Showing posts with label ক্লাইভ. Show all posts
Showing posts with label ক্লাইভ. Show all posts

Sunday, November 10, 2019

ক্লাইভ মোদি

পলাশীর পর ক্লাইভ যেমন দেশিয় সাহায্যকারী সব ষড়যন্ত্রীর জীবিতকালে 'প্রাপ্য' বুঝিয়ে দিয়ে অধিকাংশের জীবন মান সম্মান সম্পত্তি হরণ করেছিল, আজকের ক্লাইভ শুরু করেছেন রাজনৈতিক গুরু আদবানী আর তার বন্ধুদের রাজনৈতিক জীবন হরণ করে; ক্লাইভ মোদির সর্বশেষ শিকার, গত পাঁচ বছরে মোদির উচ্চতমস্বরসমর্থক সাংবাদিক তভলিন সিংএর সাংবাদিক পুত্র অতীশ। তার ওপর খাঁড়া নেমে এসেছে।
প্রত্যেকেই তার প্রাপ্য এই জীবনেই বুঝে পাবেন কড়ায় গণ্ডায়।
এটাই ভারতের ইতিহাস।
মোদিও।
জয় বাংলা।

Tuesday, February 20, 2018

শিরদাঁড়াহীন মিরজাফর

মিরজাফরকে মসনদে বসিয়ে ক্লাইভ বিপুল সম্পত্তি নিয়ে লন্ডনে গেলেন। কোম্পানি প্রধান হেনরি ভেরলেস্ট মিরজাফররের ওপরে খাপ্পা। ১৭৬০ সালের ৩ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের রাস্তায় মিরজাফরকে ঘিরে ধরেছে উন্মত্ত ব্রিটিশ সেনা। অনুপস্থিত ক্লাইভের নাম নিয়েও পাত্তা পাচ্ছেন না ক্লাইভের গাধা মিরজাফর। সেনাবাহিনীর অনুবাদক লাসিংটন ক্লাইভকে সেই ঘটনা চিঠিতে লিখছেন সে সময় শিরিদাঁড়াহীন মীরজাফর হঠাত মরিয়া হয়ে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন, ‘The English placed me on the musnud; you may depose me if you please. You have thought proper to break your engagements. I would not mine’. He added, ‘I will desire you will either send me to Sabut Jung (Lord Clive), for he will do me justice, or let me go to Mecca’

Monday, October 2, 2017

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - কোম্পানি আগাগোড়া রাজনৈতিক

১৭৬৪ সালে মীর কাশিমের জোট হেরে গেল। ক্লাইভ আর ভ্যান্সিস্টার্টএর ক্ষমতার লড়ায়ে উদ্বিগ্ন কোম্পানির বকলমে সাম্রাজ্য রাজনৈতিক কারণেই বাংলার রাশ হাতে রাখতে চাইছে - এই জয়ে বাংলার বিরাট বাজার তাদের দেশের পণ্যের জন্য খোলা গেল। যাঁরা বলেন কোম্পানি ব্যবসার জন্য বাংলা দখল করেছিল, তারা জেনেশুনেই মিথ্যে বলেন। নিচে মীর কাশেম হারের পরে কোম্পানির রাজনৈতিক বক্তব্য(তৃতীয় স্তবক দেখুন) -
The acquisitions obtained from Jaffier Ally Khaun, Lord Clive’s Nabob, and afterwards the cessions made by Mr. Vansittart’s Nabob, Cossim Ally Khaun, are so very considerable, that Bengal is become the chief support of the company…the proprietors must readily acknowledge that such possessions… are objects of utmost importance, not only to the company, but to the [British] nation in general…There are other considerations…
We receive from that presidency annually four or five ships richly laden with the manufactures and produce of that kingdom, the sales of which cargoes in England may be computed on a very reasonable calculation at twelve hundred thousand pounds sterling. We export to that presidency a very large quantity of British manufactures and commodities, such as broadcloth, lead, copper, and many other articles…
There is no doubt that the demand for British manufactures will increase in Bengal as soon as the commotions in that country are at an end, and peace restored; there is likewise great reason to think, that were we at leisure to make experiments, and set on foot discoveries, new markets for the consumption of our home manufactures might be found…Bengal is the granary of Indostan; and our settlements on the two coasts of that peninsula would scarce be able to subsist, were it not for the supplies of rice they annually receive by shipping from Calcutta.
{Myth, Language, Empire: The East India Company and the Construction of British India, 1757-1857: Nida Sajid}

