Sunday, February 26, 2012

The legend of Ma Shasti

Goddess Shasti is said to be the goddess of fertility, the one who blesses people with children. This ritual, sacred to her, is observed in the month of Jaistha during the bright phase of the moon. It is performed by married women with children only. Unmarried girls or married women who have not had children are not allowed to do it. It is performed so that the children and their respective families may enjoy health, wealth, a long life and every happiness. Black cats are believed to be Ma Shasti’s vahana or special protégé. The legend is as follows:

Once upon a time there lived a prosperous farmer who had a nice big house, twin ponds, a big garden and paddy fields. He also had seven sons. As they grew up he got them all married to nice, pretty girls. But one of them – the wife of the youngest son – was very, very greedy. Although many delicacies were cooked every day and there was more than enough for all, Choto-bou (the youngest daughter-in-law) ate up more than her share on the sly. She would steal into the kitchen when no one was around and drink up all the milk or eat all the sweets. Since they had two big ponds of their own a lot of fish was caught and prepared each day. The youngest daughter-in law would gobble up the biggest and tastiest pieces. Although she did it day after day no was could catch her. Needless to say, everyone in the house noticed that a lot of milk, sweets and fish were missing each day. But no one had any idea as to who stole them.

One day the farmer’s wife called all her daughters-in-law.
“A lot of milk has been missing for the last few days” she told them, “have you any idea who steals it?”
“No mother” said the wives of the six elder sons.
“Do you know anything?” the farmer’s wife asked her choto-bou.
“Yes, mother, I do” she answered.
“Well, who is it?”
“It is the black cat” said choto-bou.
“Are you sure? Have you seen her drink the milk?” asked the farmer’s wife.
“Oh yes, mother, I have” answered the choto-bou again, “I’ve been seeing her drinking  milk and gobbling up all the best fish and then running away every day. She’s a sly creature!”
“We must catch the black cat” announced the farmer’s wife.
They caught the black cat the next time it came into the house and gave it a sound beating.

The next day all the biggest and best pieces of fish were missing.
“Have you any idea who has taken them?” the farmer’s wife asked again.
“It’s the black cat again” said the choto-bou glibly, “I saw her running away with a big piece of fish in her mouth.”
Again the black cat came in for a thrashing. So it went on, day after day. Choto-bou ate up the best of everything and blamed the black cat every time.

Finally the black cat went and complained to Ma Shasti.
“Mother, I can’t take any more beatings when I’m innocent” she told the goddess, “It’s all choto-bou’s fault. I’m going to pay her out when I have the chance, so please don’t blame me then.”
“She deserves to learn a lesson” said the goddess smiling at the black cat, “It is very wrong of her to steal, to tell lies and to let someone else take the blame for her actions. She’ll get her punishment some day, don’t worry.”

Some weeks later a beautiful baby boy was born to choto-bou. The entire house rejoiced as there was no other child in the house. But when they woke up the next morning they were shocked to find the child missing. Everyone searched high and low but every trace of the baby seemed to have vanished. Choto-bou cried her eyes out but there was nothing that anyone could do. You may have guesses already that it was the wrongly-accused and unjustly-beaten up black cat who had stolen the baby when everyone was asleep. She carried the child straight to Ma Shasti. “Here you are, mother” said the cat laying the child in her arms, “I had told you I’d pay out choto-bou, didn’t I? You’d better look after her now.”  

The next year choto-bou had another baby boy. This one was also stolen like the last time and no one could find out what had happened. Again the black cat carried away the baby to Ma Shasti. Eventually choto-bou had six sons and all of them were stolen. People blamed her for being careless and whispered that she must be a witch-of-sorts who could not keep her own children. Finally when she had a daughter, she made up her mind to keep awake all night and guard the child. But she grew very sleepy around dawn and was dozing when she felt someone tugging at the bedclothes. She woke up to find the black cat running away with the baby. She got up hurriedly but the cat was too fast for her. She took off the heavy bracelet from her hand and struck the cat. The bracelet touched its head and the cat started bleeding as she ran. Choto-bou followed the trail of blood and reached the house of Ma Shasti. She found her baby in the arms of Ma Shasti and the other children playing near her. The black cat was seated at her feet, licking her wound.

