Showing posts with label Gujrat. Show all posts
Showing posts with label Gujrat. Show all posts

Monday, September 2, 2013

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে ইতর জাতিগনের আগমণ, Lower Casts in Kalketu's Gujrat City

ইতর জাতিগনের আগমন

পাইয়া ইমান ক্ষিতি,            বসে প্রিজা নানা জাতি,
          আনন্দিত বীরের নগরে।
বীর করে বহুমান,             দেয় দিব্য পরিধান,
          নৃত্য গীত সবাকার ঘরে।।
মতস্য মারে চষে চাষ,         দুই জাতি বসে দাস,
          নগরে ফিরায় কলু ঘানি।
বাইতি নিবসে পুরে,            নানাবিধ বাদ্য করে,
          নগরে মঞ্জুরী বিকি কিনি।।
বাগদী নিবসে পুবে,            নানা অস্ত্র ধরি করে,    দোষ বশ পাইক করি সঙ্গে।
মাছুয়া নিবসে পুবে,            জাল বুনে মতস্য ধরে,
          কোঁচগণ বসে লীলা রঙে।।
নগর করিয়া শোভা,            বসিল অনেক ধোবা,
          দড়ায় শুকায় নানা বাস।
দরজী কাপড় সীয়ে,            বেতন করিয়া জীয়ে,
          গুজরাটে বসে এক পাশ।।
সিউলি নগরে বসে,            খেজুরের কাটি রসে
          গুড় করে বিবিধ বিধান।
ছুতার হাটের মাঝে,            ভিড়া কুটে খই ভাজে,
          কেহ করে চিত্র নিরমান।।
পাটনি নগরে বসে,            রাত্রি দিন জলে ভাসে,
          পার করি লয় রাজকর।
আসি পুর গুজরাট,             বসে তথি রাজভাট,
          ভিক্ষা মাগি বুলে ঘর ঘর।।
চৌদুলি চুনারি মাঝি,           কোবাঙ্গা ভরদ্বাজী,
          মাল বসে পুরের বাহিরে।
চন্ডাল নিবসে পুরে,            লবণ বিক্রয় করে,
          পানিফল কেসুর পসারে।।
গয়ালে গাইয়া গীত,            কয়ালি ফিররে নিত,
          একদিকে বসে মারহাটা।
ফিরে তাঁরা গুজরাটে,           শোলঙ্গে পীলিহা কাটে,
          ছানি কাটে চক্ষে দিয়া কাঁটা।।
পুলিন্দ কিরাত লকে,           হাটেতে বাজায় ঢোল,
          জায়াজীবী বসিল কেওলা।
বেহারা বসিল হাড়ি, ঘাস কাটি লয় কড়ি,
          শুঁড়ির অঙ্গনে যাব মেলা।।
মোজা পানই আর জিন,       নিরময়ে অনুদিন,
          চামার বসিল এক ভিতে।
বিউনি চালনি ঝাঁটা,            ডোম গড়ে টোকা ছাতা,
          জীবিকার হেতু এক চিতে।।
নগরের এক পাশে,            বারবধূজন বসে
          এক পাশে তাঁর অধিষ্ঠান।
রচিয়া ত্রিপিদী ছন্দ,             পাঁচালি করিয়া বন্ধ,

          শ্রীকবিকঙ্কণ রস গান।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে কায়স্থগণের আগমণ, Kayasthas in Kalketu's Gujrat City

