Showing posts with label কাপ্পাল সাত্তিরাম. Show all posts
Showing posts with label কাপ্পাল সাত্তিরাম. Show all posts

Thursday, May 30, 2013

কাপ্পাল সাত্তিরাম অথবা সপ্তদশ শতকে তামিল পুঁথিতে নৌকো বা জাহাজ তৈরির বর্ণনা২


কাপ্পাল সাত্তিরাম
মাদ্রাজএর গভর্নমেন্ট ওরিয়েন্টাল ম্যানুস্ক্রিপট লাইব্রেরি, কাপ্পাল সাত্তিরাম পুঁথিটি টি পি পালানিয়াপ্পান পিল্লাইকে অনুবাদ, সম্পাদনার দায়িত্ব দেয়। পুস্তক প্রকাশ করে মুখবন্ধে সম্পাদক জানান, পুঁথিতে অনেকগুলি ভুল ছিল। এই ভুলগুলি হয়েছে অনুবাদকের অপর্যাপ্ত জ্ঞান, আর  বিষয়গুলি সম্বন্ধে না জানার জন্য। কাপ্পাল সাত্তিরাম পুঁথিটি ৭১ পাতার। সাধারণ কাগজে লেখা। এতে ৪৬টি ভিরুত্তায়াপ্পু ধারার শ্লোকসহ অমিত্রাক্ষর ছন্দে গদ্যাংশ রয়েছে। চার নম্বর শ্লোকের শেষ স্তবকে এই পুঁথির অন্য একটি সংস্কৃতগন্ধী নাম পাওয়া গিয়েছে, নিগম চিগামনি।
পুঁথিটি অনেকগুলি ছোট ছোট বিভাগে বিভক্ত, প্রত্যেকটি বিভাগ বিষয় গুরুত্বে যুক্তিপূর্ণভাবে শিরোনামযুক্ত। এই বইটিতে লেখকের নাম নেই। শুধু লেখা রয়েছে সালাইকাটিরঙ্গন চোরপাদি এতানাইত্তামিল সাইতিত্তান(salaikatirangan corpadi etanaittamil ceytittan) সালাইকাটিরঙ্গনএর মৌখিক নির্দেশে এই শ্লোকগুলি তামিল ভাষায় গ্রন্থিত হল।
পুঁথি শুরু দেবী সরস্বতীকে উদ্দেশ্য করে স্তোতিরমএর মুখবন্ধে। তিন নম্বর শ্লোকে বিভিন্ন পরিমাপকগুলোর একক বর্ণনা করা আছে। মুলাক্কোল, বা পরিমাপক দণ্ড হল এক কিউবিট(=এক হস্ত?)। এই পরিমাপগুলো যতদুর সম্ভব ভুলভাবে বর্ণনা করা রয়েছে। তামিল অঙ্ক বিষয়ক পুঁথি, কনক্ককাটিকরমএর সঙ্গে মিলিয়ে এই পরিমাপগুলি পরে নতুন করে হিসেব করা হয়েছে।   
                        ৮ অণু                                        ১ কাতিরেলুতুগাল(সূর্যালোক)
                        ৮ কাতিরেলুতুগাল                          ১ পাঞ্চিরুক্কাল(সুতা)
                        ৮ পাঞ্চিরুক্কাল                               ১ মাইর মুনানি(চুলের আগা)
                        ৮ মাইর মুনানি                              ১ নুনমানাল(সূক্ষ্ম বালির বিন্দু)
                                                                             ৮ নুনমানাল    ১ চিরুকাতিগু বা ইয়েলু(সর্ষে দানা বা তিলের দানা)
                             ৮ ইয়েলু                                      ১ নেল্লু(ধান)
                             ৮ নেল্লু                                        ১ ভিরাল(আঙ্গুল)
                             ৮ ভিরাল                                     ১ চান(৯ ইঞ্চি)
                             ৮ চান                                        ১ মুলম(১ কিউবিট = ১৮ ইঞ্চি)
শেষের তিনটি একক ছাড়া অন্য এককগুলো নৌকো তৈরির কাজে লাগত না।