Choto-bou fell crying at the feet of the goddess. “Mother, this wretched black cat has been stealing all my children from me. Now I see that you have them all. Please give them back to me, I beg of you.”
“I can’t do that” said Ma Shasti, “did you not know that the black cat is an especial pet of mine, my vahana? You kept stealing things day after day and then lied and blamed my poor cat and had her beaten up. I cannot overlook such wrong doing. You don’t deserve to have your children back.”
“Please pardon me, mother, I shall never do such a thing again!” cried choto-bou, “I am very, very sorry that I lied and got your black cat beaten up.”
“It’s no use begging my pardon” said Ma Shasti, “If you want forgiveness, better beg my cat’s pardon whom you have wronged.”

So choto-bou touched the black cat’s feet and begged her pardon, swearing never to steal or tell lies ever again. The black cat felt sorry for her and decided to forgive her. Ma Shasti gave her back her children and she returned home rejoicing. On returning home she worshipped the goddess Shasti, observing every ritual carefully. Ma Shasti was pleased and soon the other daughters-in-law of the farmer had children too. Everyone worshipped Ma Shasti faithfully since that day. Even today, the brata of Ma Shasti is one of the most-observed rituals in Bengal, which mothers observe for the welfare of their children.

From "Folktales of West Bengal" published by Children's Book Trust

Friday, February 24, 2012

উত্তরবঙ্গের জাগের গান

জাগের গান , জলপাইগুড়ি কোচবিহার জেলা এবং বাংলাদেশের দিনাজপুর রংপুর জেলায় এই গান শোনা যায়। চৈত্রমাসে মদনচতুর্দশী উপলক্ষে জাগের গান প্রচলিত। জাগের গান মূলত দুই প্রকার কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কানাই-ধামালী ও অশ্লীল আদিরসাত্মক মোটাজাগের গান। এছাড়াও বীররসাত্মক গানও কখনও কখনও গাওয়া হয়ে থাকে।
জাগের গান উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ফাল্গুন মাসের মদন চতুর্দশী উপলক্ষে। কোনো কোনো অঞ্চলে এই উৎসব চৈত্র মাসের শুক্ল ত্রয়োদশী তিথিতেও উদযাপিত হয়ে থাকে। মাসাধিক কাল ধরে চলে এই উৎসব। ছেলেরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাগন করে ও গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।
চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশী তিথিতে পুষ্পিত অশোকবৃক্ষের মূলে কামদেবের পূজা ও চামর ব্যজন করার শাস্ত্রীয় বিধান রয়েছে। উত্তরবঙ্গের অনেক ভদ্র পরিবারে এই কামপূজা অনুষ্ঠিত হয়। বাড়ির বাইরে দুই-তিনটি বাঁশের টুকরো মাটিতে পুতে, দুই-তিনটি দীর্ঘ কাপড়ে জড়ানো বাঁশের টুকরোর আগায় চামর দিয়ে সেই পোতা বাঁশের সঙ্গে বেঁধে কামপূজা করা হয়। রাজবংশীরাও এই কামপূজায় অংশ নেন। তবে তাঁরা লোকালয় থেকে একটু দূরে কোনো মাঠে গিয়ে এই পূজা করেন। পূজা উপলক্ষে গীত হয় জাগের গান।
জাগের গান
জাগের গান গাওয়ার সময় মূল গায়ক হাতে চামর ধরে গান করেন এবং দোতাররা মন্দিরা বাজিয়ে ধুয়ো ধরেন। এই গানের দ্বারা কামকে জাগরিত করা হয় বলে এর নাম জাগের গান। জাগের গান মূলত দুই প্রকার। যথা –(১) মোটাজাগ ও (২) কানাই ধামালী বা লীলা জাগ। এছাড়াও কখনও কখনও বীররসাত্মক জাগের গানও শুনতে পাওয়া যায়। সুশীলকুমার ভট্টাচার্য এক জমিদারের পৌরুষবর্ণনাত্মক একটি বীররসাত্মক গান সংগ্রহ করেছেন। গানটি এইরূপ
মাঠের মতন, কেমন ওসার পাঠার মতন বুক
সে কঠিন বুক দেখিয়া, শত্রুর শুকায় মুখ।
মোটাজাগ, গবেষক মধ্যবিত্তের ভাষায় অশ্লীল আদিরসাত্মক গান। এই গান বাড়িতে গীত হয়না। হয় মাঠে ঘাটে। সাধারণতঃ জাগের গানে এই ধরনের আদিরসাত্মক গানের প্রাধান্য বিশেষভাবে লক্ষিত হয়।
কানাই ধামালী বা লীলা জাগ রাধা-কৃষ্ণের লীলা বিষয়ক গান। তবে এই লীলাগান সম্পূর্ণ লোককবিদের নিজস্ব কল্পনা। এর সঙ্গে পৌরাণিক রাধাকৃষ্ণ কাহিনির যোগ বড় একটা নেই। পালার আকারে এই গানগুলি রচিত হত। দুইজন বালককে রাধা ও কৃষ্ণ এবং একজন প্রৌঢ় ব্যক্তিকে বড়ায়ি সাজিয়ে এগুলি অভিনীতও হত। পণ্ডিতরাজ নামক জনৈক সংগ্রাহক তাঁর পালা সংকলনে এগুলিকে রতিরাম নামক জনৈক কবির রচনা বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সুশীলকুমার ভট্টাচার্য এই পালাগুলির রচনাবৈষম্য পর্যবেক্ষণ করে এগুলি একাধিক কবির রচনা বলে মতপ্রকাশ করেছেন। এগুলির বিষয়বৈচিত্রেও স্বতন্ত্র। রাধার শাক তোলাবা কৃষ্ণের ধোরে মাছ তোলাপ্রভৃতি অভিনব বিষয় এই সব পালায় দেখা যায়। অনেক শহুরে গবেষক এগুলিকে অশ্লীল বলেছেন। তবে মোটা জাগের তুলনায় অনেক সংযত ও মার্জিত।
তথ্যসূত্র - প্রবন্ধ উত্তরবঙ্গের জাগের গান : সুশীলকুমার ভট্টাচার্য ; এবং স্বদেশচর্চা লোক পত্রিকা ; আশ্বিন, ১৪১৫, (অক্টোবর, ২০০৮) ; বিষয় গ্রামীণ বিনোদন সেকাল ও একাল ; সম্পাদক : প্রণব সরকার, সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ

Thursday, February 23, 2012

Ganga Cruse Performance

on sunday Kalaboti Mudra performed Rabindra Nritya in the RV Bengal Ganga, a ganga cruise. various moods of that night is being shown here.