Friday, September 1, 2017

উপনিবেশ বিরোধী চর্চা - পলাশীর ঠিক অব্যবহিত পরে ব্রিটিশ লুঠ - শুধু আইনিভাবে ক্লাইভ পেয়েছিলেন ১১২৮ কোটি টাকা

এই ছোট্ট কাজে আমরা দেখার চেষ্টা করব ঠিক পলাশীর পরে পরে বাংলায় কি ধরণের লুঠছত্র বসেছিল এবং আজকের হিসেবে তার পরিমান কত। এখন করব শুধু ক্লাইভের হিসেব, যিনি ঘোষিতভাবে পেয়েছিলেন ১১২৮ কোটি টাকা।

তুলনা
সেদিন আর এদিনের তুলনা টানব চালের দামের মধ্যে। কারণ পণ্যের মধ্যে চালের দাম সব থেকে কম হারে বাড়ে। সেই হিসেবে, পলাশীর আগে মীরজাফর খাঁ কলকাতায় এলে তাকে ব্রিটিশদের সিধা দেওয়া তালিকা থেকে জানি প্রতিমন চাল ১ টাকা চৌদ্দ আনা হিসেবে কেনা হয়েছিল। হিসেবের সুবিধের জন্য চৌদ্দ আনা বাদ দিলাম। ১ টাকা। অর্থাৎ বালাম চাল ১ টাকায় ৪০ কিলো পাওয়া যেত। আজ সেই পরিমান চাল খুব কম করে ১৫০ টাকা কিলো হবে। অর্থাৎ আজ ৪০ কিলো চাল পাওয়া যাবে ৬০০০ টাকায়। অর্থাৎ সেদিনের টাকার হসেবে ৬০০০ গুণ করলে আমরা পেয়ে যাব মোটামুটি আজকের বাজার দরে সেদিনের টাকার মূল্য।

এবারে লুঠ
তো ১১ জুন হল মীর জাফর খাঁয়ের অভিষেক। সিরাজের কোষাগার দখল করলেন তিনি। সেটায় ছিল ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মোহর, ২ সিন্দুক সোনার বাট, ৪ সিন্দুক মণিখচিত সোনার অলঙ্কার আর ২ সিন্দুক মণিমুক্তো। উপস্থিত ছিলেন ওয়াটসন, দেওয়ান রামচাঁদ আর মুন্সি নবকৃষ্ণ অবশ্যই ক্লাইভ আর মীরজাফর। এই সম্পদ ভাগ হল! আজকের বাজার দরে মূল্য কত ছিল আমরা কেউ জানি না। ধরে নিচ্ছি সমান সমান মূল্যে ভাগ হল। কিন্তু যেহেতু মোট সম্পদের মূল্য নিরূপণ করা গেল না, তাই প্রত্যেকে যদি সমানও সম্পদ লাভ করে থাকেন, তাহলেও কে কত পেলেন তা আন্দাজ করা গেল না।

এবারে সিরাজের গোপন কোষাগার। আট কোটি টাকা। আর্থাৎ আজকের হিসেবে ৪৮০০০ কোটি টাকা। এই টাকা ভাগ হল মীরজাফর, আমীর বেগ খাঁ, রামচাঁদ আর নবকৃষ্ণের মধ্যে। এটা ক্লাইভ জানতেন না।

এবারে পলাশীর চক্তান্ত জেতার পুরস্কার।
ক্লাইভ পেল ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
ড্রেক পেল ২ লক্ষ ৮০ জাহার টাকা।
সিলেক্ট কমিটির প্রত্যেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে।

এছাড়া মির জাফর ক্লাইভকে দিল ১৬ লক্ষ টাকা।
ওয়াটসনকে ৮ লক্ষ টাকা
কিলপ্যাট্রিককে ৩ লক্ষ
ওয়াটসকে ৫ লক্ষ
স্ক্র্যাফটনকে ২ লক্ষ

শুধু ক্লাইভ পেয়েছিলেন ১৮লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ১১২,৮০,০০,০০,০০০ - ১১২৮ কোটি টাকা সিরাজের সিন্দুকের বিপুল সম্পদ বাদ দিয়ে।