একটি নৌকোর চরিত্র নির্ধারণ
পাঁচ নম্বর শ্লোকে বলা হচ্ছে কি ভাবে সমুদ্রে যাওয়া জাহাজএর চরিত্র চিহ্নিত হবে। ‘একটি সমুদ্রগামী জাহাজের গুনমান(ভঙ্গম) নির্ধারণ হবে, যতগুলি এড়া(কীল - keel) রয়েছে তাঁর মোট দৈর্ঘ জুড়ে দশটি ভাগে ভাগ করতে হবে। যদি কোনও ভাগশেষ না থাকে, তবে সেই জাহাজটি সমুদ্রে যাওয়া জাহাজের মর্যাদা পাবে। জাহাজের সাতটি অংশ – প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম এবং দশমের সব কটি কান্নিদাই, কারুভিদাই, এলাক্কিডাই এবং চুলিক্কাদাই(এগুলি সব কাঠের চরিত্র) দিয়ে তৈরি হয়। এই চার প্রকার চরিত্রের কাঠদিয়ে তৈরি জাহাজের কিলগুলোর জোড় নরম হতে দেয় না, বরং এগুলকে আরও শক্ত করে। করমন্ডল উপকূলের জাহাজ প্রযুক্তিবিদেরা বহু প্রাচীন কাল থেকেই নৌকো বা জাহাজ তৈরিতে এই চার প্রকার চরিত্রের কাঠ ব্যাবহার করে আসছেন। পুঁথির রচনাকার নৌকোর কারিগরদের নৌকো তৈরির সময় অনেকগুলো দিক বিচার করতে বলেছেন। যেমন, চতুর্থ, পঞ্চম এবং অষ্টম বিভাগ তৈরির সময় অবশ্যই গিঁট বা নোড(কানু) দেওয়া কাঠ ব্যাবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও কাঠে গিঁট থাকলে, নৌকো তৈরির সময় হয় তা কেটে ফেলতে হবে, নয় সেই কাঠকে বাদ দিতে হবে। যে কিলের ওপর গোটা নৌকো অথবা জাহাজটি তৈরি হচ্ছে, সেটিতেই যদি গলদ থাকে তাহলে, জাহাজ তৈরিতেই সমঝোতা করতে হবে এবং হামেশাই দেখাযায়, এর ফলে নৌকো বা জাহাজের গায়ে সূক্ষ্ম চিড় ধরতে পারে।

জাহাজ জলে ভাসানর জন্য সঠিক দিন নির্বাচন করা
যে কোনও কাজের শুভ দিন নির্ণয় করা, ভারতবর্ষের খুব পুরনো একটি প্রথা। শুধু এই একটি বিষয়েই একটি অধ্যায় নির্বাচন করেছেন লেখক, যাতে প্রমান হয় বিশেষ দিনে জলযানটি সমুদ্রে ভাসানোর বিষয়টির গুরুত্ব। এরই সঙ্গে জাহাজ যিনি তৈরি করছেন তাঁর ব্যাবহার, চরিত্রও কি হওয়া উচিত, তাও পুঁথিতে বিশদে বর্ণনা হয়েছে। বলা হয়েছে জাহাজের চরিত্র আর গুনমান ঠিক করে তৈরি হবে ভাঙ্গানাল (ভঙ্গম = জাহাজ, নাল = দিন), অর্থাৎ কোণ দিনে জাহাজটি কত ভালভাবে তৈরি হল তাঁর জন্য, ঐ দিনটি বেছে টেস্ট রান করা হত।
ভাঙ্গানালের জন্য এই কয়েকটি বিষয় বাছা হত – জাহাজের কীলটি হস্ত মাপনী(কিউবিট)তে করা হত, যা আদতে ২৫ আঙ্গুল।  কীলের মাপকে ২৪ দিয়ে গুণ করা হত। এই পরিমাপ থেকে ২৭ বিয়োগ করা হয় (২৭ হল মোট চান্দ্র কন্সটেলেসন)। যদি ফল ১ হয় তবে ভাঙ্গানাল হবে অশ্বিনীতে, যদি ফল হয়ই ২ তবে ভাঙ্গানাল হবে ভারনীতে ইত্যাদি। জ্যোতিষ সিদ্ধান্তের মতে এই চান্দ্র কন্সটেলেসন শুরু হয় অশ্বিনী নক্ষত্রকে দিয়ে, ২৭তমতি রেবতী। কিন্তু যদি ফল ২৭এর বেশী হবে তাহলে কি ভাবে গনা হত জানা যায় না – হয়ত আবার অশ্বিনী নক্ষত্র দিয়ে গোনা শুরু হত।

জাহাজের মাস্তুল স্থাপন
১৩ নম্বর শ্লোকে জাহাজের মাস্তুল(পায়-মরম) স্থাপন হবে রাশি অনুযায়ী, সুভ গ্রহ দেখে। তবে কিভাবে তা নির্ধারণ করা হত তা বলা নেই।

