Showing posts with label প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি. Show all posts
Showing posts with label প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি. Show all posts

Saturday, September 21, 2013

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি৬, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar6

চুল্লিকে ‘তৈরি’ করা এবং চুল্লির কাজ
প্রথমে শুকনো চুল্লিকে পূজা করা হয়। প্রার্থনা করা হয় যাতে চুল্লি ভাল পরিমাণে লোহা উৎপাদন করে। এর পরে চুল্লির ভেতরে কিছুটা চারকোল সাজিয়ে চুল্লিকে গরম করার জন্য আগুন দেওয়া হয়। ক্রমশঃ চুল্লিতে রাখা চারকোল পুড়ে চুল্লিকে তপ্ত করতে থাকে। একই সময় প্লাটফর্ম থেকেও সাধারণপরিবেশে হাওয়া দিয়ে কয়লা পোড়ানো হতে থাকে। বাইরের লোহাচুরের সঙ্গে রাখা কয়লাগুলি যখন পুড়ে তপ্ত লাল রঙ ধারন করে তখন তপ্ত লোহা আকরিককে চুল্লির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। এইভাবে একের পর এক স্তর তৈরি হতে থাকে যতক্ষন না ১৫ থেক ২০ কিলো তপ্ত আকরিক চুল্লির পেটের মধ্যে ঠেসে যাচ্ছে। শেষ লোহার আকরিক দেওয়ার পর একদম শেষে জ্বলন্ত কয়লার স্তরটি সাজিয়ে দেওয়া হয়। বেলোর সাহায্য হাওয়ার ব্লাস্ট চুল্লির মধ্যে দেওয়া হয়। এই নানান স্তরে সমাজের মেয়েরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ভাট্টি চালানো তাদের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ কাজ হিসেবে ধরা হয়। চুল্লিতে ১১৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা তোলা এবং বজায় রাখার জন্য বেলোকে কখনও জোরে কখনও ধীরে হাওয়ার ব্লাস্ট বইয়ে দক্ষতাপুর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়।

চুল্লিতে যে লোহা তৈরি হচ্ছে তার গুণমান সবসময় এক মাত্রায় থাকছে না। বহু সময় দেখা যাচ্ছে, লোহায় কার্বনের মিশেল এত বেড়ে যাচ্ছে যে লোহা একটু আঘাতেই ভেঙে চুর হয়ে যাচ্ছে। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোহারেরা ভাল লোহা, খারাপ লোহাকে আলাদা করতে পারছেন। চুল্লি থেকে জে স্পঞ্জ লোহা পাওয়া যাচ্ছে, সেটি একটি ফোর্জ চুল্লি(হার্থ)তে SiO2(বালি)র সঙ্গে মিশিয়ে আবারও গরম করা হয় এবং তপ্ত লোহা বের করে নেহাই দিয়ে পিটিয়ে ২৫ মিমি চৌকোনা দণ্ড তৈরি করা হয়। এই পেটানোর সময় দণ্ডের ওপর সিলিকা(অভ্র না বালি?) ছেটানো হয় যাতে এটি ফোর্জিংএর সময় FeO বর্জ্যের সঙ্গে মিশে আরও গলানো লোহাকে একটু তরল করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় যে লোহার দণ্ড পাওয়া গেল, তা লোহারদের কাছে পাঠানো হয়। এই দণ্ড নিয়ে লোহারেরা নিজেদের সমাজের নানান কাজের জন্য বিভিন্ন ধরণের হাতিয়ার তৈরি করেন। তাঁরা ১০০ বছর পুরনো একটি কুড়ুল লোহার পাড়া থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁরা এটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করেন। ইগাকি ভারত, চিন, জাপানের দশম খ্রিস্টাব্দ থেকে সপ্তদশ শত পর্যন্ত প্রাপ্ত লোহার অ্যাটমিক পোলারাইজেসন বিশ্লেষণ করেন। তার পরীক্ষা বলছে, প্রাচীন লোহার জং নিরোধী ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল। শেষে একটি কথাই বলাযায় বাস্তারের  মাড়িয়া আর হালবি সমাজ ভারতের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। তাদের ছোট্ট চুল্লিতে তাঁরা ফোর্জ লোহা তৈরি করতে পারতেন। বস্তারের আগাড়িয়াদের লোহা তৈরির পদ্ধতিটি সমীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কেননা তাঁরা তাদের এই পদ্ধতিটি বাইরের কারোর সামনে খুলে ধরতে রাজি হন নি, এবং এলাকার দুর্গমতার জন্যেও। ভবিষ্যতের উতসুকদের জন্য আমরা এই সমীক্ষাটি পেশ করলাম।  

