Showing posts with label আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস. Show all posts
Showing posts with label আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস. Show all posts

Saturday, November 16, 2019

মুঘল পতাকা এবং নিশান

পতাকা এবং নিশান আর এর সঙ্গে বেশ কিছু অব্যবহৃত অস্ত্র দেওয়ানি আমের দরজায় এবং সম্রাটের তাঁবুতে ঝুলত অথবা তিনি যখন কুচ করে চলেছেন তখন অগ্রবর্তী হাতির মাথায় এগুলি রাখা থাকত; এগুলিকে একসাথে বলে কুয়র(Pavet de Courteille, ''Diet.," 425, ceinture, arme, garde)। এগুলির দায়িত্ব দেওয়া থাকত কুয়রবেগী নামক এক পদাধিকারীর ওপর। কোনও কোনও সময় এদের মাহিওমারাতিব নামক সেনাপতি আধিকারিক বলা হত, আবার ব্যতিক্রমীভাবে পাঞ্জা, আক্ষরিক অর্থে খোলা হাতও বলা হত। কুয়রকে ব্যাখ্যা করে ফরাসি মুসাফির গেমেল্লি কারেরি(French ed. iii, 182) বলছেন, আমদরবারের তাঁবুর বাইরে দেখলাম লাল সোনার এম্ব্রয়ডারি করা, বড় চওড়া হাতাওয়ালা ভেলভেটের জামা পরে সূচ্যগ্র গলবন্ধ(pointed collar) যেটি পিছনে ঝুলে পড়েছে, পরিধেয়ওয়ালা ৯ জন প্রহরী সাম্রাজ্যিক নিশান বর্শায়(pikes) গেঁথে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাঝখানে থাকা সেনাটি একটি সূর্যবহন করছে, তার দুপাশে gilt hand নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারপরের দুজনের হাতে রয়েছে লালরঙের ঘোড়ারপুচ্ছ। বাকি চার জন হাতে বর্শায় কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এতদূর থেকে আমার চোখে পড়ে নি।
Ain, i, 50 আমাদের জানাচ্ছে রাজকীয় আটটি নিশানের কথা, যার মধ্যে চারটি শুধুই সম্রাটের জন্যে সংরক্ষিত ছিল। অন্য চারটি প্রয়োজনে প্রজাদের ব্যবহারের জন্যে দেওয়া হত মাঝেমধ্যে। এই আটটি নিশান হল, ১) আড়ং – সিংহাসন, ২) ছত্তর – রাষ্ট্রীয় ছাতা, ৩) সাইবান বা আফতাগির, সূর্যাতপ, ৪) কাউকাভ(plate ix, No. 2) ৫) আলমক বা পতাকা, ৬) ছত্র-তোখ চামরিগাইয়ের লেজ, ৭) তুমনতোখ – চামরিগাইয়ের আরেকপ্রকার লেজ, 8) ঝামাদা বা ভারতীয় পতাকা। এর সঙ্গে আমি জুড়ব মাহিওমারাতিব বা মাছ আর সম্ভ্রম।
মুঘল সম্রাট এবং সাম্রাজ্যের বিভিন্ন নিশানের উৎস এবং বিশদ বিবরণ আমরা পাচ্ছি মিরাটউলইশতিয়া-র ৫ ফোলিওতে
