Showing posts with label ফাতাউল্লা সিরাজি. Show all posts
Showing posts with label ফাতাউল্লা সিরাজি. Show all posts

Wednesday, January 17, 2018

ফাতাউল্লা সিরাজি - পঞ্চদশ শতের প্রযুক্তিবিদ

মাত্র সাত বছর ফাতাউল্লা আকবরের সভাসদ ছিলেন। সে সময়ের যে কোন জ্ঞানীর মত ফাতাউল্লা একাধারে ধর্মতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক, বৈয়াকরণিক, চিকিৎসক, অঙ্কবিদ, জ্যোতির্বিদ, জ্যোতিষবিদ, প্রযুক্তিবিদ, এবং জাদুকর ছিলেন। তাঁর সম্বন্ধে আবুল ফজল লিখছেন, আমাদের প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুথিগুলি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলেও তিনি আমাদের নতুন জ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিয়ে দিতে পারবেন। তাঁর মৃত্যুতে আকবরও বিপুল শোক প্রকাশ করেন।
ফাতাউল্লা, সিরাজ শহরে জন্মান। যুবা বয়সেই তিনি মীর শাহ মীরের শিষ্য হয়ে জ্ঞানচর্চায় বৃত হন। দার্শনিক জালালুদ্দিন জাওয়ানির শিষ্য খ্বাজা জামালুদ্দিন মহম্মদ তাঁকে যুক্তিবিদ্যা আর দর্শন পাঠ দেন। গিয়াসুদ্দিন মনসুরের থেকে তিনি চিকিৎসা, অঙ্ক আর বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানী হন। জোরাথ্রুষ্ট্রিয় তাত্ত্বিক আজার খাইওয়ানের থেকেও দার্শনিক নেন।
সিরাজে তিনি পড়ানো শুরু করেন। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে প্রখ্যাত হলেন, মীর তাকিউদ্দিন মহম্মদ, আফজল খাঁ, বিজাপুরের প্রথম আলি আদিল শাহের প্রধান উজির রফিউদ্দিন শিরাজি, এই সুলতানের ঐতিহাসিক শেখ হাসান মাউসালি এবং ফরিদুদ্দিন মাসুদ বিন ইব্রাহিম দেহলিভি, জিজিইশাহজানির লেখক আবদুর রহিম খানখানান। আকবর তাঁর থেকে কবিতা এবং অঙ্কশাস্ত্র পাঠ নেন।
বিজাপুরের সুলতান আদিলশাহ বিপুল ব্যয় করে তাঁকে দাক্ষিণাত্যে নিয়ে আসেন। কবে আসেন জানান না গেলেও দীর্ঘকাল ধরে, সুলতানের মৃত্যু ১৫৮০ পর্যন্ত তিনি বিজাপুরে বাস করেন। ১৫৮৩তে আকবরের ডাকে তিনি আগ্রায় মুঘল দরবারে আসেন।
আবুল ফজল এবং বাদাউনি তাঁর সম্বন্ধে বিশদে লিখে গিয়েছেন। তিনি ধর্মীয় দানের জন্য উদ্দিষ্ট সদর দপ্তরে কাজ শুরু করেন। ১৮৫৪ সালের নওরোজের দিন ফ্যান্সি বাজারে তাঁর প্রযুক্তি প্রদর্শন করেন। সেই বছরেই তাঁর তত্ত্বে ইলাহি বর্ষের সূচনা। পরের বছর তাঁকে রাষ্ট্রের অছি, আমিনুল মুল্ক পদে বৃত করা হয়। তাঁর পরামর্শেই টোডরমল্ল নতুন রাজস্ব সংস্কারে হাত দেন। তিনি কুড়িটা পরামর্শ দেন, এবং সবক'টি আকবর গ্রহণ করেন। মুদ্রা সংস্কারও করেন। ১৫৮৫, ১৫৮৭ দুবার তিনি দাক্ষিণাত্য দৌত্যে যান, কিন্তু দৌত্য বিফল হয়। এই কাজে যাওয়ার জন্য তাঁকে ৫০০০ টাকা, খেলাত, আজুজুদ্দৌল্লা উপাধি, একটি ঘোড়া এবং গোটা হিন্দুস্তানের সদর পদ দেওয়া হয়। ১৫৮৮তে তাঁকে কাশ্মীরের রাজা করে দেওয়া হয়। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যু বরণ করেন।
আধুনিক পশ্চিমি ঐতিহাসিকদের কাছে ফাতাউল্লার প্রখ্যাতি যন্ত্র বানানোর জন্যে। তিনি কামানের নল পরিষ্কারের যন্ত্র, কামান টানার গাড়ি, এবং ইলাহি নামক সৌর পঞ্জিকার জনক। তিনি অনেক নিচ থেকে অনেউকগুলি চাকা নির্ভর করে বহু উঁচুতে জল তোলার প্রযুক্তির আবিষ্কারক বলা হচ্ছে আজও ফতেপুর সিক্রিতে এর উদাহরণ পাওয়া যাবে। এছাড়াও দুটি বড় পাথর ঘুরিয়ে শস্য ভাঙার যন্ত্রেরও তিনি উদ্ভাবক। তবে ইলাহি পঞ্জিকার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।
তাঁর নিজের কোন লেখা পাওয়া যায় নি। সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে আইনিআকবরি আর আকবরনামা সূত্রে। আইনে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের কিছু হাতে আঁকা ছবি পাওয়া গিয়েছে - তাঁর বেশি কিছু নয়।
এখানে এর বেশি বর্ণনা করার সুযোগ নেই। আলভি-রহমানের বইতে দেওয়া তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের কিছু ছবি তুলে দিলাম।





(এম এ আলভি, এ রহমানের 'ফাতাউল্লা সিরাজি আ সিক্সটিন্থ সেঞ্চুরি ইন্ডিয়ান সায়েন্টিস্ট', ১৯৬৮, অবলম্বনে)