Showing posts with label Dinajpur. Show all posts
Showing posts with label Dinajpur. Show all posts

Wednesday, October 15, 2014

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গমীরা আর খন


এক শহুরে সংস্কৃতি উপস্থাপন করছে আর এক সংস্কৃতি, গ্রামআভিকরশিল্পকে। কলকাতার শহুরে অভিজাত প্রসেনিয়াম নাটকের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে ২০ এবং ২১ অক্টোবর, ২০১৪ সোমবার এবং মঙ্গলবার, সন্ধ্যে ৫.৩০এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনাজপুরের দুই প্রখ্যাত লোকআঙ্গিক মুখোশ নৃত্য গমীরা নৃত্য এবং খন গান(আদতে নাটক)। আন্তর্জাতিক মোখা (মুখোশ) শিল্পী দক্ষিণ দিনাজপুরের গুরু মধুমঙ্গল মালাকার নিয়ে আসছেন নিজের হাতে তৈরি মোখা অবলম্বনে গমীরা নৃত্য, যে নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সারা দিনাজপুর অঞ্চলে বছরভর। উত্তর দিনাজপুরের গুরু গণেশ রবিদাস নিয়ে আসছেন খন গানের লোকসাংবাদিকতার কয়েকশ বছরের রাজবংশী ঐতিহ্য। এই দুটি আঙ্গিককে প্রসেনিয়াম থিয়েটারে উপস্থাপন করতে সাহায্য করেছেন জয়া মিত্র। উতসাহীদের মনে থাকতে পারে প্রায় দু দশক আগে কলকাতার প্রসেনিয়াম মঞ্চে নাচে গানে নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছিল মাধব মালঞ্চী কইন্যা, ভেঙে দিয়েছিল প্রসেনিয়াম নাটক প্রযোজনার সমস্ত রেকর্ড, সেই প্রসেনিয়ামযোগ্য নাটকটিকে কিছুটা ঢালা হয়েছিল খন নাটকের আঙ্গিকে। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহায়তায় প্রায় ৩০ বছর পর কয়েক শ বছরের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করে চলা বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘের দুই নেতৃ স্থানীয় গুরু, দুই লোক আঙ্গিকের দুই সাংস্কৃতিক প্রকাশভঙ্গীকে এমন এক মঞ্চে নিয়ে আসছেন যে মঞ্চে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ অভিনয় করে গিয়েছেন। সোমবার অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। উপস্থিত থাকবেন গায়ক-বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ উপাচার্য অধ্যাপক দিলীপ কুমার সিংহ এবং রাজ্য আকাদেমির প্রাক্তন এবং বর্তমান সচিব শিশির কুমার মজুমদার, হৈমন্তী চট্টোপাধ্যায়, উতপল ঝা এবং আরও অনেকে। থাকবে দিনাজপুরের কুনোরের পোড়ামাটি শিল্পের প্রদর্শনী। বাংলার পারম্পরিক সংস্কৃতির জ্ঞানের সন্ধ্যায় আপনাকে স্বাগত।

