Showing posts with label Loot. Show all posts
Showing posts with label Loot. Show all posts

Sunday, July 21, 2013

গ্রাম বাংলার ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প লুঠ আর ধ্বংসের ভিতের ওপর গড়ে উঠছে কলকাতা, A New Opulent Calcutta is Growing on the Loot and the Destruction of Bengal's Education, Industry & Intercontinental Trade

বাংলার শিল্প, আন্তর্জাতিক ব্যবসা আর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে, তার ওপরে গড়ে উঠছে কলকাতার কোম্পানি এবং নবজাগরিত বাঙ্গালীদের বিশাল বিশাল হর্ম্য। শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চালকশক্তি ছিল বাংলা লুঠের অর্থ আর সম্পদ। 
বাংলা লুঠের অর্থে ভারতের নানান শহরের ব্রিটিশ সরকার চলেছে, জগত জোড়া যুদ্ধ চলেছে, ব্রিটেন জোড়া শিল্প তৈরি হয়েছে এবং চলেছে, ভারত চালানোর বিশাল আমলাতন্ত্র চলেছে। 
লন্ডনের বাইরে যে শহর থেকে প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত এবং তার পরে বিশ্ব লুঠের পরিকল্পনা ছক হবে, ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত  তৈরি হবে (আজও) ব্রিটিশদের(এখন আমেরিকা আর ইয়োরোপে) স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশি শিক্ষা, শিল্প ব্যবসা ব্যবস্থা সবলে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে সে শহরটি হল কলকাতা এবং এই বিশাল বিশাল হর্ম্যগুলি। 
যে গ্রামীণদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করে এই কলকাতা গড়ে উঠেছে, সেই সব অদম্য গ্রামীণদের আভূমি প্রনাম জানালাম এইখনে।
জয় গুরু! জয় বাংলা!














Wednesday, April 24, 2013

দই খেলেন গোবর্ধন, বিকারের বেলায় হর্ষবর্ধন - ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের লুঠ, রেলপথ এবং মন্বন্তরনামা বা গণহত্যা৩ - loot, railway, famine, genocide in colonial india3