দেবতা স্থাপন
১৫, ১৬, ১৭তম শ্লোক তিনটিতে বিশদে বিগ্রহ(বাস্তু পুরুষন) স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। জাহাজএর চরিত্র নির্বিশেষে দেবতা স্থাপন করতে হবে বলা হয়েছে। এবং নির্দিষ্ট স্থানে তাঁকে স্থাপন করতে হবে। লেখক বলছেন এড়া যদি বাস্তু পুরুষনের মাথার নিচে স্থাপন করা হয় তবেই সেই জলযানকে উত্তমম বলা হবে। বাস্তু পুরুষনের মাথার অবস্থান এবং দিক পরিবর্তন না করার নির্দেশও দিচ্ছেন লেখক।

জ্যোতিষ নির্দেশ
পুঁথিতে, জাহাজ তৈরি সংক্রান্ত কোন কাজ কোন দিনে করতে হবে, তাঁর বিশদ বর্ণনা রয়েছে। ৯ নম্বর শ্লোকে বলা হচ্ছে, মিথুন, কুম্ভ, মীন, ধনুষ এবং মকর, এই পাঁচটি রাশিতে জাহাজ সংক্রান্ত যে কোনও কাজ আরম্ভ  না হওয়া প্রয়োজন। ১৪তম শ্লোকে বলা হয়েছে দূর দেশ থেকে দেশের দিকে আসার সময় নানান ধরণের জ্যোতিষ চিহ্ন দেখেই রওনা হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুঁথিতে জ্যোতিষ গ্রহ চিন্তামনির নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে। ২১ থেকে ৪৬ শ্লোকে বিশদে সমুদ্র যাত্রায় নানান ধরণের জ্যোতিষ চিহ্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সেল এবং মাস্তুল - মাস্টের পরিমাপ
বিভিন্ন ধরণের জলযানের জন্য নানান পরিমাপের হাল এবং মাস্তুলের আলোচনা করা হয়েছে। একটি উদাহরণ- যদি কোনও জলযানের কীলের(এড়া) দৈর্ঘ ৪৫ হস্ত, এবং ১৫ হস্ত চওড়া হয়, তাহলে হাওয়া এবং ঝড়ের আঘাত রুখতে আড়াই হস্ত লম্বা এবং ৩৭ হস্তের মাস্তুলের হাল(ওদুতাই) তৈরি প্রয়োজন। হালের দীর্ঘ হবে ৩৭ হস্ত। এধরনের ১০ টি আলাদা আলাদা পরিমাপ দেওয়া হয়েছে।
এখানে দুটি সেল মাস্তুলের কথাও বলা হয়েছে, যাতে জলজান, সমুদ্র বাতাস অলম্বন করে দ্রুত জল কেটে এগিয়ে যেতে পারে। আর দুটো সেল ব্যাবহার করা হত আরও বেশী মাল বহন করার উদ্দেশ্যে।
নোঙরের মাপ
চার ধরণের নোঙরের(নাঙ্গুরাম) কথা বলা হয়েছে এই পুঁথিতে। জাহাজের চরিত্র এবং ওজন অনুযায়ী নোঙরের পরিমাপ করা হত। প্রথমে এড়ার মাপ নিয়ে সেতিকে ফুটে পরিণত করা হত। এক ফুট এড়া মানে ২৬ রাত্তাল(পাউন্ড) হয়, তবে কীলের দৈর্ঘের সঙ্গে ২৬ গুণ করে নোঙরের মাপ তৈরি হত। আরও অনেকগুলি মাপের কথা বলা হয়েছে।

কাপ্পাল সাত্তিরাম অথবা সপ্তদশ শতকে তামিল পুঁথিতে নৌকো বা জাহাজ তৈরির বর্ণনা১


(সুত্রঃ আ তামিল ট্রিটিজ অন শিপবিল্ডিং ডিউরিং থে সেভেন্থ সেনচুরি এ ডি – এন কে পানিক্কর, টি এম শ্রীনিভাসন, ন্যাশনাল কমিশন ফর থে কম্পাইলেসন অব হিস্ট্রি অব সায়েনসেস ইন ইন্ডিয়া, মেরিন সায়েন্স ইউনিট, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স আকাদেমি, নিউ দিল্লি)

