Showing posts with label অন্যান্যদের প্রভাব. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্যদের প্রভাব. Show all posts

Tuesday, July 2, 2013

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি৭ - অন্যান্যদের প্রভাব - Those Influenced

জয়াবন্দনার সঙ্গে যাঁদের কথা না বললে অমিত অপরাধ হবে, তাঁদের মধ্যে স্মরণ করি, প্রয়াত রঘুনাথ গোস্বামী মশাইকে যাঁর হাত ধরে আমরা পথচলা শুরু করেছিলাম। ১৯৯৪ থেকে রঘুনাথবাবুর সঙ্গে বাঙলার মুখোশের গবেষণা শুরু করতে না করতেই প্রয়াত হলেন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ভবানীবৌদি, ভাগনে দিলীপদাও আমাদের অনেকদিন আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। রঘুনাথবাবুই পরিচয় করিয়েদিয়েছিলেন নীলাদ্রি চাকীর সঙ্গে। বিশ্বের নানান প্রান্তের, এমনকী এস্কিমোদেরও জীবন নিয়ে গড়িয়াহাটের বাড়িতে অনেক দূর আলেচনা চলেছিল নীলাদ্রিদার সঙ্গে। তাঁর বাড়িতে নানান দেশের নানান গ্রামীণ কারিগরীর দ্রব্য দেখেছিলাম। বিশ্বের নানান দেশের নানান তুচ্ছসম গ্রামীণ কারিগরীর সঙ্গে তার মাধ্যমেই আমাদের প্রথম আলাপ। একসঙ্গে অনেক কাজ করার কথা হয়েছিল। আমাদের অনেকের অনেক ধারণা বদলে তিনি আবার ফিরে গেলেন কানাডা।
ভারতের মহিলা লোকনাট্যের গবেষক, ধ্রুব দাসএর হাত ধরে দলবেঁধে প্রথম দেখেছিলাম রায়গঞ্জে লোকনাট্য উত্সব। ছিলেন শিশির মজুমদার মশাই যার জন্য আমরা নানান অচেনা অজানা বন্ধুরা এক হতে পেরেছিলাম। আজও বিধান বিশ্বাস সরকারি কর্মেও সময় বার করেন গ্রাম সমাজের কাজে। অঙ্গিরা গোস্বামী আজ বিদেশে, সেখানেও তিনি তাঁর পুরোনো কাজে ব্যাপ্ত। লেখকদের একজন বিশ্বেন্দু, বিধান আর আঙ্গিরা একসময় একমনা ছিলেন – অঙ্গিরার আজ বাঙালির প্রার্থিত দেশ আমেরিকায় বাস। ললিতা ঘোষ আমাদেরই দলের একজনের সহধর্মিনী। জেলেপাড়ায় কলিকাতা কৈবর্ত সমিতিতে সঙ্গ পেযেছি শংকর প্রসাদ দের। তিনি আজও আমাদের গর্ব। কৈবর্ত সমাজের ওপর একটি দিগদর্শণ বই লিখেছেন। সঙ্গ পেয়েছি কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়ের। কৈবর্ত সমিতিতে আসতেন একঝাঁক শিক্ষক – জ্ঞাণেশ মুখোপাধ্যায়, পবিত্র সরকার, সুধীর কুমার করণ, সুখবিলাস বর্মা, মহুয়া মুখোপাধ্যায়, দেবযানী চালিহা, পশুপতিপ্রসাদ মাহাত, বটু পাল, খালেদ চৌধুরীসহ আরও অনেক জ্ঞানীগুনী। প্রায় দুতিন বছর সোমেন রায় আমাদের তাঁর ঝাড়গ্রাম বাড়িতে স্থান দিয়েছিলেন অসীম ঔদার্যে। তাঁর সঙ্গে ঘুরে শুধু জঙ্গলমহল নয়, চিনেছি বাঙলার নানান জনপদ, সম্পদ। তাঁরসঙ্গে মতের পার্থক্য ছিল, পথের পার্থক্য হয় নি। অকাতরে অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর সঙ্গে মিলে তৈরি করেছিলাম ১২ খন্ডের ক্যাসেট ভালবাসার গান প্রতিবাদের গান। উলগুলানের শতবর্ষে। অসীম সাহায্য করেছিলেন তুষার তালুকদারমশাই, সাংবাদিক তাপস গঙ্গোপাধ্যায় মশাই। বন্ধু যতীন আর নারায়ণ মাহাতর বন্ধুত্বময়, তত্বময় আলেচনা আমাদের আজও সঙ্গী। ইন্দ্রজিত চৌধুরীর সঙ্গে বহু আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের অনেক কিছু জানিয়েছেন। 
বাঙলার তথা ভারতের পথ ব্যবসায়ীদের সঙ্গ করেছি, তাঁদের প্রচলিত ব্যবসার জ্ঞাণের কথা অনেক অজানা কথা জানতে পেরেছি। তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গী হয়েছি প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। অনাদি সাহার অবদান ভোলা যাবে না। এই সমাজকে চেনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শক্তিমান ঘোষ। পারম্পরিক ব্যবসা সম্বন্ধে জানতে তিনি নিজে হাত বাড়িয়ে যে পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন, সে কথা আজও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণকরি। তাঁর হাত না ধরতে পারলে আমাদের পারম্পরিক পরিযায়ী ব্যবসায়ীদের সম্বন্ধে অনেক ভুলধারণা থেকে যেত। এ আন্দোলনে অনেক গুনী ব্যক্তির সাহচর্য পেয়েছি তার মধ্যে সত্যজিত দাশগুপ্ত অন্যতম। তাঁর সঙ্গে আলোচনা আজও হয়। একসময় সুনন্দন রায়চৌধুরী আর সুশান্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে নানান বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা আমাদের নতুন করে ভাবতে সাহায্য করেছে। ছান্দারের উত্পল চক্রবর্তী আর বাঁকুড়ার গৌতম দে ভাবিয়েছেন। আলোচনা করে উপকার পেয়েছি হৈমন্তী চট্টোপাধ্যায় অনুপ মতিলালের সঙ্গেও। এঁরা আমাদের কথা যথেষ্ট মন দিয়ে শুনেছেন, আমরা তাঁদের স্মরণ করছি। 

