Lokfolk লোকফোক forum of folk লোক tribal আদিবাসী culture সংস্কৃতি of West Bengal পশ্চিমবঙ্গ, বাংলা. LOKFOLK is Bengal বাংলা India's ভারতের traditional পারম্পরিক knowledge system জ্ঞানভাণ্ডার, history ইতিহাস, Indigenous technology প্রযুক্তি. We have two mass bodies গনসংগঠন Bongiyo Paromporik Kaaru O ও Bastro Shilpi Sangho; Bongiyo Paromporik Aavikaar Shilpi Sangho. Journal পত্রিকা, PARAM, পরম. Picture - KaaliKaach কালিকাচ, Dinajpur দিনাজপুর, Madhumangal মধুমঙ্গল Malakar মালাকার
Showing posts with label কলাবতী মুদ্রা. Show all posts
Showing posts with label কলাবতী মুদ্রা. Show all posts
Thursday, November 14, 2019
পলাশী পরের লুঠেরা নবোব - জেমস হোলজম্যান
লেবেলসমূহ:
কলাবতী মুদ্রা,
জেমস হোলজম্যান,
নবোব,
লুঠ
Sunday, January 28, 2018
উপনিবেশপূর্ব চর্চা - ব্রিটিশ-পূর্ব সময় বোঝার ৬টি প্রচেষ্টা ও গবেষণা - পার্থ পঞ্চাধ্যায়ী, বিশ্বেন্দু নন্দ, এবং কলাবতী মুদ্রার নথিকরণ দল
বহুদিনের চেষ্টায় কয়েকটি বই অনুবাদ করাগেল
মুঘল আমল এবং সার্বিকভাবে ব্রিটিশপূর্ব সময় বোঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি বই-
*** মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন
*** এনেকডোটস অফ আওরঙ্গজেব - আহকমইআলমগিরি
*** লাইফ অব মীর জুমলা
*** উনবিংশ এবং বিংশ শতে রাষ্ট্র এবং দেশজ চিকিৎসা ব্যবস্থা ১৮০০-১৯৪৭
*** ইন্ডিয়ান টিচার্স অব বুদ্ধিস্ট ইউনিভার্সিটি
*** পলাশী পূর্ব পঞ্চাশ বছরের বাংলার সমাজ, অর্থনীতি, কৃষ্টি - একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গী
*** গরীব কাহারে কয়, উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব - আর্তুরো এসকোবার
*** দ্বিতীয় ইতিহাসঃ লুঠেরা ইংরেজ, সাথী মধ্যবিত্ত, সাংস্কৃতিক গণহত্যা, গ্রামীন স্বাধীনতা সংগ্রাম
পরিচিতি
১) যদুনাথ সরকার রচিত মুঘল এডমিনিস্ট্রেশন - আচার্য মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থা স্পষ্ট বিবৃত করেছেন - মুঘলদের সম্বন্ধে নানান ধরণের ভুল ধারণা এই বইটি দূর করতে সাহায্য করবে। এ ছাড়াও মুঘল আমলে সব থেকে বেশি লালন পালন পেত দুটি পেশা কৃষক আর কারিগর - কারণ তারা জানতেন এরা মুঘল সাম্রাজ্যকে খাওয়ায় পরায় - এই ধারনাটিও পরিষ্কার হবে। ব্রিটিশরাই এদেশের উধারকর্তা এই ধারণার মূলে কুঠারাঘাত করবে এই বইএর গভীর অধ্যয়ণ, যদিও আচার্যের উদ্দেশ্য তা ছিল না বলেই মনে হয়।
২) যদুনাথ সরকার অনুদিত আহকমইআলমগিরির ইংরেজি অনুবাদ এনেকডোটস অফ আওরঙ্গজেবএর বাংলা অনুবাদ আওরঙ্গজেবের উপাখ্যান। মূল রচনা হামিদুদ্দিন খাঁ বাহাদুর। বাদশা আলমগিরের পারিবারিক, বৈদেশিক যোগাযোগ, তার কঠোরতা-কোমলতা, তার অনন্যতা, তিন ভায়ের মধ্যে তার বীরত্ব কাহিনী এবং মুঘল রাজত্বের নানান সুস্বাদু অজানা কাহিনী মানুষটাকে নতুন করে, নতুন ভাবে চিনতে সাহায্য করবে।
৩) জগদীশ নারায়ণ সরকারের লাইফ অব মীর জুমলা। আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার দাক্ষিনাত্যের প্রশাসন, তার বিপুল হীরের খনি, ইওরোপিয়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, সুজার বিরুদ্ধে আক্রমনে বাংলায় নৌকোর রণনীতি সজ্জা - যে খান থেকে ব্রিটিশদের পন্টুন ব্রিজের ধারণা চুরি এবং সব শেষে অসম আক্রমণ ও মৃত্যু এই বইটির উপজীব্য। ঔরঙ্গজেবের সময় দাক্ষিনাত্য এবং বাংলা-অসমের উদ্বৃত্ত অর্থনীতির ঝলক পাওয়া যায় এই বইটিতে।
