Showing posts with label CPM. Show all posts
Showing posts with label CPM. Show all posts

Wednesday, July 31, 2013

বিশ্বায়নের গুরু সিপিএম এবং কংগ্রেস বুঝতে পারছে না তৃণমূল ২০১৩র ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় একতরফা জিতল কেন২? Why bolt from blue in 2013 Panchayat Election in West Bengal! Is It unbelievable? For us it is not. Low-intelligent organizers like us, who used to fight against Globalization, could understand. A synopsis of analysis2

এবারে মূল বিষয়
বাঙলায় সিপিএম বিশ্বায়নের বাঙালি দালাল গ্রামীণেরা বুঝে গেছেন বুদ্ধবাবুকে দেখে। তার ধাক্কা খেল সিপিএম।
২১/৬/১৩র আনন্দ বাজার পত্রিকার দু স্তম্ভের প্রতিবেদন, শহরের জমি দখল রাখার ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে বনিক সভা লবি করবে। ববি মমতা এই কাজে সংগ দেয় নি বলে তাদের গলা কাটা হয়েছে এবিপিতে, ২৪ ঘণ্টায়, বনিক সভায়। রোজ রাতে, প্রত্যেক মিটিঙে। গারডেনরিচতো ছুতোমাত্র। জমি বেচু সিপিএম, বুদ্ধবাবুর সময় শহরের জমির ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে খুব চেষ্টা করেছিল। যাতে বাকি বন্ধ কারখানাগুলো তুলে দিয়ে, বস্তি উচ্ছেদ করে প্রোমোটারদের থেকে কামাই করা যায়। পারেনি। ফবর বিরুদ্ধে লড়াই করে মেট্রোকে, স্পেন্সারকে বাংলায় ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছে। আরএসপির বিরুদ্ধে লড়ে কেমিকেল হাব প্রায় বানিয়েই ফেলেছিল। ফবর বিরুদ্ধে গিয়ে এপিএমসি আইন বদল প্রায় হয়েই গিয়েছিল। শুধু ফ্রন্ট বেচারা হেরে গেল বলে, আর শরিকেরা দালালি করতে করতে, কিছুটা মুখ বাঁচাতে লড়াই করল বলে। 
সিপিএমের আমলেই তৈরি হয়েছে এমন আইন, যাতে হকারি করে ধরা পড়লে ৬ মাসে বিনা বিচারে জেল হয়। বেল মিলবে না। ধর্ষণ করলে, খুন করলে বেল হবে। হেরে না গেলে ম্যাকিনসেকে দিয়ে চুক্তি চাষের কৃষি নীতি প্রয়োগের জন্য তৈরি হয়েই গিয়েছিল। জ়েনেটিক বীজ নিয়ে মনসান্তো বাঙলায় পা রেখেছিল তাদেরই আমলে। কোকাকোলা আর পেপসিও। গনশক্তিতে বিজ্ঞাপন ছিল গোটা এক পাতা জোড়া। ভুলে গেলেন? বাংলার মানুষ ভোলেনি, পঞ্চায়েতের ফল তার প্রমান। 
এমের বড় কৃষক নেতা, জয়া মিত্রদিদিকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন আপনারা চাষাকে চাষাই রাখতে চান। আমরা চাকরি দিতে চাই। তার উন্নয়ন চাই। কলকাতা টিভিতে সেই বিখ্যাত কথা-বারতার এখনও রেকরডিংটি থাকলেও থাকতে পারে। ইতিহাস লিখতে কাজে লাগবে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত একদিকে গৌতমএর ক্যাডার একদিকে বুদ্ধএর পুলিসকে সম্বল করে গ্রাম তুলে, চাষ তুলে, চা বাগান তুলে, গ্রামের মানুষকে বন্দুক আর ক্যাডারের গুঁতোর সামনে ফেলে, বাংলাজুড়ে নতুন নতুন শহরীকরণএর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছিল। গ্রামের মানুষ ভোলেনি। ভোলেনি নন্দীগ্রামে বড় পুঁজির দালালি করে কেমিকেল হাব, সিঙ্গুরে টাটার দালালি করে ন্যানো, চাঁদমনিতে চা বাগানের মালিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রোমোটারিরাজ কায়েম করা, মহম্মদবাজারে খাদান মালিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আদিবাসীদের বিরুদ্ধে জোটকরা। নন্দীগ্রামের আন্দোলন তৃণমূল ভুলেছে, দলাদলি করেছে। সেখানের মানুষ তাকে এই ভোটে চোখ রাঙ্গানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। লোবাতে জিতলেও অস্বস্তি রয়েছে।