সবশেষে যাদের সঙ্গ না করলে এই বইটিই লেখা হত না, যাদের কাছে গিয়ে পুরোনো পড়া ভুলে নতুন সব কিছু শিখেছি, সেই গ্রামীণ শিল্পী, মানুষদের কথা যত বলি ততই যেন বেড়ে চলে। ফুলিয়ার হরিপদ বসাক আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন বয়নশিল্প নিয়ে আলোচনায়। তিনি না হলে এপার, ওপার বাঙলার বয়ন শিল্প আর শিল্পীদের হৃদয়নিংড়োনো ব্যথা হয়ত টেরটি পেতাম কিন্তু অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছতে পারতাম না। মধুমঙ্গল মালাকারের কথা যত বলাযায় ততকম। আমাদের কয়েকজনের শুধু ঠেকনা নিয়ে, নিজের উদ্যমেই দাঁড় করিয়েছেন বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ আর বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সংঘ। আমরা শিখেছি হরকুমার গুপ্ত, কে কে হাজরা, নারায়ণ রায়, বাজার হেমব্রম, পোস্তবালা, বিমলাবালা, বিজয় মাহাত, বসন্ত মালাকার, ভবানী বিশ্বাস, নেপাল সূত্রধর ও তাঁর পুত্র-নাতিরা, সুবল দাস বৈরাগ্য, প্রয়াত বাউল সুবল দাস, অরুণ ভাস্কর, রবি বিশ্বাস, মণিমালা চিত্রকর, বৃন্দাবন চন্দ, চিত্ত রাণা, মাধাই মহান্ত, মানিক সূত্রধর, শীতল ফৌজদার, ভবানী বিশ্বাস, নারায়ণ পৈত আরও আরও অনেকের থেকে অনেক কিছু। এঁদের অনেককে নিয়ে ভূমধ্যসাগরএ বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছি, কিন্তু আরও একটি পুরো বই তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও সুশান্ত মুখোপাধ্যায়, সুজিত নটি মুখেপাধ্যায়, মধুমিতা মুখোপাধ্যায়, সত্যজিত দাশগুপ্ত, বন্দনা মুখেপাধ্যায়, দীপঙ্কর মুখেপাধ্যায়, বিশ্বজিত মহাকুড়, গনেশ সেনগুপ্ত, অনিন্দ্য সরকার, কুণাল দেব, দেবল দেব, বাদল ঘোষ, করুণাপ্রসাদ দে, টুবলু বহ্নিশিখা সেন, অনুরাধা তলোয়ার, স্বপন গঙ্গোপাধ্যায়, মোহন বিশ্বাস, সুতনু ভট্টাচার্য, শুভ্রাংশু ভট্টাচার্য, প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়, শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, সৌম্য আচার্য, সৌমিত্র ভট্টাচার্য, শিবব্রত চট্টোপাধ্যায়, শংকর ঘোষ, সব্যসাচী চক্রবর্তী, প্রসেনজিত সিনহারাও নানান সময়ে নানানভাবে সমাজ বুঝতে সাহায্য করেছেন।

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি৬ - অন্যান্যদের প্রভাব - জয়া মিত্র - Those Influenced Us - Joya Mitra