কায়স্থগণের আগমন।

ভেট লয়ে দধি মাছ,            গৃত কুম্ভে বান্ধি গাছ
          কায়স্থ আইল মহাজন।
প্রণাম করিয়া বীরে,            নিজ নিবেদন করে,
          সুখী হঐলা ব্যাধের নন্দন।।
কায়স্থ মিলিয়া ভাষে,           আইলাম তব দেশে
          গুজরাটে করিব বসতি।
বিচার করিয়া তুমি,             দিবে ভাল বাড়ী ভুমি,
          প্রজাগনে কর অবগতি।।
কোন জন সিদ্ধকুল,            সাধ্য কেহ ধর্ম্ম মূল,
          দোষহীন কায়স্থের শোভা।
প্রসন্ন সবারে বাণী,             লেখাপড়া সবে জানি,
          সরব্বজন নগরের শোভা।।
অনেক কায়স্থ মেলা,           শুনিয়া তোমার খেলা,
          আইলাম তব সন্নিধান।
কুলে শিলে নাহি দোষ,         কেহ মাহেশের ঘোষ
          বসু মিত্র কুলের প্রধান।।
তব গুণে হয়ে বন্দী,            পাল পালিত নন্দী,
          সিংহ সেন দেব দত্ত দাস।
কওর নাগ সোম চন্দ্র,         ভঞ্জ বিষ্ণু রাহা বিন্দ
          এক স্থানে করিব নিবাস।।
বীর কওর অবধান,            প্রিজাগণে দেহ দান,
          ভূমি বাড়ী করিয়া চিহ্নিত।
কিছু দিবে ধান্য বাড়ি,          বলদ কিনিতে কড়ি,
          সাধন না কর বিলক্ষিত।।
ত্যাগ করিয়া কলিঙ্গ,            লক্ষ ঘোর প্রজা সং,
          এক স্থানে করিব নিবাস।
বিচার করিয়া তুমি,             দিবে ভাল বাড়ী ভূমি
          শুনি বীর হৃদিয়ে উল্লাস।।
ধার লহ লক্ষ তঙ্কা,             কাহারে না কওর শঙ্কা,
          দক্ষিণ আওয়াসে কওর বাঁশ।
রচিয়া ত্রিপদী ছন্দ,             জ্ঞান করি শ্রীমুকুন্দ
          রঘুনাথ নৃপতি প্রকাশ।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে ক্ষত্রিয়, বৈশ্যদের আগমণ, Khatriyas & Baishyas in Kalketu's Gujrat City

ক্ষত্রিয়, বৈশ্য প্রভৃতির আগমন

বীর দেয় বাস যত,             প্রজা বৈসে শত শত,
          আপনার ছাড়িয়া নিবাস।
তেস্নি ইনামে বাড়ি             প্রজা নাহি গণে কড়ি
          সবাকার হৃদয়ে উল্লাস।।
ক্ষত্রি বৈসে ভানুবংশ           সরব্বলক-অবতংশ
          চন্দ্রবংশে বৈসে মহাজন।
পুরাণ শ্রবণ আশে,             বসিল বিপ্রের পাশে,
          অনুদিন দ্বিজে দেয় ধন।।
দসর জমের দূত,              বৈসে যত রাজপুত,
          মল্ল বৈসে রাজচক্রবর্তী।
কৃষ্ণ সেবে অনুক্ষণ,           দাম করে নানা ধন,
          দেশে দেশে যাহার সুকীরত্তী।।
তুলিয়া আখাড়া ঘরে,           মল্ল যুদ্ধ কেহ করে,
          মালবিদ্যা গুলী চাপগারি।
লইয়া ঢাল খাড়া,               কেহ করে তোলপাড়,
          পশু বধে কেহ বা শিকারী।।
আসি পুর গুজরাট,             নিবাস করয়ে ভাট,
          অবিরত পড়য়ে পিঙ্গল।
বীর দেয় খাসা জোড়া,         চড়িতে উত্তম ঘোড়া,
          নিত্য চিন্তে বীরের মঙ্গল।।
বৈশ্য বোইসে মহাজন,         কৃষ্ণ সেবে অনুক্ষণ
          কৃষিকরম্ম করে গো-রক্ষণ।
কেহ কলন্তর লয়,              বৃষে কেহ ধান্য বয়,
          কালে কিনে রাখে কোন জন।।
কেহ দর করি তোলা           হীরা নীলা মতি পলা,
          নানা দেশ ভ্রমে স্থানে স্থানে।
সাজন করিয়া নায়,            নানান শহরে যায়
          আনে শঙ্খ চামর চন্দনে।।
চামর চামরি ভোট             সাগল্লাদ গজ ঘোট
          কবভ পট্টিশ অঙ্গরাখি।
এক বেঁচে এক কেনে,         নীতি নীতি বাড়ে ধনে,
          গুজরাটে বৈশ্য-জন সুখী।।
বৈদ্য জনের তত্ব,              গুপ্ত সেন দাস দত্ত,
          কর আদি বৈসে কুলস্থান।
বটিকায় কার যশ,              কেহ প্রয়োগের বশ,
          নানা তন্ত্র করয়ে বাখান।।
উঠিয়া প্রভাত কালে            ঊরদ্ধ ফোঁটা করে ভালে,
          বসন মণ্ডিত করি শিরে।
পড়িয়া জর্জর ধুতি,             কক্ষদেশে করি পুঁথি
          হুজ্রাটে বৈদ্যগণ ফিরে।।
কার দেখই সাধ্য রোগ,        ঔষধ করয়ে যোগ
          বুকে ঘা মারয়ে সরব্বদায়।
অসাধ্য দেখিয়া রোগ,          পলাইতে করে যোগ,
          নানা চলে মাগয়ে বিদায়।।
কর্পূর পাঁচন করি,              তবে জিয়াইতে পারি
          কর্পূর করহ সন্ধান।
রোগী সবিনয়ে বলে,           কর্পূর আনিতে চলে
          সেই পথে বৈদ্যের প্রয়াণ।।
বোইদ্য জনের পাশে,          অগ্রদানী বসে,
          নিত্য করে রগীর সন্ধান।
রাজ-কর নাহি দেয়,           বৈতরণি ধেনু লয়,

