Showing posts with label ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চা. Show all posts
Showing posts with label ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চা. Show all posts

Saturday, August 25, 2018

উপনিবেশ চিরোধী চর্চা - ঔপনিবেশিকপুর্ব বুদ্ধিজীবি - ঔপনিবেশিক জ্ঞানভাণ্ডারের বিকাশ২

(বিতর্ক - উপনিবেশপূর্ব জ্ঞান সরবরাহকেরা কি সক্রিয় না অক্রিয়। এবারে আমাদেরর মত - সাম্রাজ্য তৈরির কোন পক্ষতেই ছিলাম না। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ, কোন সাহায্যতেই ছিলাম না। বরং আমরা সাম্রাজ্য উচ্ছেদের রাজনীতি করে গিয়েছি। পলাশীর পাঁচ বছর পর থেকে ফকির-সন্ন্যাসীরা যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইএর সূচনা করে গিয়েছেন সে লড়াই ক্রমশ আগুণের গোলার মত ছড়িয়ে পড়েছে। সে লড়াই আজও শেষ হয় নি।)
---
দ্বিতীয় স্তরের বৌদ্ধিকদের মতবাদ অনেকটা উত্তরঔপনিবেশিক সংশোধনবাদী প্রতিক্রিয়া থেকেই জন্ম। ইউজিন ইরশ্চিক, সি এ বেইনি, টমান ট্রাউটম্যান, উইলিয়াম পিঞ্চ, রিচার্ড ঈটন, নর্বার্ট পিবয়, মহইম্মদ তাভাকলি-তারঘি এর আগের গবেষকদের উত্তরঔপনিবেশিক অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছেন। যদিও দুই শিবিরই মনে করে জ্ঞানই ক্ষমতা এবং ঔপনিবেশিক জ্ঞান উপনিবেশের ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করেছে, কিন্তু এই দ্বিতীয় দল পূর্বের দলের মত করে মনে করেনা ঔপনিবেশিক মধ্যস্থরা শুধুই নিস্ক্রিয় থেকেছেন, ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরিতে যে জ্ঞানচর্চার পরিবেশের প্রয়োজন হয়, সে পরিবেশ বিকাশে এই মধ্যস্থদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল – এ নিয়ে তারা বেশ কিছু উদাহরণও পেশ করেছেন। উত্তরঔপনিবেশিকেরা দেখিয়েছেন এই মধ্যস্থরা শুধুই তথ্য সরবরাহক ছিলেন, তার বেশি কিছুই নয় – এ নিয়ে কোহন দেখিয়েছেন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র পাঞ্জাবিদের সিপাহি হ্যাঙ্গাম উত্তর সময়ে সেনাবাহিনীতে পাগড়ি পড়াবার ব্যবস্থা করেছে – এবং পাঞ্জাবিরা সেই প্রথা নতমস্তকে মেনে নিয়েছে।
কিন্তু দ্বিতীয় শিবিরের গবেষকদের অবস্থান হল এই মধ্যস্থরা কিন্তু শুধুই তথ্যসরবরাহক ছিল না সক্রিয় জ্ঞানকর্মী ছিল, তারা তাদের নিজস্ব জ্ঞানচর্চা নিয়ে উপনিবেশের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরির কাজে যোগ দেন। পিবয়, অর্জুন আপ্পাদুরাইয়ের কাজ উল্লেখ করে বলেন ইওরোপিয়রা ভারতে জাত ভিত্তিক আদমসুমারি চালু করেছিল। পিবয় দেখান ঔপনিবেশিক ইওরোপিয়দের হাতে জাতিবাদী সুমারি শুরু হয় নি, এর উদাহরণ তার আগেই রয়েছে ১৬৫৮ এবং ১৬৬৪ সালে Munhata Nainsiniর একাউন্ট অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব দ্য মারোয়াড়এ। তিনি দেখান উপনিবেশের প্রথম দিকের আধিকারিকেরা জাতিভিত্তিক সুমারি করতে খুব একটা ইচ্ছুক ছিলেন না। বরং তিনি দেখান উপনিবেশপূর্ব সময়ে এই ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আধিকারিকদের কাজের সূত্রে তারা এই বিষয়টা আত্মস্থ করেন। তিনি বলছেন এই জ্ঞানচর্চায় কাজ করছে উপনিবেশপূর্ব কাজের জ্ঞান, এবং সেটাকে উপনিবেশের জ্ঞানচর্চার ওপরে চাপিয়ে দিচ্ছেন দেশিয় কর্মীরা। ফলে এখানে মধ্যস্থরা শুধু তথ্য সরবরাহকই থাকছেন না, তারা ঘটক হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে কপিল রাজ একটা বই লিখেছেন Relocating Modern Science_ Circulation and the Construction of Knowledge in South Asia and Europe, 1650-1900। তার অনেকগুলি অধ্যায় নিয়ে আমরা এর আগে আলোচনা করেছি বিশেষ করে রেনেলের উপমহাদেশজুড়ে মানচিত্র তৈরির যে কাজ হয় তাতে মোগল যুগের মানচিত্র তৈরির জ্ঞানকে ব্যবহার করেছিলেন।তিনিও যুক্তি দিয়েছেন দেশিয় কোলাবরেটররা সক্রিয়ভাবে জ্ঞানচর্চা বিকাশে অংশ নিয়েছিলেন।

