Showing posts with label Zamindari After Palashi. Show all posts
Showing posts with label Zamindari After Palashi. Show all posts

Wednesday, July 3, 2013

ব্রিটিশ-পূর্ব বাঙলায় জমিদার আর জমিদারি৯ - কর্নওয়ালিশ এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত , Zamindars & Zamindaris(Landlord) of Pre-British Period9 - Zamindari After Palashi - Permanent Settlement

১৭৮৬ থেকে ১৭৭৮৯। কর্নওয়ালিশের রাজত্বের প্রথম তিন বছর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে আরও বেশি কর আদায় নিয়ে নিরন্তর বিতর্ক চলতে থাকে। কর্নওয়ালিশ রাজস্ব আদায়ের শিথিলতার দায় নব্য-জমিদারদের অদক্ষতার ওপর চাপিয়ে দেন। কর্নওয়ালিশ মনে করতেন জমিদারের জমিদারি বিক্রির অধিকার নেই। জমি ইজারা দিয়েও ধার নেওয়ারও অধিকার নেই। ১৭৭৯৩তে লর্ড কর্নওয়ালিশ বাঙলাদেশে বহুল প্রভাবশালী চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রচলন করলেন – যার ভিত্তি অনেকটা ফিলিপ ফ্রান্সিসএর অনুসৃত নীতিসমূহ। ১৭৭৯০এর দশশালা পরিকল্পনায় ভূমিরাজস্বের ওপর ভিত্তি করেই চিরস্থায়ীর রাজস্ব স্থির করা হল। এই প্রথম ভারতের জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হল। জমিদারদের কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হল, কোনও  কারনেই খাজনা মকুব হবে না। খাজনা আদায়ে লাগু হল সূর্যাস্ত আইন। নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে জমিদার নির্দিষ্ট খাজনা না মেটাতে পারলে জমিদারি বিক্রি করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রথম পঁচিশ বছরেই বাঙলার অধিকাংশ জমিদারি নিলামে ওঠে। কোম্পানির কর্মচারীদের যোগসাজসে বহু পেশার মানুষ জমিদারি কিনতে শুরু করলেন। নিলামে অবিক্রিত থেকে যাওয়ায় বহু আবাদি অঞ্চলে জমিদারির বন্দোবস্ত করতে হয়। জমিদার এই বন্দেবস্তের ফলে জমির প্রকৃত মালিক হলেন আর রায়তরা প্রায় ক্রীতদাসে পরিণত হলেন।
কর্নওয়ালিশ 

নব্য জমিদারিত্ব কেন্দ্র করে বাঙলায় জমিদার আর কৃষকের মধ্যে বহু দালালের আবির্ভাব ঘটল। জমিদারিতে অনুপস্থিত জমিদার খন্ডে খন্ডে পত্তনি দিতে শুরু করেন – তাদের নাম হল পত্তনিদার, দূরপত্তনিদার, দূরদূরপত্তনিদার, সেপত্তনিদারএরমত হাজারো মধ্যসত্বভোগী। বরিশালের জমিদারিতে পঞ্চাশজনেরমত মধ্যসত্বভোগী উঠে এল। ১৮১৯তে আইন প্রনয়ণ করে এই বন্দোবস্তকে কোম্পানি স্বীকার করে নিল। ১৭৯৯এ রায়তদের সম্পত্তি ক্রোক আর বাস্তু থেকে উত্খাত করে বাকি খাজনা আদায়ের অধিকার জমিদারদের দেওয়া হল। অনুপস্থিত জমিদারদের বদলে মধ্যসত্বভোগীরা নানান কৌশলে জমির খাজনা বাড়াবার ব্যবস্থা করলে, সরকারের রাজস্ব নির্ধারিত হলেও গ্রামে মহাজনী সুদের কারবার বেড়ে যায়। সরকারের আর্থিক দায় মেটাতে বাজার থেকে ঋণ নিতে হল, সেই ঋণের আর তার সুদের বোঝা স্বাভাবিকভাবেই চেপে যায় রায়তদের ওপর। ঋণের দায়ে জর্জরিত রায়তদের ঋণগ্রস্ততার বিনিময়ে, লাভ অর্জন করেন ব্রিটিশ প্রসাদপুষ্ট জমিদার আর মধ্যস্ত্বভোগীরা, যারা পরে সোনার বাঙলায় বাঙলার ঐতিহ্যশালী ব্যবস্থা ভেঙে ইংরেজ সমাজের নানা রীতিনীতি আনয়ণ করে জমিদারির উদ্বৃত্তের বলে এরাই পরে বাঙলার রেনেসাঁর জনক হন। পলাশির পর যে লুঠের রাজত্ব শুরু হয়েছিল, সেই রাজত্বকে নিশ্চয়তা দিলেন নতুন শতাব্দের বাঙালি মধ্যবিত্ত, ইংরেজদের লুঠের খিদমতদার হয়ে উঠে।