Sunday, August 11, 2013

কুঞ্জঘাটা এবং নন্দকুমার৩, Kunjaghata & Maharaja Nandakumar3

কুঞ্জঘাটায় মহারাজ নন্দকুমারের স্মৃতি নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি চিঠি প্রকাশ হয়। সেটি তুলেদেওয়া গেল।((www.anandabazar.com/archive/1120128/28mur-letter.html‎))
বহরমপুর শহরের উত্তর দিকের শেষ প্রান্ত সৈয়দাবাদ-কুঞ্জঘাটা অঞ্চলে মহারাজা নন্দকুমার রোড থেকে পূর্ব দিকে প্রসারিত হয়েছে দুর্গানাথ লেন। ওই দুর্গানাথ লেনে অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে (প্রাক-পলাশি যুগ) মহরাজা নন্দকুমারের বাসভবন নির্মীত হয়। তার অবশ্য কোনও অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। যদিও বহু পর্যটক ইতিহাস চেতনার টানে আজও সেখানে আসেন। কিন্তু তাঁরা খুঁজে পান কেবল পুরাতন ইটের তৈরি একটি একটি ভঙ্গপ্রায় তোরণ। ওই তোরণের উপর দিকে রয়েছে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি স্মৃতি ফলক। ওই ফলকে লেখা রয়েছে ‘Here Resided Maharaja Nandakumar in 1775 A.D’ ফলে পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। উল্লেখ্য, ইংরেজদের বিরোধিতা করার জন্য সাজানো ও মিথ্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পরিকল্পিত ভাবে কলকাতায় অবস্থিত তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইলিয়াজা ইম্পের নির্দেশে মহারাজা নন্দকুমারকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। একদা ভারতে ইংরেজ বিরোধী ভারতীয় জাতীয় চেতনার বিকাশে নন্দকুমারের ফাঁসি গভীর রেখাপাত করেছিল। ‘মুর্শিদাবাদ যুগে যুগে’ নামে বহরমপুর থেকে সাম্প্রতিক কালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে, কুঞ্জঘাটায় মহারাজা নন্দকুমারের বাসভবন নামে খ্যাত প্রাসাদটি সম্ভবত অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কুঞ্জঘাটা রাজপরিবারের রাজা সত্রাজিৎ রায়ের পুত্র জগচ্চন্দ্র নির্মিত। তিনি মহারাজা নন্দকুমারের জ্যেষ্ঠ জামাতা। নন্দকুমার কিছু দিন সেখানে বসবাস করেছিলেন।

পরবর্তীকালে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কুমার দুর্গানাথের আমলে (১৮৪৩-১৮৯৩) রাজবাড়ির সম্মুখের দর্শনীয় অংশটি নির্মীত হয়। তবে একদা মহারাজা নন্দকুমার কুঞ্জঘাটা রাজবাড়ির যে অংশে বসবাস করতেন, সেই অংশটি ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠতে পারে, মহারাজা নন্দকুমারের বাসভবন কোনটি? ১৯৫৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংসদ প্রয়াত অরুণচন্দ্র গুহের প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কলাম আজাদ ও উপশিক্ষা মন্ত্রী কে ডি মালব্য লোকসভায় (Document No. 6. Loksabha) এক বিবৃতিতে জানান, ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদাবাদ জেলার কুঞ্জঘাটায় অবস্থিত মহারাজা নন্দকুমারের বাসভবন সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষিত হলে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগকে সরজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। রিপোর্ট অনুসারে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, “কুঞ্জঘাটায় মহারাজা নন্দকুমারের বাসগৃহ বলে কথিত প্রাসাদের যে অংশটি এখনও অক্ষত আছে তা আদৌ মহারাজার বাসগৃহ নয়। বাসগৃহ বলে যা ছিল তা ১৮৯৭ ক্রিস্টাব্দের ভূমিকম্পে ধবংস হয়ে গিয়েছে। বাসগৃহের এমন কোনও অংশ অবশিষ্ট নেই যা স্মৃতিসৌধ হিসাবে সংরক্ষিত হতে পারে, অথবা মেরামত করা যেতে পারে। তবে সেখানে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে মহারাজার নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখা থাকবে। তা করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার তাতে সন্তুষ্ট।” বিষয়টির সঙ্গে জাতীয় আবেগ জড়িত। তাই মহারাজা নন্দকুমারের বহরমপুরের বাড়ি নিয়ে ইতিহাসপ্রেমী মানুষ ও পর্যটকদের বিভ্রান্তি দূর করতে বিষয়টি উত্থাপন করা হল। প্রস্তাব, ‘পলাশি মনুমেন্ট’-এর আদলে কুঞ্জঘাটার ওই স্থানে ‘মহারাজা নন্দকুমার স্মারকস্তম্ভ’ নির্মাণে কেন্দ্র, রাজ্য, পুরাতত্ত্ব ও পর্যটন বিভাগের উদ্যোগী হওয়া জরুরি। নতুবা ‘নন্দকুমার স্মৃতিফলকটি’ও অচিরেই হারিয়ে যাবে।  

