Showing posts with label এডাম সমীক্ষা. Show all posts
Showing posts with label এডাম সমীক্ষা. Show all posts

Tuesday, January 1, 2019

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - দেশিয় জ্ঞানচর্চা, দেশিয় বাস্তবতা - বিদ্যালয় নির্ভর জ্ঞানচর্চা বনাম শ্রুতিনির্ভর দক্ষতা ও জ্ঞানচর্চা - চোখে না পড়াটাই তার জোরের জায়গা কারণ ক্ষমতা তাকে পাত্তা দেয় না

আমার এক গুরুস্থানীয় লিখেছেন, 'এডামস রিপোর্ট' মন দিয়ে পড়লে দেখা যাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কল্যানে ও বিদেশী শাসকদের বদান্যতায় কি ভাবে গত ২০০ বছরে 'কাবাব' রা বাংলার এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে 'অশিক্ষিত','প্রান্তিক' মানুষে পরিণত করেছে'। তাঁর অদৃষ্টবাদিতার বিপক্ষে মত প্রকাশ করা গেল।আজও বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠের শিক্ষা ব্যবস্থা শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক হয়ে ওঠে নি।বাংলার চাষী কারিগর হকার মধ্যবিত্তের মত হয় তো ক্ষমতার কাছাকাছি কোনদিন ছিল না, কিন্তু আজও তারা উৎপাদন ব্যবস্থা নির্ণায়ক এবং বাংলা অর্থনীতির ধারক।
একথা দুর্নিবার ঠিক যে দ্বারকানাথ, রামমোহন, বিদ্যাসাগর ইত্যাদির হাত ধরে দেশজ বিদ্যালয়গুলির শ্মশানযাত্রা ঘটিয়ে দিয়েছিলেন নব্য ইংরেজি শিক্ষিত কর্পোরেট নবজাগরিত বাঙ্গালিরা(চেহারায় বাঙালি, মননে ইওরোপিয়, দর্শনে মেকলিয়) মেকলের তত্ব অনুসারে। পরম পত্রিকায় ব্রিটিশপূর্ব শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সংখ্যায় বিদ্যালয় ধ্বংস নিয়ে হাহুতাশ বা এডামের শিক্ষা সমীক্ষা নিয়ে আলোচনায় বার বার বিদ্যালয় পাঠক্রিয়া পদ্ধতি ধ্বংসের ধুয়ো তুলি - আদতে সেই কাজটা মন দিয়ে করি পশ্চিমি কেন্দ্রিভূত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিভূ হিসেবে তার দার্শনিক প্রভাব এড়াতে না পেরে। এর কিছুটা যে সত্য তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই - কেননা গ্রামীন পাঠশালাগুলির পাঠ্যক্রম তৈরি হয়েছিল আজকে যাকে প্রান্তিক সমাজ(কেন প্রান্তিক?) বলা যায় তাদের জন্য, তাদের দর্শন নিয়ে, তাদের ব্যয়ে, তাদের বাড়ির কাছের পরিবেশ সেবার জন্য, সাগরপারের লুঠেরা সওদাগরি অর্থনীতি সেবার জন্য নয়।
কিন্তু সেই তথ্যটাই সম্পূর্ণচিত্র নয় বলে আমরা মনে করি - এটাও মনে করি শিক্ষিতরা যাকে কারিগর অর্থনীতি বলছেন, তার ভিত্তি শুধুই লিখিত জ্ঞান-শিক্ষাচর্চার ওপরে নির্ভর করে ছিল না, আজও নেই। কারিগর অর্থনীতির বিপুল অংশ নির্ভর করে পরম্পরার শ্রুতি, হাতে হাতে দক্ষতা প্রবাহিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর দর্শন প্রবাহের বাস্তবতায়। বিদ্যালয় এই ব্যবস্থার একটা অংশ ছিল ঠিকই, কিন্তু সবটাই নয় - বাঙলার কারিগরী ব্যবস্থায় থাকা মোট জনগণের সংখ্যার মধ্যে কত অংশ বিদ্যালয়ে যেত বা আজও যায় এই অনুপাতটা দেখলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায়। আলোচনার সুবিধার জন্যে আজকের হিসেবই নিলাম।