৪) পুনম বালার উনবিংশ এবং বিংশ শতে রাষ্ট্র এবং দেশজ চিকিৎসা ব্যবস্থা ১৮০০-১৯৪৭ - পুণম বালা - তিনি গবেষণার কাজটা করেছিলেন নবাবি আমল শেষে ব্রিটিশ আমলের শুরু থেকে ভারত ভাগ পর্যন্ত ব্রিটিশ বাংলার চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থার তুলনামূলক বর্ণনা।এই সময়টা জানা প্রয়োজন কারণ সে সময় আয়ুর্বেদ আর হেকিমি চিকিৎসা ব্যবস্থার কি হালত ছিল জানতে।বিশেষ করে কখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পশ্চিমি চিকিৎসা ব্যবস্থা থানা গেড়ে বসল, তা জানাটাও জরুরি ছিল যেহেতু আমরা দেশজ চিকিতসা ব্যবস্থা প্রসারে উৎসাহী। এখানে তিনি আয়ুর্বেদ এবং ইউনানির ইতিহাসও সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
৫) ইন্ডিয়ান টিচার্স অব বুদ্ধিস্ট ইউনিভার্সিটি - ফণীন্দ্র নাথ বোস
সুলতানি আমলের আগে ভারতে আর তিব্বতে বাংলা তথা ভারতীয় শিক্ষাবিদ আর বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘকাল ধরে বাংলা জুড়ে একটা ধারণা ছড়িয়েছিল বাংলার টোল ব্যবস্থা ছিল উচ্চবর্ণ চভিত্তিক।অথচ ১৮৩৬ সালের উইলিয়াম এডাম শিক্ষা সমীক্ষায় আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্রামে অনুচ্চবর্ণই প্রধাণত এই শিক্ষা ব্যবস্থার ধারক-বাহক ছিলেন। ফলে তার আগের প্রাতিষ্ঠনিক বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থাটা কেমন ছিল সেটা জানাও জরুরি। এডাম সমীক্ষায় জনগণের সমীক্ষা ছিল বিকেন্দ্রিভূত - অথচ রাষ্ট্র দ্বারা পোষিত বৈদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা যে চরম কেন্দ্রিভূত ও রাজানুগ্রাহি ছিল সেটাও এই বইএর রচনায় ভেসে ওঠে।
৬) পলাশীর পূর্বে ৫০ বছরে বাংলা সুবা - এই ধারাবাহিক লেখাটা আমাদের মত আবাল-ছাবালদের জন্য - আমরা যারা ইতিহাসে পাতিহাঁস, ভূগোলেতে গোল তাদের খোরাকের জন্য এটা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর কিছুটা আগের সময় থেকে বাংলার উপনিবেশের শুরুর সময় পর্যন্ত একটা ধারাবাহিক ইতিহাস আমাদের মত গোলা মানুষদের জানা দরকার। আমাদের কাজ যেহেতু বাংলার লুঠ এবং পলাশীর আগের বৈশ্য-শূদ্র-মুসলমান এবং অন্যান্য পরম্পরার পরম্পরার সমাজ যে উদ্বৃত্ত বাংলা তৈরি করেছিল, তাকে জানা, সেহেতু আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পরের ৫০ বছরের সময় জানা এবং জানানো প্রয়োজন ছিল। অব্যবহিত ব্রিটিশপূর্ব সময় জানা বোঝা না গেলে এই কর্পোরেট ব্যবস্থার বদলে কোন উৎপাদন ব্যবস্থা কেন চাইছি, কেন আমরা বারবার বলছি ১১৬৫/১৭৫৭র আগে আমরা ফিরে যেতে চাইছি সে তত্ত্বটা বোঝানো সম্ভব নয়।
৭) গরীব কাহারে কয়, উন্নয়নের বিশ্ব রাজনীতি তত্ত্ব - আর্তুরো এসকোবার
এনকাউন্টারিং ডেভেলাপমেন্টঃ দ্য মেকিং এন্ড আন্মেকিং অব দ্য থার্ড ওয়ার্লড বই থেকে অনুবাদের কাজ চলছে। এসকোবার দেখাবার চেষ্টা করেছেন কিভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে সারা বিশ্বে বড় পুঁজি উন্নয়ন নামক নব্য উপনিবেশবাদ কায়েম করেছে জাতিরাষ্ট্র আর পশ্চিমি বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে।
---
এছাড়াও
৮) দ্বিতীয় ইতিহাসঃ লুঠেরা ইংরেজ, সাথী মধ্যবিত্ত, সাংস্কৃতিক গণহত্যা আর গ্রামীন স্বাধীণতা সংগ্রাম
এখানে বাংলার লুঠ, পলাশীর পর স্বাধীনতার লড়াই, নবজাগরণকে নতুন করে দেখা, সাংস্কৃতিক দাসত্ব ইত্যাদির চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৮০০ সালের পরে রামমোহন-দ্বারকানাথ জুটির রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক দাসত্ব, গ্রামীন স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি আলালেরা কিভাবে ব্রিটিশদের সঙ্গে মিলে দেশিয় কাঠামো ধ্বংসের কাজ করছিল, ইত্যাদির ব্যাখ্যান।
