Showing posts with label বৈশ্য. Show all posts
Showing posts with label বৈশ্য. Show all posts

Monday, September 2, 2013

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে ইতর জাতিগনের আগমণ, Lower Casts in Kalketu's Gujrat City

ইতর জাতিগনের আগমন

পাইয়া ইমান ক্ষিতি,            বসে প্রিজা নানা জাতি,
          আনন্দিত বীরের নগরে।
বীর করে বহুমান,             দেয় দিব্য পরিধান,
          নৃত্য গীত সবাকার ঘরে।।
মতস্য মারে চষে চাষ,         দুই জাতি বসে দাস,
          নগরে ফিরায় কলু ঘানি।
বাইতি নিবসে পুরে,            নানাবিধ বাদ্য করে,
          নগরে মঞ্জুরী বিকি কিনি।।
বাগদী নিবসে পুবে,            নানা অস্ত্র ধরি করে,    দোষ বশ পাইক করি সঙ্গে।
মাছুয়া নিবসে পুবে,            জাল বুনে মতস্য ধরে,
          কোঁচগণ বসে লীলা রঙে।।
নগর করিয়া শোভা,            বসিল অনেক ধোবা,
          দড়ায় শুকায় নানা বাস।
দরজী কাপড় সীয়ে,            বেতন করিয়া জীয়ে,
          গুজরাটে বসে এক পাশ।।
সিউলি নগরে বসে,            খেজুরের কাটি রসে
          গুড় করে বিবিধ বিধান।
ছুতার হাটের মাঝে,            ভিড়া কুটে খই ভাজে,
          কেহ করে চিত্র নিরমান।।
পাটনি নগরে বসে,            রাত্রি দিন জলে ভাসে,
          পার করি লয় রাজকর।
আসি পুর গুজরাট,             বসে তথি রাজভাট,
          ভিক্ষা মাগি বুলে ঘর ঘর।।
চৌদুলি চুনারি মাঝি,           কোবাঙ্গা ভরদ্বাজী,
          মাল বসে পুরের বাহিরে।
চন্ডাল নিবসে পুরে,            লবণ বিক্রয় করে,
          পানিফল কেসুর পসারে।।
গয়ালে গাইয়া গীত,            কয়ালি ফিররে নিত,
          একদিকে বসে মারহাটা।
ফিরে তাঁরা গুজরাটে,           শোলঙ্গে পীলিহা কাটে,
          ছানি কাটে চক্ষে দিয়া কাঁটা।।
পুলিন্দ কিরাত লকে,           হাটেতে বাজায় ঢোল,
          জায়াজীবী বসিল কেওলা।
বেহারা বসিল হাড়ি, ঘাস কাটি লয় কড়ি,
          শুঁড়ির অঙ্গনে যাব মেলা।।
মোজা পানই আর জিন,       নিরময়ে অনুদিন,
          চামার বসিল এক ভিতে।
বিউনি চালনি ঝাঁটা,            ডোম গড়ে টোকা ছাতা,
          জীবিকার হেতু এক চিতে।।
নগরের এক পাশে,            বারবধূজন বসে
          এক পাশে তাঁর অধিষ্ঠান।
রচিয়া ত্রিপিদী ছন্দ,             পাঁচালি করিয়া বন্ধ,

          শ্রীকবিকঙ্কণ রস গান।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে বণিক ও নবশায়কদিগের আগমণ, Traders in Kalketu's Gujrat City