তবে সাহস যুগিয়েছেন বটে জয়া মিত্র। বহুদিন তাঁর সঙ্গে গ্রামসমাজের নানান উনোঝুনো বিষয় আলোচনা করার স্পর্ধা থেকে নানান প্রশ্ন জেগেছে, যার প্রত্যক্ষ ফল কিন্তু বক্ষ্যমান বই। তিনি নিজে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বাঙলার গ্রামীণ বিষয়গুলি আলোচনা করেছেন, সেই সব তথ্য বহুবার তাঁর সবুজ পত্রিকা ভূমধ্যসাগরএ উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন। হয়ত সেগুলি সরাসরি মধ্যবিত্তের বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়ে নয়, কিন্তু গ্রামসমাজের জোরের যায়গা, মানুষগুলির নিজস্বতার যায়গা, তার দর্শণের মূল ভাবনাগুলি কিন্তু বারবার উঠে এসেছে তাঁর সঙ্গে আমাদের নানান আলেচনায়, তাঁর পত্রিকায় লেখার মধ্যে। লেখাগুলি লিখে পরোক্ষে এই বইটি তৈরির প্রণোদনা পেয়েছি। অমিতযত্নে অকালপক্ক এই দলের নানান লেখার নানান ভুল ত্রুটি নিজের হাতে সংশোধন করেছেন(শাঁখ আর শাঁখা নিয়ে এক লেখায় লিখেছিলাম শাঁখা ভাঙা, তিনি শুধরে বলেছিলেন শাঁখা ভাঙা নয়, গ্রামে কমে যাওয়াকে বলে বাড়ন্ত হওয়া। এ শব্দবন্ধটি আমরা জানতাম না তা নয়, কিন্তু সঠিক প্রয়োগের পথ দেখেয়ে দেওয়ার ভালবাসা থেকে বহু মুহূর্তে খুলে যেত গ্রামীণ দর্শণের ভাবনার নানান দিকগুলি)।
আমরা তাঁর কাছে সযত্নে পাঠ নিয়েছি গ্রামীণ সৌজন্যবোধের নানান বিষয়ে। এতদিন যে বিষয়গুলিকে শহুরে ভাবনায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়েছে তাকেও যে এত মমত্ববোধে লেখার কালো অক্ষরে, দুই মলাটের মধ্যে ঠাঁই দেওয়া যায়, এগুলিও যে লোখার বিষয়বস্তু হতে পারে, ছাপা যেতে পারে, তা তাঁর সঙ্গে আলাপ হওয়ার আগে আমরা ধারণাই করতে পারিনি। সময়ে অসময়ে আলোচনায় নানান বিষয়ের আলপটকা নানান তত্ব তাঁর সামনে তুলে ধরার এবং তা নিয়ে নানান সুখাদ্য-সুপানীয় লেপচু লাল চা সহযোগে কলকাতায় তাঁর নানান ব্যস্ততার মধ্যেই সহাস্য আলোচনার প্রশ্রয় দিয়েছেন তিনি। ছুটে গিয়েছি তাঁর ভদ্রাসন আসানসোলে। অনেকবার আমাদের পথ দেখিয়েছেন। অসম্ভব গ্রাম্য সৌজন্যে নানান প্রশ্ন জানতে চেয়েছেন। আমরা স্বাভাবিকভাবেই আমতা আমতা করলে তিনি প্রায়পালভেঙেপড়া আলোচনার নৌকোকে পাড়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন নিজ উদ্যমেই পাদপূরণ করে। একজনবাদে আমাদের দলের কেউ সেই অর্থে খুব একটা উচ্চশিক্ষিত নই, গবেষণা কাজে বিন্দুমাত্রও দড় নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী ছুঁয়ে-নাছুঁয়েই অনেকেরই বিধিবদ্ধ শিক্ষায় দাঁড়ি পড়েছে। অনেকে আবার ততদূরেও যেতে পারে নি। পশ্চিমের তৈরি একমুখীন বাঙলা শিক্ষাদান কাঠামোর নানান আশ্চর্ষজনক কান্ড, শিক্ষাক্ষেত্রের বাইরের মানুষ হিসেবে খুব শুনেছি। জয়া মিত্রর কাছে যে শিক্ষা পেয়েছি, তা আদতে উভমুখী। আমরা অনেকেই আশ্চর্য হয়ে যেতাম, যখন তিনি আমাদের কাছ থেকে নানান গ্রামীণ প্রকরণ জানতে চাইতেন। কলকাতার জ্ঞাণী মহলে আমাদের যতকমটুকু অভিজ্ঞতা, তাতে দেখেছি প্রায় প্রত্যেক প্রখ্যাত বক্তার সামনে আমরা নির্বাক শ্রেতা মাত্র। জয়া মিত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, আমাদের দৃষ্টিতে তিনি কলকাত্তাই জ্ঞাণ সমাজের মানুষ নন। গ্রামীণ উভমুখী দর্শণের চলতা ফিরতা উদাহরণ তিনি। প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কথা বলে, আলোচনা করে তাঁদের নানান তত্ব আঁজলা করে ভরে নিতে হয়, এমন ধারণা আমাদের হেঁটমুন্ডউর্ধপদ হয়েছে তাঁর সঙ্গ করে। আনেকসময় তাঁর সঙ্গে কথা বলে মনেকরতাম গ্রামীণ সংস্কৃতি দর্শণের অনেক কিছু আমরা জানি। কিন্তু পরে দেখেছি, আমরা যা বলেছি, লিখেছি তার অনেককিছুর নীরব স্রষ্টা তিনি, কোনও দিন তিনি সে কথা আমাদের মনে করতে দেন নি। তাঁর কথা, অনুবাদকর্ম থেকেই জেনেছি অনুপম মিশ্রজীর কাজ, তিনি আমাদের কাছে জেনেছেন ধরমপালজীর লেখা। আমাদের দেখা একমাত্র প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, যিনি বলেন, তিনি যা কিছু বলছেন, লিখছেন, প্রায় সব কিছু শিখেছেন গ্রামীণদের কাছ থেকে।
স্বাধীণতার পূর্ববর্তী সময়কার বাঙলার প্রায় সব কজন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বের কর্মপ্রণোদনার প্রতি প্রশ্ন তোলার যোগ্যতা নিয়ে আমরা খুবই অস্বস্তিতে ছিলাম। অপ্রাতিষ্ঠানিক এই কাজটি আমরা আদৌ প্রকাশ করতে পারব কী না সে বিষয়ে আমাদের নিজেদের দলের মধ্যেই যথেষ্ট সংশয় ছিল। সে সময় তিনি আমাদের বয়সে নেমে এসে আমাদেরমত করে নানান বিষয় বিশদে আলোচনা করেছেন, নানান তথ্য জানতে চেয়েছেন, কোনও তথ্য তাঁর না জানা থাকলে তিনি অবাক বিষ্ময়ে সেই তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন দিনের পর দিন। আমাদের অভয়, প্রশ্রয় এবং আশ্রয় দিয়েছেন নানান ভাবে। বিশেষ করে ভারত এবং কার্ল মার্ক্স-এর সম্বন্ধ নিয়ে গোটা একটা অধ্যায় রচনার পরিকল্পনা আমাদের বহুদিনের। কিন্তু বাঙলা ভাষায়, বাঙলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সে কাজটি কতটুকু করা সম্ভব, তা নিয়ে আমরা যথেষ্টই সন্দিহান ছিলাম। কাজটি করারপর তাঁকে যখন আমরা নমুনা দেখাতে গিয়েছি, বিশদে আলোচনা করেছি। তিনি সেই কাজকে অসম্ভব সমর্থন করেছেন। আমরা সাহস পেয়েছি।
আমরা বাঙলার গ্রাম দর্শণ বহুকাল ধরে নিজেদেরমতকরে চিনতে জানতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ কাজে প্রয়োজন ছিল সর্বভারতীয় গ্রামীণ প্রেক্ষাপট এবং তার দর্শণেরভাব গ্রহণ করা। বাঙলার গ্রামগুলির যে দর্শন ভিত্তিকরে গড়ে উঠেছে, সেই দর্শনেই কী ভারতের অন্যান্য গ্রামীণ সমাজ জারিত, এই প্রশ্নটি আমাদের দলের মধ্যে বার বার উঠত। এই উত্তর আমরা খুব একটা বাঙলায় বসে পাইনি, যতদিন না আমরা জয়া মিত্রর দেখা পেয়েছি। তিনি অসম্ভব ধৈর্যে আমাদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুধুই নয়, ভারতের নানান প্রান্তের গ্রামের মানুষের দর্শণে জরিত হয়ে নিজের নানান অভিজ্ঞতা আমাদের বর্ণনা করেছেন কেনোরকম দ্বিধা না রেখেই। ভারতীয় গ্রামীণদের জ্ঞাণ, প্রযুক্তি, জীবনধারণ পদ্ধতি নিয়ে আমাদের নানান ধারণায় ধার দিয়ে আরও চকচকে করেছেন। এটুকু কথা আমরা বলতে চাই জয়া মিত্র সঙ্গে আলাপ না হলে হয়ত এই বইটি লেখা বন্ধ হত না, কিন্তু যে গ্রামীণ দর্শণের ব্যখ্যা আমরা করেছি এই বইতে, যে জীবনপ্রবাহের কথা এখানে বলতে চেষ্টা করেছি, সেই লেখার সুতিকাগার কিন্তু জয়া মিত্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ থেকেই সূচনা হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে দেখা নাহলে গ্রামীণ দর্শনের সর্বভারতীয় প্রেক্ষিতটিই হয়ত অধরা থেকে যেত। এর সঙ্গে আরও একজন একজন করে মানুষের অংশগ্রহণে এই বইটি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে যেমন, তেমনি কিন্তু আমারা যারা এই বইএর পেছনে কাজ করেছি নিয়মিত, তাদের মনোমত হয়ে উঠেছে।  

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি৫ - আলো আর গোলাম মোস্তফা অন্যান্যদের প্রভাব - Those Influenced Us

