Tuesday, July 30, 2013

বিশ্বায়নের গুরু সিপিএম এবং কংগ্রেস বুঝতে পারছে না তৃণমূল ২০১৩র ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় একতরফা জিতল কেন১? Why bolt from blue in 2013 Panchayat Election in West Bengal! Is It unbelievable? For us it is not. Low-intelligent organizers like us, who used to fight against Globalization, could understand. A synopsis of analysis1

বিশ্বায়নের মিত্র সিপিএম, আর তাদের বিশ্বায়ন ভাবনার গুরু কংগ্রেস এবং বাংলার সংবাদ মাধ্যমেরা পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিজয়ে হয় নিঝুম, বা পাগল, নাহলে বুঝভুম্বুল। কেউই সম্যক বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন এই ঘটনা ঘটল। সিপিএম ছাড়া গ্রামবাংলায় অন্য কোনও দল পা রাখতে পারে এই ধারনাটাই বিগত ৩৪ বছরে লোপ পেয়ে গিয়েছিল। পূর্বমেদিনীপুর আর মুর্শিদাবাদ দুটি ব্যতিক্রম ধরে নেওয়া হত।

কেন? কেন? কেন?
এমন কেন ঘটল? যারা বাংলার রাজনীতির একটুও খবর রাখেন, তারা কি গত কয়েক বছরের ইতিহাস ভুলে গেলেন? সত্যিই বাংলার ২০১৩র পঞ্চায়েতের ফল আকস্মিক? বিশ্বায়নের উচ্চমেধার পৃষ্ঠপোষক আবাপও মেনে নিতে পারছে না। আমরা যারা নিম্নমেধার মানুষ, যারা তথাকথিত অজ্ঞ, সামন্ততন্ত্রে ডুবে থাকা, উৎসাহহীন, ইতিহাসের বোধহীন, চাহিদাহীন গ্রামীণদের দৈনন্দিনের রাজনীতির(দলীয় নয়) সঙ্গে জুড়ে থাকি, যারা সংগঠন করি বিশ্বায়নের প্রতিভূ এবং তাদের সিপিএম-কংগ্রেসএর ঘোমটা পরা ভারতীয় দালালদের বিরুদ্ধে, তারা হয়ত আন্দাজ করছি, বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক কিছু ঘটনাক্রম ঘটে চলেছে বাংলার গ্রামেগঞ্জে। সেই ঘটনাক্রমকে কেউ কেউ হয় জেনে বুঝে নজ়র-আন্দাজ় করছেন, নয়তবা গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করছেন না।  সেগুলোর কয়েকটিমাত্র আমরা এখানে তুলেধরার চেষ্টা করব।  মুখড়া হিসেবে দু-তিনটি বিষয় আলোচনা করে মূল বিষয়টিতে যাব।

প্রথম। গ্রাম বাংলা জুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাসএর বাতাবরণের অভিযোগ। ভারতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিওয়ালারা ঘোরতর শাক্ত। সে বাম, ঘোরতর বাম, দক্ষিণ বা মধ্য, যে পন্থীই হোন না কেন। কেউই ধোয়া তুলসিপাতা নন। সুযোগ থাকলে জনগণের নামে পেশীশক্তি ফলান। যেমন বাম আমলে আধিকারী পরিবার বা বাম এবং তৃণমূল আমলে অধীর এবং শঙ্কর সিং। কিন্তু আমরা যারা সংগঠন করি, তারা বিশ্বাস করি, শুধু পেশি শক্তি দিয়ে ক্ষমতা রিগ করে টিকে থাকা যায় না। পেশি শক্তি ফলাতে জোরদার সংগঠন চাই - শুধু পুলিস আমলা দিয়ে হয় না। বিশ্বের ইতিহাস প্রমান। বামেদেরও পক্ষে প্রবল জনমত ছিল। ৪০-৫০ শতাংশের কাছাকাছি। শুধু রিগিং করে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা যায় না। মমতা বা তার দলকে শুধু দোষ দিয়ে লাভ নেই। সবার বগলে ঘেমো গন্ধ। যখন সমর্থন চলে যেতে থাকে, ক্ষমতাধারীরা বগল চাপা দিয়ে গন্ধ আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পারা যায় না।

