Showing posts with label লক্ষ্মীপুজোর কলাগাছের নৌকো. Show all posts
Showing posts with label লক্ষ্মীপুজোর কলাগাছের নৌকো. Show all posts

Friday, November 23, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - পূর্বের উপকূলের নাবিকদের অতীত সমুদ্র যাত্রার স্মৃতি - ইওরোপমুখ্য ইতিহাসচর্চা আমাদের শেকড়ে যেতে বাধা দ্যায়

কেন পূবভারতের সঠিক অসাম্রাজ্যবাদী ইতিহাস চর্চায় বাংলা-ওডিসা-বিহারের তথাকথিত অশিক্ষিত গাঁইয়া মহিলা, তাদের উৎসব, ব্রত, গল্পকথা, আলপনা, আচার-বিচার, কৌমস্মৃতি ইত্যাদিতে বারবার মাথা নামিয়ে সম্মান জানিয়ে ফিরে যেতে হবে, কেন নতুন ভাষ্যে এই গণ-ইতিহাস চর্চকদের সম্মান জানাতে হবে তার একটামাত্র উদাহরণ বাংলার লক্ষ্মীপুজো এবং ওডিসার বৈতা বন্ধন। পূবদেশের মহিলারা সেই গণ- ইতিহাস শত শত বছর ধরে নিজেদের বুক দিয়ে আগলে ধরে আছেন ঔপনিবেশিক বিকৃতির বিরুদ্ধে আড় হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে। আজও। প্রণাম অদম্য মায়েরা!
কেন বিশ্ববিকাশের ইতিহাস নিয়ে ইওরোপিয় ভাষ্য নির্বিবাদে মেনে নেওয়া উচিত হবে না, এবং কেন বহু সময়েই বিশ্ব ইতিহাসের ঔপনিবেশিক ইওরোপিয় ভাষ্য অইওরোপিয় ইতিহাসচর্চাকে ভুল পথে চালিত করে মৌসুমী বায়ু হিপ্পালাসকে আবিষ্কার হিসেবে দাবি তার মুখ্য প্রমান। ঔপনিবেশিক সময় থেকে ইওরোপমুখ্য ইতিহাসের মিথ্যা/ভুল/উদ্দেশ্যপূর্ণপাঠ, তাদের দৃষ্টিভঙ্গীকেই বিনা বিতর্কে মাথা নামিয়ে মেনে নিতে বাধ্য করেছে।
পূর্বউপকূলের নাবিকদের সমুদ্রযাত্রা নিয়ে শ্রীলা ত্রিপাঠীর একটি অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ লেখা আছে। পরমের নৌকো সংখ্যায় এটির অনুবাদ ছেপেছি (তার প্রথম পাতাটি আপনাদের জন্যে তুলে দিলাম)। তিনি বলছেন মৌসুমী বায়ু হিপ্পালাসের আবিষ্কার হিসেবে ঔপনিবেশিক ইতিহাসে পড়ানো হয়। বাস্তব হল তারও বহু আগেই পূর্ব দেশের নাবিকেরা সেই বাতাস অনুসরণ করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় যেতেন এবং পালটা বাতাসে ফিরতেন এই তথ্য আজও পূব বাংলা-ওডিসা এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বহু দেশে বিদ্যমান।
এই অইওরোপিয় গণ-ইতিহাসচর্চার একটা উদাহরণ আমরা এই প্রকাশনায় দিলাম। নবকুমার দুয়ারি দাদা ওডিসার বৈতা বন্ধন উতসবের যে ছবি দিয়েছেন তার সঙ্গে বাংলা-ওডিসার নাবিকদের ঐতিহাসিক সমুদ্র যাত্রার স্মৃতি স্পষ্ট। প্রথম ছবিটা পাঁচ বছর আগের, আমার তোলা, অন্যদুটো Nabakumar Duaryদার তোলা এবং আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন Indranil Biswasদাদা।
দুজন মানুষের ইতিহাস চর্চককে ছবির জন্যে কৃতজ্ঞতা জানালাম।

Thursday, October 5, 2017

মুসলমান-অমুসলমান বাংলা জুড়ে আজও নৌকোয় ভাসার স্মৃতি বহন করে

অমুসলমান লক্ষ্মীপুজোর, আর মুসলমানেরা গীতিকায়
অমুসলমানেদের জলে ভাসার উদাহরণ বাংলার মঙ্গল কাব্য। মুঘল যুগেও পর্তুগিজেরা চট্টগ্রামকে পোর্ট গ্রান্ডি - মানে বড় বন্দর আর হুগলিকে পোর্ট পেকিনো বা ছোট বন্দর বলত যেটা নিয়ন্ত্রণ করত বক্সীরা(মূলত সেনাবাহিনীর বেতন দাতা), যে জন্য ইওরোপিয়রা একে বলত বক্স বন্দর, এর সঙ্গে বাক্সর কোন যোগাযোগ নেই যতদূর সম্ভব। চট্টগ্রামে ভারতে ইসলাম আসার আগে থেকেই ইসলামি বণিকদের বাস। ঠিক যেমন মালাবারে নবির সময়ের একটা মসজিদ আজও আছে।
এই স্মৃতি লক্ষ্মী পুজো হিসেবে আজও ধরে রেখেছেন বাংলার অমুসলমান কন্যেরা, আর মুসলমানেরা গীতিকাগুলোয়।
আজও কটকে বালিযাত্রা উৎসব পালিত হয় - সে সময় কটক, বালেশ্বর আর পিপলি ছিল দক্ষিণপূর্ব্দিকে যাওয়ার বন্দর।

Tuesday, October 7, 2014

লক্ষ্মীপুজোর কলাগাছের নৌকো, Banana Boat Used in Laxmi Puja

লক্ষ্মীপুজোয় রাস্তায় বেরিয়ে  দেখি কলা গাছের নৌকো তৈরি করছে রাস্তার ধারে পুজোর উপাচার বিক্রি করা দোকানি। বহু বছর আগে বাংলা তথা পূর্ব ভারতের যে মানুষেরা সমুদ্রের মোসুমী বায়ুর গতি মেনে সমুদ্র রাস্তা বেয়ে, এই গ্রামীণদের উৎপাদন নিয়ে যেতেন দূর দেশে বাণিজ্য তরী সাজিয়ে। তাদের সেই কর্মের কৌম স্মৃতি এখনও অবশ্য পালনীয় আচার রূপে আশ্বিন মাসে লক্ষ্মী দেবীর পুজোর জলে ভাসানো হয় কলা গাছের তৈরি নৌকোর প্রতীক রূপে। কেউ কেউ ভোলেন কেউ কেউ ভোলেন না। অন্তত বাংলার নানান সময়ের ইতিহাসের রেণু বয়ে নিয়ে চলা বাংলার মহিলারা সেই বিদেশ যাওয়ার কর্ম ভোলেন নি, এবং সেই স্মৃতি বহন করে নিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর, পুজোর অবশ্য পালনীয় আচার রূপে। 
কবে যে আমরা শহুরে শিক্ষিতরা বাংলার পুজো, কাহিনী, গান, গাথা, স্মৃতি কথা, আলপনা ইত্যাদিকে ইতিহাসের রেণু রূপে গণ্য করব কে জানে? এই গুঢ তথ্য জানেন বাংলার মেয়েরা আর গ্রামীণেরা। 
তাদের প্রণাম।
শেষে আমাদের বাড়ির লক্ষ্মী পুজো, যদিও এখানে সেই নৌকো ব্যবহার হয় নি।