Showing posts with label গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ. Show all posts
Showing posts with label গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ. Show all posts

Sunday, August 4, 2013

গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ৪, Ruins of Gour4

রাঢ় অঞ্চল গৌড়ের অন্তর্গত ছিল কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান। কৃষ্ণ মিশ্র (একাদশ অথবা দ্বাদশ শতাব্দী) তাঁর প্রবোধচন্দ্রোদয় গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন রাঢ়াপুরী (রাঢ়) ও ভুরিশ্রেষ্ঠিকা (হাওড়া-হুগলি জেলার অন্তর্গত প্রাচীন অঞ্চল, অধুনা ভুরসুট নামে পরিচিত) গৌড়ের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু যাদবরাজ প্রথম জয়তুগির মানাগোলি শিলালেখ থেকে জানা যায় লালা (রাঢ়) ও গৌল (গৌড়) ছিল পৃথক দুটি অঞ্চল।
ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীর জৈন লেখকদের রচনা থেকে জানা যায়, আধুনিক মালদহ জেলায় অবস্থিত লক্ষ্মণাবতীও গৌড়ের অন্তর্গত ছিল।
পাল সম্রাটগণ বঙ্গপতি ও গৌড়েশ্বর নামে পরিচিত ছিলেন। সেন রাজাদেরও গৌড়েশ্বর বলা হত। তা থেকে অনুমিত হয় গৌড় ও বঙ্গ নামদুটি সমগ্র বাংলারই নাম ছিল।

মুসলমান যুগের আদিপর্বে গৌড় নামে অধুনা মালদহ জেলার লক্ষ্মণাবতী শহরটিকে বোঝাত।
(শেষ)


ছোটা সোনা মসজিদ, র‍্যাভেনশ, ১৮৬০এর দশক (Small Golden Mosque ravenshaw1860s)

মকদুম আলি সিরাজুদ্দিনের(১৩৫৭) সমাধি, র‍্যাভেনশ, ১৮৬০এর দশক ( Tomb of Makhdum Akhi Sirajuddin [d.1357] ravenshaw1860)


গঙ্গার তীরে প্রাচীন গৌড়, ১৭৯৫তে টমাস ড্যানিয়েলের আঁকা (Gour formerly on the Banks of the River Ganges; an aquatint by Thomas Daniell, 1795)

কদম রসুল মসজিদের ভেতরের অংশ, যেখানে পয়গম্বরের পায়ের ছাপ রয়েছে, সীতারাম, ১৮১৭(interior of the Qadam Rasul mosque enshrining the Prophet's footprint at Gaur sitaram1817)

বাইশগজী পাঁচিলের ভগ্নাংশের সঙ্গে ছ কোণা মিনারের অংশ। দূরে ফিরোজ মিনারের পূর্বের দেওয়াল, উইলিয়াম বেইলি, ১৭৮৪ (Ruined gateway in the Baisgazi wall with the remains of an hexagonal tower, Gaur. In the distance, outside the east wall is the Firoz Minar; by William Baillie, 1784)

গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ৪, Ruins of Gour4

গৌড়(সূত্র উইকি)
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র (আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫০-২৮৩ অব্দ) গ্রন্থে বঙ্গ, পুণ্ড্র ও কামরূপের সঙ্গে গৌড় রাজ্যেরও নাম পাওয়া যায়। আরও কয়েকটি প্রাচীন গ্রন্থে এই রাজ্যের উল্লেখ রয়েছে। বরাহমিহিরেরলেখা বৃহৎসংহিতা (আনুমানিক খ্রীষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী) গ্রন্থে ছয়টি পৃথক জনপদের নাম পাওয়া যায়। এই ছয়টি জনপদ ছিল গৌড়ক, পৌণ্ড্র, বঙ্গ, সমতট, বর্ধমান ও তাম্রলিপ্ত। তাঁর বর্ণনা থেকে মনে হয়, আধুনিক কালের মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলা এবং বর্ধমান জেলার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে প্রাচীন গৌড় অঞ্চল গঠিত ছিল। গৌড় ও বঙ্গ নামদুটি মাঝে মাঝে পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে। 

প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ জেলার সদর বহরমপুর থেকে ৯.৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, আজকের কানসোনা)। আনুমানিক ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তিনি রাজত্ব করেছিলেন। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণ থেকে উড়িষ্যার উপকূলের একটি অঞ্চলে এসে উপস্থিত হন। সমগ্র অঞ্চলটিই শশাঙ্কের রাজ্যভুক্ত ছিল বলে জানা যায়। কোনো কোনো প্রাচীন নথি থেকে জানা যায়, পুণ্ড্রবর্ধনও গৌড়ের অন্তর্গত ছিল।