---
লেখা, অনুবাদের সময় ফেসবুকে যারা এই নালায়ককে প্রতিনিয়ত সঙ্গ দিয়েছেন, যারা এই পল্লবগ্রাহীকে টেনে শেকড়ে গুঁজে রাখতে পেরেছেন তাদের অসম অধ্যাবসায়ে, তাদের সক্কলকে শ্রদ্ধাভরা প্রণাম, ভালবাসা। যারা এগুলি পড়ে মন্তব্য করেছেন, যারা পড়েন নি, যারা অযাচিতভাবে আমার ভুল শুধরে দিয়েছেন, তাদের সক্কলকেই আমার প্রণাম সালাম।
সক্কলে সুস্থ থাকুন।
আর আমাদের মাথায় হাত রাখুন।
Sunday, November 26, 2017
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় - একটি সুখকর অভিজ্ঞতা
হেরিটেজ ক্রুজে বাঙলা তথা ভারতের পরম্পরা
আমাদের জীবনের অধিকাংশ সময়ই জোড়াতালি দিয়ে চালাবার মত করে এগিয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে এক্কাদোক্কা সময় এসে বন্ধুদের সঙ্গে ভাল কিছু ঘটা ঘটনার গল্প ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ ঘটে। ঠিক তেমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল চার বছর আগে, আবার গত কালই। প্রায় একই ধরণের কিছুটা।
কলাবতী মুদ্রার একটা নাচের দল আছে। আমরা মূলত ভারতের পুরোনো নাচগুলি, যাকে ঔপনিবেশিক ভাষায় ধ্রুপদী বলা হয় আর অধিকাংশ গ্রামীন নাচ যাদেরকে লোক বা আদিবাসী নৃত্য বলা হয়, সেগুলি দেখিয়ে থাকি। ভারতের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সেই সমাজের মানুষদের থেকে সেগুলি সংগ্রহ করে এবং দেখাই।
তো বছর চারেক আগে হেরিটেজ গঙ্গা ক্রুজ নামে একটি বাংলার গঙ্গা ধরে নানান স্থান দেখানোর একটি জাহাজে বেড়াতে আসা বিদেশিদের দলগুলিকে বাঙলা তথা ভারতের পরম্পরার নাচ দেখানোর জন্য বরাত পাই। কোন কিছুই না জেনে জাহাজে অনুষ্ঠানের জন্য গেলে দেখা গেল তারা চাইছেন চটুল নৃত্য 'বলিউডি' - কেউ কেউ যেচে এসে শুনিয়ে গেলেন এর আগে কয়েকজন মহিলা শুধু গোপন অঙ্গ ঢেকে চকমকে পোষাকে নাচ করতেন। আমাদের মন খারাপ। কিন্তু আমরা আমাদেরই পরিকল্পনার ডেঁটে থেকে রবীন্দ্র নৃত্য থেকে বাঙলার গ্রাম হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নাচ দেখালাম। তাঁর পের ঘটনা অন্তত আমাদের কাছে ইতিহাস - এত ভাল অনুষ্ঠান এর আগে নাকি আর হয় নি। আজ, চার বছর পরে তাঁদের আরও দুটো জাহাজ যোগ হয়েছে, দুটোতেই আমাদের দল নাচ করছি।
মাঝে মধ্যে চটুল নাচ করার যে চাপ আসে নি বলব না, কিন্তু আমরা অনড় থেকেছি। বলেছি, এটা হেরিটেজ ক্রুজ। যে বিদেশিরা বাংলায় ঐতিহ্যের সন্ধানে আসেন, তাদের সেটাই দিন। মুখ মুড়ে, তেতো খাওয়ার মত করে তারা মেনেও নিতেন। কেননা অতিথিরা সেগুলিই পছন্দ করতেন।
গত কালও আমাদের অনুষ্ঠান ছিল বোটানিক্যাল গার্ডেন জেটিতে - আমাদের দলের প্রত্যেক জন নৃত্যাঙ্গনা নাচ নিয়েই পড়াশোনা করেছেন। একজন তো গবেষনাও করেছেন - দুটি নৃত্য শৈলী নিয়ে।
তো আমরা দাবি করেছিলাম আমাদের প্রাচীন নাচগুলী দেখানো হোক। ওরা কেমন যেন রাজি হয়ে গেলেন। একটু ভয়ে ভয়েই ভারতনাট্যম, কথক, ওডিশি আর মণিপুরীর কিছু মৌলিক অঙ্গভঙ্গীমা আর হস্তমুদ্রা দেখালাম। হাততালি আর থামতে চায় না। ৫২ জনের দলের প্রত্যেকে এসে কলাবতী মুদ্রার নৃত্যাঙ্গনাদের সঙ্গে সানন্দে ছবি তুললেন।
এবার থেকে কর্তৃপক্ষ বিনীতভাবে চাইছেন আমরা অনুষ্ঠানে যদি আমাদের পরম্পরার কিছু নাচ নাচি - সঙ্গে সেগুলি বর্ণনা করে দিই।
'যতই হোক হেরিটেজ ক্রুজ!'
