Showing posts with label বাংলার মধ্যযুগের ব্যবসা. Show all posts
Showing posts with label বাংলার মধ্যযুগের ব্যবসা. Show all posts

Wednesday, December 13, 2017

উপনিবেশপুর্ব বাংলা - বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য১২

সুশীল চৌধুরী

মধ্যযুগ
এ প্রসঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা যাক পণ্য বিনিময়ের মাধ্যম। বাংলায় পণ্য কিনতে আসা ইওরোপিয়, এশিয় এমন কি দেশিয় ব্যবসায়ী বা সওদাগরকে রূপোর বিনিময়ে ব্যবসা করতে হত। ১৫১৬ সালে আমরা এমনও উদাহরন পাচ্ছি, ১৫১৬ সালে একটি বাঙ্গালি জাহাজ বার্মায় স্থানীয় কাপড় নিয়ে গিয়ে সেখানকার রূপো কিনে বাংলায় এনেছে। ১৫৫০সালে পর্তুগিজেরা ব্যবসা করতে গিয়ে এত পরিমানে বাংলায় সম্পদ এনে ঢেলে দিত যে, তারা মালাক্কায় যাওয়ার মরশুম এলেই তাদের রাজ্য গোয়ার মুদ্রার মান ওঠাপড়া করত। যদিও কোম্পানিগুলি বাংলায় পশম আর ব্রডক্লথ, টিন, দস্তা, লোহা নিয়ে আসত কিন্তু তাদের সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমানে এইগুলির মূল্য এবং পরিমান যতকিঞ্চিত মাত্র। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, ১৬৫০ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত যত পণ্য তারা আমদানি করেছে তার তুলনায় দামি ধাতুর পরিমান ছিল ৮৭.৫ শতাংশ। অষ্টাদশ শতকের প্রথম দুদশকে ব্রিটিশদের আরও বেশি ৯০ থেকে ৯৪ শতাংশ। পলাশী পর্যন্ত এই ঘটনাত ব্যত্যয় হয় নি। এছাড়াও স্থলপথে এশিয় বণিকেরা বিপুয়ল পরিমানে রূপো নিয়ে বাংলায় এসেছে।
তবে পলাশীর পরে বাংলায় রূপো বা অন্যান্য দামি ধাতু আসার প্রবণতা বন্ধ হয়ে গেল। বাংলার সম্পদ লুঠে ব্রিটিশেরা বাংলার সম্পদ কিনতে শুরু করায় এবং কোম্পানির কর্মচারীরা অভিজাতদের থেকে বিপুল পরিমান ঘুষ, উপহার এবং উপঢৌকন নিতে কয়েক দশকের মধ্যেই বাংলা ইওরোপের কাছে অধমর্ন হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীরা তাদের বাংলার ব্যবসার লভ্যাংশ বিভিন্ন ইওরোপিয় কোম্পানিয়ে লগ্নি করতে শুরু করে এবং তারা বিল ডিসকাউন্টিঙ্গের মাধ্যমে তাদের উদ্বৃত্ত লন্ডনে নিয়ে যায়। অন্যান্য ইওরোপিয় কোম্পানিগুলির ব্যবসা লক্ষ্যনীয়ভাবে কমে। এশিয় ব্যবসায়ীদের ডানা ছেঁটে দেওয়া হয়।
এটা বলা দরকার সাধারণ মানুষের, গবেষকদেরও ধারনা যে বাংলায় ইওরোপিয়রা একমাত্র দামি ধাতু নিয়ে আসত। এটা সত্য নয়, বরং তাদের তুলনায় এশিয় ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমানে বাংলায় রূপো নিয়ে আসত।

পাঠ্যসূত্রঃ S Chaudhury, Trade and Commercial Organisation in Bengal, 1650-1720,Calcutta, 1975; Om Prakash, The Dutch East India Company and the Economy of Bengal, 1620-1750, Princeton, 1985; S Chaudhury, From Prosperity to Decline - Bengal in the mid-Eighteenth Century, New Delhi, 1995; Om Prakash, European Commercial Enterprise in Pre-Colonial India, Cambridge, 1998; S Chaudhury & M Morineau (ed), Merchants, Companies and Trade - Europe and Asia in the Early Modern Era, Cambridge, 1999.
(শেষ)

