Showing posts with label Calcutta. Show all posts
Showing posts with label Calcutta. Show all posts

Sunday, July 21, 2013

গ্রাম বাংলার ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প লুঠ আর ধ্বংসের ভিতের ওপর গড়ে উঠছে কলকাতা, A New Opulent Calcutta is Growing on the Loot and the Destruction of Bengal's Education, Industry & Intercontinental Trade

বাংলার শিল্প, আন্তর্জাতিক ব্যবসা আর শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে, তার ওপরে গড়ে উঠছে কলকাতার কোম্পানি এবং নবজাগরিত বাঙ্গালীদের বিশাল বিশাল হর্ম্য। শুধু কলকাতা নয়, সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চালকশক্তি ছিল বাংলা লুঠের অর্থ আর সম্পদ। 
বাংলা লুঠের অর্থে ভারতের নানান শহরের ব্রিটিশ সরকার চলেছে, জগত জোড়া যুদ্ধ চলেছে, ব্রিটেন জোড়া শিল্প তৈরি হয়েছে এবং চলেছে, ভারত চালানোর বিশাল আমলাতন্ত্র চলেছে। 
লন্ডনের বাইরে যে শহর থেকে প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত এবং তার পরে বিশ্ব লুঠের পরিকল্পনা ছক হবে, ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত  তৈরি হবে (আজও) ব্রিটিশদের(এখন আমেরিকা আর ইয়োরোপে) স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশি শিক্ষা, শিল্প ব্যবসা ব্যবস্থা সবলে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে দিয়ে সে শহরটি হল কলকাতা এবং এই বিশাল বিশাল হর্ম্যগুলি। 
যে গ্রামীণদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমন করে এই কলকাতা গড়ে উঠেছে, সেই সব অদম্য গ্রামীণদের আভূমি প্রনাম জানালাম এইখনে।
জয় গুরু! জয় বাংলা!














সে সময়ের কলকাতার আশেপাশের নানান স্থানের ছবি, Some Photographs of Surroundings of Calcutta










পুরনো কলকাতার কিছু ছবি বোর্ন অ্যান্ড শেফার্ডএর তোলা, A Bunch of Old Photo of Kolkata by Bourne & Shepherd

এই ছবিগুলোর অধিকাংশই কলম্বিয়া ডট এডুর সাইট থেকে পাওয়া। এই সৌজন্য স্বীকার করে সবার জন্য এই ছবিগুলো এই প্রথমবার লোকফোকে তুলে দেওয়া গেল। এইগুলো কলকাতার বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ১৯০০ সালের আগে তোলা। এই ছবিগুলো থেকে কলকাতা শহরের বিকাশের একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। যারা এখনকার কলকাতার সঙ্গে পরিচিত আবার কয়েক দশক আগের কলকাতার সঙ্গে পরিচিত, যাদের ছোটবেলা কেটেছে ৫এর দশকেরও আগে, তাঁরা নিশ্চয়ই এই ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা কিছুটা হাল্কা হলেও মেলাতে পারবেন। হয়ত। যদিও লোকফোকএর কাজের মাত্র কয়েক অংশ কলকাতার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এবং কলকাতার উচ্ছেদমন্ডিত বিকাশকে সে কোনোভাবেই সমর্থন করেনা, তবুও কি ভাবে গ্রাম বাংলার সম্পদ আহরণ করে তার বিকাশ ঘটেছে সেটি বোঝার জন্য এই ছবিগুলো দেখা ও বোঝা দরকার। 
গ্রাম শোষণ করে শহর গড়ে ওঠে। এবং সহরিকরন এবং শিল্পায়ন এই দুটি শব্দ পরস্পরের হাত ধরাধরি করে চলে দেশের অযুত সম্পদ আহরণ করে কয়েকজনের কুক্ষিগত করানোর চেষ্টা করে। গ্রামীণ ভারত আজও সেই প্রচেষ্টায় আড় হয়ে রয়েছে। সেই দখলদারি পশ্চিমী দর্শনের বিরুদ্ধে আমরা, আমাদের কাজ আজও সরব। 
এইটুকুই আমাদের কথা। 












Sunday, June 30, 2013

টাটাদের আদি ব্যবসা - চিনে আফিম সরবরাহ - Opium Trade of the Tatas

ভারতের ব্যবসা জগতে টাটা পরিবারের নাম বিগত একশতক ধরে শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হয়। টাটারাওযে খুব গভীরভাবে আফিম ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এই তথ্য আজকে খুব একটা উচ্চারিত নয়। অন্যান্য পার্সি ভাই বেরাদারের আফিম ব্যবসায় অমিত পরিমাণ লাভএর অঙ্ক দেখে টাটারাও এগিয়ে আসেন। তথ্য বলছে, অন্যান্যদের থেকে অনেক পরে টাটা পরিবার এই ব্যবসায় ঢোকে। জনসাধরণের প্রচলিত বিশ্বাস, টাটারা অনেক রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে তবে আজকের ভারতের প্রধাণতম শিল্পপরিবারএ পরিনণত হয়েছে, পুঁজি জোগাড় করেছে। এদের ওয়েবসাইটেও আফিম ব্যবসায়ের বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই। অনেক পরিমান রক্ত-ঘাম তাঁরা ঝরিয়েছিলেন, তবে চিনের সাধারণকে আফিম সেবন করাতে। অপারসি জগতে নাম মাহাত্ম্যে, টাটারা, সম্প্রদায়ের অন্যান্য উদ্যগপতির তুলনায় এই সময়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। সেদিন কিন্তু তা ছিল না। করপোরেট সংস্থাতো ছিলেনই, কিন্তু ঔপনিবেশিক ব্যবসা জগতে তাঁরা  ততটা প্রভাবশালী ছিলেন না। কিন্তু কয়েকটি ঐতিহাসিক তথ্য পরিস্কারের জন্য এই রচনা।