লেবেলসমূহ:
কলাবতী মুদ্রা,
হেরিটেজ ক্রুজ
Monday, September 26, 2016
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাবতী মুদ্রার যৌথ ব্যবস্থাপনায় এবং ভারতীয় মানববিজ্ঞানসর্বেক্ষণের সহায়তায় গ্রামচর্চা সম্মেলন
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, ৬, ৭ আশ্বিন ১৪২৩
বন্ধুরা, আমরা কলাবতী মুদ্রা, বা বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘ, বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সঙ্ঘর সদস্যরা প্রায় চার বছর ধরে বাঙলার গ্রাম বিষয়ক জ্ঞানচর্চা বিষয়ে সম্মেলন আয়োজনের স্বপ্ন দেখতাম। বহু সংগঠনের সঙ্গে কথা হয়েছে, অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সে কাজটি বাস্তবে আয়োজিত করা যায় নি, যতদিন না রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় আর ভারতীয় মানববিজ্ঞানসর্বেক্ষণ এক যোগ হয় নি কলাবতী মুদ্রার প্রস্তাবনায়।
প্রায় মাস চারেক আগে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বঙ্গরত্ন অনিল ভুইমালিকে এ বিষয়ে সকুন্ঠিত প্রস্তাব দিতে তিনি এক কথায় রাজি হয়ে যান। তার কিছু পরে কলকাতায় ভারতীয় মানব বিজ্ঞান সর্বেক্ষণের পূর্বাঞ্চলের উপনির্দেশক কাকলি চক্রবর্তী প্রস্তাবের পরিকল্পনা শুনে জানান, এই সম্মেলনে তারা আহারের বন্দোবস্ত করে দিতে পারেন - বাকি খরচ উদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে কলাবতী মুদ্রা বক্তা হিসেবে প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, সম্প্রীত চক্রবর্তী, সৌমিক মুখার্জী, অনুপম পাল এবং বাংলাদেশের অধ্যাপক গবেষক শাহিনুর রহমান টুটুলকে রাজি করায় তাঁদের কাজের কথাগুলি তুলে ধরার জন্য। জয়া মিত্র ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য যেতে পারেন নি। আর শাহিনুর অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে পারেন নি - কিন্তু লেখা ও ছবি পাঠিয়েছিলেন, সেটি বিতরণ করা হয়।
তো এই আশ্বাসে বুক বেঁধে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় নিবন্ধক ড পঙ্কজ কুণ্ডু এবং সহ নিবন্ধক মাননীয় নির্ঝর সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় এবং অধ্যাপক দীপক বর্মন এবং কলাবতী মুদ্রার লেখক এবং সাংবাদিক সুনীল চন্দ আর কলাবতী মুদ্রার অছি সদস্য মধুমঙ্গল মালাকারের প্রচণ্ড খাটাখাটনিতে এই দুদিনের (প্রাথমিকভাবে কথা ছিল দেড় দিনের; পরে দেখা গেল তা পুরো দু দিন টানতে হল) সম্মেলনটি পরিকল্পনা করা হতে শুরু করল। সম্মেলনের সংবাদ পেয়ে বাংলা জুড়ে বহু গবেষক, অধ্যাপক, চর্চাকারীও তাদের গবেষণালব্ধ উপলব্ধি উপস্থিত করার আগ্রহ জানানোয়, মূল তিনটি পর্বের সঙ্গে আরও তিনটি পর্ব যোগ করতে হল।
শুরুর দিন মাননীয় উপাচার্য মহাশয় অনিল ভুইমালি, নিবন্ধক মাননীয় ড পঙ্কজ কুণ্ডু এবং সহ নিবন্ধক মাননীয় নির্ঝর সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির দুই সদস্য মাননীয় ড তাপস মোহান্ত এবং মাননীয় ড অশোক দাস আর মধুমঙ্গল মালাকারের উপস্থিতিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। শুরুর ভাষণ দেন উপাচার্য মহাশয় এবং বলেন বিশ্ববিদ্যালয় আগামি দিনে গ্রামীনচর্চার ওপর জোর দেবে। গ্রামীন প্রযুক্তি বিষয়ে তাঁরা প্রথমে একটি কম সময়ের প্রশিক্ষণ এবং পরে দুবছরের পাঠ্যক্রম আয়জনের কথা ভাবছেন। তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকবৃন্দ সম্মেলনের আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানান।
৬ আশ্বিন, শুরু হল গ্রামচর্চা সম্মেলন। একটি নতুন শব্দ, নতুন অইওরোপিয় অভিধায় গ্রামকে দেখার চেষ্টার প্রচেষ্টা। অন্তত দুশ দর্শক, অংশগ্রহনকারীর উপস্থিত ছিলেন প্রথম দিনে, দ্বিতীয় দিনে প্রায় অরররধেক হয়। বলা দরকার বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘ আর বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সংঘের ৫০ জনের কাছাকাছি সদস্য প্রথম দিন সারাদিন প্রায় উপস্থিত ছিলেন। সংঘের যুবা সদস্যরা খুব সক্রিয় ছিলেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকোত্তর শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যক্রমের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। তাদের অবদান ভোলার নয়।