আজও গ্রাম অর্থনীতি ২৫০ বছরের কর্পোরেট অর্থনীতির থেকেও বড় - আজও জ্ঞান-বিদ্যাচর্চা প্রাতিষ্ঠানিক মেকলিয় বিদ্যাচর্চা থেকে যে বড় - তাঁর শ্রেয় যায় এই জ্ঞান-দক্ষতা প্রবাহনের পরিকল্পনা, ব্যবস্থা সুচারুরূপে অন্তত বিপুল শক্তিমান কর্পোরেটদের ধ্বংসক্রিয়ার সমান্তরালভাবে নিজের দর্শনে বয়ে নিয়ে যেতে পারা মানুষের দক্ষতায়। সেটা বিদ্যালয় ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়েই এই মানুষেরা করে চলেছেন। ১০+ কোটি মানুষের বাংলায় মাধ্যমিক দেয় ১২-১৩র কাছাকাছি লক্ষ পড়ুয়া, স্নাতক স্তরে পরীক্ষায় বসে মাত্র ৮০০০০ মোট জনসংখ্যার কোন শতাংশতেই আসে না। ঔপনিবেশিকদের কাজ করমে পাঠশালা ব্যবস্থা উঠে যেতে বসলেও পরম্পরার মৌখিক জ্ঞানচর্চা কমে নি।
বিপুল, বিশাল, কারিগর, অভিকর শিল্পীরা তাদের জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তি চর্চা, শিল্প চর্চা করতে সামাজিক/পারিবারিক জ্ঞানের সর্ব্যব্যাপী অস্তিত্বের পরিবেশের মধ্যে। তাই পরম্পরার বিদ্যালয়গুলি উঠে গেলেও গ্রামে জ্ঞানের, প্রজ্ঞার, শিক্ষার এবং এগুলি ব্যবহার করে দক্ষতা অর্জনের পরিবেশের ঘাটতি আজও নেই। ঠিক এই কাঠামোর ওপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলার কারিগর কৃষ্টি-আর্থব্যবস্থা। ভারতজুড়ে যেমন বিভিন্ন রাজা, জমিদার বা সংগঠনের দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞানচর্চার প্রবাহ গড়ে উঠেছিল, তেমনি মাঠে ঘাটে অপ্রথাগত পরম্পরার জ্ঞানের সমাহারে গড়ে উঠেছিল চাষ, ঝিল কাটা, জল সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থা, সহ হাজারো কারিগরি উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি, তার হাতিয়ার, তার জ্ঞানচর্চার ধারা - যার ধারকবাহক ছিলেন কারিগরেরা, যারা আজও আছেন সাধারন মুখ না চেনা, নাম না জানা মানুষ হিসেবে, যাদের আমরা ভদ্রবিত্তরা এককথায় অশিক্ষিত বলতে ভালবাসি। এই জ্ঞানচর্চায় রাজা রাজড়ার পৃষ্ঠপোষকতা কিছুটা থাকলেও এটি আদতে সামাজিক কর্ম ছিল, আছে থাকবে। তাই রাজছত্র ভেঙ্গে পড়লেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহের প্রযুক্তি ইত্যাদি উদ্ভাবন এবং প্রয়োগ করতে কোন বাধা ছিল না। এখানে ছিল না কোন গ্রন্থাগার, ছিল না পুঁথি, ছিল না কোন গবেষণাগার। শুধু পরম্পরারর জ্ঞান, দক্ষতা প্রজ্ঞা, চাহিদার তথ্য কাজে লাগিয়ে পুরুলিয়া বা রাজস্থানে গড়ে উঠেছিল বিশাল বিপুল সেচ ব্যবস্থা(বাঁধ নামক হ্রদ আজও রাঢ বাংলায় আছে কিন্তু হতোদ্যম), শাঁখারিদের জন্যে শাঁখের করাত, তাঁতিদের জন্যে মসলিনের তাঁত, বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার জন্যে ভিন্ন ভিন্ন আকারের পুকুর, নানান ধরণের মাটির বাড়ি, চাষের জন্যে ভিন্নভূপ্রকৃতির জন্যে ভিন্ন ভিন্ন হাল, নানান প্রকৃতির জন্যে নানান ধরণের মাছ ধরার জাল, খাওয়ার জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ভূপ্রকৃতি অনুসারে খাদ্যব্যবস্থা, মহিলাদের কাঁথা সেলাই বা আলপনা দেওয়া যা আদতে তাঁদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ধারণার প্রতিফলন এবং চরমতম দক্ষতার নজির। আজ যখন আমরা প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান আর জ্ঞানচর্চা নিয়ে আলোচনা করছি, তখন রাজছত্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা, বিপুল বিনিয়োগের বাইরে চলমান জ্ঞানচর্চার ধারক এই নাম না জানা সামাজিক মানুষ, যাদের কল্যানে বাংলা তথা উপমহাদেশের সভ্যতা আজও বহাল তবিয়তে টিকে আছে, তাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে। তাঁরা আর আজও ক্রিয়াশীল রয়েছেন। আমাদের চারপাশে রয়েছেন সদা উদ্ভাবনশীল কারিগর, গত কয়েক দশকে যাদের উপহার ইঞ্জিন রিক্সার মত জটিল প্রযুক্তিগত কাজ।
কর্পোরেট এককেন্দ্রিক জ্ঞানচর্চার ধ্বংসক্রিয়ার তুলনায় আজও এই ভেঙে পড়া সময়কে ধরে, গ্রামীন কৌম অর্থনীতি, দর্শন, সমাজ, তাঁর বিপরীতে যে নির্মান করে চলেন, তার চরিত্র অনেক জটিল, বর্ণিল, প্রভাবী এবং চোখে না দেখতে পাওয়ার।
সেই বয়ে চলা দক্ষতাটাই চোখে পড়ে না, যতটা পড়ে বিপরীত শিবিরের ধ্বংস ক্রিয়া।
চোখে না পড়াটাই তার জোরের জায়গা।

Wednesday, August 8, 2018

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - ছোটলোকেদের দৃষ্টিতে বিদ্যাসাগর চরিত্র

বিদ্যাসাগর মশাই বিতর্কে কতগুলো বিষয় পরিষ্কার করা দরকার-
তিনি তীক্ষ্ণাধী ছিলেন, স্মৃতিধর ছিলেন, ব্যক্তিত্ববান ছিলেন, দৃঢচেতা ছিলেন, সংস্কৃত এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় তার অসীম দখল ছিল, তিনি একলষেঁড়ে ছিলেন, দেশাচার নিয়ে তাঁর খুব বেশি উৎসাহ ছিল না, সাহিত্যিক ছিলেন, শিল্প উদ্যমী ছিলেন, মানুষকে সাহায্য করতেন, মহিলাদের বিষয়ে তাঁর মমতা অসম্ভব ছিল এবং সেটা তিনি তাঁর বাবার থেকে পেয়েছিলেন, মিতব্যয়ী ছিলেন, তাঁর মতে আড় হয়ে দাঁড়ালে পরিবারকেও রেয়াত করতেন না, অসম্ভব পরিশ্রমী ছিলেন, অসম্ভব মজলিসি ছিলেন, মনের মানুষের সঙ্গে প্রচুর ইয়ার্কি করতেন, নিজের জীবনের চাহিদাগুলি খুব নিম্নতারে বেঁধে রাখতেন শুধু মরোক্কো চামড়ায় বই বাঁধাই ছাড়া, তিনি যেটিকে সঠিক মনে করতেন তা বাস্তবে রূপায়িত করতে নিজের জীবনও বাজি রাখতেন, ছাপাখানাটা ভালই বুঝতেন, সঙ্গে ব্যবসাতে সেযুগে মাসে ৫০০০টাকা রোজগার করতেন অথচ ভোগ বিলাস ছিল না প্রায় ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি বলেও কতগুলো কথা ছোটলোকদের পক্ষে বলা দরকার, কারণ এতদিন তাঁর যে মূল্যায়ন হয়েছে সেটি মূলত ভদ্র সমাজের করা।
১। তিনি বাংলা লিপির আবিষ্কর্তা নন। বাংলায় হাজারো লিপি শিক্ষার বই আর উদ্যমের মধ্যে বর্ণপরিচয় একটি মাধ্যম। সেটি বেশ ভাল বই। খুব খেটেছিলেন।
২। সিভিলিয়ানদের প্রাচ্য ভাষা শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হিন্দির স্রষ্টা, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত ছিলেন পাঁচ বছর।