উপনিবেশপুর্ব বাংলা বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য১১

সুশীল চৌধুরী

মধ্যযুগ
১৬৭০এর কাছাকাছি সময়ে ইওরোপে বাংলার রেশমের ব্যবসা শুরু হওয়ায় বাংলা বাণিজ্যে বিপুল পরিমানে হতে থাকে। কিন্তু ১৬৮০সালে বাংলার কাপড় ইওরোপের বস্ত্র পরিধানের ব্যবস্থার আমূল বদল আনে। বাংলার সঙ্গে ইওরোপের বিশাল বিপুল ব্যবসা শুরু হয় যা এশিয় ব্যবসাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এতদিন গ্রীষ্মে পশ্চিম ইওরোপের ধনী আর অভিজাতরা হয় মোটা ইওরপিয় রেশম আর মূলত পশমের কাপড় পরতেন। বাংলার তাঁতিরা তাদের দেখাল কি করে সুতি আর সূক্ষ্ম বাংলার রেশম ব্যক্তির দেহে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে ইওরোপের প্যাচপ্যাচে গ্রীষ্মে। এরপর থেকে মধ্য অষ্টাদশ শতকের পলাশী চক্রান্ত পর্যন্ত বাংলা হয়ে উঠল এশিয়া সব থেকে বড় উত্তমর্ণ। ডাচ আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সঙ্গে ইওরোপ আর এশিয়ার সামুদ্রিক ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বাহন হয়ে উঠতে শুরু করে। পলাশী চক্রান্তের পরে ব্রিটিশ কোমপানির আমলারাই বাংলার মহামহিম শাসনকর্তা এবং তার পর থেকে বাংলার ব্যবসার ইতিহাস হেঁটমুণ্ডঊর্ধ্বপদ হয়ে পড়ে।
এশিয় ব্যবসায় বাংলার গুরুত্ব একটা তথ্য থেকেই প্রমান করা যায়, অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে ডাচ ভিওসি নেদারল্যান্ডে যত পরিমান উপমহাদেশিয় পণ্য পাঠাত তার ৪০ শতাংশ কিনত বাংলা থেকেই। মোট এশিয় ব্যবসার বস্ত্রপণ্যগুলির মধ্যে ৫০শতাংশ ছিল বাংলার। ভারত উপমহাদেশে ডাচেদের সামগ্রিক সামুদ্রিক ব্যবসা ক্ষেত্রে বাংলা প্রধান কর্মক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ব্রিটিশদের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। ব্রিটিশ কুঠিয়ালেরা বাংলাকে কোম্পানির বাগানের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুল আর মুকুটের সর্বশ্রেষ্ঠ রত্ন হিসেবে গণ্য করত। ১৬৫০ থেকে ১৭২০ পর্যন্ত বাংলা ব্যবসা ক্ষেত্রে ডাচেরা ব্রিটিশদের তুলনায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই এগিয়েছিল। আস্তে আস্তে ব্রিটিশেরা ডাচেদের সমকক্ষ হয়ে উঠতে শুরু করে, কিন্তু তাও বহুকাল পর্যন্ত ডাচেদের এশিয় ব্যবসার প্রাধান্যে তারা দাঁত ফোটাতে পারে নি। ১৭৩০এর দশক থেকে ব্রিটিশদের ইওরোপিয় ব্যবসার পরিমান বাড়তে থাকে এবং সেটি বিপুলাকারে পৌঁছায় ১৭৪০-৪৫ সাল নাগাদ। তবে সেই চল্লিশের দশকে কিছুটা কমে, আবার পঞ্চাশের দশকে বাড়তে থাকে। কিন্তু যে পরিমান ব্যবসা কমে, সেই পরিমানটি ১৭৩০-৫৫ সময়ে গড় বাংলা থেকে রপ্তানি হওয়া মোট বাৎসরিক মূল্যে কিন্তু খুব বেশি কিছু ছিল না – গড় ছিল ৪৪০০০০ স্টার্লিং পাউন্ড কমে হয় ৩.৫ লক্ষ স্টার্লিং পাউন্ড। তবে পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশ বাণিজ্যে যে ঘাটতি দ্যাখা যায় তা বাংলার ক্ষেত্রে পুষিয়ে যায় ডাচেদের বাণিজ্যের পরিমান বেড়ে যাওয়াতে এবং সামগ্রিকভাবে বাংলার সঙ্গে ইওরোপের মোট বাণিজ্যের অঙ্কে। ১৭৫০-৫৫ সময়ে বাংলার রপ্তানি বাণিজ্যে কোন নিম্নাভিমুখ দ্যাখা যায় নি।
১৭২০ সালের পরে ডাচেদের ইওরোপিয় ব্যবসা মার খেতে শুরু করলেও সেটি ১৭৩০ সাল নাগাদ আবার বাড়তে থাকে। তারপর থেকে ১৭৫৫ সাল পর্যন্ত বাংলা থেকে ইওরোপে পাঠানো গড় ডাচ রপ্তানির পরিমান ক্রমাগত বেড়েছে। সেই শতকের পঞ্চাশের দশকে ব্রিটিশদের ইওরোপিয় বাণিজ্য কিছুটা কমতে থাকে। উল্লেখ্য ১৭৩০ সালে ডাচেরা মোট ব্যবসায় ব্রিটিশদের পিছনে থাকলেও ক্রমশ তাদের সমান সমান হতে থাকে। ১৭৩০এর পরে কিন্তু ডাচেদের ইওরোপে রপ্তানি নিয়মিতভাবে কমতে শুরু করে। ১৭৫০এর পর প্রথম পাঁচ বছরে ইওরোপে ডাচেদের গড় রপ্তানি ছিল ২.৩ মিলিয়ন সেখানে এশিয় বাজারে তারা ব্যবসা করেছে ৩ মিলিয়ন।