Thursday, February 2, 2012

হাপু গান, Hapu Gaan

বাঁকুড়া-বর্ধমান-বীরভূম জেলার হাপুগান একসময় গাইতেন বাজিকর, মাল, বাইতি, কাকমারা, বেদে, পটুয়া সম্প্রদায় এ ধরনের প্রায় প্রত্যক সমাজ মূলতঃ ভ্রাম্যমান জীবনযাপন করতেন দেশিয় রোগএর নানান দেশজ ওষুধের স্থানীয় ভাষায় টোটকা(আজকের নিন্দিত অর্থে নয়) খনি ছিলেন এঁরাই এরাই রোগ থেকে বাঁচবার নানান টোটকাও বলতেন নিজেদের গানে
এ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যখন এ্যালোপাথি জাঁকিয়ে বসেনি, যখন দৈত্যসম ওষুধ সংস্থাগুলোর স্বার্থই রোগীর স্বার্থের ওপরে ওঠেনি, ডাক্তারেরা লক্ষ লক্ষ কাঞ্চনমুদ্রা ব্যয় করে ডাক্তারি পড়ে রুগিমার ডক্তার হয়ে বহুজাতিক ওষুধ সংস্থার অদৃশ্য ক্যানভাসারের কাজে দামি গাড়ি বাড়ি হাঁকিয়ে বড়লোক হবার দায় নিজের কাঁধে তুলে নেননি, যখন পূর্ব ভারতের গ্রামে গ্রামে নাথ কবিরাজেরাই চার-পাঁচ হাজার বছর ধরে দেশের মানুষের রোগ সারাবার মহত দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে ছিলেন, সে সময়ই সেই কবিরাজকুলের সাহায্যে এগিয়ো আসতেন এই বাজিগরেরা বিশেষ করে এই কাজে সেই সমাজের মেয়েদের ভূমিকা ছিল অগ্রণীর হাপু গানের সঙ্গে নাচ দেখিয়ে তারা ঢুকে যেত অন্তরপুরে তাঁদের ওষুধের সামগ্রী নিয়ে ওষুধের সঙ্গে থাকত নানান ধরনের বিক্রির জিনিসপত্র যে নৌকো করে এঁরা দেশে দেশান্তরে ঘুরতেন তাকে বলাহত বেদে নৌকো
বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশের সঙ প্রসঙ্গে নামক পুস্তকে বেদে গানের নানান উদাহরণ পাওয়া যাবে এই গানে তাল রাখতে ঘুঙুর, খঞ্জনি আর ডাবকি ব্যবহৃত হত দ্রুত উচ্চারনের জন্য গানের আগে মুখে এক ধরনের শ্বাস নেওয়ার ধরণটাই হাপু গানের নিজস্ব ধারা স্ত্রী আর ছোটছোট ছেলেমেয়েরা বগল বাজিয়ে হাত দিয়ে শরীরের নানান অঙ্গে আঘাত করে বিচিত্র শব্দ তুলে, নানান অঙ্গভঙ্গীকরে গান পরিবেশন করতেন চিরকালেরমতই যদিও বিশেষজ্ঞরা হাপুকে মোটাদাগের, অশ্লীল বা অশ্রাব্যসব অভিধা দিয়েছেন, তবুও বলা যায় হাপুর তুলনা হাপুই – অশিক্ষিত-অমার্জিত জনগণই দেশের সংস্কৃতির হকদার, রক্ষাকর্তা যে সব মানুষ এধরনের সংস্কৃতিকে মোটাদাগের, অশ্লীল বা অশ্রাব্যবলে গালি পাড়ছেন, তারাই নিজের দেশের সম্পদের প্রতি অশ্রদ্ধাজ্ঞাপণ করছেন – এ কথা বলার আজ সময় হয়ে এসছে, একথা আজ কম্বুকণ্ঠে বলতে হবে সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য আরও কিছু সংবাদ হাপু গান শুনলে মনে হবে যেন পশ্চিমি দ্রুত উচ্চারণে গান গাওয়া
কয়েকটা হাপুগানের নমুনা
হাপু আতা পাতা লো,
হাপু সর্ষে পাতা লো,
হাপু আম খাবি জাম খাবি,
তেঁতুল খাবি লো,
তেঁতুল খেলে প্যাট গুলোবে ছেলে হবে না,
হাপু কাকে খেলে লো,
হাপু ক্যা ঝাড়ুনি লো,
হাপু বেদের মাকে লো
ই ডাঙাড়ে ঐ ডাঙাড়ে শালিক বস্যেছেঁ
বেদের মাকে বিয়া করতে পাল্কী আস্যেছেঁ
হা ফুঃ কদম ফুঃ
বুঢ়াতে বুঢ়ীতে লড়াই লাগ্যেঁছে
বুড়া কপালে বুঢ়ী পাদ্যেঁ দিয়েঁছে
হা ফুঃ কদম ফুঃ ইত্যাদি

