Showing posts with label traditionalKnowledge. Show all posts
Showing posts with label traditionalKnowledge. Show all posts

Thursday, May 19, 2011

Operation of Inoculation of the Smallpox as Performed in Bengall


(From Ro। Coult to Dr Oliver Coult in ‘An account of the dis­eases of Bengall’ (Calcutta, dated February 10, 1731)।)
বাংলার এক অঞ্চলে স্মলপক্সএর টিকে দেওয়ার বর্ণনা আমরা পেয়েছি, ধরমপালএর রচনা সংগ্রহের প্রথম খন্ড থেকে।
Here follows one account of the operation of inoculation of the smallpox as performed here in Bengall taken from the concurring accounts of several Bhamans and physicians of this part of India।
The operation of inoculation called by the natives tikah has been known in the kingdom of Bengall as near as I can learn, about 150 years and according to the Bhamanian records was first performed by one Dununtary, a physician of Champanager, a small town by the side of the Ganges about half way to Cossimbazar whose memory is now holden in great esteem as being thought the author of this operation, which secret, say they, he had immediately of God in a dream।
Their method of performing this operation is by taking a little of the pus (when the smallpox are come to maturity and are of a good kind) and dipping these in the point of a pretty large sharp needle। Therewith make severall punctures in the hollow under the deltoid muscle or sometimes in the forehead, after which they cover the part with a little paste made of boiled rice।
When they want the operation of the inoculated matter to be quick they give the patient a small bolus made of a little of the pus, and boiled rice immediately after the operation which is repeated the two following days at noon।
The place where the punctures were made commonly festures and comes to a small supporation, and if not the operation has no effect and the person is still liable to have the smallpox but on the contrary if the punctures do supporate and no feaver or erup­tion insues, then they are no longer subject to the infection।
The punctures blacken and dry up with the other pustules।
The feaver insues later or sooner, according to the age and strength of the person inoculated, but commonly the third or fourth days। They keep the patient under the coolest regimen they can think off before the feaver comes on and frequently use cold bathing।
If the eruption is suppressed they also use frequent cold bath­ing। At the same time they give warm medicine inwardly, but if they prove of the confluent kind, they use no cold bathing, but (keep) the patient very cooll and give coolling medicine।
I cannot say any thing of the success of this operation or of their method of cure in this disease, but I intend to inform myself perfectly when the time of this distemper returns which is in April and May। 
(From Dharampal • Collected Writings, Volume I, Indian Science and Technology  in the Eighteenth Century)