Friday, September 29, 2017

শূদ্র ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ইতিহাস এবং কতগুলো সমস্যা - যে শূদ্র ইতিহাসের সামনে সব উচ্চবর্ণ মূক

১। সমস্যা হল সেই আর্যভটের(ভট্ট = বামুন আর ভট = শূদ্র, আমরা উচ্চবর্ণ আজও উচ্চারণ করি আর্যভট্ট, যা মিথ্যা। এবং ইতিহাস পাল্টাতে তার গলায় পৈতে পরিয়ে দিয়েছে ভারত সরকারের এক মহাকাশ বিদ্যা সংগঠন, ঠিক যেমন করে কালো গ্রিসকে দেখায় না ইওরোপ,আফ্রিকার আলেকজান্ড্রিয়ার অঙ্কবিদেরা সক্কলে ত কালো হওয়ার কথা, অঙ্ক বইতে কেন তাদের চেহারা ককেসাসিয়?) সময় বা তারও আগে থেকে জ্ঞানচর্চা শূদ্রদের পকড় ছিল। যে পকড়ের জোরে বিদ্যা আর জ্ঞানচর্চায় এবং তার ফল উৎপাদন ব্যবস্থায় শূদ্র-বৈশ্য(বাংলায় বৈশ্যরা সেদিন পর্যন্ত শূদ্র ছিল)এবং মুসলমান এবং অন্যান্য পরম্পরার সমাজের দখল। তারই ফল কিছুটা পাই এডামের সমীক্ষায় যেখানে দেখা যায় বাংলা বিহারের ১ লক্ষ গাঁইয়া পাঠশালায় শূদ্র সন্তানের সংখ্যা ৮৫%।
২। এটা দীর্ঘকালে লেগ্যাসি - এবং মোগল এবং নবাবী আমল এতে হাত দিতে চায় নি - আপনি যদি মুঘল বিরোধী আচার্য যদুনাথের এডমিনিস্ট্রেশন পড়েন দেখবেন চাষী আর কারিগর(যারা মূলত শূদ্র)দের রক্ষা করা রাষ্ট্রের ঘোষিত নীতি - নবাবি আমল নিয়ে কয়েক দিন আগে লিখেছি কিভাবে কারিগর আর চাষীদের রক্ষা করতেন নবাবেরা।
৩। এক হাজার বছর ধরে আরব-পারস্য-ভারত-চিনের মিলিত জ্ঞানচর্চায় ইওরোপ নস্যি। সেই শূদ্রভিত্তিক জ্ঞানচর্চায় জেরে বাণিজ্যে আর উৎপাদনে বাংলা ছিল উদ্বৃত্ত অর্থনীতির দেশ। ইওরোপের পঞ্জিকা ছিল এক্কেবারে ভুলে ভরা, পৃথিবীর ব্যাসার্ধের মাপ তখনও দাঁড় করাতে পারে নি, ফলে সমুদ্রে নামলে সে এক যাওয়ার যায়গায় অন্য যায়গায় পৌঁছে যেত - আমেরিকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো আবিষ্কার করতে চায় নি, ওরা আসতে চেয়েছিল ভারতে। মালামো কানা নামক এক গুজরাটি মুসলমান নাবিক হাতে রূপলাগি নামক খেলনা দিগদর্শক যন্ত্র নিয়ে আফ্রিকার মেলিন্দের উপকূলে পথ ভোলা ভাস্কোকে পথ দেখিয়ে না আনলে ইওরোপের ভারতে আসা যে আরও কত দিন পিছত কে জানে, হয়ত ভারতের ইতিহাসটাই পাল্টে যেত চিরতরে। বাংলা-তথা ওডিসা বা গুজরাট বা কোঙ্কণের নাবিকেরা যেখানে যেতে চেয়েছেন সেখানেই গেছেন দিক না ভুলে। এটা শূদ্র জ্ঞানচর্চার জন্যেই।
৪। তো তারা প্রথমে ধর্মযুদ্ধে বুঝল ইওরোপ আরবের থেকে জ্ঞানচর্চায় কতটা পিছিয়ে, ভারতে এসে পর্তুগিজেরা সেটা হাড়ে হাড়ে সেটা টের পেল। ফলে ইওরোপ গোটা এশিয়ায় জ্ঞানচুরির কাজটা করতে হয়েছে দীর্ঘসময় ধরে, যে কাজটা নথিকরণ করেছেন গীতা ধরমপাল পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইটালি এবং অন্যান্য পুরোনো গ্রন্থাগারে ভারতীয় পুঁথির টাল দেখে, যেখানে জেসুইট পাদ্রিদের নথিকরা পুঁথি প্রচুর।