দ্বিতীয়তঃ বিপুল সংখ্যক আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা। এ বিষয়ে একটাই উত্তর। ১৯৭৮এর পর ২০১৩র আগে কত সংখ্যক আসন ফ্রন্ট ভোট করার আগে লড়াই না করে জিতত! সে হিসেবটা নেওয়া দরকার। শুধু তৃণমূলে দোষ চাপিয়ে লাভ কার! গতবারের বর্ধমান। পঞ্চায়েতে ৪৫৭টা আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল ফ্রন্ট। সিপিএম একাই ৪১৯; উচ্ছিষ্ট পেয়েছিল সিপিআই ২০, আরএসপি ৬, ফরওয়ার্ড ব্লক ১০, অন্যান্য ২। একটাও তৃণমূল জেতেনি। এবার উল্টো ফল। গতবারের সকলেই উচ্ছিষ্ট। আগের পঞ্চায়েতের ফলগুলো লক্ষ্য করলে তাইই হয়ত দেখা যাবে। শুনছিলাম ১৯৭৮এর পঞ্চায়েতে অনেক জেলায় নাকি কংগ্রেসএর আসন প্রায় শূন্য ছিল। পঞ্চায়েত-ঘাঁটা আমলা দেবুবাবু বলছেন, বাংলা জুড়ে ১৯৮২তেও সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার মত সংগঠন ছিল না সিপিএমের, সেইজন্য অন্য দলের সংগঠন দখল করতে হয় সিপিএমের। সেই ট্র্যাডিশন তৃণমূল ধরে রেখেছে। যে রাজনীতির খেলা ফ্রন্ট শুরু করেছে, সেই রাজনিতিতেই তাদের নিয়মে খেলে, তাদেরই পরিষ্কার ১০ গোলে হারিয়েছে তৃণমূল ২০১৩র ভোটে।(http://bardhaman.nic.in/election/pan_result08/gpview_uc.asp 