১) পাঞ্জা, খোলা হাতের চেটো, যা আলি তৈমুরের প্রতীক, সম্রাটের সামনে বারবার আনা হত মনের আনন্দ দিতে এবং পূর্বজর পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দেখাতে। শোনা যায় তৈমুর এটি তৈরি করেছিলেন শিয়াপোষ আদিবাসীদের ওপর বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। ১৭৫৩য় জেন্টিল(জাঁ ব্যাপটিস্ট যোসেফ, ফরাসী সেনা অফিসার) দেখেছিলেন সালাবত জংএর অশ্বারোহীদের শোভাযাত্রায় ঘোড়ার পিঠে চারটি আলাদা আলাদা pondjehs বা পাঞ্জা বয়ে নিয়ে যেতে; এগুলি সব তামার তৈরি এবং বর্শার মাথায় রাখা(Memoires, 61)।
২) আলম, একটি পতাকা বা দণ্ড – এটি হুসেনের পতাকা, কারবালায় তৈমুর এটি সংগ্রহ করেছিলেন, এটি তার উজির বাজাঈদ, রামের কাইজারকে দিয়ে যান।
৩) মিজান – এটি দাঁড়িপাল্লা, বিচার দেওয়ার সমদৃষ্টি, ন্যায়াধীশ নুশিরওয়নের থেকে প্রাপ্ত। জেন্টলের মেমোরিতে একটি চিত্র আছে যেটি যতদূরসম্ভব মিজান।
৪) আফতাব বা সূর্য, অগ্নি উপাসকদের হারিয়ে এটি তাদের থেকে নেওয়া।
৫,৬) আঝদা পাইকার, ড্রাগনমুখো – দুই শিংওয়ালা হিন্দের রাজা সিকন্দরের মন্দিরের প্রতীককে পুজো করত, তৈমুর যখন ভারতে আসবেন ঠিক করেন, তখন এটি তাকে উপহার দেওয়া হয়। এর দুটি অংশ, একটা সামনে বাহিত হয় অন্যটা পিছনে।
৭) মাহি বা মাছ সমুদ্রের দ্বীপের উপহার, এটি পুজো করা হত
8) কুমকোয়াশ(Steingass, 989, পাত্র, জগ, বা বাতি) – এগুলি ভারতীয় রাজাদের থেকে সংগৃহীত। Ajn-i-Akbarl, i, 50 তে যে কাউকাবার কথা বলা হয়েছে সেটা যতদূরসম্ভব এইটা(figure No. 2 on plate ix দেখুন)। জেন্টিল মেমোরিতেও একটা প্লেটে এই বিষয়টা উল্লিখিত হয়েছে। Steingass, 1063, এ বলছেন একটা লম্বা দণ্ডে পালিশ করা ইস্পাতের গোলাকার বল ঝুলত, এটি নিশান হিসেবে সম্রাটের সামনে নিয়ে যাওয়া হত। কারেরি iii, 182 তে বলছেন দুটি gilt hands এর মাঝে একটি সোনালি বল জঞ্জির দিয়ে ঝোলানো আছে। এর সঙ্গে তিনি জোড়েন, সেনা যখন কুচ করে তখন সেনার সামনে রেখে হাতির মাথায় চাপিয়ে এটি নিয়ে যাওয়া হয়।
এই সব নিশান সাতটি মহাদেশে বিজয়ের চিহ্ন হিসেবে সম্রাটের সামনে প্রদর্শিত হত।
উইলিয়াম আরভিনের আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস থেকে