৫। এদেশে ইওরোপকে তার জ্ঞানচর্চার অনুপস্থিত হেজিমনিটা তৈরি করার চেষ্টা করতে হল। তার জন্য তৈরি হল ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়া উচ্চবর্ণ, যারা দীর্ঘকাল ধরে প্রথমত শূদ্র এবং মুসলমান বিদ্বেষী। নবাবেরা তাদের পাশে থাকায় তারা কিছু একটা করে উঠতে পারে নি। ব্রিটিশেরা উচ্চবর্ণের মাথায় হাত রাখল। প্রথমে জ্ঞানচর্চার ফলিত বিদ্যা উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হল, দখল করা হল, বিশ্ব বাজার থেকে বাংলার কারিগরদের উচ্ছেদ করা হল। একে একে বাংলার বেশ কিছু প্রযুক্তি ধ্বংসের কাজ শুরু হল। বাংলার শূদ্র-জ্ঞানচর্চা ধ্বংস করা হল ইওরোপিয় জ্ঞানচর্চার হেজিমনির প্রতীক হিসেবে - সঠিকভাবেই কোপ ফেলা হল বাংলার পাঠশালায় আর নবাবী আমলের মক্তবে। প্রথমে মেকলে ট্রেভলিয়ান পরে ম্যাক্সমুলারকে দিয়ে বলানো হল ভারত এখন অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে আছে, তার বর্ণিল অতীত(উচ্চবর্ণ সঞ্জাত, যা অর্ধসত্য)এর জ্ঞানচর্চা ধ্বংস হয়ে গেছে।
সমস্যা হল যে সময় মেকলে যখন পাইকারি হারে আরবি ভারতীয় জ্ঞানচর্চাকে তুমুল খিস্তি করছেন, সমস্যা হল সেই বছরেই চার্লস উইশ কলনবিদ্যা খুঁজে পেলেন দক্ষিণ ভারতে। তারপর ছাপা হল এশিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায়। চাইলেও সে তথ্যকে আজ আর অস্বীকার করা যাবে না। আজ সে সব লিখিত ইওরোপের ইতিহাসে। বলা যাবে না এটা তোমরা কালোরা তৈরি করেছ নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণে, ইওরোপকে হেয় করতে।
৬। সে ইতিহাস আজও মুখ গুঁজে আছে। এই ইতিহাসের সামনে সব উচ্চবর্ণ পশ্চিমবিদ্যরা মূক।
৭। শূদ্র-বৈশ্য-মুসলমান ছোটলোকেরা জ্ঞানচর্চা, অঙ্ক, কলনবিদ্যা শিখত এবং প্রয়োগ করত, এটা ভদ্রলোকের কাছে দারুণ জ্বালা। এই তত্ত্বে আমাদের ভদ্রদের মাথায় চিনিচিনে ব্যথা, রাগে গা জ্বলে ওঠে মশাই। আমরা ভদ্রশ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা কি কষ্ট করে, পয়সা খরচ করে, মেধা প্র্যোগ করে হায়ারসেকেন্ডারি আর কলেজে উচ্চঅঙ্কর ক্যালকুলাস শিখি। সেটা ছোটলোকেরা কিভাবে সেই আদ্যিকালে কোথায় কোথায় শিখত আর প্রয়োগ করত। শালারা আমাদের শ্রমের খ্যাতিতে, মেধায় ভাগ বসাচ্ছে ভাবলেই রাগে শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে।
৮। তাঁরা কিভাবে শিখতেন এটা আমরা জানি না - চন্দ্রকান্ত রাজুর লেখায় পেয়েছি। চন্দ্রকান্ত রাজু ভারতীয় মতে সাতদিনে কলনবিদ্যা শেখাচ্ছেন বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ে - নাম ক্যালকুলাস উইদাউট লিমিটস - যোগাযোগ করতে পারছি না। খুব শেখার ইচ্ছে।
৯। কেউ সাহায্য করতে পারেন?
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্যগুলি
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর
1
16 ঘণ্টা
পরিচালনা করুন
Dinēśa-Ratna Prabhākara এতে ১০০% সহমত।
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর13 ঘণ্টা
পরিচালনা করুন
Taher Almahdi কলনবিদ্যা কী?
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর9 ঘণ্টা
পরিচালনা করুন
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর8 ঘণ্টা
পরিচালনা করুন
Sadhan Ghosh · 5 জন পারস্পরিক বন্ধু
ভারতীয় মতে সাতদিনে কলনবিদ্যা যেটা ক্যালকুলাস উইদাউট লিমিটস বলা হচ্ছে, বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে |
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর47 মিনিট
পরিচালনা করুন
Biswendu Nanda দেখা যাক। আমরা শিখতে চেষ্টা করছি। চন্দ্রকান্ত রাজুর এই নিয়ে ছোট একটা লেখা আছে নেটে দেখতে পারেন।
লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
প্রত্যুত্তর36 মিনিট