তৃতীয়তঃ দুবছরের এত আন্দোলন বিফলে গেল? কিসের আন্দোলন কমরেড? আন্দোলনতো বাংলার শহর জুড়েও হয়েছে বলা যাবেনা। শঙ্খ বাদনে শুধুই কলকাতা কেঁপেছে। গাড়ি বোঝাই করে গ্রামএর মানুষকে দুই রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাতে বামপন্থীদের শহরভিত্তিক আন্দোলন আন্দোলন খেলার অহং পরিপূর্ণ হলেও, গ্রামের রাজনীতির কী এসে গেল? মমতা শুধু শুধু আবাপর খেলায় উত্তেজিত হচ্ছিলেন। শক্তিমান ঘোষ মনে রাখতে পারেন, তার সঙ্গে ঠিক এই লাইন ধরে আলোচনা করেছি হাওড়া নির্বাচনের আগে ও পরে।
আর অম্বিকেশ? পার্ক স্ট্রিট? ছাত্র নেতার মৃত্যু? শহরে কোনও সরকারি প্রেক্ষাগৃহে মিটিং করতে গেলে পুলিসের অনুমদন লাগবে? সব কটিই হয়ত খুব খুব খুব খারাপ। কিন্তু তাতে গ্রামের মানুষের কি এসে গেল? গ্রাম ইন্সটলমেন্টে আন্দোলনএর খেলা করে না। যখন করে তখন, হয় নন্দগ্রাম, নয় সিঙ্গুর, বা ১৯৭৭ বা ২০১১ হয়। গ্রাম জানে এসবই মধ্যবিত্তের শহরভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে মুখ দেখাবার রাজনীতি। আর ৪০,৫০,৬০, ৭০ হাজারি সরকারি আর সওদাগরি আপিসের আগুন খেকো বাবুদের নেতাদের আর বাড়িতে বউদের সামনে মহান সেজে মুখ বন্ধ রাখা। আর সঙ্গে আপিসে মাইনে বাড়াবার আন্দোলন জোরদার করার জন্য নামী নেতাদের নিয়ে এসে পরিচালকদের ওপর চাপ বাড়াবার অন্যতম কৌশল। আর বাড়তি পাওনা, সংবাদ মাধ্যমে এসে রাজা উজির মারা। এ ফন্দিফিকির গত ১৫ বছরে অনেক দেখেছে গ্রাম।
যখন বীরভূমের খাদান মালিকেদের সঙ্গে মিলে গ্রামের পর গ্রাম দখল করেছিল দল নির্বিশেষে নেতারা, তখন কি করছিলেন আগুন খেকো শহুরেরা? তারা তাদের পাশে দাঁড়ান নি। বিপ্লবীরা কলকাতায় একটাও মিটিং করেন নি। বর্ধমান, রাজারহাট, চাঁদমনিতে জমি লুঠ হচ্ছিল, তখন সেখানে কে কোথায় কত টাকার ফ্ল্যাট কিনবেন, তার লটারিতে অংশ নিতে অফিসে, স্কুলে, কলেজে মাথার চুল ছিঁড়ছিলেন। ব্যাঙ্কে কত আছে, কত সুদ আর কত ইএমআই পড়বে তাই নিয়ে অঙ্ক কষছিলেন। শহরের মানুষের ওপর আঘাতের নানান ঘটনায় কি এসে গেল গ্রামের? শহরের পাশে সংবাদ মাধ্যম আছে, নানান সংগঠন আছে, উপরন্তু মানবাধিকার কমিশন আছে। গ্রামে আন্দোলন শুরু করতে হয় একা একা, পুলিস, ক্যাডারএর মার খেয়েই। গ্রাম জানে, তাদের চামড়ার ডুগডুগি বাজিয়ে, ন্রেগা প্রকল্পের লেবেঞ্চুস দিয়ে সরকারি চাকুরে বাবুরা নিজেদের মাইনে যাচ্ছেতাই পরিমাণ বাড়িয়ে নিলেন। বাড়িতে দুজন সরকারি চাকুরে মানে বড়লোক - ১ লাখের কাছাকাছি বা ওপরে রোজগার। একজন রোজগেরে মানে, মাসে অন্ততঃ ২০ হাজার টাকা। হাতের নাগালেই গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ। অফিস কেটে আন্দোলন আন্দোলন খেলায় রাতে মোবাইলে নেতার আর গৃহিণীর পিঠ চাপড়ানি।
কংগ্রেসেরমতই বামপন্থীরা উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন বেশি, করেছেনও অনেক। তারা মল সংস্কৃতিকে বাহবা দিয়েছেন। কলকাতায় কোল দিয়েছেন। উন্নয়নের কোল্যাটারাল ড্যামেজ বিষয়ে তাদের আবার বিবেক দংশন কম। তারা আজ বড্ড নেহরুর সমর্থক। বাজারে জিনিষের দাম বাড়লে ৩০, ৪০, ৫০ থেকে ১০০ হাজারি সরকারি বামপন্থী আন্দোলনরত অধ্যা., আপিস, ম্যাস্টরবাবুরা পরের দিন ডিএ বাড়াবার জন্য তদ্বির-আন্দোলন করে, বাড়ি ফেরার পথে ১০০০ টাকার ইলিশ কেনেন- এই জেনেই, বাজারে দাম বাড়ার পেছনে তাদের মাইনে বাড়ারও একটা অবদান আছে। তাদের জীবনযাত্রা ভাল হল। ছেলে মেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়িয়ে কর্পোরেট যোগ্য করলেন। তাতে গ্রামের মানুষের কি? বরং মাইনে বাড়ার ফল সইতে হচ্ছে গ্রামীণদের। ২০, ৩০ হাজারিরা  শুধুমাত্র ন্যানো কিনতে পারবেন, তাই সিঙ্গুরের চাষিদের থেকে জমি কেড়ে নেওয়া হল। ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ হাজারিরা বর্ধমান, চাঁদমনি, রাজারহাটে কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনবেন, ১০ লাখি চার চাকা কিনবেন, তার জন্য উর্বর জমি, চা বাগান, কারখানাগুলো রুগ্ন করে কেড়ে নেওয়া হল। এগুলো গ্রামের মানুষেরা দেখছেন না? আমরা যারা নিম্নমেধার মানুষ, তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, তারা আবার এতশত বুঝিনা। শুধু বুঝি গ্রামের মানুষেরা মন ঠিক করলে ২০১৩ বা ১৯৭৭ হয়।

Post a Comment