Friday, July 11, 2014

দিনাজপুর মালদা ভ্রমণ৬, Organizational Activity At Dinajpur and Malda6

আকুলবালা আর তাঁর জামাই মাধব আর তাঁদের দলের সঙ্গে কথা বলে সেদিন রাতে আমরা মধুদার বাড়ি পৌছালাম।
পরের দিন সকালে গেলাম মালদায়। ক্ষেত্রীয় গান্ধী আশ্রমের দোকানে। আরও অনেক সোসাইটির দোকান বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এদের দুটো খোলা - একটা অতুল মার্কেটে অন্যটা বাজারের দোতলায় । এই মরা বাজারে দুটোই খুব খারাপ ব্যবসা করে না। ৩৫ লক্ষ আর ৫০ লক্ষ টাকার।
পরে গেলাম  পলাশদার দোকানে। শুনলাম আহবান এই সম্পাদক এসেছেন। এক কম বয়সী সুন্দরী, হাওড়ার কোনও কালেজের অধ্যাপিকা, পরম ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখছেন। অনেক কথা হল তাঁর সঙ্গে আর পলাশদার সঙ্গেও। আমরা জানালাম যে যদি মালদার প্রখ্যাতদের নিয়ে একটি মিলন মেলা করা যায় পুজোর পরে, তাহলে কেমন হয়। তিনি সাগ্রহে সমর্থন জানালেন। বললেন তাঁকে অনুষ্ঠানের সময় জানিয়ে দিলে তিনি পরিকল্পনা করে দেবেন।
পলাশদার মত এত ভাল বইএর দোকান আমি কোলকাতায় দেখিনি। তিনি বলছিলেন এই অপাঠ্য বই বিক্রি করে তো আর দোকান চলে না। দেখা যাক আমরা কিভাবে তাঁকে সমর্থন করতে পারি। তাঁর দোকান বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সক্কলের কর্তব্য।
সেখান থেকে গেলাম সুজাপুর। আসলে যেটি কোতোয়ালি নামে পরিচিত। ডায়মন্ড সোসাইটির কেউ ছিলেন না সেই বর্ষণ মুখর দুপরে। তাঁদের সব রয়েছে। কিন্তু নেই কাজ। তাঁরা বাজার থেকে রেশমের কাপড় তুলে নিয়ে বিক্রি করেন।
গেলাম জালালপুরের ক্ষেত্রীয় গান্ধী আশ্রমে যারা মালদার আর রায়গঞ্জের মোত তিনটে দোকান সামলান।
বিপুল পরিকাঠামো। না দেখলে বিশ্বাস হয় না। তাঁদের সঙ্গেও কথা হল। তাঁরা জানালেন হস্ত শিল্প রাখতে তাঁদের কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় আম,অলাদের সমর্থন ছাড়া এ কাজ করা যাবে না।
পরের দিন যাওয়ার কথা বহরমপুরের সমতিতে। জানাগেল তাঁরা কেউ থাকছেন না।
পরের দিন সোজা সকালে বেরিয়ে বাস ধরে রাতে পৌঁছলাম কলকাতা।
রাস্তায় ঠিক হল আমরা সাবান শ্যাম্পু বানাব।
মধুদা বললেন পয়সা জোগাড় হয়ে যাবে। 
আমার আরও প্রস্তাব ছিল গ্রামের পরম্পরার স্বাস্থ্য কর্মীদের তৈরি ব্যাথার তেল বাজার করা।
কলকাতায় এসে আমরা জগুবাজারে বিপ্লব্দের সঙ্গে বৈঠক করলাম। ওরা সাবান আর শ্যাম্পু তৈরির পদ্ধতি বলবে। 
কাল কথা হল সুদেবের সঙ্গে।
সে মোমবাতি করবে। আমরা সাবান। দুজনে মিলে তা খাদির দোকানে আর ওর চেনাশোনা বুটিকে বিক্রি করব।
আর একটা ওয়েব সাইট করব। ই কমার্স। একটি সংগঠন ২৫ হাজার টাকা বাজেত ডীয়েছে। ওরা ফোন করলে মিটিঙের সময় ঠিক হবে।

দিনাজপুর মালদা ভ্রমণ৫, Organizational Activity At Dinajpur and Malda5

তো তার পরে গেলাম আকুলবালাদের সোসাইটিতে। তাঁরা কেন চালাতে পারছেন না তা নিয়ে আলোচনা কাটা ছেঁড়া হল। অরূপদা বললেন তাদের হিসেব নিকেশ সব ঠিক করে রাখতে। ঘর ঝেড়ে ঝুড়ে রাখতে। তাঁতগুলো ঠিক ঠাক করে রাখতে। মিনিটস গুলোও সাফসুতরো করে রাখতে। ওরা বললেন যে আর ধারে কাজ করবেন না। কেউ যদি তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চান, পারেন। অদের ওখানে প্রচুর মুখোশ আর মাটির কাজ পড়ে আছে। সেগুলোও ঠিক ঠাক করে রাখতে বলা হল।







দিনাজপুর মালদা ভ্রমণ৪, Organizational Activity At Dinajpur and Malda4

তাঁর পরে গেলাম শান্তিদির বাড়ি। খুব ভাল কর্মী। বাংলা নাটক ডট কম তাঁকে দিয়ে একটি থালা বানিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সময় লেগেছে দশ দিন। একটাও পয়সা দেয় নি। বলে গিয়েছে অর্ডার হবে। দিদি বাড়ি সারাচ্ছেন। আকুলাবালাদের সোসাইটিতে ইয়াবার সময় কিছুটা শান্তিদির বাড়ি ছুঁয়ে গেলাম।




এই সের থালা







দিনাজপুর মালদা ভ্রমণ৩, Organizational Activity At Dinajpur and Malda3

কুনোর থেকে গেলাম চান্দোল হাটের সুতলি তৈরির কারখানায়। মনে পড়ছিল, সেখানে বছর দেড়েক আগে আমরা বিপুল সফল মেলা করেছিলাম। তো আগের বারে যখন ক্ষিরোদাদির বাড়ি যাই তিনি মিঠুন নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ করিয়েছিলেন। সে তখন ফতেপুরে এক সুতলির কারখানা বসিয়েছে। এবারে শুনলাম সেটিকে সে চান্দোল হাটের কাছে নিয়ে গিয়েছে। গেলাম সেখানে। সুতলি খুব ভাল নয়। আর দেখলাম কলাগাছের সুতলি। খুব খারাপ নয়।