জেএনএনয়ুআরএমের সব থেকে বড় সমালোচক আর একই সঙ্গে খাতক ছিল বামফ্রন্ট, যে প্রকল্প শহরের গরিবের জমি কেড়ে নিয়ে কর্পোরেটদেরকে দেওয়ার জন্য তৈরি আমেরিকার ছক। সেই ছকের বাংলার দালাল সিপিএম। এখন তৃণমূলএর অনেক নেতা। মমতা অনেকটা আটকেছেন। মানুষ কিন্তু দেখছে। 
জরুরী অবস্থায় সিআরপিএফএর ধারনার বিরুদ্ধে লড়াই করা বামফ্রন্ট, তাদের বাঙলায় সাদরে নিয়ে এল। যাতে কোলগেট থেকে কোটিকোটি টাকা কামানো জিন্দালেরা, ব্রিটিশদের সঙ্গে মিলে আফিম ব্যাবসা করে পুঁজি জোগাড় করা টাটারা বাঙলা লুঠতে পারে। গ্রাম তুলে নতুন বিমান বন্দর, নতুন স্বাস্থ্য শহরের(মানে কি??)ও পরিকল্পনা করেছিল। প্রায় প্রত্যেকটা নীতির বিরুদ্ধে দিল্লিতে ধরনা দিয়েছে, দেশজুড়ে আন্দোলন করেছে, টিভিতে বকবক করেছে দ্বিচারী সিপিএম। এত সহজে ভুলেগেলে হবে কমরেড? আমরা কিন্তু সহজে ভুলিনি, গ্রামের মানুষও ভোলেন নি। তাই পঞ্চায়েতে ঢেলে দিয়েছেন তাঁকে।
মমতা খুচরো বাজারে বাঙলায় এফডিআই আসতে দেন নি। মমতা বাঙলায় একটাও এসইজেড হতে দেন নি। সিপিএম এসইজেড করে গিয়েছে একের পর এক - সল্ট লেক যান, নিউ টাউনে যান। দেখবেন। মমতা বড় শিল্পএর বিরুদ্ধে। সরাসরি। 
মমতা বড় বড় রাস্তা হতে দিচ্ছেন না বেশি। মনে নেই উত্তরবঙ্গ গেলে রাস্তা চওড়া না হওয়ার জন্য কেমন করে মমতার শাপশাপান্ত করি! বাংলার বাইরে তৈরি হওয়া রাজপথ দিল্লি-মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের বিরোধী। কিন্তু বাংলায় সেধরণের একটি চাই। কি বিপ্লবীপনা! রাস্তা বড় হয় নি, চওড়া হয় নি, আমেরিকারমত হয় নি! বেশ হয়েছে। আর কত কর্পোরেট দালালি করবেন কমরেড! একবার নিজের ভেতরে ঢুকে দেখুন। পঞ্চায়েততো হাতছাড়া হল। শুধু আর দুটো জেলায় ঘাড় ধাক্কা খেতে বাকি।
এই বিষয়গুলো নিয়ে ২৪ ঘণ্টা, আবাপ কি চায়, সিপিএম কি চেয়েছে, আমরা পিছিয়ে পড়ারা, সকলেই জানি। সিপিএমকে ঘোমটার আড়ালে, ক্যামেরার সামনে গ্রামের জনগণকে বোড়ে করে বিভিন্ন ভাবে মমতাকে প্রভাবিত করতে চেষ্টা করছেন। যেভাবে ন্যানোর সময়, নন্দীগ্রামের সময় চেষ্টা করেছিল। স্বভাবমত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন। মাঝে মাঝে মাথার পোকা নড়েওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে যা বলার নয় তাই বলেন। বেশ করেন। সুভদ্র ভাষায়, সাদা ধুতিতে, সুন্দর মুখে মানুষ খুন, বামপন্থী মুখোশ পরে কর্পোরেট দালালি ৩৪ বছরে অনেক দেখেছি। মমতার সেই ঘোমটা নেই। মমতা এখনও পর্যন্ত প্রভাবিত হন নি।  এইটুকুই আশ্বাস।