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি৫, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar৫

চুল্লির লোহার আকরিক স্থানীয় লোহা ডিপজ়িট লোহার গানো(Lohar Gano) থেকে সংগৃহীত হয়। খুবই নরম(সফট), টুকটুকে লাল রঙএর(চেরি রেড)আকরিকগুলিবেছে বেছে হাতে করে বাঁশের টুকরির মধ্যে সংগৃহীত হয়। লোহা আকরিকের চুর সংগ্রহ করতে যাওয়া, সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা। মেয়েরা নানান ধরণের আচার পালন করেন, গান করেন যাতে লোহাচুর যারা সংগ্রহ যারা করতে যাচ্ছেন, তাঁরা যেন সফল হন। স ড যোশী, হিস্ট্রি অব মেটাল ফউন্ডিং অন দ্য সাবকনটিনেন্ট সিন্স এন্সিয়েন্ট টাইম পুস্তকে(রাঁচি, ১৯৭০) এই আচারগুলির বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।
কাঠকয়লা সংররিত হয় স্থানীয় গাছের ডালকে খোলা যায়গায় জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে। গাছগুলি পুড়ে ঝামা হয়ে গেলে, কয়লাগুলি বেছে নিয়ে ধুয়ে নিয়ে কাঠকয়লা তৈরি হয়। তবে বর্জ্যের ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য কোনও অনুঘটকের(ফ্লাক্স) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। নিচে চারকোল আর বর্জ্যের গবেষনাগারের পরীক্ষার সমীক্ষা(শতাংশে)
কাঠকয়লা               
                             জলীয় পদার্থ              ৯.০
                             ছাই                        ২৯.৯
                             ভি এম                    ১৩.৭
                             ফিক্সড কার্বন             ৪৭.৮
বর্জ্য বিশ্লেষণ
                             SiO2                                        ১৫.৪
                                                Fe2O3                      ৩৩.০
                                                Fe                          ৬৪.৪
                C        ৫.৫

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি৪, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar4

স্কিম্যাটিক ডায়াগ্রাম ১য়ে চুল্লির মুখটিতে সবুজ কাঠি সাজিয়ে এবং তার ওপর কাদার প্রলেপ দিয়ে একটি যে ট্যাপার্ড(ঢালু?) ভূমিতল তৈরি করা হয়েছে, যাতে আকরিক লোহা এবং চারকোলকে আগুনে ঝলসিয়ে নিয়ে চুল্লির ভেতরে ঠেলে দেওয়া যায়। ভুমিতলের সর্বাধিক উচ্চতা ৮০০ থেকে ১০০০মিমি। এবং এটির ওপরটি ১০০ মিমি মোটা কাদার চাদরে মোড়া। এর তিনটি কাজ
১) চারকোলকে আগে থেকে গরম করে ঠিকমত জ্বলার জন্য তৈরি করে রাখা
২) আকরিক লোহাকে শুকনো করা এবং আগে থেকে গরম করে রাখা
৩) এই গরম বস্তুগুলোকে চুল্লিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া।
চুল্লিতে হাওয়া দেওয়া(সাপ্লাই অব দ্য ব্লাস্ট)

