Showing posts with label Colonization. Show all posts
Showing posts with label Colonization. Show all posts

Wednesday, August 7, 2013

Indigo Cultivation2, নীলের চাষ ও ব্যবসা২

ছোট জমিদারদের কিন্তু নীল চাষের বিরধিতা ছিল।  কিশোরীচাঁদ মিত্রের লেখা থেকে এটি অনেক পরিষ্কার। জমিদারদের সংগঠন নীল চাষের বিরোধিতা করেছিল। প্যারীসুন্দরী, গোলোকনাথেরমত জমিদার স্থানিয়দের নিয়ে নীলকরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলেন, এবং এই লড়াইতে সরকার নীলকরদের পক্ষ নিয়ে জমিদারদের সায়েস্তা করে, কোথাও গম হয়ে যাওয়া জমিদারদের ছাড়াতে এলাকায় ব্যাপক অত্যাচারও নামিয়ে আনে। 
তাহলে দ্বারকানাথ-রামমোহন জুটি নীলকরদের পক্ষে দাঁড়ালেন কেন? 
১) তাঁর জীবনীকার ব্লেয়ার বি ক্লিং বলছেন  দ্বারকানাথ ছিলেন সে সময়ের দক্ষিনবঙ্গের সব থেকে বড় জমিদার-ব্যবসায়ী। সাম্রাজ্যের আর্থিক বিকাশের সঙ্গে তাঁর সংগঠনের উন্নয়নের প্রশ্ন জড়িয়ে ছিল। 
২) রামমোহন ডিগবিসহ নানান জমিদারের দেওয়ানি করে(আদতে প্রজালুণ্ঠন) প্রভুত অর্থ উপার্জন করেন। তাঁরও আর্থিক এবং বৌদ্ধিক বিকাশ নির্ভর করত সাম্রাজ্যের বদান্যতার ওপর। 
৩) সে সময় কলোনাইজেসন খুব বড় আন্দোলন। অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতে ইওরোপিয়দের জমি কিনতে দেওয়ার অধিকার অর্জনের আন্দোলন। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতটি হল, ব্রিটিশ বিশ্বে দাস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। আফ্রিকা, আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুলতঃ বাগিচা চাষী দাস ব্যবসায়ীরা ভারতে নীল চাষে পুনর্বাসিত হয়ে আসতে ইচ্ছুক। তারা জানে নীল চাষে দাস চাষের নানান নীতি কাজে লাগিয়ে নীল উৎপাদনের হার আকাশ ছোঁয়া হতে পারে।  কিন্তু ভারতে জমি কেনার অধিকার নেই। ফলে যে লাভ তারা শুধু দাদন দিয়ে করতে পারবেন, সেই লাভ অনেকগুণ বেশি হতে পারে জমির মালক হলে। তাতে সরকারি আইনি অনেক সুবিধেও পাওয়া যায়। ১৮৩৩এর সনদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাস ব্যবসা বেআইনি ঘোষিত হয়ে গেলে, এই দাস ব্যবসায়ীরা তাদের দাস খাতানর সমস্ত প্রযুক্তি নিয়ে পুনর্বাসিত হলেন বাংলা-বিহারের নীল চাষের জমিতে, নতুনভাবে নীলকর হয়ে।
এই দুই মহাতেজের(পরে এদের অনেক অনুগামীর, এবং এদের সঙ্গে সম্পর্করহিত নবজাগরণের নেতাদের) বিকাশের লেখ চিত্রটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রয়েছে, সাম্রাজ্যের অভয়হস্ত কতটা এরা নিজের মাথায় রাখতে পারছেন তার ওপর।

নিচে কয়েকটি একটি নীল ফ্যাক্টরির ছবি তুলে দেওয়া গেল





Saturday, June 29, 2013

সাম্রাজ্যবন্ধু- দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রামমোহন রায় - রামমোহনের রাজনৈতিক চেতনা, Rammohon's Political Thoughts

