Showing posts with label ৫৫০ বছরের আগের বাংলা. Show all posts
Showing posts with label ৫৫০ বছরের আগের বাংলা. Show all posts

Monday, September 2, 2013

মুকুন্দরাম কবিকঙ্কন চণ্ডীকাব্য থেকে ৫৫০ বছরের আগের বাংলার সমাজ, Bengal 550 years back, written in Kabikankan Chandi by Mukundaram

কালকেতুর ভোজন

দূর হইতে ফুল্লরা বীরের পা’য়ে সাড়া।
সম্ভ্রমে বসিতে দিল হরিনের ছড়া।।
মকা নারিকেলেতে পূরিয়া দিল জল,
ঝাঁটি জল দিয়া কৈল ভোজন স্থল।।
পাখলিল মহাবীর পদ পাণি মুখে।
ভোজন করিতে বৈসে মনের কৌতুকে।।
সম্ভ্রমে ফুল্লরা দিল মাটিয়া পাথরা।
ব্যঞ্জনের তরে দিল নূতন খপরা।।
মুচাড়িয়া দুই গোঁপ বান্ধে নিয়া ঘাড়ে।
এক শ্বাসে সাত হাঁড়ি আমানি উজাড়ে।।
চারি হাঁড়ি মহানির খায় খুদ-জাউ।
ছয় হাঁড়ি মসূর সূপ মিশাইয়া লাউ।।
ঝুড়ি দুই-তিন খায় বন-ওল পোড়া।
বন-পুঁই ভাব দুই কল্মি কাঁচড়া।।
ফুল্লরা রন্ধন করে জ্বালে গোটা বাঁশ।
ঝোল রান্ধি দিল দুটা হরিনের মাস।
গণ্ডা দশ মহাবীর খায় নেউল পোড়া।
সার কচু মিশাইয়া করঞ্জ আমড়া।।
অম্বল খাইয়া বীর জায়াকে জিজ্ঞাসে।
রন্ধন করেছ ভাল আর কিছু আছে।।
এনেছি হরিন দিয়া দধি এক হাঁড়ি।
তাহা দিয়া খায় বীর ভাত তিন কাঁড়ি।।
শয়ন কুতসিত বীরের ভোজন বিটকাল।
গ্রাসগুলা তোলে যেন তেয়আঁটিয়া তাল।।
ভোজন কিরিয়া সাঙ্গ কৈল আচমন।
হরীতকী খেয়ে কৈল মুখের শোধন।

মুকুন্দরাম কবিকঙ্কন চণ্ডীকাব্য থেকে ৫৫০ বছরের আগের বাংলার সমাজ, Bengal 550 years back, written in Kabikankan Chandi by Mukundaram

নিদয়ার সাধ ভোজন

গর্ভের দেখিয়া ভর,            মনে লাগে বড় ডর,
          ক্ষুধা তৃষ্ণা নাহি দিন দশ।
আপনার মত পাই,             তবে গ্রাস দুই খাই,
          পোড়া মাছে জামিরের রস।।
নিধানী করিয়া খই,            তাহাতে মহিষা দই
          কুল করঞ্জা প্রাণ হেন বাসী।
যদি পাই সাজ ঘল,            পাকা চালিতার কজল
          প্রাণ পাই পাইলে আমসি।।
আমার সাধের সীমা,           হেলেঞ্চা কল্মী গিমা,
          বোদালি কাটিয়া কর পাক।
ঘঙ্কাটি খড় জ্বালে, সান্তলিবে কটুতৈলে,
          দিবে তাতে পলতার শাক।।
পুঁইডগা মুখী কছু,              ফুল বড়ি আর কিছু,
          দিবে তথি মরিচের ঝাল।
সন্তলন করি কাঁজি,            উদর পুরিয়া ভুঞ্জি,
          প্রাণ পাই পাইলে পাঁকাল।।
লোণ কিছু দিয়া বাড়া,          নকুল গোধিকা পোড়া
          হংস ডিমে তোল কিছু বড়া।
ভাজ কিছু রাই খাড়া,          চিঙ্গড়ির কর বড়া,
          সজারু করহ শিক-পোড়া।।
সদাই ন্যাকার উঠে,           দিনে দিনে বল টুটে
          বদনে সঘনে উঠে জল।
মুলা বেগুনেতে সিম,           তাহে দিয়া রান্ধ নিম,
          তাহে দেও উড়ূমদর ফল।।