হাই লো বামুন দিদি
বাগদি ঠাকুরঝি
আমি কেলে গয়লার বেটার
ঠিয়ে কখন হাঁস্যেছি-
হাঁস্যেছি বেশ করেছি
তর বাপের কী
যখন ছিলাম ছ বছরের
তখন উঠে নাই গা
এখন আমি বছর তেরো
হব ছেলের মা
মাছ ধরতে গিলাম আমি
কুঁয়ে লুদির কুলে
দেখি এ্যাক মিনসে
রসির লাগর
ডাঁড়া ফেলছে চারে
জলে নেমে জাল ছাঁকি
আর মিনসে থাকে চেঁয়ে
ভাল্ কেনা তুই ঢ্যামনা মিনসে
থানা কেনা চেয়ে
তাকে দেখে উচএ যাব
নইক তেমন মেয়ে
মাছ ধরছি চিংড়ি চাঁদা
গচি মাগুর গাগর
কার্তিক মাসে মাছের রসে
বলবো কি বুন্ বলবো কিলো
আমার প্যাট হয়েঁছে ডাগর
খোসার দুম খোলাক দুম
কাঁথা চাপা দিঁয়ে মারব ঘুম ইত্যাদি

বছর পনের আগে বীরভূমের নলহাটিতে শুনেছিলাম এঁদের গান আর চমত্কৃতও হই

Wednesday, February 1, 2012

Mask of Purulia, Cho Dance

একটি চিঠি - ফুলিয়ার তাঁতে ধূসর মৃত্যু ছোঁয়া

মাননীয় রন্তিদেব সেনগুপ্ত মহাশয় সমীপে
সম্পাদক, সাপ্তাহিক বর্তমান,
আমরা কলাবতী মুদ্রার নথিকরণ দলের সদস্য বিগত কয়েক দশক ধরে আমরা গ্রাম বাংলার জ্ঞাণ ভান্ডার নথিকরণের কাজ করে চলেছি, তৈরি হয়েছে বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সংঘ দুই সংগঠণের যৌথ উদ্যমে সম্প্রতি ফুলিয়ায় তাঁত বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে বেশকিছু মনখারাপের তথ্য উঠে এল, সেই তথ্য জানানোর জন্য এই পত্রের অবতারণা আমরা নিয়মিতআপনার বহুল প্রচারিত সাময়িকীর নানান সামাজিক প্রতিবেদনের ভক্ত এবং বাঙালিদের নানান দুর্দশার কথা আপনাদের সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে নিয়মি উঠে আসছে আশাকরব আপনারা এই চিঠিটি প্রকাশকরে ফুলিয়ার তাঁতিদের অবস্থা জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাহায্য করবেন
দেশভাগের প্রতিক্রিয়ায় বাঙলাদেশের টাঙ্গাইলের ২২টি গ্রামের বহু তন্তুবায় চলেএসেছিলেন এ বাঙলার ফুলিয়া অঞ্চলে ফুলিয়ার অগ্রণী তন্তুবায়, হরিপদ বসাকের নীলাম্বরীর নকশা উপন্যাসে বিশদে সেই জনপদ পাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে, যদিও সেই ইতিহাস বাখান এই রচনার অংশ নয় নানান অত্যাচার অনাচারে, শহুরে উচ্চবর্ণের বিশ্বাসঘাতকতায়, আমলাদের সমর্থন অথবা চক্রান্তে আর তাঁতিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে, সৃষ্টিতে আর গবেষণায় ক্রমে ক্রমে ফুলিয়া হয়ে উঠল এ বাঙলার শিল্প-কারিগরী ইতিহাসের অন্যতম প্রধাণ অংশিদার ফুলিয়ার টাঙ্গাইল, পাশেরই ঐতিহাসিক জনপদ, শান্তিপুরের শান্তিপুরীর বয়ন শিল্পের অসাধারণ কুহকী আকর্ষণীয় তন্তুবায়েদের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ফুলিয়া জনপদ নিজস্ব সুচারু দক্ষতায় বিশ্ববিজয়ী তাঁতশিল্পের মর্যাদা অর্জন করল ফুলিয়ার কারিগরদের অসামান্য দক্ষতা, বাঙলার বয়নশিল্পে ফুলিয়াকে নিজের স্থান তৈরি করতে সাহায্য করল মাত্র কয়েকটি দশকের যাত্রায় ফুলিয়ার তাঁতিদের সাধারণতম তাঁতে বোনা কাপড় আজ ইওরোপ, এশিয়ার নানান দেশে রপ্তানি হচ্ছে মাথা উঁচু করে