আমাদের ভাবনাগুলি লেখার বরাত দিয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থিবদ্ধ করার সাহস দেখিয়েছিলেন কলকাতার বাইরের, হাওড়ার এক সবুজ পত্রিকা আলো। এর পূর্বেই বাঙলা বাজারের বহু পত্রিকা সম্পাদক বিষয় শুনে আঁতকে পিছিয়ে গিয়েছেন। সুকুমার রুজের সম্পাদনায় বন্ধু দেবব্রত দে স্পর্ধাভরে দলটির গণেশকে, মধ্যবিত্তের চক্রান্ততত্বটি অবাধে নানা সংখ্যায় নানা দৃষ্টিভঙ্গীতে লিখতে দিয়ে এই বইটির লেখার বাঁধন তৈরি করতে সাহায্য করেছেন। কানাঘুষোয় শুনেছি, গণহত্যা সংখ্যায় আমাদেরই একটি লেখার প্রেক্ষিতে সম্পাদকমন্ডলীকে সরাসরি রাজনৈতিক শাসানিও শুনতে হয়েছে। সেই লেখাগুলি প্রকাশের পরে পরেই সাহস পেয়ে নানান পত্রপত্রিকা এই ধরণের লেখা চেয়েছেন। আমাদের ধারণা, তার জন্য রাজনৈতিক পালাবদলই হয়ত প্রধাণতঃ দায়ি। অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকদের ধন্যবাদ জানিয়েও বলি, যে সময়ে বন্ধুত্বের অসম সাহস দেখিয়েছেন আলোর বন্ধুরা, সে ঋণ কোনও পর্যায়েই, কেনও ভাবেই শোধ করার যেন স্পর্ধা কলাবতী মুদ্রার সদস্যদের না আসে। সুকুমার, দেবব্রতরমত বন্ধুরা নানানভাবে আমাদের বেড়দিয়ে রয়েছেন, তাই আজ কৃতঘ্ন শহরটিতেও যেন গ্রামের মায়ামমতার মজা পাই। সম্প্রতি অকালে প্রয়াত হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোস্তাফা গোলাম হেসেন। লেখা শুরুর আগে আগেই তাঁর সঙ্গে বহু সন্ধ্যা আমরা যাদবপুরে কাটিয়েছি, ভাবনাগুলি নতুন করে তাঁকে বলতে পেরে নিজেরা গুছোনোর সুযোগ পেয়েছি। তাঁর এবং কাজলদার সঙ্গে ডোমকলের গ্রামগুলোতে ঘুরেছি। অনেক কিছু অজানা জেনেছি, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের গ্রাম সমাজ বিষয়ে।

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি৪ - অন্যান্যদের প্রভাব - Those Influenced Us

অস্বস্তির আর একটি কাঁটা। যে পশ্চিমি প্রযুক্তির আদ্যশ্রাদ্ধ করেছি এই বইএর প্রায় প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায়, সেই প্রযুক্তি ধরেই কিন্তু এই বইএর তথ্য সংগ্রহের নানান স্তর তৈরি হয়েছে। বইটি রচনার প্রাক্কালে মূলতঃ আমরা গুগলএর বই সংক্রান্ত খোঁজ যন্ত্র এবং বই সংক্রান্ত অন্তর্জালের আশ্রয় গ্রহণ করে ছিলাম। গুগল কর্তৃপক্ষ ভারত ও ভারত সম্বন্ধীয় বহু প্রাচীন বইএর, সমীক্ষার, পত্রিকার ডিজিট্যাল সংস্করণ প্রকাশ করেছেন তার অধিকাংশই এই বইতে ব্যবহার করা গিয়েছে। এর প্রায় সবই ইংরেজি ভাষার। বাঙলা প্রবন্ধ অথবা বই সেখানে একটিও পাইনি এ কথাও জানিয়ে রাখা যাক।  এইসব ইংরেজি বইএর অধিকাংশই যে সব ভারতীয় গ্রন্থাগারে রয়েছে, সেই সব গ্রন্থাগারের এইসব বই পাওয়া কঠিন, আর বিদেশি গ্রন্থাগারে যাওয়ারতো প্রশ্নই ওঠে না। ইন্টারনেটে প্রতিচ্ছবি দেখে বুঝেছি, বইগুলির বাস্তবিক অবস্থা বেশ খারাপ। গুগলের বই সংক্রান্ত ওয়েবসাইটটি আমাদের সেই ইংরেজি বই ভরাল ভাঁড়ারের নাগাল পেতে সাহায্য করেছে। সে ঋণের দায় তারস্বরে স্বীকার না করলে আমরা নিজেরাই নিজেদেরই কৃতঘ্ন বলব। গুগল ঘেঁটে আমরা বিভিন্ন ধরণের বইএর, তথ্যের হদিশ পেয়েছি, যা সচরাচর চেনা গ্রন্থাগারে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল না কেননা আমরা পেশাদার ঐতিহাসিক নই যে বই খোঁজায় পূর্বপ্রদর্শিত পথ থাকবে। বাংলা বই পেয়েছি বাংলা লাইব্রেরিগুলোর একটি সাইটে। সেটিও গুগল খোঁজ থেকে পাওয়া। যেমন বহু পুরনো ইংরেজি, সংস্কৃত বই পেয়েছি ভারতের ডিজিটাল লাইব্রারি এবং প্রত্নতত্ব বিভাগের লাইব্রারির সাইটে। গুগল খোঁজ যন্ত্রে আরও একটি লাভ হয়েছে - একটি বই খুঁজতে সহর্ষে অন্য একটি বই আবিষ্কার করেছি, একটি বিষয় আবিষ্কার করতে অন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের ভাবনাতেও ছিল না হঠাতই আবিষ্কার করেছি- যা এই বই রচনায় নানান পারস্পরিক তথ্যসন্ধান আহরণে অসম্ভবরূপে সাহায্য করেছে। এর জন্য যে সব বই প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তার থেকে যে সব নানান ভাবনার বই ভারতের ইংরেজ আমল বুঝতে সাহায্য করেছে, তা পেয়েছি গুগলএর সাহায্যেই। কপিরাইটের জন্য বহু বইএর পুরোটা পড়তে পারি নি, কিন্তু নানান লেখার সূত্র পেয়েছি। এই দায় স্বীকার করা প্রয়োজন ছিল। যে সব ওয়েবসাইট আমাদের বিভিন্ন ভাবনা বুঝতে সাহায্য করেছে, বইএর মধ্যেই তার ঋণ স্বীকার করেছি। প্রাথমিকভাবে গুগল থেকেই ভারতীয় প্রযুক্তি সম্বন্ধে অতিরিক্ত নানান তথ্য জানতে পারি, নানান আন্দোলন সম্বন্ধে জেনেছি। ভারতের নানান ব্যবসায়িক ছাপাই পত্রিকা এই সব সংবাদ প্রকাশ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ইন্টারনেটই সম্বল। সবথেকে কথা ধরমপালজী সম্বন্ধে প্রথম জানি এই ইন্টানেট থেকে। পরে কলকাতারই বিনীতা মানসান্তার বইএর দোকান আর্থ কেয়ার বুকস থেকে তাঁর রচনাবলী সংগ্রহ করি।