মুকুন্দরাম কবিকঙ্কন চণ্ডীকাব্য থেকে ৫৫০ বছরের আগের বাংলার সমাজ, Bengal 550 years back, written in Kabikankan Chandi by Mukundaram

নিদয়ার মনের কথা
(নিদয়া, কালকেতুর মা। এই বক্তব্যটি নিদয়া পেশ করছে তাঁর স্বামির কাছে, যখন কালকেতু তাঁর গর্ভে। তাঁর সব কিছুতে অরুচি।)

শুন প্রাণনাথ! কহিয়ে তমারে।
এবে মোর প্রাণ কেমন করে।।(ধ্রু)।।
কৈতে নিজ সাধ বড় লাজ বাসি।
পান্ত ওদনে ব্যঞ্জন বাসী।।
বাথুয়া ঠনঠনি তেলের পাক।
ডগি ডগি লাউ ছোলার শাক।।
মীন চড়চড়ি কুসুম বড়ী।
সরল সফরী ভাজা চিংড়ী।।
যদি ভাল পাই মহিষা দই।
চিনি ফেলি কিছু মিশায়ে খই।।
পাকা চাঁপাকলা করিয়া জড়।
খাইতে মনের সাধ বড়।।
কনকের থালে ওদন শালি।
কাঞ্জিকা সহিত করিয়া মেলি।।
কাঞ্জি ভুঞ্জি কিছু মনেতে ভায়।
চাক চাকা মূলা বেগুণ তায়।।
আমড়া নোয়াড়ি পাকা চালতা।
আমসি কাসন্দী কুল করঞ্জা।।
থোড় উড়ুমদর ইচলি মাচে।
খাইলে মুখের অরুচি ঘুচে।।
হিয়ে দগদগি অন্তরে ভোক।
মুখে নাহি চলে এ বড় শোক।
মনে করি সাধ খাইতে মিঠা।
খীব নারিকেল তিলের পিঠা।।
বসিতে উঠিতে ঘুরয়ে মাথা।
মুখে উঠে হাই কহিতে কথা।।
সখি সাধে যদি বাড়াই পা।
আলাইয়া পড়ে সকল গা।।
দুগ্ধে গুড়ে তিলে মিশায়ে লাউ।
দধির সহিতে খুদের জাউ।।
শুন প্রভু কিছু কহি ওপর।

চিঁড়া চাঁপাকলা দুধের সর।।

মুকুন্দরাম কবিকঙ্কন চণ্ডীকাব্য থেকে ৫৫০ বছরের আগের বাংলার সমাজ, Bengal 550 years back, written in Kabikankan Chandi by Mukundaram

ঐতিহাসিকেরা যাকে মধ্যযুগ বলেন(কেন বলেন? ভারতে ইয়োরোপীয় যুগটাই নাকি আধুনিক। মধ্যযুগ মানে নাকি অন্ধকারে পড়ে থাকা একটা সময়। তাঁরা আধুনিক। কেননা তাঁরা সম্পদ লুঠ করেছেন, খুন করেছেন, মন্বন্তরের নামে গণহত্যা সাজিয়েছেন, তাঁদের মত করে দালাল তৈরি করে বকলমে তাঁদের মাধ্যমে আজও রাজত্ব করছেন। তাই তার আগের যুগটি স্বাভাবিক কারনে মধ্যযুগ। কেননা তখন বাংলা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বাংলা প্রচুর কৃষি, শিল্পদ্রব্যের উদবৃত্তসব পণ্য রপ্তানি করত। অর্থনীতি ছিল উদবৃত। ছিল ১ লাখেরও বেশি পাঠশালা। সব সম্প্রদায় এক সঙ্গে মিলেমিশে বাস করত। বাংলার সদাগরেরা বাংলার বাইরে ব্যবসা করতে যেত(তখন থেকে কয়েক শতক আগে)। ইয়োরোপীয়দের বাংলায় বাণিজ্য করতে দামি ধাতু আনতে হত। ইয়োরোপের এশিয়ায় রপ্তানি বলে কিছু ছিল না। সবই তাঁদের এশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্য। আজ, আধুনিক কালের, মাত্র দেড় দশক আগে আমরা বিদেশে ধাতু বন্ধক দিয়ে ঋণের নাগপাশ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলাম।অসাধারণ!), আমরা বলি প্রায় ৫৫০ বছর আগে মুকুন্দরাম কবিকঙ্কন একটি উপন্যাস লেখেন। তাঁর সেই লেখা থেকে সে সময়টা কিছুটা হলেও বোঝাযায়। এবং কয়েকটি পর্বে আমরা সেই উপন্যাসের কয়েকটি পঙক্তি সাজিয়ে দেব যাতে বোঝা যাবে, শহুরে বাংলা সেই সময়ের থেকে অনেক দূরে চলে গেলেও (শহরের থেকে দূরের)গ্রাম বাংলার জীবন এখনও একই রকম রয়েছে। আগে খাবার-দাবার।
এটি প্রথম ভাগ।