বন্ধুদের ভাষ্যে রামমোহন স্বাধীণ চিন্তা প্রকাশ আন্দোলনের অন্যতম প্রধাণ উদ্যোগী ছিলেন। ব্যাপটিস্ট মিশনারি পরে রামমোহনের ঘনিষ্ঠ বব্ধুদের অন্যতম এবং শেষ বয়সে রামমোহনেরই চিন্তা অনুরণ করে ইউনিটেরায়ানবাদে দীক্ষিত হন উইলিয়ম এডাম। তাঁর ভাষায় লাভ অব ফ্রিডম ওয়াজ পারহ্যপস দ্য স্ট্রংগেস্ট প্যাশান অব হিজ সোল। মানা গেল। বহুকাল ধরেই ইওরোপিয়র শংসাপত্রে আমরা বাঙালিরা একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি কীনা। শুধু একটি বেয়াড়া গ্রামীণ ধরণের মূঢ় প্রশ্ন। রামমোহন বাক-স্বাধীণতার জন্য লড়াই করছেন। জাহাজে ফরাসি তেরঙ্গা দেখে ভাঙাপায়েও সেটিকে গিয়ে স্যালুট করে আসার ইচ্ছে দমন করতে পারেন নি। সেই রামমোহন কী একবারও বাঙলার অত্যাচারিত হতভাগ্য রায়তদের স্বাধীণতার কথা ভেবেছেন! ভেবেছেন কী, দুটাকা দাদন নিয়েই যে রায়ত নীলকরের কেনা গোলাম হয়ে পড়েন, তখন তাঁর বাকস্বাধীণতা নয়, সাধারণ বেঁচেথাকার স্বাধীণতার কী হাল হয়। তিনি কী ভেবেছেন, তাঁর অত্যন্ত অনুগত পৌত্তলিক কড়া নীলকর জমিদার শিষ্যের রায়তেরা কেমন থাকেন! তার একবারওকী মনেপড়ত, যখন রাজস্ব আদায়ের দেওয়ানির চাকরি করছেন, তখন বাঙলার রায়তরা কত স্বাধীনতা ভোগ করছেন।
বিমানবিহারী মজুমদার হিস্ট্রি আব পলিটিক্যাল থট পুস্তকের প্রথম খন্ডে বলছেন(অনুবাদ সুপ্রকাশ রায়) তিনি(রামমোহন) ব্রিটিশ শাসনের উপকারিতা উপলব্ধি করেছিলেন। কিন্তু ভারতবর্ষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ভারতীয়গণ যতখানি রাজনৈতিক অধিকারের যোগ্য ততখানি রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য সিংহের ন্যায় সংগ্রাম করিয়া ছিলেন। আদতে কলকাতা নিবাসী একজনও ইংরেজি শিক্ষিত নবজাগরণে ডুবে থাকা লড়াই খ্যাপা বাঙালি মনে করতেন না গ্রামের তথাকথিত অশিক্ষিত জনগণ স্বাধীণতার যোগ্য। নবযুগ অর্থে কলকাতার আলালি বাবুরা যা বুঝতেন, তা রামমোহন বা দ্বারকানাথেরমতকরে সাম্রাজ্য বন্ধুত্ব(আদতে গোলামি) আর তাদের সঙ্গে মিলে সাম্রাজ্যের লাভের অংশের খুদ-কুঁড়ো লাভের অধিকার অর্জন। যারা বাঙলার কৃষক, শিল্পী, ছোট ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের মূঢ়, অজ্ঞ অথবা চেতনাহীন বলে দেগে দেন, তারা হয়ত জানেননা রামমোহন-দ্বারকানাথেদের জন্মের বহু আগেই, বাঙলা লুঠের ইংরেজ শাসনে অতিষ্ঠ জনগণ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে কোমর বেঁধে ফেলেছেন। একের পর এক সংগ্রামে বাঙলা কেঁপে উঠছে। সংগ্রামের ধাক্কায় শাসনের নৌকো টলোমলো। রামমোহন যখন যুবক, বাবার জমিদারি সামলে কুসীদজীবির ভূমিকা পালন করছেন, তখন মেদিনীপুরে মালঙ্গী নেতা বলাই কুন্ডু আর প্রেমানন্দ সরকারের মিছিল, অবরোধের স্বাধীণতা সংগ্রামে কাঁথি হিজলির পরগণা থরোথরো। মালঙ্গী স্বাধীণতা সংগ্রামীরা বিশাল মিছিল করে কাঁথির লবন আমলাদের কাছে দাবি সনদ পেশ করতে যান, কয়েকদিন অবরোধ করে রাখেন। কলকাতায় পাল্কি বেহারাদেরও ধর্মঘট হয়। কেউ জানেন, কেউ আবার ইচ্ছে করেই ভুলেযান নানান স্বার্থ-বন্ধনে।
বিমানবিহারী অথবা পাদরি এডাম কার কিসের স্বাধীণতার কথা বলছেন তাঁরাই জানেন! বিমানবিহারী মজুমদার বলছেন রামমোহন বিশ্বাস করতেন যে, যদি কখনও য়ুরোপে উদারনীতি ও জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়, তাহা হইলে ইতিহাসের স্বাভাবিক নিয়মেই ভারতেও যথাসময়ে আরম্ভ হইবে। আর তখন কেবল তখনই ভারতের স্বাধীনতার পথ প্রস্তুত হইবে। ইংলন্ডের রাজা ও পার্লামনেন্ট আর ইংলন্ডের সমাজ-নায়কদের উদারতা ও সদিচ্ছায় রামমোহনের ছিল অগাধ বিশ্বাস। তাহার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, ইংলন্ড ভারতের পরম মঙ্গলাকাঙ্খী ও বন্ধু। ইংরেজ ভারতের পরম বন্ধু। আর ভারতের জনগণ স্বাধীণতার জন্য প্রস্তুত নয় এই তত্ব রামমোহন আর তাঁর পারিষদেরা অথবা পরে ভারতীয় বামপন্থীদের তত্বে চিরজাগ্রত ছিল। এই স্বাধীণতা হবে য়ুরোপের দান। যে গণতন্ত্রে অর্থ দিয়ে জন প্রতিনিধিত্বের আসন কিনতেন নবোবেরা, সেই গণতন্ত্রের গলাপচা শব স্বাধীণ ভারতের জনগণকে এখনও বয়ে চলতে হচ্ছে। আমরা সহজেই ভুলেযাই, অজ্ঞ, সামন্ত্রতন্ত্রে ডুবে ছাকা বাঙলার স্বাধীণতাকামী জনগণ কিন্তু পলাশির পাঁচ বছর পরেই, সরাসরি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোযণা করেছিল।