ব্রিটিশ-পূর্ব বাঙলায় জমিদার আর জমিদারি৮ - পলাশি পরবর্তী সময়ের একশালা পরিকল্পনা, Zamindars & Zamindaris(Landlord) of Pre-British Period8 - Zamindari After Palashi - One Year Plan

পাঁচশালা বন্দোবস্ত বিফল হওয়ার ১৭৭৪এ কোম্পানির সুপ্রিম কাউন্সিলএর সদস্য, হেস্টিংসএর চরম শত্রু, ফিলিপ ফ্রান্সিস, ভারতে আসেন। অনেকেই কর্নওয়ালিসকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জনকরূপে বর্ণনা করলেও আদতে ফিলিপ ফ্রান্সিসকে বাঙলা সুবায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জনক বলাচলে। ১৭৭৬এ কলকাতা কাউন্সিলের কাছে বিশদে রাজস্ব ব্যবস্থার ছক পেশ করেন ফিলিপ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হেস্টিংস-বারওয়েল পরিকল্পনাকে বানচাল করতে ফ্রান্সিসএর এই প্রস্তাব। ফিলিপের প্রস্তাবের কেন্দ্রে ছিলেন জমিদারেরা। তাঁর যুক্তি, জমিদার আদত জমির মালিক। শাসক ভূমিরাজস্বের হকদার কিন্তু মালিক নন। কেড়ে নেওয়া দেওয়ানির অধিকার তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বাঙলা সুবায় কোম্পানির রাজস্ব হিসাব কষলেন ৩,১০,৬৪,২৩২টাকা। সরকারের প্রয়োজন অনুসারে রাজস্ব কী হবে তাও সরকারকে ঠিক করার পক্ষে মত দেন। তবে জমিরাজস্বের বিস্তৃত হস্তবুদ তৈরির বিপক্ষে মত ছিল তার, তিনি বিগত তিন বছরের কর আদায়ের গড় থেকে এই রাজস্ব নির্ধারনের পক্ষে ছিলেন। ব্রিটেনে গিয়ে তিনি তার পরিকল্পনার প্রচার চালান। ১৭৭৬এর ২২ জানুয়ারি ফ্রান্সিসের পরিকল্পনা বিখ্যাত মিনিটে বিস্তারিত পেশ হয়। প্রধাণমন্ত্রী পিট আর বোর্ড আর কন্ট্রোলএর প্রধাণ হেনরি ডান্ডাস তার পরিকল্পনায় বেশ প্রভাবিত হন। তাঁর সবকটি প্রস্তাব গৃহীত না হলেও, মোদ্দাপ্রস্তাবগুলি কিন্তু কোম্পানি মেনে নেয়। তাই ফ্রান্সিসকে বাঙলার ভূমিব্যবস্থা ধংসের প্রধাণ প্রক্রিয়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অন্যতম কারিগর বলা চলে। ১৭৭৬এ হেস্টিংস, ডি এন্ডারসন, চার্লস ক্রফটস, জর্জ বগলকে নিয়ে আমিনি কমিশন গঠণ করেন। ২৫ মার্চ আমিনি কমিশন তার সমীক্ষা পেশ করে।
ফিলিপ ফ্রান্সিস

১৭৭৭এ বাঙলাদেশে বার্ষিক বন্দোবস্ত নামে একশালা পরিকল্পনা তৈরি হল। ঠিক হয় বিগত তিনবছরের গড় রাজস্ব ধরে বার্ষিক রাজস্ব ঠিক হবে, জমিদার রায়তদের খাজনা উল্লেখ করে পাট্টা দেবেন। কোনও  ইওরোপিয় বা তার বেনিয়ান কোনে জমিদারি ইজারা নিতে পারবে না। প্রতিবছর নতুন লিজের বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। জমিদার নিজস্ব রাজস্ব দিতে অপারগ হলে, তার জমিদারি একাংশ বিক্রি করে সেই অনাদায়ি মেটাবার ব্যবস্থা হল। জমিদারেরা দেবী সিংহ আর গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। দিনাজপুর আর রংপুরের জমিদারেরা দেবী সিংহের বিরুদ্ধে অস্ত্রহাতে প্রতিবাদ করলেন। সরকারকে সৈন্য পাঠিয়ে এই সংগ্রাম দমন করতে হয়। হেস্টিংস ১৭৮১তে বোর্ড অব রেভিনিউ তৈরি করলেন। কোম্পানির চারজন বরিষ্ঠ কর্মচারী সদস্য এই বোর্ডের সদস্য হন। জেলায় জেলায় আবার নতুন করে কালেক্টরদের কর আদায়ের জন্য পাঠানো হয়। গভর্ণর জেনারেল আর কাউন্সিলের নির্দেশ অনুযায়ী কালেক্টরদের কাজ করতে বলা হল – আদতে পরোক্ষে কর আদায়ে যে কোনও  সহজ অথবা বাঁকা পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলা হল। ১৭৮৬তে কমিটি অব রেভিনিউ তুলে বোর্ড অব রেভিনিউ গঠিত হয়। সপারিষদ গভর্নর জেনারেল এই জমিদারি আর রাজস্ব সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী হলেন।