বণিক ও নবশায়কদিগের আগমন

নিবসে বণিক গোপ,           না জানে কপট কোপ
          ক্ষেতে উপজায় নানা ধন।
মুগ তিল গুড় মাসে,           গম সরিষা কাপাসে,
          সবার পুরণিত নিকেতন।।
তেলি বৈসে যত জনা,          কেহ চাষী কেহ ঘনা
          কিনিয়া বেচয়ে কেহ তেল।
কামার পাতিয়া শাল,           কদালি কুড়ালি ফাল
          গড়ে টাঙ্গি আঙ্গারাখি শেল।।
লইয়া গুবাক পাণ,              বৈসে তাম্বুলি জন
          মহাবিরে নিত্য দেয় বিড়া।
গুবাক সহিত পাণ,             বিড়া বান্ধে সাবধান
          কখন না পায় রাজপীড়া।।
কুম্ভকার গুজরাটে,              হাঁড়ি কুড়ি গড়ে পিটে
          মৃদিং দগড় কাড়া পড়া।।
শত শত একজায়,             গুজরাটে তন্তুবায়
          ভুনি ধুতি আদি বুনে গড়া।।
মালী বৈসে গুজরাটে,           মালঞ্চে সদাই খাটে
          মালা মৌড় গড়ে ফুল-ঘর।
ফুলের পুটলি বান্ধে,            সাজি বীরে লয়ে কাঁধে
          ফিরে তারা নগরে নগরে।।
বারুই নিবসে পুবে,            বরজ নিরম্মাণ করে,
          মহাবীরে নিত্য দেয় পাণ।
বলে যদি কেহ নেয়,           বীরের দোহাই দেয়,
          অনুচিত না কবে কখন।।
মদোক প্রধান জনা,            করে চিনি কারখানা,
          খণ্ডলাড়ু করয়ে নিরম্মাণ।।
পসরা করিয়া শিরে,            নগরে নগরে ফিরে,
          শিশুগণে করয়ে জগান।।
সারক বসে গুজরাটে,          জীব জন্তু নাহি কাটে
          সরব্বকাল করে নিরামিষ।
পাইয়া ইনাম বাড়ী,            বুনে নেট পাট শাড়ী
          দেখই বড় বীরের হরিষ।।
পুরে বসে গন্ধবেণ্যা,           গন্ধ বেঁচে ধূপ ধূনা,
          পসরা সাহিয়ে চলে হাটে।
শঙ্খবেণে কাটে শঙ্খ,          কেহ করে নবরঙ্গ,
          মণিবেণে বসে গুজরাটে।।
কাঁসরি পাতিয়া শাল,           গড়ে ঝারি খুরি থাল,
          ঘটী বাটী বড় হাঁড়ি সীপ।
ডাবর চুনাতি বাটা,             সাঁপুড়া ঘাঘর ঘন্টা,
          সিংহাসনে গড়ে পঞ্চদীপ।।
সুবর্ণবণিক বসে,               রজত কাঞ্চন কষে,
          পড়ে ফোড়ে হইলে সংশয়।
কিছু বেচে কিছু কেনে,         মনুষ্যের ধন টানে
          অউর মধ্যে যাহার নিলয়।।
নিবসে পশ্যতোহার,            পুবমধ্যে যাব ঘর,
          নিরম্মাণ করয়ে আভরণে।
দেখিতে দেখিতে জন,          হারায়ে সবার ধন,
          হাতে হাতে বদলিতে জানে।।
পল্লব গোপ বসে পুবে,         কাঁধে ভার বিকি করে,
          বনভাগে বসায় বাথানে।
রচিয়া ত্রিপদী ছন্দ,             পাঁচালি করিয়া বন্ধ,

          শ্রীকবিকঙ্কণ রস ভণে।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে কায়স্থগণের আগমণ, Kayasthas in Kalketu's Gujrat City

কায়স্থগণের আগমন।

ভেট লয়ে দধি মাছ,            গৃত কুম্ভে বান্ধি গাছ
          কায়স্থ আইল মহাজন।
প্রণাম করিয়া বীরে,            নিজ নিবেদন করে,
          সুখী হঐলা ব্যাধের নন্দন।।
কায়স্থ মিলিয়া ভাষে,           আইলাম তব দেশে
          গুজরাটে করিব বসতি।
বিচার করিয়া তুমি,             দিবে ভাল বাড়ী ভুমি,
          প্রজাগনে কর অবগতি।।
কোন জন সিদ্ধকুল,            সাধ্য কেহ ধর্ম্ম মূল,
          দোষহীন কায়স্থের শোভা।
প্রসন্ন সবারে বাণী,             লেখাপড়া সবে জানি,
          সরব্বজন নগরের শোভা।।
অনেক কায়স্থ মেলা,           শুনিয়া তোমার খেলা,
          আইলাম তব সন্নিধান।
কুলে শিলে নাহি দোষ,         কেহ মাহেশের ঘোষ
          বসু মিত্র কুলের প্রধান।।
তব গুণে হয়ে বন্দী,            পাল পালিত নন্দী,
          সিংহ সেন দেব দত্ত দাস।
কওর নাগ সোম চন্দ্র,         ভঞ্জ বিষ্ণু রাহা বিন্দ
          এক স্থানে করিব নিবাস।।
বীর কওর অবধান,            প্রিজাগণে দেহ দান,
          ভূমি বাড়ী করিয়া চিহ্নিত।
কিছু দিবে ধান্য বাড়ি,          বলদ কিনিতে কড়ি,
          সাধন না কর বিলক্ষিত।।
ত্যাগ করিয়া কলিঙ্গ,            লক্ষ ঘোর প্রজা সং,
          এক স্থানে করিব নিবাস।
বিচার করিয়া তুমি,             দিবে ভাল বাড়ী ভূমি
          শুনি বীর হৃদিয়ে উল্লাস।।
ধার লহ লক্ষ তঙ্কা,             কাহারে না কওর শঙ্কা,
          দক্ষিণ আওয়াসে কওর বাঁশ।
রচিয়া ত্রিপদী ছন্দ,             জ্ঞান করি শ্রীমুকুন্দ
          রঘুনাথ নৃপতি প্রকাশ।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে ক্ষত্রিয়, বৈশ্যদের আগমণ, Khatriyas & Baishyas in Kalketu's Gujrat City