কুঞ্জঘাটা এবং নন্দকুমার২, Kunjaghata & Maharaja Nandakumar2

নন্দকুমার ১৭৭২ সালে হেস্টিংসকে রেজা খাঁর খাজনা আদায় এবং তার দপ্তরের খাজনা তছরুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হেস্টিংস সে বছর জুলাইতে মুরশিদাবাদে এসে রেজা খাঁকে বাংলা এবং সিতাব রাইকে বিহারের দেওয়ান থেকে পদচ্যুত করেন। নন্দকুমারের ছেলে গুরুদাসকে নিযুক্ত করেন মির জাফরের বিধবা, হেস্টিংসের আশ্রিতা,  মুন্নি বেগমএর নানান বিষয় নজরদারির এবং ব্যবস্থাপনা করার জন্য। ১৭৭৫এর মার্চ মাসে নন্দকুমার হেস্টিংসের বিরুদ্ধে মুন্নি বেগমের থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনেন কাউন্সিলে। হেস্টিংসের প্রবল বিরোধী ফিলিপ ফ্রান্সিস, জন ক্লেভারিং এবং জর্জ মন্সনের সাহায্য চান নন্দকুমার। মুন্নি বেগমের সতপুত্র নবাব নিজাম মুবারকঊদ্দউল্লাকে সিংহাসনে বসাবার জন্য হেস্টিংস সে সময়ের মুল্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১০৫ টাকা ঘুষ নিয়েছেন(এই টাকা আজকের মুল্যে কত? অন্ততঃ সাদা চোখে একটা হিসেব করা যায়। তখন ভাল চালের মন ছিল ১ টাকা, আজ ২০০০ টাকা(মধ্যবত্ততো, তাই ন্যুনতম ৫০টাকা কিলো ধরে। ১০০, ১৫০ টাকা চালের হিসেবেই যাচ্ছিনা), অর্থাৎ ২০০০ গুণ - সে হিসেবে ৭০ কোটিরও বেশি) ।
এই অভিযোগ এই তিনজনের সামনে তোলেন নন্দকুমার। নন্দকুমার গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলে এই অভিযোগ আনেন। কাউন্সিল কড়া হাতে এর বিচার করতে চাইছে, বুঝে হেস্টিংস তার বিরোধিতা করেন, কেননা, কাউন্সিলে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। নন্দকুমারকে হেস্টিংস নিচ পশু হিসেবে বর্ণনা করলেন। এক সময় হেস্টিংস স্বীকার করে নেন যে তিনি মুন্নি বেগমের থেকে ফুর্তি(এন্টেরটেনমেন্ট) করার জন্য ১৫০০০ টাকা নিয়েছেন। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়, এই টাকাটা হেস্টিংসকে কোম্পানির খাজাঞ্চিতে জমা দিতে হবে।
হেস্টিংস এপ্রিলে নন্দকুমারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। ৬ মে, বিচারপতি ল্যামিস্ট্রে এবং জন হাইড তার বিচার শুরু করে। তার বিরুদ্ধে জাল ও তছরুপের অভিযোগ আনাহয়। খুব জটিল এবং বৃটিশ আইন আর বিচারের নানান ফাঁকফোকরের সাহায্য নিয়ে জুন ৮-১৬, এই নয় দিন, এই বিচার প্রহসনে, হেস্টিংসের বন্ধু, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, এলাইজা ইম্পে নন্দকুমারকে ফাঁসির সাজা দেন। বিশ্বে এই প্রথম কোনও ব্যক্তি তছরুপের আর জাল করার দায়ে ফাঁসি গেলেন। নন্দকুমারের মৃত্যুর পর ছেলে গুরুদাস গৌড়পতি উপাধি পান। ১৭৬৯এ রাজা বাহাদুর। ১৭৯২তে তিনি মারা যান। কুঞ্জঘাটার বিপরীতে গোয়ালজানে নন্দকুমারের নাতি মহেন্দ্র জমিদারি স্থাপন করেন।