আজ অনেকেই হয়ত জানি কোন কোন ভারতীয়রা ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের বন্ধুত্ব অর্জনে পারিতোষিক বিতরণ করে কোম্পানির বড় কর্তাদের ধনী আর খুশি করেছেন, নিজেরা অর্থ অর্জন করেছেন, কেউ আবার অন্যকিছু পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনে খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন, যেমন, বিদ্যাসাগর। ছাপার ব্যবসার প্রথম বরাতটি ফোর্ট উইলিয়মের কলেজের সহৃদয় উপহার। বন্ধু নীলমাধব মুখোপাধ্যায়ের থেকে ৬০০ টাকা ধারে সংস্কৃত ডিপজিটরি ছাপাখানা খুলে মূলধনী মূল্যের সমপরিমান অর্থের, অর্থাত ৬ টাকা মূল্যের ভারতচন্দ্রের ১০০টি অন্নদামঙ্গল বইএর সরবরাহের বরাত পেয়েছেন অবহেলে। এর জন্য তাঁকে মেকলের কটুক্তিতে নীরব থাকতে হয়েছে। দেশের সর্বজনীন গণশিক্ষাব্যবস্থাকে ধংস করে শহুরে বাঙালিদের জন্য ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাবও পেশ করতে হয়েছে। টোলবাড়ির সন্তান হয়ে বেদান্ত আর সাংখ্যকে মিথ্যা দর্শণ ঘোষণা করতে হয়েছে। বিদ্যাসাগর বোধহয় এই জন্যই তাঁর একটি ব্যজস্তুতিতে খেদোক্তি করেছেন তিনি বাঙলা বাজারে দেবী সরস্বতীকে বাঁদরনাচ নাচাচ্ছেন!
রামমোহন ভারতের মুদ্রাযন্ত্রের স্বাধীণতার জন্য যথন একটি আবেদনপত্র ইংলন্ডের রাজার কাছে পাঠান তখন সেই পত্রে তিনি সমস্ত ভারতবাসীকে মহামহিম ইংলন্ডেশ্বরের অতি বশংবদ প্রজা রূপে বর্ণনা করে অকুন্ঠ রাজভক্তি আর পরম ইংরেজ ভক্তি প্রদর্শণ করেন। তিনি মুদ্রাযন্ত্রের এমন স্বাধীনতা চেয়েছিলেন যা আদতে কোম্পানির আমলাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বাঙলা রেনেসাঁর গুরুঠাকুর, কোম্পানি চাকুরে জেরিমি বেন্থাম ইংলন্ডে সার্বজনীন ভোটাধিকার নিয়ে আন্দোলন করছেন (আবারও বলাযাক সনাতন ভারতে লিচ্ছবিদেরমত বহু জনপদে প্রজাতন্ত্র ছিল। সেখানে প্রজাদের ভোটাধিকার ছিল। অথচ বিশ্বে বর্তমান ভোটজোট গণতন্ত্রের একমাত্র প্রবক্তা পশ্চিমি সভ্যতা, এমন এক অনৃত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা আজও অব্যাহত)। সেই সময় রামমোহন দাবি জানালেন ভারতের কেবল ধনবান, অভিজাত, শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবিরাই পার্লামেন্টের প্রস্তাবিত আইনের অধিকারী। অন্য কেউ নয়। সেই সময় রামমোহন সুপ্রীম কোর্টে এক আবেদনে ইংলন্ডেশ্বরের প্রশংসা করে লিখছেন, ভারতবাসীদের পরম সৌভাগ্য যে, তাহারা ভগবত্ করুণায় সমগ্র ইংরেজ জাতির রক্ষণাবেক্ষণে রহিয়াছে, এবং ইংলন্ডের রাজা ইংলন্ডের লর্ডগণ ও ইংলন্ডের পার্লামেন্ট ভারতবাসীগণের জন্য আইন প্রণয়ণের কর্তা।
আরও একটা ছোট উদাহরণ। যে সময় এলিটিস্ট রামমোহন, তাঁর শিষ্য নীলকর দ্বারকানাথ দেশের মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনতে নীলকরদের সপক্ষে সরাসরি কথা বলছেন, দেশের মানুষকে অজ্ঞ বলছেন, ঠিক তখনই তিতুমীর সাধারণ রায়ত প্রজাদের সঙ্গে নিয়ে বাঁশের কেল্লায় ইংরেজদের শাসন উচ্ছেদ করে বাঙলায় স্বাধীণতা আনতে ব্রিটিশ শাসনের পিলে প্রায় চমকে দিয়েছিলেন। সেই বছরেই ১৮৩১এ, রামমোহন ভারতে ব্রিটিশ শাসন শক্তিশালী করতে বলছেন, ...কৃষক ও গ্রামবাসীগণ নিতান্ত অজ্ঞ, সুতরাং তাহারা পূর্বকালের বা বর্তমান কালের শাসন ব্যবস্থা সম্বন্ধে নিস্পৃহ। ...ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মচারীগণের আচরণের উপরেই তাহাদের নিরাপত্তা বা দুঃখ কষ্ট নির্ভর করে। ...যাহারা ব্যবসায়ে নিযুক্ত থাকিয়া ঐশ্বর্যশালী হইয়াছে এবং যাহারা চিরস্থায়ী-বন্দোবস্তের বলে শান্তিতে জমিদারি ভোগ করিতেছে তাহারা তাহাদের বিচক্ষণতা দ্বারা ইংরেজ শাসনাধীন ভবিষ্যত্ উন্নতির উজ্জ্বল সম্ভাবনা উপলব্ধি করিতে সক্ষম। আমি তাহাদের সাধারণ মনোভাব সম্বন্ধে বিনা দ্বিধায় বলিতে পারি যে, তাহারা ক্ষমতার গুণানুসারে তাহাদিগকে ক্রমশঃ উচ্চতর সরকারি মর্যাদা দান করিলে ইংরেদ সরকারের প্রতি তাঁহাদের অনুরুক্তি(এটাচমেন্ট) আরও বৃদ্ধি পাইবে। আদতে বাঙলা তথা পূর্বভারতজুড়ে ইংরেজদের লুঠ, ঠান্ডামাথায় খুন আর স্বাধীণতার দাবিতে যখন গ্রামীণ বাঙলা বিদ্রোহে থরথর, তখনই ভারতে ইংরেজ শাসনকে আরও জোরদার করতে রামমোহন, দ্বারকানাথেরমত কিছু বাঙালি সার্থকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেলেন সাম্রাজ্য বন্ধুত্বে। এঁদের বাঙলার নবজাগরণের অগ্রদূতের মর্যাদা দিয়েছে ডান-মধ্য-বামপন্থী ঐতিহাসিকেরা।