Sunday, May 15, 2011

তত্কালীন সংবাদপত্রে ধংসন্মুখ শিল্পগুলির বর্ণনা

এক্ষণে বঙ্গদেশের মধ্যে কিছু শিল্পদ্রব্য উত্পন্ন হয় তাহা বঙ্গদেশ ছাড়িয়া বাহিরের মুখ দেখিতে পায় না। পূর্বে যে শিল্পের সদ্ভাব ছিল, পাশ্চাত্য বাণিজ্য সংস্রবে তাহার যে মহত্তর অনিষ্ট ঘটিয়াছে, চিন্তাশীল লোকমাত্রই তাহা অনুভাব করিয়াছেন। ১৮৮২-৮৩র বঙ্গদেশীয় শাসন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনীতে স্পষ্ট লিখিত হইয়াছে যে, ইংলন্ড হইতে বাহুল্যরূপে বস্ত্রের আমদানী হওয়াতে দেশীয় উত্কৃষ্ট শিল্প যন্ত্রসকল বিনষ্ট হইতেছে। পূর্বের ন্যায় আর ঢাকায় মসলিন প্রস্তুত হয় না, এখনকার ঢাকাই তন্তুবায়গণ আর সে প্রকার সুতা প্রস্তুত করিতে পারে না। তাহারাও সম্পূর্ণরূপে ম্যঞ্চেষ্টারের অধীন হইয়া পড়িয়াছে। দেশীয় তন্তুবায়েরা সুতার কাজ প্রায় পরিত্যাগ করিয়াছে। বিলাত হইতে যে সকল সুতার আমদানি হয়, এখানকার তাঁতিরা তাহাই ব্যবহার করে। বস্ত্রবয়ণ কার্য প্রায় উঠিয়া গেল। এক্ষণে চটের খলের ব্যবসায় সেই স্থান অধিকার করিয়াছে। কলিকাতা ও অন্যান্য স্থানাদিতে চটের কলে খাটিয়া অধিকাংশ লোক জাহিকা উত্পাদন করে। এক্ষণে যে যে স্থানে যে যে সামান্যপ্রকার দ্রব্য উত্পন্ন হয়, তদ্বৃত্তান্ত লিখিত হইতেছে। বর্ধমান বিভাগে কালনায় লালবাগানে যে সকল ধুতি ও শাড়ী প্রস্তুত হইয়া থাকে, তাহা এখনও উত্কৃষ্ট বলিয়া প্রসিদ্ধ। বিলাতের বস্ত্রের আমদানীতে ইহারও ক্রমশঃ অবনতি হইতেছে। বর্ধমান জেলায় ৯টা পাটের কল ও ৩টা কাপড়র কল আছে। এই সকল কলে চট ও বস্ত্র উত্পাদন হইয়া থাকে। রামপুর উপবিভাগে পাটের দড়ি অধিক হইয়া থাকে। গত বত্সর পাটের কলে ৭১৪৭৫৭ মন দ্রব্য প্রস্তুত হইয়া ছিল। হাবড়ার তুলার কলের কার্যের ক্রমশঃই হ্রাস হইয়া আসিতেছে। পশ্চিম অঞ্চলে তুলার কলে যে রূপ লাভ হইতেছে, হাবড়ার কলে সেরূপ হইতেছেনা, কিন্তু চটের কলে উত্তমরূপ লাভ হইতেছে। পাটের গাঁইট কষার জন্য তিনটি কোম্পানী হইয়াছে। বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলায় কতগুলি লাক্ষার কারখানা আছে। এক বাঁকুড়ায় ৩৪টা লাক্ষার কল হইয়াছে। উক্ত জেলার লাক্ষার ব্যবসাই প্রধান। বীরভূমে ইসলামবাজার নামক স্থানে এদেশীয়দিগের ৮টি লাক্ষার কারখানা আছে। এস্থলে বলা বাহুল্য যে, বহির্বাণিজ্য সম্বন্ধে ঐ একটি পদার্থ এদেশের প্রধান দ্রব্য। বর্ধমান হুগলী ও মেদিনীপুর অঞ্চলে ধাতু পাত অধিকাংশ প্রস্তুত হয়, তাহাও বিদেশে রপ্তানি হইয়া থাকে। ১৮৮৩-৮৩ অব্দে বর্ধমান জেলা হইতে আট লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার টাকার কাঁসা বিলাতে প্রেরিত হইয়াছিল। ঐ অব্দে হুগলি হইতে ছয় লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার ও মেদিনীপুর হইতে আটাশ লক্ষ ঊনষাইট হাজার টাকার পিত্তল বিলাতে রপ্তানি হয়। বর্ধমান জেলার মধ্যে কাঞ্চননগর শিল্পের একটি প্রসিদ্ধ স্থান। তথায় ছুরি কাঁচি প্রভৃতি অস্ত্রসকল অতি উত্তমরূপে প্রস্তুত হইয়া থাকে। রাণীগঞ্জ ও বর্ধমানের কাটোয়া বিভাগে কুম্ভকারের কার্যের কিছু কিছু উন্নতি আছে। বর্ধমানের মধ্যে রঘুনাথচক নামক স্থানে পোর্ট সিমেন্ট প্রস্তুত করিবার একটি কারখানা হইয়াছে। উহার বাণিজ্য কিছু কিছু লাভ হইতেছে। রাণীগঞ্জে উক্ত কারখানা করিবার একটি বৃহত্ কারখানা প্রস্তুত হইতেছে। ইহার কার্য অদ্যাপি আরম্ভ হয় নাই। বালির কাগজের কারখানা উত্তমরূপে চলিতেছে। ২৪ পরগণার মধ্যে ৩৪টি কল আছে। ঐ সকল কলে সাতাইশ হাজার লোক খাটিয়া থাকে। ঐ সকল কলে থলে, কাপড়, সূতা, ইট, চাউল, তৈল, লাক্ষা প্রস্তুত হইয়া থাকে। কেরোসিন তৈলের আমদানি নিবন্ধন রেড়ির তেলের আমদানি কলের কার্য মন্দ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। উক্ত বিভাগে মৃতপাত্র লৌহ ও পিত্তল পাত্র, অস্ত্রাদি আ শূঙ্গের কার্য বহুল পরিমানে হইতেছে। শান্তিপুরের উৎকৃষ্ট বস্ত্র ব্যবসায় বিলাতি বস্ত্রের আমদানি নিবন্ধন ক্রমেই অবনতি হইতেছে। রেশম প্রস্তুত করিবার প্রধান স্থান মুর্শিদাবাদ। এই ব্যবসারও ক্রমে লোপ পাইবার সূচনা হইতেছে। নদীয়াতে একটি রেশম কুঠী আছে। বিলাতি সার্টিন ও অন্যান্য বস্ত্রের আমদানি হেতু এ ব্যবসায়টিও লোপ পাইতে বসিয়াছে। খুলনা জেলায় মৃত্তিকা পাত্র ও পাট অধিক জন্মে। কোন কেন স্থানে লবনও প্রস্তুত হইয়া থাকে। ...রাজসাহী ও রঙ্গপুরের বাসন বিদেশে অধিক রপ্তানি হইযা থাকে। দিনাজপুর বগুড়া, জালপাইগুড়ি জেলাতে নানান প্রকার মাদুরের ব্যবসা আছে। ...ঢাকা বিভাগে শঙ্খের কাজ, মাদুর সাবান, পনির ইত্যাদি অনেক দ্রব্য উত্পন্ন হয়। ইহা ভিন্ন নৌকা নির্মাণ প্রভৃতি সূত্রধরের কার্য ও কুম্ভকারের কার্যও অধিক হয়।