অবাধ রপ্তানির ফলে দামও অবাধে বেড়েচলে। তার ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।  টাকার দাম কমিয়ে দেওয়া হোল(অবমূল্যায়ন)। ব্রিটিশদের ভারতীয় শস্য কেনা আরও সস্তা হয়ে গেল। আরও পরিহাসের কথা, যে রেলপথটি তৈরিই হয়েছিল মন্বন্তর রোখার জন্য সেতো মন্বন্তর রুখলই না, বরং যে স্টেশনের নামে রেলপথ, সেই নাগপুরেই ১৮৯৬-৯৭র মাঝামাঝি নাগাদ খাদ্যশস্যর জন্য দাঙ্গা হল। পাশের রাজ্য ডুঙগারগঢ়ে শাস্তির হুমকি আর সেনা নামিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়া হয়। এই রেলপথেরই পাশে সাগর জেলায় ঊল্টো পুরাণ- ১৮৬৫-৯৫ পর্যন্ত জনসংখ্যা বাড়ল ১৮ শতাংশ, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ল ৪৮ শতাংশ, রেলযোগে গম রপ্তানির পরিমাণ, ১৮৮৭-৯৭, এই এক দশকে, ৪০,০০০ মণ থেকে ৭,৫৮,০০০ মণে গিয়ে পৌঁছল। 
মন্বন্তর ফান্ডের সুযোগ পাওয়া অন্য রেলপথটি কী করল দেখা যাক। ইন্ডিয়ান মিডলাণ্ড রেলওয়ে কোম্পানির ঘাড়ে চেপে বোম্বাইয়ের গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে(জিআইপিআর) নিজেদের রেলপথ এলাকা আরও বিস্তারলাভ করাবার সুযোগ পেল।  দুটি রেল কোম্পানির পরিচালন ব্যব্যস্থা প্রায় সমান সমান। ফলে জিআইপিআর, মিডলাণ্ডকে দখলে নিল। ভারতে রেল ব্যবসার জিআইপিআরএর প্রধান প্রতিযোগী ইস্ট ইণ্ডিয়ান রেলওয়ে। কোম্পানিটি বেসরকারি কিন্তু সরকারি মদত পুষ্ট। সরকারের গ্যারান্টি তার রয়েছে। ১৮৭০এ রেলের জাতীয়করণ হাওয়ার সময় ইণ্ডিয়া অফিস জিআইপিআরএর শেয়ার কেনেনি। ফলে পরের ২৫ বছর রেলপথটির রোজগার, ভারত সরকারের সামনে, উপভোগ করেছে জিআইপিআরএর অংশিদারেরা। ফেমিন কমিশনের সামনে সাক্ষীরা বলেছেন, মন্বন্তরের সময় জিআইপিআর অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করেছে। তার জন্য কমিশন জিআইপিআরকে সমালোচনাও করেছে। এতদিন যে জিআইপিআরএর ডাইরেকটরেরা ৫ শতাংশ গ্যারান্টি ভোগ করে এসেছে, তারাই, মিডলাণ্ড কোম্পানির ঘাড়ে চেপে ফেমিণ ফাণ্ডএর সুযোগ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল।
অন্যদিকে কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ের জাতীয়করণএর গুনাগার দিল ভারতীয় করদাতারা। ইআইআরএর অংশীদারদের সরকারকে দিতে হল মূলের ওপর ৩০ শতাংশ বেশী এছাড়াও বছরে বছরে লভ্যাংশএর অংশীদারি।  ১৮৮০র ফেমীন কমিশনের প্রধান স্যর রিচার্ড স্ট্রাচি, রেল কোম্পানিটির প্রধান মনোনীত হয়ে বছরে বছরে বিশাল অংশ এন্যুইটি, বার্ষিক রোজগার অর্জন করেন। আমলা হিসেবে চাকরি করে যে পেনসনের খুদকুঁড়ো অর্জন করেছেন, তার তুলনায় এই এন্যুইটির পরিমান প্রায় পাহাড় প্রমাণ। স্ট্রাচির ইআইআরএর দায়িত্ব ছিল খাদ্যশস্য বিতরণের। বেঙ্গল নাগপুর রেলপথের সঙ্গে মিলে তারা খাদ্যশস্যএর সঙ্গে কয়লার ব্যবসা শুরু করে। তবে স্ট্রাচি বলেন, তার কোম্পানি, লন্ডনের ফেমিন রিলিফ চ্যারিটিতে বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণ করে নি।
রেল কোম্পানিতে অপরিকল্পিত বিনিয়োগও হয়েছে। আসামের বেশ কিছু অলাভজনক বেসরকারি রেল প্রকল্পে সরকারি গ্যারান্টি যোগাড় করেন স্ট্রাচি। আসাম বাঙলা রেলওয়ে তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যাবহার, আসামে খাদ্য বিতরণ আর বার্মায় সেনা পাঠানোর জন্য। রমেশ দত্ত একে সব থেকে খারাপ পুঁজিবাদী পরিকল্পনাগুলির মধ্যে সর্বাগ্রে রাখার কথা বলেন। কার্জন একে মন্বন্তর, সামরিক পরিকল্পনা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সুচতুর ককটেল হিসেবে মন্তব্য করেন। এই প্রকল্পটিতে ভারতের করদাতাদের ৯ মিলিয়ন(তৈরির খরচ ৫ মিলিয়ন) ডলার খরচ হয়। এই রেলপথ তৈরিতে সবথেকে বেশি লাভ করেছেন ব্রিটেনের কারখানা মালিক আর ভারতের ফড়েরা। তিনি বলছেন ব্রিটেন থেকে যত পরিমাণ রেল যন্ত্রাংশ এসেছে, তার তুলনায় সেচের সরঞ্জাম এসেছে বিন্দুবৎ। এছাড়াও সাম্রাজ্যের পরিচালকরাও সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। ভারত সচিব, পরে প্রধানমন্ত্রী, সলিসবেরি ব্রাডফোর্ডে ১৮৭৬-৭৮এর মন্বন্তরের সময়, এক সভায় বলেন, ভারতে সেচ ব্যবস্থা বিনিয়োগ করার অর্থ গরীব অর্থ করদাতাদের ওপর আরও বেশী কর আর খরচের বোঝা চাপানো। ফলে দারিদ্র আরও বৃদ্ধি পাবে। উল্টোদিকে তিনি এত কঠিন কথা রেল বাজেট তৈরির সময় বলেন নি। বরং তিনি ভারতের কৃষকদের উপদেশ দিয়ে বলেছেন, তারা বাণিজ্যিক ফসল উৎপাদন না করে খাদ্য শস্য উৎপাদন করুক যাতে কৃষক মহাজনের শোষণের হাত থেকে মুক্তি পায়। এবং তিনি বলেন কৃষকের কাছে এটি একটি বীমাও বটে। অথচ মন্বন্তর রোখার নামে ভারতীয় রেল তৈরি করেছে ফড়ে, মহাজন, বাণিজ্য চাষ এবং শস্য বণিকদের। এমনকি ম্যানচেস্টারের মিলমালিক এবং কোয়েকার দর্শনে বিশ্বাসী জন ব্রাইট ১৮৭৭এ বলছেন মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেই, মন্বন্তরে ভোগা লাখো লাখো কৃষক উপকৃত হতে পারত। ঠিক এর আগের বছরে ব্রিটিশ উপনিবেশ রেলে ১৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও সেচে বিনিয়োগ হয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার।
