Showing posts with label বৈমানিক বিদ্যা. Show all posts
Showing posts with label বৈমানিক বিদ্যা. Show all posts

Monday, June 9, 2014

বৈমানিক শাস্ত্রে যে সব বৈজ্ঞানিক শাস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে৩, Scientific Works Referred to the Vymanika Shastra3

শাননির্নয়-চন্দ্রিকা(শান=পাট)
নালিকা-নির্ণয়
সন্ধানা-পাটলম
ঋতু-কল্পম
উদ্ভিজ্জতত্ত্ব-সারায়নী
মূলিকর্ক-প্রকাশিকা
মণিপ্রদীপিকা
মণিকল্প-প্রদীপিকা
নিরস-কল্পম
লোহা-সর্বস্বম- মহাঋষি জৈমিনী
গতিনির্ণয়-অধ্যায়
ক্ষেত-সর্বস্বম-  মহাঋষি জৈমিনী
ক্ষেত-সংরহম
চারণীবন্দনা
শব্দ-মহাবোধী
যন্ত্র-প্রকরণম
শৌনক্যীয়ম- মহাঋষি শৌনক
বর্ণ-সর্বস্বম
অগতত্ব-লহরী – অশ্বালারায়ণ
প্রপঞ্চ-লহরী – মহাঋষি বশিষ্ট

সূত্র
জি আর জোয়সার, মহাঋষি ভরিদ্বাজের বৈমানিক শাস্ত্র, পণ্ডিত টি সুব্বারায়া শাস্ত্রীর ভূমিকাসহ
কৃতক এরোপ্লেন- পাইলট, মিররস এন্ড লেন্সেস, মেটালস(সুব্বারায়া শাস্ত্রীর জোড়াপাতা)

বৈমানিক শাস্ত্রে যে সব বৈজ্ঞানিক শাস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে২, Scientific Works Referred to the Vymanika Shastra2

সৌদামিনীকলা(ইলেক্ট্রনিক শাস্ত্র)
ছায়াপুরুষ শাস্ত্র
পাত-সংস্কারম রত্নকরম
কল্প-সূত্রম
অশন-কল্পম(খাদ্য নির্দেশ)
বিষনির্ণয়অধিকার – মহাঋষি শতপদ
লল্ল কারিকা – মহাঋষি লল্ল(ডায়েট নির্দেশ)
পাক-সর্বস্বম
মণিভদ্র-কারিকা
লোহাতন্ত্র(ধাতুবিদ্যা) – শকটায়ন
লোহা-কল্পম
সংস্কার-দর্পনম(সংস্কার=পরিস্কার)
মুষা-কল্পম(মুষা=ক্রুসিব্‌ল – জং ছাড়া লোহা তৈরি প্রযুক্তি)
কুণ্ড-কল্পম(কুণ্ড = ফার্নেস)
ভস্ত্রিকা-নিবন্ধন(ভস্ত্রিকা = হাপর)
মুকুর-কল্পম - মহাঋষি লল্ল
প্রপংচ-শরণম – লল্লাচার্য
স্বতসিদ্ধ-ন্যায় – মহাঋষি বশিষ্ট
শৌনক-সূত্রম – মহাঋষি শৌনক
ক্রিয়া-সারম
শক্তি-সর্বস্বম
শক্তি-বীজম
শক্তি-কৌস্তুভম
গোপথ-কারিকা
মণি-প্রকরণম
ত্বং-নির্ণয়াধিকরম(ত্বক বিষয়ক শাস্ত্র)
ক্ষীরিপট-কল্পম(ক্ষীর=দুধ)
প্ট-প্রদীপিকা

আগতত্ত্ব-নির্ণয়ম

বৈমানিক শাস্ত্রে যে সব বৈজ্ঞানিক শাস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে১, Scientific Works Referred to the Vymanika Shastra1