Saturday, July 10, 2010

Some of Khona's Traditional Knowledge

১.
চাষে মুলা তার

অর্ধেক তুলা তার
অর্ধেক ধান
বিনা চাষে পান
২.
বিপদে পড় নহে ভয়

অভিজ্ঞতায় হবে জয়
৩.
উত্তর দুয়ারি ঘরের রাজা

দক্ষিণ দুয়ারি তাহার প্রজা।
পূর্ব দুয়ারির খাজনা নাই
পশ্চিম দুয়ারির মুখে ছাই।।
৪.
কপালে নাই ঘি,

ঠকঠকালে হবে কি!
৫.
নিজের বেলায় আটিঁগাটি,

পরের বেলায় চিমটি কাটি।
৬.
পুকুরে তে পানি নাই, পাতা কেনো ভাসে

যার কথা মনে করি সেই কেনো হাসে ?
৭.
ভাত দেবার মুরোদ নাই,

কিল দেবার গোসাঁই।
৮.
নদীর জল ঘোলাও ভালো,

জাতের মেয়ে কালোও ভালো
৯.
খাঁদা নাকে আবার নথ !
১০.
থাক দুখ পিতে,(পিত্তে)

ঢালমু দুখ মাঘ মাসের শীতে।
১১.
কি কর শ্বশুর মিছে খেটে

ফাল্গুনে এঁটে পোত কেটে
বেড়ে যাবে ঝাড়কি ঝাড়
কলা বইতে ভাংগে ঘাড়।
১২.
ভাদরে করে কলা রোপন