আবাপ, ২৪ ঘন্টা ঘুটি সাজাচ্ছে। তারা ভেবেছিল, হয়ত সিপিএমের থেকে বড় উন্নয়নবাজ হবেন মমতা। তাদের বাড়া ভাতে চাই পড়েছে। গ্রামের ঘাড়ে হাত দিয়ে তাই আবার সিপিএমের ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। বড় পুঁজিও চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুএকবার দেখা করে গিয়েছেন। হিলারিও চেষ্টা করছেন। এডিবির ঋনের টোপও দেওয়া হচ্ছে। মমতাকে নাড়ানো যাচ্ছেনা বিন্দুমাত্র। সিপিএম ক্ষমতায় এলে এগুলো করবেই করবে। কায়দা করে। বামপন্থী মধ্যবিত্তের উন্নয়নের ঘোমটা পরিয়ে। আর আমরা যারা জনগন, যারা পিছিয়েপড়া তারা ....৩৪ বছরএর বামপন্থী ফান্দা আর ডাণ্ডা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাব কমরেড??? গ্রামের সর্বংসহা মানুষেরা ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএমকে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। তার পর ২০১৩র পঞ্চায়েতে ঘাড়ধাক্কা। 
পঞ্চায়েতের সন্ত্রাস নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন! কোথায় ছিলেন কমরেড, যখন দুবরাজপুরে লড়াই করা সাঁওতাল যুবক-যুবতীদের খাদান মাফিয়ারা পুলিস দিয়ে পেটাচ্ছিল, আর সিপিএম আদিবাসী আর মুসলমানদের মধ্যে কৌশলে দাঙ্গা লাগাবার চেষ্টা করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন মরিচঝাঁপিসহ হাজারো গণহত্যা হয়েছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন জন মেজর কলকাতায় এলে কলকাতা আর বাংলাজুড়ে রাতের আঁধারে হকার উচ্ছেদ আর দোকান লুঠ  হয়েছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন কলকাতার খালপাড়গুলোতে সংস্কার উন্নয়ন আর সৌন্দর্যায়নের নামে পুলিস, ক্যাডার লাঠি আর বন্দুক ঘুরিয়ে ঝুপড়ি তুলে বহ্নুমহোৎসব করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন ডিএফাইডির ৮০ কোটি টাকা দান নিয়ে রুগ্ন কারখানার শ্রমিকদের, কারখানা থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে, সেই জমি প্রমোটারদের বেচে দিয়ে নিজের আর পার্টির তবিল বাড়ানোর কাজ করছিলেন? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন রাজারহাটে, বরধমানে, জলপাইগুড়িতে কৃষকদের  ভিক্ষেমুষ্টি দিয়ে, পুলিসের জল কামান লেলিয়ে কিছু জলা, আর অধিকাংশ উর্বর জমিগুলো কেড়ে, চা বাগানের শ্রমিকদের উছেদ করে প্রমোটারদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন সারদারা, টাওয়ারেরা জেলা থেকে মুঠি মুঠি টাকা তুলছিল আর আপনাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সেই তোলা টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা দান নিয়ে সমাজ সেবা করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন এপ্রিল ১৩য় এডিবি দিল্লিতে এজিএম করছিল, মানুষ উচ্ছেদের জন্য উন্নয়নের টাকা বরাদ্দ করছিল আর দিল্লি বা দেশ সে খবর জানতেই পারে না। কি আন্দোলন করেছিলেন তখন? বড় পুঁজি খেপে যাবে তাই চুপ? আর সব নানান কাণ্ড ঘটনা এর আগে বহুবার বলা হয়েছে, নতুন করে বলার  নেই, স্মৃতি জেগে উঠবে, চোখ জলে ভেসে যাবে। সিপিএম এখনও চিনের, ইউরোপের, আমেরিকার দেখানো পথের মত করে উন্নয়ন চায়। ইয়িচুরিবাবু ছত্তিসগড়ে তাইই দাওয়াই দিয়েছেন। বাংলার মানুষ কি রায় দিয়েছেন তা স্পষ্ট।
মমতা বামপন্থীদেরমত ইউরোসেন্ট্রিক নন। এলিট নন। আজকের দিন পর্যন্ত এটাই ভরসা। বাংলার মানুষ তা জানে। তাই এই ফল। এ ফল অপ্রত্যাশিত নয়। অভাবনীয়ও নয়।