          হেম রজত লয় তিলদান।। ইত্যাদি

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে ব্রাহ্মণদের আগমণ, Brahmins in Kalketu's Gujrat City

ব্রাহ্মণগণের আগমন

পাইয়া বীরের পাণ,             বৈসে যত কুলস্থান
          বীরের নগরে বিপ্রগণ।
শাস্ত্র বিবেচনা করে,            আশীষ করিয়া বীরে,
          নিত্য পায় ভুষণ চন্দন।।
কুলে শীলে নহে নিন্দ্য,         মুখুটী চাটুতি বন্দ্য
          কাঞ্জিলাল গাঙ্গুলি ঘোষাল।
পূতিতুণ্ডি বৈসে হড়            রাইগাঁই কেশর গুড়
          ঘন্টেশ্বরী বৈসে কুলিন্যাল।।
পারীঘাতী পীতিতুণ্ডি            ঝিকরারী মালখণ্ডী
          ব্রাহ্মণ বড়াল কুলমাল।
চোটচণ্ডী পলসাঁই,              দীরঘাড়ী কুসুম গাঁই
          সাঁই-গাঁই কুলভি পড়াল।।
কড়িয়াল কুলস্যাল             সিমলাই কুড়িলাল
          পিপ্লাই বৈসে পুরব্ব গাঁই।
ধনে মানে অতিচন্ড            বাপুলি বিশালমুণ্ড
          করাল ণীবোশে সিমলাই।।
পালধি হিজল গাঁই              মাসচটক ডিঙ্গসাই,
          কাঞ্জারী সাহারি ভুরিষ্ঠাল।
বটগ্রামী নন্দী-গাঁই,             ভাটাতি সিদ্ধলদায়ী
          নায়েরী কেয়ারী মতিলাল।।
গাঁই নাই গত্র আছে,           বসিল বীরের কাছে,
          বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ সাতশত।
ব্যবহারে বড় ঋজু              নিত্য পড়ে বেদ যজু
          বেদ বিদ্যা পড়ে অবিরত।।
দেখিতে সুধার সারি,           ব্রাহ্মনের আগুয়ারি,
          সারি সারি বিষ্ণুর সদন।
কনক কলস চুড়ে,             নেতের পতাকা উড়ে,
          গৃহে-শিরে শভে সুদর্শন।।
কোন দ্বিজ অধিষ্ঠাতা,          কোন দ্বিজ কহে কথা
          কেহ পড়ে ভারত পুরাণ।
নানা দেশ হৈতে আসে,        পড়ুয়া বিদ্যার আশে,
          দেই বীর হয় গজ দান।।
মূর্খ বিপ্র বৈসে পুরে,           নঘরে যাজন করে,
          শিখয়ে পূজার অধিষ্ঠান।
চন্দন তিলক পরে,             দেব পূজে ঘরে ঘরে
          চাউলের বোচকা বান্ধে টান।।
ময়রাঘরে পায় খণ্ড,            গপাঘরে দধিভাণ্ড
          তেলিঘরে তৈলকুপী ভরি।
কোথাও নাসবা কড়ি,          কেহ দেয় দালি-বড়ি
          গ্রামযাজী আনন্দে সাঁতারি।।
গুজরাট নগরে                 নগরিয়া শ্রাদ্ধ করে
          গ্রামযাজী হয় অধিষ্ঠান।
সাঙ্গ করি দ্বিজে কয়,           কাহন দক্ষিণা হয়,
          হাতে কুশে দক্ষিণা ফুরাণ।।
গালি দিয়া লণ্ডভণ্ডে,            ঘটক ব্রাহ্মণে দণ্ডে,
          কুলপাঁজী করিয়া ভিচার।
যে নাহি গৌরব করে,          সভায় বিড়ম্বে তারে
          যাবৎ না পায় পুরস্কার।।
গুজরাট এক পাশে,            গ্রাহ-বিপ্রগণ বৈসে
          বরণ-দ্বিজগণ মাঠপতি।
দীপিকা ভাস্বতী ধরে,           শাস্ত্র বিচার করে
          বালকের লেখে জন্মপাতি।।
মাথায় পিঙ্গল জটা,             সন্ন্যাসী কাপালি ঘটা,
          ঝুপড়ি বান্ধিয়া এক পাশে।
গায়ে নানা তীর্থ চিন,          ভিক্ষা করি অনুদিন
          একপাশে তাঁরা সব বৈসে।।
সোডা লোয় হরি নাম,         ভুমি পাইয়া ইনাম,
          বৈষ্ণব বসিল গুজরাটে।
কাঁথা কম্বল লাঠি,              গলায় তুলসির কাঁঠি
          সদাই গোঙায় গীত নাটে।।
আয়তম ভুমি বাড়ি,            বীর দেয় বাক্য পড়ি
          কুশ নীর তিল করি করে।
রচিয়া ত্রিপদী ছন্দ              জ্ঞান করিল মুকুন্দ
          সুখে থাকি আড়রা নগরে।।

