Wednesday, July 3, 2013

ব্রিটিশ-পূর্ব বাঙলায় জমিদার আর জমিদারি৪ - জামিদারিগুলোর আদায়, Zamindars & Zamindaris(Landlord) of Pre-British Period4 - Income of the Zamisars

মুর্শিদকুলি খাঁই মুঘলদের পরে বাঙলার জমিদারির পরিকল্পনাকে একটি সুসংহত রাজনৈতিক রূপ দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরুর দিককার সময়েও উচ্চবিত্তদের কাছে জমিদারি নিরাপদ বিনিয়োগ ভাবা হত সে সময় বহু ধনী মুসলমানও জমিদারি কিনতে শুরু করেন নবাবি শাসনের রেশ তখোনো বাঙলা থেকে যায় নি ১৭২৮এর সুজাউদ্দিনেক জমা তুমারি তখশিসএ যে ১৫টি জমিদারির বর্ণনা রয়েছে তাদের অধিকারে ছিল ৬১৫টি পরগণা, আর এরা বার্ষিক ১৫ লক্ষটাকা কর দিত এই পরিমান সমগ্র বাঙলার আদায়ি রাজস্বের অর্ধেক জালালপুর(ঢাকা) ১৫৫টি পরগণা ৮,৯৯,৭৯০ টাকা আদায়, সেরপুর ধরমপুর(পূর্ণিয়া) ১৩টি পরগণা ৯৮,৬৬৪ আদায়, সেখেরকুণ্ডি(রংপুর) ২৪৪টি পরগণা ২,৩৯,১২৩ টাকা, কাঁকজোল(রাজমহল) ১০টি পরগণা ৭৪,৩১৭, তমলুক(হিজলি) ১৬টি পরগণা ১,৮৫,৭৬৫,  শ্রীহট্ট ৩৬টি পরগণা, ৭০,০১৬ টাকা ইসলামাবাদ (চট্টগ্রাম) -, বন্দর বালেশ্বর ২৮টি পরগণা ১,২৯৪৫০, সায়ারাত মহল(মুর্শিদাবাদ আর হুগলির শুল্ক) ৩টি পরগণা ৯,১৩,৬৪৭, মাজকুড়ি জমিদারি ১৩৬টি পরগণা ৭,৮৫,২০১ বাঙলার ৪০৪টি পরগণা নিয়ে ছিল জাগির, রাজস্ব আসত ৩৩,২৭,৮৭টাকা জাগির পরগণা নিয়ে ছিল ১৩টি জমিদারি জাগির জমিদারি ছিল সরকার আলি(সুবাদারের জাগির) ৬০টি পরগণা, ১০,৭০,৪৬৫ টাকা আদায়, বন্দেওয়লা বর্গা (দেওয়ানের জাগির) ২০টি পরগণা ১,৪৬,২৫০ টাকা আদায়, আমির পশম উমরা(মুঘল সেনাপতির জাগির) ১৮টি পরগণা ১,৪৬,২৫০, ফৌজদারান (ফৌজদারদের জাগির) ৭৫টি পরগণা ৪,৯২,৮০০ টাকা আদায়, নমসবদারান (মনসবদারদের জাগির) ২০টি পরগণা ১,১০,৮৫২ টাকা, জমিদারান ত্রিপুরা, সূচোয়া(মেঘনার পূবে), সুসঙ আর তেলিয়াগড়ি জমিদারদের সামীন্ত রক্ষার ব্যয় ৪৯,৭৫০টাকা, মদদ ই মাশ(মাদ্রাসা আর মৌলভাদের জন্য) ৭টি পরগণা, ২৫,৬৬৫, শালিয়াদারান(শ্রীহট্ট) ৯টি পরগণা ২৪,৬৬৫ টাকা, ইনাম আলতামঘা ১টি পরগণা ২,১২৭ টাকা, করজিয়ানদারান(মোল্লাকে প্রদত্ত লস্করপুরের তালুক) ৩৩৭টাকা, নবারা (নৌবহরের জাগির) ৫৫টি পরগণা ৭,৭৮,৯৫৪টাকা আর খেদা আদিল(ত্রিপুরা আর শ্রীহট্টের হাতি ধরার ব্যয়) ৪০,১০১ টাকা, আমলে অসম(পূর্বসীমান্ত রক্ষার ব্যয়) ১৩টি পরগণা ১,৩৫,০৬০টাকা
