Showing posts with label ফ্রিম্যাসন. Show all posts
Showing posts with label ফ্রিম্যাসন. Show all posts

Tuesday, September 5, 2017

উপনিবেশ বনিরোধী চর্চা২ - ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে রথসচাইল্ড যোগ



এর আগের প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখিয়েছি যে হিন্দু কলেজ যা পরে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চিহ্নিত হয় তার সঙ্গে ফ্রিম্যাসনদের যোগ স্পষ্ট ছিল। আর ফ্রিম্যাসনদের সঙ্গে রথসচাইল্ডদের যোগাযোগে আজ আর প্রমানের অপেক্ষা রাখে না। সেটা তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে পরিষ্কার।
হিন্দু কলেজের শুরুই হয় গোপনীয়তায় মোড়া একটি মিশনারি গোষ্ঠী ফ্রিম্যাসনদের হাত ধরে যাদের পিছনে ছিলেন রথসচাইল্ডেরা। সে তথ্য পাই তাদের ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে - Members of the Rothschild family have been involved with the Freemasons, a fraternal organisation whose members are concerned with moral and spiritual values, self-improvement, and helping their communities with charitable endeavours. The Rothschilds began to acquire large estates in Buckinghamshire in the 1840s. In 1836, Nathan Mayer Rothschild’s widow, Hannah (1783-1850), bought a few acres of land at Mentmore in Buckinghamshire for her sons so that they could take healthy exercise away from the city. In 1850 Mayer bought the Manor of Mentmore for £12,400 and commissioned Joseph Paxton and his son-in-law George Stokes to build him a house. By 1900, different branches and generations of the family owned thousands of acres, so the Vale of Aylesbury almost became a Rothschild enclave, the most famous property being Waddesdon Manor, built by Baron Ferdinand de Rothschild (1839-1898) সূত্রঃ https://www.rothschildarchive.org/…/family_inte…/freemasonry।
উল্লেখ্য ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে ফ্রিম্যাসনস এবং তাদের হাত ধরে কোম্পানির কর্মকর্তা এবং তাদের বন্ধুত্বের সূত্র ধরে রথসচাইল্ডদের যোগ পরিষ্কার হয়ে যায় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কলেজ তৈরির বরাত পান কলেজের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের অন্যতম দ্বারকানাথ ঠাকুরের আগামী দিনের ব্যবসায়িক অংশীদার ম্যাকিনটস। এই অনুষ্ঠানের সংযোগে স্পষ্ট তিনিও ফ্রিম্যাসন এবং তাদের বিনিয়োগকারী রথসচাইল্ডদের ঘনিষ্ঠ।
এই অনুষ্ঠানে যদিও সরাসরি যোগ দেন নি দ্বারকানাথ ঠাকুর, কিন্তু ক্যালকাটা গেজেটের প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে এই অনুষ্ঠনে নেটিভদের পক্ষে ফ্রিম্যাসনদের ধন্যবাদ এবং বক্তৃতা দেন কিন্তু ঠাকুর পরিবারের পক্ষে রাম মোহন ঠাকুর।
এ প্রসঙ্গে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে ম্যাকিনটস কোম্পানির যোগের তথ্য তুলে দেওয়া যাক আমাদের দ্বিতীয় ইতিহাসঃ লুঠেরা ইংরেজ, সাথী ভদ্রলোক, সাংস্কৃতিক গণহত্যা আর গ্রামীন স্বাধীণতা সংগ্রাম নামক বইটি থেকে দ্বারকানাথ আর রামমোহনের কোম্পানির সহায়তায় বাংলা লুঠের বিস্তৃত কার্যক্রমের বর্ননা - এক যে ছিলেন প্রিন্স অধ্যায়...
... ১৮৩৩এ ম্যাকিন্টশ কোম্পানি আর অন্য দুটি পতন ঘটায় দ্বারকানাথ নিজে দেনা পাওনার দায় নেন। এবং নতুন অংশিদার নিয়ে নিউ ওরিয়েন্টাল লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানি গঠন করেন। তিনি ছিলেন ম্যাকিন্টশের দেওয়ান অর্থাৎ টাকার জোগান দেওয়ার কাজ করতেন। দ্বারকানাথ ঠাকুরের গুরু রামমোহন রায়ের ব্যবসা দেখত ম্যাকিনটস। ম্যাকিনটস ছিলেন রামমোহনের অন্তরঙ্গ বন্ধু। যদিও গোপীমোহন ঠাকুর এর সঙ্গে জুড়ে ছিলেন তবে রামমোহনের বন্ধুত্ব সূত্রেই হয়ত দ্বারকানাথের ম্যাকিনটস সংযোগ। পরে এটি কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কের অংশিদার হয়। কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক স্থাপিত হয় ১৮১৯ সালের ১মে। ম্যাকিন্টসের অংশিদার গর্ডন, কল্ডার, যোসেফ ব্যারেটো, জন মেল্ভিল, গোপীমোহন ঠকুরের বড় ছেলে সূর্যকুমার।
দ্বারকানাথের তিন জীবনীকার ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ব্লেয়ার বি ক্লিং এবং জামাই কৃষ্ণ কৃপালনি এই ব্যাঙ্কের সঙ্গে দ্বারকানাথের যোগাযোগের তথ্য সামাল দিতে গোপীমোহন ঠাকুরের নাম উল্লেখ করেছেন। অবাস্তব তথ্য। সংবাদপত্রে সেকালের কথায় জানতে পারছি গোপীমোহন মারা যান ১৮১৮য়। কমার্সিয়াল ব্যাঙ্ক তখন ম্যাকিন্টসের কোষাগার! ঐ বোর্ডে দ্বারকানাথ ছাড়া সকলেই ম্যাকিন্টসের সদস্য। আশ্চর্যের কথা ম্যাকিন্টসের সঙ্গে কমার্সিয়াল ব্যাঙ্কের পতন ঘটার পরে সমস্ত দেনা পাওনার দায় দ্বারকানাথ নিজে গ্রহণ করেন ১৮৩৩এ জানুয়ারিতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার যে কোম্পানির সেরেস্তাদারি ছাড়ার পরেও দ্বারকানাথ কার ঠাকুর এন্ড কোং-এ বিনিয়োগ যোগ্য সম্পদ কোথা ঠেকে যোগাড় করেন। পরোক্ষ প্রমান ঠেকে পরিষ্কার যে ঠাকুর পরিবারের সে সময়ের কত্তা দ্বারকানাথের মুরুব্বি ছিলেন কিন্তু কোম্পানির পৃষ্ঠপোষক, রথসচাইল্ড।
এর সঙ্গে কিছুটা হয়ত পরিষ্কার হয়ে যায় মাসে এক লক্ষ টাকা ব্যয় করে দুদফায় বিলেতে উড়নচণ্ডী জীবনযাপন করা দ্বারকানাথের লন্ডনে অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্য। যার পিছনে রইথসচাইল্ডদের ভূমিকা থাকা বিন্দুমাত্র অস্বাভাবিক নয়।
দ্বারকানাথের মৃত্যুর সঙ্গে রথসচাইল্ডদের স্পষ্ট যোগ থাকতে পারে এই সূত্রটা দিয়েছিলেন, দেবুদা, Debabrataদা। তিনি স্পষ্ট প্রমান দিতে পারেন নি, কিন্তু সন্দেহ খুঁচিয়ে দিয়েছিলেন, আজ অনেকটা সত্যের কাছাকাছি পৌঁছন গেল।