আরও বলা দরকার শ্রোতাদের সক্রিয় সহযোগিতায় এবং উদ্যমে আর উত্তপ্ত তাত্ত্বিক বিতর্কে এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয় - বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় মূলপর্বে লোক সংস্কৃতি বনাম গ্রামচর্চা বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের মাননীয় সহকারী জেলাশাসক অমল রায়, দীপঙ্কর দে এবং বিশ্বেন্দু নন্দের উচ্চগ্রামের মতান্তরী বিতর্ক বহু মানুষকে এ বিষয়ে আগামী দিনে আরও গভীরে যেতে ভাবাবে।
উদ্যোক্তা, কলাবতী মুদ্রার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহাশয়ের নেতৃত্বে প্রত্যেকজন কর্মী, রায়গঞ্জ শহর এবং দুই দিনাজপুরের নানান উতসাহী আলোচন শ্রোতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, সংঘের সদস্যদেরকে শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা জানানো গেল।
বন্ধুরা, আমরা কলাবতী মুদ্রা, বা বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘ, বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সঙ্ঘর সদস্যরা প্রায় চার বছর ধরে বাঙলার গ্রাম বিষয়ক জ্ঞানচর্চা বিষয়ে সম্মেলন আয়োজনের স্বপ্ন দেখতাম। বহু সংগঠনের সঙ্গে কথা হয়েছে, অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু সে কাজটি বাস্তবে আয়োজিত করা যায় নি, যতদিন না রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় আর ভারতীয় মানববিজ্ঞানসর্বেক্ষণ এক যোগ হয় নি কলাবতী মুদ্রার প্রস্তাবনায়।
প্রায় মাস চারেক আগে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বঙ্গরত্ন অনিল ভুইমালিকে এ বিষয়ে সকুন্ঠিত প্রস্তাব দিতে তিনি এক কথায় রাজি হয়ে যান। তার কিছু পরে কলকাতায় ভারতীয় মানব বিজ্ঞান সর্বেক্ষণের পূর্বাঞ্চলের উপনির্দেশক কাকলি চক্রবর্তী প্রস্তাবের পরিকল্পনা শুনে জানান, এই সম্মেলনে তারা আহারের বন্দোবস্ত করে দিতে পারেন - বাকি খরচ উদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে কলাবতী মুদ্রা বক্তা হিসেবে প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, সম্প্রীত চক্রবর্তী, সৌমিক মুখার্জী, অনুপম পাল এবং বাংলাদেশের অধ্যাপক গবেষক শাহিনুর রহমান টুটুলকে রাজি করায় তাঁদের কাজের কথাগুলি তুলে ধরার জন্য। জয়া মিত্র ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য যেতে পারেন নি। আর শাহিনুর অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসতে পারেন নি - কিন্তু লেখা ও ছবি পাঠিয়েছিলেন, সেটি বিতরণ করা হয়।
তো এই আশ্বাসে বুক বেঁধে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় নিবন্ধক ড পঙ্কজ কুণ্ডু এবং সহ নিবন্ধক মাননীয় নির্ঝর সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় এবং অধ্যাপক দীপক বর্মন এবং কলাবতী মুদ্রার লেখক এবং সাংবাদিক সুনীল চন্দ আর কলাবতী মুদ্রার অছি সদস্য মধুমঙ্গল মালাকারের প্রচণ্ড খাটাখাটনিতে এই দুদিনের (প্রাথমিকভাবে কথা ছিল দেড় দিনের; পরে দেখা গেল তা পুরো দু দিন টানতে হল) সম্মেলনটি পরিকল্পনা করা হতে শুরু করল। সম্মেলনের সংবাদ পেয়ে বাংলা জুড়ে বহু গবেষক, অধ্যাপক, চর্চাকারীও তাদের গবেষণালব্ধ উপলব্ধি উপস্থিত করার আগ্রহ জানানোয়, মূল তিনটি পর্বের সঙ্গে আরও তিনটি পর্ব যোগ করতে হল।
শুরুর দিন মাননীয় উপাচার্য মহাশয় অনিল ভুইমালি, নিবন্ধক মাননীয় ড পঙ্কজ কুণ্ডু এবং সহ নিবন্ধক মাননীয় নির্ঝর সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির দুই সদস্য মাননীয় ড তাপস মোহান্ত এবং মাননীয় ড অশোক দাস আর মধুমঙ্গল মালাকারের উপস্থিতিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। শুরুর ভাষণ দেন উপাচার্য মহাশয় এবং বলেন বিশ্ববিদ্যালয় আগামি দিনে গ্রামীনচর্চার ওপর জোর দেবে। গ্রামীন প্রযুক্তি বিষয়ে তাঁরা প্রথমে একটি কম সময়ের প্রশিক্ষণ এবং পরে দুবছরের পাঠ্যক্রম আয়জনের কথা ভাবছেন। তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকবৃন্দ সম্মেলনের আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানান।
৬ আশ্বিন, শুরু হল গ্রামচর্চা সম্মেলন। একটি নতুন শব্দ, নতুন অইওরোপিয় অভিধায় গ্রামকে দেখার চেষ্টার প্রচেষ্টা। অন্তত দুশ দর্শক, অংশগ্রহনকারীর উপস্থিত ছিলেন প্রথম দিনে, দ্বিতীয় দিনে প্রায় অরররধেক হয়। বলা দরকার বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘ আর বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সংঘের ৫০ জনের কাছাকাছি সদস্য প্রথম দিন সারাদিন প্রায় উপস্থিত ছিলেন। সংঘের যুবা সদস্যরা খুব সক্রিয় ছিলেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকোত্তর শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যক্রমের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। তাদের অবদান ভোলার নয়।