রেলে বিনিয়োগ এই ধারণা থেকে করা হয়েছে যে, ভারতের মন্বন্তর খাদ্যশস্যের অপ্রতুলতার দরুন হয় নি, হয়েছে এলাকায় খাদ্য শস্য না পাওয়া যাওয়ার জন্য। ফলে ভারতে খাদ্যশস্যের চলাচল হওয়া ভীষণ জরুরী। তার জন্য রেল। ভারতীয় রেলের এক প্রাক্তন পরামর্শদাতা, হোরেশ বেল এই সাম্রাজ্য তত্ত্ব খারিজের জন্য কোমর বাঁধেন। তিনি ১৮৯৮এর ফেমিন কমিশনের তথ্য তুলে বলছেন, সাম্রাজ্যে ১৮৯৬-৯৭তে ১৮-১৯ মিলিয়ন টনের মতো খাদ্য শস্যের অভাব রয়েছে। মন দিয়ে খুঁজলে ১৮৯৮-১৯০০র মন্বন্তরে হয়ত আরও বেশী ঘাটতির খবর পাওয়া যেতেপারে।
মন্বন্তর রুখতে সরকারের প্রয়োজন ছিল আরও বেশী খাদ্য শস্য আমদানি করা। শুধু রেল তৈরি করে অথবা দাম নিয়ন্ত্রণ করে মন্বন্তর রোখা সম্ভব নয়। আর মন্বন্তরে দান শস্যর দাম বেশী হলেও স্থানীয় শস্য ব্যাবসায়ীরা এই শস্য নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন নি, কেনোনা, প্রায় সবই বিদেশে চড়া দামে রপ্তানি হয়ে যাচ্ছিল। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে একমাত্র বার্মাতেই মন্বন্তরে ভর্তুকির দামে খাবার দেওয়ার  সুযোগ ছিল। কিন্তু খাদ্যশস্যের দাম আর পরিবহন খরচের দরুন সেটা হয়ে ওঠে নি। বার্মার রেলে আকাশ ছোঁয়া ভর্তুকি দিয়েও খাদ্য দ্রব্যের দাম কমিয়ে রাখা যায় নি। অন্যভাবে বললে, মন্বন্তরে লাভ করে, ফুলে ফেঁপে উঠেছে রেল কোম্পানিগুলো। ১৮৯৬-৯৭ সালের মন্বন্তরে মেইকটিলা-মিনগিয়ান রেলপথ, বর্মার মন্বন্তর বরাদ্দের ৯৫ শতাংশ খাদ্যসশ্য রপ্তানি করে। বার্মার প্রশাসকেরা এই রেলজালের মাধ্যমে ইউরোপে আরও বেশি দামে গম পাঠাতে সুরু করেন। বার্মা রেলওয়ে কম্পানির জন্য সস্তার শ্রমিক, আরও লাভের গ্যারান্টি আর মন্বন্তর ভর্তুকি দিয়েও কোম্পানির লাভ বাড়লেও জনগণের মন্বন্তরের কবলে পড়ে।
সরকারি মদতে, করদাতাদের অর্থে তৈরি হয়ে ফুলে ফেঁপে ওঠা এই রেল কোম্পানিগুলো, মন্বন্তরের সময়, মন্বন্তর এলাকাগুলোয় সস্তার খাদ্যশস্য সরবরাহ করতে ব্যার্থ হয়েছে। গম পরিবহনএর শুল্ক বেশ চড়া ছিল, বিশেষ করে আমেরিকারমত যেসব দেশে গম রপ্তানি হয়েছে, তার তুলনায়। রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কমিশন সস্তায়, প্রতি মাইলে ২৫ পেনি শুল্কে গম পরিবহনের জন্য আমেরিকার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানায়। ভারতের শুল্ক এর তুলনায় অনেক বেশি ছিল, বিশেষ করে জিআইপিআর অথবা ইআইআর রেলপথে। সরকারি প্রচেষ্টায় পরিবহন শুল্ক কমলেও তাও আমেরিকার তুলনায় অনেক বেশি। আর এই পরিবহন ব্যাবস্থায় মধ্যসত্ত্বভোগীদের সংখ্যা বাড়ায় খরচও বেড়ে চলে।
 ১৮৭৫-১৯১৪ সময়ে ১ কোটি ৬০ লক্ষ ভারতীয় মন্বন্তরের কবলে পড়ে মারা যান। অন্যভাবে বললে তাদের খুন করা হয়, এটি আসলে গণহত্যাই। মন্বন্তর বলা আসলে ভাবের ঘরে চুরি। ব্রিটিশ অর্থ ব্যবস্থাকে মন্বন্তরের ছোঁয়ার বাইরে রাখার চেষ্টা হয়েছিল ইন্ডিয়া অফিস মারফৎ, যাতে তৃতীয় দুনিয়ার এসব খারাপ সারাপ ব্যাপারে তাদের নাম উঠে না আসে। ১৮৯৬-৯৭ এবং ১৮৯৯-১৯০০ অর্থবর্ষে ব্রিটেন, ইন্ডিয়া অফিসকে মন্বন্তরের জন্য দান দিতে চাইলেও ভারত সরকার সেই দান নিতে অস্বীকার করে। বিদেশী বা ভারতের কোনও মন্বন্তর সাহায্য নেওয়া হয় নি। অথচ, মন্বন্তর রোখার অর্থ বিনিয়োগ করে ভারত জুড়ে রেল সংযোগ বেড়ে চললেও, সেই কোম্পানিগুলো মন্বন্তর রোখার কাজে বিন্দুমাত্র সাহায্য করে নি, বরং প্রকোপ বাড়াবার কাজ করেছে। দ্বিতীয়বারের জন্য রেল কোম্পানিগুলোকে অর্থ সাহায্য করার সময়, ভারত সরকার রেল আমলাদের মন্বন্তর তৈরির জন্য বিন্দুমাত্র দায়ি করে নি, এবং যে তিনটি ফামিন কমিশন তৈরি হয়, তারাও রেল আমলাদের প্রশ্ন করে নি।
সাম্রাজ্য মনে করত ভারতএর জনগন নিজেদের দোষেই মারাযাচ্ছে। এই ঘটনায় ব্রিটেনএর বিন্দুমাত্র হাত নেই। ভারতের জনঘনত্ব এই মন্বন্তরগুলোর জন্য দায়ি, এরকম এক ধারনা ইউরোপ ছড়িয়ে ছিল। যেমন, ম্যালথাসবাদী ভাইসরয় লিটন। তিনি মনে করতেন ভারতই তার দুর্দশার জন্য দায়ি, The population of this country is still almost wholly dependent upon agriculture. It is a population which, in some parts of India, under the security for life which are the general consequence of British rule, has a tendency to increase more rapidly than the food it raises from the soil.
ভারতের বিশিল্পায়নের অন্যতম কারবারি, উপনিবেশিক রেল ভারতের জনগণকে আরও বেশি জমির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। ১৮৯৮-১৯০০র পরে অনেক বেশি বিনিয়োগ সেচ ব্যাবস্থায় বরাদ্দ হয়। কিন্তু রেল কোম্পানিগুলোকে আরও সাহায্যের নীতি আরও বেশি আঁকড়ে ধরছিল, যার লাভ সুদে আসলে উসুল করেছে কোম্পানিগুলোর লন্ডনের বোর্ড সদস্য আর অংশিদারেরা। এ ছাড়াও লাভ করেছেন শস্য ব্যাবসায়ী, মজুতদার, মহাজনেরমত মধ্যসত্তভোগীরা। 