তবে মমতা যদি কোনোদিন সিপিএমের পথে হাঁটতে চান তাহলে, আজ সিপিএমের যা হয়েছে, বুদ্ধবাবুর যা হয়েছে, তার আর তার দলের তাই হবে। আমাদের ধারণা এই তথ্যটুকু মমতা আজকে অন্ততঃ জানেন। কাল কি হবে? জ্যোতিষী বা সমাজতাত্বিকদের জিজ্ঞেস করুন।

Tuesday, July 30, 2013

বিশ্বায়নের গুরু সিপিএম এবং কংগ্রেস বুঝতে পারছে না তৃণমূল ২০১৩র ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় একতরফা জিতল কেন১? Why bolt from blue in 2013 Panchayat Election in West Bengal! Is It unbelievable? For us it is not. Low-intelligent organizers like us, who used to fight against Globalization, could understand. A synopsis of analysis1

বিশ্বায়নের মিত্র সিপিএম, আর তাদের বিশ্বায়ন ভাবনার গুরু কংগ্রেস এবং বাংলার সংবাদ মাধ্যমেরা পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিজয়ে হয় নিঝুম, বা পাগল, নাহলে বুঝভুম্বুল। কেউই সম্যক বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন এই ঘটনা ঘটল। সিপিএম ছাড়া গ্রামবাংলায় অন্য কোনও দল পা রাখতে পারে এই ধারনাটাই বিগত ৩৪ বছরে লোপ পেয়ে গিয়েছিল। পূর্বমেদিনীপুর আর মুর্শিদাবাদ দুটি ব্যতিক্রম ধরে নেওয়া হত।

কেন? কেন? কেন?
এমন কেন ঘটল? যারা বাংলার রাজনীতির একটুও খবর রাখেন, তারা কি গত কয়েক বছরের ইতিহাস ভুলে গেলেন? সত্যিই বাংলার ২০১৩র পঞ্চায়েতের ফল আকস্মিক? বিশ্বায়নের উচ্চমেধার পৃষ্ঠপোষক আবাপও মেনে নিতে পারছে না। আমরা যারা নিম্নমেধার মানুষ, যারা তথাকথিত অজ্ঞ, সামন্ততন্ত্রে ডুবে থাকা, উৎসাহহীন, ইতিহাসের বোধহীন, চাহিদাহীন গ্রামীণদের দৈনন্দিনের রাজনীতির(দলীয় নয়) সঙ্গে জুড়ে থাকি, যারা সংগঠন করি বিশ্বায়নের প্রতিভূ এবং তাদের সিপিএম-কংগ্রেসএর ঘোমটা পরা ভারতীয় দালালদের বিরুদ্ধে, তারা হয়ত আন্দাজ করছি, বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক কিছু ঘটনাক্রম ঘটে চলেছে বাংলার গ্রামেগঞ্জে। সেই ঘটনাক্রমকে কেউ কেউ হয় জেনে বুঝে নজ়র-আন্দাজ় করছেন, নয়তবা গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করছেন না।  সেগুলোর কয়েকটিমাত্র আমরা এখানে তুলেধরার চেষ্টা করব।  মুখড়া হিসেবে দু-তিনটি বিষয় আলোচনা করে মূল বিষয়টিতে যাব।

প্রথম। গ্রাম বাংলা জুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাসএর বাতাবরণের অভিযোগ। ভারতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিওয়ালারা ঘোরতর শাক্ত। সে বাম, ঘোরতর বাম, দক্ষিণ বা মধ্য, যে পন্থীই হোন না কেন। কেউই ধোয়া তুলসিপাতা নন। সুযোগ থাকলে জনগণের নামে পেশীশক্তি ফলান। যেমন বাম আমলে আধিকারী পরিবার বা বাম এবং তৃণমূল আমলে অধীর এবং শঙ্কর সিং। কিন্তু আমরা যারা সংগঠন করি, তারা বিশ্বাস করি, শুধু পেশি শক্তি দিয়ে ক্ষমতা রিগ করে টিকে থাকা যায় না। পেশি শক্তি ফলাতে জোরদার সংগঠন চাই - শুধু পুলিস আমলা দিয়ে হয় না। বিশ্বের ইতিহাস প্রমান। বামেদেরও পক্ষে প্রবল জনমত ছিল। ৪০-৫০ শতাংশের কাছাকাছি। শুধু রিগিং করে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা যায় না। মমতা বা তার দলকে শুধু দোষ দিয়ে লাভ নেই। সবার বগলে ঘেমো গন্ধ। যখন সমর্থন চলে যেতে থাকে, ক্ষমতাধারীরা বগল চাপা দিয়ে গন্ধ আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পারা যায় না।