দাসব্যবসায়ীদের বন্ধু রামমোহন-দ্বারকানাথ
আমেরিকার প্ল্যানটেশনের প্রভুরা ক্রীতদাস কিনে তাদের চাষের কাজে লাগাত। তাছাড়া আমেরিকায় আমেরিকানরাই ছিল প্রভু, তারা আফ্রিকা থেকে নিগ্রো ক্রীতদাস কিনে আনত। বাঙলাদেশে বিদেশিরা প্রভু হয়ে এল। আমেরিকান প্রভুদের ক্রীতদাস কেনার টাকা খরচ করতে হত। বাঙলাদেশে ইংরেদ প্রভুদের কোন টাকাই খরচ করতে হত না। মাত্র দুটাকা দাদন দিয়ে তারা কৃষকদের দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে ফেলত। (প্রমোদ সেনগুপ্ত, নীল বিদ্রোহ)
১৮৩৩এর সনদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাধারণ বাণিজ্য অধিকার কেড়ে নিয়ে শুধু ভারত শাসনের দায়্ত্ব দেওয়া হল। একই সঙ্গে দাসশ্রম বেআইনি ঘোষণা করা হল। ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিশ্বের নানান দেশের ইংরেজ দাসমালিকেরা বেকার হয়েগেল। এই সনদে ভারতেরতো লাভই হল না, বরং ভারতে ইংরেজরা অবাধি জমি কেনার আইনি অধিকার লাভ করল। সনদের এই আইন তৈরির দায় ভারতীয়দের ওপরে চাপিয়ে দেয় ব্রিটিশ সরকার। বলেছিল জনগণের চাহিদায় ...আমরা গণতান্ত্রিক রীতি মেনে এই আইনটি তৈরি করলাম।
ইংরেজ দাস ব্যবসায়ীরা ছিল সবথেকে নির্মম, সবথেকে কঠোর, শ্রমিকদের বেশি খাটিয়ে আরও লাভের জন্য নিত্যনতুন অত্যাচারের ফন্দি বের করত। ৩৩এর সনদের অধিকারে বিশ্বজোড়া বেকার ইংরেজ দাস ব্যবসায়ীরা বাঙলায়, ভারতে জমি কিনতে শুরু করে। ম্যাঞ্চেস্টারের মিলগুলিতে প্রচুর পরিমান রঞ্জক পদার্থ সরবরাহ প্রয়োজন হত। সেই বরাত পায় নীলকরেরা। নীল ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের গন্ধে নীলকরেরা দাসব্যবসায়ী জাতভাইদের ব্যবসার পদ্ধতিগুলি নকল করে সোনার বাঙলায় প্রয়োগ করতে শুরু করল। বিশ্বজোড়া দাসমালিকেরা বেকার হয়েপড়া কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থের হাতছানি দিয়ে ভারতে নীলচাষের ব্যবস্থাপনায় লাগায়।
বাঙলা আগেও নীলকরদের অত্যাচার দেখেছে। বাঙলার মানুষ প্রতিবাদও জানিয়েছে। কিন্তু প্রাক্তণ দাস ব্যবসায়ী নীলকরদের অত্যাচার অতীতের সমস্ত উদাহরণ ছাড়িয়ে যায়। দাসব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি না দিয়ে অর্বুদ পরিমান লাভ করে এসেছে সারা বিশ্বে। বাঙলার উর্বরভূমিতে তারা ১৮৩৩এর আইন আর বাঙলার মাটিতে নতুন ধরণের অত্যাচার মিলিয়ে মিশিয়ে এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করল যে, যাতে শ্রমিকেরা অর্থ চাইতে ভয় পায়। তবুও আন্দোলন চরমে ওঠে।
বাঙলায় দাসব্যবসায়ীরা নীলকর হিসেবে পুণর্বাসিত না হলেও নীলকরদের রায়তদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হত না। রামমোহন-দ্বারকানাথ কলোনাইজেশন আন্দোলনের পাশে না দাঁড়ালেও ১৮৩৩এর সনদ আইন হতই। তবুও ১৮৩৩এর সনদ বাস্তব হয়ে ওঠার পেছনে রামমোহন-দ্বারকানাথ ভারতে লড়েছিলেন ছিল সব থেকে বেশি। ভারতে দাসমালিকদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার দায় অন্ততঃ তাঁরা দুজন এড়াতে পারেন না। দ্বারকানাথ নিজে নীলকর ছিলেন, রামমোহন ছিলেন নীলকরদের সমর্থক। নীলচাষী রায়তদের ওপর অত্যাচারের বিষয়টি এই দুই মহাতেজ যে বুঝতে চাননি বাঙলার ইতিহাস তার প্রমাণ।