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি৩ - অন্যান্যদের প্রভাব - Those Influenced Us

দীনেশ সেনমশাইএর বৃহতবঙ্গ বইএর এবং তাঁর অননুকরণীয় লেখ্যভঙ্গীর কুহকে আজও মজে রয়েছি। যে মায়াময় সততা আর অসামান্য উদ্যমে পরতে পরতে খুলে দেখেছিলেন বঙ্গসংস্কৃতির ভিত্তিভূমিকে তার তুলনা আজও মেলা ভার বললেও কম বলা হয় না। তাঁর পথ ধরতে পারার চেষ্টা আমরা অন্ততঃ করতে পারিনি, আজও ইওরোপিয় পদ্ধতিতে পন্ডিতি বাংলা লেখার মজাবিল থেকে বেরোতে পরিনি, চেষ্টার ত্রুটি নেই এ কথা দিতে পারি। কিন্তু আক্ষেপ, তাঁর মায়াময় বাঙলা ভাষাকে অনুসরণ করতে পারলাম না।
অন্য যে বইটির কথা বলতেই হবে সেটি ভারত সরকার প্রকাশিত পাঁচটি খন্ডে পশ্চিমবঙ্গের পুজা পার্বণ এবং মেলা। বিনয়বাবুর দক্ষিণ বঙ্গের সংস্কৃতির বিহঙ্গ দৃষ্টির বাইরে বেরিয়ে পড়ে পেলাম গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মানস ভ্রমণের সুযোগ। অসম্ভব সেই গায়ে কাঁটা দেওয়া, পাতায় পাতায় শিহরণ জাগানো তথ্য আমাদের ঘাড় ঘাক্কা দিয়ে বাড়ির বাইরে যে বার করে দিল, ফেরার শেষ পথটিও আর খোলা রাখল না। রয়েছে রাজ্য সরকারের লোকশ্রুতি পত্রিকা। নানা অস্বস্তিকর শহুরে দার্শণিক ভাবনার পাশাপাশি পর গ্রামের গ্রামের অসম্ভব নানান তথ্য আমাদের প্রাণিত করেছে। সহজিয়া, লোক লৌকিক, লোক, শিলাই কাঁসাই, সুন্দরবন লোক সংস্কৃতিসহ নানান পত্রিকা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। বছর কয়েক পূর্বে ফুলিয়ায় আবিষ্কার করলাম দশ বছর চলে বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত শিল্প নির্ভর পত্রিকা টানা পোড়েন – সম্পাদনা বসাক সমাজের মাথা হরিপদ বসাকমশাই। অসম্ভব ঋদ্ধ এই পত্রিকাটি আমাদের দেখা একমাত্র বাঙলায় প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা, যেটি নিজের গুনেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এ ধরণের কাজ শহুরে অনেকেরই পক্ষে সম্পাদন করা হয়ত সম্ভব হত না তা সসম্মানে জানিয়ে রাখি।

বইটি লেখার সময় ব্যবহার করেছি রজতকান্ত রায়ের পালাশির ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ। এইটি আমাদের ব্রিটিশপূর্ব, অথবা ১৭৫৭র অব্যবহিত পরবর্তী কালের জমিদারির পুঙ্খানুপুঙ্খ আর পলাশির কলাকুশলীদের তত্ব-তথ্য-অবস্থান বুঝতে সাহায্য করেছে। কোম্পানি আমলের বাঙলার ব্যবসা বুঝতে চিত্তব্রত পালিত অথবা ইন্দ্রজিত রায়ের সম্পাদিত বেশ কিছু বই আমাদের পথ দেখিয়েছে। নুনের বাজার নিয়ে জাপ গবেষক মিকি কান্ডা আমাদের নতুন দৃষ্টি পেতে সাহায্য করেছেন। সুশীল কুমার মুখোপাধ্যায়ের সপ্তদশ, অষ্টদশ শতাব্দের বাঙলার অর্থনৈতিক ইতিহাসেরও সাহায্য নিয়েছি। এই বইগুলিতে সুশীল কুমার, পি জে মার্শালের দেখানো পথ ধরে অত্যন্ত নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে, ভারত থেকে নিষ্ক্রামিত অর্থে ব্রিটিশ শিল্পায়ণের তত্ব, সর্বৈব মিথ্যা প্রচার।