আরও বলা দরকার শ্রোতাদের সক্রিয় সহযোগিতায় এবং উদ্যমে আর উত্তপ্ত তাত্ত্বিক বিতর্কে এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয় - বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় মূলপর্বে লোক সংস্কৃতি বনাম গ্রামচর্চা বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের মাননীয় সহকারী জেলাশাসক অমল রায়, দীপঙ্কর দে এবং বিশ্বেন্দু নন্দের উচ্চগ্রামের মতান্তরী বিতর্ক বহু মানুষকে এ বিষয়ে আগামী দিনে আরও গভীরে যেতে ভাবাবে।
উদ্যোক্তা, কলাবতী মুদ্রার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহাশয়ের নেতৃত্বে প্রত্যেকজন কর্মী, রায়গঞ্জ শহর এবং দুই দিনাজপুরের নানান উতসাহী আলোচন শ্রোতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, সংঘের সদস্যদেরকে শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা জানানো গেল।
লেবেলসমূহ:
কলাবতী মুদ্রা,
গ্রামচর্চা সম্মেলন,
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়
Thursday, July 9, 2015
Nilambori Saree, নীলাম্বরী শাড়ি
মায়ের পেটে থাকা অবস্থা থেকে শুনে আসছি করতে হবে, দিতে হবে - কিন্তু কে
করবে, কেই বা দেবে? আমরা কলাবতী মুদ্রা, বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র
শিল্পী সংঘ - একটি চাঁদা দিয়ে চালানো ছোট গ্রাম উদ্যমীদের সংগঠন নিজেদের
সদস্যদের উদ্যমে এই হাতে কাটা সুতো, ঠকঠকি তাঁত আর প্রাকৃতিক রঙে চোবানো
শাড়ি তৈরির সামাজিক উদ্যম বাস্তবায়িত করেছি বিগত কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত
প্রচেষ্টায় - তাঁতিপাড়া ফুলিয়ায়।
এই কাজ শুধু অতীতকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার অতীত বিলাসী উদ্যম নয়। এটি আদতে নিজের দেশের মানুষের সমাজের যে দক্ষতা - বাংলার তাঁতিরা নিজের উদ্ভাবনী শক্তির যে অক্লান্ত নজির পেশ করেছিল সারা বিশ্বে, যাকে বড় পুঁজি ধ্বংস করেছিল নিজের স্বার্থে, তাকে ফিরিয়ে এনে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করা।
আজ বাংলার তাঁতি পাড়ার সব থেকে বড় সমস্যা কিন্তু তাঁতিদের দক্ষতা ফিরিয়ে দেওয়া নয় - এটা ভারত সরকারের এনএসডিসির ট্রেনিং প্রোগ্রাম নয় - যে প্রোগ্রাম মানুষকে কর্পোরেটের চাকুরে করে তোলে - সেই দক্ষতাটা তাঁদের আজও রয়েছে। প্রয়জন নষ্ট ধংস করে দেওয়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
ফুলিয়াতে কেন আজ পশ্চিমবঙ্গের কোনো তাঁতি পাড়ায় এই নিজস্ব পরিকাঠামো অমিল - নির্ভর করতে হয় মিলের রঙ সুতোর উতপাদনের ওপর - দিনের পর দিন পরিকাঠামো নেই বলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের কদর কমছে - তারা নেই হয়ে যাচ্ছেন - মারা যাচ্ছেন - তাঁদের সঙ্গে দক্ষতারও কবর হচ্ছে।
আজ নীল গাছের চাষ হয় শুধু দক্ষিণ ভারতে। প্রাকৃতিক নীলের বিপুল দাম। দুটি কোম্পানি তৈরি করে। কিলো ৩৫০০ টাকা। একটা নীলাম্বরী শাড়ি রঙ করতে প্রয়োজন হয় অন্তত ২৫০ গ্রাম প্রাকৃতিক নীল। ফলে এখানেই দিন পাঁচেকের শ্রমের মূল্য ছাড়াই একটা শাড়ির দাম জুড়ে গেল ১০০০টাকার কাছাকাছি।
খুব ঘুরে ঘুরে চরকা কাটুনিদের খুঁজে খুঁজে বার করেছি সাঙ্গঠনিক ভাবে - মধ্যবিত্ত সমাজ তাঁদের কাজের সম্মান দেননা - বোঝেন না বিষয়টা। সেই সুতো তৈরির পরিকাঠামো নেই হয়ে গিয়েছে প্রায়। কিন্তু দক্ষতা রয়েছে - সেই দক্ষতা আজও বড় পুঁজির পশ্চিমি যন্ত্র আর্জন করতে পারে নি। যে সুতো মিল তেরি করতে পারে না, সে সুতো আজও চরকা কাটুনিরা করে দিতে পারেন অবহেলে - সে যে কি পরিমান দক্ষতা তা না দেখলে বোঝানো যাবে না।
রঙ করাও একটা দক্ষতা। সেটা আজ দুতিনজনের আছে।
আজ এই দক্ষতাগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে গোটা তাঁতি পাড়ায়, সারা পশ্চিমবঙ্গে।
নানান বিরোধ সত্ত্বেও বিশ্ববঙ্গ নিয়ে বাংলা সরকারের এই উদ্যোগ আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করি।
কয়েক দিন আগে ফুলিয়ায় তাঁতিদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করি যে আমরা নিজেরা নীল চাষ করব। শুধু নীল চাষ করলেই হয় না, গাছ থেকে নীল রঙ বের করা খুব শ্রম সাধ্য এবং দক্ষতা সাধ্য কাজ। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা ধান্য গবেষণা কেন্দ্রর শ্রী অনুপম পালের সঙ্গে কথা বলি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই চাষ করতে তিনি তাঁতিদের সাহায্য করবেন।
