Thursday, July 4, 2013

লুঠ শাসনের সম্পদ৫ - মাছের তেলে, Loot of British Raj5 - Paid Back by Their Own Coin

বহু দেশিয় গবেষকদের বক্তব্য, বর্ধিত বৈদেশিক বৈদেশিক বাণিজ্য, বাড়তে থাকা শিল্প উত্পাদনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া আরও কর্মসংস্থান, নতুন, আধুনিক ও উন্নত আর্থিক সংস্থা সমূহ, আধুনিক ও উন্নত প্রশাসন ও সৈন্যবাহিনী, ইওরোপিয় প্রযুক্তির ব্যবহার ও সেই জ্ঞাণ এ পোড়া দেশে ব্যবহার করে ভারতের বিকাশ নাকি উপনিবেশের ভালতম দিক ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের অনুসরনে ভারত লুঠের অর্থে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে চাকরিকরা ভারতীয়রাও বলছেন
কিন্তু ছোট্ট একটি প্রশ্ন মনকে মাঝে মাঝে কুরে কুরে খায়- ভারতীয়দের এককেন্দ্রিক পশ্চিমি সেনা আর প্রশাসনের স্বাদ আস্বাদন করতে গিয়ে শুধু চাকরি বাবদ ইংলন্ডে কত সম্পদ গিয়েছে মার্ক্স এন্ড মর্ডানিটি কী রিডিংস এন্ড কমেন্ট্রি পুস্তকের সম্পাদক রবার্ট জে আন্তনিও পুস্তকের ২৯তম অধ্যায়টি ব্রিটিশ ইনকামস ইন ইন্ডিয়া (১৮৮৭ সালে) সম্বন্ধে অধ্যায়ের লেখক বলছেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত উপনিবেশে যাঁরা চাকরি করতেন, তাঁদের পাঁচ স্তরে ভাগ করা হত অসামরিক, কারণিক, বৈদ্যগিরি, সেনাবাহিনী আর নৌসেনা অসামরিক ক্ষেত্রে চাকরির জন্য কোনও একটা ভারতীয় ভাষা জানা প্রয়োজন হেলিবেরির কলেজ প্রশিক্ষিত করত অসামরিক আমলাদের আদ্দিসকোম্বএর বিদ্যালয়, সেনাবাহিনীর চাকুরেদের লড়াইএর মূলমন্ত্র শেখানোর কাজ করত ভারতে কাজে আসা একজন কোম্পানি চাকুরে মাসে পেত ১৫০ডলার মাইনে, ভারতীয় ভাষা জানার পর তাঁর বাত্সরিক বেতন হত, পদ অনুযায়ী ২৫০০ থেকে ৫০০০০ ডলারের মধ্যে বেঙ্গল কাউন্সিলের সদস্যরা পেতেন বছরে গড়ে ৫০,০০০ ডলার বম্বে আর মাদ্রাজ কাউন্সিলের সদস্যরা পেতেন সর্বাধিক বাত্সরিক ৩০,০০০ ডলার কাউন্সিলের সদস্য নন এমন মানুষ বছরে ২৫,০০০ ডলারের বেশি সরকারিভাবে রোজগার করতে পারতেন না তবে ভারতে একাদিক্রমে ১২ বছরেরে বেশি থাকলে, তিনি এই উর্ধসীমার ছাড়টি পেতেন দীর্ঘ নবছর ধরে যাঁরা চাকরি করছেন তাঁদের মাইনে হত, ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত তিনবছরের চাকরিতে রোজগার ছিল ৭,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা সিভিল সার্ভিসের চাকরি কাজের অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার ওপর নির্ভর করত