সাম্রাজ্যবন্ধু- দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রামমোহন রায় - ব্রিটিশ নিমকে দায়বদ্ধ রামমোহন, He supported the Import of British Salt

নরেন্দ্র কৃষ্ণ সিনহা জানাচ্ছেন, ইংরেজ শাসনে বেয়াদপ স্বাধীণতা সংগ্রামী মালঙ্গীদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে, রামমোহন রায় ভারতের আরও ভাল, আরও সুন্দর, বাঙলার লবন মহল লুঠের অর্থে তৈরি ব্রিটিশ কোম্পানির নুন লন্ডন থেকে সরাসরি আমদানি করতে ব্রিটেনে গিয়ে সরকারকে সুপারিশ করছেন। রামমোহনের এই সুপারিশে কলকাতার বাজারে লন্ডন থেকে আমদানিকরা নুনের পরিমান হঠাতই এত বেড়ে যায় যে, বাঙলার মালঙ্গীদের কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়ায়। ১৮৪৫-৪৬আর্থিক বছরের থেকে ৫,০২,৬১৬ মন থেকে শুরু হয়ে ১৮৫১-৫২ পর্যন্ত প্রত্যেক বছরে যা আমদানি হয় তার একটা হিসেব এখানে দেওয়া গেল –
১৮৪৬-৪৭তে                                         ৩,৫২,৮৩৫,
১৮৪৭-৪৮তে                                         ৭,৫২,৯৯৮,
১৮৪৮-৪৯এ                                          ৪,৪৯,৮০৩,
১৮৪৯-৫০এ                                          ৬,৯৪,৪৪৭,
১৮৫০-৫১এ                                          ১০,১২,৬৯৮
১৮৫১-৫২তে                                         ১৮,৫০,৭৬২ মন(১ মন, ৮২ পাউন্ড)
(রমেশ চন্দ্র দত্ত, ইকনমিক হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া, দ্বিতীয় খন্ড)।
এই অবাধ আমদানিতে ভারত সরকারও বিপদে পড়ে যায়। গভর্নর জেনারেল, ডালহৌসি ব্রিটেনে লেখেন, "The representatives of the Board of Revenue, in my humble judgment, have established that, under the existing system, no injustice is done to the importer of salt, but that great and growing injustice is inflicted on the native producer of the article। The direct effect of this has been to enable imported salt to compete with native manufactured salt so successfully that it is thrusting the latter out of the market, while, if the selling price of native salt were, what it would be in the hands of native traders, it might still hold its ground।