দই খেলেন গোবর্ধন, বিকারের বেলায় হর্ষবর্ধন - ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের লুঠ, রেলপথ এবং মন্বন্তরনামা বা গণহত্যা২ - loot, railway, famine, genocide in colonial india2


ব্রিটিশরা বরাবরই বোঝাবার চেষ্টা করেছে, মন্বন্তর রুখতে রেলপথ দাওয়াইয়ের জুড়ি নেই। দাদাভাই নৌরজী এই তত্ত্ব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। জুল্যান্দ দানভারস, ভারত অফিসের পাব্লিক ওয়ার্কস দপ্তরের সদস্য, নৌরজিকে এক চিঠি লিখে বলেন, রেলের দরুন নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে, দানা শস্যের দাম বাড়ছে। তিনি পরিসংখ্যানের হিসেব দেখিয়ে বলেন, এই বাড়তি দাম ভারতের জাতীয় আয় বাড়াতে সাহায্য করছে। এই পরিসংখ্যানের যাদুবিদ্যাকে নস্যাৎ করে নৌরোজী বলেন, if the mere movement of produce can add to the existing wealth, India can become rich in no time. All it would have to do is to go on moving its produce continually.. .the magic wheels of the train wealth will go on springing till the land will not suffice to hold it. বাজার অর্থনীতির সূত্রে জাতীয় আয় বাড়ার সংবাদের মরীচিকায় ক্ষমতার কাছে থাকা অর্থনীতিবিদের দেহে রক্ত চলাচল বাড়তে পারে, কিন্তু সাধারণের আয় আরও কমে, ফড়েদের আর শিল্পপতিদের ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্স বাড়ায় সেই তত্ত্ব সাধারণ মানুষ জানে।
তবুও রেলকথা শেষ হয় না। ভাইসরয়এর পাবলিক একাউন্টস কমিটির সদস্য স্যর থিওডর হোপ, ১৮৮০র দশকে ভারতীয় করদাতাদের অর্থকে আরও কাজে লাগাতে অতি উতসাহে রেলপথে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এলেন। তিনি রেলকে মন্বন্তর(না গণহত্যা)এর সমাধান আর সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে দেখলেন। হোপ, লুই ম্যালে(Louis Mallet), এবং হোপএর গুরু ইভিলিন বারিং(Evelyn Baring) মন্বন্তরের জন্য তৈরি চ্যারিটেবল ফেমিন ইন্সিওরেন্সের অর্থ সম্পদ, সরকারের দেওয়া আর্থিক নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রেল কোম্পানিগুলিতে বিনিয়োগের কথা বলেন। কয়েকটি কেন্দ্রিয় প্রদেশ উনবিংশ শতকের শেষ দিকে মন্বন্তরে প্রায় উজাড় হয়ে যেতে বসে। ১৮৮৬তে লন্ডনের ষ্টক বাজারে দ্য বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ের ষ্টক ছাড়া হয়। অংশিদেরেরা সরকারের গ্যারান্টি পেলেন এবং কর্তৃপক্ষ ভারতীয় করদাতাদের অর্থে তৈরি মন্বন্তর নিরোধের জন্য তৈরি চ্যারিটেবল ফেমিন ইন্সিওরেন্সের সাহায্য পেলেন। ১৮৭৮এ রক্ষণশীল ভাইসরয়, লর্ড লিটন, এই চ্যারিটেবল ফেমিন ফান্ড স্থাপন করেন। এর উদেশ্য ছিল যারা এই ফান্ড থেকে সাহায্য পেলেন তারা মন্বন্তরে সাহায্য করবেন। গরীব চাষিদের থেকে বাধ্যতামুলকভাবে খাজনা নেওয়া হয়।
১৮৮৫তে প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের বাবা, ভারত সচিব, রান্দলফ চার্চিল(ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আর ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের অংশিদার – গবেষকরা বলেন যারাই ভারত সচিব হয়েছেন তাদের অধিকাংশই বদমাশ কম্পানি আর ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের অংশিদার, রথসচাইলড পরিবারের অনুগত, চার্চিলরা বংশপরম্পরায় ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের অংশিদার ছিলেন, ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড ১৯৯৭তে পরিপুর্ণ সরকারি ব্যাঙ্ক হিসেবে গন্য হল), এই ফান্ড, বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে আর ইন্ডিয়ান মিডল্যাণ্ড রেলওয়ে কোম্পানিতে বন্ড আর ডিভিডেন্ডে বিনিয়োগ করেন। বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে রথসচাইলড পরিবারের(বকলমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সবথেকে বড় অংশিদার। বিশ্বেন্দুর লেখা বদমাশ কোম্পানি দেখতে পারেন) উদ্যম। উনবিংশ শতকের প্রকল্পগুলি ধরলে, এই একটিমাত্র প্রকল্প, যেটিতে সবথেকে বেশী পরিমান সম্পদ বিনিয়োগ হয়েছে। এই প্রকল্পে বিভিন্ন রেল মালিক, প্রাক্তন সরকারি আমলা, পার্লামেন্টের সদস্য বিনিয়োগ করে। তবে মন্বন্তরএর জন্য সরিয়ে রাখা অর্থ ভুল ব্যাবহারের জন্য অন্য দুই প্রধান সাম্রাজ্য পুরুষ ভাইসরয় কার্জন এবং ভারত সচিব লর্ড হামিলতন চার্চিলএর সমালোচনা করেন।
১৮৯০তে রেলপথ তৈরি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ধরে নেওয়া হোল এই কেন্দ্রিয় অঞ্চলগুলোর অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। আর সবথেকে বড় কথা মন্বন্তর রোখা যাবে। ব্যাবসার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছিল কিনা তা না বলা গেলেও, বিভিন্ন শুল্ক, কর আর খাজনার পরিমান যে বৃদ্ধি পেয়েছিল, ১৮৯৮এর ফেমিন কমিশনের সাক্ষ্যতে বহু মানুষ উল্লেখ করেছেন। রেলওয়ে সবথেকে বড়ও যে কাজটি করেছিল সেটি হল এই অঞ্চলগুলো থেকে খাদ্যশস্যএর ব্যাপক হারে বিদেশে রপ্তানি হওয়া। খাদ্য শস্যর দাম ৫০ থেকে ১০০ গুণ বাড়ল। সম্বলপুরের মত এলাকায় এত দাম বাড়ে যে সাধারণ মানুষের চাল-গমও কেনার ক্ষমতা লোপ পেয়ে যায়। কিন্তু শস্য রপ্তানি বন্ধ হয় নি বরং মন্বন্তরের সময় সেই পরিমান বেড়েছে। অথচ বেঙ্গল নাগপুর লাইন তৈরি হয়েছিল মন্বন্তর রোধ করার জন্য। সেই লাইন অবলম্বন করে মন্বন্তর এলাকাগুলো থেকে শস্য রপ্তানি হচ্ছে অবাধে, মুক্ত বাণিজ্যের বন্ধু সরকার সেই চেষ্টায় বাধা দেয় নি।
যদিও গবেষকেদের আজও ধারনা রয়েছে ভারত সরকার ভারতের জনগণের জন্য কাজ করতে বাধ্য। কেন ধারনা করেছিলেন কে জানে! স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে(বা পরেও ঘোমটা পালটালেও চরিত্র যে পাল্টায় নি তাতো দেখাই যাচ্ছে) যে সরকার তাকে ভুলে ভারত সরকার বলা হত ঠিকই, কিন্তু তার সত্যিকারের কাজ ছিল ব্রিটেনের স্বার্থ দেখা। সে কেন ভারতের জনগণের স্বার্থ দেখবে? ভারত সরকারতো কথার কথামাত্র।