গুজরাটের অধিবাসী জামশেদজী টাটার বাবা যোরাথ্রুষ্টবাদী পার্সি পুরোহিত নাসিরনজী টাটা এই পরিবারের স্রষ্টা। নাসিরনজী তার পুত্র জামশেদজী এবং অন্যান্য ভাইদেরকে হংকং, সাংহাই এবং ইংলন্ডে আফিম ব্যবসার দপ্তর খুলে দিলেন। আগেই বলা হয়েছে বম্বে শহরটি গড়ে উঠেছে বাঙালি-বিহারি, সিন্ধ্রি রক্ত জলকরা আফিম চাষী, পার্সি আফিম ব্যবসায়ী আর চৈনিক আফিমখোরদের তৈরিকরা অর্থিক লাভের বনিয়াদের ওপর বসে। ঐতিহাসিকেরা সাধারণতঃ নতুন বম্বের সঙ্গে আফিমের সম্পর্ক দেখাতে গিয়ে প্রায় প্রত্যেক পার্সি পরিবারের নামোল্লেখ করলেও সাধারণতঃ তারা টাটা পরিবারের নাম উল্লেখ করতে ভুলে যান, অথবা নমঃনম করে সেরে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের আদত ব্যবসার কথা উল্লেখ করতে অনেকেই ভুলে যান। এটি উদ্দেশ্যপূর্ণ কীনা বলা মুশকিল। 
এমনকী বামপন্থীরাও এই পথের পথিক। অনেক বামপন্থীই টাটা পরিবারকে আদতে ভারতের পুঁজিপতিদের মধ্যে প্রহ্লাদরূপে দেখতে চান। বাঙলার তদানীন্তন বামপন্থী সরকারের ন্যানো মোটর গাড়ির কারখানা করার উদ্যমেই তা স্পষ্ট। ভারতীয় টাটাদের কর্পোরেট পরিবারের সঙ্গে ব্রিটিশ বামপন্থার যোগাযোগ অনেক দিনেরই। বড় পুঁজিপতি জামশেদজী টাটার ছোট পুত্র স্যর রতন টাটা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের সঙ্গে মিলে সোসালিস্ট সার্ভেন্টস অব ইন্ডিয়া সোসাইটি গঠন করেন। জামশেদজীর পুত্র বামপন্থীদের দুর্গ, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সএর একটি চেয়ারেরও স্রষ্টা। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল রতন এবং দোরাবজী টাটার কাজিন শাপুরজি সাকলতওয়ালা (১৮৭৪-১৯৩৬), যিনি টিসকোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম কমিউনিস্ট সদস্য। তিনি একাদিক্রমে ১৯১৪ থেকে ১৯২৯ পর্যন্ত ব্যাটারসি(লন্ডনের একটি বরো) থেকে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন। জামশেদজী টাটাই ব্রিটিশ আমলে চিনের সঙ্গে আফিম ব্যবসার একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন এমন নয়, বম্বের কম করে পঞ্চাশটি পার্সি পরিবার এই চোরাচালানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। এরা প্রায় সকলেই ম্যানিয়ার এন্ড কোংএর আফিমব্যবসার সঙ্গী। কয়েকজন যুক্ত ছিলেন রাসেল এন্ড কোম্পানির সঙ্গে।
মেরি এল কিয়েনহোলজ ওপিয়াম ট্রেডার্স এন্ড দেয়ার ওয়ার্ল্ডস – ভলিউম টু-  আ রিভিসনিস্ট এক্সপোজার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট ওপিয়াম ট্রেডার পুস্তকে ভারতীয় যেসব ভারতীয় ব্যাবসায়ীর আফিম ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে টাটাদের আফিম ব্যবসারও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এর সপক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য অথবা দলিল দিতে পারেন নি। এছাড়াও  http://www.independent.co.uk/news/world/asia/from-parsee-priests-to-profits-say-hello-to-tata-434575.html আলোচনা হয়েছে টাটাদের আফিম ব্যাবসায় জড়িত থাকার কথা। কিন্তু এক ব্রিটিশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় টাটাদের সম্বন্ধে লেখাটি লিখেছেন। সেহেতু একজন ভারতীয় ইয়োরোপীয় ব্যবসা কেড়ে নিচ্ছে, সেটিও তিনি সহ্য করতে পারছেন না। লগে লগে আফিম ব্যবসার কথাও এসে যায়। সেখানে  লেখক কোনও প্রমান দিতে পারছেন না। 
ফোরবস পত্রিকাও সরাসরি বলছে, (in)the 1860s, Nussurwanji Tata and his cousin and brother-in-law Dadabhoy Tata were just entering ‘the China trade’, a euphemism for the ships that ran from India to China, carrying opium on the way in and tea, silks and pearls on the way out (http://forbesindia.com/printcontent/31052).
ওয়াছা, জে এন টাটার জীবনী লিখতে গিয়ে বলছেন, টাটাদের আফিম ব্যবসায়ের কথা- Opium and cotton were the two staple commodities in which it traded, and young MI'. Jamsetji's attention was soon engaged on them (The Life and Life Work of J N. Tata BY D. E. WACHA,  http://203.200.22.249:8080/jspui/bitstream/123456789/500/1/Life_and_the_life_work_of_JN_Tata.pdf). কিন্তু কোনও প্রমান নেই।
অথচ কলাবতী মুদ্রা, হংকংএর ১৮৮৭ সালের LEGISLATIVE COUNCILএর ওয়েবসাইট সূত্রে একটি স্মারকলিপির হদিশ পাচ্ছে((সূত্রঃ http://www.legco.gov.hk/1886-87/h870325.pdf)  যে স্মারকলিপি দিয়ে ব্রিটিশ আমলে আফিম ব্যবসায় টাটাদের জড়িত থাকার প্রমান হয়। দেখা যাচ্ছে হংকংএ ৭ জন পাইকারী আফিম ব্যবসায়ী হংকং সরকারকে স্মারকলিপি দিচ্ছেন। সেই স্মারকলিপির তৃতীয় স্বাক্ষরটি হল রতনজি দাদাভাই টাটার, প্রথম দুটিই আফিম ব্যবসায়ে পার্সিদের অন্যতম প্রখ্যাত প্রতিদ্বন্দ্বী, ইহুদি সাসুন(সাম্প্রতিক সাহিত্যে সাসুনদের থিফ অব বাগদাদ বলা হত। ভারতে পরিবারএর প্রতিষ্ঠাতা সালেহ সাসুন ছিলেন ইরাকের পাশার খাজাঞ্চি। পাশার রোষ থেকে বাঁচার জন্য পারস্য হয়ে বম্বেতে আশ্রয় নেন। বহুকাল ধরে তিনি ভারত-পারস্য ব্যবসা চালিয়েছেন। সালেহর পর পরিবারের হাল ধরেন ডেভিড সাসুন। সালেহ বেঁচে থাকতেই তিনি ক্যান্টনে আফিম ব্যবসা ধরেন।
ডেভিড সাসুন, প্রথম ইহুদি আফিম ব্যবসায়ি
ডেভিড ক্যান্টনের প্রথম ইহুদি ব্যাবসায়ী। ২৪ জন পার্সি ব্যাবসায়ীর সঙ্গে লড়ে তিনি আফিম আর তুলোর ব্যবসা দাঁড় করান।) পরিবারের প্রতিনিধির (আধুনিক মুম্বাইএর গড়নে শুধু পারসিরাই নয়, ইহুদি সাসুনদের বিনিয়োগ অপরিসীম)
।
প্রেক্ষিতটি হল, হংকং সরকার আফিম ব্যবসা নিয়ন্ত্রের জন্য একটি বিল আনছিল। বিলটির নাম, the prevention of Opium smuggling into China। আবেদনকারী ৭ পাইকারী আফিম ব্যবসায়ী জানাচ্ছে, এটি পাইকারী অথবা খুচরো ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে সেটি দেশের বিকাশ আর ব্যবসা বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলবে(বিশ্বায়নের প্রবক্তারা আজও এই যুক্তি দেন)। এই ব্যবসায়ীদের সংঘ কাউন্সিলকে আবেদন করছে, বিলটি আনার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখা হোক। তারা চায় সরকার, বিলটি আনার আগে, আফিম ব্যবসায়ীদের মতামতটিও শুনুক। প্রয়োজনে বিলটির আপত্তিজনক অংশ বাদ দিয়ে আইনে পরিণত হোক। আমাদের এই আলোচনায় বিলের ভেতরের কোন অংশে, কিভাবে বিরোধিতা করছে, সেই পর্যায়টি যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে বেশি গুরুত্বের এই ব্যবসায় টাটাদের অংশিদারি। এই আবেদন পত্রে স্বাক্ষর, টাটাদের আফিম ব্যবসায়ে অংশগ্রহণের অকাট্য প্রমাণ। টাটাদের ব্যবসার প্রথম সম্পদ আহরণের ইতিহাস ধোঁয়াশায় ভরা। ভারতীয় মধ্যবিত্তর ধারণা স্বাভাবিক ব্যবসা করেই টাটাদের উত্থান। কিন্তু সত্যিটা লুকিয়ে রয়েছে আবেদনটিতে। টাটা পরিবারের ওয়েবসাইটএর ঠিকানা হল, (http://www.tata.com.htm.heritage.HeritageOption1.html)। এই ওয়েবসাইটে টাটাদের কাপড়ের কল, তাদের অন্য ব্যবসা, দানধ্যান ইত্যাদি নিয়ে বিশদে সগর্ব আলোচনা রয়েছে। কিন্তু আফিম ব্যাবসায় নিয়ে উল্লেখ নেই। টাটা পরিবার হয়ত জানে যেসব ব্যবসায়ী ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আফিম ব্যবসা করে অতুল ঐশ্বর্য লাভ করেছে, জনমানসে তাদের খুব একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নেই, বা এই তথ্য প্রকাশ করলে তাদের সামাজিক লাভের সম্ভাবনা শূন্য। ব্রিটিশ আমলে ভারত সরকার, বাঙালি, পারসিদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চিনাদের আফিমে বুঁদ করিয়ে রেখে দেশে অযুত অর্থ লুঠে নিয়ে গিয়েছে। 
সেই লুঠ ব্যবসায় ভারতীয় পার্সি সমাজের অন্যতম প্রধাণ উদ্যমী, টাটাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, যেমন ছিল, দ্বারকানাথের উদ্যম। এই দলিলে পরিষ্কার, টাটারা পরবর্তীকালে কাপড়ের কল অথবা স্টিল কোম্পানির বিনিয়েগের  প্রাথমিক অর্থ কোন সূত্র থেকে অর্জন করেছিল। ধাঁধার কথা হল, বম্বের টাটাদের কাপড়ের কল তৈরির বহু পরের ঘটনা এই স্মারকলিপিটি। কলকাতায় ১৮৩০এর দিকে পার্সি ব্যবসায়ী, রুস্তমজী কাওয়াসজী, দ্বারকানাথের সঙ্গে মিলে আফিম ব্যাবসায় অংশ নিচ্ছেন। আমরা ভুলে যাই, বম্বেতে পার্সিরা ১৮২০ থেকে ১৮৪০এর মধ্যে নতুন বম্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন, Opium city: the making of early Victorian Bombayতে উল্লেখ করছেন পার্সি সমাজের অন্যতম ভাবুক, অমর ফারুকি, তাঁর অন্যতম অংশিদার টাটা পরিবার। 