চুল্লিতে হাওয়া দেওয়ার জন্য পা দিয়ে চালানো একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন আদিবাসীরা। এটির মান ভাট্টি। ডায়ামিটারে ২৮০ মিমি এবং উচ্চতা ১০০ মিমি। হাওয়া দেওয়ায় যন্ত্রটি(বেলো বা ভাট্টি) কাঠের দুটি বাঁখারি গোল করে তাতে হরিন বা বুনো মহিষের শুকনো চামড়া দিয়ে ঘেরা। এই হাওয়া দেওয়ার যন্ত্রটির মাথায় একটি ১০০ মিমির ফুটো রয়েছে, যার ভেতরটি চামড়ার চাদরে মোড়া। এই চাদরটির কাজ হল মাত্র এক দিকে হাওয়া চালানোর প্রবেশ পথ তৈরি করে দেওয়া। এই দুটি বেলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আগের বর্ণিত ৫ থেকে ১০ মিলিমিটারের অন্তর্বর্তী ব্যসওয়ালা এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ দুটি বাঁশের টুয়ার(ফার্নেসে হাওয়া দেওয়ার যন্ত্র)। এই বেলোগুলি স্তরীভুত মোটা পাথরের ওপরে দৃঢ়ভাবে বসানো, যাতে এগুলিকে সহজে সরানো না যায়। স্কিম্যাটিক ডায়াগ্রাম ৩(প্রবন্ধে ৬য়ে)য়ে দেখানো হয়েছে একজন যন্ত্রবিদ কিভাবে বেলোগুলি চালনা করছেন। মাত্র একজন মানুষ সেই দুটি বেলোর ওপরে দাঁড়িয়ে একের পর একটিকে নীচের দিকে চাপ দিয়ে সেগুলি দিয়ে চুল্লিয়ে হাওয়া প্রবেশ করাচ্ছেন। বেলোর ওপরের অংশটি ওপরের দিকে ওঠার প্রযুক্তিটি হল, ওপরের অংশটিকে ওপরের দিকে লাগানো একটি সবুজ বাঁশের সঙ্গে চামড়ার সুতো দিয়ে বেঁধে রাখা। বেলোর নীচের দিকে যাওয়ার প্রযুতিটি হল, সেই বাঁশের অন্য প্রান্তটি একটু দূরে, ভূমির সঙ্গে দৃঢ় ভাবে গেঁথে রাখা, যাতে এটি বেলোয় পায়ের চাপের চলনের সঙ্গে সঙ্গে বাঁশের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতার ধর্ম মেনে বেঁকে যায় আবার পায়ের চাপ ছেড়ে দিলে আগের অবস্থানে ফিরে আসে। স্কিম্যাটিক ডায়াগ্রাম ৪(প্রবন্ধে ৭য়ে)এ পুরো কর্মকাণ্ডটি দেখানো হয়েছে। যে মানুষটি বেলোয় কাজ করেন তিনি একটি বাঁশ ধরে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করেন। সাধারণতঃ ভাট্টি চালনা করেন লোহার পরিবারের মহিলারা। 

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি3, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar3