স্ববংশে মরিল রাবণ।
১৩.
গো নারিকেল নেড়ে রো

আমা টুকরা কাঁঠাল ভো।
১৪.
সুপারীতে গোবর, বাশে মাটি

অফলা নারিকেল শিকর কাটি
১৫.
খনা বলে শুনে যাও

নারিকেল মুলে চিটা দাও
গাছ হয় তাজা মোটা
তাড়াতাড়ি ধরে গোটা।
১৬.
ডাক ছেড়ে বলে রাবণ

কলা রোবে আষাঢ় শ্রাবণ।
১৭.
পূর্ব আষাঢ়ে দক্ষিণা বয়

সেই বছর বন্যা হয়।
১৮.
মংগলে উষা বুধে পা

যথা ইচ্ছা তথা যা।
১৯.
পুত্র ভাগ্যে যশ
কন্যা ভাগ্যে লক্ষী
২০.
উঠান ভরা লাউ শশা
ঘরে তার লক্ষীর দশা
২১.
বামুন বাদল বান

দক্ষিণা পেলেই মান।
২২.
বেঙ ডাকে ঘহন ঘন

শীঘ্র হবে বৃষ্টি জান।
২৩.
আউশ ধানের চাষ

লাগে তিন মাস।
২৪.
যদি বর্ষে গাল্গুনে

চিনা কাউন দ্বিগুনে।
২৫.
যদি হয় চৈতে বৃষ্টি

তবে হবে ধানের সৃষ্টি।
২৬.
চালায় চালায় কুমুড় পাতা

লক্ষ্মী বলেন আছি তথা।
২৭.
আখ আদা রুই

এই তিন চৈতে রুই।

২৮.
চৈত্রে দিয়া মাটি
বৈশাখে কর পরিপাটি।
২৮.
দাতার নারিকেল, বখিলের বাঁশ
কমে না বাড়ে বারো মাস।
২৯.
সোমে ও বুধে না দিও হাত
ধার করিয়া খাইও ভাত।
৩০.
জৈষ্ঠতে তারা ফুটে
তবে জানবে বর্ষা বটে।
৩১.
বাঁশের ধারে হলুদ দিলে
খনা বলে দ্বিগুণ বাড়ে।
৩২.
গাই পালে মেয়ে
দুধ পড়ে বেয়ে।
৩৩.


শুনরে বাপু চাষার বেটা
মাটির মধ্যে বেলে যেটা
তাতে যদি বুনিস পটল
তাতে তোর আশার সফল।
৩৪.
মাঘ মাসে বর্ষে দেবা
রাজ্য ছেড়ে প্রজার সেবা।
৩৫.
চৈতের কুয়া আমের ক্ষয়
তাল তেঁতুলের কিবা হয়।
অর্থ-কুয়াশায় আমের বোল নষ্ট হয়ে যায়
৩৬.
আমে ধান
তেঁতুলে বান।
অর্থ- আম বেশি ফললে ধান বেশি জন্মে। তেঁতুল বেশি ফললে ঝড় বন্যা হয়।
৩৭.
হইবো পুতে ডাকবো বাপ
তয় পুরবো মনর থাপ।
৩৮.
পারেনা .ল ফালাইতে

উইঠা থাকে বিয়ান রাইতে।
৩৯.
যদি বর্ষে মাঘের শেষ৪০.

ধন্যি রাজা পুণ্যি দেশ


৪১.
সূর্যের চেয়ে বালি গরম!!
নদীর চেয়ে প্যাক ঠান্ডা!!
৪২.
সমানে সমানে দোস্তি
সমানে সমানে কুস্তি।
৪৩.
হোলা গোশশা অইলে বাশশা,