এই সমস্ত কাজ করতে গিয়ে দেখছি, এটা আমাদের মত চাঁদা দিয়ে সংগঠন চালানো সংগঠনের ক্ষমতার আতীত হয়ে যাচ্ছে।চাই আপনাদের সক্রিয় সমর্থন। তবেই বাংলার তাঁতিপাড়াগুলোর নিজস্ব পরিকাঠামো বাড়বে। নিজেদের উতপাদনের ওপর নিজেদের সমাজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে। নতুনতরভাবে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই করার একটা হাতিয়ার ফিরে পাওয়া যাবে।
এ সব বিষয়ে আপনাদের সাহায্য চাই। নষ্ট ধ্বংস করে দেওয়া পরিকাঠামো তৈরি করাই আজকের প্রাথমিক কাজ - এ কাজ সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। শুধু অর্থ সাহায্য নয় নানাবিধ ভাবনাও তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস বাড়িয়েছে প্রথম দফায় তৈরি করা শাড়িগুলি বিপুল দাম সত্ত্বেও বিক্রি করতে পেরে। পরের দফায় উতপাদনের দাম কমেছে। দেখা যাক।
এই কাজ শুধু অতীতকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার অতীত বিলাসী উদ্যম নয়। এটি আদতে নিজের দেশের মানুষের সমাজের যে দক্ষতা - বাংলার তাঁতিরা নিজের উদ্ভাবনী শক্তির যে অক্লান্ত নজির পেশ করেছিল সারা বিশ্বে, যাকে বড় পুঁজি ধ্বংস করেছিল নিজের স্বার্থে, তাকে ফিরিয়ে এনে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করা।
আজ বাংলার তাঁতি পাড়ার সব থেকে বড় সমস্যা কিন্তু তাঁতিদের দক্ষতা ফিরিয়ে দেওয়া নয় - এটা ভারত সরকারের এনএসডিসির ট্রেনিং প্রোগ্রাম নয় - যে প্রোগ্রাম মানুষকে কর্পোরেটের চাকুরে করে তোলে - সেই দক্ষতাটা তাঁদের আজও রয়েছে। প্রয়জন নষ্ট ধংস করে দেওয়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
ফুলিয়াতে কেন আজ পশ্চিমবঙ্গের কোনো তাঁতি পাড়ায় এই নিজস্ব পরিকাঠামো অমিল - নির্ভর করতে হয় মিলের রঙ সুতোর উতপাদনের ওপর - দিনের পর দিন পরিকাঠামো নেই বলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের কদর কমছে - তারা নেই হয়ে যাচ্ছেন - মারা যাচ্ছেন - তাঁদের সঙ্গে দক্ষতারও কবর হচ্ছে।
আজ নীল গাছের চাষ হয় শুধু দক্ষিণ ভারতে। প্রাকৃতিক নীলের বিপুল দাম। দুটি কোম্পানি তৈরি করে। কিলো ৩৫০০ টাকা। একটা নীলাম্বরী শাড়ি রঙ করতে প্রয়োজন হয় অন্তত ২৫০ গ্রাম প্রাকৃতিক নীল। ফলে এখানেই দিন পাঁচেকের শ্রমের মূল্য ছাড়াই একটা শাড়ির দাম জুড়ে গেল ১০০০টাকার কাছাকাছি।
খুব ঘুরে ঘুরে চরকা কাটুনিদের খুঁজে খুঁজে বার করেছি সাঙ্গঠনিক ভাবে - মধ্যবিত্ত সমাজ তাঁদের কাজের সম্মান দেননা - বোঝেন না বিষয়টা। সেই সুতো তৈরির পরিকাঠামো নেই হয়ে গিয়েছে প্রায়। কিন্তু দক্ষতা রয়েছে - সেই দক্ষতা আজও বড় পুঁজির পশ্চিমি যন্ত্র আর্জন করতে পারে নি। যে সুতো মিল তেরি করতে পারে না, সে সুতো আজও চরকা কাটুনিরা করে দিতে পারেন অবহেলে - সে যে কি পরিমান দক্ষতা তা না দেখলে বোঝানো যাবে না।
রঙ করাও একটা দক্ষতা। সেটা আজ দুতিনজনের আছে।
আজ এই দক্ষতাগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে গোটা তাঁতি পাড়ায়, সারা পশ্চিমবঙ্গে।
নানান বিরোধ সত্ত্বেও বিশ্ববঙ্গ নিয়ে বাংলা সরকারের এই উদ্যোগ আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করি।
কয়েক দিন আগে ফুলিয়ায় তাঁতিদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করি যে আমরা নিজেরা নীল চাষ করব। শুধু নীল চাষ করলেই হয় না, গাছ থেকে নীল রঙ বের করা খুব শ্রম সাধ্য এবং দক্ষতা সাধ্য কাজ। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা ধান্য গবেষণা কেন্দ্রর শ্রী অনুপম পালের সঙ্গে কথা বলি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এই চাষ করতে তিনি তাঁতিদের সাহায্য করবেন।
এই সমস্ত কাজ করতে গিয়ে দেখছি, এটা আমাদের মত চাঁদা দিয়ে সংগঠন চালানো সংগঠনের ক্ষমতার আতীত হয়ে যাচ্ছে।চাই আপনাদের সক্রিয় সমর্থন। তবেই বাংলার তাঁতিপাড়াগুলোর নিজস্ব পরিকাঠামো বাড়বে। নিজেদের উতপাদনের ওপর নিজেদের সমাজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে। নতুনতরভাবে বড় পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই করার একটা হাতিয়ার ফিরে পাওয়া যাবে।
এ সব বিষয়ে আপনাদের সাহায্য চাই। নষ্ট ধ্বংস করে দেওয়া পরিকাঠামো তৈরি করাই আজকের প্রাথমিক কাজ - এ কাজ সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। শুধু অর্থ সাহায্য নয় নানাবিধ ভাবনাও তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস বাড়িয়েছে প্রথম দফায় তৈরি করা শাড়িগুলি বিপুল দাম সত্ত্বেও বিক্রি করতে পেরে। পরের দফায় উতপাদনের দাম কমেছে। দেখা যাক।