Monday, July 1, 2013

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি২ - বিনয় ঘোষ, Binoy Ghosh

প্রণতি বিনয় ঘোষ 

সবে দাড়ি গজানোর বয়সে কলেজ স্ট্রিটের পুরোনো বইএর দোকানগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে একখন্ড, পরে মোটামুটি পরিপক্ক হলে, প্রকাশ ভবনসূত্রে হাতে আসে চারখন্ডে বিনয় ঘেষের পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি বই। প্রত্যেকটি খন্ড আজও নতুন। আমাদের এই বইতে বিনয়বাবুর নানান দার্শনিক অবস্থান কঠোর সমালোচনা করেছি। খুব আশ্চর্য মনে হয়, যিনি এডামের শিক্ষা সমীক্ষা এক লাইনে সেরে দেন, যিনি বিদ্যাসাগরের কলকাতা আগমনকে যুগসন্ধিরূপে বর্ণনা করেন, যিনি বিদ্যাসাগরের ভারতীয় নানান দর্শণের ন্যুনতা ঘোষণাকে অমিতব্যয়ীবাক্যে স্বাগত জানান, যিনি মেকলের ১৮৩৫ সালের অশ্লীলতম মিনিটটিকে প্রগতিশীলতার ছাপ্পা মারেন, পারম্পরিক গ্রামব্যবস্থাহন্তা শহর কলকাতার বাড়বাড়ন্তে অত্যধিক খুশি হন, শেষ বয়সে সমালোচনা করলেও প্রথমজীবনের রচনাগুলিতে বাঙলা তথা কলকাত্তাই নবজাগরণের দর্শণে ডুবেছিলেন গলাপর্যন্ত, মধ্যবিত্তের ক্ষমতা দখলীয় মার্ক্সীয় দর্শণ বিষয়ে অপরিমেয় উচ্ছসিত, সদ্য বিলেত থেকে ভারত তথা বাঙলায় আগত নতুন কেন্দ্রিকৃত পৃথিবী ধ্বংসের কারিগর পশ্চিমি প্রযুক্তিতে গদগদ এবং বেতর, ব্রিটিশদের ভারতের পরিকাঠামো ভাঙা কর্মকে সমর্থন করছেন দু হাত তুলে, তিনিই অবলীলায় ইওরোপিয় শিক্ষায় শিক্ষিত বামপন্থীকথিত অজ্ঞ, মূঢ়, সামন্ততান্ত্রিকতায় আপাদমস্তক ডুবেথাকা গ্রামীণ বাঙলার মানুষদের কৃতির, জ্ঞানের জয়গান গাইছেন কম্বুকন্ঠে, তাদের জোরের যায়গা ধরিয়ে দিচ্ছেন, শুধুই সাবলটারন, দলিত, প্রান্তিক বলে তাদের অসহায়তাকে প্রচার করছেন না। নিজেদের অভিজ্ঞতায় মাঠেঘাটে দেখেছি, সেই বইএর খন্ডগুলির বেশ কিছু তথ্যে অসংগতি। তাঁর সেই সীমাবদ্ধতাটি আমাদের খুব একটা ভাবায়নি, বিমুখও করে নি। ভাবিয়েছিল, মার্ক্সীয় দর্শণে আপাদমস্তক ডুবে থাকা এই মানুষটির বাঙলার গ্রাম্য মানুষের প্রতি অসম্ভব প্রেম আর শ্রদ্ধাটিকে নজর দেওয়ার, যে অনির্বচনীয় গ্রামবাঙালি প্রেম আমরা দেখেছি তাঁর পূর্বজদের লেখ্যভঙ্গীতেও। তিনি আমাদের আজও টেনে রেখেছে ভীষণভাবে।
মধ্যবিত্তের স্বঘোষিত বামপন্থার দায়ের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টার আগেই, গ্রামীণ মানুষগুলো নিজস্ব দর্শণে ভারতীয় সভ্যতাকে প্রায় নিজহাতে গড়ে তুলেছেন, সেই ধারণাটি কিন্তু প্রথম আমরা ভাসাভাসাভাবে পেয়েছি বিনয় ঘোষের রচনা সূত্র থেকেই। সুকুমার সেন থেকে অরুণ রায়, অনেকেই চেষ্টা করেছেন বাঙলার নানান সাংস্কৃতিক সূত্রে বিদেশি প্রভাবের দর্শণকে প্রাধাণ্য দেওয়ার – যেমন মমি পুতুল, যেমন কমলে কামিনী। একসময় এ তত্বে আমরা অনেকেই জারিত ছিলাম। গ্রামীণ বাঙলার সব কিছুই বিদেশি প্রভাব প্রভাবিত, এই অপমানজনক তত্বের বাইরে প্রথম বেরিয়ে আসার প্রথম উত্সাহ আর উদ্যম অর্জন করেছি বিনয় ঘোষ, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, জয়া মিত্র, দীনেশ চন্দ্র সেন মশাইএর রচনা থেকে।
আজও পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির খন্ডগুলি খুললে মজা পাই বেশ। ইওরোপিয় বামপন্থার চিরবালকত্বের বিচ্ছুরণে, তাঁরই প্রদর্শিত পথে প্রচলিত শহুরে ধারণাগুলিকে ভিত্তিকরে, তাঁর বাঙলার গ্রামসমাজ ভিত্তিক দর্শণিক ভাবনার ওপর বেশ কলম চালিয়েছি, পাতায় পাতায় যার চিহ্ন আজও লাঞ্ছিত হয়ে রয়েছে। সেই বালখিল্যতায় আজ অত্যন্ত লজ্জা বোধ করি – এ তথ্য জানাতে লজ্জা নেই। এই খন্ডগুলি আমাদের সামনে গ্রাম বাঙলার নতুন এক জগতের দ্বার খুলে দিয়েছিল, যেটি ভবিষ্যতে আমাদের প্রশ্নগুলিকে কৌতুহলে রাপান্তরিত করতে সাহায্য করবে। এগুলির মধ্যেদিয়ে, বিনয়বাবুর বাড়ানো হাতধরে, বাঙলার গ্রামীণ বিশ্বে প্রবেশ করেছি। কিন্তু সেই মায়াময় কদলি রাজ্য থেকে বেরোনোর উপায় রাখেননি বাঙলার গ্রামীণ মানুষেরা। বিনয়বাবুর ট্র্যাডিশনাল আর্ট এন্ড ক্রাফ্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বইটি অথবা চারখন্ডের পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি আজও ভীষণ বাস্তব। মার্ক্সীয় দর্শণ বিশ্লষণে তিনি সর্বজনীনভাবে গ্রামীণদের বাছাবাছা অপমানজনক শব্দে বিদ্ধ করেছেন – কিন্তু বাঙলার গ্রামকে বিশ্লষণে বেতর হয়ে ওঠেন গ্রামীণদের কৃতকর্ম দর্শণ বাখানে, অন্ততঃ সেই ভাবনাটি পাঠকের মধ্যে চারিয়ে দিতে পারেন তার রচনার মাধ্যমে – অন্ততঃ আমাদের মধ্যে। তাঁর একদা প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গীরা আমাদের শ্রদ্ধা দেখে সাবধান করে প্রশ্নতুলেছেন বিনয় ঘোষমশাইএর গ্রামীণ মানুষদের শ্রদ্ধার বিষয়টি। তিনি গত হওয়ার পর, বাস্তবে গ্রামীণ মানুষদের কৃতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল কী ছিল না সে বিষয়টি আমাদের কাছে আজ ন্যুন। এমনও হতে পারে, হয়ত বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ছিলই না, তার কাজ ছিল শুধুই পন্ডিতির ঢংএ গ্রামের মানুষের কৃতি বিশ্লেষণ আর ফোর্ড ফাউন্ডেশনেরমত সংস্থাগুলির চক্করে আমেরিকা যাওয়ার কেরিয়ার তৈরির প্রচেষ্টামাত্র – হতে পারে নাও হতে পারে - কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি বইতে যে অনুভূতি বিশ্লেষণ করেছেন তা প্রবলভাবে আজও সত্য।
অনেকে সাহিত্যিক কুম্ভীলকবৃত্তিরও অভিযোগ এনেছেন বিনয় ঘোষের বিরুদ্ধে। আমরা তাঁর লেখার গুণগ্রাহী, এমন অশৈলী, ইল্লুতে কান্ডে, বিনবাবু জাতীয় গ্রন্থাগারে বসে, নানান বই থেকে টুকে টুকে, এই বইগুলি লিখেছিলেন, এমন শহুরে মুচমুচে নানান তথ্যও আমাদের যেচে সরবরাহ করেছেন নানান গুণিজন (বুকঠুকে বলি, আমরাও বহুবই থেকে টুকেটুকে এই বইখানি রচনা করেছি – এই বইতে কোথাও কোথাও আমাদের এমনও মনে হয়েছে যে, পাতার পর পাতা এটি যেন, অন্য বইগুলির উদ্ধৃতির বাহন হয়ে উঠছে)। এই কাজ শুরুর আধ দশক আগেই তিনি গত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আমরা তাঁর মত-অমত কোনওটাই পাইনি, জানারও সুযোগ হয় নি, এত্ত সব মধ্যবিত্তসুলভ শহরসুলভ মন্তব্য বাজিয়ে দেখার সুযোগও পেতে চাইনি। আমাদের সম্বল তাঁর রচিত নানান প্রবন্ধ আর গ্রন্থগুলি। কলকাতার প্রণম্য মহাজ্ঞাণীগুনী মহলে কোনও দিনই আমাদের খুব একটা গতায়াত ছিল না। কলকাতার জ্ঞাণীদের মধ্যে তিনি খুবএকটা সর্বজনগ্রাহ্যও ছিলেন এমনও নয়, আজও সে তথ্য আমাদের সামনে খুব নতুন নয়। আমরা নিজেদের গুণীও মনে করি না। গাঁইয়াদের সঙ্গে প্রায় বারমাস থাকি – নিজেরা গাঁইয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। তাই বিনীতভাবেই আমরা বিনয়ঘোষের যথেষ্ট সমালেচনা করেও গ্রামীণদের বিষয়ে তাঁর দর্শণপন্থী।
অধিকাংশ বিষয়ে একমত না হয়েও, তাঁর বিদ্যাসাগর এবং ততকালীন বাঙালি সমাজ বইটি আমাদের সে সময়টুকুর বাঙলার সমাজ তথা কলকাতাকে বুঝতে সাহায্য করেছে। বিদ্যাসাগর মশাইএর সময়কে ধরে তিনি যে বাঙলার নবজাগরণের ইতিহাস রচনা করেছেন, সেই রচনাটির নানান তথ্যপঞ্জী আমরা কাজে লাগিয়েছি বইএর বহু অধ্যায়েও। মেট্রপলিটন মন, বাঙলার নবজাগরণ ইত্যাদি বইএর মূল দার্শণিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে আমাদের এই কাজের যোজন প্রমাণ দূরত্ব। কিন্তু খেটেখুটে যে তথ্য তিনি আহরণ করেছেন সে সবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, সে সব আমরা এই বইএর বহু স্থানে ব্যবহার করেছি। তিনি এবং সুপ্রকাশ রায় ঘোষিত মার্ক্সবাদী, তাই তাঁরা বইএর অঙ্গে অঙ্গে কার্ল মার্ক্সএর নানান উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন, মার্ক্সীয় দর্শণের মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণের কাজটি করছেন। আমরা এই দুই মার্ক্সবাদীর নানান রচনা থেকে সরাসরি পেয়ে যাই মার্ক্সীয় দর্শণের নির্যাসটুকু, বাঙালির মার্ক্সিয় মানসটুকু।