বাল্মীকি গণিত – মহাঋষি বাল্মীকি
যন্ত্র-সর্বস্বম – মহাঋষি ভরদ্বাজ
পরিভাষা-চন্দ্রিকা
নামার্থ-কল্পক – মহাঋষি অত্রি
উত্তর-তাপনীয়
শৈব্যা-প্রশ্ন
কথক
মণ্ডুক্য
বিমান-চন্দ্রিকা – মহাঋষি নারায়ণ
ব্যোমযন্ত্র-তন্ত্র – মহাঋষি শৌনক
যন্ত্র-কল্প – মহাঋষি গর্গ
যন্ত্র-বিন্দু – মহাঋষি বাচস্পতি
ক্ষেতায়ন-প্রদীপিকা – চক্রয়ানি
ব্যোমযান-অর্কপ্রকাশিকা – ধুন্ধিনাথ
রহস্য-লহরী – আচার্য লল্ল
মন্ত্রাধিকরম
বায়ুতত্ত্ব-প্রকরণম
শক্তি-তন্ত্রম – মহাঋষি অগস্ত্য
মেঘোৎপত্তি-প্রকরণম – মহাঋষি অগিরস
আকাশতন্ত্রম – মহাঋষি ভরদ্বাজ
ধুম-প্রকরণম – মহাঋষি নারদ
তাল-প্রকরনম
করক-প্রকরনম – মহাঋষি অত্রি
অংশু বোধিনী - মহাঋষি ভরদ্বাজ
দর্পন-প্রকাশনম
সদগর্ভ-বিবেকম
রিঘ্রিদয়ম - মহাঋষি অত্রি
শব্দ-প্রকাশিকা

প্রাচীন ভারতে বৈমানিক বিদ্যা - বৈমানিক শাস্ত্র প্রকাশের ইতিহাস২, Aeronautics Literature In Ancient India - How The Litreure of Baimanik Sashtra Came to Light2

জনগনের চাহিদা দেখে আমরা নতুন করে সেটির ইংরেজি অনুবাদ করতে বসলাম, সেই শাস্ত্রকে বিশ্লেষণ করে, বিমানের ছবি আঁকার চেষ্টা করলাম যাতে সেই বিদ্যাটি সরলভাবে সকল ভাষাভাষীর গোচরীভূত হয়।
আমার তখন ৮১ বছর বয়স। সেই বয়সে আমাদের দেশের জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চাকে নতুন করে প্রকাশ করতে নিদারুণ এক পরীক্ষায় বসতে হল। ছাপা নতুন করে শুরু হল। তখন শুধু সংস্কৃত নয় সঙ্গে জুটেছে ইংরেজিও, ফলে বেশ কয়েকবার ধরে ইংরেজি এবং সংস্কৃত অনুবাদের ছাপার ভুলগুলি সংশোধন করা শুরু হল। ছাপার অনেক বর্ণও তৈরি করতে হল। এ ধরণের পুঁথি ছাপতে প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু কে দেবে! আমরা আমাদেরই ক্ষুদ্র সঞ্চয় ভেঙে ছাপার কাজ, ছাপাখানার নানান সংস্কারের করে যেতে শুরু করলাম। এবং ভগবানের সকরুণ ইচ্ছায় বইটি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ হতে পারল, ৯০ বছর পর।
বৈমানিক শাস্ত্রে ৬০০টি স্তবক, ৩০০০টি শ্লোক রয়েছে। পুরনো সংস্কৃত ভাষায় বিমানের নানান প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
পণ্ডিত সুব্বারায়া শাস্ত্রী নানান ধরণের প্রচুর শাস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন সহজ, সরল, সাধারন কিন্তু প্রাচীন ধরনের এক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতীয় নানান বিদ্যার চলন্ত বিশ্বকোষ ছিলেন। তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য ছিল আধীত বিদ্যাকে আগামী দিনের জন্য উতসর্গ করে যাওয়া। তিনি সক্রেটিসের মত দারিদ্র্যের অন্তুরালে জীবন যাপন করেছেন। ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মুহূর্তমাত্র ব্যয় করেন নি।
১৮৮৫ সালে আরেক নির্লোভ ব্যক্তিত্ব বি সূর্যনারায়ণ রাও তাঁর যোগ্য অনুগামী হন। ১৯১১ সালে তিনি মাদ্রাজ থেকে ভৌতিক কলা নিধি নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই পত্রিকায় তিনি বিভিন্ন গবেষকের নানান উতসারিত বিদ্যার নির্যাস প্রকাশ করতে শুরু করেন। এবং ভগবানের পরম করুণায় এই মহাগুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার ছ’টি সংখ্যা আমাদের হাতে এসে পড়ে। ১ আগস্ট ১৯১৮ সালে তিনি তাঁর শিষ্য ভেঙ্কটচলা শর্মাকে বৈমানিক শাস্ত্র বলতে শুরু করেন এবং শর্মা ২৩টি খাতায় সেই আলোচনা লেখা শেষ করেন ২৩ আগস্ট ১৯২৩।
মহাঋষি ভরদ্বাজের বৈমানিক শাস্ত্র প্রকাশের জন্য তৈরি হল। তিনি বুদ্ধি করে একজন প্রয়ুক্তি আঁকিয়ে(ড্রাফটসম্যান)কে সঙ্গে নিয়ে তাঁর নির্দেশমত বিমানের নানান ছবি আঁকিয়ে নিয়ে পুঁথির শেষে জোড়াপাতা করে জুড়ে দেন।
দেশে তখন গান্ধিজীর অসহযোগ আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে। পন্ডিত সুব্বারায়া শাস্ত্রী জেলে গেলেন।  বহু লড়াই করে তাঁর মুক্তি হলেও তাঁকে নজরবন্দী করে রাখা হল। ১৯২৮ সালে তিনি দ্বারভাঙ্গার মহারাজকে পুঁথিটির প্রকাশনার জন্য অর্থ সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখলেন। মহারাজা সে আবেদনে কর্ণপাত করলেন না। ভগ্নহৃদয় তিনি মধ্য ৩০এর দশকে ইহলোক ত্যাগ করলেন।