The Government, in my opinion, should be far less ashamed of confessing that it has committed a blunder than of showing reluctance to remedy an injustice lest it should at the same time be convicted of having previously blundered। It may be too that the imported salt, with the many advantages which it is shown to enjoy in its import over other articles of commerce, may still drive the native salt out of the market, even at its readjusted price। If this should prove to be the case, the Government will have to consider the question under that new aspect। Its present duty is obvious। So great a change, however, cannot with propriety be carried into effect until a reference shall have been made to the Honourable Court of Directors। Let this be done by next mail, and as the case is urgent, an early reply should be requested।" 

সাম্রাজ্যবন্ধু- দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রামমোহন রায় - বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান - সুশোভনীয় - Support from the Lefts of India, Even Sushovon Sarkar

রামমোহের কলোনাইজেশনতত্বের সমর্থনে কোলেট সুশোভন সরকারকে কলমা পড়িয়ে নেন। সুশোভন সরকার রামমোহনের তাত্বিক অবস্থান বর্ণনায় পার্টির তাত্বিক লাইন অনুসরণ করেন। মার্ক্স উপনিবেশবাদ, দাসব্যবস্থাকে সমাজের অগ্রসর কাঠামোর তাত্বিকভূমিকার চামড়া পরিয়েছিলেন। সেই পথ ধরে, নীল চাষকে অগ্রগতির কৃষিকর্মরূপে বর্ণনা করলেন সুশেভন সরকারমশাই। তিনি দাবি করেন, নীলকরদের অত্যাচার সম্বন্ধে রামমোহনের ধরনা ছিল না। তাই রামমোহন নীলকরদের বিরুদ্ধাচরণ করেন নি। ব্যতিক্রম সুপ্রকাশ রায়। ভারতের কৃষক স্বাধীণতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সুশেভন সরকারের পুস্তকটির কয়েক বছর পর (প্রথম প্রকাশ ১৯৬৬) প্রকাশিত হয়। সুপ্রকাশ রায় সরাসরি পার্টি লাইন থেকে বেরিয়ে এসে রামমোহন আর দ্বারকানাথ সম্বন্ধেই বেশ কড়া ভাষায় সত্যগুলি প্রকাশ করেছেন। সুশোভন সরকারদেরমত বুদ্ধিজীবির কাজের উত্তরে আমাদেরমত তুচ্ছ কলমচির কথা বলার অধিকারী কীনা তা দুবার ভাবতে হয়, তবুও বলি, তিতুমীর দক্ষিণ বাঙলার বিশাল অঞ্চলে নীলকরবিরোধী বিশাল গণসংগ্রাম গড়ে তুলেছিল। কলকাতার সংবাদপত্রে সে বিষয়ে নানান প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সুশেভন সরকারের দাবি রামমোহন সে সম্বন্ধে অবহিত ছিলেন না। এ তথ্য প্রমাণকরার দায় ছিল সরকার মশাইএর, যদিও সরকার মশাই আজ সমস্ত বিতর্কের বাইরে।
আমরা শুধু বলতে চাই বেঙ্গল হরকরাতে রামমোহনের শিষ্য দ্বারকানাথ নীলকরবিরোধী সংবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন অপপ্রচার অভিধা দিয়ে। ভারতে কলোনাইজেশন আন্দোলনের শেকড় গড়েতে টাউন হলে সভাও করেছেন। যে ব্যক্তি, সংঘ নীলকর, কলোনাইজেশন বিরোধী, তাকেই দ্বারকানাথ দেশ বিরোধী দেগেদিয়েছেন। কলোনাইজেশনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নীলকরদের ভারতে জমিকেনার আইনের দাবি। রামমোহন নীলকরদের অন্যতম চারণভূমি রংপুরে চাকরি করেছেন। এই দুই প্রখ্যাত বাঙালি জমিদার ছিলেন। দুজনের জমিদারিতেই নীলকরদের রমরমা ছিল। এঁরা দুজন নীলকরদের অত্যাচার বিষয়টি অস্বীকার করতেই পারেন। সেটি তাদের দৃষ্টিভঙ্গী। কিন্তু নীলকরদের অত্যাচার সম্বন্ধে রামমোহন অজ্ঞ ছিলেন বলাটা কষ্টকল্পিত হয়ে যায় না কী!
ফ্রান্সিস বুকানন ১৮০৮ সালেই নীলকরদের অত্যাচার সম্বন্ধে বলেছেন। ১৮১০ সালেই গভর্নর-জেনারেল মিন্টো জানান ইওরোপিয় নীলকরদের বিরুদ্ধে নানান ধরনের অত্যাচারের অভিযোগ জমা পড়ছে। সুপ্রিম কোর্টও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে ৪জন ইওরোপিয়কে লন্ডনে ফেরত পাঠায়। ১৮২২এর ১৮মে সমাচার দর্পণ নীলকরদের সামনে রায়তদের অসহায়তার কথা সরাসরি জানাচ্ছে। এমনকী ১৮২৩এর ১০ অক্টোবর কলকাতায় আসা বিশপ হেব্বার ১৮২৫এর মার্চে লিখছেন, নীলকরদের অত্যাচারে দেশিয়দের চোখে ইওরোপিয়দের চরিত্রে কলঙ্ক লাগছে। ভারত সভ্যতার কুচ্ছাগাওয়া ব্যাবিঙ্কটন মেকলেও অত্যাচারী নীলকরদেশওয়ালিভাইদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কলম ধরেছেন। এতসব অত্যাচারের বর্ণনা জনসমক্ষেই প্রচারিত হয়েছে। তবুও রামমোহনের পাশে দাঁড়িয়ে সুশোভন সরকারকে রামমোহনের অজ্ঞতা আর নীলচাষের প্রগতিশীলতা প্রমাণ করতে হয়। বলতে হয় এই চাষে বাঙলা উন্নতির শিখরে গিয়েছে।
রামমোহন স্বয়ং মনেকরতেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রায়তদের উপকারে লেগেছে। সিলেক্ট কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি পেশ করেন। তিনি নিজে এই ব্যবস্থাজাত মানুষ। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তাকে জমিদারি দিয়েছে, দেওয়ানির চাকরি করে অন্যান্যদেরমত অমিত অর্থ রোজগার করার সুযোগ দিয়েছে। নিজে ১৮৩৩এর কলোনাইজেশন সনদের অন্যতম তাত্বিক। আদর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তণ দাস ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন বাঙলার রায়তদের জীবন আরও দুর্বিসহ করে তুলতে। তাতে লুঠের দরজা আরও বেশি হাট হয়। বাঙলা লুঠের অন্যতম অনুঘটক রামমোহন। সেই লুঠধংসকান্ডের বিরুদ্ধে সুশোভন সরকারেরমত মানুষ, স্বাধীণতার পরেও দাঁড়াতে পারেননা। তিনিও শেষ পর্যন্ত রামমোহন-দ্বারকানাথেরমতই সাম্রাজ্যের বন্ধু থেকে যান। আজ পর্যন্ত এই দুইজন মানুষের বাঙলার সংস্কৃতিতে এতই পকড় যে এঁদের কাজ সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা বাঙলার অন্যতম নিষিদ্ধকাজ। রামমোহনের স্মৃতিতে দক্ষিণ কলকাতায় একটি উচ্চশ্রেণীর বিদ্যালয় রমরমকরে চলছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ করেছে দ্বারকানাথের উত্তরসূরী, ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায় এই মানুষটির জীবনীগ্রন্থ। তার সেই পুস্তকের বিশদ পাওয়া যাবে দ্বারকানাথ পর্বে। আজও বামপন্থী, মধ্যপন্থী, দক্ষিণপন্থী সব ঐতিহাসিকই রামমোহন-দ্বারকানাথের নামের অকলঙ্কে দারুন বিশ্বাসী।  