সাদাহাতি সিভিল সার্ভিসে চাকরির গড় মাইনে ছিল ৮০০০ পাউন্ড, বিভিন্ন অতিরিক্ত বরাদ্দ অবশ্য এর মধ্যে ধরা হয় নি সিভিল সার্ভেন্টসদের পদগুলি ছিল গভর্নর, কাউন্সিলর, বিচারক, রাজদূত, সচিব, রেভিনিউ কালেক্টর ইত্যাদি সব মিলিয়ে মোটামুটি ৮০০টিরমত গভর্নর জেনারেলের বেতন ছিল বাত্সরিক ১,২৫,০০০ ডলার, উপরি সুযোগসুবিধে তার অনেক বেশি তিন বিশপ আর ১৬০ জন চ্যাপলেইন প্রতিষ্ঠানিক ধর্ম সামলাতেন কলকাতার বিশপ পেতেন বছরে, ২৫,০০০ পাউন্ড মাদ্রাজ আর বম্বের বিশপরা পেতেন অর্ধেক চ্যাপলেইনরা পেতেন ২৫০০ থেকে ৭০০০ ডলার অন্যান্য সুযোগসুবিধেও ছিল আলাদা ৮০০জন বৈদ্য আর শল্যচিকিত্সক পেতেন ১৫০০ থেকে ১০,০০০এর মধ্যে ইওরোপিয় সেনা কর্তাদের মধ্যে একটি অংশ রাজন্যবর্গ শাসিত রাজ্যগুলির সেনা ছাউনির দায়িত্বে থাকতেন, এদের মোট সংখ্যা ছিল ৮০০০এর কাছাকাছি ইনফ্যন্ট্রিতে এনসাইনার্সদের ১,০৮০, লেফটানেন্ট ১,৩৪৪, ক্যাপ্টেন ২২২৬, আর মেজর ৩৮১০ ডলার করে লেফটানেন্ট কর্নেল পেতেন ৫৫২০, কর্নেলের বরাদ্দ ৭৬৮০ ডলার এগুলি সেনাছাউনিতে থাকাকালীন বেতন লড়াইএর ময়দানে অনেক বেশি ফলে দেশে যুদ্ধ লেগেই থাকত সেনা কর্তাদের সিভিল সার্ভিসে বাড়তি চাকরিতে মাইনে প্রায় দ্বিগুণ হত
চাকরির রোজগারের অধিকাংশ অর্থে এরা দেশের সম্পদ বাড়িয়েছেন অবসরের পর নির্দিষ্ট হারে পেনশনও পেতেন ভারতের কর থেকেই পেনশন খাতে শুধু ভারত থেকে বাতসরিক ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার থেকে দু কোটি ডলার তোলা হত গবেষকেরা বলছেন, ভারতে কোম্পানি আর পরে ব্রিটিশ রাজের অধীনে চাকরি করা কর্মচারীরা বেতনের তুলনায় অন্যান্য সুযোগসুবিধে (নানান ধরণের উন্নততর পদ্ধতিতে অর্জিত ঘুষের কথা বলা হচ্ছেনা- যদিও সেটিও বেশ ভাল রকম পরিমানে অর্জন করতেন তাঁরা, অনেক সময় তা আবার চাকরিতে পাওয়া মাইনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবনী পুস্তকে বলছেন ৩৫ টাকা মাইনের কর্মচারী সাহেব বড়বাবুকে মাসে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দিত) এতই ভাল পরিমানে পেতেন যে, মাইনেতো বটেই ঘুষের একটি বড় অংশও জমিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন বিশাল এই অঙ্কটি আর ভারতে খরচ হত না, চলে যেত সরাসরি ব্রিটেনের অর্থনীতিতে

এছাড়াও ভারতবর্ষের বাইরে বার্মা, আফগানিস্তান, চিন আর পারস্য যুদ্ধের খরচের ধাক্কা সামলাত সরাসরি ভারতীয় উপনিবেশ উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ আমলা ছাড়াও ভারতে চাকরি করতেন আরও ৬০০০ নানান দেশের ইওরোপিয় মোটামুটি গ্রামে থাকা নীলকর, আফিম, আখ ব্যবসায়ী অথবা কফি ব্যবসায়ীদের ছাড়াও দালালি, ব্যবসা, উদ্যোগে কলকাতা, মদ্রাজ অথবা বম্বে শহরের নানান কাজে জড়িত ছিলেন এঁরা মোটামুটি প্রত্যেকটি শহরের ৫০ কোটি ডলারের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় বেশ মুনাফাও কামাত নানানজন
Post a Comment