এ প্রসঙ্গে বলা দরকার ইওরোপিয়দের এশিয় ব্যবসার তুলনায় মধ্য অষ্টাদশ শতকে এশিয়দের এশিয় ব্যবসার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এশিয় সওদাগরেরা বাংলার কাপড় ব্যবসা করেছে বছরে গড়ে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন। সেই তুলনায় বাংলা বস্ত্রের ইওরোপিয়দের মোট ইওরোপিয় ব্যবসার পরিমান ছিল খুব বেশি হলে ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন। রেশম রপ্তানিতে এশিয়দের ব্যবসা আরও গুরুত্বপূর্ন। ১৭৪৯ থেকে ১৭৫৩ পর্যন্ত এশিয় সওদাগরদের এশিয়ায় কাঁচা রেশম রপ্তানির পরিমান ছিল ৫.৫ মিলিয়ন, ১৭৫৪ থেকে ১৭৫৮ পর্যন্ত ৪.১ মিলিয়ন গড়ে। এর তুলনায় এই সময়ে ইওরোপিয়দের মোট রেশম রপ্তানি ছিল গড়ে ০.৯৮ মিলিয়ন। পলাশীপূর্ব সময়ে বাংলা থেকে এশিয় ব্যবসায়ীদের রেশম ব্যবসার পরিমান ইওরোপিয়দের তুলনায় ৪ থেকে ৫গুণ বেশি ছিল। 