তামিল দেশে নৌকো বা জাহাজ তৈরির উদ্যম অন্তত ২০০০ বছরের ইতিহাস। খ্রিষ্টীয় প্রথম দু শতকে করমন্ডল উপকূল থেকে তামিলরা পূর্ব এবং পশ্চিমের নানান দেশে ব্যাবসা করত। সঙ্গম পর্বের নানান সাহিত্যে এ বিষয়ে বিশদ বিবরণ উল্লিখিত হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রীক বা রোমের নানান লেখকদের রচনাতেও এর উল্লেখ রয়েছে। রোমের মুদ্রাতেও এই বাণিজ্যের উল্লেখ আছে।
অন্ধ্রের সাতবাহন রাজারা তামিল দেশ দখল করার পর শুরু হল বৈদেশিক বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ। সে সময়ের মুদ্রাতেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তৃতীয় শতকে সাতবাহন রাজত্বের পতনের পর পূর্বদিকের করমন্ডল উপকূলের ব্যাবসা কাঞ্চি (কাঞ্চিভরম)র পল্লবদের অধিকারে যায়। এর নানান উদাহরণ নানান তাম্র ও পাথুরে লিপিতে উৎকলিত রয়েছে।
খ্রিষ্টীয় নবম শতকে পল্লবদের পতনের পর তাঞ্জোরের চোল বংশ তামিল দেশ অধিকার করে। এই সময় থেকে শুধু তামিল অঞ্চলই নয়, সমগ্র প্রায় দক্ষিণ ভারতে সমুদ্র যাত্রা উদ্যমের স্বর্ণযুগ শুরু হয়। চোল রাজা প্রথম রাজা রাজার(খ্রিষ্টীয় ৯৮৫-১০১৪) এবং প্রথম রাজেন্দ্র(১০১৪-১০৪২), এই সময়টি প্রথম কার্যকরী সমুদ্র নীতি তৈরি করেন এবং নৌবাহিনী তৈরি হয়। দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে পুবের নানান দেশ এবং চিনের সঙ্গে সমুদ্র মারফৎ যোগাযোগ হয়। এই সময় থেকে শুরু করে, একেবারে মধ্যযুগ পর্যন্ত করমন্ডল উপকূলে বৈদেশিক বাণিজ্য তার উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহন করে। সে সময়ে বৈদেশিক নানান ভ্রমন সাহিত্যে এই উচ্চতার প্রতিফলন পাই। যদিও এই সব নানান উল্লেখে বিভিন্ন ধরণের জাহাজ, বিভিন্ন শ্রেণীর নৌকো, তাদের বিভিন্ন অংশ ইত্যাদির বর্ণনা, এছাড়াও নৌযাত্রা বিষয়েও নানান তথ্য পাই। কিন্তু সেগুলি এতই অল্প অথবা ভাসা ভাসা যে, করমন্ডল উপকূলে যে জটিল নৌ বাণিজ্যের উদ্যম দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল, তার নানান অংশের বিস্তৃত উদাহরণ খুব বিশদে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সহস্রাব্দের মাঝের দিকে যখন এই উপকূলে নৌবিদ্যা তাঁর স্বর্ণ যুগে পৌঁছেছে, তখন তামিল ভাষায় কাপ্পাল সাত্তিরাম(kappal sattiram) এই উদ্যমের বড় উদাহরণ বহন করে চলেছে। এই পুঁথিটিতে করমন্ডল উপকূলের নৌ উদ্যমের কতগুলি নতুন অজানা তথ্য আমরা আবিষ্কার করি।

তরঙ্গমবাডি(ত্রাঙ্কুবার)তে ডেন অধিবাসীরা
তামিল দেশে জাহাজ তৈরির প্রথম বর্ণনা পাই মাদ্রাজ প্রদেশের তরঙ্গমবাডিতে ১৬৯৮ সালে। ডেনমার্কের তিনামারাকা ভাষায়, তুবাসি কলিঙ্গরায়ান পিল্লাই এই পুঁথিটি অনুবাদ করেন। ইংরেজিতে ত্রাঙ্কুবার, তামিলে তরঙ্গমবাডি শহর, করমন্ডল উপকূলের তাঞ্জাভুর জেলার ময়ুরম শহরের পূর্বপানে সুচিত। তামিল ভাষায় তরঙ্গমবাডির আর এক নাম আলাইপত্তনম – বাংলা অর্থ ঢেউয়ের গ্রাম।
ডেনমার্কের চতুর্থ ক্রিস্তান(১৫৮৮-১৬৪৮)এর সময় ড্যানিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হয়ই ১৬১৬ সালে। প্রথম সমুদ্র যাত্রা ভারতের দিকেই। পর্তুগিজরা তখন মালাবার উপকূল দখল করে রয়েছেন, পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ডাচেদের দখলে। ফলে ডেনিশরা নজর দিল করমন্ডল উপকূলে। প্রথম জাহাজটি পর্তুগিজদের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে বেঁচেযান জাহাজের প্রধান আর ১৩ জন নাবিক। তাঁরা তাঞ্জোরের রাজার সঙ্গে দেখা করেন। ১৬১৮তে ভারতের দিকে দ্বিতীয় সমুদ্র যাত্রা। এবং তখন থেকে করমন্ডল উপকূলে ডেনদের ব্যবসা শুরু।