দ্বিতীয়তঃ বিপুল সংখ্যক আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা। এ বিষয়ে একটাই উত্তর। ১৯৭৮এর পর ২০১৩র আগে কত সংখ্যক আসন ফ্রন্ট ভোট করার আগে লড়াই না করে জিতত! সে হিসেবটা নেওয়া দরকার। শুধু তৃণমূলে দোষ চাপিয়ে লাভ কার! গতবারের বর্ধমান। পঞ্চায়েতে ৪৫৭টা আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল ফ্রন্ট। সিপিএম একাই ৪১৯; উচ্ছিষ্ট পেয়েছিল সিপিআই ২০, আরএসপি ৬, ফরওয়ার্ড ব্লক ১০, অন্যান্য ২। একটাও তৃণমূল জেতেনি। এবার উল্টো ফল। গতবারের সকলেই উচ্ছিষ্ট। আগের পঞ্চায়েতের ফলগুলো লক্ষ্য করলে তাইই হয়ত দেখা যাবে। শুনছিলাম ১৯৭৮এর পঞ্চায়েতে অনেক জেলায় নাকি কংগ্রেসএর আসন প্রায় শূন্য ছিল। পঞ্চায়েত-ঘাঁটা আমলা দেবুবাবু বলছেন, বাংলা জুড়ে ১৯৮২তেও সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার মত সংগঠন ছিল না সিপিএমের, সেইজন্য অন্য দলের সংগঠন দখল করতে হয় সিপিএমের। সেই ট্র্যাডিশন তৃণমূল ধরে রেখেছে। যে রাজনীতির খেলা ফ্রন্ট শুরু করেছে, সেই রাজনিতিতেই তাদের নিয়মে খেলে, তাদেরই পরিষ্কার ১০ গোলে হারিয়েছে তৃণমূল ২০১৩র ভোটে।(http://bardhaman.nic.in/election/pan_result08/gpview_uc.asp)  