LEGISLATIVE COUNCIL No. 21.
———————
FRIDAY, 25TH  MARCH, 1887.
———————
PRESENT: HIS EXCELLENCY WILLIAM HENRY MARSH, C.M.G.,
Administering the Government in the absence of His Excellency SIR GEORGE FERGUSON BOWEN, G.C.M.G.
His Honour the Chief Justice,           (SIR GEORGE PHILLIPPO, Knt.)
The Honourable the Acting Colonial Secretary,         (FREDERICK STEWART.)
,,                                               the Acting Attorney General, (EDWARD JAMES ACKROYD.)
,,                                               the Colonial Treasurer, (ALFRED LISTER.)
,,                                              the Surveyor General, (JOHN MACNEILE PRICE.)
,,                                               HENRY GEORGE THOMSETT, R.N.
,,                                              PHINEAS RYRIE.
,,                                               WONG SHING.
,,                                               JOHN BELL-IRVING, (vice the Honourable WILLIAM KESWICK, on leave).
,,                                               ALEXANDER PALMER MACEWEN, (vice the Honourable THOMAS JACKSON, on leave).
,,                                               CATCHICK PAUL CHATER, (vice the Honourable FREDERICK DAVID SASSOON, on leave).
The Council met pursuant to adjournment.
The Minutes of the last Meeting, held on the 18th instant, were read and confirmed.
VOTE OF  MONEY REFERRED TO THE  FINANCE  COMMITTEE.―Read the following Minute by His Excellency the Officer Administering the Government:―
W. H. MARSH
Chinese correspondence having increased very much of late, especially registered letters from America, the duties of the Senior Postman, who has to distribute all registered letters and obtain signatures to receipts, are now more than one man can accomplish in the course of a day.
The Officer Administering the Government, on the representation of the Postmaster General, recommends the Council to vote a sum of $80 to meet the salary of another Postman at the rate of $10 per month from 1st of April next.
Government House, Hongkong, 22nd March, 1887.
The Acting Colonial Secretary moved that this vote be referred to the Finance Committee.
The Treasurer seconded.
Question―put and passed.
PAPER.―The Acting Colonial Secretary, by direction of His Excellency the Officer Administering the Government, laid upon the table the following paper:―
Correspondence in connection with the proposed Loan. (No. 17/87).
PETITIONS.―The Acting Colonial Secretary said that the Clerk of Councils had received two Petitions, and moved that they
be read.
The following Petitions were then read by the Clerk of Councils:―
(1.)
TO HIS EXCELLENCY THE PRESIDENT, AND THE HONOURABLE MEMBERS OF THE LEGISLATIVE COUNCIL OF HONGKONG.
The humble petition of Shellim Ezekiel Shellim, of the firm of David Sassoon, Sons & Co., Jacob Silas Moses, of the firm of E. D. Sassoon & Co., Ruttonjee Dadabhoy Tata, of the firm of Tata & Co., Marcus David Ezekiel, of the firm of Abraham, Ezekiel & Co., Mahomedbhoy Khetsey, of the firm of Tharia Topan, Jafferbhoy Khetsey, of the firm of Jairazbhoy Peerbhoy & Co., and Hormusjee Meherwanjee Mehta, of the firm of Framjee Hormusjee & Co., all of Victoria in the Colony of Hongkong, for and on behalf of the Opium Importers and wholesale Opium Merchants of the said Colony.
SHEWETH,―That at a recent Meeting of the Opium Importers and wholesale Opium Merchants of this Colony, held for the purpose of considering the Bill now before your Honourable Council, entitled An Ordinance for the better regulating of the trade in Opium, it was inter alia resolved that the said Bill, if passed in its present form, would prejudicially affect their trade, and that your petitioners should be appointed a Committee to take such measures as they might consider advisable to bring their complaints before your Honourable Council.
That while fully recognizing the necessity of carrying out the object aimed at by the said Bill, namely, the prevention of Opium smuggling into China, and while sympathizing with its spirit, your petitioners submit that the means by which it is proposed to effectuate such object would inflict serious injury upon the Opium trade, and especially on the aforesaid Opium Importers and wholesale and retail Opium dealers, and prove a blow to the general commerce and prosperity of this Colony.
That your petitioners believe that the ends intended to be accomplished by the said Bill could be attained by other and less objectionable means, and that your petitioners are prepared to co-operate with your Honourable Council and the Executive in attaining the desired object.
That inasmuch as the Bill affects private interests, and was only brought in and read a first time on Friday, the 18th instant, it is desirable to postpone the second reading thereof so as to enable the persons who are more immediately interested, as well as the general public, to acquaint themselves with its scope and object.
Your petitioners therefore humbly pray
1.― That the second reading of the said Bill may be postponed until such day as your Honourable Council may under the circumstances deem meet.
2.― That your petitioners may be heard by Counsel at the bar of your Honourable Council as to their objections to the said Bill in its present form.
3.― That the said Bill may be so amended or modified as to remove the objections of your petitioners, or that it may be withdrawn and a fresh Bill introduced such as the necessity of the case requires.
And your petitioners will ever pray, &c.
S E. SHELLIM.
J. S. MOSES.
R. D. TATA.
M. D. EZEKIEL.
M. KHETSEY.
J. KHETSEY.
H. M. MEHTA.
Hongkong, 22nd March, 1887

