানান ইওরোপিয় দেশে বিনিয়োগ হত। ১৮১৫ থেকে ১৮৩০ পর্যন্ত ইওরোপিয় রাষ্ট্রগুলির সরকারি সিকিউরিটিতে প্রায় ৫ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং মূলধন নিযুক্ত হয়। লাতিন আমেরিকায় ২ কোটি পাউন্ড আর আমেরিকায় প্রায় ১ কোটি পাউন্ড নিবেশিত হয়। এইসব উদ্বৃত্ত জমা হয়ে ইংলন্ডের শিল্পজাত দ্রব্যের বিকাশ হতে থাকে বছরের পর বছর।
এ প্রসঙ্গে ১৯১৩কে ভিত্তিবর্ষ ধরে ব্রিটেনের ঐ সময়ের জিডিপির ইতিবৃত্ত – ১৭২০-২১ – ২.১, ১৭৬০-৬১ – ২.৬, ১৭৭০-৭১ – ৩.৩, ১৭৮০-৮১ – ৩.৫, ১৭৯০-৯১ – ৪.৬, ১৮০০-০১ – ৫.৭, ১৮১০-১১ – ৭.১, ১৮২০-২১ – ৯.৭, ১৮৩০-৩১ – ১৮.৩, ১৮৪০-৪১ – ১৯.৬। লক্ষ্য করার বিষয় ১৮০০র পর থেকে ব্রিটেনের জিডিপি ৫ ছাড়িয়ে উর্ধমুখী। ১৮৩০এর পর লাফিয়ে লাফিয়ে দুই অংক ছাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কুড়ির ঘরে প্রবেশ করেছে। তবুও মার্শাল আর আর তার পূর্বসূরীদের পথ বেয়ে বলতেই হবে বাঙলা লুঠের অর্থে ইংরেজদের শিল্পবিপ্লবসাধন একটি অতিকথামাত্র, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই বললেই চলে। এর পাশাপাশি বাঙলা থেকে শিল্পজাত পণ্যদ্রব্য ও কাঁচামাল আমদানি রপ্তানির হিসেবটুকু দেওয়া যাক –
                               ১৮৭০                  ১৮৯২                       ১৯০৭
শিল্পজাত পণ্যদ্রব্য        
টাকার হিসাব              
আমদানি                    ২৫৯,৮৬৫,৮৭২      ৩৬২,২৩১,৮২৭           ৬৯৮,৮৯৫,০০০
রপ্তানি                        ৫২,৭৮০,৩৪০        ১৬৪,২৪৭,৫৬৬            ৩৯২,৯৮১,০০০

কাঁচামাল
টাকার হিসাব              
আমদানি                    ১৩৭,৫৫৫,৮৩৭      ২৬৩,৮১৮,৪৩১           ৫৯৯,৬৬৮,৩৭৪
রপ্তানি                        ৫৯৬,৭২৭,৯৯১        ৮৫৫,২০৯,৪৯৯           ১,১৪১,২৩১,৩৩৫

লুঠ শাসনের সম্পদ১২ - বন্ধু ভাগ্যে ব্যবসা, Loot of British Raj12 - Helping Friends to Business

সোরার ব্যবসা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আসছে অথচ এক টাকাও দাদন দিতে হচ্ছেনা। কাঠের ব্যবসায়ও একই অবস্থা। শুধু রেশমের ব্যবসায় অগ্রিম দিতে হচ্ছে। সরকারি প্রভাব খাটিয়ে এই তিন ব্যবসায় লাভ হচ্ছে বছরে আড়াই লাখ টাকা (হেস্টিংসের বন্ধু-ব্যবসায়ীদের ক্লাব বোর্ড অব ট্রেডএর প্রভাবশালী বন্ধু বারওয়েলের বাবাকে লেখা চিঠি, সূত্রঃ রজতকান্ত রায়, পালাশির ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ)। 