মাইয়া গোশশা অইলে বেইশশা
৪৪.
মেয়ে নষ্ট ঘাটে,
ছেলে নষ্ট হাটে।
৪৫.
আল্লায় দিয়া ধন দেখে মন,
কাইড়া নিতে কতক্ষণ।
৪৬.
যদি থাকে বন্ধুরে মন
গাং সাঁতরাইতে কতক্ষন।
৪৭.
কাল ধানের ধলা পিঠা,
মা’র চেয়ে মাসি মিঠা।
৪৮.
পরের বাড়ির পিঠা

খাইতে বড় ই মিঠা।
৪৯.
ঘরের কোনে মরিচ গাছ
লাল মরিচ ধরে,
তোমার কথা মনে হলে
চোখের পানি পড়ে!
৫০.
সোল বোয়ালের পোনা
যার যারটা তার তার কাছে সোনা।
৫১.
ছায়া ভালো ছাতার তল,
বল ভালো নিজের বল।
(বিয়াই’র পুত নিয়া সাত পুত গুণতে নাই।)
৫২.
যা করিবে বান্দা তা-ই পাইবে।

সুই চুরি করিলে কুড়াল হারাইবে।
৫৩.
খালি পেটে পানি খায়

যার যার বুঝে খায়।
৫৪.
তেলা মাথায় ঢালো তেল,

শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
৫৫.
চৈত্রে চালিতা,

বৈশাখে নালিতা,
আষাড়ে………
ভাদ্রে তালের পিঠা।
আর্শ্বিনে ওল,
কার্তিকে কৈয়ের ঝুল
৫৬.
মিললে মেলা।

না মিললে একলা একলা ভালা!
৫৭.
সাত পুরুষে কুমাড়ের ঝি,
সরা দেইখা কয়, এইটা কি?
৫৮.
না পাইয়া পাইছে ধন;
বাপে পুতে কীর্তন।
৫৯.
কাচায় না নোয়ালে বাশ,
পাকলে করে ঠাস ঠাস!
৬০.
যুগরে খাইছে ভূতে
বাপরে মারে পুতে।
৬১.
দশে মিলে করি কাজ
হারি জিতি নাহি লাজ।
৬২.
যাও পাখি বলো তারে

সে যেন ভুলেনা মোরে।
৬৩.
ফুল তুলিয়া রুমাল দিলাম যতন করি রাখিও।
আমার কথা মনে ফইল্লে রুমাল খুলি দেখিও।
৬৪.
একে তে নাচুনী বুড়ি,
তার উপর ঢোলের বারি
৬৫.
চোরের মার বড় গলা

লাফ দিয়ে খায় গাছের কলা
৬৬.
“ভাই বড়ো ধন, রক্তের বাঁধন

যদি ও পৃথক হয়, নারীর কারন।”
৬৭.
জ্যৈষ্ঠে শুকো আষাঢ়ে ধারা।

শস্যের ভার না সহে ধরা।”
৬৮.
যদি হয় সুজন

এক পিড়িতে নয় জন।
যদি হয় কুজন
নয় পিড়িতে নয় জন
*(যদি হয় সুজন,
তেতুল পাতায় ন’জন।)
৬৯.
“হাতিরও পিছলে পাও।

সুজনেরও ডুবে নাও।”
৭০.
গাঙ দেখলে মুত আসে

নাঙ দেখলে হাস আসে (নাঙ মানে – স্বামী)
৭১.
ক্ষেত আর পুত।

যত্ন বিনে যমদূত।।
৭২.
গরু ছাগলের মুখে বিষ।
চারা না খায় রাখিস দিশ ।।

বন্যা, মড়ক, বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
৭৩.
আকাশে কোদালীর বাউ।

ওগো শ্বশুড় মাঠে যাও।।
মাঠে গিয়া বাঁধো আলি।
বৃষ্টি হবে আজি কালি।।
৭৪.
যদি ঝরে কাত্তি।
সোনা রাত্তি রাত্তি।।
৭৫.
আষাঢ়ের পানি।
তলে দিয়া গেলে সার।
উপরে দিয়া গেলে ক্ষার।।

হল (লাঙ্গল চালনা)