উপনিবেশ বনিরোধী চর্চা১ - রথসচাইল্ডদের বিনিয়োগে তৈরি হয়েছিল হিন্দু কলেজ, আজকের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমে প্রেসিডেন্সি কলেজের শুরুর ইতিহাস
সেই আলোচনাতেই এসে যাবে ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে রথসচাইল্ড যোগ

হিন্দু কালেজ নিয়ে খোঁজ এবং দ্বারকানাথ ঠাকুরের রথসচাইল্ডের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে তদন্ত করতে করতে বেরিয়ে পড়ল মহা এক দস্তাবেজ সে সময়ের ক্যালকাটা গেজেট।

১৮২৪ সালের ১ মার্চএর আগের দিন বিকেল চারটেয় ক্যালকাটা গেজেটের প্রতিবেদন বলছে, গরানহাটার গোরাচাঁদ বসাকের বাড়িতে সিদ্ধান্ত হয়ে বৌবাজারে প্রাথমিকভাবে স্থাপিত হিন্দু কলেজকে (আজকের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) পটলডাঙ্গা স্কোয়ারে নিয়ে যেতে সেনা-পুলিশের নিরাপত্তায় মুড়ে ফ্রি-ম্যাসনদের(কলকাতায় ফ্রি-ম্যাসন বিষয়ে জানতে https://www.telegraphindia.com/1080629/jsp/calcutta/story_9466827.jsp প্রতিবেদনটি এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফ্রিম্যাসনদের অবদান জানতে Jessica L. Harland-Jacobsএর Builders of Empire: Freemasons and British Imperialism, 1717-1927 পড়ুন) একটি মিছিল হয়। আদতে হিন্দু কলেজের শুরুই হয় গোপনীয়তায় মোড়া একটি মিশনারি গোষ্ঠীর হাত ধরে যাদের পিছনে ছিলেন রথসচাইল্ডেরা। তার ইতিহাস ঠাকুরদের সঙ্গে জড়িয়ে বলব।