ব্যবসার নামে লুঠ ছাড়াও সরকারের সঙ্গে লাভের চুক্তিতে ব্যক্তি ইংরেজরা রোজগার করত। বাঙালা সুবায় ব্যবসার আধিপত্য চালাবার জন্য বোর্ড অব ট্রেড তৈরি করেছিলেন হেস্টিংস। সদস্যরা নিজেদের মধ্যে গোপন চুক্তি করত, উত্পাদকদের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিকে পর্যন্ত ঠকিয়ে টাকা বানাতেন – ঠকচাচা হেস্টিংস সব জানতেন শুধু নয়, নিজে এই পরিকল্পনাটির জন্মদাতাও বটে। ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবসহ ওয়ারেন হেস্টিংসএর উপবৃত্তে ঘোরাফেরা করা বন্ধুরাই এই ধরনের পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা লাভের সুযোগ পেতেন। ১৭৬৩ থেকে দাউদাউ জ্বলতে থাকা গ্রামীণ বাঙলার বিদ্রোহ দমন করার সাথীরূপে, সক্রিয়ভাবে দেশিয় ব্যবসায়ীদের মাজা ভেঙে সম্রাজ্যের ভিত শক্ত করার প্রতিক্রিয়ায়, গ্রাম বাঙলা ছেড়ে কলকাতা শহরে চলে আসা বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারেরা, এই লাভের লুঠের বখরা পেয়েছেন। এঁরা আর এঁদের উত্তরসূরীরা আগামীদিনে বাঙলার নবজাগরণের উদিতসূর্য অভিধা অর্জন করবেন, সর্বজনমান্য হয়ে রইবেন আজও।
বোর্ড অব ট্রেডএ বন্ধু-ব্যবসায়ীদের(বন্ধুরা সবসময়ে ব্যবসায়ীই যে হতেন এমন নয়) সঙ্গে বাঁধ দেওয়া, রাস্তা চওড়া করা, রাস্তা তৈরি করা, কোম্পানিকে ঘোড়া, ষাঁড়, আফিম, নানান উচ্চলাভের অসামরিক-সামরিক দ্রব্য যোগান দেওয়ারমত লোভনীয় সরকারি চুক্তি হত। স্টিফেন সুলিভান, চার্লস ক্রফটস, চার্লস ব্লান্ট, জন বেলি প্রভৃতিরা এই সমস্ত উচ্চ মুনাফাদার সরকারি ব্যবসার সুযোগ পেতেন। মাটিতে দাঁড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন কিন্তু ইংরেজ অনুগামী বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার, পাইকার আর ব্যবসায়ীরা। বোর্ড অব ট্রেডএর ব্যবসার আকাশ ছোঁয়া লাভের অধিকাংশ যেত ইংরেজদের সিন্দুকে, ছিটেফোঁটাতেই খুশি থাকতে শিখেছিলেন এদেশিয় দালালেরা।
বোর্ড অব ট্রেডএর চুক্তিতে ক্ষুব্ধ কোম্পানির ডিরেক্টর সভা কর্মচারীদের দেশে ফেরার পর কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করে – যাদের মধ্যে প্রভাবশালী হেস্টিংসও ছিলেন। ভারতে কোম্পানির আমলাদের ব্যবসায় বাস্তবিক যে ইতরবিশেষ ঘটেনি তার প্রমাণ ব্যবসায়ীদের থেকে হেস্টিংসের বেনিয়ান কান্তবাবু, আরও পরে রামমোহন, দ্বারকানাথদেরমত মানুষদের অবাধে বেড়ে চলা দস্তুরি নেওয়ার প্রবণতা থেকে। দেশিয়দের খুঁটি ইংরেজ বড় আমলারা, যাঁরা বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারদের মাধ্যমে বাঙলায় অবৈধ ব্যক্তিগত ব্যবসা করত। পণ্য কেনার সময় বাঙালি কর্মচারীরা দস্তুরি নিত, প্রতি টাকায় পাঁচ গণ্ডা থেকে ৩০ গণ্ডা দরে। কোম্পানি কর্মচারীদের লুঠের কাজে সরাসরি সাহায্য করত বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান আর দেওয়ানরা দুহাত ভরে। এরাই বেনিয়ান রামমোহন রায় অথবা ব্যবসায়ী দ্বারকানাথ ঠাকুরের পূর্বসূরী। ইংরেজেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়রত দেশিয় ব্যবসায়ী আর রায়তদের অসীম দুর্দশায় ইংরেজ কর্মচারীরা আর ইংরেজমুখী বাঙালি কর্মচারী, দালালেরা রোজগার করতেন। বাঙলায় মুক্তিসূর্য রামমোহন-দ্বারকানাথসহ কলকাতার অমিততেজেরা, অথবা রেনেসাঁজাত খ্যাত অখ্যাত নানান ব্যক্তিত্ব কোথা থেকে তাদের ব্যবসা শুরুর অর্থ অথবা নিজেদের ঠাটবাট বজায় রাখার সম্পদ পেতেন, তার রহস্য বাঙালি গোমস্তা, বেনিয়ান, দালাল, সেরেস্তাদার আর পাইকারদের অবৈধ দস্তুরির রোজগার আর ব্রিটিশদের সঙ্গে লুঠের অবৈধ ব্যবসার সাথী হওয়া থেকে পরিস্কার। মুর্শিদাবাদের দরবারে রেসিডেন্ট কমিশনার সাইক্স সোরা, রেশম আর কাঠের ব্যবসার সেলামি থেকে একা রোজগার করেছেন বার থেকে তের লক্ষ টাকা, তার দেওয়ান অথবা বেনিয়ান কত রোজগার করেছে তা অনুমানযোগ্য।
দ্বারকানাথের উত্তরসূরী ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর্দার বাবার সময়ে ঘুষের কথা বলতে গিয়ে বলছেন ৩৫ টাকা মাইনের কর্মচারী, ব্রিটিশ বড়বাবুকে মাসে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দিতেন। আমরা যেন মনেরাখি ১৮২০ সালে মাসে দুটাকা রোজগার করে ঈশ্বরচন্দ্রের পিতা ঠাকুরদাস নিজেকে স্বচ্ছল ভেবে বাড়িতে অর্থ পাঠাবার উদ্যোগ করছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে এ ধরণের ছোটখাট ঘুষের বিষয়তো আলোচনাই হয় নি। যেসব বিষয় আলোচনা হয়েছে তা শুধুই বড় বড় পরিমানের ঘুষের পরিমান।
ভারত দেশের রীতনীতি বিষয়ে অজ্ঞ ইওরোপিয়রা বাঙালি বেনিয়ান, গোমস্তা, মুন্সি আর সরকারদের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাঙলায় নতুন ইওরোপিয় পদার্পণ করলেই তাদের দালালি করার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেত এদেশিয়দের মধ্যে। এদের অধিকাংশই ছিলেন চিরাচরিত ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষ – দাদনি ব্যবসায়ী। পলাশির পর ইওরোপিয়দের প্রধাণ ব্যবসায়ী কর্মচারী দালালদের বেনিয়ান নামে ডাকা শুরু হয়। একজন ইওরোপিয়র দরবারে বেনিয়ান ছাড়াও ছিলেন দোভাষী, দালাল, হিসাবরক্ষক, প্রধাণ অমাত্য (সেক্রেটারি), পুঁজির যোগানদার আর খাজাঞ্চি। নানান বৈধ অবৈধ ব্যবসায় এদেশিয়রা মাহির ছিল। ইওরোপিয়রা তাদের নাম ধার দিতেন। ব্যবসায় মূল লাভ্যাংশটা পেতেন। একজন বেনিয়ান আবার অনেকসময় একের বেশি ইওরোপিয় ব্যক্তি অথবা প্রাইভেট এজেন্সির বেনিয়ানরূপে কাজ করতেন।
অসীম রায় নবাববাঁদী উপন্যাসে সদ্য ভারতে পা রাখা প্রভাবশালী এক ইংরেজ রাজপুরুষের রাইটার ভ্রাতুষ্পুত্রকে, বানিয়ান গোকুল মুখার্জীর দেওয়া মাইনের যে ফর্দ উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ করা গেল-
পালকিতে দুলতে দুলতে গোকুলের দেওয়া লম্বা কাগজের ফালিটা চোখের সামনে মেলে ধরে
খানসামা                                               ১২ টাকা
বাটলার                                                ৮