তৃতীয়তঃ দুবছরের এত আন্দোলন বিফলে গেল? কিসের আন্দোলন কমরেড? আন্দোলনতো বাংলার শহর জুড়েও হয়েছে বলা যাবেনা। শঙ্খ বাদনে শুধুই কলকাতা কেঁপেছে। গাড়ি বোঝাই করে গ্রামএর মানুষকে দুই রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাতে বামপন্থীদের শহরভিত্তিক আন্দোলন আন্দোলন খেলার অহং পরিপূর্ণ হলেও, গ্রামের রাজনীতির কী এসে গেল? মমতা শুধু শুধু আবাপর খেলায় উত্তেজিত হচ্ছিলেন। শক্তিমান ঘোষ মনে রাখতে পারেন, তার সঙ্গে ঠিক এই লাইন ধরে আলোচনা করেছি হাওড়া নির্বাচনের আগে ও পরে।
আর অম্বিকেশ? পার্ক স্ট্রিট? ছাত্র নেতার মৃত্যু? শহরে কোনও সরকারি প্রেক্ষাগৃহে মিটিং করতে গেলে পুলিসের অনুমদন লাগবে? সব কটিই হয়ত খুব খুব খুব খারাপ। কিন্তু তাতে গ্রামের মানুষের কি এসে গেল? গ্রাম ইন্সটলমেন্টে আন্দোলনএর খেলা করে না। যখন করে তখন, হয় নন্দগ্রাম, নয় সিঙ্গুর, বা ১৯৭৭ বা ২০১১ হয়। গ্রাম জানে এসবই মধ্যবিত্তের শহরভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে মুখ দেখাবার রাজনীতি। আর ৪০,৫০,৬০, ৭০ হাজারি সরকারি আর সওদাগরি আপিসের আগুন খেকো বাবুদের নেতাদের আর বাড়িতে বউদের সামনে মহান সেজে মুখ বন্ধ রাখা। আর সঙ্গে আপিসে মাইনে বাড়াবার আন্দোলন জোরদার করার জন্য নামী নেতাদের নিয়ে এসে পরিচালকদের ওপর চাপ বাড়াবার অন্যতম কৌশল। আর বাড়তি পাওনা, সংবাদ মাধ্যমে এসে রাজা উজির মারা। এ ফন্দিফিকির গত ১৫ বছরে অনেক দেখেছে গ্রাম।
যখন বীরভূমের খাদান মালিকেদের সঙ্গে মিলে গ্রামের পর গ্রাম দখল করেছিল দল নির্বিশেষে নেতারা, তখন কি করছিলেন আগুন খেকো শহুরেরা? তারা তাদের পাশে দাঁড়ান নি। বিপ্লবীরা কলকাতায় একটাও মিটিং করেন নি। বর্ধমান, রাজারহাট, চাঁদমনিতে জমি লুঠ হচ্ছিল, তখন সেখানে কে কোথায় কত টাকার ফ্ল্যাট কিনবেন, তার লটারিতে অংশ নিতে অফিসে, স্কুলে, কলেজে মাথার চুল ছিঁড়ছিলেন। ব্যাঙ্কে কত আছে, কত সুদ আর কত ইএমআই পড়বে তাই নিয়ে অঙ্ক কষছিলেন। শহরের মানুষের ওপর আঘাতের নানান ঘটনায় কি এসে গেল গ্রামের? শহরের পাশে সংবাদ মাধ্যম আছে, নানান সংগঠন আছে, উপরন্তু মানবাধিকার কমিশন আছে। গ্রামে আন্দোলন শুরু করতে হয় একা একা, পুলিস, ক্যাডারএর মার খেয়েই। গ্রাম জানে, তাদের চামড়ার ডুগডুগি বাজিয়ে, ন্রেগা প্রকল্পের লেবেঞ্চুস দিয়ে সরকারি চাকুরে বাবুরা নিজেদের মাইনে যাচ্ছেতাই পরিমাণ বাড়িয়ে নিলেন। বাড়িতে দুজন সরকারি চাকুরে মানে বড়লোক - ১ লাখের কাছাকাছি বা ওপরে রোজগার। একজন রোজগেরে মানে, মাসে অন্ততঃ ২০ হাজার টাকা। হাতের নাগালেই গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ। অফিস কেটে আন্দোলন আন্দোলন খেলায় রাতে মোবাইলে নেতার আর গৃহিণীর পিঠ চাপড়ানি।
কংগ্রেসেরমতই বামপন্থীরা উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন বেশি, করেছেনও অনেক। তারা মল সংস্কৃতিকে বাহবা দিয়েছেন। কলকাতায় কোল দিয়েছেন। উন্নয়নের কোল্যাটারাল ড্যামেজ বিষয়ে তাদের আবার বিবেক দংশন কম। তারা আজ বড্ড নেহরুর সমর্থক। বাজারে জিনিষের দাম বাড়লে ৩০, ৪০, ৫০ থেকে ১০০ হাজারি সরকারি বামপন্থী আন্দোলনরত অধ্যা., আপিস, ম্যাস্টরবাবুরা পরের দিন ডিএ বাড়াবার জন্য তদ্বির-আন্দোলন করে, বাড়ি ফেরার পথে ১০০০ টাকার ইলিশ কেনেন- এই জেনেই, বাজারে দাম বাড়ার পেছনে তাদের মাইনে বাড়ারও একটা অবদান আছে। তাদের জীবনযাত্রা ভাল হল। ছেলে মেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়িয়ে কর্পোরেট যোগ্য করলেন। তাতে গ্রামের মানুষের কি? বরং মাইনে বাড়ার ফল সইতে হচ্ছে গ্রামীণদের। ২০, ৩০ হাজারিরা  শুধুমাত্র ন্যানো কিনতে পারবেন, তাই সিঙ্গুরের চাষিদের থেকে জমি কেড়ে নেওয়া হল। ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ হাজারিরা বর্ধমান, চাঁদমনি, রাজারহাটে কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনবেন, ১০ লাখি চার চাকা কিনবেন, তার জন্য উর্বর জমি, চা বাগান, কারখানাগুলো রুগ্ন করে কেড়ে নেওয়া হল। এগুলো গ্রামের মানুষেরা দেখছেন না? আমরা যারা নিম্নমেধার মানুষ, তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তারা আবার এতশত বুঝিনা। শুধু বুঝি গ্রামের মানুষেরা মন ঠিক করলে ২০১৩ বা ১৯৭৭ হয়।

Friday, June 21, 2013

A rally, Some thoughts - did you forgot some incidents of past comrade? একটা মিছিল আর কিছু ভাবনা - ভুলে গেলেন কমরেড?