এর পরের ২০ বছর এই শাস্ত্রটি আগলে রেখেছিলেন তাঁর কন্যা এবং ভেঙ্কটরাম শাস্ত্রী। তারপর সব ইতিহাস।

প্রাচীন ভারতে বৈমানিক বিদ্যা - বৈমানিক শাস্ত্র প্রকাশের ইতিহাস১, Aeronautics Literature In Ancient India - How The Litrature of Baimanik Sashtra Came to Light1

এমত এক শাস্ত্রকে মহাকালের গর্ভ থেকে উদ্ধার করলেন মহীশূরের জি আর জোসিয়ার মশাই। তাঁর লব্জে উল্লেখ করা যাক তিনি কি ভাবে এই শাস্ত্রটি উদ্ধার করলেন।
ভগবানের অসীম কৃপায় আমি এই পুঁথিটি আমার হাতে আসে। ১৯৫১ সালের ২৮ জুন, মহীশূরের পূজ্যপাদ মহারাজা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অন স্যাংস্কৃট রিসার্চ স্থাপন করেন। এটি একটি খুব পূণ্য সময়ে স্থাপিত হয়েছিল সেটি স্থাপিত হওয়ার পরেই তাঁর সৌরভ দেশে বিদেশের কোণে কোণে ছড়িয়ে যায়।
ব্যাঙ্গালোর শহর থেকে এক আমন্ত্রিত ব্যক্তি মহাঋষি ভরদ্বাজের বৈমানিক শাস্ত্র নামক পুঁথিটির প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা, একটি খাতায় নকল করে নিয়ে এসেছিলেন। এটি দেখে আমরা বিমোহিত হয়ে পড়ি। বোঝা যায় এটি বহু পুরনো একটি খাতা, যা কালের নানান প্রভাবে প্রায় জীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই পুঁথিটি শ্রীমন্মহারাজা এবং তাঁর প্রধানমন্ত্রী শ্রী কে সি রেড্ডিকে দেখিয়ে পুঁথি প্রদর্শনশালায় প্রদর্শনের জন্য রেখে দিই।
প্রদর্শনী শেষ হলে পুঁথির স্বামীকে সেই পুঁথিটি ফেরত দেওয়া হয়। তখন তিনি সেটি পণ্ডিত সুব্বারায়া শাস্ত্রীর পুঁথিগারের অধ্যক্ষ ব্যবহারজীবী ভেঙ্কটরমণ শাস্ত্রীকে অর্পণ করেন। শাস্ত্রীজীকে বলি এই পুঁথিটি আমাদের প্রকাশনা করার অনুমতি দেওয়া হোক। পরের দিকে আমরা যখন ওনাকে যোগাযোগ করি তিনি সর্বসম্মতি প্রদান করেন এবং আরও কয়েকটি পুঁথি হস্তান্তরেরও কথা হয়।
পুঁথিটি প্রথমে সংস্কৃত ভাষায় ছাপা শুরু করি। কিছুদূর আগ্রসর হওয়ার পর প্রায় বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। যিনি আমাদের পুঁথিটি দান করেছিলেন, আমাদের খুব কঠিন ভাষায় চিঠি লিখে অভিযোগ করলেন আমরা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে এই পুঁথিটি ছাপছি। যদিও আমাদের এধরণের কোনও উদ্দেশ্য ছিলনা, তবুও বিতশ্রদ্ধ হয়ে জানালাম, তিনি যেন সেই পুঁথিটি ফেরত নিয়ে যান। ছাপাটি আমরা মাঝপথেই বন্ধ করে দিলাম। 
ইতোমধ্যে মহীশুরের শ্রীমন্মহারাজা একদিন আমাদের চায়ের নেমন্তন্ন করে পুঁথিটি দেখতে চেয়ে বললেন তিনি সেটি ভারতের জাতীয় বিজ্ঞানী শ্রী থ্যাকারকে দেখাবেন। আমরা তাঁকে জানালাম পুঁথিটি সংস্কৃততে রচনা। আর শাস্ত্রে অধিকারী-আনধিকারী ভেদ রয়েছে। সেটি উপযুক্ত পণ্ডিতকে দিয়ে অনুবাদ করাতে হবে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমান করতে হবে, গবেষণা করতে হবে, তবেই সেই বিষয়টি সর্বসমক্ষে আনা যেতে পারে।