কারখানা সেদিন বন্ধ। খাওয়া দাওয়া হচ্ছে

কারখানা, পাশে মিঠুনদের বাড়ি

ক্ষিরোদাদি তাঁর বর আর অরূপদা


ঐ। গাড়িতে পিছনের আসনে বসে বিশ্বেন্দু। শুধু তাঁর হাত।


মিঠুনদের সুতলি হাতে আরূপদা


কলাগাছের সুতলি পরীক্ষা করা হচ্ছে


শেষ ছবি

দিনাজপুর মালদা ভ্রমণ২, Organizational Activity At Dinajpur and Malda2

সে খান থেকে গেলাম কুনোরে। কুনোর হোল দিনাজপুরের মাটির গ্রাম। পালেরাও করেন সঙ্গে রাজবংশীরাও পোড়ামাটির কাজ করেন। সম্প্রতি ডেভেলাপমেন্ট কন্সালট্যান্ট কর্পোরেট সংগঠনের এনজিও সেখানে কাজ করে তাঁদের পম্পরার দফারফা করে দিয়েছে। করে খাচ্ছেন কয়েক জন। উঠলাম দুলাল রায়ের বাড়ি। দেখলাম তাঁরা আর পোড়াচ্ছেন না। মাটি শুকিয়ে রঙ করে দিচ্ছেন। দুলালের বাড়ি মিটং হল। ছিল তাঁর ছেলেও।



মাটির কাজ না পুড়িয়ে তাতে রঙ করে দেওয়া

নানান জিনিসের সঙ্গে শুকোতে দেওয়া হয়েছে মাটির পরম্পরার কাজ

মেলানো মেশানো কাজ - কিছু নতুন কিছু পুরোন

দুলাল আর তাঁর পুত্র

আর সঙ্গে অরূপদা

ঐ দূরে দেখুন কম্পিউটার

কম্পিউটার কী দেখা যাচ্ছে?

আরো কাছে

অরূপদা সঙ্গে

Thursday, December 12, 2013

কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৯, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-19

আপনাদের জন্য শেষ পাতে আরও কিছু ছবি। এবারে গুরু আর শিষ্য

 






কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৮, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-18

কামারশালের আরও কিছু ছবি
কামারশালের বর্ণনা পরে দেব। কথাবার্তায় আমার যে সব কিছু মনে হয়েছে, তাও লিখব।














কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৭, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-17

 রাস্তার ধারে আরও অজস্র বিশাল দীঘি দেখে, বুহু মানুষ উচ্ছেদ করে, প্রকৃতি ধ্বংস করা, নতুনভাবে কর্পোরেটদের জন্য তৈরি হওয়া ৩৪ নম্বর সড়কের জ্যাম কেটে, মালদার রথবাড়ি সেতু টপকে তৃপ্তি সান্ত্রার বাড়ি পৌঁছলাম সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ। 
যেহেতু গাড়ি ছিল, ঠিক করলাম পরেরদিন আমরা খুনিয়াডাঙ্গির মেয়েদের স্বনির্ভর দলের খেস সহ নানান বোনার পরিকাঠামো দেখতে যাব। আমাদের সঙ্গে ছিল মধুদার ভাস্তা বিশু। তার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির যোগ রয়েছে। তো, আমি মধুদা, বিশু ফিরে এলাম মুস্কিপুরে। 
পরেরদিন সক্কালে গেলাম খুনিয়াডাঙ্গি। ষষ্ঠী আড় গণেশকেও ডেকে নিলাম। 
খুনিয়াডাঙ্গি পৌঁছে আশ্চর্য কিছু জিনিস পেলাম। এর আগে বহুবার খুনিয়াডাঙ্গি গিয়েছি, কিন্তু সবারই সোসাইটিতে, ডাক্তারের ডেরায়। দিল্লির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে এবারে ঠিকই করেছিলাম যে আমরা ডাক্তারকে বাদদিয়ে সমস্ত কাজ করব। সেখানে নামতেই পেয়েগেলাম একটি প্রাচীণ কামারশাল। 
যতক্ষণ না মেয়েদের স্বনির্ভর দলের তাঁত ঘরটি খুলছে, ততক্ষণে গুরু স্মরণ করে কামারশালের কামারের সঙ্গে আড্ডা মারলাম আর মণের সুখে ছবিও তুললাম।