Monday, October 7, 2013

কেন সাঁওতাল সমাজের চদর বদর নিয়ে আলোচনা করব৩?, Why to discuss Chadar Badar, the puppet of santhals3

আদতে চদর বদর এমন একটি পুতুল নাচ, তাকে পশ্চিম প্রভাবিত লোকসংস্কৃতির তত্বের আধারে ধরা অসম্ভব। কেননা ইয়োরোপ বর্নীত(দ্য গোল্ডেন বাও, জেমস ফ্রেজার) লোকসংস্কৃতি বা আদিবাসী সংস্কৃতির মূল তত্বই হল প্রযুক্তির সারল্য। জীবন যতই জটিল হবে, জীবিকা যতই মুল্যবান হবে, গ্রাম যতই শহর হবে, প্রযুক্তি ততই জটিল হবে। বাংলার যে চারটে পুতুল নাচের কথা এর আগে বলাগেল, তার প্রত্যেক কটাতেই রয়েছে তথাকথিত খুবই সাধারণ ‘লৌকিক’ প্রযুক্তি। ফলে তার তাত্বিক অবস্থানে পশ্চিমমুখ্য, ইংরেজি শিক্ষিত আলোচকেরা স্বচ্ছন্দ। কিন্তু তারাই যখন চদর বদরের মত জটিল লিভার নাড়ানো ভিত্তিক সংকৃতির মুখোমুখি হন তখন পশ্চিমের তৈরি তত্ব বেকার হয়ে পড়ে।
তাই বিদেশী সংস্কৃতির তত্বের বাইরে বেরুতে, চদর বদর, তার জ্ঞান, তার প্রযুক্তির আলোচনা আজ প্রয়োজন। এটি শুধু একটি লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির ধারকবাহক বলে, বা সেই সংস্কৃতির মূল উপাদানটি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসার উদ্যম নেওয়াই নয়, যখন পৃথিবী নতুন করে তার নানান সাংস্কৃতিক ভিত্তিভুমি, পশ্চিমের তৈরি করে দেওয়া মানদন্ডকে নতুন করে পরখ করছে, তখন চদর বদর বিষয়ে আলোচনা আমাদের নতুন এক তাত্বিক অবস্থানে দাঁড় করাতে পারে। সেই অবস্থান থেকে আমরা নতুন করে, বিশ্ব সভ্যতায় নতুন করে গ্রামীণ সভ্যতার অবদানটি বিচার করতে পারি। পশ্চিমি ভাষায় সিভিলাইজেসন শব্দটি সিভিক বা শহর শব্দ থেকে এসেছে। ফলে শহর মানেই অগ্রগতি, শিল্পবিপ্লবীয় এই তত্ব চারিয়ে গিয়েছে শিক্ষিত শহুরে মনস্তত্বের গভীরে। শহর মানেই উন্নয়ন, শহর মানেই বিকাশ, শহর মানেই মনের মুক্তি। মনেমনে একটু ওজন করে দেখুন শহুরে শব্দটির তুলনায় গেঁয়ো শব্দের ওজন, শ্রমিকের সঙ্গে চাষা শব্দের পার্থক্য, তাহলেই পরিষ্কার হবে। অথচ শহরের একটিও প্রযুক্তি এমন কিছু উতপাদন করে না যা ব্যতিরেকে মানুষ অচল। কিন্তু কৃষি ব্যতিরেকে? আজ থেকে ৭০০ বছর আগে সঙ্কলিত বাংলার কৃষি বিষয়ক পুঁথি, কৃষিপরাশরের প্রথম শ্লোকি হল, যার হাতে স্বর্ন বলয়, যার সিঙ্ঘাসন সোনার, তাকেও খাদ্যের জন্য কৃষকের কাছে হাত পাড়তে হয়।

ফলে শুধু সংস্কৃতির ইতিহাস নতুন করে লেখা নয়, সংস্কৃতির নানান দিক নতুন করে দেখার চেষ্টাই নয়, প্রযুক্তির বিবর্তন, তার ইতিহাসকে চদর বদরের আয়নায়, ডমন মুর্মূর আয়নায় নতুন করে দেখি, নতুন করে বোঝার চেষ্টা করি। ধ্বংসের কাছাকাছি চলে যাওয়া পৃথিবীকে আমরা তাহলে নতুন করে গড়ে তোলার শপথ নিতে পারি, সাঁওতাল সামাজকে নতুন করে দেখার কথা ভাবতে পারি।
Post a Comment