৭৬.
গাঁ গড়ানে ঘন পা।
যেমন মা তেমন ছা।।
থেকে বলদ না বয় হাল,
তার দু:খ সর্ব্বকাল।

গবাদি

৭৭.
যে চাষা খায় পেট ভরে।
গরুর পানে চায় না ফিরে।
গরু না পায় ঘাস পানি।
ফলন নাই তার হয়রানি।।
৭৮.
গরুর পিঠে তুললে হাত।
গিরস্থে কভু পায় না ভাত।।
গাই দিয়া বায় হাল
দু:খ তার চিরকাল।

ধান্যাদি

৭৯.
দিন থাকতে বাঁধে আল।
তবে খায় তিন শাল।।
বারো পুত তেরো নাতি।
তবে করো বোরো খেতি।।

রবি শস্যাদি

৮০.
মেঘ করে রাত্রে হয় জল।
তবে মাঠে যাওয়াই বিফল।।
৮১.
যদি থাকে টাকা করবার গোঁ।
চৈত্র মাসে ভুট্টা দিয়ে রো।।
৮২.
হলে ফুল কাট শনা।
পাট পাকিলে লাভ দ্বিগুণা।।

Friday, July 9, 2010

Khona Of Bengal Part I

খনা প্রথম পর্ব
We are thankful to http://khona.blog.com/

ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটলে তাকে পাবে না তুমি।
তাকে নিয়ে রচিত হয়নি কোন বীরত্বগাঁথা যুগ যুগ ধরে যা উজ্জ্বীবিত করতে পারে মানুষকে।
কেউ তাকে নিয়ে গায়নি কোন গান যার মনোহর সুর দিনের পর দিনে মাতিয়ে রাখে মানবহৃদয়।

কিন্তু সে বেঁচে আছে আজও, এক রহস্য হয়ে, দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তীতে, লোককথায় এবং, আরো প্রোজ্জ্বলভাবে, মানুষের জীবনে–মমতা ভালোবাসা, দ্রোহ দ্বন্দ্ব, এমনকি হিংসা ধ্বংসে, জ্ঞানের কণা সত্যের পরশ বুলিয়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে তার সতত উপস্থিতি, কাব্যময় তার কথা মায়া ভরে স্মরণ করে মানুষ, প্রতিদিন। আর পশ্চিম বঙ্গে, রহস্যময় ঘুমন্ত এক ধ্বংসস্তুপে, জড়িয়ে আছে তার নাম।

তার নাম খনা (Khona)–খনার বচনের খনা।

কিংবদন্তীর কথা

তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা কাহিনী। এদের সাধারণ সুতোটি হচ্ছে, উপমহাদেশের প্রাচীন রাজ্য অবন্তী (Avanti) তথা উজ্জয়নের (Ujjain) রাজা হর্ষ-বিক্রমাদিত্যের (Harsha Vikramaditya) রাজপ্রাসাদে প্রধান জ্যোতির্বিদ ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত বরাহমিহির (Varahamihira), আনুমানিক ৫০০ খ্রীষ্টাব্দের কথা। বরাহমিহিরের পুত্র জন্মগ্রহণ করলে তিনি পুত্রের কোষ্ঠি (horoscope) বিচার করে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যান। হিসেব করে দেখেন মাত্র এক বছরের মধ্যেই মারা যাবে তার প্রিয় শিশুপুত্র। পিতা হয়ে পুত্রের মৃত্যু অসহায়ের মত অবলোকন করতে হবে আর ভয়ংকর দিনগুলি গণনা করে যেতে হবে, এই চিন্তা সহ্য করতে না পরে তিনি ভাসিয়ে দেন পুত্রকে, পাত্রে ভরে নদীর স্রোতে।