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আফিম ব্যবসা - বেম্বাইএর আফিম বোম্বেটে, Opium Trade of Colonial British Government - The Parsi Opium Traders of Bombay

পার্সিদের আফিম ব্যবসা এবং এই ব্যবসার লাভের গুড়ে যে বম্বে শহর গড়ে উঠেছে, এই বিষয়ে একটি বই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে(ওপিয়াম সিটি - অমর ফারুকি)। আজকের বোম্বাই বা মুম্বই নামে যে শহরটিকে ভারতের আর্থিক সম্পদের রাজধানী, সেটি গড়ে উঠেছিল মালব(মালওয়া) অঞ্চলের উত্পাদিত আফিম, মুম্বই হয়ে চিনে পাঠাবার উদ্বৃত্তের গুড়ে। ১৮২০ নাগাদ কলকাতার বাঙালি ভদ্রলোকেদের আফিম ব্যবসার পথ ধরে, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের পার্সি, গুজরাটি বানিয়া, কোঙ্কনি মুসনমানেদের এক বিশাল গোষ্ঠী মালব আফিম ব্যবসার পরতে পরতে জুড়ে ছিলেন। ১৮৩০, এই দশকটিতে ৪২টি বিদেশি কোম্পানি চিনে আফিম সরবরাহের ব্যবসাটি চালাত, তার মধ্যে ২০টির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল পার্সিদের হাতে। তত্কালীন ভারতের সমুদ্র পরিবহন আর আফিম ব্যবসা ছিল একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠমাত্র। 
আজকে যে বম্বের ইতিহাস-ভূগোল আমরা দেখি, তার সুচনা হয়েছিল ব্রিটিশদের অনুগত পার্সিদের আফিম ব্যাবসার লাভের এক অংশ বিনিয়োগের সূত্র ধরে। শহুরে ইংরেজি শিক্ষিত বাঙ্গালীদের মত পার্সিরাও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের খুব অনুগত ছিল, Industrialisation in India, 1850-1947: Three Variations in the Emergence of Indigenous Industrialists প্রবন্ধে Gijsbert Oonk বলছেন, the Parsees had a proven loyalty towards the British. They partly financed the military defense of the Bombay fort; they were loyal to the British during the Mutiny (1857), financing the British military apparatus.(http://repub.eur.nl/res/pub/1820/Industrialization%2520in%2520India%2520voor%2520Dare.pdf). ব্রিটিশরা পার্সিদের কোন দৃষ্টিতে দেখত, সে বিষয় বলতে গিয়ে তিনি তৎকালীন বম্বের গভর্নরের উদ্ধৃতি তুলে দিচ্ছেন, Throughout the Rebellion [1857] in the East, the Parsees have maintained an unshaken loyalty to the British whom they are proud to call their fellow sub-jects, and while preserving their own independence of religion and customs, their chief desire is that British rule in India should be consolidated upon a basis of strict justice and mutual interest(G. Aungier, Gouvernor of Bombay in a letter in 1673, printed in S. Playne, Bombay, The United Provinces, Punjab, Kashmir, Sindh, Rajputana and Central India. Their History, People, Commerce and Industrial Resources. Bombay 1917-1920, pp26-7). এই অদম্য নিবেদনের   বিনিময়ে ১৮০০ শতকের শুরুর আগে থেকেই উপনিবেশ সরকারের হাত ধরে মালব আফিমের ব্যবসা, বম্বে বন্দর দিয়ে শুরু করে পার্সিরা।