Thursday, November 14, 2019

মুঘল আমলে জায়গির আবেদনের উদাহরণ

সূত্র উইলিয়াম আর্ভিন - আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস
জনৈক খ্বাজা রহমতুল্লাকে কোনও সুবা থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি নতুন জায়গিরের দাবিতে দরবারের হাজির হলেন। দুটি রাজস্ব দপ্তরের একটির উচ্চতম আধিকারিক দেওয়ানিতন, হকিকত বা তথ্য বিবরণ (Statement of Facts) জারি করলেন নিম্নরূপে(B.M. No 6599, foil. 156a to 157b)
Statement (Haqiqat)
Khwajah Rahmatullah, son of Khwajah Ahmad, a native of Balkh, who was attached to the standards in Province So-and-so, having come to the Presence in pursuance of the exalted orders, and the jagu which, up to such-and-such a harvest, was held by him in the said Province, having been granted to So-and-so, in this matter what is the order as to the tankhwah jagir of the above-named.
Presentation (মুলাজামাত)
Day so-and-so, month so-and-so
Offering (নজর)
৯ মোহর এবং ১৮ টাকা
এই ধরণের হকিকত/আবেদন প্রাথমিকভাবে দেওয়ানিতন স্বীকার করলে এটি দেওয়ানিআলার(প্রধান উজির) কাছে প্রেরণ করা হয়। তারপর হকিকতটি সম্রাটের সম্মুখে উপস্থিত করা হয়। যদি এই ধরণের জায়গিরের অনুরোধ মান্য করা হত তাহলে উজির এই আবেদনের ওপর লিখতেন 'তনখোয়ার মাধ্যমে পবিত্র এবং মহৎ এই জায়গিরটি অমুক ফসলি সাল থেকে বরাদ্দ করা হল'। এই আবেদনপত্রটি প্রামাণিক দলিল হিসেবে দেওয়ানিতনের প্রধান মুন্সির কাছে যেত, যিনি এর ওপরে লিখতেন সিয়াহা দাউল বা স্থূল অনুমান(Rough Estimate) যা নিম্নে বর্ণিত হল
স্থূল অনুমান
বলখ অঞ্চলের খ্বাজা আহমেদের পুত্র খ্বাজা রহমতুল্লা। তিনি দরবারের আশীর্বাদ নিয়ে অমুক সুবার কর্মসূত্রে পাবেন
১০০০ জাট
২০০ সওয়ারি, সওয়ার
দাম মাধ্যমে প্রাপ্তি ৩৪ লক্ষ(পদাতিকদের জন্যে ১৮ লক্ষ এবং বাহিনীর জন্যে ১৬ লক্ষ মোট ৩৪ লক্ষ)
চতুস্পদ পশুর খাদ্য(খুরাকিদুয়াব) তাকে দেওয়া হবে।
অমুক সুবার অমুক পরগণার বরাদ্দ ২০ লক্ষ দাম
অমুক সুবার অমুক পরগণা্র বরাদ্দ ১৪ লক্ষ দাম
যে জায়গিরদার ১০০০ পদাতিক পাচ্ছেন, তার বরাদ্দ মাত্র ২০০ ঘোড়া। ফলে এটা পরিষ্কার তিনি তৃতীয়স্তরের হাজারি। মনসবদারির বেতন তালিকা অনুযায়ী তাকে ১৮ লক্ষ দেওয়া হল এবং সওয়ারের জন্যে দেওয়া হল ৮০০০ দাম করে ১৬ লক্ষ মোট ৩৪ লক্ষ।
এই ধরণের আবেদনেরTop of FormBottom of Form দাউল বা হিসেব নথিবদ্ধ করতেন পঞ্জিকা-লেখক(ওয়াকিয়া-নবিশ)। তিনি এই আবেদনটি পঞ্জিকায়(ওয়াকিয়া) লিপিবদ্ধ করে একটা স্মারকলিপি(ইয়াদদাস্ত) তৈরি করতেন। এই আবেদন অনুমোদনের জন্যে আরেকটি নির্দেশনা(আর্জিওমুকরর, দ্বিতীয় আবেদন) তৈরি হত। হকিকত আর দাউলে লিখিত তথ্যগুলি ইয়াদদাস্তে নতুন করে লিখিত হত। এর ওপরে উজির লিখবেন, ‘এটির সঙ্গে পঞ্জিকার (ওয়াকিয়া) তুলনা করা হোক এবং তারপরে অনুমোদন দপ্তরে(আর্জিমুকরর)এ পাঠানো হোক’। এইটির মার্জিনের পাশে ওয়াকিয়ানবিশ লিখবেন ‘এই ইয়াদদাস্তটি মূল ওয়াকিয়ার সঙ্গে মেলানো হল’। এরপরে অনুমোদন দপ্তরের দারোগা লিখবেন, ‘অমুক তারিখে ওমুক মাসে ওমুক বছরে এটি অনুমোদন দপ্তরে পৌঁছলে এই নির্দেশটি মঞ্জুর হল।’ দরবার থেকে বের হয়ে সুবায় গিয়ে এই নির্দেশের ভাগ্য কী হয় সেটা আর এখানে আলোচনা করলাম না।

Wednesday, November 13, 2019

উইলিয়াম আর্ভিন - আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস

উইলিয়াম আর্ভিনএর আর্মি অব দ্য ইন্ডিয়ান মুঘলস – ইটস অর্গানাইজেশন এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন থেকে মনসবদারদের জাটের হিসেবে মনসবইজাট পদের অর্থমূল্যে বিদায়ের তালিকা