দই খেলেন গোবর্ধন, বিকারের বেলায় হর্ষবর্ধন - ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের লুঠ, রেলপথ এবং মন্বন্তরনামা বা গণহত্যা১ - loot, railway, famine, genocide in colonial india1

ভারতবর্ষে ১৯০বছরের রাজত্ব চালাতে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য একটি পেনিও খরচ করে নি। সাম্রাজ্যের নীতি ছিল, শুধু ভারতের প্রশাসনএর খরচ তোলাই নয়, ব্রিটেনে হোয়াইটহল চালানো, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগএর খরচ, বিশাল সেনাবাহিনী পুষে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চালানো, লুঠের সম্পদে ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লব এবং সেই দৈত্যসম কারখানাগুলোতে অপরিসীম পরিমানে কাঁচামাল সরবরাহ করা এবং সেই কাঁচামাল ব্যাবহার করে যে উতপন্ন দ্রব্য তৈরি হবে, তাকে আবার উপনিবেশের বাজারে এনে বিক্রি করার পরিকাঠামো তৈরির খরচ বহন করবে ভারতেরমত প্রধান উপনিবেশগুলি। এবং সেই জন্য ভারতে লুঠের ফলে অর্জিত বিপুল বিনিয়োগে বিস্তৃত রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা, ব্রিটিশের ধ্রুপদী উপনিবেশিক অর্থনীতির অন্যতম অঙ্গ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবথেকে বড়ও বিদেশী বিনিয়োগের প্রকল্প।