সব থেকে বড় জাল ছড়ানো ছিল জামসেদজী জিজিবয়ের(১৭৮৩-১৮৫৯)। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সব থেকে বড় এজেন্সি হাউস, জার্ডিন ম্যাথিসনের অন্যতম অংশিদার। ব্রিটিনের সর্বোচ্চ নাইট(১৮৪২), ব্যারণ (১৮৫৭) উপাধি পাওয়া প্রথম ভারতীয়। আফিম পরিবহনের জন্য তাঁর অনেকগুলি জাহাজও ছিল, আর তিনি ছিলেন ব্যাঙ্ক অব বোম্বের ছজন নির্দেশকের মধ্যে অন্যতম।
দশকের পর দশক জুড়ে অবৈধ আফিম ব্যবসার লাভ থেকেই আজকের দক্ষিণ বম্বের বিশাল বিশাল প্রাসাদোপম হর্ম্যগুলি গড়ে ওঠে। আজকের ধণতান্ত্রিক ভারতের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বম্বে শহরটির ভ্রুণ তৈরি হচ্ছিল ১৭৯০ থেকে ১৮৪০এর মধ্যে অবৈধ আফিম ব্যবসার অপরিমিত লাভের পাহাড়ের ওপর বসে। মনে রাখতে হবে ১৮২০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে, বম্বেতে অবৈধ আফিম ব্যবসা থেকে যে রূপো আসত তার পরিমান দ্বারকানাথেরমত কলকাতার ইংরেজ-বাঙালি ব্যবসায়ীদের লাভ্যাংশের থেকে অনেক অনেক বেশি। কলকাতা থেকে যে সরকারি আফিম চিনে অবৈধভাবে সরাসরি রপ্তানি হত, তার লাভের হকদার ছিল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ কোম্পানি সরকার, ছিটেফোঁটা লাভের গুড়ের অংশিদার হতেন সেই ব্যবসা সাজনোগোজানের প্রক্তিয়াতে জুড়ে থাকা দালালেরা। এদের একাংশমাত্র ছিলেন বাঙালি, পার্সিরাও ছিলেন প্রথমের দিকে।
কিন্তু বম্বের বিষয়টা ঠিক উল্টো। সরাকারকে নির্দিষ্ট একটা অংশ কর দিয়ে এই লাভের গুড়ের পুরো অংশটাই যেত এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পার্সি অংশিদারদের সিন্দুকে। বেচারা চিনেদের আফিমের মৌতাতে রেখে পার্সিদের সেই লাভের অর্থে গড়ে উঠেছে মালাবার হিল, কাম্বালা হিল, ব্রিচ ক্যান্ডি, আঙ্ক্লেশ্বরেরমত জনপদসমূহ। পরে সেই অঞ্চলের বিলাসবহুল পার্সি বাংলোগুলো লিজে দেওয়া হয়েছে ইওরোপিয়দের। ১৮৩০-১৮৪০এর মধ্যে এই পার্সিরাই গড়ে তুলেছিলেন বম্বের শহরতলী অঞ্চলগুলো। যেমন কার্সেটজী মানকজীর অধিকারে ছিল অনিকের, ঢাকজী দাদাজীর ভারাসাভি(আজকের ভারসোভা), ফারমজী কাওয়াসজীর পোয়াই লেন, জামসেদজী বোমানজীর ভিলে পার্লে, জুহু, কারসেটজী কাওয়াসজীর জর্জগাঁও, রতনজী এদুলজীর ঘাটকোপর, কৃষণরাও রঘুনাথের বোরবিদে এবং লক্ষ্ণণ হরিচাঁজদীর চিনচোলি।
সে যুগের আফিম চোরাচালানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বোম্বের প্রায় প্রত্যেক প্রখ্যাত পার্সি পরিবার। আফিম ব্যবসার এক প্রবাদপুরুষ, এক সময়ে কলকাতায় ব্যবসায়ী, জামশেদজী জিজিবয়(১৭৮৩-১৮৫৯) নিজে, জামশেদজী টাটাদের থেকে অনেক বেশিভাবে ডেভিড সাসুনের বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। জিজিবয় শিশুকাল থেকেই অনাথ। কৈশোরের আগেই চিনের পথে পাড়ি দেন। নানান ঝড়ঝঞ্ঝা সয়ে তিনি এক ডেনিস ব্যবসায়ীর নজরে পড়েন এবং ১৮৩৬এই অমিতপরিমান সম্পদের উত্তরাধিকারী হন। অমিত অর্থের অধিকারী তাই, তাঁর জাবনীকারদের দাবি, তিনি কোম্ব্রিজে পাঠগ্রহণ করেছেন কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে(আমরা মনেকরিনা, কেম্ব্রিজে পাঠগ্রহণ মানেই উচ্চস্তরীয় কোন সম্মানিত ব্যক্তি। আমাদের উৎসাহ তাঁর আফিম ব্যবসায়)।  তিনি প্রথম নাইট উপাধি পাওয়া ভারতীয়। জামশেদজী জিজিবয় গুড সাকসেসএরমত অনেকগুলি জাহাজের মালিক ছিলেন। এই ব্যবসায় এত লাভ করেন যে বম্বে এবং পার্সি সমাজের উন্নতির জন্য ২,৩০,০০০ পাউন্ড(সে যুগে ২৩ লক্ষ টাকা) দান করেন। সে সময় দু লাখ তিরিশ হাজার পাউন্ড বেশ ভাল পরিমাণ অর্থ।
জামসেদজীর সঙ্গে মোতিচাঁদ আমিরচাঁদ, হরমুসজী দোরাবজীকে বম্বের আফিম ব্যবসার তিন বড় মাথা হিসেবে ধরা হয়। দাদাভাই রুস্তমজীর রুস্তমজী এন্ড কোম্পানি ১৮২০ থেকেই চিনে আফিম ব্যবসা করত। তিনি নিজে চিনে যান ১৮২৭এ। মারিওয়ানজী মানকজী এবং জোহাঙ্গী ফ্রেমজী ১৮২১ থেকেই চিনে আফিমের ব্যবসায় লেগে পড়েন। মানকজীর পুত্র করসেটজী মানকজী পরে বম্বের বিচারক হন। করসেটজী বম্বের গভর্ণর এন্ড্রু রামসের রাইটার হিসেবে জীবন শুরু করে বাঙলা আর আরবের সঙ্গে ব্যবসার সূত্রে বিশাল অর্ণব পোতের মালিক হন। দাদাভাই রুস্তমজী, জোহাঙ্গী ফ্রেমজীর আত্মীয়। ফ্রেমজীর বাবা রুস্তমজা কাওয়াসজী বানাজীর অনেকগুলি আফিম পরিবহনের জাহাজ ছিল। এরমধ্যে বিখ্যাততম হল দাদাভোই, বাঙলার দেশি নৌকো।
২৫০ টনের আফিম ক্লিপার মেরি গর্ডন মাজগাঁও ডকে তৈরি করান ফুরডনজী লিমজী, ১৭জুলাই, ১৮৩৯এ চিনের দিকে রওনা হয়। খিদিরপুর ডকে এর কিছুদিন আগে তৈরি হয় রুস্তমজী কাওয়াসজী ১২ জুলাই ১৮৩৯এ চিনে রওনা হয়। প্রথম আফিম যুদ্ধে স্যর রবার্ট সেপিংস এই জাহাজটি ভাড়া করেন। সিল্ফ জাহাজটি অনেকে বলেন বানাজী পরিবারের সম্পত্তি। তবে এই জাহাজটি জার্ডিন-ম্যাথিসন কোম্পানি তাদের চিনে আফিম ব্যবসায় ভাড়া খাটাত। অনেকে বলেন এটি নাকি জার্ডিন-ম্যাথিসনরই সম্পত্তি।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আফিম ব্যবসা, Opium Trade of Colonial British Government