ব্রিটিশ-পূর্ব বাঙলায় জমিদার আর জমিদারি৭ - পলাশি পরবর্তী সময়ের পাঁচশালা পরিকল্পনা, Zamindars & Zamindaris(Landlord) of Pre-British Period7 - Zamindari After Palashi - Five Year Plan

পলাশি চক্রান্তের পর অশান্ত পরিবেশের সুযোগ নিতেন শাসনক্ষমতার দিকে হাত বাড়ানো ইংরেজদের সঙ্গে সঙ্গে নানান অঞ্চলের জমিদারেরা। তারা প্রায়শঃই নবাবকে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দিতেন। বাঙলা সুবার কর আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায়শাসক ইংরেজরা এই বাকি খাজনা আদায়ে সেনা ব্যবহার করতে শুরু করায় ক্রমশঃ ইংরেজ শাসন বাঙলা সুবার ওপর নতুন করে জাঁকিয়ে বসার সুযোগ পায়। ১৭৬৫ থেকে কোম্পানি রাজত্ব না পেয়েও শুধু দেওয়ানি পেয়েই বাস্তবে রাজা হয়ে বসে। অত্যাচারী দেওয়ান রেজা খাঁ আর নিজের পদ বাঁচাতে সদা ব্যস্ত নন্দকুমার ইংরেজদের নানানভাবে খুশি করতে অসম্ভব ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইংরেজদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে উপেক্ষিত হয় জমিদার তথা রায়তদের, আরও গভীরভাবে বলাযাক বাঙলার সার্বিক স্বার্থ। বাঙলার বিকাশের অন্যতম অছি বাঙলার জমিদারির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতা, ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর, চট্টগ্রাম আর বর্ধমানের রাজস্ব আদায়ের সনদ পায়। এসব এলাকায় কেম্পানির সঙ্গে জমিদারদের নতুন করে চুক্তি আর ভূমি বন্দোবস্ত হয়। ১৭৬৫ থেকে ১৭৭২ পর্যন্ত নতুন করে ভূমি ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়নি।
মহম্মদ রেজা খাঁ আর তাঁর অধীনস্থ আমলারা আমিলদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। যে জমিদার বেশি রাজস্ব দিতে রাজি হতেন, তাকেই জমিদারির বন্দোবস্তের দায় দেওয়া হত। দেশের ঐতিহ্য ভেঙে আমিলদারি ব্যবস্থায় নব্য-জমিদারেরা ইজারাদারের ভূমিকা পালন করতে থাকেন। আমিল, জমিদারদের সঙ্গে রায়তদের সরাসরি আদানপ্রাদানের ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে থাকে। দ্রুত অর্থ রোজগার করতে নব্যজমিদারেরা যে কোনও  ধরণের অমানবিক অত্যাচারী কাজকর্ম করতে এক পায়ে খাড়া থাকতেন। এদের ওপর সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও ছিলনা। কোম্পানি দাবি অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিমানে রাজস্ব আদায় করতে জমিদারদের প্রায় আইন ছাড়া লাঠিয়ালের ভূমিকা পালনের কাজে নিজেদের নিয়োগ করতে থাকেন। রায়তদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চলতে থাকে। ১৭৬৭তে কোম্পানির ডিরেক্টর সভা মেনে নিতে বাধ্যহয় যে রাজসাহি, ঢাকা, বীরভূম, রাজমহলে বহু রাজস্ব অনাদায়ী। আমিল জমিদার আর সরকারের দাবি মেটাতে বহু রায়ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, পশু, পুত্রকন্যাসহ সর্বস্ব বিক্রিকরে দিতে বাধ্য হয়। কম আর অনাদায়ী রাজস্বকে বেশি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া তৈরি করার নিদান খুঁজতে