ব্যাঙ্গালোরের চারজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সএর বিদ্যুৎ প্রয়ুক্তি (পাওয়ার এঞ্জিনিয়ারিং) বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান, ডঃ এম এ থিরুনারায়ণের পত্র নিয়ে, এ বিষয়ে আমাদের কৈফিয়ত চেয়ে বসেন। 

প্রাচীন ভারতে বৈমানিক বিদ্যা২, Aeronautics Literature In Ancient India2

প্রথম স্তবকে তিনি ওঁ শব্দ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উত্তর-তাপনীয়, শৈব্যাপ্রশ্ন, কথক এবং মাণ্ডুক্য প্রভৃতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রের উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করেছেন যার দ্বারা মানুষের মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। মহাঋষি ভরদ্বাজ বলতে চাইছেন, বৈমানিক শাস্ত্র আনুসারে যদি বিমান বা উড়ন্ত জাহাজ তৈরি করা যায় তাহলে মানুষ ভগবানের নিকটে পৌছবে, এবং পরমাত্মার সান্নিধ্য লাভ করবে।
আতীতের যেসব আচার্যের উল্লেখ মহাঋষি ভরদ্বাজ করেছেন তাঁরা হলেন নারায়নরূপী বিশ্বনাথ, শৌক্ত, গর্গ, বাচস্পতি, চক্রয়ানি, ধুন্ধিনাথ যারা যথাক্রমে বিমানচন্দ্রিকা, ব্যোমযান-তন্ত্র, যন্ত্র-কল্প, যান-বিন্দু, ক্ষিত-যান প্রদীপিকা এবং ব্যোমযান-অর্কপ্রকাশএরমত যুগান্তকারী শাস্ত্র রচনা করেছেন।
মহাঋষি ভরদ্বাজ বিমান শব্দটিকে সংজ্ঞা নির্নয় করতে গিয়ে বলেছেন, বেগ-সমায়াত্‌ বিমান অণ্ডযানম(সুত্র ১) অর্থাৎ পাখির গতিবেগের আনুরূপ যার তাঁর নাম বিমান।
বৌধানন্দ বৃত্তি
অণ্ডজ কথার অর্থ ডিম থেকে জন্মানো প্রাণী, যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী উড়তে পারে। মহাঋষি ভরদ্বাজ বলছেন পাখির গতিবেগ আনুসরণ করে যে বস্তু উড়তে পারে তাকেই বিমান বলা হবে।
লল্লাচার্য বলছেন, পাখির গতিবেগে যে বস্তু উড়তে পারে তাঁর নাম বিমান।
আচার্য নারায়ণের উক্তি, পাখিরমত ইচ্ছে অনুযায়ী যে বস্তু পৃথিবী, জল আর বাতাসের গতিবেগে উড়তে পারে তাই বিমান।
শঙ্খ বলছেন, বৈমানিক শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, য়ে বস্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাতাসের ভরে উড়তে পারে তাই বিমান।
বিশ্বম্ভরের সূত্র, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বস্তু বাতাসে ভেসে এক দেশ থেকে অন্য দেশ, এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপ, এক বিশ্ব থেকে অন্য বিশ্বে পরিভ্রমণ করতে পারে তাকেই বিমান বলে।