আশ্চর্যের, ফুলিয়ার এই বিশ্বজোড়া নাম ডাক ডেকে এনেছে মৃত্যু ফাঁদ নিজের মাংস আর মৃগনাভিরই স্বাদ-গন্ধে হরিণের মৃত্যু এক লাখেরও বেশি হস্তচালিত শিল্পী তন্তুবায়ের রুটি রুজি মারতে ফুলিয়া, রাণাঘাট, শান্তিপুরের নানান এলাকায় বসে গিয়েছে কয়েক হাজার কলের তাঁত, দৈত্যসম শাড়ি কারখানা এই কল একই ধরণের ফুলিয়ার শাড়ি বুনে দিচ্ছে অত্যন্ত কম মূল্যে, অতি কম সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফুলিয়ার হস্তচালিত তাঁতের অন্ততঃ পঞ্চাশ হাজার তাঁতি শ্রম দান করছেন সেই সব কলের তাঁতের কারখানায় শ্রম দানই বলা ভাল কেননা কলে সামগ্রিকভাবে হয়ত বেশি অর্থ রোজগার করছেন, কিন্তু কলে খেটে তাঁতিরা শাড়ি পিছু মজুরি পাচ্ছেন যথেষ্ট কম তাঁতে একটি শাড়ি তৈরি করতে মজুরি পেতেন শদুয়েক টাকা, কিন্তু কলে একটা শাড়িতে পাচ্ছেন ২০ টাকা সর্বাধিক মরে যাচ্ছে হাড়রক্তজলকরে তিলে তিলে গড়ে তোলা ফুলিয়ার গর্বিত ঐতিহ্য বিগত এক বছরেরমধ্যে ফুলিয়ার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ হাতে টানা তাঁত বন্ধ হয়ে গিয়েছে এরই মধ্যে অন্ততঃ তিনটি পারম্পরিক তাঁত সমিতি বিপুল উদ্যমে বিশ্বের নানান প্রান্তে কাপড়ের ব্যবসা করে চলেছেন- বিশ্ব বাজারে ফুলিয়া আজ বড় নাম বাঙলার একমাত্র টাঙ্গাইল শাড়িকে তাঁরা বাঁচিয়ে দিয়েছেন নবতম উদ্যমে এর সুফল ভোগকরছেন এককালে সোসাইটির প্রবল বিরোধিতা করা বহু মহাজনও অথচ প্রত্যেকজন হস্তচালিত তাঁতির মনে আজ ধুসর মৃ্ত্যুর ছোঁয়া ভারত সরকারের সংরক্ষণের তালিকায় হস্তচালিত তাঁতের উল্লেখ রয়েছে এ যেন সেই আবার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলের ইতিহাসের প্রত্যবর্তন
ভারত সরকারের যে দপ্তরের এই কর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়, ডেভেলাপমেন্ট কমিশনার অব টেক্সটাইলসএর এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটএর আমলারা মুদ্রারাক্ষসের প্রভাবে কলের তাঁতের স্বার্থ রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যস্ত স্বাধীণতার পর মধ্যবিত্তরা সমাজ উন্নয়ণ কর্ম নিয়ে, দেশের গর্ব নানান প্রযুক্তি নাশে যে স্বেচ্ছাচার করে এসেছেন এই উদ্যম তারই সর্বশেষ প্রক্রিয়া একদিন হয়ত ঐশ্বর্যমন্ডিত ফুলিয়ার, অমর্ষি-কসবা, চন্দ্রকোণার তাঁতের চরমতম দশাপ্রাপ্ত হবে দেশজ ঐতিহ্য, দেশজ সাধারণ মানুষের