সুপারভাইজার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হল। সদাশয় কোম্পানি বাহাদুরের তখনও ধারণা বাঙলার বদমাইশ রায়তরা প্রশাসক আমিলদের সঙ্গে মিলে কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে(বহু বাঙালি ঐতিহাসিকও একই ভাষায় এই বক্তব্য পেশ করেছেন)। ইংরেজদের ধারণা ছিল বাঙলার ভূমিরাজস্ব আরও অনেক অনেক বেশি। সুপারভাইজারেরা ১৭৭২ পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা অনভিজ্ঞ তরুণ আর সংখ্যায় কম থাকায়, তাদের পক্ষে সবদিকে নজর রাখা, সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যথাসম্ভব বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। সুপাপভাইজারদের সঙ্গে নিয়ে চতুর গোমস্তা আর বেনিয়ানরাই ক্রমশঃ জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেন বাঙলার কর ব্যবস্থায়, ইংরেজদের প্রাপ্য কর দিয়ে তারা আরও বেশি ব্যক্তিগত রোজগারের চেষ্টা করে গিয়েছেন।
এই অবস্থা থেকে বেরোতে কোম্পানি পাঁচ বছরের মেয়াদে বাঙলার জমিদারির সর্বোচ্চ ইজারা দেওয়া শুরু করল – যাকে পাঠ্যপুস্তগুলিতে পাঁচশালা বন্দোবস্তরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। আগে ইজারাদারদের সর্বোচ্চ হারে ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিলই, কিন্তু মেয়াদকাল ছিল তিন বছর – এই সময়কাল পাঁচ বছর করা হল। এই কাজ করতে তৈরি হল, গভর্নর আর চারজনকে নিয়ে, কমিটি অব সার্কিট। খালসা বা রাজস্ব বিভাগ মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হল। ১৭৭৩এ রেভিনিউ বোর্ডের তত্বাবধানে বাঙলা সুবাকে কলকাতা, পাটনা, মুর্শিদাবাদ, দিনাজপুর, ঢাকা ও বর্ধমান এই ছয় ভাগে ভাগ করা হয়। ইংরেজ কালেক্টরের পরিবর্তে আবার নতুন করে দেশিয় দেওয়ান আর আমিলরা খাজনা আদায়ের ভার পান। পাঁচশালার বৈশিষ্ট্য ছিল ১) জমিদার, ইজারাদার অথবা তালুকদার নিজস্ব এলাকায় বর্ধিত হারে খাজনা দেওয়ার কড়ারে ইজারা পেলেন, ২)নিলামের আগেই সরকার হস্তবুদ তৈরি করে রায়তদের দেয় খাজনা, আবওয়াব প্রভৃতি নিশ্চিত করে ফেলেন, ৩)কোনও রকম নতুন কর নিষিদ্ধ হল, ৪) এই বন্দোবস্তে ইজারাদারদের কাছ থেকে জামিন নিলেন হেস্টিংস, ৫) কালেক্টরদের ব্যক্তিগত ব্যবসা, নজর, সেলামি সব বেআইনি ঘোষণা হল। বন্ধ হল বেনিয়ানদের সুদের কারবার। কিন্তু সব ভাল ভাল ব্যবস্থা সব খাতায় কলমে রইল। মাত্রারিক্ত রাজস্ব আদায়ের বণিকসুলভ মনোবৃত্তিতেই পাঁচশালা বন্দোবস্তের পতন সুনিশ্চিত ছিল। ১৭৭১এ নদিয়ার কর আদায় ছিল ৭,৩৬,৮৯৯ টাকা, পাঁচশালায় সেই কর আদায়ের বন্দোবস্ত দাঁড়ায় ১০,৬৪,৫৩০ টাকা। এই বন্দোবস্ত যে কেউই ইজারা নিতে পারতেন। হুজুরিমল আর মদনদত্ত দুই বণিক পুর্ণিয়ার ভূমিরাজস্বের ইজারা নেন। কোম্পানির সঙ্গে জুড়ে থাকা অনেকেই বেনামিতে ইজারা নেন। এই কান্ডে সরকারের বহু অর্থ অনাদায়ি থেকে যায়। রাজস্ব মকুব করতে হয়। নিষেধ সত্বেও কালেক্টররা সুদের আর মহাজনি কারবারে নতুন করে হাতপাকান। ১৭৭৫এ হেস্টিংস আর তাঁর বন্ধু বারওয়েল কর আদায়কারী হিসেবে ছোট জমিদারদের নিয়োগকরার সুপারিশ করেন।