প্রাথমিকভাবে আমরা দেখতে চাইছিলাম এমন কিছু এলাকা, যেখানে এখনও প্রাচীন পদ্ধতিতে চুল্লিতে লোহা গলানো এবং সংস্কৃত করা হয়। এই খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারলাম বস্তারের খুব দুর্গম এলাকায়(এই প্রবন্ধ লেখার)প্রায় ২০ বছর আগে শেষ জ্বলা চুল্লিটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে আমরা বাইলাডিলার দিকে চললাম এবং তার আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় নিবিড়ভাবে ঘুরে এমন একটি যায়গা খুঁজে পেলাম যেখানে এধরনের প্রাচীন কাজকরা গলন চুল্লির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
বস্তার জেলায় দুটি আদিবাসী সমাজের বাস, একটির নাম মাড়িয়া অন্যটির নাম হালবি। যে সময় এই প্রবন্ধটি লেখা হয়, সেই ৩০ বছর আগেও সেই এলাকায় মাড়িয়ারা(ইংরেজিতে Mundiya) সেই ভারতীয় প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত পদ্ধতিতে বসবাস ও জীবন ধারন করছেন। এই দুটি সম্প্রদায়ই স্বনির্ভর। শুধু নির্ভর করেন জঙ্গলের ধনসম্বলের ওপর। মাড়িয়ারা নিজেদের জীবন চালানোর জন্য যতটুকু তীর, কুড়ুল বা নিড়ানি প্রয়োজন, ততটুকুই নিজেরা তৈরি করে নেন। বাইলাডিলা খনি অঞ্চলে আমাদের আদিবাসী পথ নির্দেশক জানালেন, প্রায় ২০ কিমি দূরে দাঁতেওয়াড়া-সুকমা রাস্তায় একটি গ্রাম কামেলি। সেখানে একজন লোহারের প্রাচীন ধরণের একটি ফোর্জিংএর দোকান রয়েছে(যাকে আমরা সাদা বাংলায় কামারশাল বলি - অনুবাদক)। তিনি আমাদের দূরের গ্রামের তারই একজন আত্মীয়র বাড়িতে নিয়ে যাবেন, যিনি এধরনের একটি চুল্লি আজও ব্যবহার করেন। নকুলনারের কাছে মোখপাল পর্যন্ত আমরা একটি জিপ নিয়ে গেলাম। এর পরে আগের খবর অনুযায়ী দাঁতেওয়াড়া-সুকমা রাস্তায় আরও ৩০ কিমি যেতে হবে। মোখপালে গিয়ে একটি লোহা-পাড়ার খবর মিলল যেখানে এখনও ধরনের জ্বলন্ত চুল্লির রয়েছে। লোহার পাড়া পৌঁছতে অন্ততঃ ৫/৬টা গ্রাম পেরিয়ে বিশাল জঙ্গল চিরে প্রায় ৬ কিমি রাস্তা যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত পৌঁছলাম। কিন্তু আদিবাসীরা আমাদের সেই চুল্লি দেখাতে চায় না। বহু আলোচনার পর তাঁরা সেই চুল্লি দেখাতে এবং তার কর্মপদ্ধতিটি জানাতে রাজি হলেন। চুল্লির কাছে বর্জ্য পদার্থের বিশাল স্তুপ থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করলাম। নিচে আমাদের কাজের সমীক্ষাটু প্রকাশ করা গেল।
ম ঘোষ এবং তাঁর দলবল কোরাপুটের চিগলবেছায় যে ধরণের চুল্লির কথা তাঁর প্রকাশিত সমীক্ষায় প্রকাশ করেছেন, এই চুল্লিটি ঠিক সেই ধরনেরই। চুল্লিটি বাউল(bowl) শেপের। ভুমিস্তরের নিচ থেকে গড়া শুরু হয়েছে। ২০০০ x ২০০০ মিলিমিটার এলাকা নিয়ে এবং ৫০০ মিলিমিটার গভীরতা যুক্ত। একদিকে সিঁড়ি নেমে গিয়েছে নীচের দিকে নামবার জন্য। এখানে চুল্লির একটি স্কিম্যাটিক ডায়াগ্রাম ১ দেওয়া গেল। এই চুল্লিতি তৈরি হয়েছে পিটের উলম্বে একটি ছিদ্র তৈরি করে। এই দিকের চুল্লিটি মোট চুল্লির প্রস্থচ্ছেদের তিন-চতুর্থাংশ অবলম্বন করে। সামনের দিকে মোটা করে কাদার চাদরের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এতে বাইরে থেকে হাওয়া বইয়ে দেওয়ার জন্য, ৫ থেকে ১০ মিলিমিটারের অন্তর্বর্তী ব্যসওয়ালা দুটি বাঁশের টুয়ার(ফার্নেসে হাওয়া দেওয়ার যন্ত্র) তৈরি করা হয়েছে। এ দুটি চুল্লির bowlএ যুক্ত হয়েছে যা স্কিম্যাটিক ডায়াগ্রাম ২য়ে দেখানো হয়েছে। চুল্লির মোট উচ্চতা ৮০০ মিলিমিটার এবং ডিয়ামিটার ২০০ মিমি। চুল্লির শ্যাফটটির গভীরতা ৬০০ মিমি এবং দেওয়ালটি ট্যাপার্ডভাবে তৈরি, অর্থাৎ একদিকে সর্বাধিকভাবে ২৪০মিমি মোটা অন্য দিকে তুলনামূলকভাবে সব থকে সরুর দিকটি হল ১০০মিমি। বর্জ্য বার করার জন্য  bowlএ একটি ছিদ্র করা হয়েছে। চুল্লিটির নিচেরভাগ মাটির নিচে করা হয়েছে একটি কারনে, যাতে বাইরের হাওয়া ঢুকতে না পারে। এটির ভেতরের দেওয়াল রিফ্র্যাক্টরি কাদা(সিলিকা, আলুমিনা এবং ফায়ার ক্লে যুক্ত মাটি)র চাদরে মোড়া। চুলি যখন জ্বলে, তখন চুল্লির আশেপাশের ৫০ থেকে ৭০ মিমি মোটা মাটি পুড়তে থাকে এবং টকটকে লাল বর্ণ হয়ে ওঠে। 

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি২, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar2

বৈদিক কাল থেকে ভারতের ধাতুবিদ্যা বিশ্বে প্রখ্যাত। ঋগ্বেদে লোহা বা অয়স তৈরির কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে। প্রাচীনকালের নানান কাজে লোহার ব্যবহারে, বিশেষকরে, স্থাপত্যবিদ্যায় যেমন, দিল্লি এবং ধরের লোহা স্তম্ভ, কোনার্কের মন্দিরে ব্যবহৃত লোহার বিম(স্তম্ভ)গুলি, তাঞ্জোরের লোহার কামান, এছাড়াও দামাস্কাস হাতিয়ার তৈরির জন্য ঊজ় বা নির্মল ইস্পাত তৈরির উদ্যম এখন সারা বিশ্ব জানে। এ সমস্ত দ্রব্যের শৈলী এবং নির্মাণ প্রযুক্তি ভারতের গর্বিত ধাতু ইতিহাসের গৌরব বাখান করে। ১৮৮১র ইকনমিক জিওগ্রাফিতে ভ বল বলছেন, ভারতের প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতায়, কয়েক হাজার বছর আগে, আকরিক লোহা ক্রুসিব্‌লে গলিয়ে নির্মল বা ঊজ় ইস্পাত তৈরির উদ্যম সারা বিশ্ব জানত। সে ঘটনা ২০০০ বছরের প্রাচীন। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের ধাতুবিদ্যা নিয়ে বিশদে সমীক্ষা করেছেন হল্যান্ড (ইম্পিরিয়াল ইন্ডিয়া হ্যান্ডবুক অব কমারসিয়াল প্রোডাক্ট, ১৮৮১), ভয়সি(জার্নাল অব এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল, ১৯৩২), ভেরিয়ার(দ্য আগারিয়া – হাম্‌ফ্রে মিলফারড), হ্যাডফিল্ড(সিংহলি আয়রন অ্যান্ড স্টিল অফ এন্সিয়েন্ট অরিজিন, ১৯১২) এবং আরও অনেকে। ভেরিয়ার এলুইন মধ্যপ্রদেশ এবং সন্নিহিত এলাকা সমীক্ষা করে আগারিয়া সমাজের লোহা তৈরির পদ্ধতির বর্ননা করেছেন অভুতপুর্ব্ব বিশদ বিবরণে। ম স কৃষ্ণন(আয়রন ওরস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান আসোসিয়েসন অব কাল্টিভেসন অব সায়েন্স, ১৯৫৫) বিশদে ভারতের প্রাচীন কালের লোহা তৈরির বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। ম ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল, টিস্কো, ১৯৬৩র এক অপ্রকাশিত প্রবন্ধে, য়্যন্টিক আয়রন অব ইন্ডিয়ায় পুর্ব-ভারতের বিভিন্ন আদিবাসী অঞ্চলে লোহা তৈরির স্থানগুলোর সমীক্ষা করে লোহা তৈরির প্রক্রিয়াগুলো নথিকরণ বর্ননা করেছেন। তাঁরা কোরাপুটের জিরাগোড়া আর চিগলাবেচা এবং বিহারের যোদার কামারযোদার চুল্লিগুলো বিশদে সমীক্ষা করেন। এই দলটি সংশ্লিষ্ট আদিবাসী প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে নতুন করে চুল্লি তৈরি করিয়ে তা দিয়ে লোহা তৈরি করানোর পদ্ধতি সরজমিনে দেখেছেন। সেই বর্ণনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রকাশিতও হয়েছে। কামারযোদার কলাকুশলীদের তাদের চুল্লিটির কর্মক্ষমতার প্রদর্শনী করতে বলা হয় জামশেদপুরের ন্যাশনাল মেটালার্জিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। এই সমগ্র প্রদর্শন পদ্ধতিটিকে চলচ্চিত্রায়িত করে রাখা হয়েছে। এর আগে দিল্লির স্তম্ভ এবং আদিবাসী ইস্পাত বহু সমীক্ষা করা হয়েছে (বারগেট এবং স্টেইনারের দ্য দিল্লি পিলার – আ স্টাডি অফ করসান আসপেক্টস বা লাহিড়ী, ব্যানার্জী নিঝওয়ানএর সাম অবজারভেসন অন এনসিয়েন্ট আয়রন ইত্যাদি আরও কয়েকটি)। এই কোনও লেখাতেই বস্তার জেলায় লোহা তৈরির অস্ত্বিত্ব দেখানো হয় নি। প্রাচীন লোহায় জং না পড়া বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে লোহার কিছু নমুনা সংগ্রহ করি। সেই সুবাদে এই দুই লেখক বস্তার জেলার প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালাই। এবং এই প্রবন্ধে সে বিষয়টি বিশদে উল্লেখ করার চেষ্টা করছি।

বস্তারের মাড়িয়া সমাজের প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি১, Very Traditional Iron Smelting Process of Bastar1