ভাল... ভাল... এক দু জন ছাড়া সম্প্রতি আবাপ গোষ্ঠীর দিকে আঙ্গুল তুললেনা কেউই।

আজ(২১/৬/১৩) আবাপর দু স্তম্ভের প্রতিবেদন- শহরের জমি দখলের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে বনিক সভা লবি করবে। ববি মমতা এই কাজে সংগ দেয় নি বলে তাদের গলা কাটা হয়েছে এবিপিতে রোজ রাতে, গারডেনরিচ ঘটনায়।  বেচু সিপিএম শহরের জমির ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে খুব চেষ্টা করেছিল। পারেনি। ফবর সঙ্গে লড়াই করে মেট্রোকে, স্পেন্সারকে বাংলায় ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছে।

এপিএমসি আইন বদল প্রায় হয়েই গিয়েছিল। শুধু সে বেচারা হেরে গেল বলে। সিপিএমের আমলেই তৈরি হয়েছে এমন আইন, যাতে হকারি করে ধরা পড়লে ৬ মাসে বিনা বিচারে জেল হয়। বেলটি কিন্তু মিলবে না। ধর্ষণ করলে, খুন করলে কিন্তু বেল হবে। হেরে না গেলে ম্যাকিন্সেকে দিয়ে চুক্তি চাষের কৃষি নীতি প্রয়োগের জন্য তৈরি হয়েই গিয়েছিল। জ়েনেটিক বীজ নিয়ে মনসান্তো বাঙলায় পা রেখেছিল তাদেরই আমলে। কোকাকোলা আর পেপসিও। গনশক্তিতে বিজ্ঞাপন ছিল এক পাতা। ভুলে গেলেন?

এমের বড় কৃষক নেতা, জয়া মিত্রদিদিকে ব্যাঙ্গ করে বলেছিলেন আপনারা চাষাকে চাষাই রাখতে চান। আমরা চাকরি দিতে চাই। তার উন্নয়ন চাই। কলকাতা টিভিতে সেই বিখ্যাত কথা বারতার এখনও রেকরডিংটি থাকলেও থাকতে পারে। ইতিহাস লিখতে কাজে লাগবেই। তাই একদিকে গৌতমএর ক্যাডার একদিকে বুদ্ধএর পুলিসকে সম্বল করে গ্রাম তুলে, চাষ তুলে, চা বাগান তুলে, গ্রামের মানুষকে বন্দুক আর ক্যাডারের গুঁতোর সামনে ফেলে, বাংলাজুড়ে নতুন নতুন শহরীকরণএর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছিল।

জেএনএনয়ুআরএমের সব থেকে বড় সমালোচক আর খাতক ছিল বামফ্রন্ট। জরুরী অবস্থায় সিআরপিএফএর ধারনার বিরুদ্ধে লড়াই করা বামফ্রন্ট জঙ্গলমহলে তাদের সাদরে নিয়ে এল, যাতে কোলগেট থেকে কোটিকোটি টাকা কামানো জিন্দালেরা, ব্রিটিশদের সঙ্গে মিলে আফিম ব্যাবসা করে পুঁজি জোগাড় করা টাটারা বাঙলা লুঠতে পারে। গ্রাম তুলে নতুন বিমান বন্দর, নতুন স্বাস্থ্য শহরের(মানে কি??)ও পরিকল্পনা করেছিল। প্রায় প্রত্যেকটা বিষয়েই এই নীতিএগুলোর বিরুদ্ধে দিল্লিতে ধরনা দিয়েছে, দেশজুড়ে আন্দোলন করেছে, টিভিতে বকবক করেছে দ্বিচারী সিপিএম।