কালকেতুর গুজরাট নগর পত্তনে মুসলমানেদের আগমণ, Muslims in Kalketu's Gujrat City

মুসলমানের আগমন

কলিঙ্গ নগর ছাড়ি              প্রজা লয় ঘর বাড়ী,
          নানা জাতি বীরের নগরে।
বীরের পাইয়া পাণ,             বসিল মুসলমান,
          পশ্চিম দিকে বীর দিল তারে।।
আইসে চড়িয়া তাজি,          সৈয়দ মোগল কাজী,
          খয়রাতে বীর দিল বাড়ি।
পূরের পশ্চিম পটী,             বলায় হাসান হাটী
          একত্র সবার ঘর বাড়ি।।
ফজর সময়ে উঠি,             বিছায়ে লোহিত পাটী,
          পাঁচবেরি করয়ে নমাজ।
সোলেমানি মালা ধরে,         যপে পীর পেগম্বরে
          পীরের মোকামে দেই সা’জ।।
দোষ বিষ বেরাদারে,           বসিয়া বিচার করে,
          অনুদিন পড়য়ে কোরাণ।
সাঁঝে ডালা দেই হাটে,         পীরের শিরনি বাঁটে
          সাঁঝে বাজে দগড় নিশান।।
বড়ই দানিশবন্দ,               কারো নাহি করে ছন্দ,
          প্রাণ গেলে রোজা নাহি ছাড়ি।
ধরয়ে কম্বোজ দেশ,            মাথায় না রাখে কেশ,
          বুক আচ্ছাদিয়া রাখে দাড়ি।।
না ছাড়ে আপন পথে,          দোষ রোখা টুপি মাথে
          ইজার পড়য়ে দৃঢ নারী।
যব দেখে খালি মাথা           তা সনে না কহে কথা
          সারিয়া ঢেলাব মারে বাড়ী।।
আপন টোপর নিয়া             বসিল অনেক মিঞা,
          ভুঞ্জিয়া কাপড়ে পোঁছে হাত।
সাবালি লহানি আর,           লদানি সুরয়ানি চার
          পাঠান বসিল নানা জাত।।
আপন তরফ নিয়া             বসিল অনেক মিঞা,
          কেহ নিকা কেহ করে বিয়া।
মল্লা পড়ায়ে নিকা,             দান পায় সিকা সিকা,
          দোয়া করে কলমা পড়িয়া।।
করে ধরি খর ছুরী,             মুরগী জবাই করি,
          দশ গণ্ডা দান পায় কড়ি।
বখরী জবাই যথা,              মোল্লারে হেয় মাথা,
          দান পায় কড়ি ছয় বুড়ি।।
যত শিশু মুসলমান,            তুলিল মক্তব স্থান,
          মখদম পড়ায় পঠনা।
করিয়া চণ্ডীর ধ্যান,            শ্রীকবিকঙ্কণ জ্ঞান,
          গুজরাট পুরির বর্ণনা।।