৩। গত কয়েক দশকে হিন্দি থেকে আরবি ফার্সি শব্দ বাদ দেওয়ার যে কাণ্ডটা চলছে, বিদ্যাসাগর মশাই বাংলা ভাষায় এই কাজটা করে দেখান তার সময়েই, কঠিন কঠিন সংস্কৃত শব্দ ঢুকিয়ে, তার আগের দীর্ঘকালএর ভাষার বিবর্তনের স্বাভাবিক প্রকাশভঙ্গী রুদ্ধ করে। তিনি সুশীল প্রমিত গদ্যের ধারা তৈরি করে যবনী মিশেল থেকে সাহিত্যিক বাংলাকে উদ্ধার করার উদ্যম নেন।
৪। বলা দরকার তার ব্যঙ্গ লেখা - যাকে তিনি ফাজিল চালাকি বলে অভিহিত করেছেন, সেগুলি অসামান্য বাংলার নিদর্শন, কিন্তু অনেকগুলি স্বনামে লিখিত হয় নি।
৫। ১৮৪১ থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হেড পণ্ডিত ছিলেন।এই কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় মনোনিবেশ করেন।(সূত্রঃ সুবোধ চন্দ্র বোস আর অঞ্জলি সেনগুপ্ত সম্পাদিত সংসদ বাঙ্গালি চরিতাভিধান)
৬। বাংলা ব্যকরণের ওপর সংস্কৃত ব্যকরণের চামড়া পরান তিনি।
৬। এই সময় থেকেই হিন্দুদের ভাষা আর মুসলমানেদের ভাষা কার্যত আলাদা করে দেগে দেওয়া হল।
৭। তিনি এডামের সমীক্ষা তার জীবনেও ছুঁয়ে দেখেছেন এমন নিদর্শন নেই। বাংলা-বিহারের দেড় লক্ষ গ্রামে ১ লক্ষ পাঠশালা মক্তব ছিল সেগুলিতে মূলত ছোটলোকেরা পড়ত, সে বিষয়ে তাঁর কোন ভাবনা ছিল না। অথচ সাম্রাজ্য নেতা বেন্টিংকের প্রত্যক্ষ্য সাহায্যে সমীক্ষাটি হয় এবং তাঁর সময়ে এডাম বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন - সতী আইন প্রণয়নে তার ভূমিকা অসামান্য ছিল। এটি পরোক্ষে সরকারি সমীক্ষা, তার নিদর্শন উইলিয়ম এডাম সমীক্ষার মুখবন্ধেই পেশ করেছেন খরচের হিসেবের অনুমোদন নিয়ে। সে সময় বহু কাজ সরকারি সাহায্য, পৃষ্ঠপোষকতায় করলেও তিনি সেই গণবিদ্যালয় বিষয়ে সমীক্ষা সম্বন্ধে উদাসীন থেকেছেন।
৮। বিদ্যালয়কে সেনা ছাউনি করতে দিয়েছেন অক্লেশে সিপাহি হ্যাঙ্গামের সময়।
৯। মেকলের অশ্লীলতম প্রস্তাব বিষয়ে অন্যান্য নবজাগরণীয় সুশীলদের মত নিশ্চুপই ছিলেন। সরকারি উপাধি নিয়ে বলার নেই, কারণ রবিবাবুও স্যর উপাধিটি পাঁচ বছর ব্যবহার করেন। সরকারকে কুকি আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাহায্য করার জন্যে নীলদর্পন রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র আর প্রফুল্ল রায়ও উপাধিটি পান। ফলে তিনি ব্যতিক্রমী নন। এটা লুঠেরা খুনি অত্যাচারী সাম্রাজ্য বন্ধুত্বের সূচক মাত্র।
১। এবং নবীন চন্দ্র সেনের বয়ানে পাই শেষ বয়সে এসে তিনি উপলব্ধি করছিলেন, যে পাঠ্যক্রম তিনি ভদ্রদের জন্যে তৈরি করেছে্ন সেটি বাংলায় বিষবৃক্ষ ফলিয়েছে। তাঁর কলকাতা ছাড়ার একটা কারণ হয়ত ঠিক সময়ে সাম্রাজ্যের নীতিগুলি উপনিবেশে প্রয়োগ করার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতার নবজাগরনীয় বাবুদের স্বার্থবুদ্ধিতে জুঝতে না পারা – আদতে উপমহাদেশে সাম্রাজ্যের উদ্দেশ্য ঠিক সময় বুঝতে না পারার হতাশা।