Sunday, August 11, 2013

কুঞ্জঘাটা এবং নন্দকুমার১, Kunjaghata & Maharaja Nandakumar1

মুর্শিদাবাদের কুঞ্জঘাটার সঙ্গে, মহারাজা নন্দকুমারের নাম জড়িয়ে রয়েছে। নন্দ রাম সায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদার থাকার সময় এই জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তার পুত্র সত্রাজিত রাই। তার পুত্র জগচ্চন্দ্র রাই। মুন্নি বেগমের সতপুত্র নবাব নিজাম মুবারকঊদ্দৌল্লার  দারোগা ছিলেন। মির জাফরের এন্তেকালের পর, বিপুল সম্পত্তির অধিকারী, মির জাফরের বিধবা স্ত্রী, মুন্নি বেগম ক্লাইভের পথানুগামী হন। নন্দকুমারের মেয়ে সুমনিকে জগচ্চন্দ্রকে বিবাহ করেন। সেই সুত্রে নন্দকুমারের সঙ্গে কুঞ্জঘাটার যোগ। সেখানে পরে একটি প্রাসাদও তৈরি করেন। তবে তা ধংস হয়ে যায়। প্রচার নন্দকুমারের পূর্বপুরুষ পলাশি কাণ্ডে সিরাজের পক্ষ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে কতটা সত্যি? অন্ততঃ নন্দকুমারের জীবনের শেষ কয়েকটা বছর নিয়ে কবি কামিনী রায়ের (আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পারের কবি) পিতা চন্ডীচরনএর নন্দকুমার তথ্য-উপন্যাসে এ বিষয়ে কোনও সূত্র নেই। তবে নন্দকুমার যে খুব ইংরেজ বিরোধী ছিলেন, তা তার জীবনী, জীবনএর কর্মকাণ্ড বলে না- পরের স্বাধীনতা আন্দলনের সময়ে যাই ধারণা তৈরি করা হোক না কেন।
(মহা)রাজা নন্দকুমার, তার সময়এর নানান কাগজপত্রে নানকুমার(অশিষ্ট উচ্চারনে, অন্ততঃ বিশ্বে ব্রিটিশ, ইয়োরোপীয়দের তুলনীয় কেউ নেই)। তিনি ক্লাইভের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ডাক নাম ছিল ব্ল্যাক করনেল। নন্দকুমার রানী ভবানির চরম শত্রু ছিলেন। ১৭৫১য় রানীর ছেলে রঘুনাথের মৃত্যুর পর তার জমিদারি দখল করার চেষ্টা করেন। রানী পরে তার কর্মী দয়া রামের সাহাজ্যে তা দখল পান। নন্দকুমার দয়া রামকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিফল হন। তিনি হিজলি আর মুর্শিদাবাদের আমিল নিযুক্ত হন। ১৭৫৬য় নন্দকুমার ক্লাইভের সঙ্গে উকিল(দালাল) হিসেবে পাটনা যান। মির কাশিম একদা নন্দকুমারকে কারারুদ্ধ করেন এই ভেবে যে তিনি দিল্লির শাহ্‌ আলমের দালাল। তবুও তিনি ১৭৬৩র যুদ্ধে মির কাশিমের পক্ষ নিয়ে মির জাফরের বিরোধিতা করেন। ১৭৬৪তে শাহ আলম তাকে মহারাজা উপাধি দেন এবং বর্ধমান, হুগলী, নদিয়ার দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১৭৬৫তে তার পদে, বাংলার দেওয়ানরূপে মহম্মদ রেজা খাঁ নিযুক্ত হন।
Post a Comment