এত সহজে ভুলেগেলে হবে কমরেড? আমরা কিন্তু সহজে ভুলিনি, মমতা খুচরো বাজারে বাঙলায় এফডিআই আসতে দেন নি। মমতা বাঙলায় একটাও এসইজেড হতে দেন নি। সিপিএম এসইজেড করে গিয়েছে একের পর এক। মমতা বড় শিল্পএর বিরুদ্ধে। সরাসরি। মমতা বড় বড় রাস্তা হতে দিচ্ছেন না বেশি। এই বিষয়গুলো নিয়ে এবিপি কি চায়, আমরা পিছিয়ে পড়ারা, সকলেই জানি। সিপিএমকে ঘোমটার আড়ালে, ক্যামেরার সামনে নিয়ে গ্রামের জনগণকে বোড়ে করে তারা বিভিন্ন ভাবে মমতাকে প্রভাবিত করতে চেষ্টা করছেন, যেভাবে ন্যানোর সময়, নন্দীগ্রামের সময় করেছিল। মমতা এখনও পর্যন্ত প্রভাবিত হন নি। এইটুকুই আশ্বাস। তারা এবং ২৪ ঘন্টা ঘুটি সাজাচ্ছে। তারা ভেবেছিল, হয়ত সিপিএমের থেকে বড় উন্নয়নবাজ হবেন মমতা। তাদের বাড়া ভাতে চাই পড়েছে। গালে হাত দিয়ে তাই আবার সিপিএমের ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা। বড় পুঁজিও চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুএকবার দেখা করে গিয়েছেন। মমতাকে এবিষয়গুলো নিয়ে নাড়ানো যাচ্ছেনা বিন্দুমাত্র। সিপিএম ক্ষমতায় এলে এগুলো করবেই করবে। কায়দা করে। বামপন্থী মধ্যবিত্তের উন্নয়নের ঘোমটা পরিয়ে।

......৩৪ বছরএর বামপন্থী ফান্দা আর ডাণ্ডা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাব কমরেড??? কোথায় ছিলেন কমরেড, যখন দুবরাজপুরে লড়াই করা সাঁওতাল যুবক-যুবতীদের খাদান মাফিয়ারা পুলিস দিয়ে পেটাচ্ছিল, আর সিপিএম আদিবাসী আর মুসলমানদের মধ্যে কৌশলে দাঙ্গা লাগাবার চেষ্টা করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন মরিচঝাঁপিসহ হাজারো গণহত্যা হয়েছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন জন মেজর কলকাতায় এলে কলকাতা আর বাংলাজুড়ে রাতের আঁধারে হকার উচ্ছেদ আর দোকান লুঠ  হয়েছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন কলকাতার খালপাড়গুলোতে সংস্কার উন্নয়ন আর সৌন্দর্যায়নের নামে পুলিস, ক্যাডার লাঠি ঘুরিয়ে ঝুপড়ি তুলে বহ্নিমহোৎসব করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন ডিএফাইডির টাকা দান নিয়ে কারখানার শ্রমিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিয়েছিলেন? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন রাজারহাটে কৃষকদের  ভিক্ষেমুষ্টি দিয়ে, পুলিসের জল কামান লেলিয়ে কিছু জলা, আর অধিকাংশ উর্বর জমিগুলো কেড়ে নেওয়া হল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন সারদারা, টাওয়ারেরা জেলা থেকে মুঠি মুঠি টাকা তুলছিল আর আপনাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সেই তোলা টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা দান নিয়ে সমাজ সেবা করছিল? কোথায় ছিলেন কমরেড যখন একমাস আগে এডিবি দিল্লিতে এজিএম করছিল, মানুষ উচ্ছেদের জন্য উন্নয়নের টাকা বরাদ্দ করছিল আর দিল্লি বা দেশ সে খবর জানতেই পারে না। কি আন্দোলন করেছিলেন তখন? কেন বড় পুঁজি খেপে যাবে তাই? আর সব নানান কাণ্ড ঘটনা বহুবার বলা হয়েছে, নতুন করে বলার  নেই, স্মৃতি জেগে উঠবে, চোখ জলে ভেসে যাবে।

সিপিএম এখনও চিনের, ইউরোপের, আমেরিকার দেখানো পথের মত করে উন্নয়ন চায়। ইয়িচুরিবাবু ছত্তিসগড়ে তাইই দাওয়াই দিয়েছেন।

মমতা বামপন্থীদেরমত ইউরোসেন্ট্রিক নন। এলিট নন। আজকের দিন পর্যন্ত এটাই ভরসা।