১৭৫৭র পর বাঙলা লুঠের পরবর্তী কালে ইংরেজদের লোভী দৃষ্টি পড়ল আফিম ব্যবসায়। পলাশির পর ইংরেজ ব্যবসায়ীরা বাঙলার সমাজের নানান বিধিনিষেধ ফুতকারে উড়িয়ে দিয়ে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল বাঙলার নানান ব্যবসার সঙ্গে আফিম ব্যবসাতেও। ইংরেজদের হাতে পড়ে বাঙলা-বিহারের চিরাচরিত আফিম চাষী শোষণ-শাসনের শিকার হয়ে উঠল। ব্যবসা এতই লাভজনক ছিল যে বাঙলা ধংসের অন্যতম নায়ক ওয়ারেন হেস্টিংস তার বন্ধুদেরই বাঙলা-বিহারের আফিম একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার দিয়ে সম্মানিত করতেন। সরকারের নানান অঙ্গের সাহায্যে শোষণের বেড়াজালে ব্যবসায়ীদের লাভের অঙ্ক আকাশ ছুঁত। দেশিয় দালাল মার্ফত চাষীদের কাছথেকে আফিম প্রায় বিনামূল্যে সংগ্রহ করে তা সরাকারের কাছে বিক্রি করত।
ইংরেজ ব্যবসায়ীদের দেশিয় দালালেরা চাষীদের কাছথেকে বলপ্রয়োগে নামমাত্র মূল্যে আফিম কিনে সেই আফিম উচ্চমূল্যে সরকারের কাছে বিক্রি করছে দেখে চাষীরা আফিম চাষ করতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর নিপীড়ন নামিয়ে আনা হত। দালাল, গুন্ডা আর পুলিশদের সহায়তায় ইংরেদরা চাষীদের অন্যচাষের বদলে জোর করে আফিম চাষ করতে বাধ্য করত। আফিম চাষের জন্য দালালেরা চাষীর খেতের ফসল পুড়িয়ে দিয়েছিল, এমনও উদাহরণ বিরল নয়। আর অনিচ্ছুক চাষীদের আটক আর প্রহার ছিল সাধারণ ঘটনা। জোর করে চাষ করিয়েও রেহাই নেই আফিম ওজন করার সময় ওজন চুরি করেও চাষীকে কম দেওয়া হত। 
চাষীরা একসময় একযোগে প্রায় সংগ্রাম করায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুধেলা গরু আফিম ব্যবসা মার খেতে শুরু করে। এই আফিমের একটি বড় অংশ বিক্রি হত বেআইনিভাবে চিন দেশে। সপ্তদশ শতকের মাঝখান থেকে বানিয়া ইংরেজরা বুঝতেপারে, বাঙলাকে লুঠ করে ছিবড়ে করে দেওয়ার পর চিনে আফিম ব্যবসা তাদের বড় লাভের রোজগার হতে পারে। ক্রমশঃ তারা চিনে আফিম ব্যবসা বাড়াবার দিকে নজর দিল। ইতোমধ্যে চিনের অবৈধ কারবারিরা দেশের মানুষকে আফিমের মৌতাতে মাতিয়ে রেখে অযুত মুনাফা লাভ করার দিকে শনৈঃ শনৈঃ এগোতে থাকে। চিন সমাজের প্রায় প্রত্যেকটিস্তরে আফিমের নেশা দাবানলেরমত বাড়তে বাড়তে অষ্টাদশ শতকের প্রথমপাদে, এই নেশা দেশের মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। প্রত্যক ছজনের মধ্য একজন ছিলেন আফিম সেবী। কুইং সাম্রাজ্য আফিমের বিক্রি এবং দেশের মানুষের আফিম সেবন বন্ধ করে দেওয়ার ফরমান জারি করে।
ইতোমধ্যে বাঙলার তন্তুজাত দ্রব্য ইংলন্ডে রপ্তানিও ক্রমশঃ কমতে শুরু করেছে, কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটেন শুধু বস্ত্রজাত বস্তু নয়, রামমোহনের সনির্বন্ধ অনুরোধে ইংলন্ড বাঙলায় নুন পর্যন্ত রপ্তানি করতে শুরু করে দিয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। সব থেকে বড় কথা নানান দ্রব্য কিনতে ইংলন্ডকে ইওরোপ থেকে বাঙলায় সোনা-রূপা আনতে হত। পলাশির চক্রান্তে, বাঙলার শাসন ক্ষমতায় আসার পর, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাঙলাকে এত পরিমান লুঠ করে উদ্বৃত্ত তৈরি করে যে, পলাশির বছর থেকে আর তাকে বাঙলার দ্রব্য কিনতে আর ইওরোপ থেকে দামি ধাতু আর আনতে হয় নি।
এখন লুঠ কর্ম শেষে, ভারতের শিল্প আর শিল্প পরিকাঠামো ধংস করে কোম্পানি নতুন লুঠের বাজারের দিকে নজর ফেরায়। শিল্পবিপ্লবের প্রাক্কালে, আরও আরও কাঁচামালের জন্য, ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রধাণ রোজগেরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চিনের দিকে নজর ফেরাতে থাকে। ততদিনে ইংলন্ডে চা, পোর্সেলিন আর চিনা রেশমদ্রব্যের বাজার জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে। ইংলন্ডকে চিন থেকে এই বস্তুগুলি কিনতে প্রচুর সেনাদানা নিয়ে যেতে হচ্ছে। চিনের সঙ্গে ইংলন্ডের বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়। এরপর শুরু হয় ইংরেজদের চিন লুঠের নতুন পরিকল্পনা। যে সোনাদানা নিয়ে ইংরেজ কোম্পানি চিনের চা, পোর্সেলিন আর রেশম কিনত সেই সোনাদানা যাতে আর আগামী দিনে চিনে আনতে না হয়, তার সুচারু পরিকল্পনা তৈরি হয়ে যায় ব্রিটিশ সরকারের মদতে কোম্পানির সম্মেলন ঘরে, সাথী হলেন বাঙালি আর পার্সি উদ্যোগীরা।
জ্ঞাণবিজ্ঞাণের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য-পরিবহনে জাহাজ, মশলা, নীল, রেশম, লৌহপিন্ড, নুন, সোরা, তাঁত-রেশম বস্ত্র, হাতি, কাঠ, গালা অথবা পান-সুপুরিরমত বাঙলা-বিহারের আফিমও ছিল বিশ্বের সেরাতম রপ্তানি দ্রব্য। বিশ্ববাজারে তার দাম অত্যন্ত চড়া। সমগ্র উনবিংশ শতক ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য চিনে বাঙলা-বিহারে উত্পন্ন দামি অবৈধ আফিম সরবরাহ করত – অবৈধ কেননা চিন সম্রাট এই ব্যবসা স্বীকার করতেন না, ব্রিটিশেরা বলপ্রয়োগে এই বাণিজ্য সাধণ করত। এই অবৈধ বাণিজ্যই ছিল তত্কালীন ব্রিটিশ শাসিত ভারত সরকারের সবথেকে দামি বৈদেশিক বাণিজ্য। ১৭৯৭তে ভারতের জনগণমনঅধিনায়ক হয়ে এলেন কর্নওয়ালিস। হেস্টিংসএর সময় থেকে চলে আসা বেসরকারি উদ্যোগে আফিম চাষ আর আফিম তৈরির নীতি থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে ঠিক হল, ভারতে আগামীদিন থেকে আফিম তৈরি করবে ভারত সরকার অর্থাত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি স্বয়ং। অর্থাত ব্রিটিশ ভারতে নুনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়করণ করে নেওয়া হল আফিম উত্পাদন এবং ব্যবসা। ভারতের বাঙলা, বিহার এবং পূর্ব-উত্তরপ্রদেশের নির্দিষ্ট কয়েকজন চাষীর সঙ্গে সরকারি লেখাপড়ায় বন্দোবস্ত করে বছরে নির্দিষ্ট পরিমান আফিম তৈরি হতে শুরু করল। গাঙ্গেয় সমভূমিতে চুক্তিবদ্ধ আফিম চাষীর থেকে সরকার নির্দিষ্ট দামে চাষ করা আফিম কেনার চুক্তি হল। চিনের সঙ্গে অবৈধ এই ব্যবসায়ে ঘোরতর লিপ্ত কেম্পানি ফতেয়া দিল সরকারি ফরমানের বাইরে যে চাষী আফিম চাষ করবে তার চাষ অবৈধ ধরে নেওয়া হবে এবং সেই চাষীকে সরকার সাজা দেবে।