উপনিবেশপুর্ব বাংলা - বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য১০

সুশীল চৌধুরী

মধ্যযুগ
বাংলা থেকে পর্তুগিজ কোম্পানি বিপুল সংখ্যক পণ্য বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নিয়ে যেত যেমন সুতি বস্ত্র, ঘাসের তৈরি গিনঘ্যাম, বিভিন্ন রঙের রেশম, চিনি, চাল, ঘি, নীল, লম্বা লঙ্কা, সোরা, মোম, গালা, এবং অন্যান্য পণ্যদ্রব্য সামগ্রী যা বাংলায় বিপুল পরিমানে উৎপাদন হত। ভারত এবং ইস্ট ইন্ডিজের দেশগুলিতে মূল রপ্তানি ছিল চাল। পাইরাড দ্য লাভাল দেখেছেন, যখন বাংলার জাহাজ নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছত না বা জাহাজ ডুবি হত, সে সময় চাল সুমাত্রা মলুক্কাসের মত অঞ্চলগুলোয় অত্যন্ত মহার্ঘ হত এবং মন্বন্তরের আশঙ্কা ছেয়ে যেত জনগনের মধ্যে।
পর্তুগিজদের ব্যবসার পরিমান কত ছিল? তারা আড়াই শতাংশ হারে যে চুঙ্গি শুল্ক দিত পণ্যের রপ্তানির জন্য তার পরিমান ছিল ১ লক্ষ টাকা বাৎসরিক। এই হিসেবে মোটামুটি ৪০ লক্ষ টাকার বাৎসরিক ব্যবসা ছিল পর্তুগিজদের বাংলার ব্যবসায়। এই ব্যবসায় যেহেতু বিপুল লাভ ছিল, তার গোটা উপকূল এবং বৈদেশিক ব্যবসা পর্তুগিজেরা প্রায় একচেটিয়া করে নেয় এবং দেশিয় বাণিজ্যেও দেশিয় এবং অন্যান্য বিদেশিয় বণিকদের টক্কর দিতে থাকে। কিন্তু(আকবরের সাম্রাজ্ঞী মারিয়ুজ্জামানির বা হীরাবাঈএর বাণিজ্য জাহাজ রহিমি ধ্বংস করে দেওয়ায় জাহাঙ্গির তার মায়ের অপমানের বিরুদ্ধে পর্তুগিজদের দমন ছাড়া করেন। টুকটাক বিরোধ চলছিল, কিন্তু এটাই পর্তুগিজদের সঙ্গে মুঘলদের সর্বপ্রথম বড়সড় বিবাদ এবং সেই বিবাদের জের ছড়িয়ে পড়ে মুঘল সাম্রাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মে) শাহজাহান পাদশা বাংলার নবাব কাশিম খাঁকে(যার নামে কাশিমবাজার) নির্দেশ দেন হুগলি ছাড়া করতে এবং পর্তুগিজেদের বাংলা স্বপ্নের চিরতরে সমাধি ঘটল(এবং ডাচ আর ব্রিটিশদের উত্থান সহজ হল)।
ডাচ আর ব্রিটিশদেরসপ্তদস শতের মাঝামাঝি থেকে বাংলায় ব্যবসা শুরু করে হুগলিতে কুঠি তৈরি করে। আরও পরে ১৬৮০র দিকে ফরাসীরা বাংলায় আসে। ইওরোপিয়দের মধ্যে অস্ট্রিয়া/জার্মান( the ostend company) এবং ড্যানিশ সওদাগরি কোম্পানি অষ্টাদশ শতকের প্রথমের দিকে আসে, এবং তারা খুব বেশি পরিমানে ব্যবসা করতে পারে নি। ইওরোপিয়দের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ থেকে মশলা কিনে ইওরোপে বিক্রি করা। তারা সেই অঞ্চলে গেল নতুন বিশ্ব(আমেরিকা) থেকে লুঠ করে আনা রূপোর বিনিময়ে মশলা কিনতে। অবাক হয়ে দেখল সে সব দেশে রূপোর চাহিদা বিন্দুমাত্র নেই বরং ভারতীয় মোটা কাপড় সেখানে বিপুল আভিজাত্য হিসেবে বিক্রি হয়। তারা ভারতের দিকে জাহাজ ঘুরিয়ে নিয়ে আসে মোটা কাপড় কেনার জন্যে। পরিকল্পনা ভারতের কাপড়ের বিনিময়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলি থেকে মশলা বিনিময় করবে ধুলিদরে। প্রথমে তারা করমণ্ডল উপকূলে যায়, সেখানকার কাপড়ের বিপুল চাহিদা ছিল দক্ষিনপুর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে। কিন্তু কিছু দিন পরে দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধের প্রকোপে আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় করমণ্ডল উপকূলে ব্যবসা করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কোম্পানিগুলি বাংলার দিকে নজর দিল।

বাংলায় তাদের বিপুল বৈচিত্রের কাপড় জোগাড় করার সুযোগ করে দিল। বাংলায় যেমন বিপুল পরিমানে মোটা কাপড় তৈরি হত – যার গুণমান অন্য অঞ্চলের কাপড়ের তুলনায় ভাল এবং দামেও শস্তা, তেমনি যথেষ্ট পরিমানে সূক্ষ্ম কাপড়ও উৎপাদন হত। দ্বিতীয়ত বাংলার রেশম তাদের ক্ষেত্রে বিপুল লাভের বাজার খুলে দিল ইওরোপে। এবং দিনের পর দিন ইওরোপে বাংলার রেশমের চাহিদা বাড়তে থাকে। পারসি আর ইতালিয় রেশমকে বিশ্ববাজারে পিছনে ফেলে দিল বাংলার কাশিমবাজারের রেশম – দাম আর গুণপনায়। এছাড়াও বাংলা সুবার পাটনার সরকার সারণে বিপুল পরিমানে সোরা উৎপাদন হত। এটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইওরোপে বিপুল চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ছিল আর ইওরোপে পণ্য বহন করে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি জাহাজ ভারি করার কাজে লাগত।ফলে কোম্পানিগুলি বাংলায় জাঁকিয়ে ব্যবসা করতে শুরু করল।