তবু সে যে কবার কথা, আপন বেগে আপনি মরি১ - why this blog?

প্রণতি
ইংরেজ শাসনে প্রাণদিয়ে, নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে, স্বাধীণতার স্বপ্ন দেখানো কোটি কোটি দিগম্বরী, প্যারীসুন্দরী, শিরোমণি, বিশ্বনাথ, তিতু, বীরসা, দুদুমিঞা, সিদোর প্রতি আভূমি

ধিক্কার
হিন্দু হউক, মুসলমান হউক, খ্রীষ্টান হউক, শিখ হউক, পারসিক হউক, তিতুর ন্যায় কখোনো কারোর দুর্বুদ্ধি হয়, ভ্রান্তি হয়, তিতুর দৃষ্টান্তে নিশ্চিতই তাহার চৈতন্য হইবে। তিতুর বড় দুর্বুদ্ধি। তাই তিতু বুঝিলনা ইংরেজ কত ক্ষমাশীল,- কত করুণাময়! দুর্বদ্ধি তিতু ইংরেজদের সে করুণা, সে মমতা বুঝিল না... এই ভারতে ইংরেজের রাজত্বে ইংরেজদের করুণার মর্ম, ইংরেজের বাত্সল্যেরভাব, কে না বুঝে, ইংরেজের রাজত্বে সুখামৃতের নিত্যসুখস্বাদ কে না করে!
তিতুমীর, বঙ্গবাসী, বিহারীলাল দত্ত

কোম্পানির এই নিয়ম বাঙলায় রেশম বস্ত্রের উত্পাদনকারীদের কঠোর হাতে দমন করার জন্য নিখুঁত পরিকল্পনা। এই নীতি অবশ্যই কার্যকর করতে হবে, যাতে বাঙলায় রেশম উত্পাদন ব্যবস্থা চিরকালের জন্য ধংস হয়ে যায়। যাতে শিল্পোন্নত দেশটির(অবিভক্ত বাঙলাদেশের) অবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটে এবং এই দেশটি গ্রেট ব্রিটেনের শিল্পেত্পাদনের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সরবরাহ ক্ষেত্রে পরিণত হয়, সেই ভাবেই এই নীতি কার্যকরী করে তোলা অবশ্যই প্রয়োজন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটি (সুপ্রকাশ রায়, ভারতের কৃযক স্বাধীণতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম)

১৭৫৭ খ্রীঃ অব্দের পর ছিদামের ন্যায় যে সকল নিষ্ঠুর নরপিশাচ ইংরাজ বণিকদিগের রেসমের কুঠিতে এবং লবণের গোলায় কার্য করিত, আজ তাহার পৌত্র-প্রপৌত্রগণ মধ্যে অনেকেই বঙ্গের অভিজাত(aristocracy) বলিয়া পরিগণিত। এই অভিজাতদিগকে একবার স্মরণ করাইয়া দিতেছি যে, বঙ্গের শিল্পী, বঙ্গের কৃষক, বঙ্গের বাণিজ্যব্যবসায়ী এবং সর্বপ্রকার শ্রমোপজীবীদিগের শোণিত ইহাদের শরীর পরিপোষণ করিতেছে, সেই সকল নিরাপরাধী লোকের বিনাশের উপর ইহাদের অভিজাততীয় গৌরবের ভিত্তি সংস্থাপিত হইয়াছে।((চণ্ডীচরণ সেনঃ নন্দকুমার ও শতবত্সর পূর্বের বঙ্গ সমাজ))