চাষের সময় দাদন দেওয়া চাষীর কাছ থেকে শুকনো আফিম রস কোম্পানি কিনে নিয়ে, সরকার নিয়ন্ত্রিত কারখানায় এক কেজির এক একটি গোলা তৈরি করা হত। চল্লিশটা গোলা নিয়ে তৈরি হত একটি চেস্ট। প্রত্যেকটি চেস্ট এবার চলে যেত কলকাতায় আফিম বাজারে নিলামের জন্য। পূর্ব ভারতে আফিম তৈরির পরিকাঠামো ছাড়াও সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত ভারতের বাইরে ব্রিটিশ অভয়হস্তের নিচে থাকা রাজন্য শাসিত উত্তর-পশ্চিম রাজ্যগুলো থেকে আফিম তৈরির পরিকাঠামো তৈরি হল, যাকে তত্কালীন কোম্পানি কাগজপত্রে মালওয়া অথবা মালব আফিম বলা হচ্ছে। বাজারের আফিমের সরবরাহ আর চাহিদার তুল্যমূল্য অঙ্ক কষে ব্যক্তিগত উদ্যমীরা চাষীদের দাদন দিয়ে চাষ করাতেন। এদের দুটিস্থানে বড় ধরণের কর দিতে হত, প্রথমটি যে রাজ্যে তৈরি হচ্ছে, আর দ্বিতীয়টি রাজ্যটি ছেড়ে বেরোবার পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে প্রবেশ পথে আরও একবার। এই পাশ ফি ছিল ব্যবসায়ীটির বম্বের বন্দর থেকে আফিমটি চিনের উদ্দেশ্যে রওনা করানোর ছাড়পত্র। সেই আফিম চিনে বিক্রি করে চিন বাণিজ্যের উদ্বৃত্ত তৈরি করতে হবে। এই পরিকল্পনা অনুসারে ভারতের আফিম চাষীদের সঙ্গে সমঝোতা করে যথেষ্ট বেশি আফিম তৈরির পরিকল্পনা হল। ভারতীয় দালালদেরমত চিনেও এই আফিম ব্যবসার ইংরেজদের সহযোগী ছিল হং ব্যবসায়ীরা।
ভারতে আফিম স্বাধীণতা সংগ্রামের পরে সরাসরি সরকারি পরিকাঠামো সম্বল করে, জনগণের দেয় খাজনার অর্থে যে কোম্পানি সরকারের আফিম উত্পাদন পরিকাঠামো গড়ে উঠল বাঙলা-বিহার-উত্তরপ্রদেশ জুড়ে, সেই কাঠামোকে ভিত্তি করেই প্রাথমিকভাবে কিন্তু গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চিনে অবৈধ আফিম সরবরাহ করার অতি লাভের পারানি। বিহারের পাটনা অঞ্চলে সরকারি নজরদারিতে ব্রিটিশদের চিনের ব্যবসা বছরের পর বছর বাড়তে থাকে। চিন থেকে ইংলন্ডে চা রপ্তানি ১৭০০তে ৯২,০০০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৭৫১তে ২৭ লক্ষ পাউন্ডে দাঁড়াল। ১৮০০তে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চিন থেকে ২কেটি ৩০ লক্ষ পাউন্ড চা কিনতে খরচ করতে হত ৩৬ লক্ষ পাউন্ড রূপো।
বাঙলার রূপো আনা বন্ধ হয়েছে এবং চিনেও যেনতেনপ্রকারেণ চা ব্যবসা বন্ধ না করে রূপো নিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে চাইল ব্রিটিশ সরকারের বকলমে কোম্পানি। ১৭৯৩তে ব্রিটেন চিনে জর্জ ম্যাকার্টনিকে দূত হিসেবে পাঠাল। ম্যাকার্টনি পশ্চিমি প্রযুক্তির তৈরি সর্বশ্রষ্ঠ জিনিষপত্র দিয়ে সম্রাটকে প্রভাবিত করতে চাইলেন এবং ইংলন্ড-চিনের ব্যবসাকে নতুন ভাবে দেখতে আর্জি জানালেন। তখনও শিল্প, শিল্পিয় প্রযুক্তি আর শিল্প সৌকর্যে শিশু রাষ্ট্র ব্রিটেন তার সেই উপহারে সম্রাটকে প্রভাবিত করতে পারল না এবং ম্যাকার্টনির সমস্ত দাবি খারিজ হয়ে গেল। এর পরেও আরও একবার ব্রিটেন চেষ্টা করেছিল আফিম ব্যবসা নিয়ে সমঝোতা করার কিন্তু চিনের সম্রাট সেই দৌত্য খারিজ করে দেন।
ইতোমধ্যে ভারতীয় কয়েক হাজার বছরের ভারতের পরীক্ষিত সমুদ্রপোত প্রযুক্তি এবং ভারতীয় হাল্কা কাঠ দিয়ে লন্ডনে তৈরি হল ক্লিপার জাহাজ। সহজে বাতাস কেটে বেরোবার জন্য সরু ডেক, বড় হাল এবং বহু মাস্তুল ওয়ালা ক্লিপারগুলি সহজে তাড়াতাড়ি এবং অনেকবেশি বহন করে নিয়ে যেতে পারত বহু পণ্য দ্রব্য, এবং আফিমও। নতুন করে জমে উঠল ইংরেজদের চিনে আফিম পাঠানোর অবৈধ ব্যবসা। এবার একটি ওপিয়াম ক্লিপার জাহাজ, বছরে দুটি বাণিজ্য(যদি একে বাণিজ্য আখ্যা দেওয়া যায়) যাত্রা করতে পারত, ফলে আরও বেশি লাভ, আরও বেশি অবৈধ বাণিজ্য।
দিনে দিনে শশীকলাপ্রায় বেড়েছে চিনে ইংরেজ শাসনের অবৈধ আফিম সাম্রাজ্য, চিন সম্রাটের নাকের ডগা গিয়েই। কর্নওয়ালিশ ভারতে আসার আগে আগেই ১৭৯০ সালে চিনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবৈধ আফিম রপ্তানি ছিল চার হাজার চেস্ট। ১৮২০তে কর্নওয়ালিশের সরকারি নীতির ফলে এই পরিমান বেড়ে দাঁড়াল প্রায় দুগুণের কাছাকাছি। ত্রিশের দশকে সেই রপ্তানি আরও বাড়তে শুরু করল এবং ১৮৩৪এ কোম্পানির ভারত বাণিজ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আরও বেশি করে আফিম অবৈধ আফিম ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে শুরু করল। তবুও চিনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যক্তিগত উদ্যোগে আফিম ব্যবসা শেষ হল না। চিন সম্রাটও এই বাণিজ্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করায় প্রথম আফিম যুদ্ধ বাধাল ইংরেজ সাম্রাজ্যশক্তি। প্রথম আফিম যুদ্ধের আগে প্রায় ইংরেজ রাজশক্তি বছরে ভারত থেকে প্রায় ৪০,০০০ চেস্ট রপ্তানি করত। ব্রিটিশদের হিসেবে সেসময় চিনে কম করে এক কোটি আফিম সেবী রয়েছে যার মধ্যে ২০ লক্ষ আফিম মৌতাতে পুরোপুরি আসক্ত।