কুঞ্জঘাটা এবং নন্দকুমার১, Kunjaghata & Maharaja Nandakumar1

মুর্শিদাবাদের কুঞ্জঘাটার সঙ্গে, মহারাজা নন্দকুমারের নাম জড়িয়ে রয়েছে। নন্দ রাম সায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদার থাকার সময় এই জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তার পুত্র সত্রাজিত রাই। তার পুত্র জগচ্চন্দ্র রাই। মুন্নি বেগমের সতপুত্র নবাব নিজাম মুবারকঊদ্দৌল্লার  দারোগা ছিলেন। মির জাফরের এন্তেকালের পর, বিপুল সম্পত্তির অধিকারী, মির জাফরের বিধবা স্ত্রী, মুন্নি বেগম ক্লাইভের পথানুগামী হন। নন্দকুমারের মেয়ে সুমনিকে জগচ্চন্দ্রকে বিবাহ করেন। সেই সুত্রে নন্দকুমারের সঙ্গে কুঞ্জঘাটার যোগ। সেখানে পরে একটি প্রাসাদও তৈরি করেন। তবে তা ধংস হয়ে যায়। প্রচার নন্দকুমারের পূর্বপুরুষ পলাশি কাণ্ডে সিরাজের পক্ষ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে কতটা সত্যি? অন্ততঃ নন্দকুমারের জীবনের শেষ কয়েকটা বছর নিয়ে কবি কামিনী রায়ের (আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পারের কবি) পিতা চন্ডীচরনএর নন্দকুমার তথ্য-উপন্যাসে এ বিষয়ে কোনও সূত্র নেই। তবে নন্দকুমার যে খুব ইংরেজ বিরোধী ছিলেন, তা তার জীবনী, জীবনএর কর্মকাণ্ড বলে না- পরের স্বাধীনতা আন্দলনের সময়ে যাই ধারণা তৈরি করা হোক না কেন।
(মহা)রাজা নন্দকুমার, তার সময়এর নানান কাগজপত্রে নানকুমার(অশিষ্ট উচ্চারনে, অন্ততঃ বিশ্বে ব্রিটিশ, ইয়োরোপীয়দের তুলনীয় কেউ নেই)। তিনি ক্লাইভের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ডাক নাম ছিল ব্ল্যাক করনেল। নন্দকুমার রানী ভবানির চরম শত্রু ছিলেন। ১৭৫১য় রানীর ছেলে রঘুনাথের মৃত্যুর পর তার জমিদারি দখল করার চেষ্টা করেন। রানী পরে তার কর্মী দয়া রামের সাহাজ্যে তা দখল পান। নন্দকুমার দয়া রামকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিফল হন। তিনি হিজলি আর মুর্শিদাবাদের আমিল নিযুক্ত হন। ১৭৫৬য় নন্দকুমার ক্লাইভের সঙ্গে উকিল(দালাল) হিসেবে পাটনা যান। মির কাশিম একদা নন্দকুমারকে কারারুদ্ধ করেন এই ভেবে যে তিনি দিল্লির শাহ্‌ আলমের দালাল। তবুও তিনি ১৭৬৩র যুদ্ধে মির কাশিমের পক্ষ নিয়ে মির জাফরের বিরোধিতা করেন। ১৭৬৪তে শাহ আলম তাকে মহারাজা উপাধি দেন এবং বর্ধমান, হুগলী, নদিয়ার দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১৭৬৫তে তার পদে, বাংলার দেওয়ানরূপে মহম্মদ রেজা খাঁ নিযুক্ত হন।