অনেক দূরের এক রাজ্যে, নদী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাক্ষস সম্প্রদায়। কিন্তু মারা যায় না শিশু, বড় হতে থাকে রাক্ষসদের মধ্যে। ষোল বছর বয়সে শাণিত বুদ্ধির এক রাক্ষস মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সে, বিয়ে করে তাকে। মেয়েটি তার জ্যোতির্জ্ঞান প্রয়োগ করে জানতে পারে তার স্বামী মিহির উজ্জয়নের বিখ্যাত পন্ডিত বরাহমিহিরের পুত্র। একদিন দুজন মিলে রওয়ানা দেয় উজ্জয়নের পথে।

পুত্র-পুত্রবধুর পরিচয় পেয়ে রাজপ্রাসাদে তাদের গ্রহণ করেন বরাহ। কৃষিকাজে মেয়েটির ছিল অগাধ জ্ঞান আর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে আবহাওয়ার চমৎকার পূর্বাভাস দিতে পারত সে। উজ্জয়নের কৃষকরা ব্যাপক উপকার লাভ করে তার কাছ থেকে, আর তা দেখে রাজা বিক্রমাদিত্য মেয়েটিকে তার রাজ্যের দশম রত্ন (tenth jewel) হিসেবে আখ্য দেন। মেয়েটির জ্ঞানে সারা রাজ্য রাজপ্রাসাদ মুগ্ধ হয়ে রইল, পন্ডিত বরাহের খোঁজ আর কেউ নেয় না। এমনকি বরাহ নিজেও জনসমক্ষে এক বিতর্কে পুত্রবধুর হাতে পরাস্ত হন। ঈর্ষাপরায়ণ বরাহ তাই এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুত্রকে আদেশ দেন মেয়েটির জিহ্বা কেটে ফেলতে যাতে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার কন্ঠ। আর ঘটেও যায় এই মর্মন্তুদ ঘটনা!

উড়িষ্যার উপাখ্যানটিতে বর্ণিত আছে, রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার পর মেয়েটির নাম হয় খনা, উড়িয়া ভাষায় যার মানে বোবা।

বাংলার এক কিংবদন্তীতে আছে, জন্মের পর মেয়েটির পিতা তার নাম রাখেন খনা কারণ তার জন্ম হয়েছিল এক শুভক্ষণে। কিন্তু বাংলার এই মেয়েটি বেড়ে উঠে লঙ্কা নামের রাক্ষস দ্বীপে (বর্তমানের Sri Lanka)। মধ্যযুগীয় কিছু বর্ণনায়, যেমন কালহানের রত্নরঙ্গিনীতে, বাংলার গৌড় (Gauda) কেই অবশ্য রাক্ষস রাজ্য (Kingdom of Demons) হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

রহস্যময় এক ভগ্নাবশেষ

কোলকাতা শহরের ৪০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে বারাসাত নগরীর কাছে বীরচম্পা (Berachampa) নামক জায়গায় গেলে দেখা যাবে প্রাচীন এক ভগ্নাবশেষ (ruins), মহাসড়কের উভয়পাশে বিস্তৃত। দক্ষিণ পাশে পরিলক্ষ্যিত হয় প্রাচীন দুর্গ (fort) ও প্রতিরক্ষাবেষ্টনি বা গড় (rampart) এর নিদর্শন। ধারণা করা হয়, এখানেই ছিল রাজা চন্দ্রকেতুর (Chandraketu) সাম্রাজ্য। কৃষিকাজ বা অন্যান্য খননকাজে মাটির নীচ থেকে প্রায়ই বেরিয়ে আসে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন (artefacts): মুদ্রা, পুঁতি (bead), প্রস্তর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য (stone & terracotta sculpture), গজদন্ত (ivory), উন্মোচন করে টুকরো টুকরো কত না ইতিহাস। নিদর্শনগুলির শুধু মাত্র সংখ্যার প্রাচুর্যই মুগ্ধ করে রাখার মত যথেষ্ঠ।