বিমানের সংজ্ঞা নির্দেশ করে মহাজ্ঞানীরা এবারে বিমানের নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। 

প্রাচীন ভারতে বৈমানিক বিদ্যা১, Aeronautics Literature In Ancient India1

বৈমানিক প্রকরণ নামক শাস্ত্রের মুখবন্ধে মহাঋষি ভরদ্বাজ বলছেন, অতীতের নানান মুনির নানান শাস্ত্র, যতদূর সম্ভব আত্মস্থ এবং অধ্যয়ন করে মানব জাতির জন্য, সমস্ত আনন্দের উৎস বেদের আত্মা মন্থন করে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এক বিশ্ব থেকে অন্য বিশ্বে ভ্রমনের জন্য আটটি অধ্যায়ের, ১০০টি বিষয় সমৃদ্ধ, ৫০০টি সূত্র সম্বলিত গুহ্য এই শাস্ত্রটি উপস্থাপন করছি।

বৌধানন্দের সূত্র
আমি দেবাদিদেব মহাদেব এবং তাঁর অনুচরবৃন্দ, শিক্ষার দেবী সরস্বতী, শুভকর্মের দেবতা গণপতি, আমার স্বর্গত পিতা-মাতা, আর মহাঋষি ভরদ্বাজের পায়ে প্রণাম করি। আমার নিজের যুক্তি-বুদ্ধি ছাড়াও আমি মহাঋষি বাল্মিকীকৃত অঙ্ক, পরিভাষা চন্দ্রিকা এবং নামার্থকল্প নামক পুস্তক সম্যকরূপে অধ্যয়ণ করেছি। আমি স্বামী বৌধানন্দ, যুবকদের বিষয়টি প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে বলতে মহাঋষি ভরদ্বাজের বৈমানিক বিদ্যার গুহ্য সূত্র বিশ্লেষণ করে বৌধানন্দ বৃত্তি রচনা করছি।

মুখবন্ধেই মহাঋষি ভরদ্বাজ ঐতিহ্য মেনে পারম্পরিকভাবে ভগবানের আরাধনা করছেন যাতে তাঁর এই প্রখ্যাত গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রটির রচনা সাবলীল গতিতে শেষ হয়। পরমাত্মার কৃপায় বেদের সব ক’টি ধারায় প্রামাণ্য আধিকার লাভ করে, আতীতের প্রখ্যাত আচার্যদের সমস্ত শাস্ত্র আধ্যয়ন করে মহাঋষি ভরদ্বাজ বেদের সুক্তগুলির অন্তস্থল থেকে অমৃত মন্থন করে যে মাঠা অর্জন করেছেন, তার সমস্ত নিষ্কর্ষ তিনি মানব সমাজের উপকারার্থে উপস্থিত করেছেন যন্ত্রসর্বস্ব নামক শাস্ত্রে। এই শাস্ত্রের চল্লিশতম অধ্যায়ের আটটি অধি অধ্যায়ে, ১০০টি বিষয়ে, ৫০০টি সূত্রে বৈমানিক বিজ্ঞান বিষয়ে বিশদে আলোচনায় তিনি বিভিন্ন ধরণের বিমান তৈরি তার ব্যবহার উল্লেখ করেছেন।