১৯১৪ পর্যন্ত ভারতে রেল রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের অর্থ ১৭৫৭ থেকে ভারত লুঠের অর্থে সঞ্চিত হয়েছে। ১৮৬৯ পর্যন্ত ভারতেড় রেল প্রকল্পগুলোতে ব্রিটিশ গ্যারান্টি প্রথার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ফেরত দেওয়ার ব্যাবস্থা হয়েছে। ফলে ভারতে রেল তৈরির খরচ কমে যায়। ১৮৭০এ দ্বিতীয় আফগান যুদ্ধ আর ভারতে একেরপর এক মন্বন্তর ঘটার ফলে সরকারি খরচ আকাশ ছোঁয়। ভারত সরকার রেলপথ তৈরিতে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয় দুটো কারনে ১) সেনাচলাচল ২) কাঁচামাল ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া আর তৈরি দ্রব্য ভারতের বাজারে এনে সস্তায় বিক্রি করা।
কিন্তু আজও ভারতে ব্রিটিশ রেলপথ কুখ্যাত হয়ে থাকবে মন্বন্তর তৈরির কারন হিসেবে। তীর্থঙ্কর রায় বলছেন ১৮৭৬-৭৮, ১৮৯৬-৯৭ এবং ১৮৯৯-১৯০০ এই তিন সময়েড় মন্বন্তরে ভারতে খুব কম করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ হতভাগ্য মানুষ মারাগিয়েছিল। আমরা বলছি তাদের খুন করা হয়েছিল। এইগুলিকে আজ গণহত্যা বলতে হবে। পার্লামেন্টের মন্বন্তর কমিশনের সামনে নানান সাক্ষ্য এবং তথ্য প্রদানের পরে, রেলপথ তৈরি হয়েছে ভারতের উন্নতির জন্য, সেই মিথ্যে-মিথটি প্রথম ভাঙল। সেই প্রথম বোঝাগেল, রেলপথ কিভাবে ব্রিটিশ কারখানাগুলির জন্য ভারতের কৃষি উৎপাদন নির্বিচারে ব্রিটেনের জন্য রপ্তানি করছে যাতে ৪০ বছর ব্রিটেনে মন্বন্তরের অবস্থা তৈরি না হয়। ভারতজুড়ে শস্যদানার কৃত্রিম অভাব তৈরি হয়েছে। এই অভাব এলাকায় শস্যদানার দাম বাড়িয়ে সাধারনের নাগালের বাইরে নিয়ে গিয়েছে। রেল পরিবহন আর রেলরাস্তার পাশে তৈরি টেলিগ্রাফ লাইনের দরুন কোথায় সস্তায় শস্যদানা পাওয়া যাচ্ছে আর কোথায় দাম বেশী, সেই খবর বিদ্যুৎ গতিতে পৌঁছে যাচ্ছে ফড়েদের কানে। ফলে নিত্যদিন নতুন নতুন মন্বন্তর এলাকা তৈরি হচ্ছে রেলপথের পাশের গ্রামগুলোয়। আর শস্যে মড়ক লাগলেতো কোথাই নেই। কমিশনের সামনে বহু ভারতীয় রেলপথের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা বলছেন রেল বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ভাল আর গমের চাহিদা তৈরি করেছে, কিন্তু ভারতে উৎপাদন খুব একটা বাড়ে নি। ফড়েরা রেলপথ আর টেলিগ্রাফের মদতে, ভারতজুড়ে, কম দামের শস্য বেশি দামের অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার একটা অস্বাভাবিক দামী শস্যবাজার  তৈরি করে।
১৮৭৭এর মাদ্রাজ মন্বন্তরে দানাশস্যর দাম ৫ থেকে ৮ গুণ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য শস্য কেনার ক্ষমতা সাধারনের হাতের বাইরে চলেযায়। আরও অস্বাভাবিক কাণ্ড হল, তখনও কৃষি শ্রমিকদের কাজ ছিল। সেবছরও ভারত অফিস বলে গিয়েছে শস্য সরবরাহ স্বাভাবিক। অথচ ১৮৭৬-৭৮এর সময়ে বোম্বে আর মাদ্রাজ প্রদেশে ২৩টি তালুকে মন্বন্তর শুরু হয়ে গিয়েছে।  ১৮৮০র মন্বন্তর কমিশনার স্যর রিচার্ড স্ত্রাচি মন্বন্তর রুখতে আরও ১০,০০০ মাইলের রেলপথ তৈরি করার প্রস্তাব দেন। এত বড় কথা বলার পেছনে ছোট একটা সুতোর গিঁট রয়ে গিয়েছে। ১৮৭৭এ রিচার্ড স্ত্রাচি ভারতের সবথেক বড় রেল কোম্পানির প্রধান ছিলেন। এর পরে বহু কমিশন বলেছে কেন রেল, মন্বন্তর এলাকাগুলো থেকে তার শস্য পরিবহনের দায়িত্ব পালন করতে পারলনা।  
রমেশ দত্ত বলছেন, যেহেতু সাম্রাজ্যের নীতিই হল ভারতে রেলপথেই সমস্ত বিনিয়োগ করা, সেহেতু, সেচ বা অন্যান্য সামাজিক উদ্যমে বিনিয়োগের পরিমান যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলছেন ফাটকা কারবারি আর মিলমালিকদের জন্য তৈরি ১৮৭৮এর পরে তৈরি  রেললাইনগুলো ফাটকা কারবারি আর পুঁজিপতিদের জন্য তৈরি হয়। দানাসশ্যর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় কৃষককে অনেক বেশি পরিমানে খাজনা দিতে হয়। ১৮৯৭র পর রমেশ দত্তর নিদান ছিল বিন্দুমাত্র রেলে বিনিয়োগ না করে মাঠে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া। কেননা, রেল তৈরির অজুহাত দেখিয়ে জমির খাজনা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে, ফলে শস্য দানার দাম বেড়েছে। এমনকি গরীব কৃষককে অনেক বেশি কর দিতে হয়েছে। কৃষি উৎপাদন কমায় ছোট শিল্প উতপাদকেদের উৎপাদন কমেছে লক্ষণীয় হারে।