ঋণস্বীকার
এর আগের পোস্টে আমরা যে কাজটির কথা বলেছি, সেই কাজটির মুখপত্র হিসেবে লোকফোক ব্লগটি কাজ করছে। এই ঋণ স্বীকারটি সেই বইএর মুখড়া থেকে নেওয়া। পড়ার সময় বইএর যায়গায় ব্লগ কথাটি বসিয়ে নিলেই কার্য(পাঠ)শুদ্ধি হয়ে যাবে।

এই ব্লগটির পোস্টগুলির আষ্টেপৃষ্ঠে বহু ভাবনার, তত্বের সঙ্গে লেখকদের ভাবনাতো বটেই, বহু নাম না জানা, নাম জানা বহু মানুষের ভাবনা চিন্তা-দর্শণ-প্রদেয় তথ্য জড়িয়ে রয়েছে। তথ্য-তত্বের মুটেগিরি করে দেশি, গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে থেকে আমরা যা শিখেছি, তার বাইরে বহুদিন ধরে নানান ব্যক্তি, সংস্থা, আলোচনাসভায় ওঠা তথ্য বিচার বিশ্লেষণে জড়িয়ে থেকে যে সূত্রগুলো পেয়েছি, তার একটা বড় অংশ, গ্রন্থিবদ্ধকরে এই ব্লগে সঞ্চয় করা গিয়েছে। খুব আলগোছে বহু সাধারণ আলোচনা থেকেও নানান মানুষের সঙ্গ করে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা জেনেছি, আবিষ্কার করেছি নিজেরা ঋদ্ধ হয়েছি। আরও কাজ শেষ হয় নি।
আমাদের দলের প্রায় প্রত্যেক সদস্যই বামপন্থী আদর্শে জারিত পরিবারে বড় হয়েছে। বিদ্যালয় জীবন থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠার সময়ে নানান বামপন্থী সাহিত্য, বই, পত্রপত্রিকার মধ্যে বড়ভাবে দাগ কেটেছিল, সুপ্রকাশ রায়ের ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। বইটি আজও আমাদের পথ দেখাচ্ছে। ভারত, ভারতের জনগণ সম্বন্ধে সুপ্রকাশ রায়ের নানান মার্ক্সীয় দ্বিধা দ্বন্দ্ব সত্বেও বইটি গ্রামীণ মানুষের অদম্য স্বাধীণতাস্পৃহাকে বুঝতে, সম্মান জানাতে সাহায্য করেছে। তাঁর এই বইটি সম্বল করে আমরা তৈরি করেছি বাঙলার কৃষক স্বাধীণতা সংগ্রামের ইতিহাস। ঐতিহাসিকেদের বিবৃত স্বাধীণতা সংগ্রাম বনাম বিদ্রোহ তত্ব দ্বন্দ্বের বাইরে বেরিয়ে এসে, এই লড়াই বিদ্রোহগুলোকে স্বাধীণতা সংগ্রামরূপেই দেখেছি। এই বইএর সূত্র ধরে আমরা পৌঁছে গিয়েছি নানান বইএর মূলে। 
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী থেকে দীনেশচন্দ্র হয়ে জয়া মিত্র, ধরমপালজী থেকে ক্লদ আলভারেজ হয়ে উইনিন পেরিরা আর অনুপম মিশ্ররমত হাজারো প্রখ্যাত অখ্যাত কর্মীর নানান রচনা আমাদের নতুনভাবে ভারতবর্ষকে বুঝতে সাহায্য করেছে – বিশেষ করে অকেন্দ্রিভূতসমাজের ধারণাটি আমরা নিজেরা যতটুকু না অর্জন করেছি, তার বাইরে নানান তত্বতথ্য এঁদের থেকেই উপহার পেয়েছি। এই বইএর একটি উচ্ছ্বাসের বড় সম্বল উইলিয়ম এডামের তিনদফার বাঙলা বিহারের শিক্ষা সমীক্ষা। এই সমীক্ষার তথ্য আমাদের পুরোনো বাঙলা বুঝতে সাহায্য করেছে। ধরমপালজীর লেখা থেকে সেটি পেয়ে মূল সমীক্ষাটির প্রকাশনা পর্যন্ত যেতে পেরেছি। বিনয় ঘোষেরমত বহু গবেষক কিন্তু তাঁদের নানান বইতে, এডামের রিপোর্টটির মূল প্রতিপাদ্যটুকু এক স্তবকেই সেরে অন্য তথ্যে চলে গিয়েছেন। বলা দরকার পালিয়ে গিয়ে বেঁচেছেন, নাহলে ঔপনিবেশিক এবং ইওরোপকেন্দ্রিক বামপন্থী দর্শণ হয়ত মুখ থুবড়ে পড়লেও পড়তে পারত।

এডাম প্রসঙ্গে একটা ভুলের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের এই কাজের অন্যতম সুহৃদ-বন্ধু সুতনু ভট্টাচার্যমশাইকে আমরা অ্যাডাম সমীক্ষার সুত্রটি দিই, এবং তিনি তাঁর একটি লেখায় সেই সুত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। ধরমপালজীকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে এডামকে বুঝতে অনেকটা ভুল করতে যাচ্ছিলাম। ধরমপালজীর লেখা পড়ে আমাদের ধারণা হয়েছিল এডাম, তত্কালীন সরকারের শিক্ষানীতির কথা প্রতিধ্বনী করছেনমাত্র, কেননা তাঁর সমীক্ষা সরকারি অর্থেই প্রতিপালিত হয়েছে। নানান তত্ব-তথ্য আলগোছে আলোচনা কালে সুতনুদা আমাদের নতুন দিশায় এডামকে খুঁজতে বুঝতে বললেন, কয়েকটি যায়গা ধরিয়েও দিলেন। এডাম সমীক্ষা লেখার কাজে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েও এডামের মূল সমীক্ষার তিনটি প্রতিবেদন জোগাড় করে আবার নতুন করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লাম। স্বীকার করতে বাধানেই এডামকে বুঝতে আমরা ধরমপালজীর তথ্য অনুসরণ করে কিছুটা পথভ্রষ্ট হয়েছিলাম। যখন কলকাতায় ইংরেজি পড়ার ধুম লেগেছে, সেই সেই সময় কিন্তু মেকলের এবং রামমোহনের অন্তরঙ্গ বন্ধু পাদ্রি এডাম নিদান দিচ্ছেন, বাংলা জুড়ে যে শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে তাকে বজায়রাখার। সেই পথ যদি না সুতনু ভট্টাচার্য আমাদের ধরিয়ে দিতেন তাহলে আমরা মহাপাতকী হতাম।