Showing posts with label আদিবাসী. Show all posts
Showing posts with label আদিবাসী. Show all posts

Tuesday, November 2, 2010

সাংস্কৃতিক শুণ্যতা

গতবছর আর এ বছরে বহু লৌকিক শিল্পী আমাদের ছেড়ে গেছেন। কলাবতী মুদ্রা তাঁর শুরুর দিনগুলিতে যেসব মহান শিল্পীর সান্নিধ্য পেয়েছে তার মধ্যে সর্বাগ্রে থাকবেন বাজার হেমব্রম। থাকতেন বীরভূমের কঙ্কালীতলার প্রায় পাশের গ্রামে। বাসে করে যেতে হত তাঁর গ্রামে বোলপুর-শান্তিনিকেতন থেকে। বাজারদা ছিলেন প্রায় সক্কলের অতি প্রিয়। তাঁর বাড়িতে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁর গানের ভাণ্ডার শুনেছেন, তাঁর বাজনা তৈরির কারখানা দেখেছেন, কিনেছেন তাঁরা শুধু যে বাজার হেমব্রমের অমলিন স্মৃতি নিয়েই ফিরতেন তাই নয়, তাঁরা হাজার হাজার বছরের বাংলার এক অমলিন ঐতিহ্য, সাঁওতাল গান নাচ বাজনার এক অমূল্যরতনের স্পর্শ নিয়ে শহরে ফিরতেন। আশাকরি অনেকেই, বিশেষ করে জয়া মিত্র বা কুনাল দেব তাঁর সম্বন্ধে বিশেষ করে লিখবেন, পাঠকদির জানাবেন।
সাঁওতালগুরু বাজার হেমব্রম তাঁর ছেলের বিয়ের দিনই মারা যান। বাজার হেমব্রম যিনি আমাদের সকলে্র কাছে বাজারদা নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন, কুনাল দেব পরিচালিত বীরভূমের মল্লারপুর উত্্নৌতে তাঁর শ্রম দিতেন। এ ছাড়াও তিনি আরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন কবি লেখিকা জয়া মিত্রর সঙ্গে। কুনাল আর জয়াদির সঙ্গে কথা বলেই তাঁদের সঙ্গ নিয়েই কলাবতী মুদ্রা ভারত সরকারের আর্থিক সাহায্যে সাঁওতাল নাচ আর গান নথিকরণ শুরু করেন বাজারদার সঙ্গেই। অদ্ভুত সহাস্য মুখ। নানান সম্ভাব্য অসম্ভাব্য কাজেও সমান পারদর্শী। কয়েকদিন আগে এক ব্যক্তিগত আলারচারিতায় জয়াদি মনভারি করে বলছিলেন মল্লারপুরের গড়িয়া গ্রামে সংস্থার মাটির বাড়ির দোতলায় ওঠার বাঁশের সিঁড়িরমত দৈনন্দিনের ব্যবহার্য এক তুচ্ছ বস্তু তৈরি করেছেন এক মহত্ প্রনোদনায়, তাঁর সৃষ্টির ছোঁয়া দিয়ে। বাঁশের গাঁটগুলোতে তিনি এঁকে দিয়েছেন তাঁর হাতের জাদু শিল্প স্পর্শ। তিনি নেই কিন্তু আজও তাঁর স্মৃতি অমলিন গড়িয়াতে।
কলাবতী মুদ্রার কাছে রয়েছে আরও বেশ কিছু চলন্ত স্মৃতি। থোড়-বড়ি-আড্ডার উদ্বোধনে আমরা আদর করে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম বাজারদা আর বাউলানি সুভদ্রা আর উমা, বাউল আনন্দকে। সে এক অদ্ভুত লোক আর আদিবাসী সংস্কৃতির মিলন হল। বাজারদার বানাম, ডুমুরলিসহ অন্যবাঁশি আর বাদ্যযন্ত্র, ছেলে আর জামাইএর কাঁড়া, আর বাউলদের দোত্্রা, খোল, খমকে শহুরে সংস্কৃতি অনুভব করেছিল নতুনএক ঐশ্বর্য। কেউ যদি দেখতে ইচ্ছুক থাকেন কলাবতী মুদ্রা সযত্নে, সশ্রদ্ধায় সেই চলছবি দেখাতে তৈরি। থোড়-বড়িতে আমরা দেওয়ালে গোবর লেপে এঁকেছিলাম লৌকিক আর আদিবাসী আলপনা। সেখানেও বাজারদা সহাস্যে শিখিয়েছিলেন আলপনায় কোথায় চন্দ্র আর সূর্য - তাঁর কথায় সেই দুটি যোগকরাতেই ষড়ঐশ্বর্য যেন ফুটে উঠেছিল।
ঠিক একই কাণ্ড ঘটেছিল কুনালের বিয়েতেও। তবে সেখানে একাই বাজারদা আর তার গান। 
আমরা আজ রিক্ত, বাজারদা বিগত দুবছর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আাশ করব বাংলার লৌকিক আর আদিবাসী সংস্কৃতি আজ ভুলেযাবেনা তাঁকে। অন্ততঃ কলাবতী মুদ্রাতো ভুলছে না।