মুসলমানগণের শ্রেনিভেদ

রোজা নামাজ করি কেহ হইল গোলা।
তাসন করিয়া নাম বাজাইল জোলা।।
বলদ বহিয়া কেহ বলায় মুকোরি।
পিঠা বেচিয়া নাম কেহ বলায় পিঠারি।।
মৎস বেচি নাম কেহ ধাবাল কাবারি।
নিরবতর মিথ্যা কহে নাহি রাখে দাড়ি।।
হিন্দু হয়ে মুসলমান হয় গরসাল।
নিশাকালে ভিক্ষা মাগে নাম ধরে কাল।।
সানা বান্ধি নাম বলাইল সানাকর।
জীবন উপায় তাঁর পেয়ে তাঁতি ঘর।।
পট পড়িয়া বুলে কেহ নগরে নগর।
তীরকর হয়ে কেহ নিরমায় শর।।
কাগজ কুটিয়া নাম ধরাই কাগাতি।
কলন্দর হয়ে কেহ ফিরে দিবারাতি।
বসন রাঙ্গায়ে কেহ ধরে রংরেজ।
লোহিত বসন শিরে ধরে মহা তেজ।।
সুন্নত করিয়া নাম বলায়ে হাজাম।
শহরে শহরে ফিরে না করে বিশ্রাম।
কাটিয়া কাপড় জোড়ে দজির ঘটা।
নেয়াল বুনিয়া নাম বলায় বেনটা।।
নানান বৃত্তি করিয়া বসিল মুসলমান।