খিদমতগার                                            ৬
পাচক                                                  ১৫
পাচকদের যোগানদার                                ৬
মশালচী                                                ৩
পিয়ন ও হরকরা                                      ৪
চুলফেলা নাপিত                                      ২
৩টাকা হিসেবে ৬ জন বেয়ারা                      ১৮
হেড বেয়ারা                                            ৫
লোকজনদের বাড়িভাড়া                             ২৬
দাড়িফেলা নাপিত                                    ২
হুঁকোবরদার                                           ৫
নালি সরদার                                          ৪
সর্দারের অনুচর                                       ৩
সহিস                                                   ৩
ধোবি                                                   ২
ইস্ত্রিওয়ালা                                             ২
দর্জি                                                    ৩
                                                          মোট ১২৯ টাকা
মাই গড এরপর গোকুলের সুদ। এ ছাড়া কাপড়-চোপড়, পালকি, বগি, বজরা, বাড়ি। তার ওপর টাকা জমানো। নাঃ প্রাইভেট ট্রেড ছাড়া কোনও  উপায় নেই।
গ্রামীণেরা তখন ব্রিটিশ সৈন্যের সঙ্গে সম্মুখ সমরে লড়ছেন। সে সময় কলকাতার মধ্য-উচ্চবিত্ত শ্রেণী নানান প্রকারের ব্যবসায় ব্রিটিশ শক্তিকে সরাসরি সাহায্য করছেন। দেশের শিল্প-ব্যবসা পরিকাঠামো ধংসে ব্রিটিশদের সহায়তা দিচ্ছেন। সাম্রাজ্যের লাভের গুড়ের ছোট্টঅংশিদার হয়ে উঠেছেন। রাজভক্তির ছায়ায় দাঁড়িয়ে এই মহাতেজেরা কখোনো সরাসরি(রামমোহন, দ্বারকানাথসহ অন্যান্য নিমক মহলের দেওয়ান বানিয়ান, জমিদার), আবার কখোনো পরোক্ষভাবেই (বিদ্যাসাগর – গ্রাম বাঙলার একলাখ পাঠশালা ধংস করে শহুরেদের সরকারি সাহায্যে পাঠদানের সরকারি নীতি প্রণয়নের উদ্যোক্তা) দেশের পরিকাঠামে ধংস করতে, স্বাধীণতাকামী সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা গ্রামীণ জনগণকে খুন করতে, উচ্চশিরদাঁড়া বেঁকিয়ে দিতে ব্রিটিশদের সহায়তা করেছেন। রাজানুগত্য এমনস্তরে পৌঁছয়, লবন মহলের লুঠতরাজে প্রতিবাদী মালঙ্গীরা স্বাধীণতা সংগ্রাম করলে, পালকি বেহারারা কাজ বন্ধ করে দিলে, আফিম চাষীরা সরাসরি লড়াই করলেও, তিতুমীর প্রাণ দিলেও তাদের পাশে দাঁড়াবার জন্য একজনও নবজীবনের অগ্রদূতেদের দেখা পাওয়া যায়না, ব্রিটিশ বিরোধিতায় কারোর গলা একবিন্দুও ওঠেনা। শুধুমাত্র নীল সংগ্রামে এঁরা নড়ে চড়ে বসেছিলেন। জমিদার, ব্রাহ্মণ আর শহুরেদের গায়ে হাত পড়েছিল। তবুও আজও সকলেই বাঙলার নবজীবনের অগ্রদূত।