আলালদের গুরুঠাকুরদের কমিউনিস্ট দলের সমর্থন
রামমোহন রায়এর সমর্থনে নামার সুশোভন সরকারের বাধ্যবাধকতা বোঝা যায় প্রকাশ তারিখহীন, কমিউনিস্ট পার্টির মুম্বাই শাখা, বহুকালপূর্বে তাঁরই ছদ্মনাম, অমিত সেনের নোটস অন বেঙ্গল রেনেসাঁ শীর্ষক ৭৭পাতার একটি পুস্তিকা প্রকাশ থেকে। সেই পুস্তকে পি(পুরণ) সি(চাঁদ) জোশীর একটি ভূমিকা লেখেন। কোনও মন্তব্য ছাড়াই এই মুখপাত তুলে দেওয়া গেল-
This short pamphlet gives no more than the broad frame-work for a study of the Bengal Renaissance from Rammohan Roy to Rabmdranath Tagore। The author himself an eminent Marxist intellectual- did not desire its publication at this stage as it is in no sense a detailed study nor is the frame-work indicated here necessarily final or complete।
He has agreed to its publication for discussion because at the present crisis in Indian life and thought, it is urgently necessary to uncover the roots of the Bengal Renaissance which moulded the modern Indian mind much of that heritage has been lost and forgotten। Much of it has been repudiated and distorted। But it still remains the most powerful influence in moulding current ideas of all schools of social and political thought।
We are therefore publishing this pamphlet as a contribution towards the efforts to bring about a correct and common understanding of the ideas of our own past ideological heritage so that we may successfully struggle towards new ideas that will help to liberate our land and build a new life for our people।
Bengal was the birth-place of the modern Indian Renaissance We look to all Bengali intellectuals irrespective of ideological or political differences to contribute to the discussion।
Comments and criticism of this draft will be very welcome and should be addressed to Amit Sen c|o the Communist Party Headquarters, Raj Bhuvan, Sandhurst Road, Bombay 4। All contributions, together with the author's reply, will be printed in the Marxist Miscellany which is brought out by the People's Publishing House।
P. C. JOSHI.
পুস্তকের সূচীপত্রটিও এখানে প্রয়োজন বোধে তুলে দেওয়া গেল। এই সূচীপত্রপাঠে বোঝা যাবে কোন কোন রেনেসাঁজাত ব্যক্তি, ঘটনা অথবা সংস্থা এই পুস্তকে ঠাঁই পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন-
Ram Mohan Roy 1772-1833                                        3 
The Associates of Ram Mohan Roy                               11 
Conservative Critics of Ram Mohan Roy                                     13 
The Rise of New Radicalism                                        15 
1833-1857 
The Derozians                                                          17 
Moderate Reformers                                                  22 
Iswar Chandra Vidyasagar 1820-1891                            25 
British Indian Association 1851                                                27 
1857-1885 
After the Mutiny                                                       30 
Creative Literature and Learning                                    32 
Religious Reform and Revivalism                                  37 
National Consciousness                                              41 
1885-1905 
National Conference and National Congress                     47 
Literature and Culture                                                             53 
1905-1919 
Partition of Bengal                                                    56 
Extremism and Terrorism                                            59 
Literature and Culture                                                             64
 