গৌড়ের পাঁচিল। সামনে ভাঙা পাঁচিলের ইট পড়ে রয়েছে, সীতারামের আঁকা, ১৮১৭ (The walls of Gaur, with heaps of bricks lying around sitaram1817)
ধ্বংসাবশেষের মধ্যে গৌড় স্তম্ভ, ১৭৯৪তে রবার্ট হাইড কোলব্রুকের আঁকা,  (Gaur Tower among ruins, (Bengal); a watercolor by Robert Hyde Colebrooke, 1794)

গৌড়ের কেল্লায় কদম রাসুল মসজিদ, ১৮১৭য় সীতারামের আঁকা (View of the Qadam Rasul mosque within the Fort at Gaur sitaram1817)

গৌড়ের পাঁচিলের সামনের দিঘিতে হেস্টিংসের শিবিরের হাতিগুলি স্নান করছে, সীতারাম, ১৮১৭(Walls of Gaur, with a tank in which elephants are bathing, and Lord Hastings' encampment in the foreground, Sita Ram 1817)


কতোয়ালি দরজা, র‍্যাভেনশ, ১৮৬০এর দশকে তলা ছবি (Kotwali Gate ravenshaw1860)

গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ৩, Ruins of Gour3

প্রথম পোষ্ট থেকে যে ছবিগুলো পোষ্ট করছি সেগুলো ব্রিটিশ আমলে আঁকা আর ছবি তোলা। সেগুলোতে গৌড়ের ধ্বংসাবশেষের বেশ বিশদ চিত্র পাই। সেগুলো নীরবে বাংলার আর্থিক এবং পরমারথিক সম্পদ বর্ণনা করে চলেছে। বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা একই সৌধ নানান রূপে প্রকাশ পেয়েছে। এ  ছাড়াও সে সময়ের ভু-প্রকৃতি, বসতি ইত্যাদি নানান বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুরনো গৌড়ের এই ছবিগুলো।
In the British period various artists and photographers unleashed their creativity to unearth the ruins of the yesteryear Gour. By these series of drawings and photographs, we can see the knowledge, architecture, material used to erect these. And still today these ruins are are intact.

সইফুদ্দিন ফিরোজ়ের(১৪৮৭-৮৮) বিজয় স্তম্ভ (The site of the victory tower built by Saif ud-Din Firuz c.1487-88)

কতোয়ালি দরজা, উইলিয়ম ড্যানিয়েল, ১৮৩৫এ প্রকাশিত(Kutwallee Gate, Gour, by William Daniell, from The Oriental Annual or Scenes of India (London- Bull and Churton, 1835)


চাঁদ দরজা (The Cha'nd Gate [Gaur])


দাখিল দরজা, ক্রেঈটন, ১৮১৭ (Da'khil Gate; an aquatint by Henry Gordon Creighton, 1817)

ছোট সোনা মসজিদ (The small Golden Mosque at Gour)

গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ২, Ruins of Gour2

গত দুশ বছরের যে পাঠ্য ব্যবস্থা বাঙলায় আমরা বিকশিত করেছি(বা বাধ্য হয়েছি), সেই ব্যবস্থা বলে আমরা জেনে গিয়েছি বাংলার সাধারণ পরিকাঠামোগুলো তৈরি করেছে ইংরেজরা, বিগত আড়াই শতক ধরে। এবং সেই ব্যবস্থা গড়তে বাংলার নানান গুণীদের অবদান আমরা চিরস্মরণীয় করে রাখি নবজাগরণের ইতিহাস পড়ে। 
এটি আসলে আংশিক সত্য। বাংলার আজকের নগণ্য সব জনপদের ইতিহাস অন্য কথা বলে। বিগত কয়েক সহস্র বছর ধরে তন্ত্র, নারীভিত্তিক সভ্যতা গড়ে তুলেছে বাংলা তথা পূর্বভারত। ভারতবর্ষের নানান এলাকার দর্শনের সঙ্গে সাযুজ্যে, সেই ভৌগোলিক এলাকা অতি প্রাচীন কাল থেকেই অতি সমৃদ্ধ এক বিকাশ পদ্ধতি গড়ে তুলেছিল। যে বিকাশের ধারনা আদতে বর্তমানের উন্নয়নের ধারনার বিপরীত। এই বিকাশ চাহিদাভিত্তিক উন্নয়নের ধারনার ঠিক বিপরীত। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে, পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার রাস্তা তৈরি করা। সেই ক্রমে আমরা আজ গৌড়ের চিত্র আঁকব।

The British has developed our education system. The system tell us that before the British there was dark age. But if we travel the cities, towns and villages of Bengal, we may see the richness, tradition and the hidden wealth of the old days.
From time immemorial Bengal as well the eastern part of India along with other parts of BhartBarsha, developed a paradigm of development which is quite different from western notion of development. These geographical region tells us the story within. 


