Wednesday, August 14, 2013

ফাস্ট ফুড নেশন, আমাদের কথা১, Fast Food Nation - A Story of Fast Food, a Fat Nation, a Corporate Nation, Our View1

রান্নাঘরের আর মধ্যবিত্তের খাদ্যশৃঙ্খলের করপোরেটাইজেসন
এরিক স্ক্লোসার( Eric Schlosser)

সম্প্রতি, মাস খানেকের মধ্যে(আজ //১৩) আবার করে পড়লাম এরিক স্ক্লোসারএর ফাস্ট ফুড নেশন ২০০১ সালে প্রথম প্রকাশ এক দশক পর ২০১১তে আবার নতুন করে অবস্থা ফিরে দেখতে চেয়েছিলেন লেখক, কতা প্রাসঙ্গিক এক দশকের পুরনো বইটি বোঝাগেল, শুধু বইটির দারুন কাটতি ছাড়া এই গোটা এক দশকে কিছুই পাল্টায় নি
বইটি পড়া অনন্য এক অভিজ্ঞতা অনেকদিন ধরে চটজলদি খাবারের বিষয়ে জানার চেষ্টা করতাম বেশ কিছু সংবাদপত্রের সমীক্ষা আর কয়েকটি সাময়িকীর প্রচ্ছদ নিবন্ধে আমেরিকার ফাস্ট ফুড সম্বন্ধে ধারণা সীমাবদ্ধ ছিল আমরা গবেষক নই, নিজেদেরই রাস্তা খুঁজে নিতে হয় খুবই অপরিকল্পিতভাবে ভারত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় রাজপথ বিকাশ ভাবনা বিষয়ে কিছু তথ্য, তত্ব খোঁজার চেষ্টা করছিলাম সে সময় ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে এই বইটির কথা জানতে পারলাম কোনও এক রসিক বইটি স্ক্যান করে কোনও এক সাইটে চুপটি করে তুলে রেখেছেন যাতে সহজে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের উৎসাহী মানুষের পক্ষে ডাউনলোড করা সম্ভব হয় রাজপথ খুঁজতে গিয়ে এই বইটি পাওয়া বইটি পড়ার আগেই আন্দাজ করলাম, দেশে রাজপথ তৈরির কেন এত ব্যস্ততা তার বিকাশের সঙ্গে কেন চটজলদি খাবারের ব্যবসা, বলাভাল কর্পোরেটদের উন্নতি কেন সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে
প্রায় এক দশক আগে পড়েছিলাম দ্য ইকনমিক হিটম্যান এরিকএর বইটা পড়ার ধাক্কা প্রায় একই রকম, হয়ত একটু বেশিই এরিকের পাশাপশি সেটিও নতুন করে ধুলো ঝেড়ে পড়লাম বিশ্বের উচ্চকোটি রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক সামাজে উন্নয়ন কি করে, নিম্নবিত্তের জীবনকে বাজি রেখে মসলা ফোড়ন সহযোগে রান্না করানো হয়, তার হাতে গরম অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিটম্যান বিষয়গুলো অনেকদিনই আন্দাজ করতাম তবুও ঘোড়ার মুখের কথা শুনতে পাওয়া খুব কম বেদনাদায়ক নয় যেন সে আমার বিশ্বায়ন নিয়ে আতঙ্কের ভাবনাটাই বইএর কালো অক্ষরে বলছে এরিকের বইটির বিষয়ের মতো, হিটম্যানের কাহিনী আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নাবইটি যেন বড় বড় কিছু তারকা অভিনেতা নিয়ে হলিউডি বামপন্থী ঘরানার চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার জগত অথচ যে ঘটনাটা ঘটে চলেছে সে সমাজে, সেটির প্রভাব সাধারণের জীবনে অপরিসীম তবুও যেন হিটম্যান দূর তারাদের কাহিনী, যা আমি শুনতে চাই, অথচ পেজ থ্রির পিএনপিসির মত রসালো নয়
কিন্তু ফাস্ট ফুড নেশনএর বিষয় যেন আমাদের রোজের জীবনের সঙ্গে দেহের চামড়ার মত জড়িয়ে থাকে আমরা অনেকেই যারা একটু আধটু আন্দোলনে জড়িয়ে থাকি অথবা নানান প্রতিবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি, তাদের, বড় পুঁজির চটজলদি খাবারের ব্যবসার একটা ওপর ওপর ধারণা ছিলই(দোহাই এগ রোলকে চটজলদি খাবারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না এগুলি এক্কেবারে বাঙালি নিম্নমধ্যবিত্তের স্বরোজগারের অসম্ভব কল্পনার ফুটপাথিয় বাস্তবায়ন), যে এটি ভারতবর্ষেরমত খাদ্য প্রাচুর্য, খাদ্য বৈচিত্রের দেশে, আমেরিকান-ইওরোপিয়ান সাম্রাজ্যের বন্ধু, উচ্চ-মধ্যবিত্তের পশ্চিমমুখ্যতার দুর্বলতার দিকগুলোকে এক্সপ্লয়েট করে বেঁচে থাকে আমাদের মত অনেকেই, সচেতনভাবে এ খাবার খাওয়া থেকে, আজও বিরত থাকছেন দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই বইটি পড়ার পরে শুধু অভিজ্ঞতার জন্য আমেরিকার ফাস্ট ফুড কি জিনিস তা হয়ত চেখেছিমাত্র তারপরে একবারও বিন্দুমাত্র ইচ্ছে হয়নি মাগগো, এই রদ্দি খাবারগুলো এতগুলো পয়সা দিয়ে, কী করে সোনামুখে আমেরিকার বাইরের দেশের মানুষেরা, বিশেষ করে বাঙ্গালিরা গেলে, তা আমাদের কাছে বড্ড আশ্চর্য লেগেছিল কাঁটাতারের দু পাশে থাকা বাঙ্গালিরা খাবার তৈরি, তার বৈচিত্র, তার সংকরায়নকে নিয়ে গিয়েছেন শিল্পের পর্যায়ে! মা দিদিমাকে মাথায় রেখেই, বুদ্ধদেব বসু, মুজতাবা আলির রম্য রচনাগুলো, প্রজ্ঞাসুন্দরীদেবী, লীলা মজুমদার বা মিষ্টান্নপাকএর লেখকের রান্নার বই নতুন করে ধুলো ঝেড়ে পড়লে বোঝা যাবে, আমেরিকার চটজলদি খাবারের সংকৃতির সঙ্গে আমার এই সুজলাং সুফলাং বাংলার খাবারের ভাবনার কি দুস্তর পার্থক্য!
Post a Comment