সাবধান হয়ে শুন হিন্দুর বাখান।।

Sunday, January 22, 2012

ভারতীয় সমুদ্রপোত প্রযুক্তি১


ভারতে সমুদ্রপোত তৈরির প্রাচীনতম সময়কে ধরতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে ন্যুনতম তৃতীয় সহস্রাব্দে, সরস্বতী-হরপ্পা সভ্যতার সময়ে। জাহাজ তৈরি এবং সারাইএর জন্য সমুদ্র বন্দর লোথালে ড্রাই ডক তৈরি করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পেরেছিল সে সময়ের প্রযুক্তিবিদেরা। ১৯৫৫তে এই আবিষ্কার ভারতীয় সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বড় আবিষ্কার। লোথালে ২১৪ মিটার লম্বা এবং ৩৬ মিটার চওড়া একটি বিশাল চৌকো ট্রাপিজিয়ামের আকারে একটি মস্ত পুকুর আবিষ্কৃত হয়েছে, একেই যে ড্রাই ডক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পুকুরের চারটি দেওয়ালই পোড়া ইঁটের দেওয়ালের চাদরে ঢাকা, এবং চারস্তর পুরু এবং ৩ মিটার গভীর(বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই গভীরতা সে সময় আরও বেশি ছিল)। এটি স্ট্রটিগ্রাফিক্যালি সবরমতী নদীর তীরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। দক্ষিণপ্রান্তটি তুলনামূলকভাবে অগভীর এবং চওড়াটি বেশ কমেরদিকে। এটি ডকের ইনলেট চ্যানেল, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও এটিতে একটি স্পিল চ্যানেল রয়েছে যাতে একটি স্লুইস দরজাও লাগানো। এস আর রাও বলছেন এই পুকুরটি দুটি স্তরে কাজ করত। প্রথমস্তরে ১৮-২০ মিটার লম্বা আর ৪-৬ মিটার চওড়া দুটি মোটামুটি বড় জাহাজ একই সঙ্গে সহজে ডকে ঢুকতে আর বেরোতে পারত। দ্বিতীয়স্তরে ইনলেট চ্যানেলটি ছোট করে তুলনামূলকভাবে চ্যাপটা তলাওয়ালা একটিমাত্র বড় জাহাজ ঢুকতে পারত।
পোড়ামাটির তৈরি একটি পোতের ক্ষুদ্র সংস্করণ আর একটি সিল পাওয়া গিয়েছে যা দেখে কী ধরণের জহাজ সমুদ্রে যেত তা আন্দাজ করতে পারছেন বিশেষজ্ঞরা। লোথাল বন্দরের আবস্থান আহমেদাবাদের ৫০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বর্তমান সরগওয়ালা গ্রামের কাছে আর বর্তমানের সবরমতী আর ভোগাভা নদীর মধ্যবর্তীতলে এবং ক্যাম্বেতটের গাল্ফের থেকে ১২ কিমি দূরে এবং বিশেষদজ্ঞদের ধারণা সে হাজার পাঁচেক বছর আগে লোথাল অনেক বেশি সমুদ্রের কাছে ছিল। সবরমতী নদীর সিল্টেশনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। সরস্বতী-হরপ্পা সভ্যতায় লোথাল বড় বাজার এবং বড় বন্দরের দায়িত্ব পালন করত, বংপুর অথবা কাথেরমত নানান স্থানীয় জনপদের অঞ্চলের উত্পন্ন দ্রব্য বিশ্বের বাজারে পাঠানোর বড় দায় পালন করত অন্যদিকে বিদেশি দ্রব্যেরপ সঙ্গে বার্টারও করতে সাহায্য করত। ভারতের পশ্চিম তট থেকে উত্পন্ন দ্রব্যসমূহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের একদিকে মেসোপটেমিয়া অন্যদিকে বাহারিনের তটে পৌঁছে দেওয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেরমত সেবাকর্ম করত লোথাল। যে সব দ্রব্য বিদেশের বাজারে কদর ছিল সেগুলি হল রুটি, শাঁখের কাজ, ব্রোঞ্জের কাজ এবম হাতির দাঁতের সূক্ষ্মকর্ম। বিভিন্ন ধরণের গাড়ি, চ্যাপটা নৌকো করে এই দ্রব্যগুলি বন্দর শহরে বয়ে নিয়েআসত ব্যবসায়ীরা। আজকের দিনেও চ্যাপটা নৌকোয় করে মনুষ্য এবং বিভিন্ন হালকা ধরণের উত্পন্ন দ্রব্য বাহিত হয়। সরস্বতী-হরপ্পার অধিবাসীরাও সেদিনও একই ধরণের নৌকো ব্যবহার করত স্থানীয় বড় জলাশয় এবং নদী পরিবহনে। সমুদ্রে ব্যবহৃত হত পালতোলা আর হালচালানো নৌকো।
হরপ্পার অধিবাসীরা শুধু যে অসম্ভব কার্যকরী এবং উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চমানের বন্দর তৈরি করেছিল তাই নয়, সেই বন্দরে রপ্তানির নানান দ্রব্যের ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছিল। লোথাল ঘিরে গড়ে উঠেছিল একের বেশি ছোট বন্দরসমূহ ভাগতারভ, সুতকাজেন্দর, সুতকাখা। তবে এদের মধ্য সব থেকে বড়টি ছিল ধোলাভিরায়। মনেরাখতে হবে সব কটি বন্দর অবস্থিত ছিল আজকের গুজরাটের ভৌগোলিক এলাকায়।
মহেঞ্জাদারোয় একই ধরণের উচ্চ প্রো(prow) ওয়ালা জাহাজের খোদাই পাওয়া গিয়েছে একটি সিলে। স্টার্নটি রিড দিয়ে তৈরি হত। মধ্যভাগে থাকত একটি চৌকো কেবিন। যে পাঁচটি পোতের ক্ষুদ্র সংস্করণ পাওয়া গিয়েছে তাদের একটিমাত্র গোটা রয়েছে এবং সেটির পালটি তোলা।
সিন্ধু(আজকের পাকিস্তানে)র রাজা পুষ্যদেব ৭৫৬ খ্রি. আরব নৌপোতগুলিকে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য করেছিলেন। এই ঘটনা থেকে এই অঞ্চলের নৌশক্তির একটা আঁচ পাওয়া যায়। একাদশ শতকের যুক্তিকল্পতরু পোত তৈরির বর্ণনা দিচ্ছে এবং নানান পোতের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছে। মনুষ্য পরিবহন, পণ্য পরিবহন, মাঠধরা অথবা খেরি করাবার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত জলযানকে বিভিন্ন নাম দেওয়া হচ্ছে – সামান্য, মধ্যমা অথবা বিশেষ। ঋগ্বেদে কিন্তু ভারতে প্রাপ্ত সবথেকে পুরোনো জলযানের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যান্য কর্মেরমতই জলযান তৈরির কাজটি পারিবারিক এবং বংশ পরম্পরাগতভাবে বয়ে যেত। এই কাজটি বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের একচেটিয়া ছিল। মাপ হিসেবে আঙুল, হাত অথবা পাএর মাপ ব্যবহার করত। বহিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের জলযান তৈরি হত। নানান জলযানের মাপ, প্রযুক্তি এবং কাঁচামালের অনেক সাদৃশ্য ছিল। সাধারণতঃ পোত তৈরিতে টিক কাঠ ব্যবহার হলেও আদতে বিভিন্ন জলযানের জন্য বিভিন্ন ধরণের কাঠই ব্যবহার করা হত।