Tuesday, January 24, 2012

ব্রিটিশদের লুঠের রাজত্ব৩


রেলপথ থেকে লুঠ
রমেশ চন্দ্র দত্ত বলছেন ১৮৪৯ থেকে প্রত্যেক বছর বিনিয়োগের ওপর ৫ শতাংশ সুদ ধরে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়েকে দেওয়া হয়, ১৮৪৯এ ৫,৬০২ পাউন্ড, ১৮৫০এ ১৭,৪৭১ পাউন্ড, ১৮৫১এ ৩৭,১৮৫ পাউন্ড, ১৮৫২তে ৪৫,২৩৪ পাউন্ড, ১৮৫৩তে ৫২,০৭১ পাউন্ড, ১৮৫৪তে ৮৮,৮৮৪ পাউন্ড, ১৮৫৫তে ১,৮৫,৭৩০ পাউন্ড, ১৮৫৬তে ২,৯৭,৩৯০ পাউন্ড, ১৮৫৭তে ৩,৫৪,৫১১ পাউন্ড, ১৮৪৮তে ৪,৩৩,৯৬৮ পাউন্ড মোট ১৫,২৮,০৪৬ পাউন্ড। গ্রেট পেনিনসুলার রেলওয়েকে দিয়েছে, ৪৫৬০৪৯ পাউন্ড। মাদ্রাজ রেলওয়েকে দেওয়া হয়, ২,৬০,৭৩৪ পাউন্ড। রমেশ দত্ত বলছেন রেলপথ তৈরির ও পরিচালনা ব্যবসায় প্রত্যেক বছর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলেও যেহেতু সরকার নিজে সুদসহ বিনিয়েগের অর্থ ফেরতের নিশ্চিন্ততা দিচ্ছে, সেহেতু প্রত্যেক বছর নতুন নতুন কারবারি প্রবেশ করতে থাকে এবং ক্ষতির পরিমানও বাড়তে শুরু করে পাহাড় প্রমাণ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গুটিয়ে যাওয়ার আগেই পাঞ্জাবে দ্য সিন্ধ রেলওয়ে কোম্পানি, বম্বে, বরোদা এন্ড সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান রেলওয়া কোম্পানি, দ্য ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি, দ্য গ্রেট সাউথ অব ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি, দ্য ক্যালকাটা এন্ড সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে কোম্পানি তৈরি হয়েগেল সরকারের নিশ্চিন্ততার উত্তরে, অথচ এর মধ্যে অনেক পথই তৈরি হল না।
লেফটানেন্ট কর্নেল চেসনি ছিলেন অডিটর অব একাউন্টস ছ বছর ধরে, পরে তিনি কুপার্স হিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রেসিডেন্ট হয়ে যান, তিনি বলেন " Railways  began in India in the year I 848, when the first staff of engineers were sent out; and I need hardly say that in those days engineers in England were not accustomed to make economy their first consideration. These gentlemen were sent out to make the railways, and there was a kind of understanding that they were not to'be controlled very closely. . . . Then, too, the system of audit was extremely imperfect; it was what is called technically a post audit-nothing was known of the money expended till the accounts were rendered. The result of the system was that on one railway, the East India Railway, four millions sterling out of twenty millions had been disallowed from the capital account. The only thing to be done, however, under those circumstances, was to allow it, and bring it all into the capital account again, because, under the contract as it was worded, it was quite impossible to disallow it finally, and it was quite understood that whatever was spent must be eventually passed.
লরেন্স আর মেয়োর সময়কালের অর্থ মন্ত্রী উইলিয়ম এন মেসি বলছেন,  The East India Company cost far more, if not twice as much, as it ought to have cost ; enormous sums wcrc lavished, and the corltractors had no motive whatever for econorny. A11 the money came from the English capitalist, and so long as he was guaranteed 5 per cent. on the revenues of India, it was immaterial to him whether the funds that he lent were thrown into the Hooghly or converted into brick and mortar. The result was these large sums were expended, and that the East India Railway cost, I think (I speak without book), about 30,000 pond a mile . . . . I t seems to me that they are the most extravagant works that were ever undertaken.
ভারতের ভাইসরয় স্যর জন লরেন্স বলছেন, "I think it is notorious in India among almost every class that ever heard talk on the subject, that the railways have been extravagantly made; that they have cost a great deal more than they are worth, or ought to have cost. With a guarantee of 5 per cent., capitalists will agree to anything ; they do not care really very much whether it succeeds or fails; 5 per cent. is such a good rate of interest that they are content to get that, and not really look after what is done. Hence one of the reasons why the cost of the railways has been rnore than it ought to have been. The Natives in my tirne, (and I see little difference to this day in spite of all the attempts of the Directors of the Companies to improve the system), greatly complained of their treatment on the railways ; and I myself believe that though it is difficult to prevent abuse of power under such circumstances, yet the Government could be more effective in that respect than the Co~npanies. . . . The Natives complained very much in this respect ; and on inquiry that I used to make in India, both official and private, I was confirmed in the view that these statements of the Natives were to a considerable extent true."
জেনারেল স্ট্রেচিকে ভারতে রেলদপ্তরের পারচেজএর দায়িত্বে পাঠানো হয়, তিনি বলছেন, There is no doubt that that is the unfortunate result of having a Despotic Government, managed in the sort of way that the Government of India is and, for myself, I do not exactly see that there is any remedy for it.
আগস্ট ১৬, ১৮৭৬এর মিনিটে লর্ড লরেন্স রেলদপ্তরের কাজে ভারতের জনগণের কত ক্ষতি হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন "It is estimated that while the Companies will have to supply 81 millions for the railways now under construc tion, the Government contribution will be 7.5 millions for land, loss by exchange, and supervision; 144 millions for interest paid in excess of nett revenues; and 4.5 millions in interest paid on those payments of guaranteed interest.
The main system of Indian railways is nearly completed the State Railways, which are now under construction or proposed, will, for the most part, supplement the existing trunk lines. There are now open in India 5872 miles of railway which have cost about £97,ooo,ooo, giving an average expenditure of £16,536 per mile. . . . As no more lines will be entrusted to Companies, all railway construction will eventually be in the hands of the Government. Lines are now open from Calcutta to Multan and Bombay, and from Bombay to Madras. The completion of the latter line was effected on the 1st of May 1871, on which day the Great Indian Peninsula [railway] joined that from Madras.
The whole amount of guaranteed capital which has been raised to the grst March last was £94,725,ooo, of which £92,417,000 had been expended. The sum expended direct by the Government amounted to £5,398,000, making a total expenditure of upwards of a hundred million pounds sterling.
But the railways are now almost completed, so that, with the cessation of heavy outlay on construction, the financial position may be expected to improve." 
সেচ বিশেষজ্ঞ আর্থার কটন বলেন "My great point is this, that what India wants is water carriage ; that the railways have completely failed ; they cannot carry at the price required ; they cannot carry the quantities; and they cost the country three millions a year, and increasing, to support them. That steamboat canals would not have cost more than one-eighth that of the railways ; would carry any quantities at nominal prices and at any speed; would require no support from the Treasury; and would be combined with irrigation."(রমেশ চন্দ্র দত্ত)
১৮৭০ থেকে ৮০ পর্যন্ত প্রত্যেক বছরে সরকারের রেলপথ আর সেচব্যবস্থার সরাসরি তুলনা করছেন রমে চন্দ্র দত্ত মশাই
বছর পর্যন্ত খরচ                     সরকারি রেলপথে     সেচ ব্যবস্থায়
১৮৭০                            ৭৪৩৮৬২          ২৬৯৫৪৫৬
১৮৭১                            ৪৪৯৩৭২          ৭১৮৪৩৮
১৮৭২                            ৬৪৪৬২০          ৯৮৩৮৫৪
১৮৭৩                            ১৪১৩৬৪৯         ৭৭০৯২০
১৮৭৪                            ২৩৫৪৬২৫         ১১৯৮৬৮২
১৮৭৫                            ৩০১৪১৮০         ১২৩৫৫৯১
১৮৭৬                            ৩১৬৫১৮৪         ১১০৫৪৪৫
১৮৭৭                            ২৮৬৫৮৬১        ৯৪৩৪২৩
১৮৭৮                            ৩৯৮৪৯৬৮        ৮০৬০৮৪
১৮৭৯                            ৩৩২৭৮৮৮        ৭৯৪৬৩৫
১৮৮০                           ২৬৮০৪৯৩         ৫৯৮৮৩৭
মোট ব্যয়                          ২,৪৬,৪৪,৭০২       ১,১৮,৫১,১৯৩
এর পর আর্থার কটনের দাবি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি ১৮৭৮এ একটি পার্লামেন্টারি কমিটি তৈরি হল লর্ড হ্যামিলটনকে চেয়ারম্যান করে. সেখানে কটন বললেন, The Railway account now stands thus :-Cost of works  £112,000,000, Cost of land 8,000,000 Debt now , 50,000,000 Total £170,000,ooo, for which we have about 7500 miles, or at the rate of £23,ooo per mile. At the present cost to the Treasury in interest on share capital 4.5 millions, and on land and debt at 4 per cent., 3 millions ; total, 7.5 millions. From which, deducting nett receipts, 44 millions, leaves three millions a year as the loss on the money sunk."
" The capital spent on the water-works, including the Toombhadra, is £ I 6,000,000. The accumulation of interest against the Bari Doab, the Ganges, and other canals, are much more than balanced by those to credit on the Kaveri, Krishna, and Godavari works, which have at least 10 millions to their credit, leaving a balance in their favour of 5 millions. So that the money sunk may be taken at £11,000,000, the interest of which at 4 per cent. is half a million, against which we have a nett profit over working expenses of about a million, leaving a nett gain to the Treaszvry of half a million a year on irrigation works.
তাঁর বক্তব্যে তিনি সব থেকে বড় কথাটি বললেন,  I am afraid we must reckon that out of the 40 millions alkcted by the famine in Madras, Mysore, Hyderabad, and Bombay, 4 or 5 millions have perished, after spending 120 millions on railways besides incurring a debt of 50 millions sterling, and railways did not provide food for man and beast; did not carry the whole traffic of the country ; did not carry it cheaply enough ; did not pay interest on cost and debt ; did not drain the country, and did not provide drinking water for the people. All this was and could be done by irrigation works.
অথচ পণ্য পরিবহনে বরাবরের জন্য কেন জলপথকে উপেক্ষা করা হল, কমিটি কটনকে প্রশ্নটি করলে দৃপ্তস্বরে কটন উত্তরদিলেন, because it would stultify the railways, that is the sole point. Only think of a canal by the side of the Eastern Bengal Railway which carries some 200,000 tons, and a canal by the side of it carrying 2,000,ooo tons, and swarming with passengers and goods. What a terrible affront to the railway that must be(www.scribd.com/doc/4596223/EconomicHisIndia2-Romesh-Dutt-1903).