বৈদিক কাল থেকে ভারতের ধাতুবিদ্যা বিশ্বে প্রখ্যাত। ঋগ্বেদে লোহা বা অয়স তৈরির কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে। প্রাচীনকালের নানান কাজে লোহার ব্যবহারে, বিশেষকরে, স্থাপত্যবিদ্যায় যেমন, দিল্লি এবং ধরের লোহা স্তম্ভ, কোনার্কের মন্দিরে ব্যবহৃত লোহার বিম(স্তম্ভ)গুলি, তাঞ্জোরের লোহার কামান, এছাড়াও দামাস্কাস হাতিয়ার তৈরির জন্য ঊজ় বা নির্মল ইস্পাত তৈরির উদ্যম এখন সারা বিশ্ব জানে। এ সমস্ত দ্রব্যের শৈলী এবং নির্মাণ প্রযুক্তি ভারতের গর্বিত ধাতু ইতিহাসের গৌরব বাখান করে। ১৮৮১র ইকনমিক জিওগ্রাফিতে ভ বল বলছেন, ভারতের প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতায়, কয়েক হাজার বছর আগে, আকরিক লোহা ক্রুসিব্‌লে গলিয়ে নির্মল বা ঊজ় ইস্পাত তৈরির উদ্যম সারা বিশ্ব জানত। সে ঘটনা ২০০০ বছরের প্রাচীন। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের ধাতুবিদ্যা নিয়ে বিশদে সমীক্ষা করেছেন হল্যান্ড (ইম্পিরিয়াল ইন্ডিয়া হ্যান্ডবুক অব কমারসিয়াল প্রোডাক্ট, ১৮৮১), ভয়সি(জার্নাল অব এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল, ১৯৩২), ভেরিয়ার(দ্য আগারিয়া – হাম্‌ফ্রে মিলফারড), হ্যাডফিল্ড(সিংহলি আয়রন অ্যান্ড স্টিল অফ এন্সিয়েন্ট অরিজিন, ১৯১২) এবং আরও অনেকে। ভেরিয়ার এলুইন মধ্যপ্রদেশ এবং সন্নিহিত এলাকা সমীক্ষা করে আগারিয়া সমাজের লোহা তৈরির পদ্ধতির বর্ননা করেছেন অভুতপুর্ব্ব বিশদ বিবরণে। ম স কৃষ্ণন(আয়রন ওরস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান আসোসিয়েসন অব কাল্টিভেসন অব সায়েন্স, ১৯৫৫) বিশদে ভারতের প্রাচীন কালের লোহা তৈরির বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। ম ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল, টিস্কো, ১৯৬৩র এক অপ্রকাশিত প্রবন্ধে, য়্যন্টিক আয়রন অব ইন্ডিয়ায় পুর্ব-ভারতের বিভিন্ন আদিবাসী অঞ্চলে লোহা তৈরির স্থানগুলোর সমীক্ষা করে লোহা তৈরির প্রক্রিয়াগুলো নথিকরণ বর্ননা করেছেন। তাঁরা কোরাপুটের জিরাগোড়া আর চিগলাবেচা এবং বিহারের যোদার কামারযোদার চুল্লিগুলো বিশদে সমীক্ষা করেন। এই দলটি সংশ্লিষ্ট আদিবাসী প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে নতুন করে চুল্লি তৈরি করিয়ে তা দিয়ে লোহা তৈরি করানোর পদ্ধতি সরজমিনে দেখেছেন। সেই বর্ণনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রকাশিতও হয়েছে। কামারযোদার কলাকুশলীদের তাদের চুল্লিটির কর্মক্ষমতার প্রদর্শনী করতে বলা হয় জামশেদপুরের ন্যাশনাল মেটালার্জিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। এই সমগ্র প্রদর্শন পদ্ধতিটিকে চলচ্চিত্রায়িত করে রাখা হয়েছে। এর আগে দিল্লির স্তম্ভ এবং আদিবাসী ইস্পাত বহু সমীক্ষা করা হয়েছে (বারগেট এবং স্টেইনারের দ্য দিল্লি পিলার – আ স্টাডি অফ করসান আসপেক্টস বা লাহিড়ী, ব্যানার্জী নিঝওয়ানএর সাম অবজারভেসন অন এনসিয়েন্ট আয়রন ইত্যাদি আরও কয়েকটি)। এই কোনও লেখাতেই বস্তার জেলায় লোহা তৈরির অস্ত্বিত্ব দেখানো হয় নি। প্রাচীন লোহায় জং না পড়া বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে লোহার কিছু নমুনা সংগ্রহ করি। সেই সুবাদে এই দুই লেখক বস্তার জেলার প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালাই। এবং এই প্রবন্ধে সে বিষয়টি বিশদে উল্লেখ করার চেষ্টা করছি।



বস্তার জেলার প্রাচীন লোহা তৈরির পদ্ধতি - ব প্রকাশ(বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়), ক ইগাকি(তহকু বিশ্ববিদ্যালয়। ইন্ডিয়ান জার্নাল অব হিস্টোরি অব সায়েন্সেস, জানুয়ারী, ১৯৮৪