পটলডাঙ্গা স্কোয়ারের অনুষ্ঠানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বণিক, জাহাজ মালিক এবং ফ্রি-ম্যাসনদের প্রভিনশিয়াল গ্রান্ডমাস্টার জন পাস্কাল লারকিনস একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা পেশ করেন, ‘...অলদো দ্য সেরিমনি জাস্ট গান থ্রু, এন্ড দ্য স্টোন দাস লেইড আর অনলি ইন্সিপিয়েন্ট অব দ্য বিল্ডিং হুচ উইল আরাইজ ফ্রম ইট, য়েট আই ভিউ ইট উইথ মাচ প্লেজার, এজ দ্য ফোররানার অব এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া, আ কান্ট্রি হুচ ইট মাস্ট বে এডমিটেড ইজ স্টিল ইন আ স্টেট অব আনসোসাল ইগনোরেন্স। ...উই হ্যাভ দ্য গ্রাটিফিকেশন অব এডিং দিস ইভনিং এনাদার স্টোন টু দ্য গ্রান্ড আর্ক অব মরাল ইম্প্রুভমেন্ট... এন্ড লেট আস ইমপ্লোর দ্য অল্মাইটি আরকিটেক্ট অব দ্য ইউনিভার্স টু ব্লেস দ্য স্ট্রাকচার হুচ ইজ আবাউট টু বি রেইজড ফর দ্য ডিফিউশন অব নলেজ’। এবং তাঁরা বিভিন্ন সংস্থা শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করে নেটিভদের নৈতিক অবক্ষয় (স্টেট অব মরাল ডিগ্রেডেশন ইন্টু হুইচ দ্য গ্রেটার মাস অব পিপল কনফেসডলি আর সাঙ্ক) থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন।

এই উপলক্ষ্যে একটি রূপোর ফলক লাগানো হয় তার বিভিন্ন তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ন, বিশেষ করে শেষের স্তবকের স্থপতির নাম। আসুন গোটা ফলকটার বয়ান পড়া যাক ...ইন দ্য রেইন অব হিজ মোস্ট গ্রেসিয়াস ম্যাজেস্টি গর্গ দ্য ফোর্থ, আন্ডার দ্য অসপিসিস অব রাইট অনারেবল উইলিয়াম পিট আমহার্স্ট গভর্নর জেনারেল অব দ্য ব্রিটিশ পজেশনস ইন ইন্ডিয়া, দ্য ফাউন্ডেশন স্টোন অব দিস এডিফিস, দ্য হিন্দু কলেজ অব ক্যালকাটা ঊয়াজ লেইদ বাই জন পাস্কাল লার্কিনস এস্কোয়ার, প্রভিনশিয়াল গ্রান্ড মাস্টার অব দ্য ফ্রাতারনিটি অব ফ্রি ম্যাসনস ইন বেঙ্গল, আমিডস্ট দ্য এক্লামেশনস অব দ্য র্যাভঙ্কস অব দ্য নেটিভ পপুলেশন অব দিস সিটি। ইন দ্য প্রেজেন্স অব আ নিউমারাস এসেম্বলি অব দ্য ফ্রাতারনিটি এন্ড অব দ্য প্রেসিডেন্ট এন্ড মেম্বার্স অব দ্য কমিটি অব জেনারেল ইন্সট্রাকশন অন দ্য ২৫ ডে অব ফেব্রুয়ারি ১৮২৪ এন্ড দ্য এরা আব ম্যাসনারি ৫৮২৪ হগুচ মে গড প্রসপার। প্ল্যানড বাই বি বাক্সটন, লেফতানেন্ট বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ার্স, কন্সট্রাকটেড বাই উইলিয়াম বার্ন এন্ড জেমস ম্যাকিনটস। দেশিয় বাবুদের মধ্যে গ্রান্ড মাস্টারকে ধন্যবাদ জানান বাবু রাম মোহন ঠাকুর (সূত্র ঐ দিনের ক্যালকাটা গেজেটের প্রতিবেদন)।

ফ্রিম্যাসনরা যে রথসচাইল্ডদের প্রতিনিধি, এবং রথসচাইল্ডেরা যে ফ্রিম্যাসনদের সদস্য, সে তথ্য পরিষ্কার রথসচাইল্ডদের ওয়েব সাইট সূত্রে, সেটা পরের লেখায় দেখাব।