Thursday, May 30, 2013

কাপ্পাল সাত্তিরাম অথবা সপ্তদশ শতকে তামিল পুঁথিতে নৌকো বা জাহাজ তৈরির বর্ণনা১


(সুত্রঃ আ তামিল ট্রিটিজ অন শিপবিল্ডিং ডিউরিং থে সেভেন্থ সেনচুরি এ ডি – এন কে পানিক্কর, টি এম শ্রীনিভাসন, ন্যাশনাল কমিশন ফর থে কম্পাইলেসন অব হিস্ট্রি অব সায়েনসেস ইন ইন্ডিয়া, মেরিন সায়েন্স ইউনিট, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স আকাদেমি, নিউ দিল্লি)

তামিল দেশে নৌকো বা জাহাজ তৈরির উদ্যম অন্তত ২০০০ বছরের ইতিহাস। খ্রিষ্টীয় প্রথম দু শতকে করমন্ডল উপকূল থেকে তামিলরা পূর্ব এবং পশ্চিমের নানান দেশে ব্যাবসা করত। সঙ্গম পর্বের নানান সাহিত্যে এ বিষয়ে বিশদ বিবরণ উল্লিখিত হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রীক বা রোমের নানান লেখকদের রচনাতেও এর উল্লেখ রয়েছে। রোমের মুদ্রাতেও এই বাণিজ্যের উল্লেখ আছে।
অন্ধ্রের সাতবাহন রাজারা তামিল দেশ দখল করার পর শুরু হল বৈদেশিক বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ। সে সময়ের মুদ্রাতেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তৃতীয় শতকে সাতবাহন রাজত্বের পতনের পর পূর্বদিকের করমন্ডল উপকূলের ব্যাবসা কাঞ্চি (কাঞ্চিভরম)র পল্লবদের অধিকারে যায়। এর নানান উদাহরণ নানান তাম্র ও পাথুরে লিপিতে উৎকলিত রয়েছে।
খ্রিষ্টীয় নবম শতকে পল্লবদের পতনের পর তাঞ্জোরের চোল বংশ তামিল দেশ অধিকার করে। এই সময় থেকে শুধু তামিল অঞ্চলই নয়, সমগ্র প্রায় দক্ষিণ ভারতে সমুদ্র যাত্রা উদ্যমের স্বর্ণযুগ শুরু হয়। চোল রাজা প্রথম রাজা রাজার(খ্রিষ্টীয় ৯৮৫-১০১৪) এবং প্রথম রাজেন্দ্র(১০১৪-১০৪২), এই সময়টি প্রথম কার্যকরী সমুদ্র নীতি তৈরি করেন এবং নৌবাহিনী তৈরি হয়। দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে পুবের নানান দেশ এবং চিনের সঙ্গে সমুদ্র মারফৎ যোগাযোগ হয়। এই সময় থেকে শুরু করে, একেবারে মধ্যযুগ পর্যন্ত করমন্ডল উপকূলে বৈদেশিক বাণিজ্য তার উচ্চতম শৃঙ্গে আরোহন করে। সে সময়ে বৈদেশিক নানান ভ্রমন সাহিত্যে এই উচ্চতার প্রতিফলন পাই। যদিও এই সব নানান উল্লেখে বিভিন্ন ধরণের জাহাজ, বিভিন্ন শ্রেণীর নৌকো, তাদের বিভিন্ন অংশ ইত্যাদির বর্ণনা, এছাড়াও নৌযাত্রা বিষয়েও নানান তথ্য পাই। কিন্তু সেগুলি এতই অল্প অথবা ভাসা ভাসা যে, করমন্ডল উপকূলে যে জটিল নৌ বাণিজ্যের উদ্যম দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল, তার নানান অংশের বিস্তৃত উদাহরণ খুব বিশদে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সহস্রাব্দের মাঝের দিকে যখন এই উপকূলে নৌবিদ্যা তাঁর স্বর্ণ যুগে পৌঁছেছে, তখন তামিল ভাষায় কাপ্পাল সাত্তিরাম(kappal sattiram) এই উদ্যমের বড় উদাহরণ বহন করে চলেছে। এই পুঁথিটিতে করমন্ডল উপকূলের নৌ উদ্যমের কতগুলি নতুন অজানা তথ্য আমরা আবিষ্কার করি।

তরঙ্গমবাডি(ত্রাঙ্কুবার)তে ডেন অধিবাসীরা
তামিল দেশে জাহাজ তৈরির প্রথম বর্ণনা পাই মাদ্রাজ প্রদেশের তরঙ্গমবাডিতে ১৬৯৮ সালে। ডেনমার্কের তিনামারাকা ভাষায়, তুবাসি কলিঙ্গরায়ান পিল্লাই এই পুঁথিটি অনুবাদ করেন। ইংরেজিতে ত্রাঙ্কুবার, তামিলে তরঙ্গমবাডি শহর, করমন্ডল উপকূলের তাঞ্জাভুর জেলার ময়ুরম শহরের পূর্বপানে সুচিত। তামিল ভাষায় তরঙ্গমবাডির আর এক নাম আলাইপত্তনম – বাংলা অর্থ ঢেউয়ের গ্রাম।
ডেনমার্কের চতুর্থ ক্রিস্তান(১৫৮৮-১৬৪৮)এর সময় ড্যানিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হয়ই ১৬১৬ সালে। প্রথম সমুদ্র যাত্রা ভারতের দিকেই। পর্তুগিজরা তখন মালাবার উপকূল দখল করে রয়েছেন, পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ডাচেদের দখলে। ফলে ডেনিশরা নজর দিল করমন্ডল উপকূলে। প্রথম জাহাজটি পর্তুগিজদের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে বেঁচেযান জাহাজের প্রধান আর ১৩ জন নাবিক। তাঁরা তাঞ্জোরের রাজার সঙ্গে দেখা করেন। ১৬১৮তে ভারতের দিকে দ্বিতীয় সমুদ্র যাত্রা। এবং তখন থেকে করমন্ডল উপকূলে ডেনদের ব্যবসা শুরু। 
Post a Comment