উদ্যম, দেশজ মানুষের গবেষণালব্ধ জ্ঞাণ রক্ষা, বিকাশে মধ্যবিত্ত আমলা সমাজের বিন্দুমাত্র উত্সাহ নেই ভারত সরকারের সঙ্গে বাঙলার সরকারও উদাসীন সম্প্রতি বাঙলাদেশ থেকে কলের তাঁতের একই ধরণের অসংখ্য টাঙ্গাইল বস্ত্র এ বাঙলার বাজার ছেয়ে ফেলছে সেখানের হাতে বোনা টাঙ্গাইলের আরও বেশি দুর্দশা বাঙলাদেশ থেকে যে ৪০০ও বেশি দ্রব্য ভারতে আসা বন্ধ ছিল, তা ভারত সরকারের ফরমানে নেমে এসেছে কয়েকশতে ফুলিয়ার অগ্রণী তাঁতি হরিপদ বসাক ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের পারম্পরিক বস্ত্রশিল্পীদের অন্যতম প্রতিনিধি, তিনি সেই ফরমানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন কিন্তু কাকস্যঃ পরিবেদনা দেশের শিল্পীদের পায়ে কুড়ুল মেরে প্রতিবেশীদেশের বড় শিল্পের সঙ্গে সখ্যের দৌত্য কতটা দুদেশের সাধারণ মানুষের, গড়েতোলা ঐতিহ্যের প্রচার-প্রসারের জন্য হচ্ছে তা সরকারই জানেন ভারত সরকারের অন্যতম উদ্যম বিদেশ আগত কলের তাঁত স্থাপনে উতসাহদেওয়া, তাতে হস্তশিল্প মারাযায় যাক, দেশের ঐতিহ্য লুপ্তহয় হোক ভারতে চিনের হাতে লুঠ হয়ে যাওয়া ভারতীয় বস্ত্রের ভারতের বাজার ধরতে সরকারি মদতে পাঞ্জাবে বিশাল বিশাল কলের তাঁত বসানো হচ্ছে এতে ভারতে চিনের তাঁতের বাজার কতটা পড়বে, অথবা পশ্চিমি কলের তাঁতের যন্ত্রপাতির বাজার কত রেখা বাড়বে, ভারতে বেকারিজ্বালা কতটা দূর হবে, এসব কথা স্পষ্ট করে না বলা গেলেও, একটি কথা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বানী করা যায়, ভারতের পারম্পরিক তাঁত শিল্পের ওপর বড় ধাক্কা আসতে চলেছে, পাঞ্জাবী এই উদ্যমে
ফুলিয়ার তাঁতিদের আরও বড় মরণফাঁদ পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুত নিগমের এক তুঘলকি ফরমান ফুলিয়ার যাঁদের ঘরে হস্তচালিত তাঁত রয়েছে তাঁদের সবাইকে ব্যবসায়িকহারে বিদ্যুতের মাসুল দিতে হয় অথচ পাশের জনপদ শান্তিপুরের তাঁতিরা কিন্তু বাড়ির ব্যবহৃত মাসুলই দেন হস্তচালিত তাঁতে বিদ্যুত প্রয়োজন যে হয় সে তথ্য কোনো বিদ্যুত দপ্তরের আমলার কাছে থাকলেও সমাজের বহু মানুষ এই গুঢ় তথ্য জানেন না সরকারি এক ব্যবসায়িক সংস্থার পক্ষে পাশাপাশি দুই জনপদে দুরকম নীতি বিষ্ময়কর বৈকি আজকের সমাজে এমনিতেই হস্তচালিত তাঁতের দুর্ভোগের শেষ নেই কলের তাঁতের বিষয়টি কেন্দ্রিয় সরকারের অধীণে হলেও বিদ্যুতের বোঝাটি কিন্তু রাজ্যসরকার একটি কলমের খোঁচায় সমাধাণ করে দিতে পারেন
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সমীপে এই আবেদন জানালাম নিবেদনে,

বিশ্বেন্দু নন্দ, কলাবতী মুদ্রা নথিকরণ দলের পক্ষে
২৪/১৮, নাবালিয়া পাড়া রোড, কলকাতা ৭০০০০৮
০৯১৬৩৮২৫৯৯৪, ০৩৩২৮৯৪৪৭৫৮