ব্রিটিশদের লুঠের রাজত্ব২


ঘুষের লুঠ
সে সময়ে হেস্টিংসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল ক্লেভারিং আর ফিলিপ ফ্রান্সিস বিলেত থেকে এলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের নিদান দিতে। কাজে কাজেই হেস্টিংসের দুই লুঠেরা হাত, কান্তবাবু আর গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের বড়লোকিতে কাতর মহারাজা নবকৃষ্ণ, সাহেবদের সামনে ঠুকে দিলেন এক পত্র বোমা, An account of the money received by Governor Hastings and other gentlemen from the Zaminders, Talookdars and Farmers of the subah of Bengal from his accession to the government till the arrival of the General(Clavering) and other gentlemen; exclusive of Nuzzers(presents), pearls, Jewels, Cloths and complementary presents…
Dacca                                                                                                                                        Rs।
Ready money                                                                                                          5,00,000
Mr.Barwell                                                                                                               4,00,000
Rungpore etc                                                                                                                           
Ready money                                                                                                          1,00,000
Promisery                                                                                                                  1,00,000
Moorshidabad-Exclusive of Mr।Middleton                                                                      3,00,000
Dinagepore                                                                                                                               2,00,000
Boglepore                                                                                                                                  2,00,000
Beerbhum, Bishnupur etc।,                                                                                                  1,50,000
Midnapore
Mr।Vansitart and other Gentlemen                                                                    3,50,000
Raja Kissenchand                                                                                                                   1,50,000
Burdwan-Exclusive of Mr। Chas Stewart
Through Diwan Brojkishore                                                                                  2,00,000
Phoolbundy                                                                                                              1,50,000
Mundalghat salt contract                                                                                      1,50,000
Hooghly, Hijli etc।
Ready Money                                                                                                          1,00,000
Settlement for salt                                                                                                   6,00,000
Jessore etc।,
On account of sault of Raymangal etc।,                                                                           2,00,000
Farmers of 24 praganas                                                                                                         0,50,000
From Raja Huzuri Mul and Madan Duttfor relinquishing the farm of
Poornea                                                                                                                                     1,00,000
Profit of Butta, premium of bills from Raja Huzuri Mal & Doyalchand                     1,50,000
From servants wages                                                                                                              1,00,000
Total                                                                                                                                          42,00,000
Governor Hastings received from Nawab Shuja-ud-Daula & others without participation as follows –
From Nawab Mubarak-ud-Daula through Munny Begam                            
Munny Begam                                                                                                         2,00,000
From the sets                                                                                                            50,000
Raja Rajbullav                                                                                                        1,00,000
From the Zamindari of Rani Bhowani                                                                                1,25,000
From Nawab Shuja-ud-Daula in cash                                                                                 5,00,000
Promisory                                                                                                                  5,00,000
From the raja of Benaras in cash                                                                                         2,00,000
Promisory                                                                                                                                  1,00,000
                                                                                                                                                    17,75,000
Mr। George Vansittart without participation –
From Shuja-ud-Daula                                                                                                            2,00,000
From the raja of Benaras                                                                                                      1,00,000
                                                                                                                                                    62,75,000
(সূত্রঃ রজতকান্ত রায় – পালাশির ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ)
মোটামুটি ওপরের তালিকায় পলাশি উত্তর কালের কয়েক দশকের মধ্যেই ঘটে যাওয়া কপালে চোখ তোলা বাঙলা একটিমাত্র প্রান্তে দেওয়া ঘুষের অংকটি বাঙলা সুবা থেকে ইংরেজদের ওপর মহলের ঘুষ আদায়ের গা ছমছমে উপন্যাস নাহলেও নভেলাতো বটেই। এই লুঠ(কু)কর্মটি পরবর্তী দেড় শতাব্দকালে ক্রমশঃ ক্রমশঃ গায়েগতরলাগা বালিশসম উপন্যাসের চেহারা নেবে। কত অর্থ ইংলন্ডে ঘুষ বাবদ গিয়েছে যদিও তা হিসাব করা অসম্ভব, তবুও এই পরিমান আঁকতে পারলে যেকোনো রহস্য উপন্যাস হার মেনে যেতে পারে, যে উপন্যাস সভ্যতার রঙিন মুখোশপরা ইংরেজদের সরাসরি নগ্ন করে দাঁড় করয়ে দিতেপারে খোলা বাজারে। অনেকেই সাফাই গাইছেন, ইংরেজ উচ্চপদস্থ আমলারা মাঝের অথবা নিচের তলার কর্মচারীদেরমত সরাসরি ঘুষের টাকাটা নিতেন না। যাঁরা এই দাবি করছেন তাঁরা ক্লাইভ, হেস্টিংস, পিটদের সরাসরি রোজগার দেখতে পাননি। পরের স্তবকে দেখব রাণী ভবানী শুধু হেস্টিংসকে সরাসরি দিয়েছেন সেযুগের ১,২৫,০০০ টাকা ঘুষ, মির জাফরের বিধবা মুন্নি বেগম ক্লাইভকে দিয়েছে সে যুগে ৫ লক্ষ টাকা। এ কিন্তু চোখে দেখা হাতে লেখা হতিহাস। এর বাইরে! যদি চোখ বুজেই ধরেই নেওয়া যায় যে, প্রাগুক্ত প্রবক্তাদের কথাই বেদবাক্য, তাহলে বামহস্তক্রিয়ার শেকড় চারিয়ে যায় অনেক নিচ পর্যন্ত। এঁদের দাবি অনুযায়ী যারা মহামহিম কোম্পানির বড় আমলাদের জন্য হাতে হাতে অর্থ নেওয়ার বামহস্তক্রিয়ায় জড়িয়ে থাকতেন, সেই মাঝারিতলার না দেখতে পাওয়া মুখেদের, বাম হাতের রোজগার বড় কম ছিল না বোধহয়। বড়, মাঝারি আর ছোট রুইকাতলাদেরসঙ্গে পুঁটিমাছেদের বেসরকারি ঘুষ প্রাপ্তিযোগ জুড়লে লুঠের বখরার টাকা আজকের অর্থেরমানে আকাশ ছাড়িয়ে যাবার আশংকা থাকে। এর সঙ্গে যদি সারা বাঙলার বখরা জোড়া যায়, সেই অংক কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানেন না।
শুধু রাণী ভবানীর জমিদারির হিসেব করলেই বিষয়টা নতুন করে খোলতাই হতে পারে। বাঙলা সুবা জুড়ে তখন ঘুষের আর লুঠের রাজত্ব। সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি বাঁচাতে রাণী ভবানী হেস্টিংসকে ১,২৫,০০০টাকা ঘুষ দিয়েও পার পেলেন না। তিনি সদাশয় পালক ইংরেজ বাহাদুরকে স্পষ্ট জানালেন ১১৭৯ আর ১১৮০তে নিজের জমিদারি ইজারা নিতে সেলামি দিতে হয়েছে ৪,৪০,০০১টাকামাত্র। মুরলী পোদ্দার, সদানন্দ পোদ্দার আর হটু বিশ্বাসের হাত দিয়ে হেস্টিংসের দেওয়ান কান্তবাবু সরাসরি নিয়েছেন ১,২৫,০০০টাকা। যুগল উকিল, রূপ পোদ্দার আর মুরলী পোদ্দারের হাত দিয়ে আর প্রায় মরতে বসা জগতশেঠের কুঠির মাধ্যমে শান্তিরাম সিংহ ২ লক্ষটাকা রোজগার করেছেন। এর মধ্যে এক লক্ষ টাকা রাজবাড়ি আর শেঠভবনে গয়নাগাটি বেচে জোগাড় করতে হয়েছে। এ ছাড়াও যে তৃতীয় ব্যক্তিটি প্রণামী পেয়েছেন তার নাম ভবানী মিত্র। নয়ান পোদ্দার, মুরলী পোদ্দার, রামকৃষ্ণ পোদ্দার, অখিল পোদ্দার, সদানন্দ, আনন্দরাম উকিল, পরীক্ষিত মোরারের হাতে হাতে এবং আনন্দরাম উকিলের মধ্যস্থতায় মোতিচাঁদ শেঠের পাট ও দর্পনারায়ণ(ঠাকুর!) উকিলের মাধ্যমে পরগণা নুরুল্লাপুরের উপর ঢাকায় প্রদেয় পাট মার্ফত মোট ৩,৭৫,৪৫২ টাকা পেয়েছেন। এতসব ঘুষঘাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত রাণীর হারবন্দ পরগণা হেস্টিংসের বেনিয়ান কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথ নন্দীর গ্রাসে পতিত হয়। কান্তবাবুর স্বজাতি দেওয়ান দয়ারাম রায়ও রাণীকে বন্ধকীমহলের ওপর ধার দিয়ে জমিদারির একঅংশ দখল করে নাটোরের পাশে দীঘাপাতিয়া জমিদার রাজ সৃষ্টি করেন। ১৭৮১তে উত্তর স্বরূপপুর নামক বিরাট পরগণা কলকাতার বেনিয়ান দর্পনারায়ণ ঠাকুরকে বেচে দেওয়া হয়। সমগ্র বাঙলার শ্রদ্ধা অর্জণকরা নাটোরের রাণী ভবানীরমত বাঙলা সুবাতে একডাকে চেনা এক জমিদারিতেই ইংরেজরা যদি এই ঘুষের রাজত্বের লুঠতরাজ চালাতে পারে, তাহলে সমগ্র বাঙলা জুড়ে শুধুমাত্র কত ঘুষের টাকা ব্রিটেনে গিয়েছে তা আদপেই অংক কষার বাইরে।
ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া, আরও গভীরভাবে বললে, বাঙলা সুবা থেকে বছরে বছরে লুঠ হয়ে যাওয়া অর্থে আর প্রযুক্তিতেই ব্রিটেনের মানুষমারা, পৃথিবী ধংসকারী শিল্পবিপ্লবের ভিত গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে ঢাকের বাঁয়া হিসেবে যোগদেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাস ব্যবসা ভিত্তিক চিনি(আখ)র ব্যবসা আর আফ্রিকা থেকে লুঠ করে আনা দাস ব্যবসার উদ্বৃত্ত। ইংলন্ডের মূলধন নানান ইওরোপিয় দেশে বিনিয়োগ হত। ১৮১৫ থেকে ১৮৩০ পর্যন্ত ইওরোপিয় রাষ্ট্রগুলির সরকারি সিকিউরিটিতে প্রায় ৫ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং মূলধন নিযুক্ত হয়। লাতিন আমেরিকায় ২ কোটি পাউন্ড আর আমেরিকায় প্রায় ১ কোটি পাউন্ড নিবেশিত হয়। এইসব উদ্বৃত্ত জমা হয়ে ইংলন্ডের শিল্পজাত দ্রব্যের বিকাশ হতে থাকে বছরের পর বছর। এ প্রসঙ্গে ১৯১৩কে ভিত্তিবর্ষ ধরে ব্রিটেনের ঐ সময়ের জিডিপির ইতিবৃত্ত – ১৭২০-২১ – ২.১, ১৭৬০-৬১ – ২.৬, ১৭৭০-৭১ – ৩.৩, ১৭৮০-৮১ – ৩.৫, ১৭৯০-৯১ – ৪.৬, ১৮০০-০১ – ৫.৭, ১৮১০-১১ – ৭.১, ১৮২০-২১ – ৯.৭, ১৮৩০-৩১ – ১৮.৩, ১৮৪০-৪১ – ১৯.৬। লক্ষ্য করার বিষয় ১৮০০র পর থেকে ব্রিটেনের জিডিপি ৫ ছাড়িয়ে উর্ধমুখী। ১৮৩০এর পর লাফিয়ে লাফিয়ে দুই অংক ছাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কুড়ির ঘরে প্রবেশ করেছে। তবুও মার্শাল আর আর তার পূর্বসূরীদের পথ বেয়ে বলতেই হবে বাঙলা লুঠের অর্থে ইংরেজদের শিল্পবিপ্লবসাধন একটি অতিকথামাত্র, এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই বললেই চলে। এর পাশাপাশি বাঙলা থেকে শিল্পজাত পণ্যদ্রব্য ও কাঁচামাল আমদানি রপ্তানির হিসেবটুকু দেওয়া যাক –
                 ১৮৭০           ১৮৯২             ১৯০৭
শিল্পজাত পণ্যদ্রব্য     
টাকার হিসাব                         
আমদানি            ২৫৯,৮৬৫,৮৭২    ৩৬২,২৩১,৮২৭       ৬৯৮,৮৯৫,০০০
রপ্তানি                                        ৫২,৭৮০,৩৪০      ১৬৪,২৪৭,৫৬৬        ৩৯২,৯৮১,০০০
কাঁচামাল
টাকার হিসাব                         
আমদানি            ১৩৭,৫৫৫,৮৩৭    ২৬৩,৮১৮,৪৩১      ৫৯৯,৬৬৮,৩৭৪
রপ্তানি                                        ৫৯৬,৭২৭,৯৯১     ৮৫৫,২০৯,৪৯৯        ১,১৪১,২৩১,৩৩৫