লেবেলসমূহ:
Fulia,
Nilambori Saree,
কলাবতী মুদ্রা,
নীলাম্বরী শাড়ি,
ফুলিয়া
Thursday, December 12, 2013
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৭, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-17
লেবেলসমূহ:
Dinajpur,
Kalaboti Mudra,
khuniyadangi,
North Bengal Tour13,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
দিনাজপুর,
মালদা
Wednesday, December 11, 2013
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৬, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-16
লেবেলসমূহ:
Kalaboti Mudra,
Malda,
North Bengal Tour13,
ramkeli,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
মালদা,
রামকেলি
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৫, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-15
সোনা দীঘি দেখে রাস্তার ধারে অজস্র বিশাল বিশাল পুকুর আর একটা বিশাল হাওরদেখে আমরা ছঘটি দীঘির সামনে। তার আগেও বিশাল এক দীঘি। ছঘটি নাম হওয়ার কারন হল এটির ছটি ঘাট। পাশে একটি মনসার মন্দির। অনেক আগে মেলা বসত। এখন নয়।
ছ ঘটি মানে ছটি ঘাট। চার দিকে চারটি, মাঝখানে দু পাশে দুটি। ছঘটির ২০ মিটার আগেও আরও একটি বিশাল দীঘি।
যে জনপদ এতগুলো দীঘি, পুকুর ধারণ করত, এত্ত বিশাল খেত ছিল, বিশাল হাট পালন করত ... করত বলা ভুল হল আজও করে, তাকে দরিদ্র বলে দেওয়া শুধু মুর্খতা নয়, মিথ্যাচার। এই মিথ্যাচারের প্রভাবে গ্রামের মানুশেরাও নিজেদের দরিদ্রভাবে। বিগত দুই/আড়াই শতক ধরে ব্রিটিশেরা, ব্রিটিশদের পোষা শিক্ষিতরা গ্রামকে এই তত্ব শিখিয়েছেন। দেখেছি কিভাবে বিশাল সম্পত্তির মালিক দেবব্রতরা নিজেদের গরীব ভাবছেন।
এ আমার পাপ তোমার পাপ। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। দাপকেও না।
লেবেলসমূহ:
Kalaboti Mudra,
North Bengal Tour13,
sona dighi,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
ছ ঘটি দীঘি
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৪, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-14
সোনা দীঘির পর ছ ঘটি দীঘির পানে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় অনেক কিছু দেখলাম।
| রঙিন বাড়ি |
| পাট কাঠিতে গোবর মোটা করে লেপে শুকোতে দেওয়া হয়ছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে। |
| পথে আরও একটি বিল |
| তার অংশ |
| সেটি চলছে |
| সেই মাঠে ধান কাটা সেশ, ঝাড়ার কাজ চলছে। যাওয়ার সময় দেখে গেলাম হারভেস্টার মেশিন কাজ শুরু করছে। ফেরার সময় সব শেষ করে তার ছুটি। |
| সেই মাঠ |
লেবেলসমূহ:
Kalaboti Mudra,
North Bengal Tour13,
sona dighi,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
সোনা দীঘি থেকে ফেরার পথ
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১৩, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-13
সোনা দীঘি। গত বছরের পোস্ট দেখলে বোঝা যাবে আমরা জয়াদিকে নিয়ে কি ভাবে দুই দিনাজপুরের দীঘিগুলো ঘুরেছি। শুধু দিনাজপুর নয় সারা বাংলায় দেখেছি কি বিশাল বিশাল দীঘি রয়েছে গ্রামগুলি জুড়ে। কিন্তু আজ শহর গ্রাম সব খানেই পুকুর, দীঘি নিয়ে উদাসীনতা।
তো সেই দীঘিগুলি দেখতে এবারেও কয়েকটি গ্রাম ঘুরলাম। এই দীঘিটার নাম সোনা দীঘি। বছরে মাচগ ধরার লিজই ৫ লক্ষ টাকা।
লেবেলসমূহ:
Kalaboti Mudra,
North Bengal Tour13,
sona dighi,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
সোনা দীঘি
কলাবতী মুদ্রার উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩-১১, North Bengal Tour13 of Kalaboti Mudra-11
পিঠা তৈরির পদ্ধতি।
শীত নেই, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। মধুদার বাড়ি। জয়াদি, স্বপনদা(সঙ্গে এই অধমও)কে পিঠা খাওয়াতে তোড়জোড় চরমে। মঞ্জু বৌদি আর যমুনা প্রায় যুদ্ধে অবতীর্ণ।
যদিও ছবি দেখে মনেহচ্ছে বাড়ির সব কাজই যমুনা করছেন, আদতে শিক্ষিকা মঞ্জুদিও কম যান না।
চিতোই পিঠের দৃশ্য।
| বসে রয়েছেন যমুনা, দাঁড়িয়ে মঞ্জু বউদি, মধুদার স্ত্রী |
| পেঁচি তৈরিপ্রায় |
| তেলদিয়ে পেঁচি মোছা হচ্ছে |
| প্রথম গোলা উনুনে পড়ার আগে তেল দিয়ে পেঁচিটা মুছে নেওয়া |
| ঢাকা পড়ল মালসা |
| আবার একটি |
| পিঠে উঠছে |
| বাষ্প বের হয়ে পিঠে ফুটো ফুটো হয়ে গেলে বঝা যাবে পিঠে তৈরি |
লেবেলসমূহ:
Chitoi Pithe,
Kalaboti Mudra,
North Bengal Tour13,
উত্তরবঙ্গ ভ্রমন১৩,
কলাবতী মুদ্রা,
চিতোই পিঠে
Subscribe to:
Posts (Atom)