সুলতান হুসেইন শাহ্‌ সমাধির দরজা, জেমস মোফাত, ১৮০৮(Gate of Sultan Shah Hussein's tomb at Gour' James Moffat, 1808)


দাখিল গেটের দক্ষিণ দিক, ১৮৬০এর হেনরি র‍্যাভেনশর তোলা ছবি(Gaur. Dakhil Gate. South View; a photo by John Henry Ravenshaw, 1860's)

বড় সোনা মন্দির, ১৮২০(Golden Mosque [Bara Sona Masjid] 1820)

দাখিল দরজা, হেনরি গরডন ক্রেঈটন, ১৮১৭ (The Da'khil Gate; an aquatint by Henry Gordon Creighton, 1817)

ছোট সোনা মসজিদের ভেতরের অংসবিশেষ(Inside of the Chuta Suna [Chota Sona] Masjid, or small Golden Mosque)

গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ১, Ruins of Gour1

কিছু কথা
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বা উত্তরবঙ্গর দিকে যেতে যেতে, ভারতীয় রেলে মালদা সিটি আদতে গৌড়ের বর্তমান রূপ। এছাড়াও ৩৪ নম্বর সড়কে মালদা শহর ছাড়ালে বাঁ দিকে পড়বে বেশ কিছু পুরোনো ধ্বংসাবশেষ। এই ধ্বংসাবশেষ আদতে বাংলার গর্বিত ঐতিহ্যের সরব সাক্ষী। আমরা যারা এপার বাংলার বহরমপুর, মালদা, সাতগাঁ, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া, দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, সোনামুখী, বর্ধমান, বারুইপুর-দাখিন বারাসত হয়ে সুন্দরবনের নানা এলাকা, বেড়াচাঁপা, কৃষ্ণনগর, হুগলী, মেদিনীপুর, তমলুক, হিজলি, চুঁচুড়া, হাতিবাগান, ভাটপাড়া, চন্দননগরএরমত আরও নানান এলাকায় যাই না। অথচ বাংলা তথা ভারতের নানান গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দেখতে যাই। একটু মন দিয়ে যদি বাংলার পুরনো এই শহরগুলো, তাদের ইতিহাস লক্ষ্য করি, তাহলে বাংলার নিরবিচ্ছিন্ন এক ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্য বুঝতে পারব। আজ বাংলার এই যে নেই নেই ভাব, তাকেও অনেকটা কাটিয়ে, এই ভ্রমণে বাংলার কি ছিল, সেই পারমারথিক সম্পদগুলি নজরে পড়তে পারে। 

It is a sad fact that Bangalis are one of the most frequent tourists. We use to likely to pay visit mostly outside Bengal. We hardly know Bengals attractions. Cities, towns, villages of West Bengal use to say the glorious past we have little more than 250 years back. These cities certainly expresses Bengals culture, history. We need to open our eye and ear as much as we can.
In these series of posts we will look the ruins of Gour, once upon a time, capital of Bengal.

এই দফায় কয়েকটি ছবি দেওয়া হল। 

গৌড়ের কোতোয়ালি দরজা। ১৮০৮এ জেমস মোফাতের আঁকা([Kotwali] Gate at Gour'; an aquatint by James Moffatt, 1808)।

ফিরোজ় শাহ্‌ মিনার, টমাস ড্যানিয়েলের আঁকা, ১৮০৪(A Pagoda [Firoz Shah's Minar At Gaur]; by Thomas Daniell, 1804)

চামকাটা মসজিদ(Chamcutta mosque)। মোফাতের আঁকা ছবি। সঙ্গে  এক শ্রেণীর ফকিরকে আঁকা হয়েছে(gaur Chamcutta mosque at Gour, so called from a tribe of Fakeers who wound themselves')।

ছোটো সোনা মসজিদ, গোল্ডেন মস্ক, ১৮১৭র হেনরি গরডন ক্রেইটনের আঁকা([Gaur Chota Sona] Masjid, or small Golden Mosque; by Henry Gordon Creighton, 1817)

পাঁচ তলা পির আসা বা ফিরোজ শাহ্‌ তোরণ, সীতারাম, ১৮১৭-২১ (gaur five storeyed tower at Gaur known as the Pir Asa Minar or Firoz Shah Minar; a watercolor by Seeta Ram, 1817-21)