ক্ষত্রিয়, বৈশ্য প্রভৃতির আগমন

বীর দেয় বাস যত,             প্রজা বৈসে শত শত,
          আপনার ছাড়িয়া নিবাস।
তেস্নি ইনামে বাড়ি             প্রজা নাহি গণে কড়ি
          সবাকার হৃদয়ে উল্লাস।।
ক্ষত্রি বৈসে ভানুবংশ           সরব্বলক-অবতংশ
          চন্দ্রবংশে বৈসে মহাজন।
পুরাণ শ্রবণ আশে,             বসিল বিপ্রের পাশে,
          অনুদিন দ্বিজে দেয় ধন।।
দসর জমের দূত,              বৈসে যত রাজপুত,
          মল্ল বৈসে রাজচক্রবর্তী।
কৃষ্ণ সেবে অনুক্ষণ,           দাম করে নানা ধন,
          দেশে দেশে যাহার সুকীরত্তী।।
তুলিয়া আখাড়া ঘরে,           মল্ল যুদ্ধ কেহ করে,
          মালবিদ্যা গুলী চাপগারি।
লইয়া ঢাল খাড়া,               কেহ করে তোলপাড়,
          পশু বধে কেহ বা শিকারী।।
আসি পুর গুজরাট,             নিবাস করয়ে ভাট,
          অবিরত পড়য়ে পিঙ্গল।
বীর দেয় খাসা জোড়া,         চড়িতে উত্তম ঘোড়া,
          নিত্য চিন্তে বীরের মঙ্গল।।
বৈশ্য বোইসে মহাজন,         কৃষ্ণ সেবে অনুক্ষণ
          কৃষিকরম্ম করে গো-রক্ষণ।
কেহ কলন্তর লয়,              বৃষে কেহ ধান্য বয়,
          কালে কিনে রাখে কোন জন।।
কেহ দর করি তোলা           হীরা নীলা মতি পলা,
          নানা দেশ ভ্রমে স্থানে স্থানে।
সাজন করিয়া নায়,            নানান শহরে যায়
          আনে শঙ্খ চামর চন্দনে।।
চামর চামরি ভোট             সাগল্লাদ গজ ঘোট
          কবভ পট্টিশ অঙ্গরাখি।
এক বেঁচে এক কেনে,         নীতি নীতি বাড়ে ধনে,
          গুজরাটে বৈশ্য-জন সুখী।।
বৈদ্য জনের তত্ব,              গুপ্ত সেন দাস দত্ত,
          কর আদি বৈসে কুলস্থান।
বটিকায় কার যশ,              কেহ প্রয়োগের বশ,
          নানা তন্ত্র করয়ে বাখান।।
উঠিয়া প্রভাত কালে            ঊরদ্ধ ফোঁটা করে ভালে,
          বসন মণ্ডিত করি শিরে।
পড়িয়া জর্জর ধুতি,             কক্ষদেশে করি পুঁথি
          হুজ্রাটে বৈদ্যগণ ফিরে।।
কার দেখই সাধ্য রোগ,        ঔষধ করয়ে যোগ
          বুকে ঘা মারয়ে সরব্বদায়।
অসাধ্য দেখিয়া রোগ,          পলাইতে করে যোগ,
          নানা চলে মাগয়ে বিদায়।।
কর্পূর পাঁচন করি,              তবে জিয়াইতে পারি
          কর্পূর করহ সন্ধান।
রোগী সবিনয়ে বলে,           কর্পূর আনিতে চলে
          সেই পথে বৈদ্যের প্রয়াণ।।
বোইদ্য জনের পাশে,          অগ্রদানী বসে,
          নিত্য করে রগীর সন্ধান।
রাজ-কর নাহি দেয়,           বৈতরণি ধেনু লয়,

          হেম রজত লয় তিলদান।। ইত্যাদি