হর-পারব্বতীর কৈলাসে গমন

ত্রিজগদীশ্বর হর                ভিক্ষা মাগে ঘর ঘর
          আরোহণ করি বৃষোপরে।
বাজান ডম্বরু শৃঙ্গ,              দেখিয়া বাড়য়ে রঙ্গ
          নগবিয়া জগানিত ধরে।।
মাথায় বেষ্টিত ফণী,            অমুল্য যাহার মণি,
          কুণ্ডলী কুণ্ডল দোলে কাণে।
কাণে ধুতুরার ফুল,             অমুল্য যাহার মূল,
          বাসুকি কিরীট বিভূষণে।।
ভ্রমেন উজানভাটী,             চৌদিকে কোচের বাটী,
          কোচবোধ, ভিখা দেয় থালে।
থাল হইতে চালকড়ি,          কেহ দেয় ডাল বড়ি,
          কূপি ভরি তৈল দেয় তেলি।
ময়রা মদোক দেই, সূত্রধার চিঁড়া খই
          বেণে দেয় ভাঙ্গের পুটলি।।
লবণিয়া দেয় লোণ,             ঘৃতদধি গোপগণ,

          তাম্বূলিতে দেয় গুয়াপান। ইত্যাদি


হর-পারব্বতীর কোন্দল

আজি গৌরী রান্ধিয়া দিবেক মনোমত।
নিম শিম বেগুণে রান্ধুয়া দিবে তিত।।
সুকুতা শীতের কালে বড়ই মধুর।
কুষ্মাণ্ড বারত্তাকু দিয়া রান্ধিবে প্রচুর।।
ঘৃতে ভাজি শক্রাতে ফেলহ ফুলবড়ি।
চোঁয়া চোঁয়া করিয়া ভাজহ পলাকড়ি।।
রান্ধিবে চলার ডাল তাতে দিবে খণ্ড।
আলস্য ত্যজিয়া জ্বাল দিবে দুই দণ্ড।।
রান্ধিবে মসূর সূপ দিয়া লঘু জ্বাল।
সন্তোলিয়া দিবে তথি মরিচের ঝাল।।
নটিয়া কাঁঠাল বীচি সারি গোটা দশ।
ঘৃত সম্বরিয়া দিবা জামিরের রস।
কড়ুই করিয়া রান্ধ সরিষার শাক।
কটু তইলে বাথুয়া করহ দৃঢ পাক।।
রান্ধিবে মুগের সূপ দিয়া ডাব জল।
খণ্ডে মিশাইয়া রান্ধ করঞ্জের ফল।।
আমড়া সংজগে গৌরী রান্ধহ পালঙ্গ।
ঝাট স্নান কওর গৌরী না কওর বিলম্ব।।
গোটা কাসুন্দিতে দিবা জামিরের রস।
এবেলার মত রান্ধ এ ব্যঞ্জন দশ।। ।


থাল হইতে চালকড়ি,          কেহ দেয় ডাল বড়ি,
          কূপি ভরি তৈল দেয় তেলি।
ময়রা মদোক দেই, সূত্রধার চিঁড়া খই
          বেণে দেয় ভাঙ্গের পুটলি।।
লবণিয়া দেয় লোণ,             ঘৃতদধি গোপগণ,
          তাম্বূলিতে দেয় গুয়াপান। ইত্যাদি