বাঙলার রেনেসাঁর সময়কে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি পাঁচভাগে ভাগ করে,
1। 1814-1833 The easiest starting point is, of course, the date 1814, when Rammohan Roy settled down in Calcutta and took up seriously his life's work। His death in England in 1833, obviously ends the period of which he was, indisputably, the central figure। 
2। 1833-1857 From the death of Rammohan to the outbreak of the Indian Mutiny। 
3। 1857-1885 From the Mutiny to the foundation of the Indian National Congress। 
4। 1885-1905 From the commencement of the Congress to the Partition of Bengal 
5। 1905-1919 From the Partition and the great Swadeshi agitation to the coming of Non-Co-operation and the leadeiship of Mahatma Gandhi। 
এই পুস্তকের প্রথম প্রবন্ধ, রামমোহন রায়। প্রথম প্রবন্ধেরই প্রথম স্তবকে লেখা রয়েছে The central characteristics in the life and thought of Rammohan Roy were his keen consciousness of the stagnant, degraded and corrupt state into which our society had fallen, his deep love of the people which sought their all-round regeneration, his critical appreciation of the value of modern Western culture and the ancient wisdom of the East alike, and his untiring many-sided efforts in fighting for improving the conditions around him। No contemporary ever approached him in the quantity and the quality of achievement or the range of activity। His writings themselves are the best proof of the life-giving spirit of new thought। Recent detractors of his deserved reputation have merely revealed their own failure to grasp the significance of the renaissance in our country।
পাদ্রিরা, কোম্পানির চাকুরেরা ভারতের প্রতিমা আঁকার কাজ করছিলেন যে ভাষায়, স্বাধীণ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিও ঠিক সেই পথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে একহাতে মদ আর অন্যহাতে বাইবেল ধরে বেশ্যাসক্ত সমাজধর্মসংস্কারে উদ্যমী এবং ব্রিটিশ রাজপুরুষদ্বারা পালিত, সাম্রাজ্যের সবথেকে বড় বন্ধু নবজারণের কর্ণধারদের ভাষায় কথা বললেন। রামমোহন অথবা দ্বারকানাথের সম্বন্ধে ভারতীয় বামপন্থীরা আগামীদিনে কি বলবেন, কী লিখবেন, তার নাট্যরূপ তৈরি হয়েগিয়েছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মুক্তপুরুষ পুরণ চাঁদ যোশীর আমলেই। এরপর থেকেই বামপন্থীদের বৌদ্ধিক-সামাজিক নিরাপত্তা পেয়ে এসেছেন এই দুই মহাতেজ। সাধারণভাবে বামপন্থী ভারতীয় লেখক, ঐতিহাসিকেরা পার্টির তৈরি ছকের বাইরে বেরোতে চান না। রেনেসাঁ সম্বন্ধে যদি কোনও বেয়াড়া পার্টি লাইন বিরোধী তত্ব-তথ্য প্রকাশ করতে হয়, তাহলে মার্ক্সীয় ছকে, কেটে দেওয়া লক্ষ্মণের গন্ডীর ভেতর থেকেই চিনির সিরা মাখিয়ে যতটা সম্ভব রেখে ঢেকে প্রকাশ করা যায় করেন। আশ্চর্যের কথা এই কমিউনিস্ট পার্টির এই বইতে বাঙলার জনজাগরণের সংগ্রাম সম্বন্ধে কোনও মন্তব্য নেই। কেন! যদিও ততটা বিখ্যাত নন এক বামপন্থী সুপ্রকাশ রায়, পার্টি লাইনের বাইরে বেরিয়ে সেই অধরা মহাকাব্য রচনা করেছেন। এবং এই বইটি প্রকাশ হওয়ার পরে। কেন! তিনিই একমাত্র ব্যতিক্রম। এতগুলো কেনর উত্তর কী কেউ চেয়েছেন! বাঙলার রায়তদের হয়ে কলাবতী মুদ্রা সেই উত্তর আজ চাইছে। খুব বেয়াদপি হল কী!