পালাশীর চক্রান্তের পর, মির কাসেমের আমলে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় লুঠেরা ইংরেজদের দাওয়াই অনুযায়ী প্রত্যক জমিদারির কর অসম্ভব বেড়ে যায় তাদের ধারণা হয় বাঙলার নবাব জমিদারিগুলিকে কর বাবদে যথেষ্ট ছাড় দিয়েরেখেছেন এদের ওপর আরও বেশি কর চাপানো যায় বর্ধিত কর আদায়ের সেই যে প্রবণতা শুরু হল, সেই প্রবণতা কিন্তু রোধ করতে পারেন নি বাঙলার কোনও  নবাবই ইংরেজরা বাঙলার শাসন ক্ষমতা দখলে পর্যন্ত মুর্শিদকুলি খাঁর বন্দোবস্তে বর্ধমানের রাজা কীর্তিচাঁদের সঙ্গে ৫৭টা পরগণায় ২০,৪৭,৫০৬ টাকা স্থির হয় কর আবওয়াব নিয়ে এই রাজস্ব দাঁড়ায় ৩২,২৬৯৩৮ টাকা মুর্শিদকুলি খাঁর বন্দোবস্তে দিনাজপুরের জমিদারির ৮৯ পরগণায় ৪,৬২,৯৬৪ টাকা মির কাসেমের আমলে এই রাজস্ব ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮,২০,৭৮০ টাকা নদিয়ার জমিদারি ৭৩ পরগণায় ৫,৯৪,৮৪৬ টাকা মির কাসেমের আমলে সেই রাজস্ব বেড়ে দাঁড়ায় ১০,৯৮,৩৭৯ টাকা রাজসাহীর ১৩৯পরগণার জায়গির বাবদে জমিদার রাজা রামজীবনের বন্দোবস্ত দাঁড়ায় ১৬,৯৬,০৮৭ এই সময় মুর্শিদাবাদ, ভূষণা, ঘোড়াঘাট এই তিন চাকলা নিয়ে রাজসাহি জমিদারি বিস্তৃত ছিল রাণী ভবানীর সময় আরও কতগুলো চাকলা অন্তর্ভুক্ত হয় এই জমিদারিতে রাজসাহী থেকে বগুড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এটি মির কাসেমের বন্দোবস্তে এই রাজস্ব বেড়ে দ্বিগুণ হয় ৩৫,৫৩,৪৮৫ টাকা ২২ পরগণায় বীরভূম জমিদারির সদর জমা ধার্য হয় ৩,৬৬,৫০৯ টাকা মির কাসেমের সময় বেড়ে দাঁড়ায় ১৩,৪২,১৪৩ টাকা যশোহরের চাঁচড়ার মহাতপ রায় মানসিংহকে প্রতাপাদিত্যকে সাহায্য করে সৈয়দপুরের আজকের যশোহরের জমিদারি পান এই ২৩ পরগণার জন্য মহাতপএর পুত্র কৃষ্ণরাম রায়ের সঙ্গে মুর্শিদকুলি খাঁর বন্দোবস্ত ছিল ১,৮৭,৭৫৪, পরে মির কাশেম বাড়িয়ে করেন ৪,১৬,৩১৮ টাকা চাকলে জাহাঙ্গীর নগর ১৫৫ পরগণার জায়গির ধার্য হয় ৮,৯৯,৭৯০ টাকা চাকলে ঘোড়াঘাটের উত্তরে অর্থাত কুচবিহারের দক্ষিণ পর্যন্ত সমস্ত ভূভাগ সরকার বাজুহার মধ্যস্থিত কুণ্ডী পরগণা নিয়ে ফকিরকুণ্ডি আজকের রংপুর পরগণার উতপত্তি ৯০,৫৪৮ টাকা জায়গির বাবদ ২৪৪ পরগণার এই জমিদারির রাজস্ব ২,৩৮,১২৩ টাকা, মির কাশেমের আমলে তা বেড়ে হয় ৬,৩৭,৬৩২
Post a Comment