এ প্রসঙ্গে আর একটি উত্তেজকর তথ্য দেওয়া যাক, ১৮০০ থেকে ১৮৩৯ সালের মধ্যে আমেরিকার ব্যবসায়ীরা চিনে সরবরাহ করেছিল দশ হাজার চেস্ট আফিম। এবার ভারত থেকে অবৈধ আফিম রপ্তানির লেখাজোখা ১৭৭৩এ ১০০০ চেস্ট, ১৭৯০তে ৪০০০ চেস্ট, ১৮২০র দশকের আগে ১০,০০০ চেস্ট, ১৮২৮এ ১৮,০০০ চেস্ট, ১৮৩৯এ ৪০,০০০ চেস্ট, ১৮৬৫তে ৭৬,০০০ চেস্ট, ১৮৮৪তে ৮১,০০০ চেস্ট। ১৮৮১তে এই রপ্তানি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছয়(সূত্র চাইনিজ রাউন্ডএবাউট, জনাথন স্পেন্স)। তবে প্রথম আফিম যুদ্ধ করেও ব্রিটিশরা চিনে আফিম ব্যবসাকে চিনে বৈধতা দিতে পারেনি। তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৮৫৬-১৮৬০এর ব্রিটেন-ফ্রান্সএর যৌথ দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে বেজিং দখল করা পর্যন্ত। ১৮৮০ পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের সবথেকে দামি রপ্তানি ছিল আফিম। সে সময় চিনে, প্রায় দেড় কোটি আফিমখোরদের চাহিদা মেটাতে রপ্তানির পরিমান ছিল চুয়ান্ন হাজার মেট্রিক টন। প্রথমে অবৈধ পরে গায়ের জোরে যুদ্ধ করে বৈধতা দেওয়া আফিম ব্যবসায় প্রত্যক বছর নয় কোটি তিরানব্বই লক্ষ রূপো টাকা আসত ভারত সরকারের সিন্দুকে, বৈদেশিক মোট রপ্তানির ১৬শতাংশ।