২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত এই এলাকাটিতে ১৯৫০ এর দশকে কিছু খননকার্য হয়েছিল। রোমান ও ভূমধ্যসাগরীয় মুদ্রা পর্যবেক্ষণ করে ঐতিহাসিকদের অভিমত, এখানকার স্থাপনাসমূহ খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের। পুরাতত্ত্ববিদগন (archeologist) এখানে মৌর্য্য (Maurya) ও গুপ্ত (Gupta) শাসনামলের নিদর্শনও আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু তৈজসপত্রের টুকরা (pot-sherds) এবং গোলাকার সিলমোহরের (seal) উপর খোদাইকরা অভিলিখন (inscription) এর মর্মোদ্ধার করা এখনও হয়ে উঠেনি, ফলে রাজা চন্দ্রকেতুর সঠিক পরিচয় এবং সেই এলাকার ইতিহাস এখনও আলো-আধাঁরিতে খেলা করে।

আর এখানেই, মহাসড়কের উত্তর পাশে শায়িত সমাধিফলকের মত এক ইঁটের স্থাপনা। বহুভুজাকৃতির উঁচু এই স্থাপনাটি কৌতূহল জাগানোর মত উত্তর-দক্ষিণে সুবিন্যস্ত, পাশে আরো কিছু স্থাপনা। এটিই খনা-মিহিরের মূড়া (Mound of Khona-Mihir) নামে পরিচিত। কিছু কিছু ঐতিহাসিক মূড়াটিকে গুপ্ত যুগের মন্দির হিসেবে অনুমান করলেও মন্দিরের পক্ষে জোড়ালো কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এখানে।

এক বাঙ্গালী নারীর গৌরব যাত্রা

কিন্তু প্রাচীন এই ধ্বংসস্তুপের সাথে খনার নাম কেন জড়িত? খনা তো বেঁচে আছে শুধু তার ছন্দোময় জ্ঞানকথায়: আবহাওয়া, কৃষিকাজ, জ্যোতিষী শাস্ত্রে, আর কিছু ছন্দে যা তুলে ধরে তার শ্বশুর বরাহমিহিরের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা। আসলে কে সে?

অনেক কথাই হয়তো বলা যায়। কিন্তু আমার ভাবতে খুব ভালো লাগে সেই কবে, পুরাকালে, বাঙ্গালী এক নারীর গৌরব-যাত্রা, বাংলার গৌড় থেকে বীরচম্পা হয়ে ভারতের অবন্তীতে, চারপাশে রেখে যাওয়া চোখ ধাঁধানো বাস্তবজ্ঞান আর মন মাতানো ছন্দ।

তারপর, সে এক বিষাদ গাঁথা, জ্ঞানের ছটা সহ্য করতে না পেরে তাকে বোবা-স্তব্ধ করে দিতে ঈর্ষাপরায়ণ কুচক্রীদের হীন বীভৎস ষড়যন্ত্র! কিন্তু কে কবে পেরেছে তা? কুচক্রীর দল মারা গেছে সেই কবে, বেঁচে আছে খনা, বেঁচে আছে তার কন্ঠ:

কলা-রুয়ে কেটো না পাত,
তাতে কাপড় তাতেই ভাত।

লেখকের কথা

খনার উপাখ্যানে রাক্ষস সম্প্রদায়ের কথা শুনে একে নিছক পুরাকালের পরমকথা বলে হেসে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। গঙ্গার তীরে বাংলার দুর্ধর্ষ গঙ্গারিধি জাতি বহুবার থামিয়ে দিয়েছিল বহিরাগত শত্রুর বিজয় অভিযান, পরাক্রমশালী আলেকজান্ডার সাহসই করেননি এই এলাকায় অভিযানের, আর্যরাও ঢুকতে পারেনি বহুকাল, আর তাই বহি:শত্রুরা ব্যর্থ মনোরথ হয়ে অপমান-ক্ষোভে প্রায়ই বাংলার মানুষকে তাদের সাহিত্যে আখ্যা দিয়েছে রাক্ষস, দানব, বানর হিসেবে।